alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

বিদেশে অর্থ পাচার

২৯ ব্যক্তি ও ১৪ প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা হাইকোর্টে জমা দিচ্ছে দুদক

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

বিদেশে অর্থ পাচারকারী ২৯ ব্যক্তি ও ১৪ প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা হাইকোর্টে জমা দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তালিকা জমা দিবেন দুদকের আইনজীবী অ্যডভোকেট খুরশীদ আলম। ইতোমধ্যে তালিকার খসড়া প্রস্তুত করেছে দুদক।

জানতে চাইলে আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান টেলিফোনে সংবাদকে বলেন, আমরা একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি। তালিকাটি এফিডেবিট করে রোববার জমা দেয়া হবে। তালিকার জমা দেয়ার পর আমরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফ করবো।

তালিকায় কোন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নাম আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু তালিকা চূড়ান্ত করা হয়নি তাই এ বিষয়ে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা মাত্র তালিকা প্রস্তুত করেছি। এফিডেবিট করে তালিকা জমা দেয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব হবে।

অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৯ ব্যবসায়ীর মধ্যে আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন সমসের, বিএনপি ঘরোনার ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তার পরিবারে পাঁচ সদস্যসহ ২৯ জনের নাম রয়েছে। পানামা পেপার্সের বরাত দিয়ে দুদকের প্রতিবেদনে ১৪ জনে পাচারকারীর নাম উঠে এসেছে। এরা হলেন- বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, সেতু করপোরেশনের পরিচালক উম্মে রুবানা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সিডব্লিউএন-এর রোববার মত মইন, সালমা হক, জোবায়দুল হক, ড. সৈয়দ সিরাজুল হক ও দিলীপ কুমার মোদি। রোববার দুদক যে তালিকা দিচ্ছে সেখানে তাদের নাম আসবে কি-না তা নিশ্চিত করা যায়নি।

তালিকায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হলো আবদুল আউয়াল মিন্টু, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। মিজ নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। তাবিথ আউয়াল, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। তাফসির আউয়াল, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। তাজওয়ার মো. আউয়াল, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। মোগল ফরিদা ওয়াই, ৮০-৭২, তাইরন পিআই, জ্যামাইকা, নিউইয়র্ক, ইউএসএ। শহিদ উল্লাহ, ২৩৫, স্যাডল রজি পেলস, দ্য উড ল্যান্ডস, টেক্সাস, ইউএসএ। চৌধুরী ফয়সাল, বাড়ি # ২৩, রোড# ২৩, ব্লক-বি, বনানী, ঢাকা। আহমাদ সামির, অ্যাপার্টমেন্ট # ৪বি, ১৫ ইউনাইটেড নেশনস রোড, বারিধারা, ঢাকা। ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লি., ৫০ মহাখালী বা/এ, ঢাকা। মুসা বিন শমসের, ভেনাস ওভারসিজ কোং, হোল্ডিং ব্লক-আই, বনানী, ঢাকা। ফজলে এলাহী, ডাইনামিক এনার্জি, হোল্ডিং বাড়ি # ৪২৪, রোড # ০৭, বারিধারা ডিওএইচএস, ঢাকা। কেএইচ আসাদুল ইসলাম, ইন্ট্রিপিড গ্রুপ, ধানমন্ডি, ঢাকা। জুলফিকার আহমেদ, খালেদা শিপিং কোম্পানি, বাড়ি # ১৩২, রোড # ০৫, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা। তাজুল ইসলাম তাজুল, জেমিকো ট্রেড ইন্টা. চাষঢ়া, নারায়ণগঞ্জ। মোহাম্মদ মালেক, বেঙ্গল শিপিং লাইনস, ১০১ আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। ইমরান রহমান, ওসান আইস শিপিং কোম্পানি, ইপিজেড ঢাকা। মোহাম্মদ এ আউয়াল, শামস শিপিং লি., ৭৭, মাওলানা শওকত আলী রোড, লালখান, চট্টগ্রাম। এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ডব্লিউএমজি লি. বাড়ি # ১৪, রোড # ১৩, সেক্টর # ৪, উত্তরা, ঢাকা। ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, ইন্ট্রিডিপ গ্রুপ, বাড়ি # ৫, রোড # ৫১, গুলশান, ঢাকা। তাজুল ইসলাম, জেমিকো ট্রেড ইন্টা., বালুর মাঠ, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ। আমানুল্লাহ চাগলা, পদ্মা টেক্সটাইল, বাড়ি # ৪৫৮, লেন-৮, ডিওএইচএস, বারিধারা ঢাকা। মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, নিউটেকনোলজি ইনভেস্টমেন্ট, মস্কো, রাশিয়া। মোহাম্মদ রেজাউল হক, মাল্টা। মোহাম্মদ কামাল ভূঁইয়া, তুহিন-সুমন, জেমিকো ট্রেড ইন্টা., বালুর মাঠ, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ। মাহতাবা রহমান, সেলকন শিপিং কোম্পানি, বাড়ি # ৮৭এ, রোড # ০৬, ডিওএইচএস, বনানী, ঢাক ফারুক পালওয়ান, জেমিকো ট্রেড ইন্টা., নারায়ণগঞ্জ। মাহমুদ হোসাইন, গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেম, আয়ারল্যান্ড। শাহনাজ হুদা রাজ্জাক, সাউদার্ন আইস শিপিং কোম্পানি, ঢাকা ইপিজেড।

গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থ পাচারকারীদের একটি তালিকা জমা দেয় দুদক। সে সময় অর্থ পাচারকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় দুদকের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সিআইডি, বিএফআইইউ এবং এনবিআরের তথ্য পর্যাপ্ত না হওয়ায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। সে সময় হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বলেছেন, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যারা অবৈধভাবে গাড়ি বাড়ি তৈরি করেছেন তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চান আদালত। পরে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেয়ার সময় বেঁধে দেন আদালত। ওইদিন দুদক, সিআইডি ও এনবিআর আদালতে অর্থপাচারের বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে উঠে আসে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, ক্যাসিনোকান্ডে জড়িত বহিষ্কৃত কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদসহ বেশকিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আসে। সেখানে শতাধিক ব্যক্তির নামে প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য দেয় দুদক।

এসব প্রতিবেদন দেখে আদালত বলেন, এখানে ২২ অক্টোবর হাইকোর্টের দেয়া আদেশের পরের কোন আপডেট তথ্য নেই। আমরা অর্থপাচারকারীদের নাম জানতে চাই। আপনারা নতুন নাম বলুন। সম্রাট তো কারাগারেই আছেন, আর নতুন করে অন্য কারা জড়িত তাদের নাম বলুন। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হলেও দুদক মাত্র ৪১ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ, তাদের মধ্যে গুটিকয়েক লোক অর্থ পাচার করে। তাদের সবার নাম জানার অধিকার আছে। আমরা অর্থ পাচারকারীদের নাম-ঠিকানা জানতে চাই। আদালতে দেয়া দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মানিলন্ডারিং অপরাধে মোট ৪৭টি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং অপরাধে ৮৮টি মামলা বর্তমানে কমিশনে তদন্তাধীন। এসব মামলায় অন্তত ১০০ জন প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। বিভিন্ন মামলা ও অনুসন্ধান শেষে চার ব্যক্তির বিদেশে সম্পদ ফ্রিজ করার তথ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ সাতজন হ্যাকারদের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় অর্থ পাচার করেছে। শুধু সম্রাট এবং এনামুল হক আরমানই ২৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯১ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে। কানাডায় অর্থ পাচারের বিষয়ে সে দেশের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইএইউ)।

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন দেশে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটগুলোর মধ্যে ‘এগমন্ট চুক্তি’র কারণে অর্থপাচারকারীদের তথ্য চাইলেই আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব না। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অ্যাম্বেসিগুলোকে তথ্য জানাতে বলেছেন। আমাদের সময় দেন। পরে আদালত ফের দিন ধার্য করেন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত বছরের ২২ নভেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চান হাইকোর্ট। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এরপর হাইকোর্টের আদেশের জবাব তেরি করতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দুইবার বৈঠক করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। ওই বৈঠকে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি

আবেদন খারিজ, শিল্পী সমিতির নির্বাচনে বাধা নেই

ছবি

বিদেশে অর্থপাচারে জড়িত ৬৯ জনের তথ্য হাইকোর্টে

বেলাবতে শিশু ধর্ষণ, ৫ দিন পর ধর্ষণ চেষ্টা মামলা !

