alt

অর্থ-বাণিজ্য

এক সপ্তাহে রিজার্ভ কমছে ২৭ কোটি ডলার

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩

দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগজনক সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমছেই। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ হিসাবে গত বুধবার দিন শেষে বাংলাদেশের রিজার্ভ ১৯ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর পাশপাশি রিজার্ভের এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতি সপ্তাহের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহের বুধবার বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলার।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ কমেছে ২৭ কোটি ডলার। আর ‘গ্রস’ হিসাবে কমেছে ৩৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে ‘তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য’ রিজার্ভ বলে দাবি করছে।

সবশেষ গত অক্টোবর মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ৫২বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসাবে বিপিএম৬ হিসাবের ১৯ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়। গত ১২ জুলাই থেকে আইএমএফের কথামতো রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘গ্রস’ হিসাবের পাশাপাশি বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করেও রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ওই দিন ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। হিসাব বলছে, দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের তথ্য প্রকাশের পর গত পাঁচ মাসে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমেছে ৪ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আর ‘গ্রস’ হিসাবে কমেছে ৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

১২ জুলাইয়ের আগে শুধু ‘গ্রস’ হিসাবের রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করত বাংলাদেশ ব্যাংক। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। ওই বছরের ২৪ আগস্ট রিজার্ভ ৪৮ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। এর পর থেকে কমছেই। এক বছর আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ কমেছে ৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে রিজার্ভের প্রকৃত তথ্য নিয়ে দেশে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর ঢাকার প্রথমসারির জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে ১৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তবে রিজার্ভের এই হিসাব নিয়ে ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবাদ জানায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘রিজার্ভের এই তথ্য সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ‘গ্রস’বা মোট রিজার্ভ স্থানীয় বিনিয়োগসহ হিসাব করা হয়। অপরদিকে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী স্থানীয় বিনিয়োগ ব্যতীত হিসাব করা হয়। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য ও ‘গ্রস’ রিজার্ভ বিনিয়োগ আদায় সাপেক্ষে ব্যবহারযোগ্য।’

প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে জনমনে বিভ্রান্তি এড়াতে রিজার্ভের তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে অধিকতর সতকর্তা অবলম্বন করতে দেশের সব গণমাধ্যমকে আহ্বান জানায়। গত ৮ নভেম্বর রিজার্ভ থেকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসে। বিপিএম৬ হিসাবে রিজার্ভ নামে ১৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

আমদানি ব্যয়ে ধীরগতি এবং রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারার পরও পরও রিজার্ভ বাড়ছে না; উল্টো কমছে। জ্বালানি তেল, সার, খাদ্যপণ্যসহ সরকারের অন্যান্য আমদানি খরচ মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির কারণেই রিজার্ভ কমছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রপ্তানি আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ; রেমিটেন্স বেড়েছে দশমিক ১৭ শতাংশ।

আমদানি ব্যয়ের চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, এই চার মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ২০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ছবি

ভারত: চাল রপ্তানিতে শুল্ক আরোপের মেয়াদ বাড়াল ৩১ মার্চ

ছবি

উৎপাদন খরচ বাড়লেও বাড়েনি বইয়ের দাম

ছবি

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমবে ১০ টাকা

ছবি

অর্থপাচারের ৮০ শতাংশই ব্যাংকিং চ্যানেলে : বিএফআইইউ

ছবি

সূচক বেড়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলছে

ছবি

জিআই পণ্যের তালিকা করতে হাইকোর্টের নির্দেশ

ছবি

দেশ-বিদেশে পর্যটক আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে : পর্যটনমন্ত্রী

ছবি

কৃষি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমানো, লাভে নেয়াই লক্ষ্য : শওকত আলী খান

ছবি

অস্তিত্বের জন্য বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি সীমাবদ্ধ রাখতে হবে: সাবের হোসেন চৌধুরী

ছবি

ড. ইউনূসের ‘জবরদখলে’র অভিযোগ নিয়ে যা বলল গ্রামীণ ব্যাংক

ছবি

খেজুরের গুড়, মিষ্টি পান ও নকশিকাঁথা পেল জিআই স্বীকৃতি

ছবি

কর নেট বাড়ানোর জন্য ধীরে ধীরে কাজ করছি : এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি

জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ০৭ শতাংশ

ছবি

পার্বত্য চট্রগ্রাম মেলায় বেচাকেনা কম, হতাশ উদ্যোক্তারা

টাকা-ডলার অদলবদলের সুবিধা চালু

ছবি

মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৩৬০ টাকা

ছবি

রমজানে রাজধানীতে ২৫টি স্থানে কম দামে মাংস ও ডিম বিক্রির উদ্যোগ

ছবি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকে টাকা–ডলার অদলবদলের সুবিধা চালু

ছবি

তালিকাভূক্ত ব্যাংকের মধ্যে সর্বোচ্চ ক্যাশ ফ্লো রূপালী ব্যাংকের

ছবি

পুঁজিবাজারে ২২টি ব্যাংকের ক্যাশ ফ্লো বেড়েছে

ছবি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিশেষ নীরিক্ষায় চমকপ্রদ তথ্য বের হচ্ছে: বিএসইসি চেয়ারম্যান

ছবি

সূচকের উত্থানে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলছে

টাঙ্গাইল শাড়ি নিয়ে ফেসবুক পোস্ট সরিয়েছে ভারত: নানক

ছবি

সূচক বেড়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলছে

ছবি

বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ: ঢাকা চেম্বার সভাপতি

ছবি

ছয় মাসে ৪৫৯ কোটি ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি

ছবি

খেজুরের আমদানি শুল্ক আরো কমানোর দাবি ব্যবসায়ীদের

ছবি

পাট খাতের বৈশ্বিক রপ্তানি আয়ের ৭২ শতাংশ এখন বাংলাদেশের দখলে: কৃষিমন্ত্রী

ছবি

তিন মাসে খেলাপি ঋণ কমেছে, তবে ২০২২ সালের হিসেবে এখনও বেশি

ছবি

ভাষা শহীদদের স্মরণে বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণার নির্দেশ পলকের

