গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : লক্করঝক্কর লঞ্চ দিয়ে চলছে যাত্রী পারাপার -সংবাদ
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজীরহাট নৌরুটে লঞ্চে পারাপারের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্ক! হয়। তবে এসব নৌপথে চলাচলকারী অধিকাংশ লঞ্চ আনফিট পঁয়ত্রিশ থেকে ছল্লিশ বছরে পুরনো অধিকাংশ লঞ্চ অবস্থা জরাজীর্ণ। নেই পর্যাপ্ত পরিমান জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম, নেই যথাযথ ফিটনেস। ঈদে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নড়বড়ে লঞ্চগুলো চলাচল করায় বড় ধরনের নৌদুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা ও ঘাট সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজীরহাট নৌরুটে ৩৩টি ছোট বড় লঞ্চ চলাচল করে। সাধারণ সময়েই প্রতিদিন এই লঞ্চরুটগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। এছাড়ও বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে তা বেড়ে লখাধিকের অধিক হয়, যেমন ঈদ, পূঁজা, বড়দিন, এছাড়ও রয়েছে বিশেষ বিশেষ ছুটির দিন। বর্তমানে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষগুলো আবার ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদিতে ছুটছে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। যারা লঞ্চপারাপার হবে তাদের জীবনের রয়েছে চরম ঝুঁকি ও নিরাপত্তার শঙ্ক নিয়েই পারাপার হতে হয় লঞ্চ। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজীরহাট নৌরুটে লঞ্চে কয়েক বার ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছে অসংখ্য মানুষ অনেকের লাশ পাওয়া গেলেও অনেকের লাশের দেখাও মিলেনি। এসব লঞ্চ দুর্ঘটনা কারণে নিশ্চিহ্ন হয়েছে অনেক পরিবার আবার একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটাকে হরিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবারগুলো। প্রতিটি বিশেষ দিনে নৌপথ সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিরা লঞ্চ ও অন্যান্য নৌ পারাপারে নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলায় তার বস্তবায়নের চিত্র উল্ট। (বৃহস্পতিবার ৩এপ্রিল) দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে যাত্রীরা বলেন এবং দেখা গেছে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে লঞ্চগুলো। কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের নৌদুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া-পারিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করে, এর মধ্যে ২৬টি বড় (এমভি) ও ৭টি ছোট (এমএল) লঞ্চ। এসব লঞ্চের বয়স পঁয়ত্রিশ থেকে ছল্লিশ বছরে পুরনো। ভেতরে ইঞ্জিনসহ নানা যান্ত্রিক অংশ জোড়াতালি দেওয়া। অধিকাংশ লঞ্চে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার বাকেট, লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া ও ফার্স্ট এইড কিটের সংকট রয়েছে। এছাড়া আরও দেখা গেছে দুর্ঘটনায় জীবন রক্ষায় লাইফ বয়াগুলো যাত্রীর তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল তাও আবার লঞ্চের সঙ্গে শক্তপোক্ত ভাবে বাঁধা যা দূর্ঘটনার সময় ব্যবহারের উপায় নেই। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে এমভি নজীর, এমভি বিদ্যুৎ, এমভি খন্দকার, এমভি টুম্পা লঞ্চ। লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হলেও তদারকির অভাব রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অভিজ্ঞ চালক (মাস্টার) থাকার কথা থাকলেও কিছু লঞ্চে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে লঞ্চ চালানো হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার মো. নুরুল আনোয়ার মিলন বলেন, ঈদের আগে ও পরে দুই পার থেকে লঞ্চে যে যাত্রী পারাপার হয়েছে, তা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হয়েছে। আর তাছাড়া প্রতিটি লঞ্চ ঘাটে ভেড়ার আগে যাত্রীরা সামনের দিকে চলে আসায় মনে হয় অতিরিক্ত যাত্রী রয়েছে, কিন্তু আসলে তা নয়। আর ফিটনেসের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন প্রত্যেকটি লঞ্চেরই ফিটনেস সার্টিফিকেট রয়েছে। তবে যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। যাত্রী আরাফাত হোসেন(৪০) (কুষ্টিয়া) রিপন(৩৫) রাজবাড়ী, আলম (৩৪) পাংশা বলেন, কর্তৃপক্ষ লক্করঝক্কর লঞ্চ দিয়ে এই রুটে যাত্রী পারাপার করছে, সামনে ঝড় বাদলের দিন, ঝড় হলেই লঞ্চ দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। আরেক লঞ্চ যাত্রী কোহিনুর বেগম (৪৬) রাজবাড়ী বলেন, আমি মাঝে মধ্যেই লঞ্চে পার হই। লঞ্চে যত আসন থাকে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ উঠে। আর অধিকাংশ লঞ্চগুলোর অবস্থাও খুব খারাপ। যাত্রী গার্মেন্টস কর্মী মর্জিনা বেগম (২৫)পাংশা বলেন, কাজের তাগিদেই ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চে চলাচল করি। তবে খুব আতঙ্ক নিয়েই লঞ্চে চলাচল করি কতৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যাপক উদাসীন।
বিআইডব্লিটিএ এর ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. শিমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, লঞ্চগুলো অনেক পুরনো, এরমধ্যে ৪/৫ লঞ্চের অবস্থা খারাপ। তবে সেগুলো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই চলছে। তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকলে আমাদের কিছু করার নেই। তবে এ বিষয়ে, লঞ্চ মালিক পক্ষকে বার বার সতর্ক করেছি।
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : লক্করঝক্কর লঞ্চ দিয়ে চলছে যাত্রী পারাপার -সংবাদ
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজীরহাট নৌরুটে লঞ্চে পারাপারের যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্ক! হয়। তবে এসব নৌপথে চলাচলকারী অধিকাংশ লঞ্চ আনফিট পঁয়ত্রিশ থেকে ছল্লিশ বছরে পুরনো অধিকাংশ লঞ্চ অবস্থা জরাজীর্ণ। নেই পর্যাপ্ত পরিমান জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম, নেই যথাযথ ফিটনেস। ঈদে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নড়বড়ে লঞ্চগুলো চলাচল করায় বড় ধরনের নৌদুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা ও ঘাট সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজীরহাট নৌরুটে ৩৩টি ছোট বড় লঞ্চ চলাচল করে। সাধারণ সময়েই প্রতিদিন এই লঞ্চরুটগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী পারাপার হয়ে থাকে। এছাড়ও বিশেষ বিশেষ দিনগুলোতে তা বেড়ে লখাধিকের অধিক হয়, যেমন ঈদ, পূঁজা, বড়দিন, এছাড়ও রয়েছে বিশেষ বিশেষ ছুটির দিন। বর্তমানে প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা মানুষগুলো আবার ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদিতে ছুটছে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে। যারা লঞ্চপারাপার হবে তাদের জীবনের রয়েছে চরম ঝুঁকি ও নিরাপত্তার শঙ্ক নিয়েই পারাপার হতে হয় লঞ্চ। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া এবং মানিকগঞ্জের আরিচা-পাবনার কাজীরহাট নৌরুটে লঞ্চে কয়েক বার ভয়াবহ লঞ্চ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে মারা গেছে অসংখ্য মানুষ অনেকের লাশ পাওয়া গেলেও অনেকের লাশের দেখাও মিলেনি। এসব লঞ্চ দুর্ঘটনা কারণে নিশ্চিহ্ন হয়েছে অনেক পরিবার আবার একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটাকে হরিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে পরিবারগুলো। প্রতিটি বিশেষ দিনে নৌপথ সংশ্লিষ্ট কর্তা ব্যাক্তিরা লঞ্চ ও অন্যান্য নৌ পারাপারে নির্বিঘ্ন করতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলায় তার বস্তবায়নের চিত্র উল্ট। (বৃহস্পতিবার ৩এপ্রিল) দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাট গিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বললে যাত্রীরা বলেন এবং দেখা গেছে যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলছে লঞ্চগুলো। কার্যকর তদারকি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের নৌদুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দৌলতদিয়া-পারিয়া ও আরিচা-কাজীরহাট নৌপথে ৩৩টি লঞ্চ চলাচল করে, এর মধ্যে ২৬টি বড় (এমভি) ও ৭টি ছোট (এমএল) লঞ্চ। এসব লঞ্চের বয়স পঁয়ত্রিশ থেকে ছল্লিশ বছরে পুরনো। ভেতরে ইঞ্জিনসহ নানা যান্ত্রিক অংশ জোড়াতালি দেওয়া। অধিকাংশ লঞ্চে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, ফায়ার বাকেট, লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয়া ও ফার্স্ট এইড কিটের সংকট রয়েছে। এছাড়া আরও দেখা গেছে দুর্ঘটনায় জীবন রক্ষায় লাইফ বয়াগুলো যাত্রীর তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল তাও আবার লঞ্চের সঙ্গে শক্তপোক্ত ভাবে বাঁধা যা দূর্ঘটনার সময় ব্যবহারের উপায় নেই। সবচেয়ে নাজুক অবস্থায় রয়েছে এমভি নজীর, এমভি বিদ্যুৎ, এমভি খন্দকার, এমভি টুম্পা লঞ্চ। লঞ্চগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করা হলেও তদারকির অভাব রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী অভিজ্ঞ চালক (মাস্টার) থাকার কথা থাকলেও কিছু লঞ্চে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দিয়ে লঞ্চ চালানো হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে আরিচা লঞ্চ মালিক সমিতির দৌলতদিয়া ঘাট ম্যানেজার মো. নুরুল আনোয়ার মিলন বলেন, ঈদের আগে ও পরে দুই পার থেকে লঞ্চে যে যাত্রী পারাপার হয়েছে, তা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে হয়েছে। আর তাছাড়া প্রতিটি লঞ্চ ঘাটে ভেড়ার আগে যাত্রীরা সামনের দিকে চলে আসায় মনে হয় অতিরিক্ত যাত্রী রয়েছে, কিন্তু আসলে তা নয়। আর ফিটনেসের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন প্রত্যেকটি লঞ্চেরই ফিটনেস সার্টিফিকেট রয়েছে। তবে যাত্রীরা বলছেন ভিন্ন কথা। যাত্রী আরাফাত হোসেন(৪০) (কুষ্টিয়া) রিপন(৩৫) রাজবাড়ী, আলম (৩৪) পাংশা বলেন, কর্তৃপক্ষ লক্করঝক্কর লঞ্চ দিয়ে এই রুটে যাত্রী পারাপার করছে, সামনে ঝড় বাদলের দিন, ঝড় হলেই লঞ্চ দুর্ঘটনাসহ প্রাণহানির শঙ্কা রয়েছে। আরেক লঞ্চ যাত্রী কোহিনুর বেগম (৪৬) রাজবাড়ী বলেন, আমি মাঝে মধ্যেই লঞ্চে পার হই। লঞ্চে যত আসন থাকে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ উঠে। আর অধিকাংশ লঞ্চগুলোর অবস্থাও খুব খারাপ। যাত্রী গার্মেন্টস কর্মী মর্জিনা বেগম (২৫)পাংশা বলেন, কাজের তাগিদেই ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চে চলাচল করি। তবে খুব আতঙ্ক নিয়েই লঞ্চে চলাচল করি কতৃপক্ষ এ বিষয়ে ব্যাপক উদাসীন।
বিআইডব্লিটিএ এর ট্রাফিক সুপারভাইজার মো. শিমুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, লঞ্চগুলো অনেক পুরনো, এরমধ্যে ৪/৫ লঞ্চের অবস্থা খারাপ। তবে সেগুলো নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিয়েই চলছে। তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট থাকলে আমাদের কিছু করার নেই। তবে এ বিষয়ে, লঞ্চ মালিক পক্ষকে বার বার সতর্ক করেছি।