alt

সারাদেশ

ভক্তমনে অভয় বার্তা দিয়ে দেবী গেলেন কৈলাসে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার (৫ অক্টোবর) শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের সব আয়োজন। পাঁচ দিনের আনন্দ-উল্লাসকে অতীত করে ভক্তদের চোখের জলে ভাসিয়ে এদিন সপরিবারে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা বাবার বাড়ি থেকে ফিরে গেলেন স্বামীর ঘরে কৈলাসে। যেতে যেতে ভক্তদের মাঝে দিয়ে গেলেন অভয় বার্তা এবং আসছে বছর আবার আসবেন এই প্রতিশ্রুতি।

সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় সপরিবারে দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসেন গজে (হাতি) চড়ে। শাস্ত্রমতে, গজ হচ্ছে জ্ঞান এবং সমৃদ্ধির প্রতীক এবং দেবীর উৎকৃষ্টতম বাহন। তাই দেবীর আগমন বা গমন গজে হলে মর্ত্যলোক ভরে ওঠে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধিতে। পূর্ণ হয় ভক্তের মনোবাঞ্ছা। পরিশ্রমের সুফল পায় মর্তলোকবাসী। অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি নয়, ঠিক যতটা প্রয়োজন ততটা বর্ষণ। দেবী সপরিবারে স্বর্গালোকে বিদায় নেন নৌকায় চড়ে। যার ফল হচ্ছে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাওয়ার লক্ষণ শুভ না হলেও ভক্তের বিশ্বাস, দেবী মঙ্গলময়ী। তিনি জগতের মঙ্গলই করবেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি যেমন কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী দুর্গা যে ক’দিন পিতৃগৃহে ছিলেন, ঢোলের বাদ্য সে ক’দিন ভক্তদের মনে ভক্তি আর আনন্দ মূর্ছনা দুই-ই জাগিয়েছে।

বুধবার সকালে সব মন্ডপে দশমী পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন করা হয়। বিষাদের ছায়া ছিল ঢাক-ঢোল, কঁসার-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যে, আলোকিত করা ধূপ আরতি ও দেবীর পূজা-অর্চনায়। শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও বিসর্জনের আগে রাজধানীর মন্ডপে মন্ডপে বিকেল পর্যন্ত চলে আবীর খেলা আর আনন্দ উৎসব।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দেবী দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।

প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। বুধবার দুপুরে পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য এই বিজয়া শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি পলাশী মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে গিয়ে পৌঁছে। ঢাকের শব্দে আর ধূপের গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠে ওয়াইজঘাট এলাকা।

বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুর গড়িয়ে যেতেই ভক্তরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পূজামন্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানের পূজামন্ডপ থেকে আসা প্রতিমা নিয়ে ট্রাকগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যায় রাস্তায়। প্রতিটি ট্রাকে দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্ত্তিক ও গণেশের প্রতিমাও ছিল। সেই সঙ্গে উৎফুল্ল ছিল বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। তারা নেচে-গেয়ে শোভাযাত্রাকে আরও বর্ণিল করে তোলে। সেখান থেকে সম্মিলিত বাদ্য-বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শোভাযাত্রা।

যাত্রাপথে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও মাঠে ছিল। এ সময় বুড়িগঙ্গার দুই তীরে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী প্রতিমা বিসর্জন দেখতে ভিড় করেন। অনেকে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌকায় করে নদীতে আনন্দ করে। এ উপলক্ষে বুধবার ওয়াইজঘাট এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

অধিকাংশ মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হলেও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমাটি রেখে দেয়া হয়। কিন্তু পূজার কাজে ব্যবহৃত দেবীর ফুল, বেলপাতা ও ঘট বিসর্জন দেয়া হয়। প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গলঘটে নিয়ে তা আবার হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে।

সারাদেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরে মন্ডপের সংখ্যা ২৪১টি। এসব মন্ডপে শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা উদ্যাপন কমিটিও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখে। প্রতিটি মন্ডপে লাগানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি আয়োজকদের পক্ষ থেকেও মন্ডপ পাহারায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি করা হয়।

ছবি

লালমনিরহাটে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত ১০

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর জনসভার উদ্দেশে সাগর পাড়ি দিয়ে এলেন নেতাকর্মীরা

ছবি

খালেদা জিয়ার বাসার সামনে পুলিশের তল্লাশিচৌকি

প্রতিপক্ষের গুলিতে নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যান নিহত

