alt

অর্থ-বাণিজ্য

বৈদেশিক বাণিজ্যে গতি ফিরছে চট্টগ্রাম বন্দরে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১

করোনার প্রথম ধাক্কায় ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত হয়ে আসে, যার প্রভাব পড়ে চট্টগ্রাম বন্দরেও। তবে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় আগের মতো গতি হারায়নি চট্টগ্রাম বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। আমদানি-রপ্তানিতে গতি বাড়ায় ধাপে ধাপে উন্নতি হচ্ছে বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও। বিশেষ করে বাল্ক কার্গোর (খোলা পণ্য) ওঠানামায় লক্ষণীয় অগ্রগতি হতে পারে। অর্থবছর শেষে যেখানে ৭ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বলে ধারণা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

দেশে সমুদ্রপথে পণ্যের ৯৩ শতাংশই আমদানি-রপ্তানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। কনটেইনারবাহী জাহাজ ও খোলা পণ্যবাহী বাল্ক কার্গো এ দুই ধরনের জাহাজে করে আসা-যাওয়া পণ্য ওঠা-নামার ভিত্তিতে বন্দরের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়। সিমেন্ট, ইস্পাতসহ খাদ্যশস্য ও সাধারণ পণ্য আমদানি হয় বাল্ক কার্গো বা খোলা পণ্যবাহী জাহাজে। অন্যদিকে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি হয় কনটেইনারে করে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ছয়টি জেটি দিয়ে চলছে বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। বেশির ভাগ বাল্ক কার্গো বহির্নোঙরে হ্যান্ডলিং হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৯ কোটি ৬৭ লাখ থেকে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন খোলা পণ্য (কার্গো) ওঠা-নামা হয়েছে বন্দরে।

এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ৮ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ১১৫ টন। এ হিসাবে ১০ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশ। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন সংকটকালীন সময়েও বাল্ক কার্গো প্রবৃদ্ধিতে মূলত অবদান রেখেছে স্ক্র্যাপ, পাথর ও কয়লা এ তিন পণ্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরের পুরো সময়ে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন খোলা পণ্য (কার্গো) ওঠা-নামা হয়েছে বন্দরে। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ৯ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৫ টন। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শিল্পপণ্য আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও কমার্শিয়াল আমদানি কমেছে। এতে কনটেইনারের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম প্রায় গত অর্থবছরের কাছাকাছিই রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২০ ফুট দীর্ঘ হিসেবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে ২৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৬ একক। আগের অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১৯১ একক। মাসভিত্তিক হিসাবে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ হ্যান্ডলিং হয়েছিল জানুয়ারিতে ২ লাখ ৮০ হাজার ২২২ একক। সবচেয়ে কম ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৩ একক হ্যান্ডলিং হয়েছে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের পুরো সময়ে এ বন্দর ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ একক। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২৯ লাখ ১৯ হাজার ২৩ একক। অর্থাৎ তখন কনটেইনারবাহী পণ্যের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালট্যান্সি (এইচপিসি) প্রণীত চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ বছরমেয়াদি মহাপরিকল্পনায় প্রবৃদ্ধি ক্ষেত্রে ন্যূনতম, মধ্যম ও সর্বোচ্চ এ তিনভাবে ধারণা দেয়া হয়েছে। এতে ন্যূনতম হলে ৫ শতাংশ, মধ্যম ৭ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৯ শতাংশ। যদি দেশ স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ বড় কোন বিপর্যয় না ঘটে, তবে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। আর যদি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা কিছুটা কমে আসে, সেক্ষেত্রে তা মধ্যম অর্থাৎ ৭ শতাংশে নেমে আসবে। তবে যদি বড় আকারে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ঋণাত্মক প্রভাব, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, সুশাসনের অভাব প্রভৃতি বিষয় ঘটে, তবে তা ন্যূনতম অর্থাৎ ৫ শতাংশে নেমে আসবে।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, কনটেইনার ও কনটেইনারবিহীন (বাল্ক কার্গো) দুই ধরনের পণ্যই ওঠানো-নামানো হয়। অর্থবছর শেষে বন্দরে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ বা এর কাছাকাছি হওয়ার কথা। এমন হলে করোনায় আমদানি-রপ্তানি তথা বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতায় এটাকে সাফল্য হিসেবেই ধরে নিতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি তাতে ধারণা করছি খোলা পণ্যের (কার্গো) ওপর ভর করে ৬-৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়ে শেষ হবে অর্থবছর। এ চিত্র আবার বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে তুলনা করলে উৎসাহব্যঞ্জক। করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক বন্দর শ্রমিক সংকটে অপারেশনাল কার্যক্রম ছোট করে এনেছিল। কিংবা বন্ধই করে রাখতে হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের কোন সংকটই তৈরি হতে দেয়া হয়নি। বন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ ছিল না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরের আমদানির একটি বড় অংশ বাণিজ্যকেন্দ্রিক। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ভোক্তারা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কিংবা বিলাসবহুল পণ্য ক্রয় থেকে বিরত থেকেছেন। তবে স্ক্র্যাপ, পাথর ও কয়লা ছাড়াও সরকারি চলমান মেগা প্রকল্পের যন্ত্রপাতির আমদানিতে বাল্ক কার্গোর হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ফোরাম ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চিত্রটির একটি সামঞ্জস্য রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে এবারের লকডাউনে কারখানার কার্যক্রম যদি বন্ধ করে রাখা হতো, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেত। করোনাভাইরাসের কারণে ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে অনেক দেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তখন অনেক ক্ষেত্রেই ঋণপত্র খোলা হলেও দেশে পণ্য আসেনি। পরে অবশ্য সংকট কাটতে থাকে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এখন কনটেইনার থেকে তিন গুণ বেশি আসছে কনটেইনারবিহীন (বাল্ক) পণ্য। খাদ্যশস্যের প্রায় পুরোটাই আসছে খোলা পণ্যবাহী জাহাজে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশের উন্নতি হলে আমদানি-রপ্তানিতে আরও গতি আসবে।