ছবি

কথিত ‘শিশুবক্তা’ রফিকুলের বিচার শুরু

ছবি

আবরার হত্যা : ১৭ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তের জেল আপিল শুনবেন হাইকোর্ট

ছবি

আজমেরীর চালকের সিটে ছিলেন হেলপার, আরেক বাসের চালক মাদকাসক্ত

লালমনিরহাটে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ : গ্রেপ্তার ২

স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

সিরাজগঞ্জে দুই প্রতারক আটক

সখীপুরে ৪ কঙ্কাল চুরি

মৃত্যুর গুজবে ভাঙচুর লুটপাটের অভিযোগ

ছবি

শাবি শিক্ষককে ফেনসিডিল সাপ্লাই দিতে গিয়ে গার্ড আটক!

ছবি

সিদ্ধিরগঞ্জে ফ্ল্যাটে হাত-পা বাঁধা গৃহবধূর লাশ, স্বামী পলাতক

ছবি

শিক্ষককে ৬ মাসের বেশি সাময়িক বরখাস্ত নয়: হাইকোর্ট

স্বর্ণসহ অজ্ঞান পার্টির ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি

মিজান-বাছিরের সর্বোচ্চ সাজা চায় দুদক

লালমনিরহাটে ৩ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস

ভেড়ামারায় ১৭ ভাটাকে জরিমানা ৪৩ লাখ টাকা

চট্টগ্রাম সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় সহকারীর স্ত্রীর ৭ বছর জেল

ছবি

২০ বছর পর হত্যা মামলার রায়, ৫ জনকে মৃত্যুদণ্ড

চাঁদা দাবিতে ছেলেসহ কনস্টেবল গ্রেপ্তার

ছবি

নাসির-তামিমার বিয়েকাণ্ড : অভিযোগ গঠনের আদেশ ৯ ফেব্রুয়ারি

ছবি

মোবাইল গ্রাহকদের অভিযোগ শুনতে কমিটি গঠনের নির্দেশ

কুমিল্লায় নদীর মাটি কাটায় দন্ডিত ৭

যৌতুক না পেয়ে স্ত্রীকে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে গেল স্বামী

ছবি

পল্লবীর ওসিসহ ১৭ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ

আধিপত্য বিবাদে বাড়িঘর ভাঙচুর : আহত ১০

মামলা না তোলায় যুবলীগ নেতার হাত-পা ভাঙল

বাড়িতে ঢুকে কৃষককে হত্যা

ছবি

ট্রান্সজেন্ডার বিউটি ব্লগারকে যৌন নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টা, গ্রেফতার ৩

ছবি

নারায়ণগঞ্জে ২ চাঁদাবাজ গ্রেফতার

ছবি

প্রশ্নফাঁস: উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যানসহ ১০ জন আটক

ছবি

গৃহকর্মী নির্যাতন, অভিযুক্ত সুমি গ্রেপ্তার

ছবি

ক্লু-লেস হত্যার রহস্য উদঘাটন

ছবি

শিমু হত্যা: নোবেল একা নয়, হত্যাকাণ্ডের সময় ছিলেন বন্ধু

মেজর জিয়াসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

বিদেশে অর্থ পাচার

২৯ ব্যক্তি ও ১৪ প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা হাইকোর্টে জমা দিচ্ছে দুদক

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১

বিদেশে অর্থ পাচারকারী ২৯ ব্যক্তি ও ১৪ প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা হাইকোর্টে জমা দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রোববার (৫ ডিসেম্বর) বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে তালিকা জমা দিবেন দুদকের আইনজীবী অ্যডভোকেট খুরশীদ আলম। ইতোমধ্যে তালিকার খসড়া প্রস্তুত করেছে দুদক।

জানতে চাইলে আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান টেলিফোনে সংবাদকে বলেন, আমরা একটি তালিকা প্রস্তুত করেছি। তালিকাটি এফিডেবিট করে রোববার জমা দেয়া হবে। তালিকার জমা দেয়ার পর আমরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ব্রিফ করবো।

তালিকায় কোন ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নাম আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু তালিকা চূড়ান্ত করা হয়নি তাই এ বিষয়ে এখনি কিছু বলা যাচ্ছে না। আমরা মাত্র তালিকা প্রস্তুত করেছি। এফিডেবিট করে তালিকা জমা দেয়ার পর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে বলা সম্ভব হবে।

