alt

সারাদেশ

উপকূলীয় অঞ্চলে ৩৩ হাজার জেলে জলদস্যু আতঙ্কে

জেলেদের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ঝুঁকি নিয়ে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে প্রস্তুত

বাকী বিল্লাহ, ঢাকা ও চিত্তরঞ্জন শীল, বরগুনা : সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

বরগুনা ও পাথরঘাটা উপকূলীয় অঞ্চলে ৩৩ হাজার জেলের এখনো জলদস্যু আতঙ্কে দিন কাটছে। আবার কখন কে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয় তা নিয়ে জেলে পল্লীতে চলছে নানা আলোচনা। গত ১৪ দিন ধরে অনেক জেলে উপকূলে মাছ ধরতে যায়নি। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। নির্যাতিতদের কয়েকজন এখনো অসুস্থ। তারা সুস্থ হয়ে উঠেনি। সম্প্রতি একজন জেলে জলদস্যুদের গুলিতে মারাও গেছেন। এ নিয়ে জেলে পল্লীতে দস্যু আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে র‌্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যরা উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। এমন খবরে অনেকে জেলে আবার মাছ ধরতে নদী ও গভীর সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব কমলে তারা উপকূলে বা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাবেন।

জানা গেছে, গত ২০ নভেম্বর রাতে গভীর সমুদ্রে জলদস্যুরা জেলেদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় অতর্কিত হামলা ও লুটপাট করে। তারা কয়েকজন জেলেকে অপহর করে নিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করেছে। এরপর বরগুনা ও পাথরঘাটা জেলে পল্লীতে জলসদ্যু আতঙ্ক শুরু হয়।

র‌্যাব জানায়, গণডাকাতির ঘটনায় বরগুনা ও পাথরঘাটা থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করার পর র‌্যাবের বিশেষ টিম ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালীসহ আশপাশ এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার পর্যন্ত ৬ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণেলর টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্য মতে, পলাতক জলদস্যুদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।

কয়েকজন জেলে জানান, জলদস্যুরা গ্রেপ্তারের পর এখন বরগুনা ও পাথরঘাটা এলাকায় জেলেদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তিও ফিরেছে। পাথরঘাটার জেলে বেলাল মিয়া জানান, বরগুনা পাথরঘাটার জেলেপল্লী এলাকার জেলেরা এ মৌসুমে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশে বলেশ্বর নদী হয়ে গভীর সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে ১০ থেকে ১২ জন এক সঙ্গে যান। গণডাকাতির পর টানা ১৩ দিন প্রায় মাছ ধরা বন্ধ ছিল। গতকাল থেকে আবার অনেকেই মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু নিম্নচাপের কারণে অনেকেই সতর্ক সংকেত মেনে চলছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা সমুদ্রে যাবেন।

আমাদের বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনা জেলায় তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৪৭ হাজার হলেও বাস্তবে আছে ৩২ থেকে ৩৩ হাজার, সঙ্গে তাদের পরিবারও রয়েছে। বরগুনার বলেম্বর, বিশাখালী, পায়রা, পাটুয়াখালীর নীলগঞ্জে একাধিক নদী রয়েছে। উপকূলীয় এসব নদী থেকে গভীর সমুদ্রেও জেলেরা মাছ ধরতে যান। তারা প্রায় সময় জলদস্যুদের কবলে পড়েন। আগে উপকূলে জলদস্যুদের উপদ্রব বেশি থাকলেও এখন অনেক কম। র‌্যাব সদস্য ছাড়াও কোস্টগার্ড নিরাপত্তা দিচ্ছে। র‌্যাবের টহল আগের চেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফলে জেলেও এখন আবার মাছ ধরতে নদী ও সাগরে যেতে সাহস পাচ্ছেন।

র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত জলদস্যুদের জিজ্ঞাসাবাদে ১৬ থেকে ১৭ জন জলদস্যুর পরিচয় জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে। চলছে গোয়েন্দা নজরদারিও।

গত শনিবার রাতে পাথরঘাটা থেকে সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত নভেম্ববর মাসে পাথরঘাটার একজন জেলে জলদস্যুদের হামলায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের শিকার এক জেলে এখনো অসুস্থ। জ্বরে আক্রান্ত। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না। এলাকাজুড়ে জলদস্যু রাজু বাহিনী আতঙ্ক বিরাজ করছে। জলদস্যুরা মারপিট ছাড়াও গুলিও করছে। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। তিনি মারা গেছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন। কিন্তু জলদস্যুর ভয়ে খোঁজ নিতে সাহস পাচ্ছেন না। জেলে পল্লীতে এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

গতকাল বরগুনা থেকে সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে গত ১৫ দিনে অন্তত ১৫টি মাছধরার ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। পাঁচ থেকে সাতজন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দস্যুবাহিনী।

