বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) : উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নে বাসন্তী পূজার মহাসপ্তমীর দিনে ভক্ত-অনুরক্তদের পদচারণা -সংবাদ
চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের বাসন্তীপূজা হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আদি দুর্গাপূজা। বাসন্তী পূজায় বহমান ছিল দুর্গা পূজার আদী স্মৃতি। শরৎকালে দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপুজা, আর বসন্তকালে দেবীর আরাধনা বাসন্তীপূজা হিসেবেই প্রসিদ্ধ।
গত ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত দুর্গা পূজার উৎপত্তিস্থল শ্রী শ্রী চন্ডীতীর্থ ও মেধস আশ্রমে গিয়ে দেখা গেছে, বাসন্তী পূজার মহাসপ্তমীর দিনে অসংখ্য ভক্ত- অনুরক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ।
জানা গেছে, দেবীর আবির্ভাব স্থান মেধস আশ্রম পৌরাণিক শত সহস্র বছরের পবিত্র তীর্থভূমি। পবিত্র এই তীর্থভূমিতে হাজার হাজার বছর আগে দেবী ভগবতীর আর্বিভাব ঘটেছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এই মেধস আশ্রমে মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ে সর্বপ্রথম মর্ত্যলোকে দশভূজা দুর্গাদেবীর পূজা শুরু হয় বলে বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, ঋষি মেধসের নির্দেশে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য এ পাহাড়ে এ মুনির আশ্রমে মৃন্ময়ী মূর্তিতে প্রথম দুর্গা পূজা করেন, যা পরবর্তীতে বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত হয়।”
দীর্ঘ দিন পর এবার বাসন্তী পূজায় আশ্রমে আসতে পেরে আনন্দানুভব করছেন উপজেলার সারোয়াতলির কৃতি সন্তান প্রাক্তন জেলা প্রশাসক দেবাশীষ নাগ। তিনি বলেন, চৈত্রের ষষ্ঠী তিথিতে করলডেঙ্গা সন্ন্যাসী পাহাড় সেজে উঠেছে বাসন্তী পূজার আয়োজনে; দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই আসছেন পূজার প্রসাদ গ্রহণ ও অঞ্জলি দিতে। দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।
মেধস আশ্রমের অধ্যক্ষ বুলবুলানন্দ মহারাজ বলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর মেধস আশ্রম থেকেই শুরু হয়েছিল দেবী দুর্গার পূজা। বসন্ত কালের এ পূজাটি বাসন্তী পূজা নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরিচিত। তবে বাঙালি হিন্দুর কাছে এখন শরৎকালের দুর্গাপূজার গুরুত্ব বেশি।
তিনি বলেন, সত্য যুগে কোলা রাজ্যের রাজা সুরথ তার রাজ্য হারিয়ে এবং স্বজন কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে সমাধি বৈশ্য এ পাহাড়ে আসেন। এবং সেখানে ঋষি মেধসের সাক্ষাৎ পান ।
ঋষি মেধসের নির্দেশে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য এ পাহাড়ে এ মুনির আশ্রমে মৃন্ময়ী মূর্তিতে প্রথম দুর্গা পূজা করেন, যা পরবর্তীতে বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত হয়।”
“এ বাসন্তী পূজাই প্রথম দুর্গা পূজা। পরবর্তীতে সীতাকে উদ্ধার করতে রামচন্দ্র দেবীর অকাল বোধন করে শরৎকালের দুর্গা পূজা করেন।”
বোয়ালখালীতে মেধস আশ্রম সহ ২৫ টি ম-পে বাসন্তী পূজা উদযাপন করা হচ্ছে।
এ উৎসব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী শাখার সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস।
করলডেঙ্গা ইউনিয়নের এ সন্ন্যাসী পাহাড়ে ৬৮ একরের বেশি জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা মূল আশ্রমে প্রবেশ করতে কয়েক’শ সিঁড়ি বেয়ে অন্তত পাঁচশ ফুট উপরে উঠতে হয়।
