alt

অর্থ-বাণিজ্য

বিপিসির চেয়ারম্যান জানালেন

অকটেনে লাভ লিটার ২৫ টাকা, ডিজেলে লোকসান ৬ টাকা,

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২

বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ জানালেন, অকটেনে তাদের লাভ লিটার ২৫ টাকা, ডিজেলে লোকসান ৬ টাকা। জ্বালানির দাম ব্যাপক বাড়ানোর পর এই লাভ-লোকসানের হিসাব দিলেন তিনি।

বুধবার এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। ব্রিফিংয়ে, তিনি আভাস দেন: সরকারি দরে ডলার কিনলে এবং জুলাই মাসের মতো বিক্রি হলে শুধু ডিজেল-অকটেন থেকে প্রতি মাসে বিপিসির লাভ থাকবে ২০৫ কোটি টাকা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গত সাত বছরে বিপিসির বিপুল মুনাফা নিয়ে আলোচনার মধ্যে বুধবার ঢাকার কারওয়ান বাজার বিপিসির ঢাকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

গত শনিবার থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২.৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১১৪ টাকা। পেট্রোলের দাম ৫১.১৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটারের দাম হয়েছে ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম বেড়েছে ৫১.৬৮ শতাংশ, প্রতি লিটার কিনতে হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন নিম্নমুখী তখন কেন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কেন- এ প্রশ্নে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “প্লাটসের (জ্বালানি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান) হিসাবে, পহেলা অগাস্ট প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের দাম ছিল ১৩২ ডলার ৭৩ সেন্ট। কমে সেটা ৮ অগাস্ট ১১৮ ডলার ৫০ সেন্ট। গড়ে ১২৬ ডলার ৫৯ সেন্ট। এর সঙ্গে প্রতি ব্যারেলে ১১ ডলার প্রিমিয়াম, ট্যাক্স-ভ্যাট, ডিলার কমিশন যোগ হবে। “এই আটদিনের তথ্যে… ছয় তারিখে যখন মূল্য নির্ধারিত হয়, তখন গত জুলাই মাসের গড় হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আটদিনের গড় হিসাব ধরলে আমার প্রতি লিটার (ডিজেল) পড়ে ১২০ টাকা ১৬ পয়সা। এই হিসাবে আমাদের এখনও ৬ টাকা লোকসান আছে।”

পেট্রোল ও অকটেনে লাভ কত হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই আট দিনের গড় যদি করি, ২৫ টাকার মতো লাভ থাকছে অকটেনে। যেহেতু পেট্রোল ৫ টাকা কম রাখছি। সেহেতু কিছুটা কম হলেও হতে পারে।”

দেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেলের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন ধরনের ৬৩ লাখ মেট্রিক টন তেল বিক্রি করেছে বিপিসি। এর মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই ডিজেল। অকটেন ৫ শতাংশ এবং পেট্রোল ৬ শতাংশের মতো।

বিপিসির ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে আজাদ বলেন, “যদি ডিজেল ও অকটেন জুলাই মাসের পরিমাণই বিক্রি হয়, তাহলে ডলারের সরকারি হিসাব হলে আমার ২০৫ কোটি টাকা মুনাফা থাকবে মাসে। আর যদি ডলার এখনকার মার্কেট রেটে যায়, তাহলে আমার লোকসান হয়ে যায় ৩৯ কোটি টাকা।”

খোলা বাজারে ডলারের দাম বেশি হলেও বিপিসি তো ডলার সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই কেনে- একথা বলা হলে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “না, ডলার তো আমি অলরেডি মার্কেট রেটে পেমেন্ট করছি।”

এরকম একটা নাজুক পরিস্থিতিতে ২০০ কোটি টাকা মুনাফার পূর্বাভাস কীভাবে দিচ্ছেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি তো আপনাদের বললাম, আমার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দরকার।

