গোপালগঞ্জ : পাউবোর স্লুইচ গেট নির্মাণ করতে গিয়ে নোটিশ কিংবা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কেটে ফেলা হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও গাছ -সংবাদ
সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) স্লুইচ গেট নির্মাণ করছে। এটি নির্মত হলে বর্ষা সৌসুমে এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শুষ্ক মৌসুমে ১ হাজার একর জমি সেচের আওতায় আসবে। এতে করে ওই এলাকায় ২ মৌসুমে ধান, সবজি এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু কোন প্রকারের নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি এবং গাছপালা কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকল্প এলাকার জমির মালিকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারি জায়াগায়তেই উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কাজ করতে গিয়ে মালিকানা কিছু জায়গা কাটা পড়তে পারে। এমন ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার গচাঁপাড়া গ্রামে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গোপালগঞ্জ নির্বার্হী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ওই গ্রামের ওয়াবদারহাট খালে স্লুইস গেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাউবোর তত্ত্বাবধানে ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে খোকন কনস্ট্রাকশন এই কাজ বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে। তবে স্লুইস গেট প্রকল্প এলাকার খাল খনন করতে গিয়ে ঠিকাদার জমি এবং গাছপালা কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ক্ষতিগ্রস্ত জামির মালিক লিপি সিকদার বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারী জায়গার পাশাপাশি সড়ক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। কোন ধরনের নোটিশ বা ক্ষতি পূরণ না দিয়েই জমি এবং গাছপালা কাটা হয়েছে। বাধা দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ভাঙন দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফে জমি এবং ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার বাঁশঝাড়, গাছপালা এবং বাড়ির জমি কেটে স্লুইস গেট নির্মাণ করছেন। এতে করে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি এবং আমার স্বামী বাধা দিয়েছি। তারা সেই বাধা উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন। আর পাউবো যেই জায়গা অধিগ্রহণের কথা বলছে, সেই জায়গা আমার মালিকানা জমির মধ্যে নয়, সুতরাং আমার জায়গা কাটা বন্ধ করতে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক রানা সিকদার বলেন, এটা আমার নানার জায়গা। বর্তমানে আমাদের দায়িত্বে রয়েছে। নানার মালিকানা জায়গার পরে খাল।সেই খালে কালর্ভাটের কাজ চলছে। আমাদেরকে কিছু না জানিয়েই ইচ্ছামতো জায়গা কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
আমার কাকা অফিসে গিয়েছিলেন, কিন্তু অফিস কর্তৃপক্ষ ভালো কোন কথা বলেনি। অপর ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক রাজু আহমেদ বলেন, আমি আমা জমিতে বালু ভরাট করেছিলাম। সেই বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। আমাকে বলেছেন তারা আবার পরে আমারে জমিতে বালু ভরাট করে দেবেন। আমার ৩ লাখ টাকার বালু। এই ক্ষতি কে পুরণ করে দেবে? কিছু না বলেই ঠিকাদার জোর করে কাজ করছেন। এটা কিভাবে সম্ভব? তাই আমি এই কাজের প্রতিবাদ করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খোকন কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, জমির মালিক থেকে অনুমতি নেয়ার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে সিমানা দেখিয়ে দিয়ে সাইড বুঝিয়ে দিয়েছে। আমরা সেইভাবেই কাজ করছি। তারপরেও যেটুকু ক্ষতি হয়েছে, সেটুকু আমরা জমির মালিকদেরকে পুষিয়ে দেয়ার কথা বলেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রিফাত জামিল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যেই কাজটি চলমান রয়েছে। আর কাজ করতে গিয়ে মালিকানা কিছু জায়গা কাটা পড়তে পারে। কিন্তু কাজ শেষ হলে ওইসব জায়গা সেইভাবেই থেকে যাবে। এছাড়া ওখানে যারা সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন, তারাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছেন। তারাই জমি এবং গাছপালা কাটার অভিযোগ তুলছেন।
গোপালগঞ্জ : পাউবোর স্লুইচ গেট নির্মাণ করতে গিয়ে নোটিশ কিংবা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই কেটে ফেলা হচ্ছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি ও গাছ -সংবাদ
বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০২৫
সাত কোটি টাকা ব্যয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) স্লুইচ গেট নির্মাণ করছে। এটি নির্মত হলে বর্ষা সৌসুমে এলাকার বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও শুষ্ক মৌসুমে ১ হাজার একর জমি সেচের আওতায় আসবে। এতে করে ওই এলাকায় ২ মৌসুমে ধান, সবজি এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। কিন্তু কোন প্রকারের নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ ছাড়াই ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি এবং গাছপালা কাটার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে অর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রকল্প এলাকার জমির মালিকরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরকারি জায়াগায়তেই উন্নয়ন কাজ করা হচ্ছে বলে দাবি করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কাজ করতে গিয়ে মালিকানা কিছু জায়গা কাটা পড়তে পারে। এমন ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার গচাঁপাড়া গ্রামে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গোপালগঞ্জ নির্বার্হী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে জানা গেছে, ওই গ্রামের ওয়াবদারহাট খালে স্লুইস গেট নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। পাউবোর তত্ত্বাবধানে ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে খোকন কনস্ট্রাকশন এই কাজ বাস্তবায়ন করতে শুরু করেছে। তবে স্লুইস গেট প্রকল্প এলাকার খাল খনন করতে গিয়ে ঠিকাদার জমি এবং গাছপালা কেটে ফেলেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
ক্ষতিগ্রস্ত জামির মালিক লিপি সিকদার বলেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারী জায়গার পাশাপাশি সড়ক ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, গাছপালা কেটে ফেলা হয়েছে। কোন ধরনের নোটিশ বা ক্ষতি পূরণ না দিয়েই জমি এবং গাছপালা কাটা হয়েছে। বাধা দিলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে ভাঙন দেখা দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফে জমি এবং ঘরবাড়ি হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ঠিকাদার বাঁশঝাড়, গাছপালা এবং বাড়ির জমি কেটে স্লুইস গেট নির্মাণ করছেন। এতে করে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি এবং আমার স্বামী বাধা দিয়েছি। তারা সেই বাধা উপেক্ষা করে কাজ করে যাচ্ছেন। আর পাউবো যেই জায়গা অধিগ্রহণের কথা বলছে, সেই জায়গা আমার মালিকানা জমির মধ্যে নয়, সুতরাং আমার জায়গা কাটা বন্ধ করতে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক রানা সিকদার বলেন, এটা আমার নানার জায়গা। বর্তমানে আমাদের দায়িত্বে রয়েছে। নানার মালিকানা জায়গার পরে খাল।সেই খালে কালর্ভাটের কাজ চলছে। আমাদেরকে কিছু না জানিয়েই ইচ্ছামতো জায়গা কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
আমার কাকা অফিসে গিয়েছিলেন, কিন্তু অফিস কর্তৃপক্ষ ভালো কোন কথা বলেনি। অপর ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিক রাজু আহমেদ বলেন, আমি আমা জমিতে বালু ভরাট করেছিলাম। সেই বালু কেটে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। আমাকে বলেছেন তারা আবার পরে আমারে জমিতে বালু ভরাট করে দেবেন। আমার ৩ লাখ টাকার বালু। এই ক্ষতি কে পুরণ করে দেবে? কিছু না বলেই ঠিকাদার জোর করে কাজ করছেন। এটা কিভাবে সম্ভব? তাই আমি এই কাজের প্রতিবাদ করছি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান খোকন কনস্ট্রাকশনের প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম বলেন, জমির মালিক থেকে অনুমতি নেয়ার দায়িত্ব পানি উন্নয়ন বোর্ডের। কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে সিমানা দেখিয়ে দিয়ে সাইড বুঝিয়ে দিয়েছে। আমরা সেইভাবেই কাজ করছি। তারপরেও যেটুকু ক্ষতি হয়েছে, সেটুকু আমরা জমির মালিকদেরকে পুষিয়ে দেয়ার কথা বলেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী এসএম রিফাত জামিল বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত জমির মধ্যেই কাজটি চলমান রয়েছে। আর কাজ করতে গিয়ে মালিকানা কিছু জায়গা কাটা পড়তে পারে। কিন্তু কাজ শেষ হলে ওইসব জায়গা সেইভাবেই থেকে যাবে। এছাড়া ওখানে যারা সরকারি জায়গা অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন, তারাই এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছেন। তারাই জমি এবং গাছপালা কাটার অভিযোগ তুলছেন।