বাংলাদেশ দেউলিয়া হয়ে যায়নি ,সঠিক পথে ফিরেছে: অর্থমন্ত্রী

প্রায় বন্ধ নাফনদী পাড়ের বাণিজ্য, রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার

ছবি

প্রতারণামূলক তথ্য দিয়ে টাঙ্গাইল শাড়ির স্বত্ব নিয়েছে ভারত, এবার চায় ঢাকাই মসলিন

ছবি

নারায়ণগঞ্জ বকেয়া বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ছবি

নারায়ণগঞ্জে বকেয়া বেতন দাবিতে শ্রমিক বিক্ষোভ

চাল তেল-চিনি ও খেজুরের শুল্ক কমানো হচ্ছে

tab

অর্থ-বাণিজ্য

এক সপ্তাহে রিজার্ভ কমছে ২৭ কোটি ডলার

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

শুক্রবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩

দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে আলোচিত ও উদ্বেগজনক সূচক বিদেশি মুদ্রার সঞ্চয়ন বা রিজার্ভ কমছেই। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ হিসাবে গত বুধবার দিন শেষে বাংলাদেশের রিজার্ভ ১৯ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আর বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভ ২৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক গত বৃহস্পতিবার অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর পাশপাশি রিজার্ভের এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতি সপ্তাহের শেষ দিন গত বৃহস্পতিবার এই তথ্য প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত সপ্তাহের বুধবার বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৫ দশমিক শূন্য দুই বিলিয়ন ডলার।

এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিপিএম-৬ হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ কমেছে ২৭ কোটি ডলার। আর ‘গ্রস’ হিসাবে কমেছে ৩৬ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভকে ‘তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য’ রিজার্ভ বলে দাবি করছে।

সবশেষ গত অক্টোবর মাসে পণ্য আমদানিতে বাংলাদেশের ৫ দশমিক ৫২বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। সে হিসাবে বিপিএম৬ হিসাবের ১৯ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দিয়ে তিন মাসের কিছু বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক মানদ- অনুযায়ী, একটি দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সমপরিমাণ বিদেশি মুদ্রা মজুত থাকতে হয়। গত ১২ জুলাই থেকে আইএমএফের কথামতো রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘গ্রস’ হিসাবের পাশাপাশি বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করেও রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ওই দিন ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। আর বিপিএম-৬ হিসাবে ছিল ২৩ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। হিসাব বলছে, দুই পদ্ধতিতে রিজার্ভের তথ্য প্রকাশের পর গত পাঁচ মাসে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ কমেছে ৪ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। আর ‘গ্রস’ হিসাবে কমেছে ৫ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

১২ জুলাইয়ের আগে শুধু ‘গ্রস’ হিসাবের রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করত বাংলাদেশ ব্যাংক। অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে ২০২১ সালের আগস্টে বাংলাদেশের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। ওই বছরের ২৪ আগস্ট রিজার্ভ ৪৮ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলারে ওঠে। এর পর থেকে কমছেই। এক বছর আগে গত বছরের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ৩৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে এক বছরে রিজার্ভ কমেছে ৯ দশমিক ৩১ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে রিজার্ভের প্রকৃত তথ্য নিয়ে দেশে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর ঢাকার প্রথমসারির জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো ‘ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ কমে ১৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

তবে রিজার্ভের এই হিসাব নিয়ে ২৯ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবাদ জানায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, ‘রিজার্ভের এই তথ্য সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ‘গ্রস’বা মোট রিজার্ভ স্থানীয় বিনিয়োগসহ হিসাব করা হয়। অপরদিকে আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী স্থানীয় বিনিয়োগ ব্যতীত হিসাব করা হয়। বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্য ও ‘গ্রস’ রিজার্ভ বিনিয়োগ আদায় সাপেক্ষে ব্যবহারযোগ্য।’

প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ভবিষ্যতে জনমনে বিভ্রান্তি এড়াতে রিজার্ভের তথ্য পরিবেশনের ক্ষেত্রে অধিকতর সতকর্তা অবলম্বন করতে দেশের সব গণমাধ্যমকে আহ্বান জানায়। গত ৮ নভেম্বর রিজার্ভ থেকে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদের ১ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার আমদানি বিল পরিশোধের পর ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসে। বিপিএম৬ হিসাবে রিজার্ভ নামে ১৯ বিলিয়ন ডলারের ঘরে।

আমদানি ব্যয়ে ধীরগতি এবং রপ্তানি আয় ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের ইতিবাচক ধারার পরও পরও রিজার্ভ বাড়ছে না; উল্টো কমছে। জ্বালানি তেল, সার, খাদ্যপণ্যসহ সরকারের অন্যান্য আমদানি খরচ মেটাতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রির কারণেই রিজার্ভ কমছে বলে জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

রিজার্ভের অন্যতম প্রধান উৎস হচ্ছে রপ্তানি আয় ও রেমিটেন্স। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) রপ্তানি আয় বেড়েছে ১ দশমিক ৩০ শতাংশ; রেমিটেন্স বেড়েছে দশমিক ১৭ শতাংশ।

আমদানি ব্যয়ের চার মাসের (জুলাই-অক্টোবর) তথ্য প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাতে দেখা যায়, এই চার মাসে আমদানি ব্যয় কমেছে ২০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

back to top