alt

অর্থ-বাণিজ্য

করোনার প্রভাব : এক বছরে ৬২ শতাংশ মানুষ কর্মহীন

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : বুধবার, ০৫ মে ২০২১
image

করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ। কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় বসে আছে শ্রমিকরা। মিরপুর থেকে তোলা ছবি -সোহরাব আলম

করোনাভাইরাস সংক্রমণের নেতিবাচক প্রভাবে গত এক বছরে ৬২ শতাংশ মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। অনেকে পুনরায় কাজ শুরু করলেও তাদের আয় কমেছে। সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। এর মধ্যে দ্বিগুণ মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়েছে, আয় কমেছে ১২ শতাংশ মানুষের আর খরচ কমেছে ৭৮ শতাংশের। কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়লেও কর্মঘণ্টা কমে গেছে। এছাড়া এই বিপদের সময়ও সরকার তথাকথিত প্রবৃদ্ধির পেছনে দৌড়াচ্ছে, যেখানে মানুষের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত হচ্ছে না। সরকারকে বিশ্লেষকদের সুপারিশ গ্রহণ করারও পরামর্শ দেয়া হয়।

‘কোভিড-১৯ কালে আয় ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি : কীভাবে মানুষগুলো টিকে আছে’ শীর্ষক খানা জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফাম বাংলাদেশ যৌথভাবে জরিপটি পরিচালনা করেছে। বুধবার (৫ মে) অনুষ্ঠিত এক সংলাপে জরিপটির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সংলাপটি পরিচালনা করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান জরিপের ফলাফলের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। বাংলাদেশের ১৬টি জেলা এবং শহর ও গ্রাম মিলিয়ে বাছাইকরা ২৬শ’ পরিবারের তথ্য নিয়ে জরিপটি পরিচালিত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে জরিপ কাজ শেষ হয়।

জরিপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সিপিডির তৌফিক ইসলাম বলেন, ‘৬২ শতাংশ মানুষ করোনা শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন যার বড় অংশ ২০২০ সালের এপ্রিল ও মে মাসে কর্মহীন হয়েছেন। পরে অনেকেই কাজে ফিরলেও আগের মতো চাকরি আর ফিরে পাননি। জরিপের তথ্যানুযায়ী ওই সময়কালে সেবা খাত থেকে কর্মসংস্থানের জন্য মানুষ কৃষির দিকে গেছেন। এ সময় কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়লেও এই খাতে কর্মঘণ্টা কমে গেছে। একইসময়ে আগের বছরের চেয়ে কর্মসংস্থান আরও কিছুটা বেড়েছে। তবে শিল্প খাতে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেবা খাতে কর্মসংস্থান প্রায় দেড় শতাংশের মতো কমে গেছে। ৭৮ শতাংশ মানুষই কম খরচ করেছেন। অন্তত ৫ শতাংশকে সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে।’

সিপিডির এই গবেষক আরও জানান, এখন পর্যন্ত কর্মসংস্থান সন্তোষজনক কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের ৪৩ শতাংশ আগের চেয়ে খারাপ বলে জানিয়েছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মানুষের আয় কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। আবার ৮৬ শতাংশ বলেছেন যা আয় হচ্ছে তা সন্তোষজনক।

কর্মসংস্থান হলেও আয় কমেছে উল্লেখ করে সিপিডি জানায়, কর্মসংস্থান হলেও আয় কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আয় কমেছে কৃষি খাতে। এই খাতে ১৬.৫০ শতাংশ আয় কমেছে, এরপরই আছে উৎপাদন খাতে কমেছে ১২.৭৫ শতাংশ। পরিবহন ও নির্মাণসহ সব খাত মিলিয়ে ১১.৯২ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। অপরদিকে করোনার প্রভাবে ৭৮ শতাংশ মানুষ তাদের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন, ৫২ শতাংশ খরচ কমাতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাস কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের ঋণের বোঝা বেড়েছে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানীয় বক্তা হিসেবে সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘অনেকগুলো বেসরকারি সংস্থা দেশের প্রয়োজনে বিশেষ সময়ে অনেক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসব পরামর্শ কী সরকার শোনে, নাকি তাদের মতো করে চালাচ্ছেন।’ তিনি দেশের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক ও মাঠ থেকে উঠে আসা এসব জরিপের ফলাফলে আমলে নিয়ে সুধীজন ও বিশ্লেষকদের পরামর্শ গ্রহণ করে সরকারি কর্মসূচি নেয়ার পরামর্শ দেন। আগামী বাজেটে তিনি সব খাতের স্বল্প আয়ের মানুষকে কেন্দ্র করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় আয়বর্ধক কর্মসূচি নেয়ার তাগিদও দেন।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী বলেন, ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা না গেলেও এটা নিশ্চিত যে প্রথম ঢেউয়ের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেছে। অন্যদের কথা বলতে পারব না, তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের বিপুল চাহিদা দেখেছি। গত দুই বছর ধরে আমরা বিপুল সম্প্রসারণে গিয়েছি। কর্মসংস্থানও বাড়ছে।’ এখন অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রবৃদ্ধির চেয়ে মানুষের হাতে অর্থ পৌছানোর ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘এতে অর্থনীতি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।’ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের মনোযোগকে ‘অন্ধকারে কালো বেড়াল খোঁজার’ সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার এই বিপদের সময়ও তথাকথিত প্রবৃদ্ধির পেছনে দৌড়াচ্ছে, যেখানে মানুষের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত হচ্ছে না।’ বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের বেশি সংকটে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী বাজেটে এসব নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

