কমপ্লায়েন্স ও আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। রোববার,(২৫ মে ২০২৫) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘চামড়া শিল্পের কৌশল নির্ধারণ; এলডিসি পরবর্তী সময়ে টেকসই রপ্তানি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেণ। ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। এছাড়াও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি চামড়া শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে একটি সহায়ক অবকাঠামো তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যার ভিত্তিতে বেসরকারিখাত আগামী ১০বছরে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতের পর বাংলাদেশে রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস চামড়া খাতে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এলডিসি পরবর্তী সময়ে এখাতে প্রাপ্ত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো ক্রমাগত হ্রাস পাবে। বাংলাদেশ এখাতে নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি, কারণ বৈশি^ক চামড়া শিল্পে আমাদের অবদান ১ শতাংশ এর কম অবদান রেখেছে। এমন বাস্তবতায়, এলডিসি পরবর্তী সময়ে এখাতের রপ্তানিতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, মানবসম্পদের দক্ষতার উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নতুন পণ্যের উদ্ভাবন, ভ্যালুচেইন শক্তিশালীকরণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারিখাতের সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।’
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘চামড়া শিল্পের বিদ্যমান নানাবিধ প্রতিকূলতা নিরসনে শিল্প মন্ত্রণালয় সহায়ক নীতি পরিবেশ প্রদানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যার মাধ্যমে এখাতে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিতকরা সম্ভব হবে। এখাতে বৈশি^ক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ করতে হবে। চামড়া শিল্পের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি বিস্তৃত ইকো-সিস্টেম প্রবর্তনের উদোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চামড়া শিল্পের পরিবেশগত অবকাঠামো উন্নয়ন, সনদ প্রাপ্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
বিসিক চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়া খাতে সিইটিপির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাভারে স্থাপিত সিইটিপি’র ক্যাপাসিটি বর্তমানে ১৪ হাজার কিউবিক মিটার এবং পিকসিজনে (কুরবানীর সময়) এখাতে চাহিদা থাকে ৩২-৩৫ হাজার কিউবিক মিটার, সিইটিপির সক্ষমতা ২০-২৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীতকরণে একটি টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ইটিপি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরো ৮-১০টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।’
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বহির্বিশে^ এ শিল্পের ইমেজ সংকট রয়েছে, সেখান থেকে থেকে আমাদেরকে বের হতে হবে। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সার্টিফিকেট না থাকার কারণে বৈশি^ক বিনিয়োগ যেমন পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি উৎপাদিত পণ্যের ভালো মূল্য প্রাপ্তি থেকে উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। সিইটিপি থাকলে সম্মিলিতভাবে ব্যয় কম হবে এবং মনিটর করা সহজহবে এবং যেকোন ভাবেই এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করতে হবে। এখাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এলডব্লিউজি সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহজ হবে এবং এফডিআই আকর্ষন সহজ হবে। যেহেতু আমাদের প্রচুর পরিমাণে কাঁচামাল রয়েছে। তৈরি পোষাক খাতের মত রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রদান করা প্রয়োজন এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন পরিলক্ষিত হবে।’
