alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

ধর্ষণের অভিযোগে মামুনুলের বিরুদ্ধে ঝর্ণার মামলা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল ২০২১
image

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ এনে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও খেলাফত মসলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জান্নাত আরা ঝর্ণা। যদিও মামুনুল হক ঝর্ণাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন। তবে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় করা মামলায় ঝর্ণা উল্লেখ করেছেন তিনি মামুনুল হকের স্ত্রী নন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনারগাঁও থানার ডিউটি অফিসার উপ-পুলিশ পরিদর্শক তপন কুমার বাগচী বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জান্নাত আরা ঝর্ণা বাদি হয়ে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯ এর ক ধারায় মামলা করেছেন। এটি ধর্ষণের ধারা।’

জান্নাত আরা ঝর্ণা এজহারে উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রলোভন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক তার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে তাকে নিয়ে যান।

ঝর্ণা এজাহারে বলেন, ‘২০০৫ সালে তার স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয়। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় তাদের বাড়িতে মামুনুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। মামুনুলের সঙ্গে পরিচয়ের আগে তারা সুখে–শান্তিতে বসবাস করছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্যের মধ্যে প্রবেশ করে মামুনুল হক শহীদুল ও আমার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। মামুনুলের কারণে তাদের দাম্পত্য জীবন চরমভাবে বিষিয়ে ওঠে। সাংসারিক এই টানাপোড়েনে একপর্যায়ে মামনুলের পরামর্শে বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

জান্নাত আরা অভিযোগ করেন, ‘বিচ্ছেদের পর তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় মামুনুল তাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। তিনি ঢাকায় চলে আসেন। মামুনুল তাকে তার অনুসারীদের বাসায় রাখেন। সেখানে নানাভাবে তাকে প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে জান্নাত তার প্রলোভনে পা দেন। এরপর মামুনুল জান্নাতকে উত্তর ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় সাবলেট রাখেন। একটি বিউটি পারলারে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকায় থাকার খরচ মামুনুলই দিচ্ছিলেন।

ঝর্ণা এজাহারে আরও বলেন, ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কিছু মানুষ আমাদের আটক করে ফেলে। পরে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের নিয়ে যায়। কিন্তু মামুনুল আমাকে নিজের বাসায় ফিরতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় অবৈধভাবে আটকে রাখেন। কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেননি।

মামলার অভিযোগে ঝর্ণা বলেন, পরে কৌশলে আমি আমার বড় ছেলেকে আমার দুরবস্থার সব কথা জানাই এবং আমাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। পরে ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করলে জানতে পারি, আমার বাবা রাজধানীর কলাবাগান থানায় আমাকে উদ্ধারের জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ আমাকে উদ্ধারের পর বাবার জিম্মায় দেয়। সেখানে আমি আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়।’

ঝর্ণার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নে। তার বাবা ওলিয়ার রহমান। গত ২৪ এপ্রিল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলফাডাঙ্গা থেকে ঢাকায় আনে গোয়েন্দা পুলিশ। ততদিনে ঝর্ণার কোনো খোঁজ কারো কাছে ছিল না। বাবা হিসেবে ২৬ এপ্রিল মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশের সহায়তায় চেয়ে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। ২৭ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ঝর্ণাকে উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদীর ঢাকা সফরকালে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জ্বালাও পোড়াওয়ের মামলায় মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখন তিনি পুলিশি রিমান্ডে আছেন।