অসমর্থিত একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৯ ব্যবসায়ীর মধ্যে আলোচিত ব্যবসায়ী মুসা বিন সমসের, বিএনপি ঘরোনার ব্যবসায়ী আবদুল আউয়াল মিন্টু, তার পরিবারে পাঁচ সদস্যসহ ২৯ জনের নাম রয়েছে। পানামা পেপার্সের বরাত দিয়ে দুদকের প্রতিবেদনে ১৪ জনে পাচারকারীর নাম উঠে এসেছে। এরা হলেন- বারাকা পতেঙ্গা পাওয়ারের ফয়সাল আহমেদ চৌধুরী, সেতু করপোরেশনের পরিচালক উম্মে রুবানা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সিডব্লিউএন-এর রোববার মত মইন, সালমা হক, জোবায়দুল হক, ড. সৈয়দ সিরাজুল হক ও দিলীপ কুমার মোদি। রোববার দুদক যে তালিকা দিচ্ছে সেখানে তাদের নাম আসবে কি-না তা নিশ্চিত করা যায়নি।

তালিকায় থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হলো আবদুল আউয়াল মিন্টু, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। মিজ নাসরিন ফাতেমা আউয়াল, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। তাবিথ আউয়াল, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। তাফসির আউয়াল, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। তাজওয়ার মো. আউয়াল, মাল্টিমোড লি., অ্যাংকর টাওয়ার, ১০৮ বীর উত্তম সিআর দত্ত রোড, ঢাকা। মোগল ফরিদা ওয়াই, ৮০-৭২, তাইরন পিআই, জ্যামাইকা, নিউইয়র্ক, ইউএসএ। শহিদ উল্লাহ, ২৩৫, স্যাডল রজি পেলস, দ্য উড ল্যান্ডস, টেক্সাস, ইউএসএ। চৌধুরী ফয়সাল, বাড়ি # ২৩, রোড# ২৩, ব্লক-বি, বনানী, ঢাকা। আহমাদ সামির, অ্যাপার্টমেন্ট # ৪বি, ১৫ ইউনাইটেড নেশনস রোড, বারিধারা, ঢাকা। ব্রামার অ্যান্ড পার্টনার্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট বাংলাদেশ লি., ৫০ মহাখালী বা/এ, ঢাকা। মুসা বিন শমসের, ভেনাস ওভারসিজ কোং, হোল্ডিং ব্লক-আই, বনানী, ঢাকা। ফজলে এলাহী, ডাইনামিক এনার্জি, হোল্ডিং বাড়ি # ৪২৪, রোড # ০৭, বারিধারা ডিওএইচএস, ঢাকা। কেএইচ আসাদুল ইসলাম, ইন্ট্রিপিড গ্রুপ, ধানমন্ডি, ঢাকা। জুলফিকার আহমেদ, খালেদা শিপিং কোম্পানি, বাড়ি # ১৩২, রোড # ০৫, ধানমন্ডি আ/এ, ঢাকা। তাজুল ইসলাম তাজুল, জেমিকো ট্রেড ইন্টা. চাষঢ়া, নারায়ণগঞ্জ। মোহাম্মদ মালেক, বেঙ্গল শিপিং লাইনস, ১০১ আগ্রাবাদ, চট্টগ্রাম। ইমরান রহমান, ওসান আইস শিপিং কোম্পানি, ইপিজেড ঢাকা। মোহাম্মদ এ আউয়াল, শামস শিপিং লি., ৭৭, মাওলানা শওকত আলী রোড, লালখান, চট্টগ্রাম। এরিক জনসন আনড্রেস উইলসন, ডব্লিউএমজি লি. বাড়ি # ১৪, রোড # ১৩, সেক্টর # ৪, উত্তরা, ঢাকা। ফারহান ইয়াকুবুর রহমান, ইন্ট্রিডিপ গ্রুপ, বাড়ি # ৫, রোড # ৫১, গুলশান, ঢাকা। তাজুল ইসলাম, জেমিকো ট্রেড ইন্টা., বালুর মাঠ, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ। আমানুল্লাহ চাগলা, পদ্মা টেক্সটাইল, বাড়ি # ৪৫৮, লেন-৮, ডিওএইচএস, বারিধারা ঢাকা। মোহাম্মদ আতিকুজ্জামান, নিউটেকনোলজি ইনভেস্টমেন্ট, মস্কো, রাশিয়া। মোহাম্মদ রেজাউল হক, মাল্টা। মোহাম্মদ কামাল ভূঁইয়া, তুহিন-সুমন, জেমিকো ট্রেড ইন্টা., বালুর মাঠ, চাষাঢ়া, নারায়ণগঞ্জ। মাহতাবা রহমান, সেলকন শিপিং কোম্পানি, বাড়ি # ৮৭এ, রোড # ০৬, ডিওএইচএস, বনানী, ঢাক ফারুক পালওয়ান, জেমিকো ট্রেড ইন্টা., নারায়ণগঞ্জ। মাহমুদ হোসাইন, গ্লোবাল এডুকেশন সিস্টেম, আয়ারল্যান্ড। শাহনাজ হুদা রাজ্জাক, সাউদার্ন আইস শিপিং কোম্পানি, ঢাকা ইপিজেড।