প্রতি বছরই বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

ডেল্টা লাইফের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ

এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ৫৮.৩৬ শতাংশ

ছবি

টাকা পাচার রোধে ১৪টি আইন আসছে : অর্থমন্ত্রী

সূচকের সঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে শেয়ারবাজারে

বিএসআরএম’র মুনাফা বেড়েছে ৪০০ শতাংশ

ছবি

মহামারীতেও দেশে শিল্পায়নের ধারা চলমান : শিল্পমন্ত্রী

চার দফা দাবিতে সিলেটে বিড়ি ভোক্তাদের সমাবেশ

এডিপি বাস্তবায়ন মাত্র ৫৮.৩৬ শতাংশ

সামান্য উত্থানেই লেনদেন দুই হাজার কোটির ঘরে

১১ কোম্পানির শেয়ার বিক্রি করতে চায় না কোন বিনিয়োগকারী

ছবি

অর্ধেক আসন খালি রেখে কনভেনশন হল খোলার দাবি

‘উপায়’ এর মাধ্যমে কর্মীদের বেতন দেবে ফ্যালকন গ্রুপ

তামাকের ন্যায্যমূল্যসহ ৬ দফা দাবি তামাক চাষি ও ব্যবসায়ীদের

বানকো সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত ডিএসই’র

ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিতে বেপজা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মধ্যে সমঝোতা

ছবি

সূচকের মিশ্র প্রবণতায় লেনদেন চলছে

ছবি

বীজ বিভাগকে রক্ষা করতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

ছবি

কৃষিকে আধুনিক ও লাভজনক করতে নিরলস কাজ করছে সরকার: কৃষিমন্ত্রী

ছবি

অর্ধেক আসন খালি রেখে কমিউনিটি সেন্টার খোলার দাবি

সূচক ও লেনদেন দুটোই কমেছে শেয়ারবাজারে

বাংলাদেশে ভ্যাট নিবন্ধন নিল ফেইসবুক

ছবি

রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে কাজী ছানাউল হকের যোগদান

চূড়ান্ত উৎপাদন শুরু করেছে রিং সাইন টেক্সটাইল

বেপজা অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্প প্লট বরাদ্দ শুরু

খাবারের মান নিয়ন্ত্রণে দেড় কোটি টাকার বেশি জরিমানা

করোনায় অসচ্ছল মানুষের পাশে প্রাণ ইউএইচটি মিল্ক

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় তামাক চাষি-ব্যবসায়ীদের সংবাদ সম্মেলন