“আপনারাই ব্রিফিং করেছেন, পেট্রোল-অকটেন আমাদের নিজস্ব পণ্য, তারপরও দাম বাড়াতে হলো কেন”- এ প্রশ্ন করা হলে বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, “পেট্রোল জিনিসটাও কিন্তু ক্রুড অয়েল থেকে তৈরি হয়। পেট্রোল সেটা প্রাইভেট সাপ্লাই তারা দেয়, আর আমাদের ইস্টার্ণ রিফাইনারিতে তৈরি হয়। এটার পেছনে যে খরচ, সেটা ক্রুড অয়েল। ক্রুড অয়েল আমদানির সঙ্গে ট্যাক্স, ভ্যাট সব দিয়ে আমাকে আমদানি করতে হয়। এটা প্রায় কাছাকাছি খরচ পড়ে।”

তিনি বলেন, “পেট্রোল-অকটেন কাছাকাছি মূল্যে বিক্রি করতে হয়। কারণ দামের বেশি হেরফের হলে একটাকে অন্যটা বলে চালিয়ে দেয়। এটা অতীতে হয়েছে। ক্রুড অয়েল কিন্তু স্থানীয়ভাবে হয় না। যেখানেই করেন ক্রুড অয়েল তো আনতে হয়।”

তিনি বলেন, “অনেকেই যেটা বলছেন যে, বিপিসির এফডিআরের টাকা এত বেশি যে সে টাকা দিয়েই হয়ত আরও কয়মাস চলতে পারতো। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে আমরা এফডিআরের টাকা কোথায় শিফট করেছি? অনেকে বিপিসিকে ধনী প্রতিষ্ঠান বলতে চেয়েছেন। আমার আর্থিক অবস্থা বলছে, আমি কতটুকু ধনী। সেটার উত্তর মনে হয় আপনারা পেয়েছেন।”

বিপিসির আয়ব্যয়ের হিসেব তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিপিসি যে ৪২ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, এরমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়, সরকারকে লভ্যাংশ ও উদ্বৃত্ত তহবিল হিসেবে দেওয়া, এনবিআরের বকেয়া পরিশোধ, মূলধনী বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। অবশিষ্ট থাকে ২২ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রভিশনাল হিসাব অনুযায়ী, বিপিসির লোকসান প্রায় ৫ হাজার ৯১০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর হতে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর এই ১৪ বছরে বিপিসির লোকসান হয় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে বিপিসিকে দেয় ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। বাকি ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকা বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমম্বয় করা হয়।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধ করার জন্য বিপিসিকে দুই মাসের জ্বালানি তেলের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ (২৫% বৃদ্ধিসহ) চলতি মূলধন হিসেবে রাখতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিপিসির মূলধনও বাড়াতে হয়। ২০২০-২১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল তুলনামূলক ‘সহনশীল’ থাকায় ওই সময় বিপিসির ১২ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন রাখা হত।

পরে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসির চলতি মূলধনের উপর চাপ পড়ে জানিয়ে আজাদ বলেন, তেলের মূল্য সমন্বয়ের আগে তেল বিক্রি ও অন্যান্য খাতে বিপিসির মাসিক গড় জমা ছিল সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি বছরের জুনে ৭ হাজার ১৭১ কোটি, জুলাইয়ে ১০৩১২ কোটি টাকা পেমেন্টে করা হয়েছে এবং অগাস্টে ৯ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা পেমেন্ট প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এজন্য বিপিসির ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন প্রয়োজন বলে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান। এদিকে ফেব্রয়ারি থেকে জুলাই সময়ে বিপিসির অনেক এফডিআর নগদায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সেই কারণে ইস্টার্ণ রিফাইনারি-২ তে রাখা ৭ হাজার ৩৬১ কোটির মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা নগদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিপিসি ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

ছবি

ইভ্যালির দেনা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা: শামীমা নাসরিন

ছবি

পরীক্ষামূলকভাবে সরকারি সিকিউরিটিজের লেনদেন শুরু ১০ অক্টোবর

ছবি

জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৬.১ শতাংশ: বিশ্ব ব্যাংক

মিউচ্যুয়াল ফান্ডে দারুণ বিনিয়োগ

খুব সহজেই ইভ্যালিতে বিনিয়োগ আসা সম্ভব : শামীমা নাসরিন

সূচক বাড়লেও টাকার পরিমাণে লেনদেন কমেছে

ছবি

টাকা এক জায়গায় বিনিয়োগ করবেন না : ড. রুমানা ইসলাম

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে এনবিআর-এর পাওনা প্রায় ৪৬৮ কোটি টাকা