গত বছরের ডিসেম্বরে অর্থ পাচারকারীদের একটি তালিকা জমা দেয় দুদক। সে সময় অর্থ পাচারকারীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা না দেয়ায় দুদকের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সিআইডি, বিএফআইইউ এবং এনবিআরের তথ্য পর্যাপ্ত না হওয়ায়ও ক্ষোভ প্রকাশ করে হাইকোর্ট। সে সময় হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার এবং বিচারপতি আহমেদ সোহেলের ভার্চুয়াল বেঞ্চ বলেছেন, কানাডা, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যারা অবৈধভাবে গাড়ি বাড়ি তৈরি করেছেন তাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চান আদালত। পরে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ তালিকা জমা দেয়ার সময় বেঁধে দেন আদালত। ওইদিন দুদক, সিআইডি ও এনবিআর আদালতে অর্থপাচারের বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। এতে উঠে আসে যুবলীগের বহিষ্কৃত নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, ক্যাসিনোকান্ডে জড়িত বহিষ্কৃত কাউন্সিলর যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদসহ বেশকিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম আসে। সেখানে শতাধিক ব্যক্তির নামে প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য দেয় দুদক।

এসব প্রতিবেদন দেখে আদালত বলেন, এখানে ২২ অক্টোবর হাইকোর্টের দেয়া আদেশের পরের কোন আপডেট তথ্য নেই। আমরা অর্থপাচারকারীদের নাম জানতে চাই। আপনারা নতুন নাম বলুন। সম্রাট তো কারাগারেই আছেন, আর নতুন করে অন্য কারা জড়িত তাদের নাম বলুন। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হলেও দুদক মাত্র ৪১ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে। দেশের ১৮ কোটি মানুষ, তাদের মধ্যে গুটিকয়েক লোক অর্থ পাচার করে। তাদের সবার নাম জানার অধিকার আছে। আমরা অর্থ পাচারকারীদের নাম-ঠিকানা জানতে চাই। আদালতে দেয়া দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত মানিলন্ডারিং অপরাধে মোট ৪৭টি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং অপরাধে ৮৮টি মামলা বর্তমানে কমিশনে তদন্তাধীন। এসব মামলায় অন্তত ১০০ জন প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন। বিভিন্ন মামলা ও অনুসন্ধান শেষে চার ব্যক্তির বিদেশে সম্পদ ফ্রিজ করার তথ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। সিআইডি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্যাসিনো ব্যবসায়ী ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটসহ সাতজন হ্যাকারদের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কায় অর্থ পাচার করেছে। শুধু সম্রাট এবং এনামুল হক আরমানই ২৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার ৬৯১ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচার করেছে। কানাডায় অর্থ পাচারের বিষয়ে সে দেশের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে বলে হাইকোর্টকে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইএইউ)।

তখন অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন দেশে ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটগুলোর মধ্যে ‘এগমন্ট চুক্তি’র কারণে অর্থপাচারকারীদের তথ্য চাইলেই আদালতে উপস্থাপন করা সম্ভব না। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের অ্যাম্বেসিগুলোকে তথ্য জানাতে বলেছেন। আমাদের সময় দেন। পরে আদালত ফের দিন ধার্য করেন। পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে নিয়ে গত বছরের ২২ নভেম্বর স্বপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের সব ধরনের তথ্য চান হাইকোর্ট। ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে পররাষ্ট্র সচিব, দুদক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি এ নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। এরপর হাইকোর্টের আদেশের জবাব তেরি করতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দুইবার বৈঠক করে সংশ্লিষ্ট সংস্থা। ওই বৈঠকে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট ও এনবিআরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

back to top