alt

সারাদেশ

শেরপুরে মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন খেরুয়া মসজিদ

সাইফুল বারী ডাবলু, শেরপুর (বগুড়া) : শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

শেরপুর (বগুড়া) : খন্দকারটোলা গ্রামে অবস্থিত খেরুয়া মসজিদ -সংবাদ

সাড়ে চারশ বছর ধরে মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘খেরুয়া মসজিদ’। ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খন্দকারটোলা গ্রামে অবস্থিত। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থী এখানে মসজিদটি দেখতে আসেন ।

জানা যায়, মসজিদটি ১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের ছেলে মির্জা মুরাদ খান কাকশাল নির্মাণ করেন। তবে মসজিদটির নামকরণ নিয়ে সঠিক কোনো ইতিহাস জানা যায়নি। খেরুয়া মসজিদের ইতিহাস এবং গল্প যেটাই হোক, মসজিদটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। মসজিদটি সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যশৈলীর মিশেলে নির্মিত। মসজিদটির সামনের অংশে রয়েছে আয়তাকার মাঠ আর চতুর্দিকে রয়েছে তাল, নারকেল, আম ও কদমগাছের সারি। প্রাচীন মসজিদটি টিকে আছে চার কোণের প্রকান্ড আকারের মিনার আর চওড়া দেয়ালে ভর করে। উত্তর-দক্ষিণ লম্বা বিশিষ্ট মসজিদটির বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ৫৭ ফুট, প্রস্থ ২৪ ফুট। ভেতরের দিকের দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। মসজিদের চারদিকের দেয়ালের পুরুত্ব ৬ ফুট। এই মসজিদ নির্মাণে ইট, চুন ও সুরকি ছাড়াও বৃহদাকার কৃষ্ণপাথর ব্যবহার করা হয়েছে। তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদের চার কোনায় চারটি মিনার ও পূর্ব দেয়ালে তিনটিসহ উত্তর-দক্ষিণে আরও দুটি দরজা রয়েছে। আর পশ্চিম দেয়ালে আছে তিনটি কারুকার্য করা মেহরাব। এ ছাড়া ধনুকের মতো বাঁকা কার্নিশের তলায় সারিবদ্ধ খিলান আকৃতির প্যানেলে আছে চমৎকার অলংকরণ। মিনার, গম্বুজ ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনি এবং ফুল-লতা-পাতার নকশা পুরো মসজিদটিকে দিয়েছে বিশেষ স্বাতন্ত্র।

খোদাইকৃত শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫৮২ সালের ২০ জানুয়ারি জওহর আলী খান কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। খেরুয়া মসজিদের নামকরণ স্পষ্ট নয়। আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া তার ‘বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ’ বইতে উল্লেখ করেছেন ‘এ মসজিদের খেরুয়া নামে কোনো ইতিবৃত্ত পাওয়া যায়নি। আরবি বা ফার্সি ভাষায় খেরুয়া বলে কোনো শব্দ পাওয়া যায় না।’ তবে ফার্সিতে ‘খায়ের গাহ্’ বলে শব্দ আছে। যার অর্থ ‘কোনো স্থানের ভেতরে’। রাজা মানসিংহ যখন বাংলার সুবাদার, তখন তিনি শেরপুরে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এ দুর্গের কোনো অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে মসজিদটি যদি শেরপুর দুর্গের ভেতরে নির্মিত হয়ে থাকে, তবেই ‘খায়ের গাহ্’ থেকে খেরুয়া নাম হতে পারে বলে অনুমান করা যায়। মসজিদটির পূর্বদিকে তিনটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রবেশদ্বারটি অন্য প্রবেশদ্বারের তুলনায় বড় ও প্রশস্ত। মসজিদের অভ্যন্তরে পূর্ব দেওয়ালে প্রবেশদ্বারের সঙ্গে মিল রেখে তিনটি মিহরাব রয়েছে। মসজিদ সম্পর্কে স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি ফজলুল হক বলেন, বাদশা মুরাদ খানের আমলে আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তি খড় বিক্রির টাকা দিয়ে এ মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। আর এজন্য মসজিদটির নাম ‘খেরুয়া মসজিদ’। সে সময় মানুষ জিন-পরীদের দ্বারা কাজ করে নিত। আব্দুস সামাদ ফকিরও হয়তো জিন-পরীদের দিয়ে মসজিদটি তৈরি করে নিয়েছেন! যদিও এসব তথ্যের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই, তবে লোকমুখে ছড়ানো গল্পে আছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি বলেন, যতটুকু জানি, জওহর আলী কাকশালের ছেলে মির্জা মুরাদ খান কাকশালের অর্থায়নে সূদূর আরব থেকে আসা আব্দুস সামাদ ফকির নামে এক ব্যক্তি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আব্দুস সামাদ অনেক কামেল ব্যক্তি ছিলেন। একসময় মসজিদটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। পরে ১৯৫৬ সালে সরকারিভাবে পুরাকীর্তি হিসেবে মেরামত করা হয়। পরে এ মসজিদ বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারাই এটির রক্ষণাবেক্ষণ করছে। মসজিদের সামনে যে কবর রয়েছে, সেটি আব্দুস সামাদের বলে ধারণা করা হয়। এখন মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। ঈদের জামাতও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বগুড়ার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বলেন, মসজিদটিতে গিয়েছিলাম। বেশ কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে। মসজিদটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