ছবি

তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত: দাম বাড়বে

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছে

ছবি

ডিজেলের দর পুনর্নির্ধারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বিজিএমইএর চিঠি

ছবি

সেপ্টেম্বরে ইএফডিতে ভ্যাট এলো ৩০ কোটি টাকা

শীঘ্রই ঘুরে দাঁড়াবে রপ্তানি আয় : পরিকল্পনামন্ত্রী

আইপিওতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ

ছবি

আইপিওতে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে ডিএসই

কিশোরগঞ্জে মাসব্যাপী বাণিজ্যমেলা উদ্বোধন

ছবি

দুই মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৪৫৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

রেগুলেটর হিসেবে আমাদের কাজই ক্যাপিটাল মার্কেটকে সহায়তা করা : গভর্নর

সূচকের পতন, লেনদেনও কমেছে

স্বীকৃতি পেল আরও দুটি কারখানা, সবুজ কারখানার শীর্ষে বাংলাদেশ

ছবি

সয়াবিন তেলের দাম লিটারে কমল ১৪ টাকা

ছবি

রবির নতুন সিইও রাজীব শেঠি

ভোজ্য তেলে ভ্যাট মওকুফ : আরো ৯ মাস চায় বানিজ্য মন্ত্রনালয়

চিনির দাম বাড়াতে চায় ব্যবসায়ীরা

ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা জানালেন, বাংলাদেশে উদ্যোক্তাদের ভোগান্তির শেষ নেই

ছবি

বিদ্যুতের দাম বাড়ছে, ঘোষণা আগামী সপ্তাহে

ছবি

কমলো রপ্তানি আয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মূল্যস্ফীতির প্রভাব

ছবি

বিএমসিসিআই প্রতিনিধিদলের সাথে মালয়েশিয়ার পেনাং রাজ্যের গভর্নরের বৈঠক

ছবি

৭ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন রেমিট্যান্স

ছবি

রিজার্ভ চুরি: তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে তলব

ছবি

রপ্তানিতে যুদ্ধের ধাক্কা, সেপ্টেম্বরে কমেছে ৬.২৫ শতাংশ

ছবি

১২ কেজি এলপিজির দাম কমলো ৩৫ টাকা

ছবি

১০ মিউচ্যুয়াল ফান্ডের নগদ লভ্যাংশ প্রেরণ

ছবি

উঠে গেল ভোজ্যতেলের ভ্যাট মওকুফ সুবিধা

ছবি

ইউরোপে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৪৫ শতাংশ

ছবি

আগস্টে সঞ্চয়পত্র বিক্রি মাত্র আট কোটি টাকার

tab

অর্থ-বাণিজ্য

বিপিসির চেয়ারম্যান জানালেন

অকটেনে লাভ লিটার ২৫ টাকা, ডিজেলে লোকসান ৬ টাকা,

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট ২০২২

বিপিসির চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ জানালেন, অকটেনে তাদের লাভ লিটার ২৫ টাকা, ডিজেলে লোকসান ৬ টাকা। জ্বালানির দাম ব্যাপক বাড়ানোর পর এই লাভ-লোকসানের হিসাব দিলেন তিনি।

বুধবার এক প্রেসব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন তিনি। ব্রিফিংয়ে, তিনি আভাস দেন: সরকারি দরে ডলার কিনলে এবং জুলাই মাসের মতো বিক্রি হলে শুধু ডিজেল-অকটেন থেকে প্রতি মাসে বিপিসির লাভ থাকবে ২০৫ কোটি টাকা।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর গত সাত বছরে বিপিসির বিপুল মুনাফা নিয়ে আলোচনার মধ্যে বুধবার ঢাকার কারওয়ান বাজার বিপিসির ঢাকা অফিসে সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি।

