alt

নগর-মহানগর

সড়কে মৃত্যু যেন এক মহামারী

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চতুর্থবার্ষিকীতে খিলক্ষেতে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকারীদের মানববন্ধন -সংবাদ

সড়কে মৃত্যু যেন এক নীরব মহামারীতে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি লাখে যত মানুষের মৃত্যু হয়, সেই সংখ্যা ধনী দেশগুলোর গড় সংখ্যার দ্বিগুণ। আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনার দেশগুলোর প্রায় পাঁচগুণ।

গেল চার বছর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে পুরো বাংলাদেশকে অচল করে দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে সরকারের তরফ থেকে পেয়েছে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি। চাপের মুখে একটি আইনও হয়েছে, সেই আইনে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের শাস্তি বেড়েছে এই যা। এককথায় বলতে হয় পরিস্থিতি বদলেছে, তবে তা সামান্যই। শুক্রবার (২৯ জুলাই) আন্দোলনের চতুর্থ-বার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় পদযাত্রা করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিরআ) পদযাত্রায় নিহতদের স্মরনে মৃত্যুর মিছিল বন্ধে কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরের বছর সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে হয় ৪ হাজার ১৩৮ জন। এসব দুর্ঘটনার বেশিরভাগ ঘটে মহাসড়কে, আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যান।

এদিকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন বলছে, প্রতি বছর চার হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। আরও অগনিত মানুষ গুরুতরভাবে আহত হচ্ছে, মেনে নিতে হচ্ছে পঙ্গু জীবন।

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের কিছু শিক্ষার্থী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে ফুটপাথে বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। একটি বাস থামলে সেটায় ওঠার চেষ্টা করেন তারা।

ঠিক ওই সময় জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাস আগে যাত্রী তোলার জন্য নিজেদের মাঝে প্রতিযোগিতা করতে করতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসে এবং একটি বাস বেপরোয়াভাবে ফুটপাতে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের উপর উঠে যায়।

ওই ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ যায়, ১২ জন গুরুতর আহত হয়। বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা রাস্তায় নেমে আসে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।

শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলন দেখিয়ে দেয়, আইনের রক্ষক যে পুলিশ, তাদের চালকও লাইসেন্স ছাড়া, চলার অনুপযোগী গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছে।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৪৫ লাখ। অথচ লাইসেন্সধারী চালক আছে মোটাদাগে তার অর্ধেক। এর অর্থ হল, বাংলাদেশের অর্ধেক যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ এখন লাইসেন্সবিহীন চালকের হাতে। আর সঠিক প্রশিক্ষণের প্রশ্ন তুললে চিত্রটা হবে আরও উদ্বেগজনক। অথচ চালকদের প্রশিক্ষিত করেও বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

২০২০ সালে মহামারীর কারণে দীর্ঘ লকডাউনে মৃত্যুর সংখ্যা সামান্য কমে ৩ হাজার ৯১৮ জন হয়। আর এ বছর সাত মাসেই সে সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ হাজার ৫০২ জনে। অর্থাৎ প্রতিদিন সড়কে প্রাণ গেছে অন্তত ১৪ জনের।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ বছরে সারাদেশে ১৫ হাজার ১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭ হাজার ৮৮৬ জনের; আরও ৩২ হাজার ৩৩০ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে ২০২১ সালে দেশে ৫ হাজার ৩৭১টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৬ হাজার ২৮৪ জনের মৃত্যু হয়; আহত হন আরও ৭ হাজার ৪৬৮ জন। প্রতিবছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি লাখে যত মানুষের মৃত্যু হয়, সেই সংখ্যা ধনী দেশগুলোর গড় সংখ্যার দ্বিগুণ, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনার দেশগুলোর প্রায় পাঁচগুণ।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, দেশে দুর্ঘটনায় বছরে যত মানুষ মারা যায়, তার ৪৯ শতাংশ পথচারী। এসব দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটে মহাসড়কে। ৫৯ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভারী যানবাহনের নিচে পড়ে পথচারীর মৃত্যু হচ্ছে।

এক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণের সময় পরিকল্পনার দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরে অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আমরা যখন কোন প্রকল্প নিই, সেই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় অবকাঠামোর বিষয়টা থাকছে না বলে আমি মনে করি। ট্রাফিক ওরিয়েন্টেড পরিকল্পনা করছি এবং সেটা করতে গিয়ে আমরা শুধুমাত্র যানবাহনকে প্রাধান্য দিচ্ছি। কিন্তু ট্রাফিক বলতে পথচারীকেও বোঝায়। পরিকল্পনায় পথচারী গুরুত্ব পায় না।’