নিচে আশ্রমের মূল প্রবেশ পথের শুরুতেই আছে গনেশ মন্দির। চারদিকে পাহাড়, গাছ গাছালি আর নানা ধরনের পাখির ডাক শোনা যায় এ মন্দিরের পাহাড়ে উঠতে উঠতে।
পাহাড়ের উপরে কিছুদূর উঠতেই দূর থেকে চোখে পড়বে মূল মন্দিরের ফটকে দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। উপরে মূল মন্দির, যেটি ‘চ-ী মন্দির’ নামে পরিচিত। মন্দিরের পাশেই আশ্রমের ‘আবিষ্কারক’ স্বামী বেদানন্দের মূর্তিসহ সমাধিপীঠ।
ভক্তরা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত পবিত্র এই তীর্থভূমি চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে কড়লডেঙ্গার ৫০০ ফুট উপরে সন্ন্যাসী পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। এই আশ্রমের কথা শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ থাকলেও সাধারণ্যে তার প্রকাশ বা প্রচার ছিল না। যা কলি কালের শত শত বছর পূরনো। মহা সপ্তমীর দিনে এখানে এসে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করতে পেরে খুবই আনন্দিত।
মেধস আশ্রমের মূল উৎসব বাসন্তী পূজা। এ আশ্রম থেকেই বাসন্তী পূজার উৎপত্তি।”একসময়ে এ আশ্রমে পূণ্যার্থী সংখ্যা কম থাকলেও এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা বাসন্তী পূজার সময় আসেন বলে জানান পঞ্চম পুরোহিত ভোলানাথ শিব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সবুজ চক্রবর্তী ও আশ্রম পরিচালনা কমিটির মহিলা সম্পাদিকা বাবলি ঘোষ।
তারা বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে পাঁচদিন ধরে নানা আয়োজনে আগামী ৭ এপ্রিল বিজয়া দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) : উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নে বাসন্তী পূজার মহাসপ্তমীর দিনে ভক্ত-অনুরক্তদের পদচারণা -সংবাদ
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫
চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের বাসন্তীপূজা হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আদি দুর্গাপূজা। বাসন্তী পূজায় বহমান ছিল দুর্গা পূজার আদী স্মৃতি। শরৎকালে দুর্গাপূজা শারদীয়া দুর্গাপুজা, আর বসন্তকালে দেবীর আরাধনা বাসন্তীপূজা হিসেবেই প্রসিদ্ধ।
গত ৪ এপ্রিল চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কড়লডেঙ্গা ইউনিয়নের পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত দুর্গা পূজার উৎপত্তিস্থল শ্রী শ্রী চন্ডীতীর্থ ও মেধস আশ্রমে গিয়ে দেখা গেছে, বাসন্তী পূজার মহাসপ্তমীর দিনে অসংখ্য ভক্ত- অনুরক্তদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ।
জানা গেছে, দেবীর আবির্ভাব স্থান মেধস আশ্রম পৌরাণিক শত সহস্র বছরের পবিত্র তীর্থভূমি। পবিত্র এই তীর্থভূমিতে হাজার হাজার বছর আগে দেবী ভগবতীর আর্বিভাব ঘটেছিল বলে জনশ্রুতি রয়েছে। এই মেধস আশ্রমে মৃন্ময়ী মূর্তি গড়ে সর্বপ্রথম মর্ত্যলোকে দশভূজা দুর্গাদেবীর পূজা শুরু হয় বলে বিভিন্ন পৌরাণিক গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আশ্রম পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী।
তিনি বলেন, ঋষি মেধসের নির্দেশে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য এ পাহাড়ে এ মুনির আশ্রমে মৃন্ময়ী মূর্তিতে প্রথম দুর্গা পূজা করেন, যা পরবর্তীতে বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত হয়।”
