alt

নগর-মহানগর

স্বাধীন সাংবাদিকতার বাধা আইন প্রত্যাহারের আহ্বান সম্পাদক, সাংবাদিক নেতাদের

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শনিবার, ১৪ মে ২০২২

সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য যে আইনগুলো বাধা সেগুলো প্রত্যাহার করে সবার সঙ্গে আলোচনায় নতুন গণমাধ্যম আইন প্রণয়ন করতে হবে। মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চায় ডিজিটাল নজরদারি থেকে সাংবাদিকতাকে রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা।

শনিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত ‘বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস : ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

আলোচনায় স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি ও সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে সেসব বিষয়ে পর্যালোচনা করতে সম্পাদক পরিষদকে অংশীজনদের নিয়ে পর্যালোচনার আহ্বান জানান বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। সেখানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম একমত পোষণ করেন।

মাহফুজ আনাম জানান, গণমাধ্যমের জন্য ক্ষতিকর আইনগুলো নিয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা ও অংশীজনদের একত্রিত করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রয়োজনে সবাইকে নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সুরাহা করা হবে।

সমাপনী বক্তব্যে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এত আইন কেন? ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি, নির্যাতন করা হচ্ছে। এসব আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করার পথ তৈরি করা হয়েছে। আমরা কী এমন করি? যার জন্য আমাদের হাত-পা বেঁধে দিতে হবে। ডিজিটাল আইনের কারণে সাংবাদিকতা বিকশিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনের ১৪টি ধারায় অজামিনযোগ্য বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু আমরা কী এমন অপরাধ করি, আমরা কেন জামিন পাবো না? সরকার বলছে, এই আইনটা দুষ্কৃতকারীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য। তাহলে তারা (সরকার) দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করুক। আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এ আইন থেকে সাংবাদিকদের উহ্য রাখতে হবে। গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে যেমন গণতন্ত্র বিকশিত হবে না তেমনি গণতন্ত্র বিকশিত না হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’

সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি শ্যামল দত্ত বলেন, ‘ডিজিটাল নজরাদরিতে সাংবাদিকতা হলে সেটাকে কি মুক্তগণমাধ্যম বলা হবে? আমি যদি সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে থাকি, আমার মাথায় যদি থাকে আমি নজরাদরির মধ্যে আছি, তাহলে কীভাবে মুক্তসাংবাদিকতা হবে? এতে করে সাংবাদিকতা বিকশিত হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়।’

এরকম তিনটি আইন এই মুহূর্তে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি আরও একটি নতুন আইন আসছে। এত আইনের মধ্যে কীভাবে মুক্তসাংবাদিকতা হবে। দেশে মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তসংস্কৃতির চর্চা দরকার। কিন্তু এ মুহূর্তে দেশে সেই অবস্থা আছে কি-না? এ অবস্থায় ডিজিটাল অবরোধের যুগে টিকে থাকতে হলে আমাদের একযোগে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় এই সংকটের সমাধান হবে না।’

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘নতুন প্রেক্ষাপটে সারাপৃথিবীতে আইন চাওয়া হচ্ছে। কারণ নতুন সাইবার ক্রাইম হচ্ছে, নতুন অপরাধ হচ্ছে। এজন্য আইনগুলো হওয়াই দরকার। কিন্ত সেই আইনগুলো এমনভাবে করা হচ্ছে যারা নিজেরাই সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে অথবা সেই আইনের অপপ্রয়োগ সেই আইনকে ভঙ্গুর করে ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন আইন- অর্থাৎ নতুন নতুন আইন করায় মুক্তসাংবাদিকতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সংবাদপত্রকে নিয়ন্ত্রণে প্রথমে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৫৪ ধারা, পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৭ ধারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সেসব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলাম। কিন্তু নতুন আইনের ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন হলো না। তাই আইনের তিনটি পদক্ষেপের বিষয়ে সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পেইন করে কোন আইনগুলো সংবাদপত্রের জন্য বাধা হচ্ছে তা বের করে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটা ছোট্ট প্রস্তাব করতে চাই সম্পাদক পরিষদে, আমাদের সাংবাদিক ইউনিয়নের যারা আছেন তাদের নিয়ে যদি ছোট একটা কমিটির মতো করেন তবে এই আইনি বাধা ও বেআইনি বাধা ও পুরোনো আইনি বাধা কোন আইন আমাদের সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এটার একটা এনালাইসিস করে আমরা আবারো একটা ক্যাম্পেইন শুরু করতে পারি।’

নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, ‘আমাদের সংঘবদ্ধভাবে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকভাবে অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে।’

ডিআরইউর সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘আমাদের প্রচন্ড বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার পক্ষ থেকে বার বার আশ্বাস দেয়া হলো এরকম কিছু হবে না। সার্বিকভাবে এই আইনটি দিয়ে বাংলাদেশের যে ফিড্রম অব স্পিচ ও প্রেস ফ্রিডম অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

