alt

নগর-মহানগর

পদোন্নতি-পদায়ন ও গ্রেডে বৈষম্যের শিকার প্রকৌশলীরা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শুক্রবার, ০৬ মে ২০২২

পদোন্নতি, পদায়ন থেকে শুরু করে কর্মস্থলের প্রতিটি ধাপে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন দেশের প্রকৌশলীরা। পদের গ্রেড মূল্যায়নে রয়েছে বৈষম্য। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে প্রকৌশলীদের প্রতি বৈষম্যের কথাগুলো তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী বৈষম্য দূর করণে যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলোও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বৈষম্য দূর করে প্রকৌশলীদের দাবি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়ে শনিবার (৭ মে) পালন করা হবে ইঞ্জিনিয়ার্স ডে।

প্রকৌশলীদের একমাত্র সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এ উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষে নেয়া হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি। শুক্রবার (৬ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. সাহাদত হোসেন শীবলু এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলীদের নানাভাবে বঞ্চনা ও অবহেলারও কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শীবলু জানান, প্রকৌশলীদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ উপলক্ষে নানা আয়োজন থাকছে। প্রতি বছর ৭ মে আইইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সারা দেশব্যাপী আইইবির সদর দপ্তর, ১৮টি কেন্দ্র, ৩৩টি উপকেন্দ্র এবং ১৩টি ওভারসীজ চ্যাপ্টারে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ এ দেশের প্রকৌশলীদের একমাত্র জাতীয় পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৮ সালের ৭ মে আইইবি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আইইবির মূল কাজ হচ্ছে প্রকৌশল পেশার মানোন্নয়ন, পেশাজীবীদের বিভিন্ন সমস্যাবলীর সমাধানকল্পে কাজ করা, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা, সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা, আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জাতীয় কারিগরি ইস্যুতে সরকারকে পরামর্শ দেয়া।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের দাবি হলো ডিসিদের শতভাগ প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব প্রদান সম্পর্কিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাতিলের। গত ১৮-২০ জানুয়ারি ডিসি সম্মেলনে প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্পর্কিত একটি অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী তাৎক্ষণিক নাকচ করে দেন। তারপরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ১৮ জানুয়ারি ডিসিদের এডিপিভুক্ত শতভাগ প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব প্রদান সম্পর্কিত আদেশ জারি করা হয়েছে। উক্ত আদেশের কারণে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড বিলম্ব হবে বলে আইইবি মনে করে। প্রকৌশল দপ্তরের প্রকল্পসমূহ মাঠ পর্যায়ে সাধারণত নির্বাহী প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরা এ সব কাজ সরাসরি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকেন। প্রধান প্রকৌশলী সংস্থা প্রধানের দপ্তরে প্রকল্পসমূহ মনিটরিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট সেল রয়েছে যেখান থেকে সারাদেশের প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম সরেজমিন সাইট ভিজিট করে। সংশ্লিষ্ট সচিব মাসিক এডিপি রিভিউ সভা ও মাসিক সমন্বয় সভার মাধ্যমে প্রকল্পসমূহের নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও ইভালুয়েশন বিভাগ নিয়মিত প্রকল্পসমূহের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে কারিগরি ও পেশাগত জ্ঞানসম্পন্ন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকৌশল পেশা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কাজের ধরন সম্পর্কে কোন কারিগরি জ্ঞান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কোন অভিজ্ঞতা নেই। তাই জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করানো হলে মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনাকাক্সিক্ষত জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন রূপকল্প-২০৪১ এর অভিষ্ঠ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। এছাড়া প্রকৌশল কার্যক্রম অপ্রকৌশলীদের দ্বারা তদারক করা প্রকৌশলীদের জন্য অনিভিপ্রেত ও অসম্মানজনক। এমতাবস্থায় উন্নয়ন প্রতিবন্ধক উল্লিখিত আদেশ বাতিল করার জন্য আইইবি জোর দাবি জানাচ্ছে। আদেশ অনতিবিলম্বে বাতিল করা না হলে আইইবি দেশের প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইইবির দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থার প্রধানকে ১ম গ্রেড প্রদান করা হয় যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ কারণে ১ম গ্রেডের অন্যান্য পদগুলোর সঙ্গে প্রকৌশল সংস্থা প্রধানদের ১ম গ্রেডের পদগুলো একই ধাপে রেখে ওয়াররেন্ট অব প্রেসিডেন্স (Warrant of Precedence) সংশোধিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ওই আদেশ অগ্রাহ্য করে প্রকাশিত ওয়াররেন্ট অব প্রেসিডেন্স ১৯৮৬-এ সংশোধন না করে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে যা প্রকৌশলীদের জন্য অবমাননাকর।