দীর্ঘ দিন পর এবার বাসন্তী পূজায় আশ্রমে আসতে পেরে আনন্দানুভব করছেন উপজেলার সারোয়াতলির কৃতি সন্তান প্রাক্তন জেলা প্রশাসক দেবাশীষ নাগ। তিনি বলেন, চৈত্রের ষষ্ঠী তিথিতে করলডেঙ্গা সন্ন্যাসী পাহাড় সেজে উঠেছে বাসন্তী পূজার আয়োজনে; দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই আসছেন পূজার প্রসাদ গ্রহণ ও অঞ্জলি দিতে। দেখে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।
মেধস আশ্রমের অধ্যক্ষ বুলবুলানন্দ মহারাজ বলেন, চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর মেধস আশ্রম থেকেই শুরু হয়েছিল দেবী দুর্গার পূজা। বসন্ত কালের এ পূজাটি বাসন্তী পূজা নামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে পরিচিত। তবে বাঙালি হিন্দুর কাছে এখন শরৎকালের দুর্গাপূজার গুরুত্ব বেশি।
তিনি বলেন, সত্য যুগে কোলা রাজ্যের রাজা সুরথ তার রাজ্য হারিয়ে এবং স্বজন কর্তৃক বিতাড়িত হয়ে সমাধি বৈশ্য এ পাহাড়ে আসেন। এবং সেখানে ঋষি মেধসের সাক্ষাৎ পান ।
ঋষি মেধসের নির্দেশে রাজা সুরথ ও সমাধি বৈশ্য এ পাহাড়ে এ মুনির আশ্রমে মৃন্ময়ী মূর্তিতে প্রথম দুর্গা পূজা করেন, যা পরবর্তীতে বাসন্তী পূজা নামে পরিচিত হয়।”
“এ বাসন্তী পূজাই প্রথম দুর্গা পূজা। পরবর্তীতে সীতাকে উদ্ধার করতে রামচন্দ্র দেবীর অকাল বোধন করে শরৎকালের দুর্গা পূজা করেন।”
বোয়ালখালীতে মেধস আশ্রম সহ ২৫ টি ম-পে বাসন্তী পূজা উদযাপন করা হচ্ছে।
এ উৎসব সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ বোয়ালখালী শাখার সভাপতি শ্যামল বিশ্বাস।
করলডেঙ্গা ইউনিয়নের এ সন্ন্যাসী পাহাড়ে ৬৮ একরের বেশি জায়গা নিয়ে গড়ে ওঠা মূল আশ্রমে প্রবেশ করতে কয়েক’শ সিঁড়ি বেয়ে অন্তত পাঁচশ ফুট উপরে উঠতে হয়।
নিচে আশ্রমের মূল প্রবেশ পথের শুরুতেই আছে গনেশ মন্দির। চারদিকে পাহাড়, গাছ গাছালি আর নানা ধরনের পাখির ডাক শোনা যায় এ মন্দিরের পাহাড়ে উঠতে উঠতে।
পাহাড়ের উপরে কিছুদূর উঠতেই দূর থেকে চোখে পড়বে মূল মন্দিরের ফটকে দেবী দুর্গার মুখাবয়ব। উপরে মূল মন্দির, যেটি ‘চ-ী মন্দির’ নামে পরিচিত। মন্দিরের পাশেই আশ্রমের ‘আবিষ্কারক’ স্বামী বেদানন্দের মূর্তিসহ সমাধিপীঠ।
ভক্তরা জানান, প্রকৃতির অপরূপ সাজে সজ্জিত পবিত্র এই তীর্থভূমি চট্টগ্রাম জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে কড়লডেঙ্গার ৫০০ ফুট উপরে সন্ন্যাসী পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত। এই আশ্রমের কথা শাস্ত্রে লিপিবদ্ধ থাকলেও সাধারণ্যে তার প্রকাশ বা প্রচার ছিল না। যা কলি কালের শত শত বছর পূরনো। মহা সপ্তমীর দিনে এখানে এসে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করতে পেরে খুবই আনন্দিত।
মেধস আশ্রমের মূল উৎসব বাসন্তী পূজা। এ আশ্রম থেকেই বাসন্তী পূজার উৎপত্তি।”একসময়ে এ আশ্রমে পূণ্যার্থী সংখ্যা কম থাকলেও এখন যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দুর দুরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা বাসন্তী পূজার সময় আসেন বলে জানান পঞ্চম পুরোহিত ভোলানাথ শিব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সবুজ চক্রবর্তী ও আশ্রম পরিচালনা কমিটির মহিলা সম্পাদিকা বাবলি ঘোষ।
তারা বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে পাঁচদিন ধরে নানা আয়োজনে আগামী ৭ এপ্রিল বিজয়া দশমীতে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।