ডাকাতি কাজে বাধা দিলে মুসা মুসল্লি নামে এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে দস্যুবাহিনী। তবে বেশ কয়েকটি মাছধরা ট্রলারে হামলা করে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করেছে ওই ডাকাত দল। এতে গত সাত দিনে সাগরের দস্যুতা বেড়ে যাওয়ায় বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত জেলেরা হলেন নেছারউদ্দিন খান, জামাল হোসেন, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেন ও জাকির হোসেন। এদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা ও বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায়।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরগুনা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, হঠাৎ করে সাগরে ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় জেলে ও শ্রমিকসহ মৎস্যজীবীদের নিয়ে পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার মালিক সমিতির কার্যালয়ে জরুরি মতবিনিময় সভা ডাকা হয়। ডাকাতি বন্ধ ও দস্যুতামুক্ত সাগর রাখতে ওই সভায় জেলেরা মতামত দিয়েছেন।

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আবুল বাশারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) তোফায়েল আহমেদ সরকার, কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা কন্টিজেন্ট কমান্ডার আলমগীর হোসেন, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদ্দার, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মন্নান মাঝি, পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আকন, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম আকন, পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন, পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন, ট্রলার মালিক আলম মোল্লা, নূরে আলম ও সেলিম হাওলাদার প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সাধারণ মৎস্যজীবীরা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি বেড়েই চলেছে। দিনে-রাতে সমানতালে অস্ত্র নিয়ে দস্যুরা সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সাগরে গত মঙ্গলবার মুসা মুসল্লি নামে এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে ডাকাত দল। এ সময় গতকাল পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫টি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি করেছে দস্যু বাহিনী। ওই মাছ ধরার ট্রলারের জ্বালানি তেল, মাছ, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় পাথরঘাটা ও শরণখোলা উপজেলার পাঁচ জেলেকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণ করেছে দস্যু বাহিনী।

পাথরঘাটার ট্রলার মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন মান্দারবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় আমাদের ট্রলারে হানা দিয়ে মাছ, তেল, ব্যাটারিসহ পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। এ সময় ওই ট্রলারে থাকা ১৪ জেলেকে দস্যু বাহিনী বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ডাকাতির সময় এক দস্যুর হাতে একটি পিস্তল ও একজনের হাতে বন্দুক ছিল।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে সাগরে দস্যুতা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সাগরে দস্যুতা বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে সাগরে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এতে জেলেসহ মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য ই-স্পেশালিস্ট সেবায় ডিজিটাল হসপিটালের অংশীদারিত্ব

ভবদহে জলাবদ্ধতা নিরসনে ৬ দাবি

ছবি

৮০টি নৌপথই মৃতপ্রায় ঠেলে ঠেলে চলছে নৌযান

গণহত্যা দিবস এলেই হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় : চসিক মেয়র

ছবি

অটোরিক্সার জন্য হত্যা, গ্রেফতার ৫

ছবি

বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে ৯ জেব্রার রহস্যজনক মৃত্যু

মাদ্রাসা ছাত্রকে ৪র্থ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

ছবি

চট্টগ্রামে করোনা শনাক্তের হার ৩৬.৫৪, মৃত্যু ৩

ছবি

রাজশাহীতে শনাক্ত ৫৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ

ছবি

সীমান্ত জেলাগুলো ফের সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হচ্ছে

নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের রোগী বাড়ছে

ছবি

কালীগঞ্জে খালের পাড়ে পড়েছিল দুই মামলার প্রধান সাক্ষী পীর আলীর মরদেহ

ছবি

বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগে বন্ধ লেজার মেশিন সচল

চাটখিল-সোনাইমুড়িতে প্রধান শিক্ষক নেই ৪৪ প্রাথমিকে

ছবি

শীতে জবুথবু সিরাজগঞ্জ

কর্তাদের যোগসাজশে অবৈধ গ্যাস সংযোগের হিড়িক

চকরিয়ায় সালিশ বৈঠকে হতাহত ৪

ছবি

বরুড়ায় ১৫০ করোনাযোদ্ধাকে সম্মাননা

ছবি

কক্সবাজারে কচ্ছপগতিতে চলছে সড়কের কাজ

ছবি

আলুর দাম কম দিশেহারা কৃষক

শেরপুরে কষ্টি পাথরের বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার

ছবি

বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের আগুন নিয়ন্ত্রণে

ছবি

মাধবপুরে আর চোখে পড়ে না বকের সারি

ছবি

চাঁদপুরে নৌপথে ডাকাতি, পুলিশ সুপারের রহস্য উদঘাটনের আশ্বাস!