ছবি

জেলেদের জালে আটকা পড়েছে শত শত জেলিফিস

দুর্নীতির খবর সংগ্রহে গিয়ে মেম্বারের হামলার শিকার সাংবাদিকরা

ছবি

বিবাদে অর্ধশতাধিক ফলন্ত গাছ কর্তন

ছবি

নিলামের অভাবে নষ্ট হচ্ছে অর্ধশতাধিক পরিত্যক্ত ভবন, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৮ মেম্বারের অনাস্থা

নসিমন উল্টে নিহত ১ আহত ১০ জন

ছবি

যমুনার চরে ক্যাপসিকাম বিপ্লব

সিংড়ায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ২০

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সমন্বয় সভা

ছবি

বেনারসি পল্লী ১৮ বছর পরও ধুঁকে ধুঁকে চলছে!

ছবি

চুনারুঘাটে জমে উঠেছে গরম কাপড়ের বাজার

ছবি

মুঠোফোনের নেটওয়ার্ক দুর্বল, ইন্টারনেট নেই

ছবি

চবিতে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১৫

ছবি

মিডিয়া কার্ডে খালেদা-তারেকের ছবি, সাংবাদিকদের আপত্তি

ছবি

কুষ্টিয়ার ট্রাকচাপায় ২ মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

ছবি

বিস্ফোরণে উড়ে গেল তৃণমূল নেতার বাড়ি, নিহত ৩

ছবি

বরিশালে পার্বত্য শান্তি চুক্তি দিবসে সমাবেশ ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত

প্রতিবন্ধী ভাতা ৫ হাজার টাকা করার দাবি

২০ দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

মৃত বাবাকে বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা দিল লিপি

ছবি

প্রাথমিক বিদ্যালয় উচ্ছেদের পাঁয়তারা

ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মেম্বারদের অনাস্থা

ঈশ্বরদীতে পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিহত

ছবি

পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার পরিবেশ কর্মীরা

মাদ্রাসা সভাপতির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

ছবি

মুক্তিযোদ্ধা দিবসে নারায়ণগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা

ছবি

সওজের জমিতে লক্ষ লক্ষ টাকার দোকান বাণিজ্য

সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বোমা বিস্ফোরণ ৪ বোমা উদ্ধার

সড়কে ঝরল বাইক আরোহীসহ তিনজন

ছবি

ঢাকা আহছানিয়া মিশনের আয়োজনে বিশ্ব এইডস দিবস পালিত

নওগাঁয় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যুবক নিহত

ছবি

রাজশাহীতে এবার ধর্মঘটে যাত্রীবাহি ছোট যানবাহন

tab

সারাদেশ

ভক্তমনে অভয় বার্তা দিয়ে দেবী গেলেন কৈলাসে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বুধবার, ০৫ অক্টোবর ২০২২

প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বুধবার (৫ অক্টোবর) শেষ হলো শারদীয় দুর্গোৎসবের সব আয়োজন। পাঁচ দিনের আনন্দ-উল্লাসকে অতীত করে ভক্তদের চোখের জলে ভাসিয়ে এদিন সপরিবারে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা বাবার বাড়ি থেকে ফিরে গেলেন স্বামীর ঘরে কৈলাসে। যেতে যেতে ভক্তদের মাঝে দিয়ে গেলেন অভয় বার্তা এবং আসছে বছর আবার আসবেন এই প্রতিশ্রুতি।

সনাতন বিশ্বাস ও বিশুদ্ধ পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় সপরিবারে দেবী দুর্গা এবার মর্ত্যলোকে (পৃথিবী) আসেন গজে (হাতি) চড়ে। শাস্ত্রমতে, গজ হচ্ছে জ্ঞান এবং সমৃদ্ধির প্রতীক এবং দেবীর উৎকৃষ্টতম বাহন। তাই দেবীর আগমন বা গমন গজে হলে মর্ত্যলোক ভরে ওঠে সুখ-শান্তি-সমৃদ্ধিতে। পূর্ণ হয় ভক্তের মনোবাঞ্ছা। পরিশ্রমের সুফল পায় মর্তলোকবাসী। অতিবৃষ্টি বা অনাবৃষ্টি নয়, ঠিক যতটা প্রয়োজন ততটা বর্ষণ। দেবী সপরিবারে স্বর্গালোকে বিদায় নেন নৌকায় চড়ে। যার ফল হচ্ছে বন্যা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যাওয়ার লক্ষণ শুভ না হলেও ভক্তের বিশ্বাস, দেবী মঙ্গলময়ী। তিনি জগতের মঙ্গলই করবেন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, মানুষের মনের আসুরিক প্রবৃত্তি যেমন কাম, ক্রোধ, হিংসা, লালসা বিসর্জন দেয়াই মূলত বিজয়া দশমীর মূল তাৎপর্য। এ প্রবৃত্তিগুলোকে বিসর্জন দিয়ে একে অন্যের সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ আয়োজনের উদ্দেশ্য। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী দেবী দুর্গা যে ক’দিন পিতৃগৃহে ছিলেন, ঢোলের বাদ্য সে ক’দিন ভক্তদের মনে ভক্তি আর আনন্দ মূর্ছনা দুই-ই জাগিয়েছে।

