alt

সারাদেশ

শিশু ধর্ষণ-হত্যা

একদিনে ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, চট্টগ্রাম ব্যুরো, প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি ও মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) : মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

কন্যা শিশুকে ধর্ষণ শেষে নৃসংশভাবে হত্যা এবং অপহরণ করে দুই স্কুলছাত্রকে হত্যার পৃথক ঘটনায় চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর সোমবার পৃথক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারকরা এসব রায় দেন। এর মধ্যে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রামে ৮ জনের, খাগড়াছড়িতে কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় ৩ জনের এবং দুই স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৩ জনের ফাঁসির রায় দেয়া হয়। শিশু, কিশোর কিশোরীদের প্রতি আমানুষিক আচরণ, নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য ঘটনাগুলো কিছুটা হলেও প্রভাব তৈরি করে যুগান্তকারী এসব রায়ে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার কর্মীরা।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর আম্বরশাহ এলাকায় ৯ বছরের এক শিশুকে তুলে নিয়ে একটি ভবনে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়। এরপর ওই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। স্বাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে প্রায় ২ বছরের (২২ মাস) মধ্যে সোমবার চট্টগ্রামের একটি আদালত রায় ঘোষণা করে। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ৮ জনকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়। অপরদিকে গত বছরের ১৩ মে খাগড়াছড়িতে ধনিতা ত্রিপুরা নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাসায় ঢুকে ধর্ষণ করে ৩ মদ্যপ যুবক। ধর্ষণের পর ওই তরুণীকে হত্যা করা হয়। ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার পর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনার ২১ মাসের মধ্যে আলোচিত ওই ঘটনার বিচারিক রায়ে ৩ ধর্ষক ও খুনিকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়। এদিকে ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ২ স্কুলছাত্রকে অপহরণ করা হয় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। এরপর ওই দুই শিশুকে জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হলেও পুলিশ তদন্ত করে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতা পায়। তদন্ত শেষে একই বছরের ৬ জুন আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। প্রায় সাড়ে ৩ বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আলোচিত এ ঘটনায় সোমবার রায় প্রদান করা হয়। রায়ে গ্রেফতার হওয়া ১০ আসামিসহ ১১ জনের মধ্যে ৩ জনের ফাঁসি, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ জনকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। মূলত দুই শিশুকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং হত্যার ঘটনায় তাদের কিছু স্বজন জড়িত ছিল বলে তখন তদন্তে বেরিয়ে আসে।

অপরাধ বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার কর্মীদের ভাষ্য, দেশে ধর্ষণ, ধর্ষণ করে হত্যা, অপহরণ, গুম করাসহ ভয়ঙ্কর সব অপরাধের বলি হচ্ছেন শিশুরা। বিশেষ করে কন্যা শিশু, কিশোরীরা নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যার মতো ঘটনাগুলোর শিকার হচ্ছেন বেশি। পারিবারিক সহিংসতার বলি হয়েও শিশুরা হত্যার শিকার হচ্ছেন। খুব কম ঘটনায় মামলা হচ্ছে। মামলা হলেও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোন শাস্তি হয় না অপরাধীদের। তবে এসব হতাশার মধ্যে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি এবং মির্জাপুরের ঘটনাগুলোর রায় যুগান্তকারী হিসেবে ধরা যায়। এ রায়ের কারণে অপরাধীদের মধ্যে কিছুটা হলেও ভীতির সঞ্চার তৈরি করবে। অপরাধ করলে যে শাস্তি পেতে হয় এ রায় তাই প্রমাণ করে। তবে রায় কতটা দ্রুত কার্যকর হয় তা দেখার বিষয়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক আইনজীবী নীনা গোস্বামী টেলিফোনে সংবাদকে জানান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও টাঙ্গাইলের ঘটনাগুলো খুবই নৃশংস ছিল। আশার বাণী হচ্ছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রায়গুলো দেয়া হয়েছে। তবে এতে খুব বেশি উৎসাহিত হওয়া যাবে না যতক্ষণ আইনের সবগুলো ধাপ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে রায় কার্যকর না হয়। কারণ টাঙ্গাইলের রুপা এবং ফেনীর নুসরাতের রায়ও দ্রুত হয়েছে। তবে তা এখন কার্যকর হয়নি। আমরা সব সময় বলে এসেছি দ্রুত সময়ের মধ্যে নারী, ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যার মতো অপরাধগুলোর বিচার ব্যবস্থা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়। বিশেষ করে রায় কার্যকর যেন ঠিক সময়ে করা হয়। নিম্ন আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় দেয়া শুভ লক্ষণ। তবে আপিল, উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সসহ রায়ের আইনি ধাপগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করে অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর করাটাই হচ্ছে বিচারের কথা।

আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে নয় বছর বয়সী শিশু হত্যা মামলায় ৮ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. বেলাল হোসেন ওরফে বিজয় (১৮), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (১৬), মো. হাছিবুল ইসলাম ওরফে লিটন (২৬), মো. আকসান মিয়া প্রকাশ হাসান (১৮), মো. সুজন (২০), মো. মেহেরাজ প্রকাশ টুটুল (৩২), আয়শা মমতাজ মহলের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মনু (৪৯) ও শাহাদাত হোসেন সৈকত (১৯)। এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সৈকত পলাতক। ২০১৮ সালে ধর্ষণের পর শিশু মীমকে হত্যা মামলায় সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মো. জামিউল হায়দার এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি নগরীর আকবরশাহ এলাকার আয়শা মমতাজ মহল নামের একটি ভবনে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ৯ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার মীমকে। আলোচিত এ মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মীম আকবরশাহ এলাকার ফাতেমাতুজ জোহরা হেফজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মো. জামাল উদ্দিন শ্রমিক। তাদের বাসা ছিল আকবরশাহ এলাকার কনকর্ড সী-ওয়ার্ল্ড’র রাজা কাশেমের কলোনিতে। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে আকবরশাহ বিশ্বব্যাংক কলোনির ছয় তলার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির পাশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমএ নাসের বলেন, মীম হত্যা মামলায় ৮ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় ৭ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। জেলাতে কিশোরী ধনিতা ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন যুবক রুমেন্দ্র ত্রিপুরা ওরফে রুমেন, ত্রিরন ত্রিপুরা ও কম্বল ত্রিপুরাকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেকে এক লাখ করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপরে খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাং আবু তাহেরের আদালত এ রায় দেন। তবে তিন আসামির মধ্যে কম্বল ত্রিপুরা পলাতক।

খাগড়াছড়ি আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ মে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ার বড় পাড়ার বাসিন্দা মনমোহন ত্রিপুরা ও তার স্ত্রী স্বরলেখা ত্রিপুরা মেয়েকে একা বাসায় রেখে জেলার দীঘিনালা বেড়াতে যায়। সে সুযোগে ঐদিন রাতে একই ইউনিয়নের বেজাচন্দ্র পাড়ার তিন মদ্যপ ঘরে ঢুকে মাকে ফোন দিয়ে ধনিতা ত্রিপুরা (১৭) নামে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরের দিন সকালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় কিশোর মা স্বরলেখা ত্রিপুরা তিন জনকে আসামি করে মামলা করে। আসামিরা ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়। পুলিশ একই বছর ২৮ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ২২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। খাগড়াছড়ির পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বিধান কানুনগো রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাবাস ও অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে একলাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাউদ হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ধামরাই উপজেলার চর চৌহাট গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে মিল্টন, একই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে বাহাদুর মিয়া ও মির্জাপুর উপজেলার সুজানিলজা গ্রামের বাছেদ মিয়ার ছেলে রনি মিয়া।

আমৃত্যু কারাবাসপ্রাপ্তরা ধামরাই উপজেলার চৌহাট গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে শাহিনুর এলাইজ শাহা, মির্জাপুর উপজেলার শশ্বধরপট্টি গ্রামের মমরেজের ছেলে জহিরুল ইসলাম ও মির্জাপুর উপজেলার আমরাইল তেলীপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে আবদুল মালেক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা ধামরাই উপজেলার চর চৌহাট গ্রামের তাজেল মিয়ার ছেলে আরিফ, মির্জাপুর উপজেলার আমরাইল তেলীপাড়া গ্রামের জব্বার মল্লিকের ছেলে জাকির হোসেন ও ধামরাই উপজেলার চর চৌহাট গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে শামীম মিয়া। তাদের মধ্যে আরিফ পলাতক রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে মির্জাপুরের হাড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় পার্শ্ববর্তী ঢাকার ধামরাই উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের চর চৌহাট (দেলুটিয়া) গ্রামের প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ও ধারমাইয়ের বালিয়া ব্রাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া (১১) ও প্রবাসী আবু বক্করের ছেলে ইমরান হোসেন (১১)। সন্ধ্যার পর বাড়িতে না ফেরায় তাদের খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের লোকজন পরদিন ২৮ জানুয়ারি দুই পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে এক লাখ টাকা করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ফোন বন্ধ করে রাখেন অপহরণকারীরা। ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া ময়ুরভাঙ্গা এলাকার একটি লেবু বাগান থেকে ইমরান ও শাকিলের গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে মির্জাপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শাকিলের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন পুলিশ মামলা তদন্ত করে দেখতে পায় ঘটনার সঙ্গে নিহতের কয়েকজন আত্মীয়স্বজন জড়িত। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে পাঁচজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় পুলিশ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ২০১৬ সালের ৮ জুন আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এতে দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর পুলিশ ৮ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। বাকি এক আসামি এখনও পলাতক। এ হত্যা মামলায় অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন- ধামরাই উপজেলার চর চৌহাট গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৩০) ও মির্জাপুর উপজেলার হাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের ময়নাল হকের স্ত্রী মনোয়ারা (৩৮)। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি রফিকুল ইসলাম খান আলো। নিহত শাকিলের মা জোসনা বেগম বলেন, আদালত থেকে যে রায় দেয়া হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

