alt

অর্থ-বাণিজ্য

রিজার্ভ কমায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

মাত্র আড়াই বছর আগে রিজার্ভ ছিল ৪৮ দশমিক শূণ্য ৬ বিলিয়ন। আর বর্তমানে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক কূণ্য ৭ বিলিয়ন। যা দিয়ে তিন মাসের পণ্য আমদানি করাও সম্ভব না। যদিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসাবে কোন দেশের রিজার্ভ দিয়ে কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা থাকা জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে রিজার্ভ নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুধু তাই না, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফের) ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড়ে রিজার্ভের বেধে দেয়া লক্ষ্য পূরণে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতি ঋণের শর্তসমুহ নিয়ে আলোচনা করতে দাতা সংস্থাটির বিশেষ দল গতকাল ঢাকায় আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের পরামর্শে বিপিএম-৬ অনুযায়ী হিসাবে তা ১৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। এটি অবশ্য প্রকৃত রিজার্ভ নয়। আর প্রকৃত ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ বের করতে বিপিএম ম্যানুয়াল থেকে চলতি দায় বাবাদ আকু বিল, বৈদেশিক পাওনা, প্রকল্প বকেয়া বিল, এবং বিশেষ পরিপূরক মুদ্রার (এসডিআর) বকেয়া হিসাবে ৫ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার বাদ দিতে হবে। সেই হিসাবে ব্যয়যোগ্য রিজার্ব দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক কূণ্য ৭ বিলিয়ন ডলার।

তথ্য বলছে, গত জানুয়ারিতে, ফেব্রুয়ারি মার্চে গড় আমদানি ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন এবং মার্চে ৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট আট মাসে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। গড় হিসাবে মাসে তা ৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, আইএমএফের দল এবার রাজস্ব নীতিতে গুরুত্ব দিবে। আর ব্যাংক সংস্কারের নামে ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে। এছাড়া রিজার্ভ কেন বাড়ছে না, কেন লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না এবং সামনে কিভাবে রিজার্ভ বৃদ্ধি করা যায় কার বিশদ পরিকল্পনা চাইতে পারে। এমনকি ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে কী ধরনের নীতি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেটাও দেখবে তারা। পাশাপাশি আইএমএফের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তেল-গ্যাস আমদানির খরচ মেটাতেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে রিজার্ভ আর বাড়ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক কিছু ব্যাংক থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের মতো কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া আরও ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সোয়াপ পদ্ধতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বন্ধক রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং তার আগের অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নীতিগত ভুলের কারণে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে আর কোন পথে নেই। জরুরি এলসি নিষ্পত্তির জন্য বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে এখনও। তাই ডলারের সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ খুব একটা কার্যকর হচ্ছে তা দৃশমান না। রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে গেলে আমদানিতে ঝামেল হতে পারে।

এদিকে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের দুই কিস্তির অর্থ পাওয়ার পর তৃতীয় কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা। অথচ বাংলাদেশের নিট রিজার্ভের উন্নতি হয়নি। এমন বাস্তবতা সামনে রেখে ঋণের শর্ত পর্যালোচনা করতে আজ আইএমএফের একটি বিশেষ দল ঢাকায় আসছে। বৈঠক চলবে আগামী ৮ মে পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইএমএফের শর্ত দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে এনেছে। তারা না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু করতে পারত না। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের সংস্কার ও সুশাসন তাদের কথা মত হয়েছে। রিজার্ভ রক্ষা এবং ব্যাংক একীভূতকে আইএমফ গুরুত্ব দিবে এমন আভাস দিয়েছেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেক কিছুতে কড়াকড়ি করেছে বলে মনে হয়।

ঢাকার মতিঝিলে ডলার কিন্তে আসা গ্রাহক সাব্বির রহমান বলেন, কয়েকটি ব্যাংক ঘুরেও ডলার পাওয়া যায়নি। রিজার্ভ নাকি শেষের পথে কয়েকজন ব্যাংকার ব্যঙ্গ করে জানিয়েছেন। এটা শোনার পর মাথায় বাজ পড়েছে। দেশে রিজার্ভ না থাকলে তো শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে।

আইএমএফ জানায়, ঋণের শর্ত হিসাবে রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা কমাতে আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যে অব্যাহতি চেয়েছিল বাংলাদেশ, সংস্থাটি তা অনুমোদন করেই দ্বিতীয় কিস্ত ছাড় করেছিল। শর্ত অনুযায়ী ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ সংরক্ষণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছিল ১৭ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার করা হয়। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত রিজার্ভ ছিল ১৬ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আর মার্চ শেষে প্রকৃত রিজার্ভ থাকার কথা ১৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের জুনে ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তখন প্রকৃত রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