গত ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত আইইবির ৫৯তম কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইইবির দাবি ছিল যেসব সংস্থায় সংস্থাপ্রধান, প্রধান প্রকৌশলী/চেয়ারম্যান/মহাপরিচালক ১ম গ্রেড প্রাপ্ত হয়েছেন সেসব সংস্থার ২য় ধাপের কর্মকর্তা যারা ৩য় ও ৪র্থ গ্রেড সম্পন্ন ছিল তারা যথাক্রমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২য় ও ৩য় গ্রেড প্রাপ্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী উক্ত কনভেনশনের পর প্রকৌশলীদের সঙ্গে চা চক্রে এটি বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি করে দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আইইবি আবারও জোর দাবি জানাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থার কাজ স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল ও অতি কারিগরি বিষয় সংশ্লিষ্ট বিধায় প্রকৌশল সংস্থাসমূহের চেয়ারম্যান, কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সর্বোপরি সংস্থাসমূহের শীর্ষ পদগুলোতে প্রকৌশলীর অভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাসমূহে সার্বিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে শীর্ষ পদগুলোতে আকারিগরি ব্যক্তিদের স্থলে প্রকৌশলী পদায়ন অতীব প্রয়োজন। দেশের অধিকাংশ সংস্থায় কর্মরত প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত, চলতি দায়িত্ব পালনে ভারাক্রান্ত। পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হতে পদোন্নতি না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত, চলতি দায়িত্ব, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। অথচ প্রশাসন ক্যাডারের অনুমোদিত পদের অধিক পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। পক্ষান্তরে একই পদে ২০ বছরের অধিক চাকরিকালে পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। ফলে প্রকৌশলীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ কিংবা পদোন্নতির জন্য বিধি-বিধান, কোটা পদ্ধতি সংবলিত নিয়োগবিধি রয়েছে। নিয়োগবিধি বহির্ভূতভাবে কোথাও কোথাও নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি কিংবা আত্তীকরণের প্রবণতা প্রকারান্তরে প্রকৌশল পেশার গুণগতমানের সার্বিক ভারসম্যতা নষ্ট করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদকে গ্রেড-২ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদকে গ্রেড-৩ এ উন্নীতকরণ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ৩ বছর চাকরির শর্ত প্রবর্তন করা প্রয়োজন। প্রকৌশল ক্যাডারে নির্বাহী প্রকৌশলী পদ ৫ম গ্রেড হতে পরবর্তী ৪র্থ গ্রেডে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ন্যূনতম ৫ বছর চাকরি করা। পক্ষান্তরে, প্রশাসন ক্যাডারে উপসচিব, ডেপুটি কমিশনার ৫ম গ্রেড হতে দুই ধাপ ওপরে ৩য় গ্রেডে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির পূর্বশর্ত উপসচিব পদে ন্যূনতম ৩ বছর চাকরি করা। প্রকৌশল ক্যাডারের এ এক বিরাট বৈষম্য। যা নিরসন হওয়া প্রয়োজন। এজন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদকে উন্নীত করে ৩য় গ্রেডে স্থাপন করা এবং পদোন্নতির পূর্বশর্ত হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে (ফিডার পদে) ন্যূনতম ৩ বছর চাকরি করার নিয়ম প্রর্বতন সময়ের প্রয়োজন।

এছাড়া পলিটেকনিক শিক্ষকেদের বর্তমান চাকরি কাঠামো পরিবর্তন এবং বিসিএস বিভিন্ন প্রকৌশলভিত্তিক ক্যাডার ব্যবস্থার প্রবর্তন করারও দাবি উঠেছে।