কাপাসিয়ায় আটকে যাওয়া ‘আপন দুলাল’ নাটক শনিবার মঞ্চায়নের সিদ্ধান্ত

ছাত্রদল রাজপথের মতো ভোটের ষড়যন্ত্র রুখবে

মাদারীপুর শহরে ২৫ দোকান পুড়ে ছাই, ৭ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি

ছবি

ছুটি শেষে কর্মস্থলে ছুটছে মানুষ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে লঞ্চ পারাপারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

নির্বাচনই একমাত্র গণতন্ত্র না মুনিরা শারমিন

ছবি

সালথায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ভাঙচুর, আহত ২০

ছবি

রাণীনগরবাসীর দুর্ভোগ অপ্রশস্ত রেলগেট

অটোরিকশার গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৬

সুন্নতে খতনার আনন্দ নিমেষেই বিষাদ

শিবচরে তুচ্ছ ঘটনায় সংঘর্ষ, আহত ১০

ছবি

বোরোর সবুজ গোছায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষক

ফসলি জমি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি

বেলাবোতে লটকন বাগানের সঙ্গে এ কেমন শত্রুতা!

ছবি

দশমিনায় তাপদাহ-অনাবৃষ্টিতে রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি

পঞ্চগড়ে ট্রাকের ধাক্কায় যুবক নিহত

মসজিদে ‘জয় বাংলা’ সাইনবোর্ড দান করা ব্যক্তি গ্রেপ্তার

সীমান্তে অস্ত্রসহ মাদককারবারী আটক

নরসিংদীর বড় বাজারে ভয়াবহ, অগ্নিকাণ্ড

শ্রীমঙ্গলে ৫ দিনব্যাপী বাসন্তী পূজা শুরু

মোল্লাহাটে অপদ্রব্য পুশ করা চিংড়ি জব্দ

ছবি

মোরেলগঞ্জ হাসপাতালে ডায়রিয়ার স্যালাইন সংকটে রোগীরা

অপহরণের ভয়ে সুন্দরবনে যেতে চায় না মৌয়ালরা

ছবি

কেশবপুরে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট, দিশেহারা খামারিরা

৩ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ

দুই জেলায় আগুনে ৫ গরু ও বসতঘর ছাই, কৃষক দগ্ধ

লিবিয়ায় দালালের অত্যাচারের ভৈরবের যুবকের মৃত্যু

বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যুবককে হত্যা

বিএসএফের রাবার বুলেটে ভারতীয় চোরাকারবারি নিহত

বিনোদন কেন্দ্রে ছাত্রদলের হামলা, পুলিশসহ আহত ৭

নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ভ্যানচালককে হত্যা করে ভ্যান নিয়ে পালানোর সময় আটক ১

সরকারি পুকুর থেকে মাছ চুরি বিএনপি নেতার নামে মামলা

গ্রাহকদের টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যাচ্ছে একের পর এক সমবায় সমিতি

পরকীয়ায় বলি হলেন ট্রাক পরিবহন শ্রমিক নেতা জাহিদুল

ছবি

মীরসরাইয়ে ভাঙা সেতুর ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

ছবি

ঝিনাইগাতীর পর্যটন কেন্দ্রে দর্শনার্থীর আগমন জমজমাট

tab

সারাদেশ

শেরপুরে মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন খেরুয়া মসজিদ

সাইফুল বারী ডাবলু, শেরপুর (বগুড়া)

শেরপুর (বগুড়া) : খন্দকারটোলা গ্রামে অবস্থিত খেরুয়া মসজিদ -সংবাদ

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

সাড়ে চারশ বছর ধরে মুসলিম স্থাপত্যের অপূর্ব নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ‘খেরুয়া মসজিদ’। ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার খন্দকারটোলা গ্রামে অবস্থিত। প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থী এখানে মসজিদটি দেখতে আসেন ।