ছবি

ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে চার কোটি টাকা উধাও

ছবি

বায়িং হাউজের নামে প্রক্রিয়াজাত হতো ভয়ংকর মাদক আইস

ছবি

জোড়া খুনের পলাতক আসামি সাড়ে তিন বছর পর গ্রেফতার

ছবি

মুন্সীগঞ্জে গৃহবধূকে পিটিয়ে আহত করেছে সন্ত্রাসীরা

ছবি

আদালতের রায়ের পরও বিনা নোটিশে জায়গায় লাল নিশান

ছবি

চাকরি প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করত চক্রটি

ছবি

উত্তরা থেকে ভয়ানক মাদক আইস সিন্ডিকেটের মূলহোতাসহ আটক ৬

ছবি

প্রাইভেটকারে যাত্রী পরিবহনের নামে ছিনতাই

ছবি

সিলেটে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামীর ফাঁসি কার্যকর

প্রাইভেটকারে যাত্রী পরিবহনের নামে ছিনতাই

ছবি

মির্জাপুরে স্ত্রীর অভিযোগে মাদকাসক্ত স্বামীর সাজা

ছবি

গণপূর্ত ভবনে ঠিকাদার আওয়ামীলীগ নেতাদের অস্ত্রের মহড়া

ছবি

৪১টি চোরাই মোবাইলসহ মাদক ও মোবাইল চোরাকারবারী চক্রের ৪ জন গ্রেফতার

ছবি

মামার বাড়িতে থাকায় বেঁচে যায় পাঁচ বছরের শিশু সন্তান

ছবি

সংসদ সদস্য পদ ফিরে পেতে পাপুলের রিট আপিলেও খারিজ

ছবি

‘নায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা’

ছবি

১৮ মামলার আসামি বার্মা সাইফুল গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক

ছবি

গুলশানের ক্লাবে অপ্রীতিকর কিছু ঘটাইনি: পরীমণি

ছবি

সিলেটে এক পরিবারের ৩ জনকে জবাই করে হত্যা

ছবি

রোগীদের বেড নিজের বাড়িতে নিয়ে যাবার সময় জনতার কাছে ধরা খেলেন চিকিৎসক

ছবি

নারায়ণগঞ্জে দু’দিনে ১৫ হাজার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন

ছবি

প্রশাসনের উদাসীনতায় ভবেরচর বাজার, পুকুর ও ডোবার সরকারি ১৫০ শতাংশ গিলে খাচ্ছে!

ছবি

ভিজিডি কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ

ছবি

ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে মালিকের দোকান ভিটা দখলের অভিযোগ

পুলিশ অমির রিক্রুটিং এজেন্সি থেকে শতাধিক পাসপোর্ট উদ্বার করেছে, গ্রেপ্তার ২

ছবি

বিয়ানীবাজারে সাড়ে তিনকেজি গাঁজাসহ আটক ২

ছবি

সিলেটে ত্রিপল মার্ডার: দুই ক্লু নিয়ে কাজ করছে পুলিশ

ছবি

মাদ্রাসার ২০ কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ: মামুনুলসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি

পরীমণিকে নির্যাতনের ঘটনায় অমির দুই সহযোগী গ্রেফতার

ছবি

সিলেটে বিয়ের বাজারের কথা বলে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

ছবি

গজারিয়ায় বৈদ্যোরগাঁও দূষিত পানি দিয়ে চলছে সাপ্লাই প্রকল্প

ছবি

টঙ্গিবাড়ী উপজেলার হাসাইল-বানারী ইউনিয়নের মূর্তিমান আতঙ্ক রাজন মেলকার

ছবি

ফেবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে গৃহবধুকে একাধিকবার ধর্ষণ

ছবি

প্লেন যাত্রীর পেট থেকে বের করা হলো ৫৮ পুটলি ইয়াবা

ছবি

মাদক মামলায় ব্যবসায়ী নাসির ও অমি ৭ দিনের রিমান্ডে

ছবি

পরীমনিকে ডিবি কার্যালয়ে তলব

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

ধর্ষণের অভিযোগে মামুনুলের বিরুদ্ধে ঝর্ণার মামলা

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট
image

শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল ২০২১

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ার অভিযোগ এনে হেফাজতে ইসলামের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম-মহাসচিব ও খেলাফত মসলিসের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন জান্নাত আরা ঝর্ণা। যদিও মামুনুল হক ঝর্ণাকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেছিলেন। তবে শুক্রবার নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায় করা মামলায় ঝর্ণা উল্লেখ করেছেন তিনি মামুনুল হকের স্ত্রী নন।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনারগাঁও থানার ডিউটি অফিসার উপ-পুলিশ পরিদর্শক তপন কুমার বাগচী বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ১০টা ৫ মিনিটে জান্নাত আরা ঝর্ণা বাদি হয়ে মামুনুল হকের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধিত ২০০৩ এর ৯ এর ক ধারায় মামলা করেছেন। এটি ধর্ষণের ধারা।’