এখন এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে, কীভাবে রাস্তায় যানবাহনের গতি আরও বাড়ানো যায়, কীভাবে একটি গাড়িকে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে ছোটার সুযোগ দেয়া যায়, সেই চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু পথচারীদের কথাটা মাথায় রাখা হয় না, আন্ডারপাস আর ফুটব্রিজ পরিকল্পনায় থাকে না।

ভারী যানবাহনের দক্ষ চালকের যে ঘাটতি দেশে আছে, সেখানেও দুর্ঘটনার ফাঁদ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন এই প্রকৌশলী।

‘আমাদের এ মুহূর্তে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত ভারী যানবাহন আছে বাস ও ট্রাক মিলে। তার বিপরীতে আমাদের ভারী গাড়ি চালানোর লাইসেন্সধারী চালক আছে দেড় লাখ। তার মানে আমরা সাদা চোখেই দেখতে পাচ্ছি, প্রায় এক লাখ চালকের একটা ঘাটতি আছে।’

আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী, প্রতিটি ভারী বাহনের বিপরীতে দেড় থেকে দুইজন চালক থাকতে হয়। ওই আদর্শ মান ধরে যদি হিসেব করা হয়, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী চালকের ঘাটতি বেড়ে হবে প্রায় তিন লাখ।

তবে সড়ক নিরাপত্তার কথা যখন আসে, সেটা শুধু সড়ক আর যানবাহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

সরকার মিথ্যাচার করছে : মান্না

শোক দিবস উপলক্ষে এতিম শিশুদের মধ্যে খাবার বিতরণ করলো র‌্যাব

ছবি

সংরক্ষিত কবরে ফের দাফনে খরচ বাড়ল ১০-২০ হাজার টাকা

ছবি

রাজধানীতে ব্যাংকের বুথে ব্যবসায়ীকে হত্যা

ছবি

বনানীতে গাড়ির ধাক্কায় অটোরিকশা চালকের মৃত্যু, আহত মা-ছেলে

ছবি

হোটেল থেকে নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

ছবি

রাজধানীতে হোটেল থেকে নারী চিকিৎসকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

ছবি

বার্জার অ্যাওয়ার্ড ফর এক্সিলেন্স ইন আর্কিটেকচার এর দশম আয়োজন

বাস মালিকদের ওয়েবিলের জালে বন্দী যাত্রীরা, সর্বনিম্ন ১০ টাকার ভাড়া নেয়া হচ্ছে ৩৫ টাকা

প্রতি মাসে সরকারি গাড়ির ১৮ হাজার লিটার তেল কিনত চক্রটি

ভাঙারি দোকানে বিস্ফোরণ : দগ্ধ ৮ জনের মধ্যে মৃত্যু হলো ৭ জনের

শ্যামপুরে ট্রান্সফরমার বিস্ফোরণে ৪ শ্রমিক দগ্ধ

ছবি

তুরাগে রিকশার গ্যারেজে বিস্ফোরনে মৃতের সংখ‍্যা বেড়ে ৬

ছবি

গণপরিবহনে ভাড়া নৈরাজ্য চলছে

ছবি

প্রবাসীকে চড় মেরে বরখাস্ত হলেন কাস্টম কর্মকর্তা

ছবি

শাহবাগে সমাবেশে লাঠিপেটার পর মামলা পুলিশের

ছবি

মন্ত্রী পদমর্যাদা পাচ্ছেন ঢাকার দুই মেয়র

ছবি

উত্তরায় জার্মান নাগরিকের মরদেহ উদ্ধার

ভাঙারির দোকানে বিস্ফোরণে উত্তরায় ৪ জন নিহত

ছবি

ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়, গণপরিবহনে বিশৃঙ্খলা

ছবি

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: শাহবাগে প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশের লাঠিচার্জ

ছবি

জ্বালানির বাড়তি দাম প্রত্যাহার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান ধর্মঘাট

