ভালুকা (ময়মনসিংহ) : বোরো ধান খেতে সার দিচ্ছেন কৃষক -সংবাদ
ভালুকার ছিটাল গ্রামের কৃষক কালু সেখ (৫৫) দুপুরের তপ্ত রোদে বোরো খেতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করছিলেন। এর আগে তিনি ধানের গোছায় হাত বুলিয়ে আগাছা পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, ১৫ কাঠা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন রোগবালাই না হলে ৫০-৫৫ মণ ধান পাবেন। অন্যের সাবমার্সিবল পাম্প হতে পানি সেচ দিয়ে জমি চাষ করেছেন। এজন্য পানি সেচ বাবদ টাকা দিয়ে হয়েছে কল মালিককে। কোনো রোগবালাই কিংবা পোকার আক্রমন এ পর্যন্ত হয়নি।
তিনি ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন। একমাত্র সম্বল ১৫ কাঠা জমির ধান ঘরে তুলতে পারলে তা দিয়েই চলবে সারাবছরের ভাতের জোগানসহ ধান বেচা টাকায় আনুষাঙ্গিক খরচ। তার মতো হাজারো কৃষকের একটাই স্বপ্ন মাথার ঘাম ঝড়ানো বোরো ফসল ঘরে তোলবেন কীভাবে। একই গ্রামের হারুমিয়া (৩৫) মাঝরা পোকার আক্রমণ হতে ধান গাছ বাঁচাতে ক্ষেতে আগাম (মটর) নামে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। তিনি এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো পাওয়ার আশা করছেন। ভালুকার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের ঘাম ঝড়ানো বোরো ধানের দিগন্তজোড়া মাঠ ভরে উঠেছে সারি সারি সবুজ পাতার আবিরে আর মাঝখানে ভর দুপুরে কৃষকের ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছেন শ্রমিকরা। সবুজ ধানের গোছায় হাত বুলিয়ে সোনার ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন হাজারো কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামের মাঠে মাঠে বোর ধান খেতে থোর আসার সময় হওয়ায় আগাছা পরিষ্কার ও সার কীটনাশক দেওয়ায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
যারা মৌসুমের প্রথমেই ক্ষেত তৈরি করে বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন তাদের ক্ষেতের ধান গোছা হয়ে থোর বের হচ্ছে। ওইসব ধান খেতে আগাছা বাছাই, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের সময় হওয়ায় চারিদিকে শ্রমিকের চাহিদা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ বোরো ক্ষেতে আগাছা বাছাইয়ের কাজ করছেন পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা।
কারণ হিসেবে কৃষকরা জানান, বর্তমানে ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর মিল ফ্যাক্টরিতে কাজ পাওয়ায় কৃষি কাজে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে ফলে এখন মাঝ বয়সি গরিব নারী শ্রমিকরা ক্ষেতে খামারে কৃষি কাজ করছে তাও সংখ্যায় খুবই কম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে বোরো ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এদের মধ্যে একজনের নাম জয়নদ্দীন। তিনি জানান, নিজের খেয়ে ৫০০ টাকা রোজ তারা কাজ করেন। এতে তাদের দিন খুব কষ্টে কাটে। খেতে-খলায় কাজ না করলে বেঁচে থাকার কোনো পথ নাই তাই বাধ্য হয়েই তারা গৃহস্থের খলায় কাজ করে থাকেন।
নদী নালা খাল বিল বেষ্টিত উঁচু নিচু উর্বর জমিতে ফসল উৎপাদন করে ভালুকার অধিকাংশ কৃষক তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এ অঞ্চলে সাধারণত আউশ, আমন, গম ও বোরো ধানের প্রচুর আবাদ হয়ে থাকে।
নিচু জমি যেমন খাল বিলঘেঁষা রয়েছে সেসব জমিতে আগাম চাষ দিয়ে সেচের মাধ্যমে বোরো ধানের আবাদ হয়। এর আগে ওই জমিতে টিএসপি ও পটাশ সার ব্যবহার করলে ভালো ফলন হয়। বর্তমানে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সারের প্রয়োগ বেড়েছে অনেক বেশি। পৌষ-মাঘ দুই মাস বোরো ধান রোপণের উপযুক্ত সময়। কোন কোন এলাকায় চৈত্রের শেষদিকে আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হয়। বৈশাখ মাসজুড়ে বোরো ধান কাটায় যেমন ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা তেমনি আতঙ্কেও থাকতে হয়। এ সময়টায় কাল বোশেখী শুরুর সময় হওয়ায় ঝড় বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই কৃষকরা অনেকটা তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়ে বোরো ধান মাড়াই করে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় কাটান।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে ভালুকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হাইব্রিড ২১৬৫ হেক্টর উফসি ১৬৪৮৬ হেক্টর।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) : বোরো ধান খেতে সার দিচ্ছেন কৃষক -সংবাদ
