মাঠজুড়ে সবুজ মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত। গাছে গাছে হলদে ফুল আর গুটি গুটি দানায় কুমড়া ধরেছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে চাষিদের নিজের কুমড়া ক্ষেতে যথারীতি সার, আগাছা নিড়িয়ে দিচ্ছেন, কীটনাশক ও পানি দিচ্ছেন। গত বছর কুমড়া চাষে লাভবান হয়েছেন এ বছরও তার মিষ্টি কুমড়া চাষে আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও চাষিদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, কুমড়া চাষে এবছর ভালো ফসনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ এবং চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলায় এই মৌসুমে ১৯৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করা হয়েছে। উপজেলার চাষকৃত বিভিন্ন মাঠে ফলনও ভালো হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভবান হচ্ছে। এতে চাষিদের এ কুমড়া চাষে আগ্রহ বেড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেতাগী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বেতাগী গ্রামের আতিকুর রহমান পল্টু একজন আদর্শ কৃষক। তিনি নিজ গ্রামে ৬৫ শতক জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছন। কুমড়া ক্ষেতে নিয়মিত পানি, জৈব ও রাসায়নিক সার এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংসে কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ করছেন। এ ছাড়া আগাছা নিড়িয়ে দিচ্ছেন এবং যথারীতি পরিচর্যা করছেন। এই একই জমিতে গত বছর মিষ্টি কুমড়া চাষ করে ২ হাজার ৫শ কেজি মিষ্টি কুমড়া পেয়েছেন এবং এতে লাভ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। চাষি আতিকুর রহমান বলেন, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে উন্নত প্রজাতির বীজ বপন করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করছি, গত বছরের তুলনায় এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘মিষ্টি কুমড়া সাধারণত একটু উঁচু জমিতে ভালো ফলন হয়। গাছে ফল এলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমন থেকে রক্ষায় নিয়মিত কীটনাশক ওষুধ, রাসায়নিক সার এবং পানি প্রয়োগ করতে হবে।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ‘কুমড়া ক্ষেতে জাব পোকার আক্রমণ বেশি হয়। এ ছাড়া গাছে ফুল থেকে গুঁটি গুঁটি দানা পড়ার সময় বোজম অ্যান্ড রট রোগ দেখা দেয়। প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইনসাফ বা থিয়ভিট বা সালফোলাঙ বা কুমুলাস অথবা ১০ গ্রাম ক্যালিঙিন ১৫ দিন পর পর স্প্রে করে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’
সহকারী অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু আরও বলেন, ‘ ভিটামিন এ, বি-কমপেক্স, সি এবং ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রণ, জিংক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহের উপাদান বিদ্যমান থাকে। এ ছাড়াও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজিটি আমাদের দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধক কোষ গঠন করে।’
বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমেদ বলেন, ‘এ উপজেলায় ১৯৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠের চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে।’
শুক্রবার, ০৯ মে ২০২৫
মাঠজুড়ে সবুজ মিষ্টি কুমড়ার ক্ষেত। গাছে গাছে হলদে ফুল আর গুটি গুটি দানায় কুমড়া ধরেছে। উপজেলার বিভিন্ন মাঠে চাষিদের নিজের কুমড়া ক্ষেতে যথারীতি সার, আগাছা নিড়িয়ে দিচ্ছেন, কীটনাশক ও পানি দিচ্ছেন। গত বছর কুমড়া চাষে লাভবান হয়েছেন এ বছরও তার মিষ্টি কুমড়া চাষে আগ্রহ বেড়েছে। কৃষি বিশেষজ্ঞ ও চাষিদের সঙ্গে কথা জানা গেছে, কুমড়া চাষে এবছর ভালো ফসনের সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ এবং চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগী উপজেলায় এই মৌসুমে ১৯৫ হেক্টর জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করা হয়েছে। উপজেলার চাষকৃত বিভিন্ন মাঠে ফলনও ভালো হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভবান হচ্ছে। এতে চাষিদের এ কুমড়া চাষে আগ্রহ বেড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বেতাগী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বেতাগী গ্রামের আতিকুর রহমান পল্টু একজন আদর্শ কৃষক। তিনি নিজ গ্রামে ৬৫ শতক জমিতে মিষ্টি কুমড়া চাষ করেছন। কুমড়া ক্ষেতে নিয়মিত পানি, জৈব ও রাসায়নিক সার এবং ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংসে কীটনাশক ওষুধ প্রয়োগ করছেন। এ ছাড়া আগাছা নিড়িয়ে দিচ্ছেন এবং যথারীতি পরিচর্যা করছেন। এই একই জমিতে গত বছর মিষ্টি কুমড়া চাষ করে ২ হাজার ৫শ কেজি মিষ্টি কুমড়া পেয়েছেন এবং এতে লাভ হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। চাষি আতিকুর রহমান বলেন, জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে উন্নত প্রজাতির বীজ বপন করা হয়েছে। নিয়মিত পরিচর্যা করছি, গত বছরের তুলনায় এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয় কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘মিষ্টি কুমড়া সাধারণত একটু উঁচু জমিতে ভালো ফলন হয়। গাছে ফল এলে ক্ষতিকর পোকার আক্রমন থেকে রক্ষায় নিয়মিত কীটনাশক ওষুধ, রাসায়নিক সার এবং পানি প্রয়োগ করতে হবে।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু বলেন, ‘কুমড়া ক্ষেতে জাব পোকার আক্রমণ বেশি হয়। এ ছাড়া গাছে ফুল থেকে গুঁটি গুঁটি দানা পড়ার সময় বোজম অ্যান্ড রট রোগ দেখা দেয়। প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২০ গ্রাম ইনসাফ বা থিয়ভিট বা সালফোলাঙ বা কুমুলাস অথবা ১০ গ্রাম ক্যালিঙিন ১৫ দিন পর পর স্প্রে করে এসব রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’
সহকারী অধ্যাপক ড. সন্তোষ কুমার বসু আরও বলেন, ‘ ভিটামিন এ, বি-কমপেক্স, সি এবং ই, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রণ, জিংক, ফসফরাস, কপার, ক্যারটিনয়েড এবং অন্যান্য অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমূহের উপাদান বিদ্যমান থাকে। এ ছাড়াও বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ এই সবজিটি আমাদের দেহের ক্যান্সার প্রতিরোধক কোষ গঠন করে।’
বেতাগী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানজিলা আহমেদ বলেন, ‘এ উপজেলায় ১৯৫ হেক্টর জমিতে কুমড়া চাষ করা হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠের চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে।’