alt

নগর-মহানগর

সিআইডি পরিচয়ে তুলে নেয়া চিকিৎসক শাকির সিটিটিসি হেফাজতে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজধানীর রামপুরার বাসা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচয়ে তুলে নেয়া চিকিৎসক শাকির বিন ওয়ালিকে ৪ দিন পর বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে তোলে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। শাকির জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত দাবি করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করার পর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এদিকে শাকির বিন ওয়ালি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কোনভাবে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেছে পরিবার। সংবাদ সম্মেলন করে পরিবার দাবি করছে শাকির বিন ওয়ালিকে ফাঁসানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ৪ জন শাকির বিন ওয়ালীকে রামপুরার বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। পরে রাতে এসে একই পরিচয়ে শাকিরের ফোন নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। সিআইডিতে গিয়ে ছেলের খোঁজ না পেয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায় শাকিরের বাবা ডা. ওয়ালিউল্লাহ। পরে পরিবার জানতে পারে সিআইডি নয় শাকির বিন ওয়ালীকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট নিয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড হেফাজতে নেয় সিটিটিসি। শাকিরের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত থাকার খবর শুনে এসব মিথ্যা দাবি করে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পরিবারটি।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপপুলিশ কমিশনার এসএম নাজমুল হক জানান, শাকির বিন ওয়ালি জঙ্গি জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে যে ৭ তরুণ নিখোঁজ হয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তারা সবাই জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত হতে বাড়ি ছেড়েছেন। তাদের লিঙ্কে শাকির বিন ওয়ালির সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের দাবির বিষয়ে ডিসি নাজমুল হক জানান, আমরা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই শাকির বিন ওয়ালিকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড হেফাজতে পাওয়া গেছে। সে নির্দোষ নাকি তার সম্পৃক্ততা আছে সেটি আদালতে নির্ধারণ হবে।

এদিকে বুধবার শাকির বিন ওয়ালির বিষয়ে আকস্মিক সংবাদ সম্মেলন করতে তার বাবা চক্ষু চিকিৎসক ওয়ালীউল্লাহ, শাকিরের স্ত্রী আশয়া বিনতে এবং বোন ওয়ালী বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হাজির হন। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে প্রথমে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে সেখানে করতে না পেরে পরে রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাকিরের বাবা ডা. ওয়ালীউল্লাহ দাবি করেন তার ছেলে শাকির বিন ওয়ালি ইন্টার্ন শেষ করে এফসিপিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। যে অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার সঙ্গে শাকিরের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাকে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে সাজানো মামলা দেয়া হয়েছে। ডা. ওয়ালীউল্লাহর দাবি, শাকির বিন ওয়ালীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করেছে। কাউকে আটক করতে হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকতে হয়। শাকির বিন ওয়ালিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য একটি সংস্থার নাম ব্যবহার করে তুলে নিয়ে ৪ দিন গুম করে রাখার পর এখন তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

শাকিরের স্ত্রী আয়শা বিনতে ওয়ালি দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ ছাত্রদের বড় ভাই শাকির। ওইসব ছাত্রদের জঙ্গিবাদে জড়াতে শাকির নাকি উৎসাহ দিয়েছে, অথচ ওইসব ছেলেদের কাউকেই শাকির চিনে না। তাদের কারো সঙ্গেই শাকিরের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি যদি জঙ্গি হতেন তাহলে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না, আমাকে মেডিকেলে পড়াতেন না। ২০০১ সালে ইন্টার্ন শেষ করে আমার স্বামী বরিশালে আমার সঙ্গে ছিলেন। আমি বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়াশুনা করছি। জঙ্গিবাদে জড়ানো বিভিন্ন ব্যক্তিদের যেসব লক্ষণ থাকে তার কোন লক্ষণই আমার স্বামীর মধ্যে ছিল না।