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেদারগুডস্ অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং এমসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘চামড়া শিল্পনগরী হাজারীবাগ হতে সাভারে স্থানান্তর করা হলেও সিইটিপি পুরোপুরি চালু করা যায়নি, ফলে এখাতের কাঙ্খিত রপ্তানি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এলডব্লিউজি-এর মতো আমাদের আন্তর্জাতিক কোন সনদ না থাকায় বৈশি^ক বাজার বাংলাদেশ প্রতিযোগী হয়ে উঠছে না এবং এখাতের উৎপাদিত পণ্যের ভালো মূল্য প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও চামড়া শিল্পে কমপ্লায়েন্সের অনুপস্থিতির বিষয়টিও অন্যতম কারণ। চামড়া খাতের রুগ্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠান এবং যারা এখাত হতে বের হতে আগ্রহী, তাদেরকে প্রস্থানের সহজ সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। যাতে বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ প্রাপ্তি সহজতর হয়। চামড়া শিল্পের বার্ষিক রপ্তানি ১.২ হতে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ঘুরপাক খাচ্ছে, তবে তৈরি পোষাকখাতের মত আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করলে ২০৩০ সালের মধ্যে এখাতে বার্ষিক ৫বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভব যা ২০৩৫ সালে ১০ বিলিয়নেও উন্নীত হতে পারে। চামড়া শিল্পটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় কাঙ্খিত মাত্রায় উন্নয়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাই এটিকে একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায়বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও অনুবিভাগ) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর মহাপরিচালক মোঃ আরিফুল হক, বিসিএসআইআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সালমা আহমেদ, বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকতা মোঃ নুরুল ইসলাম, বে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান, জেনিস সুজ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাসির খান এবং অস্টান লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবনুল ওয়ারা অংশগ্রহণ করেন।
মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই’র প্রাক্তন সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ কোরবানীর পশুর চামড়ার সঠিক মূল্য নির্ধারণের উপর জোরারোপ করেন। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোঃ সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
রোববার, ২৫ মে ২০২৫
কমপ্লায়েন্স ও আন্তর্জাতিক সনদের অভাবে চামড়া শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। রোববার,(২৫ মে ২০২৫) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘চামড়া শিল্পের কৌশল নির্ধারণ; এলডিসি পরবর্তী সময়ে টেকসই রপ্তানি’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এসব কথা বলেণ। ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান। এছাড়াও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম এবং এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি চামড়া শিল্পের সার্বিক উন্নয়নে একটি সহায়ক অবকাঠামো তৈরির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যার ভিত্তিতে বেসরকারিখাত আগামী ১০বছরে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, ‘তৈরি পোশাক খাতের পর বাংলাদেশে রপ্তানির দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎস চামড়া খাতে অতিরিক্ত মূল্য সংযোজন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই শিল্প বিকাশের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এলডিসি পরবর্তী সময়ে এখাতে প্রাপ্ত অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্যিক সুবিধাগুলো ক্রমাগত হ্রাস পাবে। বাংলাদেশ এখাতে নিজের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারেনি, কারণ বৈশি^ক চামড়া শিল্পে আমাদের অবদান ১ শতাংশ এর কম অবদান রেখেছে। এমন বাস্তবতায়, এলডিসি পরবর্তী সময়ে এখাতের রপ্তানিতে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, মানবসম্পদের দক্ষতার উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, নতুন পণ্যের উদ্ভাবন, ভ্যালুচেইন শক্তিশালীকরণ, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারিখাতের সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে হবে।’
প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, ‘চামড়া শিল্পের বিদ্যমান নানাবিধ প্রতিকূলতা নিরসনে শিল্প মন্ত্রণালয় সহায়ক নীতি পরিবেশ প্রদানের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, যার মাধ্যমে এখাতে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন নিশ্চিতকরা সম্ভব হবে। এখাতে বৈশি^ক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, উৎপাদন প্রক্রিয়ার আধুনিকায়ন, পরিবেশ সুরক্ষা ও কমপ্লায়েন্স নিশ্চিতকরণ করতে হবে। চামড়া শিল্পের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় একটি বিস্তৃত ইকো-সিস্টেম প্রবর্তনের উদোগ গ্রহণ করেছে। সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চামড়া শিল্পের পরিবেশগত অবকাঠামো উন্নয়ন, সনদ প্রাপ্তির সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে তার মন্ত্রণালয় কাজ করছে।’