গত শনিবার থেকে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম ৪২.৫ শতাংশ বেড়ে হয়েছে প্রতি লিটার ১১৪ টাকা। পেট্রোলের দাম ৫১.১৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি লিটারের দাম হয়েছে ১৩০ টাকা। আর অকটেনের দাম বেড়েছে ৫১.৬৮ শতাংশ, প্রতি লিটার কিনতে হচ্ছে ১৩৫ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম যখন নিম্নমুখী তখন কেন দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কেন- এ প্রশ্নে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “প্লাটসের (জ্বালানি সংক্রান্ত তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান) হিসাবে, পহেলা অগাস্ট প্রতি ব্যারেল পরিশোধিত তেলের দাম ছিল ১৩২ ডলার ৭৩ সেন্ট। কমে সেটা ৮ অগাস্ট ১১৮ ডলার ৫০ সেন্ট। গড়ে ১২৬ ডলার ৫৯ সেন্ট। এর সঙ্গে প্রতি ব্যারেলে ১১ ডলার প্রিমিয়াম, ট্যাক্স-ভ্যাট, ডিলার কমিশন যোগ হবে। “এই আটদিনের তথ্যে… ছয় তারিখে যখন মূল্য নির্ধারিত হয়, তখন গত জুলাই মাসের গড় হিসাবে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আটদিনের গড় হিসাব ধরলে আমার প্রতি লিটার (ডিজেল) পড়ে ১২০ টাকা ১৬ পয়সা। এই হিসাবে আমাদের এখনও ৬ টাকা লোকসান আছে।”

পেট্রোল ও অকটেনে লাভ কত হচ্ছে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এই আট দিনের গড় যদি করি, ২৫ টাকার মতো লাভ থাকছে অকটেনে। যেহেতু পেট্রোল ৫ টাকা কম রাখছি। সেহেতু কিছুটা কম হলেও হতে পারে।”

দেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে ডিজেলের ব্যবহারই সবচেয়ে বেশি। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন ধরনের ৬৩ লাখ মেট্রিক টন তেল বিক্রি করেছে বিপিসি। এর মধ্যে প্রায় ৭৩ শতাংশই ডিজেল। অকটেন ৫ শতাংশ এবং পেট্রোল ৬ শতাংশের মতো।

বিপিসির ভবিষ্যৎ মুনাফা নিয়ে আজাদ বলেন, “যদি ডিজেল ও অকটেন জুলাই মাসের পরিমাণই বিক্রি হয়, তাহলে ডলারের সরকারি হিসাব হলে আমার ২০৫ কোটি টাকা মুনাফা থাকবে মাসে। আর যদি ডলার এখনকার মার্কেট রেটে যায়, তাহলে আমার লোকসান হয়ে যায় ৩৯ কোটি টাকা।”

খোলা বাজারে ডলারের দাম বেশি হলেও বিপিসি তো ডলার সরকারের নির্ধারিত মূল্যেই কেনে- একথা বলা হলে বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন, “না, ডলার তো আমি অলরেডি মার্কেট রেটে পেমেন্ট করছি।”

এরকম একটা নাজুক পরিস্থিতিতে ২০০ কোটি টাকা মুনাফার পূর্বাভাস কীভাবে দিচ্ছেন- এ প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমি তো আপনাদের বললাম, আমার ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন দরকার।

“আপনারাই ব্রিফিং করেছেন, পেট্রোল-অকটেন আমাদের নিজস্ব পণ্য, তারপরও দাম বাড়াতে হলো কেন”- এ প্রশ্ন করা হলে বিপিসির চেয়ারম্যান বলেন, “পেট্রোল জিনিসটাও কিন্তু ক্রুড অয়েল থেকে তৈরি হয়। পেট্রোল সেটা প্রাইভেট সাপ্লাই তারা দেয়, আর আমাদের ইস্টার্ণ রিফাইনারিতে তৈরি হয়। এটার পেছনে যে খরচ, সেটা ক্রুড অয়েল। ক্রুড অয়েল আমদানির সঙ্গে ট্যাক্স, ভ্যাট সব দিয়ে আমাকে আমদানি করতে হয়। এটা প্রায় কাছাকাছি খরচ পড়ে।”