ছবি

ভোক্তা অধিকার বিভাগ চায় ক্যাব

কারাগারেই যেতে হলো হাজী সেলিমকে

ছবি

হাজী সেলিমের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষা মেলা

মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য প্রদর্শনী চলছে জাতীয় জাদুঘরে

ছবি

“আইইবি’তে কৃতি প্রকৌশলীদের আজীবন ও মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান এবং ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত”

ছবি

বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকির পরামর্শ এফবিসিসিআইয়ের

ছবি

ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৭২, মামলা ৫৬

ছবি

শনিবার গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়

ছবি

শ্রীলঙ্কা ঋণ খেলাপির খাতায় নাম লেখাল

ছবি

মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৯২, মামলা ৭২

সমান অধিকার-মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বৈষম্য বিরোধী বিলে পরিবর্তনের আভাস

হাড় জোড়া লাগানোর অস্ত্রোপচারে শিশুর মৃত্যু

উচ্চ শব্দে হর্ণ কান জ্বালাপালা ১২ চালককে জরিমানা

মোটরসাইকেল চোর চক্রের আটক ৬, ৮টি উদ্ধার

ছবি

জাহানার ফাউন্ডেশনে প্রাচীন মুদ্রা প্রদর্শনী

হাত পচে দুর্গন্ধ, ঢামেক ওয়ার্ডে ঠাঁই হয়নি যুবকের!

তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে মৃত্যু-স্বাস্থ্যব্যয় কমবে

ঢাকার হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ১২ ডেঙ্গু রোগী

ছবি

এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বিরুদ্ধে মামলা

ছবি

রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখতে চান মেয়র তাপস

ছবি

ভূমিহীন পরিবারগুলোর সমস্যার সমাধানের দাবি

ছবি

সম্রাটের উন্নত চিকিৎসা দরকার : বিএসএমএমইউ পরিচালক

স্বাধীন সাংবাদিকতার বাধা আইন প্রত্যাহারের আহ্বান সম্পাদক, সাংবাদিক নেতাদের

যাত্রাবাড়ীতে মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

প্রসূতি মায়ের জন্য জরুরি বি পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন

ছবি

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

যাত্রাবাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ছবি

রফিকুল-হারুনদের মুক্তি চেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ

ছবি

ক্যাসিনোকান্ডের সম্রাট আপাতত ‘হাসপাতালেই থাকবেন’

ছবি

হাতিরঝিলে ইয়াবাসহ কারবারি আটক

ছবি

নিউমার্কেটে সংঘর্ষ : ফাস্টফুডের দোকানের দুই কর্মচারী গ্রেফতার

ছবি

মেট্রোরেলের উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের কাজ সম্পন্ন

ছবি

ঈদের ছুটি শেষ, অফিস-আদালত এখনও ফাঁকা

ছবি

গুলিস্তান হকার্স মার্কেটে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ শুরু

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ২১

tab

নগর-মহানগর

পদোন্নতি-পদায়ন ও গ্রেডে বৈষম্যের শিকার প্রকৌশলীরা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

শুক্রবার, ০৬ মে ২০২২

পদোন্নতি, পদায়ন থেকে শুরু করে কর্মস্থলের প্রতিটি ধাপে নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন দেশের প্রকৌশলীরা। পদের গ্রেড মূল্যায়নে রয়েছে বৈষম্য। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে প্রকৌশলীদের প্রতি বৈষম্যের কথাগুলো তুলে ধরার পর প্রধানমন্ত্রী বৈষম্য দূর করণে যেসব নির্দেশনা দিয়েছেন সেগুলোও বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বৈষম্য দূর করে প্রকৌশলীদের দাবি বাস্তবায়ন করার আহ্বান জানিয়ে শনিবার (৭ মে) পালন করা হবে ইঞ্জিনিয়ার্স ডে।