সিটিটিসির দাবি সম্প্রতি ‘কুমিল্লা থেকে সাত যুবক নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত তিনি। তার নির্দেশেই বাসা ছাড়েন তারা। এই চিকিৎসক আনসার আল ইসলামের একজন সক্রিয় সদস্য ও সাতজনের কথিত বড় ভাই’। ২০২১ সাল থেকে ডা. শাকির ওই ৭ যুবককে টার্গেট করে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে মগজ ধোলাই করে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সময় ডা. শাকির উগ্রবাদে জড়ায়। ২০১৮ সালে সে একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিল। মূলত কুমিল্লা থেকে জঙ্গিবাদের জন্য ঘর ছাড়া ৭ তরুণকে রিক্রুটকারীদের একজন ডা. শাকির।

চিকিৎসক সাকির বিন ওয়ালীর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে কোন সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই আসে না দাবি করে তার বাবা ডা. ওয়ালীউল্লহ বলেছেন, তার (চিকিৎসক সাকির বিন ওয়ালী) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে আনা হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল ও ভিত্তি নেই। আমরা আইনের মাধ্যমে প্রমাণ করব যে এগুলো ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। এজন্য আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চাই। তাকে গত চার দিন থেকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো আমরা আইনের মাধ্যমেই খন্ডন করবো।

চিকিৎসক শাকির বিন ওয়ালী ছাত্রবস্থায় জামাত-শিবির পরিচালিত মেডিকেল কোচিং সেন্টার ‘রেটিনা’য় শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। এর বাইরে তার আর কোন পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তার সঙ্গে কখনো কোন জঙ্গি সংগঠনের দূরতম সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেন তার বাবা ওয়ালীউল্লাহ।

তিনি বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে কুমিল্লায় সাতটি ছেলে নিখোঁজে আমার ছেলে নাকি জড়িত এটা একটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। আমার ছেলে মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে দুই বছর হলো ঢাকায় এসেছে। সে কুমিল্লার ছেলেদের উস্কানি দিচ্ছে অথচ সে এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। এমন সব আনা অভিযোগ কি করে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে। আমার ছেলের সঙ্গে ওই কুমিল্লার ছেলেদের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। কোনদিন ছিল না, তাদের সে চিনেও না। তাদের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে তাদের যদি কোন ধরনের সম্পর্ক থাকত তবে সে পালিয়ে থাকত। বাসায় দিন-দুপুরে থাকত না। সে নির্বিঘ্নে বাসায় থেকে পড়াশুনা করত না। সে আগামী ২০২৩ সালে এফসিপিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল অথচ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে তা কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য তা আমার বিবেকে বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন, গত ২৭ বছর ধরে পূর্ব হাজীপাড়ায় আমি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত। সাকির ছোটকাল থেকে সেখানেই বড় হয়েছে। এলাকাবাসীও তার সম্পর্কে খুব ভালো জানে। সে মেডিকেল পড়াশুনা নিয়েই বাসাতেই থাকত। এমবিএসএস পাস করার পর বাসা থেকে এফসিপিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একজন এফসিপিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্ততি নেয়া চিকিৎসক কিভাবে এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারে তা বিবেচনা করার জন্য দেশবাসীর কাছে ছেড়ে দিলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুনাম ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বাহিনীর কোন সদস্য বা কুচক্রী মহল এমন কাজ করছে কি না তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করতে চাই। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এমনটা করা হয়েছে কি না তাও প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসকদের সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন ও এই পেশা থেকে দূরে রাখতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কি না এটাও সবার কাছে বিবেচনার জন্য পেশ করছি। ধর্মপ্রাণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়া, সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরির জন্য আমার ছেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত ডিএনসিসির মেয়র আতিক

কামরাঙ্গীরচরে ভেজাল প্রসাধনীসহ গ্রেপ্তার ৭

রাজধানীতে পলিথিন ব্যবসায়ীকে অজ্ঞান করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছে

বাংলাদেশে সম্প্রীতির উজ্জ্বল নজির রয়েছে : আইজিপি

ছবি

তৃতীয়বার করোনায় আক্রান্ত মেয়র আতিক

ছবি

গুলিস্তানে দুই বাসের চাপায় নারীর মৃত্যু

ছবি

ভিকারুননিসার অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে নোটিশ

১৫ বছর ধরে বিমানবন্দরে সক্রিয় এক ‘অজ্ঞান পার্টি’