রাজধানীতে রিকশার গ্যারেজে বিস্ফোরণ অগ্নিদগ্ধ ৮ জন

ছবি

তুরাগে বিস্ফোরণে দগ্ধ তিনজনের মৃত্যু

ছবি

নয়াপল্টনে চলছে বিএনপির বিক্ষোভ, আজও রাস্তা বন্ধ

বাসে উঠতে যুদ্ধ, দ্বিগুণ ভাড়ায় বিরক্ত যাত্রীরা

ছবি

চট্টগ্রামে গণপরিবহন বন্ধের ঘোষণা, বিপাকে সাধারণ মানুষ

ছবি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি: রাজধানীতে পরিবহন সঙ্কট, ভোগান্তি

ছবি

আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ৪ বছরেও বিচার হয়নি

বিশ্বব্যাপী জ্বালানী সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে: চসিক মেয়র

ছবি

নারায়ণগঞ্জে ইউনিলিভার ও ইউএনডিপির প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প পরিদর্শন করলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার

ছবি

সেই সোহরাব সার্ভিস স্টেশনকে লাখ টাকা জরিমানা

ছবি

উত্তরা ক্লাব বন্যাদুর্গতদের জন্য ১০ লাখ টাকা দিয়েছে

ছবি

ডিএসসিসির ৬৭৪১.২৮ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

ছবি

দুবাইফেরত বিমানের ফ্লাইট থেকে কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার

মোহাম্মদপুরে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে দুই শ্রমিক

tab

নগর-মহানগর

সড়কে মৃত্যু যেন এক মহামারী

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের চতুর্থবার্ষিকীতে খিলক্ষেতে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনকারীদের মানববন্ধন -সংবাদ

শুক্রবার, ২৯ জুলাই ২০২২

সড়কে মৃত্যু যেন এক নীরব মহামারীতে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর বাংলাদেশে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি লাখে যত মানুষের মৃত্যু হয়, সেই সংখ্যা ধনী দেশগুলোর গড় সংখ্যার দ্বিগুণ। আর সবচেয়ে কম দুর্ঘটনার দেশগুলোর প্রায় পাঁচগুণ।

গেল চার বছর আগে নিরাপদ সড়কের দাবিতে পুরো বাংলাদেশকে অচল করে দিয়েছিল শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে সরকারের তরফ থেকে পেয়েছে বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি। চাপের মুখে একটি আইনও হয়েছে, সেই আইনে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকের শাস্তি বেড়েছে এই যা। এককথায় বলতে হয় পরিস্থিতি বদলেছে, তবে তা সামান্যই। শুক্রবার (২৯ জুলাই) আন্দোলনের চতুর্থ-বার্ষিকী উপলক্ষে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকায় পদযাত্রা করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিরআ) পদযাত্রায় নিহতদের স্মরনে মৃত্যুর মিছিল বন্ধে কর্তৃপক্ষের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।

পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৮ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরের বছর সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে হয় ৪ হাজার ১৩৮ জন। এসব দুর্ঘটনার বেশিরভাগ ঘটে মহাসড়কে, আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যান।

এদিকে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলন বলছে, প্রতি বছর চার হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ যাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনায়। আরও অগনিত মানুষ গুরুতরভাবে আহত হচ্ছে, মেনে নিতে হচ্ছে পঙ্গু জীবন।

২০১৮ সালের ২৯ জুলাই ঢাকার শহীদ রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের কিছু শিক্ষার্থী কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে ফুটপাথে বিমানবন্দর সড়কে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। একটি বাস থামলে সেটায় ওঠার চেষ্টা করেন তারা।

ঠিক ওই সময় জাবালে নূর পরিবহনের দুটি বাস আগে যাত্রী তোলার জন্য নিজেদের মাঝে প্রতিযোগিতা করতে করতে দ্রুত গতিতে এগিয়ে আসে এবং একটি বাস বেপরোয়াভাবে ফুটপাতে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের উপর উঠে যায়।

ওই ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ যায়, ১২ জন গুরুতর আহত হয়। বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা রাস্তায় নেমে আসে, নিরাপদ সড়কের দাবিতে সেই আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে।

শিক্ষার্থীদের সেই আন্দোলন দেখিয়ে দেয়, আইনের রক্ষক যে পুলিশ, তাদের চালকও লাইসেন্স ছাড়া, চলার অনুপযোগী গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামছে।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের হিসাবে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে নিবন্ধিত যানবাহনের সংখ্যা ছিল ৪৫ লাখ। অথচ লাইসেন্সধারী চালক আছে মোটাদাগে তার অর্ধেক। এর অর্থ হল, বাংলাদেশের অর্ধেক যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ এখন লাইসেন্সবিহীন চালকের হাতে। আর সঠিক প্রশিক্ষণের প্রশ্ন তুললে চিত্রটা হবে আরও উদ্বেগজনক। অথচ চালকদের প্রশিক্ষিত করেও বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

