alt

অর্থ-বাণিজ্য

এবার অস্থির পেঁয়াজ বাজার

ব্যবসায়ীদের অজুহাত আমদানি বন্ধ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক : শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২

শুক্রবার কাওরান বাজারে ট্রাক থেকে নামছে পেঁয়াজ

আগামী তিন মাসের চাহিদার সমান পেঁয়াজ মজুদ থাকলেও আমদানি বন্ধের অজুহাতে ফের দাম বাড়ালো ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। ঈদের আগে থেকেই ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নাভিশ্বাস উঠছিল সাধারণ জনগণের। এবার সেই নাভিশ্বাসে ঘি ঢাললো পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আমদানি বন্ধের কারণে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, আমদানির অজুহাত দিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। সাধারণ জনগণকে তারা জিম্মি করে রেখেছেন কিন্তু সরকার তাদের কিছুই করতে পারছে না।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আমদানি বন্ধের ঘোষণার পর থেকে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। আর পাড়া-মহল্লায় প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা, যা সোমবারও (৯ মে) বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা দরে।

একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। যেখানে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন ১৯৮ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৯৮৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৮০ টাকা এবং পাম অয়েলের দাম ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মজুদ করা প্রচুর সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় জরিমানা ও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, দেশের কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশের বাজারে যে পেঁয়াজ আছে তাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাবে। তাই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধের সুযোগ নিয়ে বাজারে নৈরাজ্য তৈরি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ মের পর নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির কোন অনুমতিপত্র দিচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে ঈদ উপলক্ষে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ১ থেকে ৬ মে পর্যন্ত ভারত থেকে কোন পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসেনি।

শুক্রবার (১৩ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে পাঁচটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, একেক দোকানে একেক দাম। বিক্রেতারা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের মধ্যে ভালো-খারাপ রয়েছে। যেটা একটু ভালো মানের সেটা বিক্রি করা হচ্ছে ৪৫ টাকা। আর একটু কম মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা।

কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, পাল্লাপ্রতি দাম ২০০ টাকা। আবুল হোসেন নামের একজন পেঁয়াজ বিক্রেতা জানান, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৪০ টাকায়। দুদিন আগেও এ পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৩০-৩৫ টাকায়। সরকার নতুন করে পেঁয়াজের আইপি (আমদানির অনুমতিপত্র) দিচ্ছে না। তাই পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি স্থলবন্দরের কাছাকাছি যে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা রয়েছেন তারা মজুদ করে এখন দাম বাড়াচ্ছেন।

পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। একজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি বাজার কেজিপ্রতি ৩২ টাকা। আগামী সপ্তাহে আরও ২-৩ টাকা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের এত দাম হওয়ার কথা না। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী ভোক্তাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯ সালের আগ পর্যন্ত দেশের চাহিদা মেটাতে গড়ে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো। এর ৯০ শতাংশই আসত ভারত থেকে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দেশের বাজারে দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। ওই বছরের নভেম্বর নাগাদ পেঁয়াজের দাম ২৮০ টাকায় ওঠে। বাজার সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে আকাশপথে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে হয় সরকারকে। পরের বছর দাম কমলেও ৭০ টাকার নিচে নামেনি খুচরা বাজারে। এই বাড়তি দামের কিছুটা দেশের কৃষকরাও পান। গত দুই বছর কৃষক কেজিতে ৫০ টাকা দাম পেয়েছেন বলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে। তাদের হিসাবে পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ টাকা। তাই ২৫ টাকায় বিক্রি করতে পারলে কৃষকের লাভ থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। একইসঙ্গে পেঁয়াজ আমদানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ। কৃষক যাতে দাম ভালো পান, সেজন্য উৎপাদন মৌসুমে আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। দেখা গেছে, ভালো দাম পেয়ে কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হওয়ায় গত অর্থবছরে এক লাফে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছিল ৮ লাখ টন। এর পাশাপাশি উৎপাদন-পরবর্তী লোকসান কমাতে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। অনাবাদি ও চরের জমি পেঁয়াজ চাষে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভালো বীজ সহজলভ্য করতে হবে এবং উচ্চফলনশীল জাতগুলোর চাষ বাড়াতে হবে।