ছবি

বরিশাল-খুলনা মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ বাসন্ডা বেইলি ব্রিজ দিয়ে চলছে ভারি যানবাহন

দুর্গাপুরে ৭ দিনব্যাপী মনিসিংহ মেলা

ছবি

সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ফাঁদ: ৪ স্কুল শিক্ষার্থী অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি

ছবি

চট্টগ্রামে অটোরিকশা-টেম্পোকে ধাক্কা দিয়ে রেললাইনে ফেলা বাসচালক গ্রেপ্তার

ছবি

বৈদ্যুতিক তার নিয়ে খেলা করতে গিয়ে ২ শিশু নিহত

ছবি

৪ ঘণ্টার চেষ্টায় চট্টগ্রামের ঝুট গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ছবি

‘নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে তাই সর্বোচ্চ শাস্তি’

ছবি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে সাইকেল শোভাযাত্রা

ছবি

মুরাদের সংসদ সদস্য পদ : কী হতে পারে

রায়ে প্রমাণ হয়েছে দেশে আইনের শাসন আছে : আইনমন্ত্রী

সেই রাতে যা ঘটেছিল

ছবি

মেয়ের সামনে মাকে ধর্ষণ: ডিবির এসআই গ্রেপ্তার

ছবি

চরফ্যাসনে ট্রলার ডুবি: ৪ দিনেও হদিস মেলেনি ২০ জেলের

ছবি

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের নির্বাচনে ৩৮জন প্রার্থীর মনোনয়ন জমা

ছবি

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর সাথে বসনিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ছবি

ইউপি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তৃতীয় লিঙ্গের অনিকা রানী

ছবি

ডা. মুরাদকে উপজেলা আ.লীগ থেকেও অব্যাহতি

ছবি

‘ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে’ অভিযোগ নৌকার প্রার্থী আইভীর

ছবি

বাঁকি ৫ আসামিরও ফাঁসি চান আবরারের মা

ছবি

জাওয়াদ’র বৃষ্টিতে কৃষকের সর্বনাশ

ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি সিরাজুল

যশোরে পদার্থবিজ্ঞানে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা

ছবি

ঠাকুরগাঁওয়ে নৈশ কোচ ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১

ছবি

৮ ঘণ্টা পর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ায় ফেরি চলাচল শুরু

ছবি

রোদ পোহাতে গিয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে তিন শিশুসহ নিহত ৪

সখীপুরে নারী গ্রামপুলিশের শ্লীলতাহানি,ইউপি সচিবকে কারাদণ্ড

ছবি

দল থেকেও কি বাদ পড়ছেন মুরাদ ?

ছবি

যশোর শহরে ড্রেন নির্মাণের ১০০ কোটি টাকা ভেসে গেল

বেপরোয়া ট্রাক কেড়ে নিল নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীর প্রাণ

ছবি

এডিস মশা গ্রাম-গঞ্জেও ছড়াচ্ছে, এ পর্যন্ত মৃত্যু ১০০

কী বলছেন ইমন, মাহি

নিরাপদ সড়কের দাবি মানতে সময় বেঁধে দিলেন ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা

তিতাস নদী দখলকারীদের তালিকা দাখিলে হাইকোর্টের নির্দেশ

‘ওমিক্রন’ দ্রুত ছড়ালেও ভয়ঙ্কর নয় : সংক্রমণ বিশেষজ্ঞ

চতুর্থ ধাপে বিনা ভোটে ৪৮ চেয়ারম্যানসহ নির্বাচিত ২৯৫ জন

জাপানি দুই শিশুকে নিয়ে আপিল শুনানি ১২ ডিসেম্বর

tab

সারাদেশ

শিশু ধর্ষণ-হত্যা

একদিনে ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক, চট্টগ্রাম ব্যুরো, প্রতিনিধি খাগড়াছড়ি ও মির্জাপুর (টাঙ্গাইল)

মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২০

কন্যা শিশুকে ধর্ষণ শেষে নৃসংশভাবে হত্যা এবং অপহরণ করে দুই স্কুলছাত্রকে হত্যার পৃথক ঘটনায় চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১৪ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ হয়েছে। ১৪ ডিসেম্বর সোমবার পৃথক ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারকরা এসব রায় দেন। এর মধ্যে নয় বছরের শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় চট্টগ্রামে ৮ জনের, খাগড়াছড়িতে কিশোরীকে ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় ৩ জনের এবং দুই স্কুলছাত্রকে অপহরণ করে হত্যার ঘটনায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ৩ জনের ফাঁসির রায় দেয়া হয়। শিশু, কিশোর কিশোরীদের প্রতি আমানুষিক আচরণ, নির্যাতন ও হত্যার মতো জঘন্য ঘটনাগুলো কিছুটা হলেও প্রভাব তৈরি করে যুগান্তকারী এসব রায়ে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার কর্মীরা।

জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম নগরীর আম্বরশাহ এলাকায় ৯ বছরের এক শিশুকে তুলে নিয়ে একটি ভবনে আটকে রেখে গণধর্ষণ করা হয়। এরপর ওই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দেয়া হয়। স্বাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে প্রায় ২ বছরের (২২ মাস) মধ্যে সোমবার চট্টগ্রামের একটি আদালত রায় ঘোষণা করে। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত ৮ জনকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়। অপরদিকে গত বছরের ১৩ মে খাগড়াছড়িতে ধনিতা ত্রিপুরা নামের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাসায় ঢুকে ধর্ষণ করে ৩ মদ্যপ যুবক। ধর্ষণের পর ওই তরুণীকে হত্যা করা হয়। ঘটনায় মামলা দায়েরের পর আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়ার পর বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। ঘটনার ২১ মাসের মধ্যে আলোচিত ওই ঘটনার বিচারিক রায়ে ৩ ধর্ষক ও খুনিকে ফাঁসির দণ্ড দেয়া হয়। এদিকে ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি ২ স্কুলছাত্রকে অপহরণ করা হয় টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। এরপর ওই দুই শিশুকে জবাই করে হত্যা করা হয়। ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হলেও পুলিশ তদন্ত করে ১১ জনের সংশ্লিষ্টতা পায়। তদন্ত শেষে একই বছরের ৬ জুন আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। প্রায় সাড়ে ৩ বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে আলোচিত এ ঘটনায় সোমবার রায় প্রদান করা হয়। রায়ে গ্রেফতার হওয়া ১০ আসামিসহ ১১ জনের মধ্যে ৩ জনের ফাঁসি, ৩ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ৩ জনকে যাবজ্জীবন দেয়া হয়। মূলত দুই শিশুকে অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় এবং হত্যার ঘটনায় তাদের কিছু স্বজন জড়িত ছিল বলে তখন তদন্তে বেরিয়ে আসে।