ছবি

বাসায় পড়েছিল অর্ধগলিত লাশ, পুলিশ বলছে হত্যাকাণ্ড

ছবি

অনলাইনে কর পরিশোধে ১০ শতাংশ ছাড় দেবে ডিএনসিসি

ছবি

পরিবাগে ছুরিকাঘাতে তৃতীয় লিঙ্গের একজন নিহত

ছবি

বর্জ্য রিসাইকেল করার লক্ষ্যে কর্ডএইডকে তহবিল সহায়তা দিচ্ছে কোকা-কোলা ফাউন্ডেশন

ছবি

উত্তরায় হোটেল থেকে ব্রিটিশ নাগরিকের লাশ উদ্ধার

ছবি

রাজধানীতে অচেতন অবস্থায় তরুণী উদ্ধার, ধর্ষণের অভিযোগ

ছবি

শেখ হাসিনা নারী জাগরণে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন: আইভী

ছবি

রাজধানীতে ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

‘স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা সাম্প্রাদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টায় লিপ্ত’

ছবি

সমাবেশের আগেই হাজারীবাগে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষ

ছবি

মোহাম্মদপুরে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

ছবি

দেশে বর্তমানে ১৩ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

ছবি

বংশালে সাততলা থেকে পড়ে উদয়নের শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ছবি

বুয়েট এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় নিহত ১

ছবি

ডিএমপির ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি

ছবি

‘হিডেন হেরিটেজ: হোমস ইন ঢাকা’ প্রকল্পের উন্মোচন

ছবি

রাজধানীতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে গৃহবধূর মৃত্যু!

ছবি

পুরান ঢাকায় আগুনে পুড়ল দুই দোকান

ছবি

চার্জশিটে একাধিক সন্ত্রাসী ও আ’লীগ নেতার নাম থাকতে পারে

ছবি

সড়ক ও ফুটপাতে রাখা নির্মাণসামগ্রী নিলামে তুলে বিক্রি

ছবি

রাজধানীতে মাদকবিরোধী অভিযানে আটক ৩৯

বিএনপির ২ শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পুলিশের মামলা

মুগদা ও আশপাশের এলাকায় গ্যাস সংকট চরমে

শাহজাহানপুরে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু, আত্মহত্য বলে পুলিশের ধারণা

ছবি

শিক্ষার্থী নিহত, নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি

দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে না পারলে আগামী দিনে পিছিয়ে পড়তে হবে: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক

ছবি

বিমানের সিটের নিচে দেড় কোটি টাকার স্বর্ণ

ছবি

ফার্মগেটে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

tab

নগর-মহানগর

সিআইডি পরিচয়ে তুলে নেয়া চিকিৎসক শাকির সিটিটিসি হেফাজতে

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বুধবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

রাজধানীর রামপুরার বাসা থেকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরিচয়ে তুলে নেয়া চিকিৎসক শাকির বিন ওয়ালিকে ৪ দিন পর বুধবার (১৪ সেপ্টেম্বর) আদালতে হাজির করা হয়েছে। জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে আদালতে তোলে জঙ্গি কার্যক্রম পর্যবেক্ষণকারী পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। শাকির জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত দাবি করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করার পর ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এদিকে শাকির বিন ওয়ালি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে কোনভাবে সম্পৃক্ত নয় বলে দাবি করেছে পরিবার। সংবাদ সম্মেলন করে পরিবার দাবি করছে শাকির বিন ওয়ালিকে ফাঁসানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিকেলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ৪ জন শাকির বিন ওয়ালীকে রামপুরার বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। পরে রাতে এসে একই পরিচয়ে শাকিরের ফোন নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় জিডি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। সিআইডিতে গিয়ে ছেলের খোঁজ না পেয়ে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায় শাকিরের বাবা ডা. ওয়ালিউল্লাহ। পরে পরিবার জানতে পারে সিআইডি নয় শাকির বিন ওয়ালীকে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট নিয়ে গেছে। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ড হেফাজতে নেয় সিটিটিসি। শাকিরের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত থাকার খবর শুনে এসব মিথ্যা দাবি করে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করে পরিবারটি।

পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপপুলিশ কমিশনার এসএম নাজমুল হক জানান, শাকির বিন ওয়ালি জঙ্গি জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্য। সম্প্রতি কুমিল্লা থেকে যে ৭ তরুণ নিখোঁজ হয়েছে তাদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তারা সবাই জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত হতে বাড়ি ছেড়েছেন। তাদের লিঙ্কে শাকির বিন ওয়ালির সম্পৃক্ততা পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিবারের দাবির বিষয়ে ডিসি নাজমুল হক জানান, আমরা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই শাকির বিন ওয়ালিকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড হেফাজতে পাওয়া গেছে। সে নির্দোষ নাকি তার সম্পৃক্ততা আছে সেটি আদালতে নির্ধারণ হবে।

এদিকে বুধবার শাকির বিন ওয়ালির বিষয়ে আকস্মিক সংবাদ সম্মেলন করতে তার বাবা চক্ষু চিকিৎসক ওয়ালীউল্লাহ, শাকিরের স্ত্রী আশয়া বিনতে এবং বোন ওয়ালী বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হাজির হন। বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে প্রথমে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে সেখানে করতে না পেরে পরে রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ডা. শাকিরের বাবা ডা. ওয়ালীউল্লাহ দাবি করেন তার ছেলে শাকির বিন ওয়ালি ইন্টার্ন শেষ করে এফসিপিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেলেন। যে অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার সঙ্গে শাকিরের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাকে জঙ্গি কার্যক্রমে যুক্ত থাকার অভিযোগের সঙ্গে জড়িয়ে সাজানো মামলা দেয়া হয়েছে। ডা. ওয়ালীউল্লাহর দাবি, শাকির বিন ওয়ালীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেআইনিভাবে গ্রেপ্তার করেছে। কাউকে আটক করতে হলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকতে হয়। শাকির বিন ওয়ালিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য একটি সংস্থার নাম ব্যবহার করে তুলে নিয়ে ৪ দিন গুম করে রাখার পর এখন তার বিরুদ্ধে কাল্পনিক অভিযোগ আনা হয়েছে।

শাকিরের স্ত্রী আয়শা বিনতে ওয়ালি দাবি করেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে বলা হয়েছে কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ ছাত্রদের বড় ভাই শাকির। ওইসব ছাত্রদের জঙ্গিবাদে জড়াতে শাকির নাকি উৎসাহ দিয়েছে, অথচ ওইসব ছেলেদের কাউকেই শাকির চিনে না। তাদের কারো সঙ্গেই শাকিরের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি যদি জঙ্গি হতেন তাহলে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন না, আমাকে মেডিকেলে পড়াতেন না। ২০০১ সালে ইন্টার্ন শেষ করে আমার স্বামী বরিশালে আমার সঙ্গে ছিলেন। আমি বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়াশুনা করছি। জঙ্গিবাদে জড়ানো বিভিন্ন ব্যক্তিদের যেসব লক্ষণ থাকে তার কোন লক্ষণই আমার স্বামীর মধ্যে ছিল না।

সিটিটিসির দাবি সম্প্রতি ‘কুমিল্লা থেকে সাত যুবক নিখোঁজের ঘটনায় জড়িত তিনি। তার নির্দেশেই বাসা ছাড়েন তারা। এই চিকিৎসক আনসার আল ইসলামের একজন সক্রিয় সদস্য ও সাতজনের কথিত বড় ভাই’। ২০২১ সাল থেকে ডা. শাকির ওই ৭ যুবককে টার্গেট করে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে মগজ ধোলাই করে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পড়ার সময় ডা. শাকির উগ্রবাদে জড়ায়। ২০১৮ সালে সে একবার গ্রেপ্তারও হয়েছিল। মূলত কুমিল্লা থেকে জঙ্গিবাদের জন্য ঘর ছাড়া ৭ তরুণকে রিক্রুটকারীদের একজন ডা. শাকির।