প্রকৌশলীদের একমাত্র সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (আইইবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এ উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার্স ডে উপলক্ষে নেয়া হয়েছে বিস্তারিত কর্মসূচি। শুক্রবার (৬ মে) এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. সাহাদত হোসেন শীবলু এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রকৌশলীদের নানাভাবে বঞ্চনা ও অবহেলারও কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আইইবির সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শীবলু জানান, প্রকৌশলীদের প্রাণপ্রিয় সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের ৭৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তথা ‘ইঞ্জিনিয়ার্স ডে’ উপলক্ষে নানা আয়োজন থাকছে। প্রতি বছর ৭ মে আইইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সারা দেশব্যাপী আইইবির সদর দপ্তর, ১৮টি কেন্দ্র, ৩৩টি উপকেন্দ্র এবং ১৩টি ওভারসীজ চ্যাপ্টারে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়। ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ এ দেশের প্রকৌশলীদের একমাত্র জাতীয় পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৮ সালের ৭ মে আইইবি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আইইবির মূল কাজ হচ্ছে প্রকৌশল পেশার মানোন্নয়ন, পেশাজীবীদের বিভিন্ন সমস্যাবলীর সমাধানকল্পে কাজ করা, শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা, সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা, আন্তর্জাতিক কারিগরি সহায়তা সুযোগ সৃষ্টি করা এবং জাতীয় কারিগরি ইস্যুতে সরকারকে পরামর্শ দেয়া।

এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের দাবি হলো ডিসিদের শতভাগ প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব প্রদান সম্পর্কিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ বাতিলের। গত ১৮-২০ জানুয়ারি ডিসি সম্মেলনে প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করা সম্পর্কিত একটি অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন করা হলে পরিকল্পনামন্ত্রী তাৎক্ষণিক নাকচ করে দেন। তারপরও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ১৮ জানুয়ারি ডিসিদের এডিপিভুক্ত শতভাগ প্রকল্প পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়নের দায়িত্ব প্রদান সম্পর্কিত আদেশ জারি করা হয়েছে। উক্ত আদেশের কারণে দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ড বিলম্ব হবে বলে আইইবি মনে করে। প্রকৌশল দপ্তরের প্রকল্পসমূহ মাঠ পর্যায়ে সাধারণত নির্বাহী প্রকৌশলীদের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়ে থাকে। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীরা এ সব কাজ সরাসরি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকেন। প্রধান প্রকৌশলী সংস্থা প্রধানের দপ্তরে প্রকল্পসমূহ মনিটরিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট সেল রয়েছে যেখান থেকে সারাদেশের প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং টিম সরেজমিন সাইট ভিজিট করে। সংশ্লিষ্ট সচিব মাসিক এডিপি রিভিউ সভা ও মাসিক সমন্বয় সভার মাধ্যমে প্রকল্পসমূহের নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আইএমইডি বাস্তবায়ন, মনিটরিং ও ইভালুয়েশন বিভাগ নিয়মিত প্রকল্পসমূহের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করে থাকে।

উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজে কারিগরি ও পেশাগত জ্ঞানসম্পন্ন অভিজ্ঞ প্রকৌশলী প্রয়োজন। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের প্রকৌশল পেশা সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন কাজের ধরন সম্পর্কে কোন কারিগরি জ্ঞান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কিত কোন অভিজ্ঞতা নেই। তাই জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দিয়ে প্রকল্পের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করানো হলে মাঠপর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অনাকাক্সিক্ষত জটিলতা সৃষ্টি হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন রূপকল্প-২০৪১ এর অভিষ্ঠ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যাহত হবে। এছাড়া প্রকৌশল কার্যক্রম অপ্রকৌশলীদের দ্বারা তদারক করা প্রকৌশলীদের জন্য অনিভিপ্রেত ও অসম্মানজনক। এমতাবস্থায় উন্নয়ন প্রতিবন্ধক উল্লিখিত আদেশ বাতিল করার জন্য আইইবি জোর দাবি জানাচ্ছে। আদেশ অনতিবিলম্বে বাতিল করা না হলে আইইবি দেশের প্রকৌশলীদের সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, আইইবির দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থার প্রধানকে ১ম গ্রেড প্রদান করা হয় যা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এ কারণে ১ম গ্রেডের অন্যান্য পদগুলোর সঙ্গে প্রকৌশল সংস্থা প্রধানদের ১ম গ্রেডের পদগুলো একই ধাপে রেখে ওয়াররেন্ট অব প্রেসিডেন্স (Warrant of Precedence) সংশোধিত হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালের ওই আদেশ অগ্রাহ্য করে প্রকাশিত ওয়াররেন্ট অব প্রেসিডেন্স ১৯৮৬-এ সংশোধন না করে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে যা প্রকৌশলীদের জন্য অবমাননাকর।