ছবি

অর্ধেক আসন খালি রেখে কমিউনিটি সেন্টার খোলার দাবি

সূচক ও লেনদেন দুটোই কমেছে শেয়ারবাজারে

বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন নিল ফেইসবুক

ছবি

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে কাজী ছানাউল হকের যোগদান

চূড়ান্ত উৎপাদন শুরু করেছে রিং সাইন টেক্সটাইল

বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্প প্লট বরাদ্দ শুরু

খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে দেড় কোটি টাকার বেশি জরিমানা

করোনায় অসচ্ছল মানুষের পাশে প্রাণ ইউএইচটি মিল্ক

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তামাক চাষি-ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

ওয়ালটন ওয়াশিং মেশিনের নতুন প্রোডাকশন লাইন উদ্বোধন

ছবি

লেনদেনের ধীরগতিতে নিম্নমুখী সূচক

ছবি

বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক দেনা ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে

ছবি

সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের ২০% লভ্যাংশ ঘোষণা

ছবি

আমরা সংসদে আছি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্য: সাবের হোসেন

শেয়ারবাজারে ১২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন

ছবি

ব্যাংক হিসাবে চার্জমুক্ত থাকবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত

ছবি

বাজেটের সুফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল

ছবি

উন্নত জাতের ‘সুবর্ণ রুই’ উদ্ভাবন

ইগলু আইসক্রিম ফ্যাক্টরিতে জরিমানা

২৫ হাজার কৃষকের থেকে সরাসরি পণ্য কিনছে আরিফ গ্রুপ

ছবি

এবি ব্যাংকের ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা

প্রধানমন্ত্রীর করোনা তহবিলে ২ কোটি টাকা দিয়েছে সাইফ পাওয়ারটেক

ছবি

ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের ১০ শতাংশ লভ্যাংশ অনুমোদন

ছবি

বোরো ধানের বাম্পার ফলনের পরও চালের বাজার অস্থির

ছবি

ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন সিইও এবং এমডি জাভেদ আখতার

ছবি

ব্লুঅরচার্ড মাইক্রোফাইন্যান্স ফান্ড থেকে ১৫ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ নিলো লংকাবাংলা ফাইন্যান্স

ছবি

শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর না রাখার সুপারিশ বিসিআই’র

ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা পর্যটন স্পটগুলোর

ছবি

ইউনিলিভার বাংলাদেশের নতুন এমডি জাভেদ আখতার

ছবি

টাইলস-স্যানিটারি পণ্যে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি

ছবি

স্বর্ণের ভ্যাট কমানোর দাবি বাজুসের

স্টার্টাপে ৫ কোটি পর্যন্ত বিনিয়োগ করবে ইভ্যালি

গতবছর ১০ কোটি ৬১ লাখ টাকা মুনাফা করেছে জনতা ক্যাপিটাল

প্রথম ঘন্টায় ডিএসইতে হাজার কোটি টাকা লেনদেন

ছবি

এক বছরে একটি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে ৮৯১ শতাংশ

ছবি

মাইক্রোবাস আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বারভিডার

tab

অর্থ-বাণিজ্য

করোনার প্রভাব : এক বছরে ৬২ শতাংশ মানুষ কর্মহীন

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক
image

করোনার প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে নিম্নবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষ। কাজ পাওয়ার অপেক্ষায় বসে আছে শ্রমিকরা। মিরপুর থেকে তোলা ছবি -সোহরাব আলম

বুধবার, ০৫ মে ২০২১

করোনাভাইরাস সংক্রমণের নেতিবাচক প্রভাবে গত এক বছরে ৬২ শতাংশ মানুষ কর্মহীন হয়েছেন। অনেকে পুনরায় কাজ শুরু করলেও তাদের আয় কমেছে। সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের ওপর। এর মধ্যে দ্বিগুণ মানুষ ঋণগ্রস্ত হয়েছে, আয় কমেছে ১২ শতাংশ মানুষের আর খরচ কমেছে ৭৮ শতাংশের। কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়লেও কর্মঘণ্টা কমে গেছে। এছাড়া এই বিপদের সময়ও সরকার তথাকথিত প্রবৃদ্ধির পেছনে দৌড়াচ্ছে, যেখানে মানুষের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত হচ্ছে না। সরকারকে বিশ্লেষকদের সুপারিশ গ্রহণ করারও পরামর্শ দেয়া হয়।