চিকিৎসক সাকির বিন ওয়ালীর সঙ্গে জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সঙ্গে কোন সম্পর্ক থাকার প্রশ্নই আসে না দাবি করে তার বাবা ডা. ওয়ালীউল্লহ বলেছেন, তার (চিকিৎসক সাকির বিন ওয়ালী) বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগে আনা হয়েছে সেগুলোর সঙ্গে বাস্তবতার কোন মিল ও ভিত্তি নেই। আমরা আইনের মাধ্যমে প্রমাণ করব যে এগুলো ভুয়া, মিথ্যা ও বানোয়াট এবং সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। এজন্য আমরা আইনের আশ্রয় নিতে চাই। তাকে গত চার দিন থেকে অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো আমরা আইনের মাধ্যমেই খন্ডন করবো।

চিকিৎসক শাকির বিন ওয়ালী ছাত্রবস্থায় জামাত-শিবির পরিচালিত মেডিকেল কোচিং সেন্টার ‘রেটিনা’য় শিক্ষক হিসেবে ছিলেন। এর বাইরে তার আর কোন পরিচয় বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। তার সঙ্গে কখনো কোন জঙ্গি সংগঠনের দূরতম সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেন তার বাবা ওয়ালীউল্লাহ।

তিনি বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তার মধ্যে কুমিল্লায় সাতটি ছেলে নিখোঁজে আমার ছেলে নাকি জড়িত এটা একটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন কথা। আমার ছেলে মেডিকেল কলেজ থেকে পাস করে দুই বছর হলো ঢাকায় এসেছে। সে কুমিল্লার ছেলেদের উস্কানি দিচ্ছে অথচ সে এফসিপিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। এমন সব আনা অভিযোগ কি করে বিশ্বাসযোগ্য হতে পারে। আমার ছেলের সঙ্গে ওই কুমিল্লার ছেলেদের কোন ধরনের সম্পর্ক নেই। কোনদিন ছিল না, তাদের সে চিনেও না। তাদের সঙ্গে যোগসূত্র তৈরির জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখার জন্য দাবি করছি।

তিনি আরও বলেন, আমার ছেলের সঙ্গে তাদের যদি কোন ধরনের সম্পর্ক থাকত তবে সে পালিয়ে থাকত। বাসায় দিন-দুপুরে থাকত না। সে নির্বিঘ্নে বাসায় থেকে পড়াশুনা করত না। সে আগামী ২০২৩ সালে এফসিপিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল অথচ তাকে ধরে নিয়ে গিয়ে এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে তা কিভাবে বিশ্বাসযোগ্য তা আমার বিবেকে বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন, গত ২৭ বছর ধরে পূর্ব হাজীপাড়ায় আমি চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত। সাকির ছোটকাল থেকে সেখানেই বড় হয়েছে। এলাকাবাসীও তার সম্পর্কে খুব ভালো জানে। সে মেডিকেল পড়াশুনা নিয়েই বাসাতেই থাকত। এমবিএসএস পাস করার পর বাসা থেকে এফসিপিএসের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। একজন এফসিপিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্ততি নেয়া চিকিৎসক কিভাবে এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত হতে পারে তা বিবেচনা করার জন্য দেশবাসীর কাছে ছেড়ে দিলাম। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সুনাম ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য বাহিনীর কোন সদস্য বা কুচক্রী মহল এমন কাজ করছে কি না তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করতে চাই। তাকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়ার জন্য এমনটা করা হয়েছে কি না তাও প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসকদের সেবা থেকে বিচ্ছিন্ন ও এই পেশা থেকে দূরে রাখতে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে কি না এটাও সবার কাছে বিবেচনার জন্য পেশ করছি। ধর্মপ্রাণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উস্কে দেয়া, সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা ছড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনী সম্পর্কে বিরূপ ধারণা তৈরির জন্য আমার ছেলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।

back to top