জান্নাত আরা ঝর্ণা এজহারে উল্লেখ করেন, বিয়ের প্রলোভন ও অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে মামুনুল হক তার সঙ্গে সম্পর্ক করেছেন। কিন্তু বিয়ের কথা বললে মামুনুল করছি, করব বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। ২০১৮ সাল থেকে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল বিভিন্ন হোটেল, রিসোর্টে তাকে নিয়ে যান।

ঝর্ণা এজাহারে বলেন, ‘২০০৫ সালে তার স্বামী মাওলানা শহীদুল ইসলামের মাধ্যমে মামুনুল হকের সঙ্গে পরিচয় হয়। স্বামীর বন্ধু হওয়ায় তাদের বাড়িতে মামুনুলের অবাধ যাতায়াত ছিল। মামুনুলের সঙ্গে পরিচয়ের আগে তারা সুখে–শান্তিতে বসবাস করছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর মতানৈক্যের মধ্যে প্রবেশ করে মামুনুল হক শহীদুল ও আমার মধ্যে দূরত্ব তৈরি করতে থাকেন। মামুনুলের কারণে তাদের দাম্পত্য জীবন চরমভাবে বিষিয়ে ওঠে। সাংসারিক এই টানাপোড়েনে একপর্যায়ে মামনুলের পরামর্শে বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

জান্নাত আরা অভিযোগ করেন, ‘বিচ্ছেদের পর তিনি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েন। এ সময় মামুনুল তাকে খুলনা থেকে ঢাকায় আসার জন্য বলেন। তিনি ঢাকায় চলে আসেন। মামুনুল তাকে তার অনুসারীদের বাসায় রাখেন। সেখানে নানাভাবে তাকে প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে জান্নাত তার প্রলোভনে পা দেন। এরপর মামুনুল জান্নাতকে উত্তর ধানমন্ডির নর্থ সার্কুলার রোডের একটি বাসায় সাবলেট রাখেন। একটি বিউটি পারলারে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। ঢাকায় থাকার খরচ মামুনুলই দিচ্ছিলেন।

ঝর্ণা এজাহারে আরও বলেন, ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে ঘোরাঘুরির কথা বলে মামুনুল হক নিয়ে যান। সেখানে অবস্থানকালে কিছু মানুষ আমাদের আটক করে ফেলে। পরে মামুনুল হকের অনুসারীরা রিসোর্টে হামলা করে আমাদের নিয়ে যায়। কিন্তু মামুনুল আমাকে নিজের বাসায় ফিরতে না দিয়ে পরিচিত একজনের বাসায় অবৈধভাবে আটকে রাখেন। কারও সঙ্গে যোগাযোগও করতে দেননি।

মামলার অভিযোগে ঝর্ণা বলেন, পরে কৌশলে আমি আমার বড় ছেলেকে আমার দুরবস্থার সব কথা জানাই এবং আমাকে বন্দিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য আইনের আশ্রয় নিতে বলি। পরে ডিবি পুলিশ আমাকে উদ্ধার করলে জানতে পারি, আমার বাবা রাজধানীর কলাবাগান থানায় আমাকে উদ্ধারের জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। পুলিশ আমাকে উদ্ধারের পর বাবার জিম্মায় দেয়। সেখানে আমি আমার পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে পরামর্শ করায় অভিযোগ দায়ের করতে বিলম্ব হয়।’

ঝর্ণার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার গোপালপুর ইউনিয়নে। তার বাবা ওলিয়ার রহমান। গত ২৪ এপ্রিল তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলফাডাঙ্গা থেকে ঢাকায় আনে গোয়েন্দা পুলিশ। ততদিনে ঝর্ণার কোনো খোঁজ কারো কাছে ছিল না। বাবা হিসেবে ২৬ এপ্রিল মেয়েকে উদ্ধারে পুলিশের সহায়তায় চেয়ে কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। ২৭ এপ্রিল মোহাম্মদপুরের একটি বাসা থেকে ঝর্ণাকে উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ মোদীর ঢাকা সফরকালে হেফাজত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জ্বালাও পোড়াওয়ের মামলায় মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এখন তিনি পুলিশি রিমান্ডে আছেন।

back to top