alt

সারাদেশ

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলা প্লাবিত

মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা ও আকাশ চৌধুরী, সিলেট : বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

অতি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত সিলেট

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে ডুবছে শহর থেকে লোকালয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অনেক এলাকা। পানির স্রোতে ভেঙেছে অনেক গ্রামীণ সড়ক। তলিয়ে গেলে অনেক কৃষি ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। এরই মধ্যে পানিবন্দী হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

এদিকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নদ-নদীর পানিও বেড়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের ৫০ গ্রামের ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণে কক্সবাজার টেকনাফে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, সেখানে পানিবন্দী হয়েছেন ১০ হাজার মানুষ।

বুধবার (১৯ জুন) সকালের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়ছে সিলেট অঞ্চলের সব নদী ও হাওরের পানি। সুরমাসহ নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুধবার সিটি করপোরেশন এলাকাসহ সব ক’টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। বন্যায় এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাত লাখ মানুষ।

দুই তৃতীয়ংশ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পানি হওয়ায় তীব্র জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় রিকশা এবং সাধারণ গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেকের বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে রাত কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০ দিনের ব্যবধানে সিলেটে এনিয়ে দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে ২৭ মে সিলেট বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন থেকে ফের বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে সিলেট।

এর মধ্যে ঈদের দিন (১৭ জুন) ভোর থেকে সিলেটে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সঙ্গে নামে পাহাড়ি ঢল। সকাল হতে না হতেই তলিয়ে যায় নগরের অনেক এলাকা। জেলার বিভিন্ন স্থানেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। ইতোমধ্যে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাসাবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। নিচু এলাকাগুলোর কলোনি বা বাসা-বাড়ি প্রায় পুরোটাই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। অনেকে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। আবার অনেকে নিজের বাসা-বাড়ি ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না।

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এবারও সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দিতে বিদ্যুতের সাবস্টেশন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে স্টেশনটিতে যাতে নদীর পানি ঢুকতে না পারে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী ও সিলেট সিটি করপোরেশন।

বন্যার কারণে তিনটি উপজেলায় হাসপাতাল চত্বরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে গোড়ালি থেকে হাঁটুসমান পানি ছিল। এখন হাসপাতালের ভেতর থেকে পানি নেমে গেলেও চত্বরে রয়ে গেছে। অন্যদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরেও গোড়ালি থেকে হাঁটুসমান পানি উঠেছে।

এদিকে, বন্যায় সিলেটের ১৩ উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন এবং কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।

১৮ জুন মঙ্গলবার ভোররাত থেকে সকালের মধ্যে উপজেলার বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে যায়। উপজেলার ৩১৩টি গ্রামের মধ্যে ২০৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সড়ক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলা চলে।

বন্যাকবলিতদের সাহায্যে উপজেলা প্রশাসন হেল্প লাইন চালু করেছে। বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসন ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য ৪৭টি নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের আটগ্রামের বাসিন্দা ও মানিকগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, ‘যদি এক হাত পানি পাড়ে তাহলে বাইশের (২০২২ সালের বন্যা) বন্যার মতো অবস্থায় পড়ে যাবো আমরা।’

কানাইঘাট উপজেলায় সুরমা ও লোভা নদীর পানি প্রবল স্রোতসহ একাধিক ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রত্যন্ত এলাকার শত শত বাড়িঘর, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, সুরমা, লোভা ও কুশিয়ারা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে গেছে।

কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন বলেন, পানিবন্দী লোকজন যাতে নিরাপদ স্থানে যেতে পারে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে পারে এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকা রাখা হয়েছে।

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি অসিত রঞ্জন দাসের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ইতোমধ্যে বন্যায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২২টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঘরে টিকতে না পেরে ৬০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। যদিও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে বন্যার্ত লোকজন জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরাতুন নাঈম বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে ।

জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পানিবন্দী লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ডেডিকেটেড অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আগামী তিনদিন সিলেট অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করে সিলেট সিটি করপোরেশন।