বুধবার সকালে সব মন্ডপে দশমী পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন করা হয়। বিষাদের ছায়া ছিল ঢাক-ঢোল, কঁসার-ঘণ্টাসহ বিভিন্ন বাদ্যে, আলোকিত করা ধূপ আরতি ও দেবীর পূজা-অর্চনায়। শাস্ত্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও বিসর্জনের আগে রাজধানীর মন্ডপে মন্ডপে বিকেল পর্যন্ত চলে আবীর খেলা আর আনন্দ উৎসব।

সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দেবী দুর্গা; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।

প্রতিমা বিসর্জনের উদ্দেশে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির মেলাঙ্গন থেকে কেন্দ্রীয় বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। বুধবার দুপুরে পূজা উদ্যাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বের হয় বর্ণাঢ্য এই বিজয়া শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি পলাশী মোড় থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে গিয়ে পৌঁছে। ঢাকের শব্দে আর ধূপের গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠে ওয়াইজঘাট এলাকা।

বিজয়া শোভাযাত্রা ও প্রতিমা বিসর্জনে অংশ নিতে দুপুর গড়িয়ে যেতেই ভক্তরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার পূজামন্ডপ থেকে ট্রাকে করে প্রতিমা নিয়ে সমবেত হতে শুরু করেন ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে। ঢাকার বিভিন্ন স্থানের পূজামন্ডপ থেকে আসা প্রতিমা নিয়ে ট্রাকগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যায় রাস্তায়। প্রতিটি ট্রাকে দুর্গার পাশাপাশি লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্ত্তিক ও গণেশের প্রতিমাও ছিল। সেই সঙ্গে উৎফুল্ল ছিল বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ। তারা নেচে-গেয়ে শোভাযাত্রাকে আরও বর্ণিল করে তোলে। সেখান থেকে সম্মিলিত বাদ্য-বাজনা, মন্ত্রোচ্চারণ ও পূজা-অর্চনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় শোভাযাত্রা।

যাত্রাপথে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট সড়কগুলোতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে রাখে। বিপুলসংখ্যক পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব সদস্যরাও মাঠে ছিল। এ সময় বুড়িগঙ্গার দুই তীরে হাজারো ভক্ত ও দর্শনার্থী প্রতিমা বিসর্জন দেখতে ভিড় করেন। অনেকে প্রতিমা বিসর্জনের সময় নৌকায় করে নদীতে আনন্দ করে। এ উপলক্ষে বুধবার ওয়াইজঘাট এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

অধিকাংশ মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হলেও ঢাকেশ্বরী মন্দিরের প্রতিমাটি রেখে দেয়া হয়। কিন্তু পূজার কাজে ব্যবহৃত দেবীর ফুল, বেলপাতা ও ঘট বিসর্জন দেয়া হয়। প্রথা অনুযায়ী প্রতিমা বিসর্জনের পর সেখান থেকে জল এনে (শান্তিজল) মঙ্গলঘটে নিয়ে তা আবার হৃদয়ে ধারণ করা হয়। আগামী বছর আবার এ শান্তিজল হৃদয় থেকে ঘটে, ঘট থেকে প্রতিমায় রেখে পূজা করা হবে।

সারাদেশে এ বছর ৩২ হাজার ১৬৮টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকা মহানগরে মন্ডপের সংখ্যা ২৪১টি। এসব মন্ডপে শারদীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিটি পূজা উদ্যাপন কমিটিও নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখে। প্রতিটি মন্ডপে লাগানো হয় সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি আয়োজকদের পক্ষ থেকেও মন্ডপ পাহারায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি করা হয়।

back to top