অপরাধ বিশ্লেষক এবং মানবাধিকার কর্মীদের ভাষ্য, দেশে ধর্ষণ, ধর্ষণ করে হত্যা, অপহরণ, গুম করাসহ ভয়ঙ্কর সব অপরাধের বলি হচ্ছেন শিশুরা। বিশেষ করে কন্যা শিশু, কিশোরীরা নির্যাতন, ধর্ষণ, হত্যার মতো ঘটনাগুলোর শিকার হচ্ছেন বেশি। পারিবারিক সহিংসতার বলি হয়েও শিশুরা হত্যার শিকার হচ্ছেন। খুব কম ঘটনায় মামলা হচ্ছে। মামলা হলেও বিচার ব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতার কারণে এসব ঘটনায় শেষ পর্যন্ত কোন শাস্তি হয় না অপরাধীদের। তবে এসব হতাশার মধ্যে চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি এবং মির্জাপুরের ঘটনাগুলোর রায় যুগান্তকারী হিসেবে ধরা যায়। এ রায়ের কারণে অপরাধীদের মধ্যে কিছুটা হলেও ভীতির সঞ্চার তৈরি করবে। অপরাধ করলে যে শাস্তি পেতে হয় এ রায় তাই প্রমাণ করে। তবে রায় কতটা দ্রুত কার্যকর হয় তা দেখার বিষয়।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিস কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক আইনজীবী নীনা গোস্বামী টেলিফোনে সংবাদকে জানান, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি ও টাঙ্গাইলের ঘটনাগুলো খুবই নৃশংস ছিল। আশার বাণী হচ্ছে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রায়গুলো দেয়া হয়েছে। তবে এতে খুব বেশি উৎসাহিত হওয়া যাবে না যতক্ষণ আইনের সবগুলো ধাপ দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়ে রায় কার্যকর না হয়। কারণ টাঙ্গাইলের রুপা এবং ফেনীর নুসরাতের রায়ও দ্রুত হয়েছে। তবে তা এখন কার্যকর হয়নি। আমরা সব সময় বলে এসেছি দ্রুত সময়ের মধ্যে নারী, ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, হত্যার মতো অপরাধগুলোর বিচার ব্যবস্থা যেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়। বিশেষ করে রায় কার্যকর যেন ঠিক সময়ে করা হয়। নিম্ন আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে রায় দেয়া শুভ লক্ষণ। তবে আপিল, উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্সসহ রায়ের আইনি ধাপগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করে অপরাধীদের শাস্তি কার্যকর করাটাই হচ্ছে বিচারের কথা।

আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামে নয় বছর বয়সী শিশু হত্যা মামলায় ৮ আসামির ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। মৃত্যদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. বেলাল হোসেন ওরফে বিজয় (১৮), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (১৬), মো. হাছিবুল ইসলাম ওরফে লিটন (২৬), মো. আকসান মিয়া প্রকাশ হাসান (১৮), মো. সুজন (২০), মো. মেহেরাজ প্রকাশ টুটুল (৩২), আয়শা মমতাজ মহলের কেয়ারটেকার মনিরুল ইসলাম মনু (৪৯) ও শাহাদাত হোসেন সৈকত (১৯)। এদের মধ্যে শাহাদাত হোসেন সৈকত পলাতক। ২০১৮ সালে ধর্ষণের পর শিশু মীমকে হত্যা মামলায় সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মো. জামিউল হায়দার এ রায় দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২১ জানুয়ারি নগরীর আকবরশাহ এলাকার আয়শা মমতাজ মহল নামের একটি ভবনে নিয়ে গিয়ে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় ৯ বছর বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার মীমকে। আলোচিত এ মামলায় প্রত্যক্ষদর্শীসহ গুরুত্বপূর্ণ ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। মীম আকবরশাহ এলাকার ফাতেমাতুজ জোহরা হেফজুল কোরআন মহিলা মাদ্রাসার ২য় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা মো. জামাল উদ্দিন শ্রমিক। তাদের বাসা ছিল আকবরশাহ এলাকার কনকর্ড সী-ওয়ার্ল্ড’র রাজা কাশেমের কলোনিতে। ঘটনার দিন রাত ১০টার দিকে আকবরশাহ বিশ্বব্যাংক কলোনির ছয় তলার একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির পাশ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এমএ নাসের বলেন, মীম হত্যা মামলায় ৮ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার সময় ৭ জন আসামি আদালতে উপস্থিত ছিল।

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বিজ্ঞ আদালত। জেলাতে কিশোরী ধনিতা ত্রিপুরাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে তিন যুবক রুমেন্দ্র ত্রিপুরা ওরফে রুমেন, ত্রিরন ত্রিপুরা ও কম্বল ত্রিপুরাকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেকে এক লাখ করে অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। সোমবার দুপরে খাগড়াছড়ি নারী ও শিশু দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাং আবু তাহেরের আদালত এ রায় দেন। তবে তিন আসামির মধ্যে কম্বল ত্রিপুরা পলাতক।

