জামালপুরে সরকারি পুকুর থেকে মাছ চুরি করায় এক বিএনপি নেতার নামে থানায় অভিযোগ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই ঘটনায় সেই নেতাকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এসএম আপেল মাহমুদ জামালপুর শহরের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধক্ষ্য। তিনি উপজেলার পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন তিনি। মাঝে মধ্যেই ওই কার্যালয়ে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার কথাও বলেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া তিনি সব ব্যানার এবং পোস্টারে নিজেকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেন।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ (শনিবার) ভোর সাড়ে ৫টায় বিএনপি নেতা আপেল মাহমুদ জেলেসহ (মাঝি) ১০ থেকে ১২ জন নিয়ে পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করেন। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা পুকুর পাড়ে যান এবং মাছ ধরতে নিষেধ করেন। তখন ওই নেতা তাদেরকে (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) বিভিন্নভাবে শাসান। কোনো উপায় না পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল যায়। এর আগেই ওই নেতা মাছ ধরে নিয়ে যান। তিনি ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান মোবাইলফোনে বলেন, গত ৩ মাস আগে আমরা পুকুরে নতুন করে মাছ ছেড়ে ছিলাম। মাছ তেমন একটা বড়ও হয়নি। হঠাৎ গত ২৯ মার্চ সকালে অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়, পুকুরে আপেল নামের ওই ব্যক্তি জাল ফেলে মাছ ধরছেন। পরে আমার পাউবো কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুকুর পাড়ে যান। কিন্তু এর আগেই তারা মাছ ধরে নিয়ে গেছেন। তখন পুকুর পাড়ে ওই বিএনপি নেতা এবং তার লোকজন ছিলেন। তখন ওই নেতা আমার কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে নানাভাবে হুমকিও দেন। এর আগেও পুকুরে মাছ ছাড়ার ব্যাপারে তিনি এসেছিল। তখন তিনি বলেন, গত ১৪ বছর অমুকরা খাইছে। এখন তিনি পুকুরে মাছ ছাড়বেন। তখন আমি কোনো অনুমতি দেয়নি। সরকারি পুকুর। সরকারি পুকুরে আমরা মাছ ছাড়বো বলে তাকে জানিয়ে দিয়েছিলাম। এই ঘটনায় আমরা থানায় ইতিমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এ ছাড়া বিষয়টি আমরা বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতাকেও জানিয়েছি। ওই নেতার বিষয়ে এর আগেও বিএনপির সিনিয়র নেতারাদের জানানো হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি নেতা এসএম আপেল মাহমুদের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা বক্তব্য থানায় গিয়ে নিয়ে আসেন। তবে অন্য সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, ওই জায়গায় আমি মাছ ছাড়ছি। সরকারি পুকুরে আমি মাছ অবমুক্ত করছি। মাছ ধরা এবং ছাড়া নিয়ে তো কোন সমস্যা নাই। আপনি (প্রতিবেদক) আমাকে ফোন করছেন কেনো? আপনি প্রতিবেদন লিখেনগা। আপনাদের তো বিরাট স্বাধীনতা দিয়ে ফেলা হয়েছে। স্বাধীনতা পাইছেন, আপনি (প্রতিবেদক) লিখেনগা। এ সময় তার দলীয় পদের কথা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে যান এবং বলতে থাকেন, আপনি পদ দিয়ে কী করবেন? জামালপুর শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মাসুদ মোবাইলফোনে বলেন, আমরা আপাতত তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছি।
পরে আমরা দলীয়ভাবে বসে তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। জামালপুর সদর থানার ওসি আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পুকুর থেকে মাছ চুরির বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে এই ব্যাপারে আমরা থানায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