ওয়ালটন ওয়াশিং মেশিনের নতুন প্রোডাকশন লাইন উদ্বোধন

ছবি

লেনদেনের ধীরগতিতে নিম্নমুখী সূচক

ছবি

বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক দেনা ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে

ছবি

সিনজেনটা বাংলাদেশ লিমিটেডের ২০% লভ্যাংশ ঘোষণা

ছবি

আমরা সংসদে আছি শুধু ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলার জন্য: সাবের হোসেন

শেয়ারবাজারে ১২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার লেনদেন

ছবি

ব্যাংক হিসাবে চার্জমুক্ত থাকবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত

ছবি

বাজেটের সুফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল

tab

অর্থ-বাণিজ্য

বৈদেশিক বাণিজ্যে গতি ফিরছে চট্টগ্রাম বন্দরে

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১

করোনার প্রথম ধাক্কায় ব্যবসা-বাণিজ্য সংকুচিত হয়ে আসে, যার প্রভাব পড়ে চট্টগ্রাম বন্দরেও। তবে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কায় আগের মতো গতি হারায়নি চট্টগ্রাম বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। আমদানি-রপ্তানিতে গতি বাড়ায় ধাপে ধাপে উন্নতি হচ্ছে বন্দরের হ্যান্ডলিং কার্যক্রমেও। বিশেষ করে বাল্ক কার্গোর (খোলা পণ্য) ওঠানামায় লক্ষণীয় অগ্রগতি হতে পারে। অর্থবছর শেষে যেখানে ৭ শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি অর্জন হবে বলে ধারণা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

দেশে সমুদ্রপথে পণ্যের ৯৩ শতাংশই আমদানি-রপ্তানি হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। কনটেইনারবাহী জাহাজ ও খোলা পণ্যবাহী বাল্ক কার্গো এ দুই ধরনের জাহাজে করে আসা-যাওয়া পণ্য ওঠা-নামার ভিত্তিতে বন্দরের প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করা হয়। সিমেন্ট, ইস্পাতসহ খাদ্যশস্য ও সাধারণ পণ্য আমদানি হয় বাল্ক কার্গো বা খোলা পণ্যবাহী জাহাজে। অন্যদিকে শিল্প-কারখানার কাঁচামাল, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও বাণিজ্যিক পণ্য আমদানি হয় কনটেইনারে করে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ছয়টি জেটি দিয়ে চলছে বাল্ক কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম। বেশির ভাগ বাল্ক কার্গো বহির্নোঙরে হ্যান্ডলিং হয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যায়। চট্টগ্রাম বন্দরের হিসাবে ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ৯ কোটি ৬৭ লাখ থেকে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন খোলা পণ্য (কার্গো) ওঠা-নামা হয়েছে বন্দরে।

এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ৮ কোটি ৯৮ লাখ ২৬ হাজার ১১৫ টন। এ হিসাবে ১০ মাসে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশ। বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন সংকটকালীন সময়েও বাল্ক কার্গো প্রবৃদ্ধিতে মূলত অবদান রেখেছে স্ক্র্যাপ, পাথর ও কয়লা এ তিন পণ্য। ২০১৯-২০ অর্থবছরের পুরো সময়ে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন খোলা পণ্য (কার্গো) ওঠা-নামা হয়েছে বন্দরে। এর আগের অর্থবছরে যা ছিল ৯ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৫ টন। এ হিসাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।

অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শিল্পপণ্য আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও কমার্শিয়াল আমদানি কমেছে। এতে কনটেইনারের হ্যান্ডলিং কার্যক্রম প্রায় গত অর্থবছরের কাছাকাছিই রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) ২০ ফুট দীর্ঘ হিসেবে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে ২৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৭৬ একক। আগের অর্থবছরে একই সময়ে যা ছিল ২৫ লাখ ৮০ হাজার ১৯১ একক। মাসভিত্তিক হিসাবে এখন পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সর্বোচ্চ হ্যান্ডলিং হয়েছিল জানুয়ারিতে ২ লাখ ৮০ হাজার ২২২ একক। সবচেয়ে কম ২ লাখ ৩১ হাজার ৬৬৩ একক হ্যান্ডলিং হয়েছে অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের পুরো সময়ে এ বন্দর ২০ ফুট দীর্ঘ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ একক। আগের অর্থবছরে যা ছিল ২৯ লাখ ১৯ হাজার ২৩ একক। অর্থাৎ তখন কনটেইনারবাহী পণ্যের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

জার্মানির হামবুর্গ পোর্ট কনসালট্যান্সি (এইচপিসি) প্রণীত চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ বছরমেয়াদি মহাপরিকল্পনায় প্রবৃদ্ধি ক্ষেত্রে ন্যূনতম, মধ্যম ও সর্বোচ্চ এ তিনভাবে ধারণা দেয়া হয়েছে। এতে ন্যূনতম হলে ৫ শতাংশ, মধ্যম ৭ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৯ শতাংশ। যদি দেশ স্থিতিশীল অবস্থায় থাকে, অর্থাৎ বড় কোন বিপর্যয় না ঘটে, তবে ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হবে। আর যদি দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা কিছুটা কমে আসে, সেক্ষেত্রে তা মধ্যম অর্থাৎ ৭ শতাংশে নেমে আসবে। তবে যদি বড় আকারে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে ঋণাত্মক প্রভাব, রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতা, সুশাসনের অভাব প্রভৃতি বিষয় ঘটে, তবে তা ন্যূনতম অর্থাৎ ৫ শতাংশে নেমে আসবে।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, কনটেইনার ও কনটেইনারবিহীন (বাল্ক কার্গো) দুই ধরনের পণ্যই ওঠানো-নামানো হয়। অর্থবছর শেষে বন্দরে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ বা এর কাছাকাছি হওয়ার কথা। এমন হলে করোনায় আমদানি-রপ্তানি তথা বৈশ্বিক ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতায় এটাকে সাফল্য হিসেবেই ধরে নিতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, এখন পর্যন্ত যে পরিস্থিতি তাতে ধারণা করছি খোলা পণ্যের (কার্গো) ওপর ভর করে ৬-৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দিয়ে শেষ হবে অর্থবছর। এ চিত্র আবার বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে তুলনা করলে উৎসাহব্যঞ্জক। করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের অনেক বন্দর শ্রমিক সংকটে অপারেশনাল কার্যক্রম ছোট করে এনেছিল। কিংবা বন্ধই করে রাখতে হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দরে এ ধরনের কোন সংকটই তৈরি হতে দেয়া হয়নি। বন্দর অপারেশনাল কার্যক্রম এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ ছিল না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দরের আমদানির একটি বড় অংশ বাণিজ্যকেন্দ্রিক। কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে ভোক্তারা অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ কিংবা বিলাসবহুল পণ্য ক্রয় থেকে বিরত থেকেছেন। তবে স্ক্র্যাপ, পাথর ও কয়লা ছাড়াও সরকারি চলমান মেগা প্রকল্পের যন্ত্রপাতির আমদানিতে বাল্ক কার্গোর হ্যান্ডলিং ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহারকারী ফোরাম ও চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম এ প্রসঙ্গে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের চিত্রটির একটি সামঞ্জস্য রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে এবারের লকডাউনে কারখানার কার্যক্রম যদি বন্ধ করে রাখা হতো, পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেত। করোনাভাইরাসের কারণে ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে অনেক দেশের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। তখন অনেক ক্ষেত্রেই ঋণপত্র খোলা হলেও দেশে পণ্য আসেনি। পরে অবশ্য সংকট কাটতে থাকে।

দেশে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর চৌধুরী বলেন, পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এখন কনটেইনার থেকে তিন গুণ বেশি আসছে কনটেইনারবিহীন (বাল্ক) পণ্য। খাদ্যশস্যের প্রায় পুরোটাই আসছে খোলা পণ্যবাহী জাহাজে। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশের উন্নতি হলে আমদানি-রপ্তানিতে আরও গতি আসবে।

back to top