ছবি

বিএসএমএমইউতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

ছবি

অপকর্মে লিপ্তদের পুলিশে ঠাঁই নেই: আইজিপি

‘সাংস্কৃতিক বিপ্লবে সাম্প্রদায়িকতা রুখতে হবে’

ছবি

সৈকতে ফের ভেসে এল ইরাবতি ডলফিন

৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাপানি মায়ের কাছে থাকবে দুই শিশু

সাংবাদিক হাবীবের মৃত্যুর তদন্ত চায় ডিআরইউ

ছবি

নারায়ণগঞ্জে সোয়েটার কারখানা লে-অফ ঘোষণায় শ্রমিক বিক্ষোভ

দুই জেলায় করোনা শনাক্ত ৬০ শতাংশ

লাফিয়ে বাড়ছে করোনা হলুদ থেকে লাল জোনে রাজশাহী

ভূমি অবৈধ দখলরোধে আইন হচ্ছে : চিহ্নিত বাইশ অপরাধ

নওগাঁয় ট্রাক চাপায় সিভিল সার্জন অফিসের হিসাবরক্ষক নিহত

হবিগঞ্জে নতুন করে আরো ৫৩ জনের করোনা শনাক্ত

tab

সারাদেশ

উপকূলীয় অঞ্চলে ৩৩ হাজার জেলে জলদস্যু আতঙ্কে

জেলেদের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি

ঝুঁকি নিয়ে নদী ও সাগরে মাছ ধরতে প্রস্তুত

বাকী বিল্লাহ, ঢাকা ও চিত্তরঞ্জন শীল, বরগুনা

সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

বরগুনা ও পাথরঘাটা উপকূলীয় অঞ্চলে ৩৩ হাজার জেলের এখনো জলদস্যু আতঙ্কে দিন কাটছে। আবার কখন কে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয় তা নিয়ে জেলে পল্লীতে চলছে নানা আলোচনা। গত ১৪ দিন ধরে অনেক জেলে উপকূলে মাছ ধরতে যায়নি। তাদের পরিবারের সদস্যরা এখন আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। নির্যাতিতদের কয়েকজন এখনো অসুস্থ। তারা সুস্থ হয়ে উঠেনি। সম্প্রতি একজন জেলে জলদস্যুদের গুলিতে মারাও গেছেন। এ নিয়ে জেলে পল্লীতে দস্যু আতঙ্ক বিরাজ করছে। অন্যদিকে র‌্যাব ও কোস্টগার্ড সদস্যরা উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে। এমন খবরে অনেকে জেলে আবার মাছ ধরতে নদী ও গভীর সমুদ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাব কমলে তারা উপকূলে বা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাবেন।

জানা গেছে, গত ২০ নভেম্বর রাতে গভীর সমুদ্রে জলদস্যুরা জেলেদের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় অতর্কিত হামলা ও লুটপাট করে। তারা কয়েকজন জেলেকে অপহর করে নিয়ে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায় করেছে। এরপর বরগুনা ও পাথরঘাটা জেলে পল্লীতে জলসদ্যু আতঙ্ক শুরু হয়।

র‌্যাব জানায়, গণডাকাতির ঘটনায় বরগুনা ও পাথরঘাটা থানায় পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করার পর র‌্যাবের বিশেষ টিম ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, পটুয়াখালীসহ আশপাশ এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার পর্যন্ত ৬ জলদস্যুকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণেলর টাকাও উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের দেয়া তথ্য মতে, পলাতক জলদস্যুদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।

কয়েকজন জেলে জানান, জলদস্যুরা গ্রেপ্তারের পর এখন বরগুনা ও পাথরঘাটা এলাকায় জেলেদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তিও ফিরেছে। পাথরঘাটার জেলে বেলাল মিয়া জানান, বরগুনা পাথরঘাটার জেলেপল্লী এলাকার জেলেরা এ মৌসুমে ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশে বলেশ্বর নদী হয়ে গভীর সমুদ্রে ট্রলার নিয়ে ১০ থেকে ১২ জন এক সঙ্গে যান। গণডাকাতির পর টানা ১৩ দিন প্রায় মাছ ধরা বন্ধ ছিল। গতকাল থেকে আবার অনেকেই মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কিন্তু নিম্নচাপের কারণে অনেকেই সতর্ক সংকেত মেনে চলছেন। পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা সমুদ্রে যাবেন।

আমাদের বরগুনা প্রতিনিধি জানান, বরগুনা জেলায় তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৪৭ হাজার হলেও বাস্তবে আছে ৩২ থেকে ৩৩ হাজার, সঙ্গে তাদের পরিবারও রয়েছে। বরগুনার বলেম্বর, বিশাখালী, পায়রা, পাটুয়াখালীর নীলগঞ্জে একাধিক নদী রয়েছে। উপকূলীয় এসব নদী থেকে গভীর সমুদ্রেও জেলেরা মাছ ধরতে যান। তারা প্রায় সময় জলদস্যুদের কবলে পড়েন। আগে উপকূলে জলদস্যুদের উপদ্রব বেশি থাকলেও এখন অনেক কম। র‌্যাব সদস্য ছাড়াও কোস্টগার্ড নিরাপত্তা দিচ্ছে। র‌্যাবের টহল আগের চেয়ে বেশি বাড়ানো হয়েছে। ফলে জেলেও এখন আবার মাছ ধরতে নদী ও সাগরে যেতে সাহস পাচ্ছেন।