২০২০ সালে মহামারীর কারণে দীর্ঘ লকডাউনে মৃত্যুর সংখ্যা সামান্য কমে ৩ হাজার ৯১৮ জন হয়। আর এ বছর সাত মাসেই সে সংখ্যা পৌঁছেছে ৩ হাজার ৫০২ জনে। অর্থাৎ প্রতিদিন সড়কে প্রাণ গেছে অন্তত ১৪ জনের।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ বছরে সারাদেশে ১৫ হাজার ১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৭ হাজার ৮৮৬ জনের; আরও ৩২ হাজার ৩৩০ জন আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশ রোড সেইফটি ফাউন্ডেশনের হিসাবে ২০২১ সালে দেশে ৫ হাজার ৩৭১টি দুর্ঘটনায় অন্তত ৬ হাজার ২৮৪ জনের মৃত্যু হয়; আহত হন আরও ৭ হাজার ৪৬৮ জন। প্রতিবছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতি লাখে যত মানুষের মৃত্যু হয়, সেই সংখ্যা ধনী দেশগুলোর গড় সংখ্যার দ্বিগুণ, সবচেয়ে কম দুর্ঘটনার দেশগুলোর প্রায় পাঁচগুণ।

বুয়েটের অ্যাক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক হাদিউজ্জামান। তিনি বলেন, দেশে দুর্ঘটনায় বছরে যত মানুষ মারা যায়, তার ৪৯ শতাংশ পথচারী। এসব দুর্ঘটনার একটি বড় অংশ ঘটে মহাসড়কে। ৫৯ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভারী যানবাহনের নিচে পড়ে পথচারীর মৃত্যু হচ্ছে।

এক্ষেত্রে অবকাঠামো নির্মাণের সময় পরিকল্পনার দুর্বলতার বিষয়টি তুলে ধরে অধ্যাপক হাদিউজ্জামান বলেন, ‘আমরা যখন কোন প্রকল্প নিই, সেই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় অবকাঠামোর বিষয়টা থাকছে না বলে আমি মনে করি। ট্রাফিক ওরিয়েন্টেড পরিকল্পনা করছি এবং সেটা করতে গিয়ে আমরা শুধুমাত্র যানবাহনকে প্রাধান্য দিচ্ছি। কিন্তু ট্রাফিক বলতে পথচারীকেও বোঝায়। পরিকল্পনায় পথচারী গুরুত্ব পায় না।’

এখন এক্সপ্রেসওয়ে হচ্ছে, কীভাবে রাস্তায় যানবাহনের গতি আরও বাড়ানো যায়, কীভাবে একটি গাড়িকে ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার গতিতে ছোটার সুযোগ দেয়া যায়, সেই চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু পথচারীদের কথাটা মাথায় রাখা হয় না, আন্ডারপাস আর ফুটব্রিজ পরিকল্পনায় থাকে না।

ভারী যানবাহনের দক্ষ চালকের যে ঘাটতি দেশে আছে, সেখানেও দুর্ঘটনার ফাঁদ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন এই প্রকৌশলী।

‘আমাদের এ মুহূর্তে প্রায় আড়াই লাখ নিবন্ধিত ভারী যানবাহন আছে বাস ও ট্রাক মিলে। তার বিপরীতে আমাদের ভারী গাড়ি চালানোর লাইসেন্সধারী চালক আছে দেড় লাখ। তার মানে আমরা সাদা চোখেই দেখতে পাচ্ছি, প্রায় এক লাখ চালকের একটা ঘাটতি আছে।’

আন্তর্জাতিক মানদন্ড অনুযায়ী, প্রতিটি ভারী বাহনের বিপরীতে দেড় থেকে দুইজন চালক থাকতে হয়। ওই আদর্শ মান ধরে যদি হিসেব করা হয়, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে লাইসেন্সধারী চালকের ঘাটতি বেড়ে হবে প্রায় তিন লাখ।

তবে সড়ক নিরাপত্তার কথা যখন আসে, সেটা শুধু সড়ক আর যানবাহনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।

back to top