তবে দেশে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে। এরপরও বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করছে। কৃষি বিপণন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে আট থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হতো। কিন্তু গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৫.৫২ লাখ মেট্রিক টন। তার আগের বছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ৫.৭১ টন। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বছরে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করে। আর মালয়েশিয়া করে ৫.০৫ লাখ টন এবং যুক্তরাজ্য করে ৩.৫৯ লাখ টন। সে হিসাবে বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানিতে এখন শীর্ষ দেশ।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২০-২১ সালে পেঁয়াজের চাহিদা ছিল ৩৫ লাখ টন। চলতি ২০২১-২২ সালের জন্য চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টন। আগামী বছর এই চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৩৬ লাখ টন। এর মধ্যে রমজান মাসে পেঁয়াজের চাহিদা থাকে তিন লাখ টনের ওপরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ৩৩.৬২ লাখ টন। পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি ২৫-৩০ শতাংশ। সে হিসাবে নিট উৎপাদন প্রায় ২৩.৫৩ লাখ টন। রান্নার সময় ফেলে দেয়া অংশ ও নানাভাবে হওয়া অপচয় বাদ দিলে দেশে নিট চাহিদা ২৬ লাখ ৬১ হাজার টন। অর্থাৎ দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি আড়াই থেকে তিন লাখ টন। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে পেঁয়াজ চাষের জমির পরিমাণ ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০১১-১২ সালে দেশে ১.৮০ লাখ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছিল। সর্বশেষ গত অর্থবছর দেশে ২.৫৩ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন কৃষকরা।

এদিকে ২০২০ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করে। ২০২১-২৩ সালের এই রোডম্যাপে পেঁয়াজ ঘাটতি ১১ লাখ টন ধরে উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করে। তাতে পেঁয়াজ ঘাটতির জন্য মানসম্মত বীজের অভাবকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশে মোট এক হাজার ১০০ টন বীজের প্রয়োজন। সরকারিভাবে পাঁচ-ছয় টন, বেসরকারিভাবে ৫০-৬০ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হয়। বাকিটা কৃষক উৎপাদন করেন, যা পুরোপুরি মানসম্মত নয়।

আজ শনিবার কিছু ব্যাংক খোলা থাকবে

ছবি

সবজির বাজার চড়া, বেড়েছে আটার দাম

ঋণের শর্ত সহজ করার দাবি নারী উদ্যোক্তাদের

ছবি

বাংলাদেশী উদ্ভাবন চালু হলো ইয়েমেনে

জাতীয় প্রেসক্লাবে পাঁচ দফা দাবিতে বিড়ি শ্রমিক সমাবেশ

ওয়েবওএস টিভির লাইসেন্সড ওইএম ম্যানুফ্যাকচারার হলো ওয়ালটন

অফিসিয়াল ফেইসবুক চালু করল বিএসইসি

পরিবেশবান্ধব পোশাক কারখানা এখন ১৬১

বাংলাদেশে খাদ্য সংরক্ষণ খাতে বিনিয়োগে করতে চায় সার্বিয়া

সার্কিট ব্রেকারের জন্য পতন ঠেকলো শেয়ারবাজারে

রেমিট্যান্সে পাঁচ শতাংশ প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব

ছবি

পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে বাজেটে

ছবি

সোনার দাম কমলো ভরিতে ২৯১৬ টাকা

ছবি

ডলারের একক দর বেঁধে দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

সূচক বেড়ে চলছে লেনদেন

ছবি

রাজস্ব আদায়ে ১০ মাসে ৩১ শতাংশ পিছিয়ে এনবিআর

পতনের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে শেয়ারবাজার

ছবি

আনারসের পাতা থেকে তৈরি হচ্ছে সুতা; রপ্তানি হচ্ছে নেদারল্যান্ডসে

বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে ব্রোকারেজ ব্যবসায় আসছে শ্রীলঙ্কান কোম্পানি