র‌্যাব সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত জলদস্যুদের জিজ্ঞাসাবাদে ১৬ থেকে ১৭ জন জলদস্যুর পরিচয় জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তার করতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে। চলছে গোয়েন্দা নজরদারিও।

গত শনিবার রাতে পাথরঘাটা থেকে সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত নভেম্ববর মাসে পাথরঘাটার একজন জেলে জলদস্যুদের হামলায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্যাতনের শিকার এক জেলে এখনো অসুস্থ। জ্বরে আক্রান্ত। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না। এলাকাজুড়ে জলদস্যু রাজু বাহিনী আতঙ্ক বিরাজ করছে। জলদস্যুরা মারপিট ছাড়াও গুলিও করছে। পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। তিনি মারা গেছেন বলে অনেকেই দাবি করছেন। কিন্তু জলদস্যুর ভয়ে খোঁজ নিতে সাহস পাচ্ছেন না। জেলে পল্লীতে এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

গতকাল বরগুনা থেকে সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরে গত ১৫ দিনে অন্তত ১৫টি মাছধরার ট্রলারে ডাকাতি হয়েছে। পাঁচ থেকে সাতজন জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে দস্যুবাহিনী।

ডাকাতি কাজে বাধা দিলে মুসা মুসল্লি নামে এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে দস্যুবাহিনী। তবে বেশ কয়েকটি মাছধরা ট্রলারে হামলা করে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করেছে ওই ডাকাত দল। এতে গত সাত দিনে সাগরের দস্যুতা বেড়ে যাওয়ায় বরগুনাসহ উপকূলীয় জেলেরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত জেলেরা হলেন নেছারউদ্দিন খান, জামাল হোসেন, কামাল হোসেন, লোকমান হোসেন ও জাকির হোসেন। এদের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা ও বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায়।

এ সম্পর্কে জানতে চাইলে বরগুনা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ সরকার বলেন, হঠাৎ করে সাগরে ডাকাতি বেড়ে যাওয়ায় জেলে ও শ্রমিকসহ মৎস্যজীবীদের নিয়ে পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার মালিক সমিতির কার্যালয়ে জরুরি মতবিনিময় সভা ডাকা হয়। ডাকাতি বন্ধ ও দস্যুতামুক্ত সাগর রাখতে ওই সভায় জেলেরা মতামত দিয়েছেন।

পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আবুল বাশারের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পাথরঘাটা সার্কেল) তোফায়েল আহমেদ সরকার, কোস্টগার্ডের পাথরঘাটা কন্টিজেন্ট কমান্ডার আলমগীর হোসেন, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন জমাদ্দার, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল মন্নান মাঝি, পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আকন, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুম আকন, পাথরঘাটা বিএফডিসি আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হোসাইন, বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন, পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন, ট্রলার মালিক আলম মোল্লা, নূরে আলম ও সেলিম হাওলাদার প্রমুখ।

সভায় উপস্থিত সাধারণ মৎস্যজীবীরা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি বেড়েই চলেছে। দিনে-রাতে সমানতালে অস্ত্র নিয়ে দস্যুরা সাগরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সাগরে গত মঙ্গলবার মুসা মুসল্লি নামে এক জেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে ডাকাত দল। এ সময় গতকাল পর্যন্ত গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৫টি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতি করেছে দস্যু বাহিনী। ওই মাছ ধরার ট্রলারের জ্বালানি তেল, মাছ, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় পাথরঘাটা ও শরণখোলা উপজেলার পাঁচ জেলেকে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে অপহরণ করেছে দস্যু বাহিনী।

পাথরঘাটার ট্রলার মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা বলেন, সুন্দরবন সংলগ্ন মান্দারবাড়িয়া এলাকায় মাছ ধরার সময় আমাদের ট্রলারে হানা দিয়ে মাছ, তেল, ব্যাটারিসহ পাঁচ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। এ সময় ওই ট্রলারে থাকা ১৪ জেলেকে দস্যু বাহিনী বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ডাকাতির সময় এক দস্যুর হাতে একটি পিস্তল ও একজনের হাতে বন্দুক ছিল।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন বলেন, গত কয়েক বছরে সাগরে দস্যুতা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে সাগরে দস্যুতা বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে সাগরে পাঁচ জেলেকে অপহরণ করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এতে জেলেসহ মৎস্যজীবী পরিবারের সদস্যরা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে।

back to top