জামালপুরে সরকারি পুকুর থেকে মাছ চুরি করায় এক বিএনপি নেতার নামে থানায় অভিযোগ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এই ঘটনায় সেই নেতাকে দল থেকে সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে বিএনপি। অভিযুক্ত বিএনপি নেতা এসএম আপেল মাহমুদ জামালপুর শহরের ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির কোষাধক্ষ্য। তিনি উপজেলার পশ্চিম ফুলবাড়িয়া এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছেন তিনি। মাঝে মধ্যেই ওই কার্যালয়ে গিয়ে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টার কথাও বলেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়া তিনি সব ব্যানার এবং পোস্টারে নিজেকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করেন।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ (শনিবার) ভোর সাড়ে ৫টায় বিএনপি নেতা আপেল মাহমুদ জেলেসহ (মাঝি) ১০ থেকে ১২ জন নিয়ে পুকুরে জাল দিয়ে মাছ ধরতে শুরু করেন। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা পুকুর পাড়ে যান এবং মাছ ধরতে নিষেধ করেন। তখন ওই নেতা তাদেরকে (কর্মকর্তা ও কর্মচারী) বিভিন্নভাবে শাসান। কোনো উপায় না পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল যায়। এর আগেই ওই নেতা মাছ ধরে নিয়ে যান। তিনি ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন। জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান মোবাইলফোনে বলেন, গত ৩ মাস আগে আমরা পুকুরে নতুন করে মাছ ছেড়ে ছিলাম। মাছ তেমন একটা বড়ও হয়নি। হঠাৎ গত ২৯ মার্চ সকালে অফিস থেকে আমাকে জানানো হয়, পুকুরে আপেল নামের ওই ব্যক্তি জাল ফেলে মাছ ধরছেন। পরে আমার পাউবো কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুকুর পাড়ে যান। কিন্তু এর আগেই তারা মাছ ধরে নিয়ে গেছেন। তখন পুকুর পাড়ে ওই বিএনপি নেতা এবং তার লোকজন ছিলেন। তখন ওই নেতা আমার কর্মকর্তা শফিকুল ইসলামকে নানাভাবে হুমকিও দেন। এর আগেও পুকুরে মাছ ছাড়ার ব্যাপারে তিনি এসেছিল। তখন তিনি বলেন, গত ১৪ বছর অমুকরা খাইছে। এখন তিনি পুকুরে মাছ ছাড়বেন। তখন আমি কোনো অনুমতি দেয়নি। সরকারি পুকুর। সরকারি পুকুরে আমরা মাছ ছাড়বো বলে তাকে জানিয়ে দিয়েছিলাম। এই ঘটনায় আমরা থানায় ইতিমধ্যে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। এ ছাড়া বিষয়টি আমরা বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতাকেও জানিয়েছি। ওই নেতার বিষয়ে এর আগেও বিএনপির সিনিয়র নেতারাদের জানানো হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিএনপি নেতা এসএম আপেল মাহমুদের সঙ্গে মোবাইলফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আপনারা বক্তব্য থানায় গিয়ে নিয়ে আসেন। তবে অন্য সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, ওই জায়গায় আমি মাছ ছাড়ছি। সরকারি পুকুরে আমি মাছ অবমুক্ত করছি। মাছ ধরা এবং ছাড়া নিয়ে তো কোন সমস্যা নাই। আপনি (প্রতিবেদক) আমাকে ফোন করছেন কেনো? আপনি প্রতিবেদন লিখেনগা। আপনাদের তো বিরাট স্বাধীনতা দিয়ে ফেলা হয়েছে। স্বাধীনতা পাইছেন, আপনি (প্রতিবেদক) লিখেনগা। এ সময় তার দলীয় পদের কথা জিজ্ঞাসা করতেই তিনি উত্তেজিত হয়ে যান এবং বলতে থাকেন, আপনি পদ দিয়ে কী করবেন? জামালপুর শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ মাসুদ মোবাইলফোনে বলেন, আমরা আপাতত তাকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দিয়েছি।
পরে আমরা দলীয়ভাবে বসে তাকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো। জামালপুর সদর থানার ওসি আবু ফয়সল মো. আতিক বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পুকুর থেকে মাছ চুরির বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে এই ব্যাপারে আমরা থানায় পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।