ছবি

রূপালী ব্যাংকঃ খেলাপি ঋণ আদায়, মুনাফায় লাফ

ছবি

প্রজ্ঞাপন প্রত্যাহারের দাবিতে রাজপথে ঢাবি শিক্ষকরা

ছবি

বাজার মূলধন হারালো ৪৮ হাজার কোটি টাকা

ছবি

রিজার্ভ সামান্য বেড়ে হলো ১৮ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার

ছবি

কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা, মুরগি আগের দামেই

ছবি

খেলাপির সঠিক তথ্য প্রকাশ করছে না ব্যাংকগুলো : সিপিডি

ছবি

রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার ২০২১ পেলো ডীপলেড ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড

ছবি

১ মিলিয়ন ডলার বিদেশী বিনিয়োগ পেল টেক স্টার্টআপ ‘সম্ভব’

মাস্টারকার্ডের ‘স্পেন্ড অ্যান্ড উইন ক্যাম্পেইন ২০২৪’ চালু

ছবি

রোজার সময় দেশে ডিজিটাল পেমেন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি: ভিসা

ছবি

রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার পেল ২০ প্রতিষ্ঠান

ছবি

জুনের মধ্যে ইচ্ছাকৃত খেলাপী সনাক্ত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ

ছবি

রেমিট্যান্সে সুবাতাস, ১৭ দিনে এলো ১৩৬ কোটি ডলার

ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ছবি

মহেশপুরে সবার দৃষ্টি কাড়ছে রশিদের আঙুর বাগান

ছবি

পিছিয়ে গেল রূপপুরের বিদ্যুৎ উৎপাদন

ছবি

শুরু হলো ‘মিরপুর ফার্নিচার ঈদ উৎসব ২০২৪’

ছবি

২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে গ্রাহক বৃদ্ধিতে শীর্ষে বাংলালিংক, বেড়েছে আয়ও

ছবি

এয়ার অ্যাস্ট্রার বনানী সেলস অফিস উদ্বোধন করলেন মৌ

ছবি

সাংবাদিক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ছবি

রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজছে বরেন্দ্র অঞ্চলের আম

ছবি

আতঙ্কে আমানত তুলে নিচ্ছেন গ্রাহকরা, জানুয়ারিতে কমলো ১৩ হাজার কোটি টাকা

ছবি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বারবার নীতি পরিবর্তনে ‘ক্ষতি হচ্ছে’ বললেন ব্যবসায়ীরা

ছবি

বড় বড় খেলাপিরা সাত, আট, নয়বার ঋণ পুনঃ তফসিলের সুযোগ পাচ্ছে: ফরাসউদ্দিন

ছবি

চলতি অর্থবছরের এডিপির ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি

ছবি

অনলাইন কোরবানি হাট চালু করল বেঙ্গল মিট

ছবি

আড়াই শতাংশ কমতে পারে করপোরেট কর

ছবি

ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে এক জেলের মৃত্যু

ছবি

রপ্তানির প্রণোদনা কমালো সরকার

ছবি

বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে বড় ঘাটতি

ছবি

অর্থনীতিতে চার উদ্বেগ

ছবি

ঢাকায় সেনহাইজার ও নিউম্যান বার্লিন এর পণ্য প্রদর্শনী

ছবি

নতুন করে রিজার্ভ চুরির খবর ভুয়া : বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি

মামলা নয়, সমঝোতায় খেলাপি ঋণ আদায়ে ‘জোর’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

ছবি

ড্যাপ এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় সংশোধন চান আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা

সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তি করলো বিডিবিএল

tab

অর্থ-বাণিজ্য

রিজার্ভ কমায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

মাত্র আড়াই বছর আগে রিজার্ভ ছিল ৪৮ দশমিক শূণ্য ৬ বিলিয়ন। আর বর্তমানে ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক কূণ্য ৭ বিলিয়ন। যা দিয়ে তিন মাসের পণ্য আমদানি করাও সম্ভব না। যদিও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসাবে কোন দেশের রিজার্ভ দিয়ে কমপক্ষে তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা থাকা জরুরি। এমন পরিস্থিতিতে রিজার্ভ নিয়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

শুধু তাই না, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফের) ৪ দশমিক ৭০ বিলিয়ন ডলার ঋণ ছাড়ে রিজার্ভের বেধে দেয়া লক্ষ্য পূরণে বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। এমন সংকটময় পরিস্থিতি ঋণের শর্তসমুহ নিয়ে আলোচনা করতে দাতা সংস্থাটির বিশেষ দল গতকাল ঢাকায় আসছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত রবিবার গ্রস রিজার্ভ ছিল ২৫ দশমিক ৩২ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের পরামর্শে বিপিএম-৬ অনুযায়ী হিসাবে তা ১৯ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। এটি অবশ্য প্রকৃত রিজার্ভ নয়। আর প্রকৃত ব্যয়যোগ্য রিজার্ভ বের করতে বিপিএম ম্যানুয়াল থেকে চলতি দায় বাবাদ আকু বিল, বৈদেশিক পাওনা, প্রকল্প বকেয়া বিল, এবং বিশেষ পরিপূরক মুদ্রার (এসডিআর) বকেয়া হিসাবে ৫ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার বাদ দিতে হবে। সেই হিসাবে ব্যয়যোগ্য রিজার্ব দাঁড়িয়েছে ১৪ দশমিক কূণ্য ৭ বিলিয়ন ডলার।