তিনি বলেন, “পেট্রোল-অকটেন কাছাকাছি মূল্যে বিক্রি করতে হয়। কারণ দামের বেশি হেরফের হলে একটাকে অন্যটা বলে চালিয়ে দেয়। এটা অতীতে হয়েছে। ক্রুড অয়েল কিন্তু স্থানীয়ভাবে হয় না। যেখানেই করেন ক্রুড অয়েল তো আনতে হয়।”

তিনি বলেন, “অনেকেই যেটা বলছেন যে, বিপিসির এফডিআরের টাকা এত বেশি যে সে টাকা দিয়েই হয়ত আরও কয়মাস চলতে পারতো। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন যে আমরা এফডিআরের টাকা কোথায় শিফট করেছি? অনেকে বিপিসিকে ধনী প্রতিষ্ঠান বলতে চেয়েছেন। আমার আর্থিক অবস্থা বলছে, আমি কতটুকু ধনী। সেটার উত্তর মনে হয় আপনারা পেয়েছেন।”

বিপিসির আয়ব্যয়ের হিসেব তুলে ধরে তিনি জানান, ২০১৪-১৫ অর্থবছর থেকে ২০২০-২১ অর্থবছরে বিপিসি যে ৪২ হাজার ৯৯২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, এরমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয়, সরকারকে লভ্যাংশ ও উদ্বৃত্ত তহবিল হিসেবে দেওয়া, এনবিআরের বকেয়া পরিশোধ, মূলধনী বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ২০ হাজার ১৮৮ কোটি টাকা। অবশিষ্ট থাকে ২২ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রভিশনাল হিসাব অনুযায়ী, বিপিসির লোকসান প্রায় ৫ হাজার ৯১০ কোটি টাকা।

তিনি বলেন, ১৯৯৯-২০০০ অর্থবছর হতে ২০১৩-২০১৪ অর্থবছর এই ১৪ বছরে বিপিসির লোকসান হয় ৫৩ হাজার ৫ কোটি টাকা। এরমধ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে বিপিসিকে দেয় ৪৪ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। বাকি ৮ হাজার ১২৭ কোটি টাকা বিপিসির মুনাফার সঙ্গে সমম্বয় করা হয়।

বিপিসি চেয়ারম্যান জানান, জ্বালানি তেলের মূল্য পরিশোধ করার জন্য বিপিসিকে দুই মাসের জ্বালানি তেলের মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ (২৫% বৃদ্ধিসহ) চলতি মূলধন হিসেবে রাখতে হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিপিসির মূলধনও বাড়াতে হয়। ২০২০-২১ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল তুলনামূলক ‘সহনশীল’ থাকায় ওই সময় বিপিসির ১২ হাজার কোটি টাকা চলতি মূলধন রাখা হত।

পরে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপিসির চলতি মূলধনের উপর চাপ পড়ে জানিয়ে আজাদ বলেন, তেলের মূল্য সমন্বয়ের আগে তেল বিক্রি ও অন্যান্য খাতে বিপিসির মাসিক গড় জমা ছিল সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে চলতি বছরের জুনে ৭ হাজার ১৭১ কোটি, জুলাইয়ে ১০৩১২ কোটি টাকা পেমেন্টে করা হয়েছে এবং অগাস্টে ৯ হাজার ৩৯৭ কোটি টাকা পেমেন্ট প্রাক্কলন করা হয়েছে।

এজন্য বিপিসির ২০ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন প্রয়োজন বলে জানান সংস্থাটির চেয়ারম্যান। এদিকে ফেব্রয়ারি থেকে জুলাই সময়ে বিপিসির অনেক এফডিআর নগদায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, সেই কারণে ইস্টার্ণ রিফাইনারি-২ তে রাখা ৭ হাজার ৩৬১ কোটির মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা নগদায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বিপিসি ৩৪ হাজার ২৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

back to top