জানা যায়, মসজিদটি ১৫৮২ সালে জওহর আলী কাকশালের ছেলে মির্জা মুরাদ খান কাকশাল নির্মাণ করেন। তবে মসজিদটির নামকরণ নিয়ে সঠিক কোনো ইতিহাস জানা যায়নি। খেরুয়া মসজিদের ইতিহাস এবং গল্প যেটাই হোক, মসজিদটি অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। মসজিদটি সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যশৈলীর মিশেলে নির্মিত। মসজিদটির সামনের অংশে রয়েছে আয়তাকার মাঠ আর চতুর্দিকে রয়েছে তাল, নারকেল, আম ও কদমগাছের সারি। প্রাচীন মসজিদটি টিকে আছে চার কোণের প্রকান্ড আকারের মিনার আর চওড়া দেয়ালে ভর করে। উত্তর-দক্ষিণ লম্বা বিশিষ্ট মসজিদটির বাইরের দিকের দৈর্ঘ্য ৫৭ ফুট, প্রস্থ ২৪ ফুট। ভেতরের দিকের দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট। মসজিদের চারদিকের দেয়ালের পুরুত্ব ৬ ফুট। এই মসজিদ নির্মাণে ইট, চুন ও সুরকি ছাড়াও বৃহদাকার কৃষ্ণপাথর ব্যবহার করা হয়েছে। তিন গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদের চার কোনায় চারটি মিনার ও পূর্ব দেয়ালে তিনটিসহ উত্তর-দক্ষিণে আরও দুটি দরজা রয়েছে। আর পশ্চিম দেয়ালে আছে তিনটি কারুকার্য করা মেহরাব। এ ছাড়া ধনুকের মতো বাঁকা কার্নিশের তলায় সারিবদ্ধ খিলান আকৃতির প্যানেলে আছে চমৎকার অলংকরণ। মিনার, গম্বুজ ও ইটের বৈচিত্র্যময় গাঁথুনি এবং ফুল-লতা-পাতার নকশা পুরো মসজিদটিকে দিয়েছে বিশেষ স্বাতন্ত্র।

খোদাইকৃত শিলালিপি থেকে জানা যায়, ১৫৮২ সালের ২০ জানুয়ারি জওহর আলী খান কাকশালের পুত্র মির্জা মুরাদ খান এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। খেরুয়া মসজিদের নামকরণ স্পষ্ট নয়। আবুল কালাম মোহাম্মদ যাকারিয়া তার ‘বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব সম্পদ’ বইতে উল্লেখ করেছেন ‘এ মসজিদের খেরুয়া নামে কোনো ইতিবৃত্ত পাওয়া যায়নি। আরবি বা ফার্সি ভাষায় খেরুয়া বলে কোনো শব্দ পাওয়া যায় না।’ তবে ফার্সিতে ‘খায়ের গাহ্’ বলে শব্দ আছে। যার অর্থ ‘কোনো স্থানের ভেতরে’। রাজা মানসিংহ যখন বাংলার সুবাদার, তখন তিনি শেরপুরে একটি দুর্গ নির্মাণ করেছিলেন। এ দুর্গের কোনো অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে মসজিদটি যদি শেরপুর দুর্গের ভেতরে নির্মিত হয়ে থাকে, তবেই ‘খায়ের গাহ্’ থেকে খেরুয়া নাম হতে পারে বলে অনুমান করা যায়। মসজিদটির পূর্বদিকে তিনটি প্রবেশদ্বার রয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রবেশদ্বারটি অন্য প্রবেশদ্বারের তুলনায় বড় ও প্রশস্ত। মসজিদের অভ্যন্তরে পূর্ব দেওয়ালে প্রবেশদ্বারের সঙ্গে মিল রেখে তিনটি মিহরাব রয়েছে। মসজিদ সম্পর্কে স্থানীয় এক প্রবীণ ব্যক্তি ফজলুল হক বলেন, বাদশা মুরাদ খানের আমলে আব্দুস সামাদ নামে এক ব্যক্তি খড় বিক্রির টাকা দিয়ে এ মসজিদটি নির্মাণ করেছেন। আর এজন্য মসজিদটির নাম ‘খেরুয়া মসজিদ’। সে সময় মানুষ জিন-পরীদের দ্বারা কাজ করে নিত। আব্দুস সামাদ ফকিরও হয়তো জিন-পরীদের দিয়ে মসজিদটি তৈরি করে নিয়েছেন! যদিও এসব তথ্যের বাস্তব কোনো ভিত্তি নেই, তবে লোকমুখে ছড়ানো গল্পে আছে।

মসজিদ কমিটির সভাপতি বলেন, যতটুকু জানি, জওহর আলী কাকশালের ছেলে মির্জা মুরাদ খান কাকশালের অর্থায়নে সূদূর আরব থেকে আসা আব্দুস সামাদ ফকির নামে এক ব্যক্তি মসজিদটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। আব্দুস সামাদ অনেক কামেল ব্যক্তি ছিলেন। একসময় মসজিদটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। পরে ১৯৫৬ সালে সরকারিভাবে পুরাকীর্তি হিসেবে মেরামত করা হয়। পরে এ মসজিদ বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারাই এটির রক্ষণাবেক্ষণ করছে। মসজিদের সামনে যে কবর রয়েছে, সেটি আব্দুস সামাদের বলে ধারণা করা হয়। এখন মসজিদে নিয়মিত নামাজ আদায় করা হয়। ঈদের জামাতও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বগুড়ার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বলেন, মসজিদটিতে গিয়েছিলাম। বেশ কিছু সমস্যা চোখে পড়েছে। মসজিদটি সংস্কারের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।

back to top