তথ্য বলছে, গত জানুয়ারিতে, ফেব্রুয়ারি মার্চে গড় আমদানি ব্যয় ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ৫ দশমিক ২০ বিলিয়ন এবং মার্চে ৫ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট আট মাসে পণ্য আমদানির জন্য ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে ৪৪ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলার। গড় হিসাবে মাসে তা ৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশের বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, আইএমএফের দল এবার রাজস্ব নীতিতে গুরুত্ব দিবে। আর ব্যাংক সংস্কারের নামে ব্যাংক একীভূতকরণ নিয়ে আপত্তি তুলতে পারে। এছাড়া রিজার্ভ কেন বাড়ছে না, কেন লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না এবং সামনে কিভাবে রিজার্ভ বৃদ্ধি করা যায় কার বিশদ পরিকল্পনা চাইতে পারে। এমনকি ঋণ কর্মসূচির সঙ্গে কী ধরনের নীতি পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেটাও দেখবে তারা। পাশাপাশি আইএমএফের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকেও বৈদেশিক মুদ্রায় ঋণ নেয়া হচ্ছে। কিন্তু তেল-গ্যাস আমদানির খরচ মেটাতেই তা শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে রিজার্ভ আর বাড়ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ১০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক কিছু ব্যাংক থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের মতো কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ছাড়া আরও ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার সোয়াপ পদ্ধতির মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে বন্ধক রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার এবং তার আগের অর্থবছরে ৭ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার বিক্রি করা হয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নীতিগত ভুলের কারণে রিজার্ভ থেকে ডলার বিক্রি ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে আর কোন পথে নেই। জরুরি এলসি নিষ্পত্তির জন্য বাধ্য হয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে এখনও। তাই ডলারের সরবরাহ বাড়াতে পদক্ষেপ খুব একটা কার্যকর হচ্ছে তা দৃশমান না। রিজার্ভ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের নিচে গেলে আমদানিতে ঝামেল হতে পারে।

এদিকে আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের দুই কিস্তির অর্থ পাওয়ার পর তৃতীয় কিস্তির অর্থ পাওয়ার কথা। অথচ বাংলাদেশের নিট রিজার্ভের উন্নতি হয়নি। এমন বাস্তবতা সামনে রেখে ঋণের শর্ত পর্যালোচনা করতে আজ আইএমএফের একটি বিশেষ দল ঢাকায় আসছে। বৈঠক চলবে আগামী ৮ মে পর্যন্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইএমএফের শর্ত দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে এনেছে। তারা না থাকলে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু করতে পারত না। বিশেষ করে ব্যাংক খাতের সংস্কার ও সুশাসন তাদের কথা মত হয়েছে। রিজার্ভ রক্ষা এবং ব্যাংক একীভূতকে আইএমফ গুরুত্ব দিবে এমন আভাস দিয়েছেন। এ জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নেক কিছুতে কড়াকড়ি করেছে বলে মনে হয়।

ঢাকার মতিঝিলে ডলার কিন্তে আসা গ্রাহক সাব্বির রহমান বলেন, কয়েকটি ব্যাংক ঘুরেও ডলার পাওয়া যায়নি। রিজার্ভ নাকি শেষের পথে কয়েকজন ব্যাংকার ব্যঙ্গ করে জানিয়েছেন। এটা শোনার পর মাথায় বাজ পড়েছে। দেশে রিজার্ভ না থাকলে তো শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে।

আইএমএফ জানায়, ঋণের শর্ত হিসাবে রিজার্ভ সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা কমাতে আইএমএফের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে যে অব্যাহতি চেয়েছিল বাংলাদেশ, সংস্থাটি তা অনুমোদন করেই দ্বিতীয় কিস্ত ছাড় করেছিল। শর্ত অনুযায়ী ডিসেম্বর শেষে রিজার্ভ সংরক্ষণের নতুন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছিল ১৭ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার করা হয়। তবে ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত রিজার্ভ ছিল ১৬ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আর মার্চ শেষে প্রকৃত রিজার্ভ থাকার কথা ১৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের জুনে ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও তখন প্রকৃত রিজার্ভ ছিল ১৯ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

back to top