গত ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত আইইবির ৫৯তম কনভেনশনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইইবির দাবি ছিল যেসব সংস্থায় সংস্থাপ্রধান, প্রধান প্রকৌশলী/চেয়ারম্যান/মহাপরিচালক ১ম গ্রেড প্রাপ্ত হয়েছেন সেসব সংস্থার ২য় ধাপের কর্মকর্তা যারা ৩য় ও ৪র্থ গ্রেড সম্পন্ন ছিল তারা যথাক্রমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ২য় ও ৩য় গ্রেড প্রাপ্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী উক্ত কনভেনশনের পর প্রকৌশলীদের সঙ্গে চা চক্রে এটি বাস্তবায়নের জন্য একটি কমিটি করে দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এটি বাস্তবায়ন হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আইইবি আবারও জোর দাবি জানাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বিভিন্ন প্রকৌশল সংস্থার কাজ স্পর্শকাতর, সংবেদনশীল ও অতি কারিগরি বিষয় সংশ্লিষ্ট বিধায় প্রকৌশল সংস্থাসমূহের চেয়ারম্যান, কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক সর্বোপরি সংস্থাসমূহের শীর্ষ পদগুলোতে প্রকৌশলীর অভাবে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার সৃষ্টি হচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থাসমূহে সার্বিক গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে শীর্ষ পদগুলোতে আকারিগরি ব্যক্তিদের স্থলে প্রকৌশলী পদায়ন অতীব প্রয়োজন। দেশের অধিকাংশ সংস্থায় কর্মরত প্রকৌশলী ভারপ্রাপ্ত, অতিরিক্ত, চলতি দায়িত্ব পালনে ভারাক্রান্ত। পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় হতে পদোন্নতি না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত, চলতি দায়িত্ব, অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। অথচ প্রশাসন ক্যাডারের অনুমোদিত পদের অধিক পদে পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে। পক্ষান্তরে একই পদে ২০ বছরের অধিক চাকরিকালে পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে না। ফলে প্রকৌশলীরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগ কিংবা পদোন্নতির জন্য বিধি-বিধান, কোটা পদ্ধতি সংবলিত নিয়োগবিধি রয়েছে। নিয়োগবিধি বহির্ভূতভাবে কোথাও কোথাও নিয়োগ কিংবা পদোন্নতি কিংবা আত্তীকরণের প্রবণতা প্রকারান্তরে প্রকৌশল পেশার গুণগতমানের সার্বিক ভারসম্যতা নষ্ট করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী পদকে গ্রেড-২ ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদকে গ্রেড-৩ এ উন্নীতকরণ এবং তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ৩ বছর চাকরির শর্ত প্রবর্তন করা প্রয়োজন। প্রকৌশল ক্যাডারে নির্বাহী প্রকৌশলী পদ ৫ম গ্রেড হতে পরবর্তী ৪র্থ গ্রেডে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি পাওয়ার পূর্বশর্ত হচ্ছে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ন্যূনতম ৫ বছর চাকরি করা। পক্ষান্তরে, প্রশাসন ক্যাডারে উপসচিব, ডেপুটি কমিশনার ৫ম গ্রেড হতে দুই ধাপ ওপরে ৩য় গ্রেডে যুগ্ম-সচিব পদে পদোন্নতির পূর্বশর্ত উপসচিব পদে ন্যূনতম ৩ বছর চাকরি করা। প্রকৌশল ক্যাডারের এ এক বিরাট বৈষম্য। যা নিরসন হওয়া প্রয়োজন। এজন্য তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদকে উন্নীত করে ৩য় গ্রেডে স্থাপন করা এবং পদোন্নতির পূর্বশর্ত হিসেবে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে (ফিডার পদে) ন্যূনতম ৩ বছর চাকরি করার নিয়ম প্রর্বতন সময়ের প্রয়োজন।

এছাড়া পলিটেকনিক শিক্ষকেদের বর্তমান চাকরি কাঠামো পরিবর্তন এবং বিসিএস বিভিন্ন প্রকৌশলভিত্তিক ক্যাডার ব্যবস্থার প্রবর্তন করারও দাবি উঠেছে।

back to top