মাহফুজ আনামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পরিষদের সহ-সভাপতি দ্য নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, আজকের পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রহমান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৩ মে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস। দেশে ওই সময় ঈদের ছুটি থাকায় ১৪ মে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় সম্পাদক পরিষদ। চলতি বছর বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল জার্নালিজম আন্ডার ডিজিটাল সিজ বা ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা। ডিজিটাল নজরদারি ও আক্রমণের মুখে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতা যে হুমকি মোকাবিলা করছে সে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টও বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

ছিন্নমূল-ভবঘুরেদের আশ্রয়কেন্দ্র দখল করে রেখেছে র‌্যাব : তাপস

মায়ের সঙ্গে অভিমানে কিশোরীর আত্মহত্যা

রাস্তাঘাট সংস্কার, শহর রক্ষাবাঁধ ও সুরমা নদীর খনন চান মেয়র

জাতীয়ভাবে এমন উদ্যেগ নিতে হবে যেন আমাদের সন্তানেরা থাকে নিরাপদে

ছবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের সংঘাত, মুখোমুখি ছাত্রদল-ছাত্রলীগ

ছবি

রাজধানীতে গাড়ির ধাক্কায় তরুণী নিহত

ছবি

ঢাকায় ‘টার্কিশ কুইজিন উইক’ শুরু

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ছাদ থেকে পড়ে প্রকৌশলীর মৃত্যু

ইসলাম ড্রাগ মালিক গ্রেপ্তার

ছবি

ভোক্তা অধিকার বিভাগ চায় ক্যাব

কারাগারেই যেতে হলো হাজী সেলিমকে

ছবি

হাজী সেলিমের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন

ঢাকায় অস্ট্রেলিয়ান শিক্ষা মেলা

মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য প্রদর্শনী চলছে জাতীয় জাদুঘরে

ছবি

“আইইবি’তে কৃতি প্রকৌশলীদের আজীবন ও মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান এবং ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত”

ছবি

বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকির পরামর্শ এফবিসিসিআইয়ের

ছবি

ডিএমপির মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৭২, মামলা ৫৬

ছবি

শনিবার গ্যাস থাকবে না রাজধানীর যেসব এলাকায়

ছবি

শ্রীলঙ্কা ঋণ খেলাপির খাতায় নাম লেখাল

ছবি

মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ৯২, মামলা ৭২

সমান অধিকার-মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় বৈষম্য বিরোধী বিলে পরিবর্তনের আভাস

হাড় জোড়া লাগানোর অস্ত্রোপচারে শিশুর মৃত্যু

উচ্চ শব্দে হর্ণ কান জ্বালাপালা ১২ চালককে জরিমানা

মোটরসাইকেল চোর চক্রের আটক ৬, ৮টি উদ্ধার

ছবি

জাহানার ফাউন্ডেশনে প্রাচীন মুদ্রা প্রদর্শনী

হাত পচে দুর্গন্ধ, ঢামেক ওয়ার্ডে ঠাঁই হয়নি যুবকের!

তামাকপণ্যের দাম বাড়ালে মৃত্যু-স্বাস্থ্যব্যয় কমবে

ঢাকার হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় ১২ ডেঙ্গু রোগী

ছবি

এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বিরুদ্ধে মামলা

ছবি

রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধ রাখতে চান মেয়র তাপস

ছবি

ভূমিহীন পরিবারগুলোর সমস্যার সমাধানের দাবি

ছবি

সম্রাটের উন্নত চিকিৎসা দরকার : বিএসএমএমইউ পরিচালক

যাত্রাবাড়ীতে মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

প্রসূতি মায়ের জন্য জরুরি বি পজিটিভ রক্তের প্রয়োজন

ছবি

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ

যাত্রাবাড়ীতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

tab

নগর-মহানগর

স্বাধীন সাংবাদিকতার বাধা আইন প্রত্যাহারের আহ্বান সম্পাদক, সাংবাদিক নেতাদের

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

শনিবার, ১৪ মে ২০২২

সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য যে আইনগুলো বাধা সেগুলো প্রত্যাহার করে সবার সঙ্গে আলোচনায় নতুন গণমাধ্যম আইন প্রণয়ন করতে হবে। মুক্ত সাংবাদিকতা চর্চায় ডিজিটাল নজরদারি থেকে সাংবাদিকতাকে রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন সম্পাদক ও সাংবাদিক নেতারা।

শনিবার (১৪ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সম্পাদক পরিষদ আয়োজিত ‘বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস : ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এক আলোচনায় বক্তারা এ আহ্বান জানান।

আলোচনায় স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকি ও সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে সেসব বিষয়ে পর্যালোচনা করতে সম্পাদক পরিষদকে অংশীজনদের নিয়ে পর্যালোচনার আহ্বান জানান বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। সেখানে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম একমত পোষণ করেন।

মাহফুজ আনাম জানান, গণমাধ্যমের জন্য ক্ষতিকর আইনগুলো নিয়ে বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা ও অংশীজনদের একত্রিত করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। প্রয়োজনে সবাইকে নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সুরাহা করা হবে।