‘কোভিড-১৯ কালে আয় ও কর্মসংস্থান পরিস্থিতি : কীভাবে মানুষগুলো টিকে আছে’ শীর্ষক খানা জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) ও অক্সফাম বাংলাদেশ যৌথভাবে জরিপটি পরিচালনা করেছে। বুধবার (৫ মে) অনুষ্ঠিত এক সংলাপে জরিপটির ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

সংলাপটি পরিচালনা করেন সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। সিপিডির রিসার্চ ফেলো তৌফিক ইসলাম খান জরিপের ফলাফলের ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সংলাপে আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তপন চৌধুরী। বাংলাদেশের ১৬টি জেলা এবং শহর ও গ্রাম মিলিয়ে বাছাইকরা ২৬শ’ পরিবারের তথ্য নিয়ে জরিপটি পরিচালিত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে জরিপ কাজ শেষ হয়।

জরিপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে সিপিডির তৌফিক ইসলাম বলেন, ‘৬২ শতাংশ মানুষ করোনা শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন যার বড় অংশ ২০২০ সালের এপ্রিল ও মে মাসে কর্মহীন হয়েছেন। পরে অনেকেই কাজে ফিরলেও আগের মতো চাকরি আর ফিরে পাননি। জরিপের তথ্যানুযায়ী ওই সময়কালে সেবা খাত থেকে কর্মসংস্থানের জন্য মানুষ কৃষির দিকে গেছেন। এ সময় কৃষিতে কর্মসংস্থান বাড়লেও এই খাতে কর্মঘণ্টা কমে গেছে। একইসময়ে আগের বছরের চেয়ে কর্মসংস্থান আরও কিছুটা বেড়েছে। তবে শিল্প খাতে ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও সেবা খাতে কর্মসংস্থান প্রায় দেড় শতাংশের মতো কমে গেছে। ৭৮ শতাংশ মানুষই কম খরচ করেছেন। অন্তত ৫ শতাংশকে সম্পদ বিক্রি করতে হয়েছে।’

সিপিডির এই গবেষক আরও জানান, এখন পর্যন্ত কর্মসংস্থান সন্তোষজনক কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের ৪৩ শতাংশ আগের চেয়ে খারাপ বলে জানিয়েছেন। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় এ বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মানুষের আয় কমেছে প্রায় ৭ শতাংশ। আবার ৮৬ শতাংশ বলেছেন যা আয় হচ্ছে তা সন্তোষজনক।

কর্মসংস্থান হলেও আয় কমেছে উল্লেখ করে সিপিডি জানায়, কর্মসংস্থান হলেও আয় কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আয় কমেছে কৃষি খাতে। এই খাতে ১৬.৫০ শতাংশ আয় কমেছে, এরপরই আছে উৎপাদন খাতে কমেছে ১২.৭৫ শতাংশ। পরিবহন ও নির্মাণসহ সব খাত মিলিয়ে ১১.৯২ শতাংশ মানুষের আয় কমেছে। অপরদিকে করোনার প্রভাবে ৭৮ শতাংশ মানুষ তাদের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন, ৫২ শতাংশ খরচ কমাতে গিয়ে খাদ্যাভ্যাস কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। জরিপে অংশ নেয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের ঋণের বোঝা বেড়েছে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সম্মানীয় বক্তা হিসেবে সিপিডি চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, ‘অনেকগুলো বেসরকারি সংস্থা দেশের প্রয়োজনে বিশেষ সময়ে অনেক পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এসব পরামর্শ কী সরকার শোনে, নাকি তাদের মতো করে চালাচ্ছেন।’ তিনি দেশের উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক ও মাঠ থেকে উঠে আসা এসব জরিপের ফলাফলে আমলে নিয়ে সুধীজন ও বিশ্লেষকদের পরামর্শ গ্রহণ করে সরকারি কর্মসূচি নেয়ার পরামর্শ দেন। আগামী বাজেটে তিনি সব খাতের স্বল্প আয়ের মানুষকে কেন্দ্র করে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় আয়বর্ধক কর্মসূচি নেয়ার তাগিদও দেন।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা তপন চৌধুরী বলেন, ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা না গেলেও এটা নিশ্চিত যে প্রথম ঢেউয়ের ক্ষতি কিছুটা কাটিয়ে ওঠা গেছে। অন্যদের কথা বলতে পারব না, তবে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের বিপুল চাহিদা দেখেছি। গত দুই বছর ধরে আমরা বিপুল সম্প্রসারণে গিয়েছি। কর্মসংস্থানও বাড়ছে।’ এখন অন্যান্য খাতেও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ হলে কর্মসংস্থান বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রবৃদ্ধির চেয়ে মানুষের হাতে অর্থ পৌছানোর ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘এতে অর্থনীতি অনেক বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে।’ প্রবৃদ্ধি নিয়ে সরকারের মনোযোগকে ‘অন্ধকারে কালো বেড়াল খোঁজার’ সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘সরকার এই বিপদের সময়ও তথাকথিত প্রবৃদ্ধির পেছনে দৌড়াচ্ছে, যেখানে মানুষের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত হচ্ছে না।’ বিশেষ করে কম আয়ের মানুষের বেশি সংকটে পড়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আগামী বাজেটে এসব নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন।

back to top