অফিসিয়াল ফেইসবুক পেজ খুলবে বিএসইসি

বহুজাতিক কোম্পানির ‘চক্রান্ত’ প্রতিহত করতে বিড়ি শ্রমিকদের সমাবেশ

ছবি

বাংলাদেশের মান-সম্মান বিশ্বে বেড়েছে: অর্থমন্ত্রী

বিক্রয়চাপে ২৫৩ প্রতিষ্ঠানের দর পতন

অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নেয়া ঋণে সুদ মওকুফ নয়

ছবি

বৈদেশিক মুদ্রায় চাপ কমাতে শতাধিক বিলাস পণ্যে শুল্কারোপ

একদিন পরই ফের পতন শেয়ারবাজারে

ছবি

১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে ফার্স্ট লিড সিকিউরিটিজ

ব্যবসা-বাণিজ্য নতুন সম্ভাবনা খুঁজতে পশ্চিমবঙ্গ সফরে ডিসিসিআই প্রতিনিধিদল

দেশে প্রথম ‘কিচেন অ্যান্ড বাথ এক্সপো’ শুরু ২ জুন

সূচক বাড়লেও লেনদেনে ধীরগতি

ছবি

নতুন নির্দেশানা :‘বিশেষ প্রয়োজনে’ বিদেশ যেতে পারবেন ব্যাংকাররাও

ছবি

রেমিট্যান্সে প্রণোদনায় এখন নেই কাগজপত্রের ঝামেলা

ছবি

টাকার মান কমল আরও ৪০ পয়সা

পুঁজিবাজারে প্রথম ঘণ্টায় সূচক বাড়লো ১১৮ পয়েন্ট

দুই জাহাজে ভারত থেকে এলো লাখ টন গম

২০ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব অর্থনীতি সমিতির

tab

অর্থ-বাণিজ্য

এবার অস্থির পেঁয়াজ বাজার

ব্যবসায়ীদের অজুহাত আমদানি বন্ধ

অর্থনৈতিক বার্তা পরিবেশক

শুক্রবার কাওরান বাজারে ট্রাক থেকে নামছে পেঁয়াজ

শুক্রবার, ১৩ মে ২০২২

আগামী তিন মাসের চাহিদার সমান পেঁয়াজ মজুদ থাকলেও আমদানি বন্ধের অজুহাতে ফের দাম বাড়ালো ব্যবসায়ীরা। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এই পণ্যটির দাম বেড়েছে প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা। ঈদের আগে থেকেই ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে নাভিশ্বাস উঠছিল সাধারণ জনগণের। এবার সেই নাভিশ্বাসে ঘি ঢাললো পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আমদানি বন্ধের কারণে পেঁয়াজের সংকট রয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, আমদানির অজুহাত দিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াচ্ছে। সাধারণ জনগণকে তারা জিম্মি করে রেখেছেন কিন্তু সরকার তাদের কিছুই করতে পারছে না।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, আমদানি বন্ধের ঘোষণার পর থেকে দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ১৫-২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বড় বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা। আর পাড়া-মহল্লায় প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে ৫০ টাকা, যা সোমবারও (৯ মে) বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা দরে।

একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের ভোজ্যতেলের নতুন দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। যেখানে বোতলজাত প্রতি লিটার সয়াবিন ১৯৮ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৯৮৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ১৮০ টাকা এবং পাম অয়েলের দাম ১৭২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে মজুদ করা প্রচুর সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় জরিমানা ও কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছে, দেশের কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশের বাজারে যে পেঁয়াজ আছে তাতে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যাবে। তাই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কোন সুযোগ নেই। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী আমদানি বন্ধের সুযোগ নিয়ে বাজারে নৈরাজ্য তৈরি করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ৫ মের পর নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির কোন অনুমতিপত্র দিচ্ছে না বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে ঈদ উপলক্ষে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় ১ থেকে ৬ মে পর্যন্ত ভারত থেকে কোন পেঁয়াজ বাংলাদেশে আসেনি।

শুক্রবার (১৩ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সেখানে পাঁচটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, একেক দোকানে একেক দাম। বিক্রেতারা বলছেন, দেশি পেঁয়াজের মধ্যে ভালো-খারাপ রয়েছে। যেটা একটু ভালো মানের সেটা বিক্রি করা হচ্ছে ৪৫ টাকা। আর একটু কম মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা।

কারওয়ান বাজারে পেঁয়াজের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, পাল্লাপ্রতি দাম ২০০ টাকা। আবুল হোসেন নামের একজন পেঁয়াজ বিক্রেতা জানান, দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৪০ টাকায়। দুদিন আগেও এ পেঁয়াজ বিক্রি করছি ৩০-৩৫ টাকায়। সরকার নতুন করে পেঁয়াজের আইপি (আমদানির অনুমতিপত্র) দিচ্ছে না। তাই পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি স্থলবন্দরের কাছাকাছি যে পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরা রয়েছেন তারা মজুদ করে এখন দাম বাড়াচ্ছেন।

পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন শ্যামবাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। একজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি বাজার কেজিপ্রতি ৩২ টাকা। আগামী সপ্তাহে আরও ২-৩ টাকা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের এত দাম হওয়ার কথা না। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী ভোক্তাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছে।

বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০১৯ সালের আগ পর্যন্ত দেশের চাহিদা মেটাতে গড়ে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি করতে হতো। এর ৯০ শতাংশই আসত ভারত থেকে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে হঠাৎ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিলে দেশের বাজারে দাম হু হু করে বাড়তে থাকে। ওই বছরের নভেম্বর নাগাদ পেঁয়াজের দাম ২৮০ টাকায় ওঠে। বাজার সামাল দিতে তাৎক্ষণিকভাবে আকাশপথে বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আনতে হয় সরকারকে। পরের বছর দাম কমলেও ৭০ টাকার নিচে নামেনি খুচরা বাজারে। এই বাড়তি দামের কিছুটা দেশের কৃষকরাও পান। গত দুই বছর কৃষক কেজিতে ৫০ টাকা দাম পেয়েছেন বলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর জানিয়েছে। তাদের হিসাবে পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ প্রায় ২০ টাকা। তাই ২৫ টাকায় বিক্রি করতে পারলে কৃষকের লাভ থাকে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, পেঁয়াজ উৎপাদনে বাংলাদেশ এখন বিশ্বে তৃতীয়। একইসঙ্গে পেঁয়াজ আমদানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ। কৃষক যাতে দাম ভালো পান, সেজন্য উৎপাদন মৌসুমে আমদানি বন্ধ রাখতে হবে। দেখা গেছে, ভালো দাম পেয়ে কৃষক পেঁয়াজ চাষে আগ্রহী হওয়ায় গত অর্থবছরে এক লাফে পেঁয়াজের উৎপাদন বেড়েছিল ৮ লাখ টন। এর পাশাপাশি উৎপাদন-পরবর্তী লোকসান কমাতে কৃষকদের সচেতন করতে হবে। অনাবাদি ও চরের জমি পেঁয়াজ চাষে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভালো বীজ সহজলভ্য করতে হবে এবং উচ্চফলনশীল জাতগুলোর চাষ বাড়াতে হবে।

তবে দেশে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ ধীরে ধীরে কমছে। এরপরও বাংলাদেশ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আমদানি করছে। কৃষি বিপণন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশে আট থেকে ১০ লাখ টন পেঁয়াজ আমদানি হতো। কিন্তু গত অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৫.৫২ লাখ মেট্রিক টন। তার আগের বছর ২০১৯-২০ অর্থবছরে আমদানি করা হয় ৫.৭১ টন। অথচ যুক্তরাষ্ট্র বছরে পাঁচ লাখ ৪৩ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করে। আর মালয়েশিয়া করে ৫.০৫ লাখ টন এবং যুক্তরাজ্য করে ৩.৫৯ লাখ টন। সে হিসাবে বাংলাদেশ পেঁয়াজ আমদানিতে এখন শীর্ষ দেশ।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০২০-২১ সালে পেঁয়াজের চাহিদা ছিল ৩৫ লাখ টন। চলতি ২০২১-২২ সালের জন্য চাহিদা নিরূপণ করা হয়েছে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টন। আগামী বছর এই চাহিদা দাঁড়াতে পারে ৩৬ লাখ টন। এর মধ্যে রমজান মাসে পেঁয়াজের চাহিদা থাকে তিন লাখ টনের ওপরে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্যানুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদন হয় ৩৩.৬২ লাখ টন। পেঁয়াজের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি ২৫-৩০ শতাংশ। সে হিসাবে নিট উৎপাদন প্রায় ২৩.৫৩ লাখ টন। রান্নার সময় ফেলে দেয়া অংশ ও নানাভাবে হওয়া অপচয় বাদ দিলে দেশে নিট চাহিদা ২৬ লাখ ৬১ হাজার টন। অর্থাৎ দেশে পেঁয়াজের ঘাটতি আড়াই থেকে তিন লাখ টন। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে পেঁয়াজ চাষের জমির পরিমাণ ৪১ শতাংশ বেড়েছে। ২০১১-১২ সালে দেশে ১.৮০ লাখ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছিল। সর্বশেষ গত অর্থবছর দেশে ২.৫৩ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেন কৃষকরা।

এদিকে ২০২০ সালে কৃষি মন্ত্রণালয় পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরি করে। ২০২১-২৩ সালের এই রোডম্যাপে পেঁয়াজ ঘাটতি ১১ লাখ টন ধরে উৎপাদন বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ করে। তাতে পেঁয়াজ ঘাটতির জন্য মানসম্মত বীজের অভাবকে বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। দেশে মোট এক হাজার ১০০ টন বীজের প্রয়োজন। সরকারিভাবে পাঁচ-ছয় টন, বেসরকারিভাবে ৫০-৬০ টন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদন করা হয়। বাকিটা কৃষক উৎপাদন করেন, যা পুরোপুরি মানসম্মত নয়।

back to top