সিলেট জেলার বন্যার্তদের মাঝে ৬৩১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৪৯৫ বস্তা শুকনো খাবার, শিশুখাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে চাহিদা আরও বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অন্যদিকে, সিলেট মহানগরে ৬৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখানেও চাহিদা বেশি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৮১৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের জন্য নগদ ৩৪ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ ৪০ লাখ টাকার চাহিদা রয়েছে। তবে শুকনো খাবার চাহিদার চাইতে অনেক বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আর মহানগরে ১ কোটি ২০ লাখ নগদ অর্থের চাহিদা রয়েছে। তবে চাল চাহিদার চেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বুধবার সিলেট মহানগরের বিভিন্ন বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান এমপি। এরপর মিরাবাজার কিশোরী মোহন বালক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রতিনিয়ত তিনি এর খোঁজ-খবর রাখছেন।

বুধবার আবহাওয়া অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টায়ও ভারী বর্ষণ হতে পারে।

তাছাড়া ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ি ঢলও অব্যাহত থাকতে পারে। এতে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০২২ সালে সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হয়। এবারের বন্যা দুই বছর আগের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে সিলেটবাসীকে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে ২০২২ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ থেকে প্রতিনিধি লতিফুর রহমান রাজু জানান, সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা অব্যাহত পাহাড়ি ঢল, অবিরাম ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জ জেলার অন্তত ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেলে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ উঁচু জায়গাতে আশ্রয় নিলেও খাবার জুটছে না।

জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে দেয়া হয়েছে কিন্তু তা খুবই অপ্রতুল । অন্যদিকে যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারেননি তাদের ভাগ্যে কিছুই জুঠেনি। বসত ঘরে পানি উঠায় চুলা ডুবে গেছে, নয়তো চাল-ডাল ভিজে গেছে তাই খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বানভাসী মানুষেরা ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। মানুষ জন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে ও অতিরিক্ত দামে কিনছে, অবশ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে মোবাইল কোর্ট কাজ করছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের সব কটি, ছাতক উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ইউনিয়নে বেশি প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে ইতোমধ্যেই বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক তাহিরপুর দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ আর ও বেড়ে গেছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মানুষ গত তিন দিন যাবত পানিবন্দী কিন্তু কেউ সাহায্য দূরে থাক কোনো খোঁজ-খবর নেননি। ঐ গ্রামের আম্বিয়া খাতুন জানান তিনদিন ধরে ঘরে পানি চেয়ারম্যান, মেম্বার কেউ খবর নেয়নি। চুলা ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত তাই রান্নার কাজ হয়নি। দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনতে গিয়ে ও অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে।

টেকনাফে পানিবন্দী ১০ হাজার পরিবার

কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিম সিদ্দিকীর পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের টেকনাফে ভারী বর্ষণে কমপক্ষে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কম হলেও ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আট গ্রাম, হ্নীলা ইউনিয়নের ১২ গ্রাম, টেকনাফ পৌরসভার সাতগ্রাম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছয়গ্রাম, সাবরাং ইউনিয়নের সাতগ্রাম, বাহারছড়া ইউনিয়নের ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। তারা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, তার ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের ৪ হাজার বেশি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

এসব গ্রামগুলো হলো, জালিয়াপাড়া, সাইটপাড়া, ফুলের ডেইল, আলী আকবর পাড়া, রঙ্গিখালী লামার পাড়া, আলীখালি, চৌধুরী পাড়া, পূর্ব পানখালী, মৌলভীবাজার লামার পাড়া, ওয়াব্রাং, সুলিশপাড়া, পূর্ব সিকদার পাড়া। এসব গ্রামের চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

শেরপুরে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ দুদুর পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও মহারশী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের পূর্বপাড়ের বাঁধ ভেঙে ঢলের পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীর ঢলের পানিতেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ঝিনাইগাতী সদর ও ধানশাইল ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্লাবিত এলাকার শতাধিক মানুষ। প্লাবিত এলাকার বেশ কিছু জমিতে পলি জমে ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে আউশ ও রূপা আমনের বীজতলা ক্ষতি হয়েছে ও কয়েকটি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও প্লাবিত এলাকাগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল পরিদর্শন করেছেন।