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
ভালুকার ছিটাল গ্রামের কৃষক কালু সেখ (৫৫) দুপুরের তপ্ত রোদে বোরো খেতে ইউরিয়া সার প্রয়োগ করছিলেন। এর আগে তিনি ধানের গোছায় হাত বুলিয়ে আগাছা পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানান, ১৫ কাঠা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন রোগবালাই না হলে ৫০-৫৫ মণ ধান পাবেন। অন্যের সাবমার্সিবল পাম্প হতে পানি সেচ দিয়ে জমি চাষ করেছেন। এজন্য পানি সেচ বাবদ টাকা দিয়ে হয়েছে কল মালিককে। কোনো রোগবালাই কিংবা পোকার আক্রমন এ পর্যন্ত হয়নি।
তিনি ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন। একমাত্র সম্বল ১৫ কাঠা জমির ধান ঘরে তুলতে পারলে তা দিয়েই চলবে সারাবছরের ভাতের জোগানসহ ধান বেচা টাকায় আনুষাঙ্গিক খরচ। তার মতো হাজারো কৃষকের একটাই স্বপ্ন মাথার ঘাম ঝড়ানো বোরো ফসল ঘরে তোলবেন কীভাবে। একই গ্রামের হারুমিয়া (৩৫) মাঝরা পোকার আক্রমণ হতে ধান গাছ বাঁচাতে ক্ষেতে আগাম (মটর) নামে কীটনাশক স্প্রে করছিলেন। তিনি এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো পাওয়ার আশা করছেন। ভালুকার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকের ঘাম ঝড়ানো বোরো ধানের দিগন্তজোড়া মাঠ ভরে উঠেছে সারি সারি সবুজ পাতার আবিরে আর মাঝখানে ভর দুপুরে কৃষকের ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছেন শ্রমিকরা। সবুজ ধানের গোছায় হাত বুলিয়ে সোনার ফসল ঘরে তোলার স্বপ্ন দেখছেন হাজারো কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামের মাঠে মাঠে বোর ধান খেতে থোর আসার সময় হওয়ায় আগাছা পরিষ্কার ও সার কীটনাশক দেওয়ায় ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।
যারা মৌসুমের প্রথমেই ক্ষেত তৈরি করে বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন তাদের ক্ষেতের ধান গোছা হয়ে থোর বের হচ্ছে। ওইসব ধান খেতে আগাছা বাছাই, সার ও কীটনাশক প্রয়োগের সময় হওয়ায় চারিদিকে শ্রমিকের চাহিদা দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ বোরো ক্ষেতে আগাছা বাছাইয়ের কাজ করছেন পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকরা।
কারণ হিসেবে কৃষকরা জানান, বর্তমানে ভালুকার বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর মিল ফ্যাক্টরিতে কাজ পাওয়ায় কৃষি কাজে পুরুষ শ্রমিকের সংখ্যা একেবারেই কমে গেছে ফলে এখন মাঝ বয়সি গরিব নারী শ্রমিকরা ক্ষেতে খামারে কৃষি কাজ করছে তাও সংখ্যায় খুবই কম।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে বোরো ক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। এদের মধ্যে একজনের নাম জয়নদ্দীন। তিনি জানান, নিজের খেয়ে ৫০০ টাকা রোজ তারা কাজ করেন। এতে তাদের দিন খুব কষ্টে কাটে। খেতে-খলায় কাজ না করলে বেঁচে থাকার কোনো পথ নাই তাই বাধ্য হয়েই তারা গৃহস্থের খলায় কাজ করে থাকেন।
নদী নালা খাল বিল বেষ্টিত উঁচু নিচু উর্বর জমিতে ফসল উৎপাদন করে ভালুকার অধিকাংশ কৃষক তাদের জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এ অঞ্চলে সাধারণত আউশ, আমন, গম ও বোরো ধানের প্রচুর আবাদ হয়ে থাকে।
নিচু জমি যেমন খাল বিলঘেঁষা রয়েছে সেসব জমিতে আগাম চাষ দিয়ে সেচের মাধ্যমে বোরো ধানের আবাদ হয়। এর আগে ওই জমিতে টিএসপি ও পটাশ সার ব্যবহার করলে ভালো ফলন হয়। বর্তমানে রাসায়নিক সারের পাশাপাশি জৈব সারের প্রয়োগ বেড়েছে অনেক বেশি। পৌষ-মাঘ দুই মাস বোরো ধান রোপণের উপযুক্ত সময়। কোন কোন এলাকায় চৈত্রের শেষদিকে আগাম বোরো ধান কাটা শুরু হয়। বৈশাখ মাসজুড়ে বোরো ধান কাটায় যেমন ব্যস্ত থাকেন কৃষকরা তেমনি আতঙ্কেও থাকতে হয়। এ সময়টায় কাল বোশেখী শুরুর সময় হওয়ায় ঝড় বৃষ্টি ও শিলা বৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে। তাই কৃষকরা অনেকটা তাড়াহুড়োর মধ্য দিয়ে বোরো ধান মাড়াই করে ঘরে তোলায় ব্যস্ত সময় কাটান।
উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে চলতি মৌসুমে ভালুকা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ১৮ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। হাইব্রিড ২১৬৫ হেক্টর উফসি ১৬৪৮৬ হেক্টর।