খাগড়াছড়ি আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ১৩ মে খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়ার বড় পাড়ার বাসিন্দা মনমোহন ত্রিপুরা ও তার স্ত্রী স্বরলেখা ত্রিপুরা মেয়েকে একা বাসায় রেখে জেলার দীঘিনালা বেড়াতে যায়। সে সুযোগে ঐদিন রাতে একই ইউনিয়নের বেজাচন্দ্র পাড়ার তিন মদ্যপ ঘরে ঢুকে মাকে ফোন দিয়ে ধনিতা ত্রিপুরা (১৭) নামে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে। পরের দিন সকালে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় পুলিশ তিন ধর্ষককে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় কিশোর মা স্বরলেখা ত্রিপুরা তিন জনকে আসামি করে মামলা করে। আসামিরা ধর্ষণের পর কিশোরীকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়। পুলিশ একই বছর ২৮ আগস্ট আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। মামলায় ২২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। খাগড়াছড়ির পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট বিধান কানুনগো রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত দণ্ডবিধি ৩০২/৩৪ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছে।

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই স্কুলছাত্রকে অপহরণের পর গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিন জনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের আমৃত্যু কারাবাস ও অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া প্রত্যেককে একলাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক সাউদ হাসান এই রায় ঘোষণা করেন। কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, ধামরাই উপজেলার চর চৌহাট গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে মিল্টন, একই গ্রামের শামছুল হকের ছেলে বাহাদুর মিয়া ও মির্জাপুর উপজেলার সুজানিলজা গ্রামের বাছেদ মিয়ার ছেলে রনি মিয়া।

আমৃত্যু কারাবাসপ্রাপ্তরা ধামরাই উপজেলার চৌহাট গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে শাহিনুর এলাইজ শাহা, মির্জাপুর উপজেলার শশ্বধরপট্টি গ্রামের মমরেজের ছেলে জহিরুল ইসলাম ও মির্জাপুর উপজেলার আমরাইল তেলীপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে আবদুল মালেক। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা ধামরাই উপজেলার চর চৌহাট গ্রামের তাজেল মিয়ার ছেলে আরিফ, মির্জাপুর উপজেলার আমরাইল তেলীপাড়া গ্রামের জব্বার মল্লিকের ছেলে জাকির হোসেন ও ধামরাই উপজেলার চর চৌহাট গ্রামের আফসার উদ্দিনের ছেলে শামীম মিয়া। তাদের মধ্যে আরিফ পলাতক রয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জানুয়ারি বিকেলে মির্জাপুরের হাড়িয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দেখার জন্য বাড়ি থেকে বের হয় পার্শ্ববর্তী ঢাকার ধামরাই উপজেলার চৌহাট ইউনিয়নের চর চৌহাট (দেলুটিয়া) গ্রামের প্রবাসী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ও ধারমাইয়ের বালিয়া ব্রাক স্কুলের চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া (১১) ও প্রবাসী আবু বক্করের ছেলে ইমরান হোসেন (১১)। সন্ধ্যার পর বাড়িতে না ফেরায় তাদের খোঁজাখুঁজি করেন পরিবারের লোকজন পরদিন ২৮ জানুয়ারি দুই পরিবারের কাছে ফোন দিয়ে এক লাখ টাকা করে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ফোন বন্ধ করে রাখেন অপহরণকারীরা। ২৯ জানুয়ারি বিকেল ৪টার দিকে মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের কামারপাড়া ময়ুরভাঙ্গা এলাকার একটি লেবু বাগান থেকে ইমরান ও শাকিলের গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে মির্জাপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত শাকিলের মা জোসনা বেগম বাদী হয়ে ২০১৬ সালের ৩০ জানুয়ারি অজ্ঞাতনামা আসামি করে মির্জাপুর থানায় মামলা দায়ের করেন পুলিশ মামলা তদন্ত করে দেখতে পায় ঘটনার সঙ্গে নিহতের কয়েকজন আত্মীয়স্বজন জড়িত। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০ জনকে গ্রেফতার করে। এর মধ্যে পাঁচজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনায় পুলিশ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে ২০১৬ সালের ৮ জুন আদালতে চার্জশিট জমা দেয়। ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এতে দুই জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। এরপর পুলিশ ৮ আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। বাকি এক আসামি এখনও পলাতক। এ হত্যা মামলায় অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন- ধামরাই উপজেলার চর চৌহাট গ্রামের রমজান আলীর ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম (৩০) ও মির্জাপুর উপজেলার হাড়িয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের ময়নাল হকের স্ত্রী মনোয়ারা (৩৮)। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অতিরিক্ত পিপি রফিকুল ইসলাম খান আলো। নিহত শাকিলের মা জোসনা বেগম বলেন, আদালত থেকে যে রায় দেয়া হয়েছে তাতে আমি সন্তুষ্টি প্রকাশ করছি। দ্রুত রায় কার্যকর করার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

back to top