কুড়িগ্রামে ৫০ গ্রামের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলামের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলার রৌমারী সদর, যাদুরচর, শৌলমারী বন্দবেড় ও চর শৌলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দী হয়েছে ঝাউবাড়ি, লাঠিয়ালডাঙ্গা, চুলিয়ারচর, বারবান্দা, পূর্বইজলামারী, ভুন্দুরচর, চান্দারচর, নওদাপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, বোল্লাপাড়া, খাটিয়ামারী, মোল্লারচর, বেহুলারচর, খেতারচর, বড়াইবাড়ি, রতনপুর, চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি, চর সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী, উত্তর খেদাইমারী, মধ্য খেদাইমারী, উত্তর বাগুয়ারচর, বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর, বলদমারা, খেরুয়ারচর, চর খনজনমারা, বাইশপাড়া, পালেরচর, ফলুয়ারচর, বাঘমারা, চর বাঘমারা, চর বাঘমারা, যাদুরচর ইউনিয়নের দিঘলেপাড়া, ধনারচর পশ্চিমপাড়া, কোমড়ভাঙ্গিসহ প্রায় ৫০টি গ্রাম। অন্যদিকে চর নতুনবন্দর স্থলবন্দরটিও বন্যার পানিতে তুলিয়ে যাওয়ার আশক্সক্ষা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠে বৃষ্টির পানি জমে আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট খোলায় পাঁচ উপজেলায় প্লাবণ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান সরকারের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিস্তা ও সানিয়াজান নদী পাড়ের বাসিন্দারা বন্যার আশঙ্কা করছেন। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরে বাস করা ৫ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ এসব খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। চরের একাধিক বাসিন্দা জানান, বুধবার দুপুর থেকে তাদের বসতবাড়িতে পানি ডুকতে শুরু করেছে।

নেত্রকোনায় ৫০ গ্রাম প্লাবিত
টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা ও কলমাকান্দা উপজেলার অন্তত ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি, পোগলা, বড়খাপন, কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ওই উপজেলার বড় নদী উব্দাখালীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই নদীর পানি কলমাকান্দা ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। এছাড়া কলমাকান্দার মহাদেও, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী, সদর ও বারহাট্টা উপজেলার কংস, মগড়া, খালিয়াজুরির ধনুসহ বিভিন্ন ছোট-বড় নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। পানি বাড়িঘরে ঢুকে যাওয়ায় সাতটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে।

ঢাকাসহ চার জেলায় আজ ও কাল ৭ ঘণ্টার জন্য কারফিউ শিথিল

ছবি

টাঙ্গাইলে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক

ছবি

কোটা সংস্কার আন্দোলনে কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, আহত ২০

ছবি

আবারও বেপরোয়া সার্ভেয়ার বাকের ও হাসান সিন্ডিকেট ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না কক্সবাজার এলএ শাখায়

ছবি

রামু থেকে অস্ত্র ও গুলি নিয়ে সন্ত্রাসী আটক

ছবি

কক্সবাজারে ক্ষমতাসীনদের হামলায় ৫ সংবাদকর্মী আহত

ছবি

নিখোঁজের দুই দিন পর পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি

টেকনাফ সমুদ্র উপকূলে পালিয়ে এলো ৫ রোহিঙ্গা

ছবি

টেকনাফগামী ট্রলারে মায়ানমারের গুলি

ছবি

কোটা আন্দোলন: রংপুরে সংঘর্ষ ও মৃত্যুর তদন্তে ৪ সদস্যের কমিটি গঠন

ছবি

শেখ হাসিনা ও মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্বে কুরুচিপূর্ন বক্তব্য দেওয়ায় গজারিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিবাদ সভা

ছবি

নারীর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতার প্রতিবাদে ও বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের না’গঞ্জে মানববন্ধন

ছবি

কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ওয়াসিমের দাফন সম্পন্ন

ছবি

রামুতে মাদকসেবী ভাইয়ের হাতে ভাই খুন

সারাদেশে স্কুল, কলেজ অনিদিষ্টকাল বন্ধ ঘোষণা

ছবি

কোটা সংস্কার আন্দোলন : কক্সবাজারে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া

ছবি

চীন বা ভারত নয়, নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবী

ছবি

মায়ানমারে চলছে বোমা হামলা সীমান্তে এতো কড়াকড়িতেও রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ

ছবি

"গাইবান্ধায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ২ বাইক আরোহী নিহত"

ছবি

বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ছবি

গুলি আর মর্টারশেলের শব্দে ফের কেঁপে উঠল টেকনাফ সীমান্ত

ছবি

কক্সবাজার পৌরসভার উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করলেন জাইকার প্রতিনিধি দল

ছবি

রাখাইনে সংঘর্ষের তীব্রতা বেড়েছে বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় ২ ট্রলার

ছবি

রাত হলেই বাঁশখালীর ৫ স্পট থেকে পাচার হয় কোটি টাকার মাছ

সিলেট সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত

ছবি

লাফার্জ হোলসিমের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শণ করেছে নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন কর্মকর্তারা

ছবি

হামলার শিকার কোন কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট প্রার্থী

ছবি

জামালপুরে ডোবায় ডুবে চার নারীর মৃত্যু

ছবি

সাটুরিয়া ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন আছে, চিকিৎসক নেই সরঞ্জাম আছে টেকনিশিয়ান নেই

ছবি

মাদকের আগ্রাসন রোধে সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে

ছবি

চট্টগ্রামে ৭ টন মাছ জব্দ, গ্রেপ্তার ১৫

ছবি

টেকনাফে ৮০ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

ছবি

মুন্সীগঞ্জে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ২৫ ঘরবাড়ি ভাঙচুর

ছবি

লালমনিরহাটে বিসিএস প্রশ্নফাঁসে জড়িত আ’লীগ নেতা বহিষ্কার

ছবি

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গোলাগুলি, পুলিশ সদস্য গুলিবিদ্ধ

ছবি

মায়ানমার থেকে যুদ্ধফেরত আরসা সদস্য গ্রেপ্তার, দুটি রাইফেল ও ৫০ রাউন্ড গুলি উদ্ধার

tab

সারাদেশ

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাঁচ জেলা প্লাবিত

মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা ও আকাশ চৌধুরী, সিলেট

অতি বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত সিলেট

বুধবার, ১৯ জুন ২০২৪

টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসহ পাঁচ জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এতে ডুবছে শহর থেকে লোকালয়। বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অনেক এলাকা। পানির স্রোতে ভেঙেছে অনেক গ্রামীণ সড়ক। তলিয়ে গেলে অনেক কৃষি ফসল। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। এরই মধ্যে পানিবন্দী হয়েছেন কয়েক লাখ মানুষ।

এদিকে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের নদ-নদীর পানিও বেড়েছে। কোথাও কোথাও বন্যা পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের ৫০ গ্রামের ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শেরপুরে পাহাড়ি ঢলে মহারশী ও সোমেশ্বরী নদীর বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ভারী বর্ষণে কক্সবাজার টেকনাফে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, সেখানে পানিবন্দী হয়েছেন ১০ হাজার মানুষ।

বুধবার (১৯ জুন) সকালের ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে হু হু করে বাড়ছে সিলেট অঞ্চলের সব নদী ও হাওরের পানি। সুরমাসহ নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বুধবার সিটি করপোরেশন এলাকাসহ সব ক’টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বন্যাকবলিত গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, জৈন্তাপুর ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা। বন্যায় এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় সাত লাখ মানুষ।

দুই তৃতীয়ংশ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর পানি হওয়ায় তীব্র জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় রিকশা এবং সাধারণ গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। অনেকের বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ায় আতঙ্কিত হয়ে রাত কাটাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০ দিনের ব্যবধানে সিলেটে এনিয়ে দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। এর আগে ২৭ মে সিলেট বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন থেকে ফের বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে সিলেট।

এর মধ্যে ঈদের দিন (১৭ জুন) ভোর থেকে সিলেটে শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সঙ্গে নামে পাহাড়ি ঢল। সকাল হতে না হতেই তলিয়ে যায় নগরের অনেক এলাকা। জেলার বিভিন্ন স্থানেও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে থাকে। ইতোমধ্যে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অনেকের বাসাবাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর পর্যন্ত পানি উঠেছে। নিচু এলাকাগুলোর কলোনি বা বাসা-বাড়ি প্রায় পুরোটাই তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ। অনেকে গেছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। আবার অনেকে নিজের বাসা-বাড়ি ছেড়ে যেতে চাচ্ছেন না।