সমাপনী বক্তব্যে মাহফুজ আনাম বলেন, ‘স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এত আইন কেন? ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের হয়রানি, নির্যাতন করা হচ্ছে। এসব আইনের মাধ্যমে গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিয়ন্ত্রণ করার পথ তৈরি করা হয়েছে। আমরা কী এমন করি? যার জন্য আমাদের হাত-পা বেঁধে দিতে হবে। ডিজিটাল আইনের কারণে সাংবাদিকতা বিকশিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনের ১৪টি ধারায় অজামিনযোগ্য বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু আমরা কী এমন অপরাধ করি, আমরা কেন জামিন পাবো না? সরকার বলছে, এই আইনটা দুষ্কৃতকারীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য। তাহলে তারা (সরকার) দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে এই আইন প্রয়োগ করুক। আমাদের কোন আপত্তি নেই। কিন্তু এ আইন থেকে সাংবাদিকদের উহ্য রাখতে হবে। গণমাধ্যমের হাত-পা বেঁধে যেমন গণতন্ত্র বিকশিত হবে না তেমনি গণতন্ত্র বিকশিত না হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।’

সম্পাদক পরিষদের সহ-সভাপতি শ্যামল দত্ত বলেন, ‘ডিজিটাল নজরাদরিতে সাংবাদিকতা হলে সেটাকে কি মুক্তগণমাধ্যম বলা হবে? আমি যদি সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে থাকি, আমার মাথায় যদি থাকে আমি নজরাদরির মধ্যে আছি, তাহলে কীভাবে মুক্তসাংবাদিকতা হবে? এতে করে সাংবাদিকতা বিকশিত হওয়ার পথ রুদ্ধ হয়।’

এরকম তিনটি আইন এই মুহূর্তে রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুনতে পাচ্ছি আরও একটি নতুন আইন আসছে। এত আইনের মধ্যে কীভাবে মুক্তসাংবাদিকতা হবে। দেশে মুক্তচিন্তা, মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তসংস্কৃতির চর্চা দরকার। কিন্তু এ মুহূর্তে দেশে সেই অবস্থা আছে কি-না? এ অবস্থায় ডিজিটাল অবরোধের যুগে টিকে থাকতে হলে আমাদের একযোগে এক জায়গায় দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় এই সংকটের সমাধান হবে না।’

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘নতুন প্রেক্ষাপটে সারাপৃথিবীতে আইন চাওয়া হচ্ছে। কারণ নতুন সাইবার ক্রাইম হচ্ছে, নতুন অপরাধ হচ্ছে। এজন্য আইনগুলো হওয়াই দরকার। কিন্ত সেই আইনগুলো এমনভাবে করা হচ্ছে যারা নিজেরাই সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে অথবা সেই আইনের অপপ্রয়োগ সেই আইনকে ভঙ্গুর করে ফেলে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নতুন আইন- অর্থাৎ নতুন নতুন আইন করায় মুক্তসাংবাদিকতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। সংবাদপত্রকে নিয়ন্ত্রণে প্রথমে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ৫৪ ধারা, পরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৫৭ ধারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমরা সেসব আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলাম। কিন্তু নতুন আইনের ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন হলো না। তাই আইনের তিনটি পদক্ষেপের বিষয়ে সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পেইন করে কোন আইনগুলো সংবাদপত্রের জন্য বাধা হচ্ছে তা বের করে আমরা অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করতে পারি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি একটা ছোট্ট প্রস্তাব করতে চাই সম্পাদক পরিষদে, আমাদের সাংবাদিক ইউনিয়নের যারা আছেন তাদের নিয়ে যদি ছোট একটা কমিটির মতো করেন তবে এই আইনি বাধা ও বেআইনি বাধা ও পুরোনো আইনি বাধা কোন আইন আমাদের সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করছে এটার একটা এনালাইসিস করে আমরা আবারো একটা ক্যাম্পেইন শুরু করতে পারি।’

নিউএজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবীর বলেন, ‘আমাদের সংঘবদ্ধভাবে রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকভাবে অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে হবে।’

ডিআরইউর সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ‘আমাদের প্রচন্ড বিরোধিতা সত্ত্বেও সরকার পক্ষ থেকে বার বার আশ্বাস দেয়া হলো এরকম কিছু হবে না। সার্বিকভাবে এই আইনটি দিয়ে বাংলাদেশের যে ফিড্রম অব স্পিচ ও প্রেস ফ্রিডম অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’

মাহফুজ আনামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে পরিষদের সহ-সভাপতি দ্য নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী, বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, ডিইউজের (একাংশ) সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, আজকের পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রহমান, সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেনসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর ৩ মে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে বা বিশ্ব মুক্তগণমাধ্যম দিবস। দেশে ওই সময় ঈদের ছুটি থাকায় ১৪ মে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় সম্পাদক পরিষদ। চলতি বছর বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল জার্নালিজম আন্ডার ডিজিটাল সিজ বা ডিজিটাল নজরদারিতে সাংবাদিকতা। ডিজিটাল নজরদারি ও আক্রমণের মুখে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতা যে হুমকি মোকাবিলা করছে সে বিষয়টিকে প্রাধান্য দিয়েই এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়। সম্প্রতি ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টও বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

back to top