বিসিক চেয়ারম্যান মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘চামড়া খাতে সিইটিপির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাভারে স্থাপিত সিইটিপি’র ক্যাপাসিটি বর্তমানে ১৪ হাজার কিউবিক মিটার এবং পিকসিজনে (কুরবানীর সময়) এখাতে চাহিদা থাকে ৩২-৩৫ হাজার কিউবিক মিটার, সিইটিপির সক্ষমতা ২০-২৫ হাজার কিউবিক মিটারে উন্নীতকরণে একটি টেকনিক্যাল টিম কাজ করছে। প্রাথমিকভাবে ৬টি প্রতিষ্ঠানকে ইটিপি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আরো ৮-১০টি প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।’
এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘বহির্বিশে^ এ শিল্পের ইমেজ সংকট রয়েছে, সেখান থেকে থেকে আমাদেরকে বের হতে হবে। লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সার্টিফিকেট না থাকার কারণে বৈশি^ক বিনিয়োগ যেমন পাওয়া যাচ্ছে না, তেমনি উৎপাদিত পণ্যের ভালো মূল্য প্রাপ্তি থেকে উদ্যোক্তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। সিইটিপি থাকলে সম্মিলিতভাবে ব্যয় কম হবে এবং মনিটর করা সহজহবে এবং যেকোন ভাবেই এর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করতে হবে। এখাতে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে এলডব্লিউজি সার্টিফিকেট প্রাপ্তি সহজ হবে এবং এফডিআই আকর্ষন সহজ হবে। যেহেতু আমাদের প্রচুর পরিমাণে কাঁচামাল রয়েছে। তৈরি পোষাক খাতের মত রপ্তানিমুখী সম্ভাবনাময় অন্যান্য খাতে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রদান করা প্রয়োজন এবং তিনি আশা প্রকাশ করেন আগামী বাজেটে এর প্রতিফলন পরিলক্ষিত হবে।’
অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লেদারগুডস্ অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ এবং এমসিসিআই’র প্রাক্তন সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, ‘চামড়া শিল্পনগরী হাজারীবাগ হতে সাভারে স্থানান্তর করা হলেও সিইটিপি পুরোপুরি চালু করা যায়নি, ফলে এখাতের কাঙ্খিত রপ্তানি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এলডব্লিউজি-এর মতো আমাদের আন্তর্জাতিক কোন সনদ না থাকায় বৈশি^ক বাজার বাংলাদেশ প্রতিযোগী হয়ে উঠছে না এবং এখাতের উৎপাদিত পণ্যের ভালো মূল্য প্রাপ্তি হতে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়াও চামড়া শিল্পে কমপ্লায়েন্সের অনুপস্থিতির বিষয়টিও অন্যতম কারণ। চামড়া খাতের রুগ্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠান এবং যারা এখাত হতে বের হতে আগ্রহী, তাদেরকে প্রস্থানের সহজ সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। যাতে বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় ঋণ প্রাপ্তি সহজতর হয়। চামড়া শিল্পের বার্ষিক রপ্তানি ১.২ হতে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে ঘুরপাক খাচ্ছে, তবে তৈরি পোষাকখাতের মত আর্থিক প্রণোদনা ও নীতি সহায়তা প্রদান করলে ২০৩০ সালের মধ্যে এখাতে বার্ষিক ৫বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি সম্ভব যা ২০৩৫ সালে ১০ বিলিয়নেও উন্নীত হতে পারে। চামড়া শিল্পটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকায় কাঙ্খিত মাত্রায় উন্নয়ন পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাই এটিকে একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে আসার কোন বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানের নির্ধারিত আলোচনায়বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও অনুবিভাগ) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর মহাপরিচালক মোঃ আরিফুল হক, বিসিএসআইআর’র প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সালমা আহমেদ, বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকতা মোঃ নুরুল ইসলাম, বে গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউর রহমান, জেনিস সুজ লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ নাসির খান এবং অস্টান লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইবনুল ওয়ারা অংশগ্রহণ করেন।
মুক্ত আলোচনায় ডিসিসিআই’র প্রাক্তন সহ-সভাপতি এম আবু হোরায়রাহ কোরবানীর পশুর চামড়ার সঠিক মূল্য নির্ধারণের উপর জোরারোপ করেন। ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি মোঃ সালিম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।