২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যার পর এবারও সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বরইকান্দিতে বিদ্যুতের সাবস্টেশন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। তবে স্টেশনটিতে যাতে নদীর পানি ঢুকতে না পারে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যায় সে জন্য বিদ্যুৎ বিভাগের পাশাপাশি প্রস্তুত রয়েছে সেনাবাহিনী ও সিলেট সিটি করপোরেশন।

বন্যার কারণে তিনটি উপজেলায় হাসপাতাল চত্বরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী, চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন জন্মেজয় দত্ত জানান, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে গোড়ালি থেকে হাঁটুসমান পানি ছিল। এখন হাসপাতালের ভেতর থেকে পানি নেমে গেলেও চত্বরে রয়ে গেছে। অন্যদিকে ফেঞ্চুগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরেও গোড়ালি থেকে হাঁটুসমান পানি উঠেছে।

এদিকে, বন্যায় সিলেটের ১৩ উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন এবং কানাইঘাট উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে।

১৮ জুন মঙ্গলবার ভোররাত থেকে সকালের মধ্যে উপজেলার বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে যায়। উপজেলার ৩১৩টি গ্রামের মধ্যে ২০৬টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে এক হাজার ৫০০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সড়ক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে বলা চলে।

বন্যাকবলিতদের সাহায্যে উপজেলা প্রশাসন হেল্প লাইন চালু করেছে। বন্যার্তদের আশ্রয়ের জন্য উপজেলা প্রশাসন ৫৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য ৪৭টি নৌকা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উপজেলার ডৌবাড়ী ইউনিয়নের আটগ্রামের বাসিন্দা ও মানিকগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী আল-আমিন বলেন, ‘যদি এক হাত পানি পাড়ে তাহলে বাইশের (২০২২ সালের বন্যা) বন্যার মতো অবস্থায় পড়ে যাবো আমরা।’

কানাইঘাট উপজেলায় সুরমা ও লোভা নদীর পানি প্রবল স্রোতসহ একাধিক ভাঙন দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রত্যন্ত এলাকার শত শত বাড়িঘর, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, সুরমা, লোভা ও কুশিয়ারা নদীর পানি অব্যাহতভাবে বেড়ে যাওয়ায় তলিয়ে গেছে।

কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা নাসরিন বলেন, পানিবন্দী লোকজন যাতে নিরাপদ স্থানে যেতে পারে এবং আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে পারে এ জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে নৌকা রাখা হয়েছে।

বড়লেখা (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি অসিত রঞ্জন দাসের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের বড়লেখায় ইতোমধ্যে বন্যায় উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ২৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২২টি বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ঘরে টিকতে না পেরে ৬০০ মানুষ বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে উঠেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব কেন্দ্রে শুকনো খাবার ও স্যালাইন দেয়া হচ্ছে। যদিও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে বন্যার্ত লোকজন জানিয়েছেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজরাতুন নাঈম বুধবার দুপুরে জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে ।

জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান বলেন, সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পানিবন্দী লোকদের উদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়গুলোতে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় ডেডিকেটেড অফিসার নিয়োগের পাশাপাশি প্রতিটি ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বন্যার্তদের স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য ইউনিয়নভিত্তিক মেডিক্যাল টিম গঠন করে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। আগামী তিনদিন সিলেট অঞ্চলে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটিসহ সব ধরনের ছুটি বাতিল করে সিলেট সিটি করপোরেশন।

সিলেট জেলার বন্যার্তদের মাঝে ৬৩১ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, ১৪৯৫ বস্তা শুকনো খাবার, শিশুখাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। তবে চাহিদা আরও বেশি বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

অন্যদিকে, সিলেট মহানগরে ৬৫ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ টাকা নগদ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এখানেও চাহিদা বেশি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সিলেট জেলায় বন্যা পরিস্থিতিতে বর্তমানে ৮১৫ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা, শিশুখাদ্যের জন্য নগদ ৩৪ লাখ ও গো-খাদ্যের জন্য নগদ ৪০ লাখ টাকার চাহিদা রয়েছে। তবে শুকনো খাবার চাহিদার চাইতে অনেক বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আর মহানগরে ১ কোটি ২০ লাখ নগদ অর্থের চাহিদা রয়েছে। তবে চাল চাহিদার চেয়ে বেশি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বুধবার সিলেট মহানগরের বিভিন্ন বন্যা কবলিত কয়েকটি এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মহিববুর রহমান এমপি। এরপর মিরাবাজার কিশোরী মোহন বালক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্রে ত্রাণ বিতরণ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী এ সময় বলেন, সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং প্রতিনিয়ত তিনি এর খোঁজ-খবর রাখছেন।

বুধবার আবহাওয়া অফিস ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে আগামী ৭২ ঘণ্টায়ও ভারী বর্ষণ হতে পারে।

তাছাড়া ভারতের চেরাপুঞ্জিতে প্রবল বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পাহাড়ি ঢলও অব্যাহত থাকতে পারে। এতে চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২০২২ সালে সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা হয়। এবারের বন্যা দুই বছর আগের সেই স্মৃতি মনে করিয়ে দিচ্ছে সিলেটবাসীকে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে ২০২২ সালের বন্যাকেও ছাড়িয়ে যাবে।

সুনামগঞ্জ থেকে প্রতিনিধি লতিফুর রহমান রাজু জানান, সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা অব্যাহত পাহাড়ি ঢল, অবিরাম ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জ জেলার অন্তত ৫ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকের ঘরবাড়ি পানিতে ডুবে গেলে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ উঁচু জায়গাতে আশ্রয় নিলেও খাবার জুটছে না।

জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদিও শুকনো খাবার ও রান্না করা খাবার বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে দেয়া হয়েছে কিন্তু তা খুবই অপ্রতুল । অন্যদিকে যারা আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে পারেননি তাদের ভাগ্যে কিছুই জুঠেনি। বসত ঘরে পানি উঠায় চুলা ডুবে গেছে, নয়তো চাল-ডাল ভিজে গেছে তাই খাবার সংকট দেখা দিয়েছে। বানভাসী মানুষেরা ত্রাণের জন্য হাহাকার করছে। মানুষ জন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে ও অতিরিক্ত দামে কিনছে, অবশ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজারে মোবাইল কোর্ট কাজ করছে।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ ইউনিয়নের সব কটি, ছাতক উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন ও দোয়ারাবাজার উপজেলার ইউনিয়নে বেশি প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সঙ্গে ইতোমধ্যেই বিশ্বম্ভরপুর, ছাতক তাহিরপুর দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, মধ্যনগর উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে মানুষের দুর্ভোগ আর ও বেড়ে গেছে। দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মানুষ গত তিন দিন যাবত পানিবন্দী কিন্তু কেউ সাহায্য দূরে থাক কোনো খোঁজ-খবর নেননি। ঐ গ্রামের আম্বিয়া খাতুন জানান তিনদিন ধরে ঘরে পানি চেয়ারম্যান, মেম্বার কেউ খবর নেয়নি। চুলা ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত তাই রান্নার কাজ হয়নি। দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনতে গিয়ে ও অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে।

টেকনাফে পানিবন্দী ১০ হাজার পরিবার

কক্সবাজার প্রতিনিধি জসিম সিদ্দিকীর পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজারের টেকনাফে ভারী বর্ষণে কমপক্ষে ৫০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কম হলেও ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

এ ঘটনায় জনপ্রতিনিধিরা জানায়, টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের আট গ্রাম, হ্নীলা ইউনিয়নের ১২ গ্রাম, টেকনাফ পৌরসভার সাতগ্রাম, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ছয়গ্রাম, সাবরাং ইউনিয়নের সাতগ্রাম, বাহারছড়া ইউনিয়নের ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। তারা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। হ্নীলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী জানান, তার ইউনিয়নের ১২টি গ্রামের ৪ হাজার বেশি পরিবার পানিবন্দী রয়েছে।

এসব গ্রামগুলো হলো, জালিয়াপাড়া, সাইটপাড়া, ফুলের ডেইল, আলী আকবর পাড়া, রঙ্গিখালী লামার পাড়া, আলীখালি, চৌধুরী পাড়া, পূর্ব পানখালী, মৌলভীবাজার লামার পাড়া, ওয়াব্রাং, সুলিশপাড়া, পূর্ব সিকদার পাড়া। এসব গ্রামের চলাচলের রাস্তা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

শেরপুরে বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি হারুন অর রশিদ দুদুর পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বুধবার সকাল পর্যন্ত টানা বর্ষণ ও মহারশী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামের পূর্বপাড়ের বাঁধ ভেঙে ঢলের পানি প্রবেশ করে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়।

অন্যদিকে উজান থেকে নেমে আসা সোমেশ্বরী নদীর ঢলের পানিতেও নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ঝিনাইগাতী সদর ও ধানশাইল ইউনিয়নের ১০টি গ্রাম প্লাবিত হয়। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্লাবিত এলাকার শতাধিক মানুষ। প্লাবিত এলাকার বেশ কিছু জমিতে পলি জমে ক্ষতি হয়েছে। ঢলের পানিতে আউশ ও রূপা আমনের বীজতলা ক্ষতি হয়েছে ও কয়েকটি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ও প্লাবিত এলাকাগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আশরাফুল আলম রাসেল পরিদর্শন করেছেন।

কুড়িগ্রামে ৫০ গ্রামের প্রায় ৭০ হাজার মানুষ পানিবন্দী

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি মাজহারুল ইসলামের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপজেলার রৌমারী সদর, যাদুরচর, শৌলমারী বন্দবেড় ও চর শৌলমারী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানিবন্দী হয়েছে ঝাউবাড়ি, লাঠিয়ালডাঙ্গা, চুলিয়ারচর, বারবান্দা, পূর্বইজলামারী, ভুন্দুরচর, চান্দারচর, নওদাপাড়া, ব্যাপারীপাড়া, বোল্লাপাড়া, খাটিয়ামারী, মোল্লারচর, বেহুলারচর, খেতারচর, বড়াইবাড়ি, রতনপুর, চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি, চর সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী, উত্তর খেদাইমারী, মধ্য খেদাইমারী, উত্তর বাগুয়ারচর, বন্দবেড় ইউনিয়নের বাগুয়ারচর, বলদমারা, খেরুয়ারচর, চর খনজনমারা, বাইশপাড়া, পালেরচর, ফলুয়ারচর, বাঘমারা, চর বাঘমারা, চর বাঘমারা, যাদুরচর ইউনিয়নের দিঘলেপাড়া, ধনারচর পশ্চিমপাড়া, কোমড়ভাঙ্গিসহ প্রায় ৫০টি গ্রাম। অন্যদিকে চর নতুনবন্দর স্থলবন্দরটিও বন্যার পানিতে তুলিয়ে যাওয়ার আশক্সক্ষা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে মাঠে বৃষ্টির পানি জমে আমদানি ও রপ্তানি বন্ধ রয়েছে।

তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট খোলায় পাঁচ উপজেলায় প্লাবণ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান সরকারের পাঠানো প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। পানি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তিস্তা ও সানিয়াজান নদী পাড়ের বাসিন্দারা বন্যার আশঙ্কা করছেন। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চরে বাস করা ৫ শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ এসব খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। চরের একাধিক বাসিন্দা জানান, বুধবার দুপুর থেকে তাদের বসতবাড়িতে পানি ডুকতে শুরু করেছে।

নেত্রকোনায় ৫০ গ্রাম প্লাবিত
টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা ও কলমাকান্দা উপজেলার অন্তত ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি, পোগলা, বড়খাপন, কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ওই উপজেলার বড় নদী উব্দাখালীর পানি বেড়ে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ওই নদীর পানি কলমাকান্দা ডাকবাংলো পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ওই পয়েন্টে বিপৎসীমা ৬ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার। এছাড়া কলমাকান্দার মহাদেও, দুর্গাপুরের সোমেশ্বরী, সদর ও বারহাট্টা উপজেলার কংস, মগড়া, খালিয়াজুরির ধনুসহ বিভিন্ন ছোট-বড় নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। পানি বাড়িঘরে ঢুকে যাওয়ায় সাতটি পরিবার আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছে।

back to top