alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসে মাসে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য

প্রতিনিধি, নওগাঁ : বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২

নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে অফিসে কর্মরত কর্মচারী-আনসার সদস্যসহ বড় কর্তার প্রতি মাসে অবৈধ আয় প্রায় কোটি টাকা। ফলে আপাদমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্র্ট অফিসে প্রতিদিন গড়ে এক শত আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে বেশিরভাগ আবেদন জমা হয় ‘ঘুস চ্যানেলে’। আবেদনপ্রতি ন্যূনতম ঘুস নেয়া হয় ৩ হাজার টাকা। এ হিসাবে দৈনিক ঘুসের পরিমাণ দাঁড়ায় নিদেনপক্ষে ৩ লাখ টাকা। মাসে আসে ৯০ লাখ বা প্রায় ১ কোটি টাকা।

এসব ঘুষ লেনদেনের বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ রয়েছে এই প্রতিবেদকের হাতে। এসব ফুটেজে দেখা যায়, গত ৪ জানুয়ারি মান্দা উপজেলা থেকে আসা এক ব্যক্তির কাছে ১ হাজার ৪শ’ টাকা ঘুষ নিয়েছেন নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসের আনসার সদস্য ওমর ফারুখ। ৬ জানুয়ারি আরেক আনসার সদস্য মিন্টু এক ব্যক্তির ৫ বছর মেয়াদী দুটি পাসপোর্ট করে দেয়ার বিনিময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ দাবি করেন ১৫ হাজার টাকা। ঠিক এভাবেই প্রতিনিয়তই ঘুষ বাণিজ্য চলছে নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসে। তবে আনসারদের দাবি এসব টাকার ভাগ দিতে হয় ওপর মহলে।

এ অফিসের বাহিরের চিত্র আরও ভয়াবহ। আশপাশের কিছু অনলাইন ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি বসে থাকে ফাঁদ পেতে। অসহায় মানুষদের পকেট কাটেন ইচ্ছেমতো।

পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি ‘২০২১ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২১’ পর্যন্ত সময়ে এই এক বছরে জেলার ১৬ হাজার ৬শ ৩০টি মানুষ তাদের পাসপোর্ট সম্পাদন করেছেন। এসব পাসপোর্টের সবগুলোই ছিল ই-পাসপোর্ট। এরমধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে ২২১৬টি, অক্টোবরে ২২৮৪টি, নভেম্বরে ২২৩০টি এবং ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ৩৩৩২টি পাসপোর্ট সম্পাদন করা হয়েছে।

পাসপোর্ট অফিসে আসা প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ৪৮ পাতা বিশিষ্ট ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করে থাকেন। ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার একটি সাধারণ ই-পাসপোর্টে সরকারি ফি বাবদ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয় ৪,০২৫ টাকা, জরুরি হলে ৬,৩২৫ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার একটি সাধারন ই-পাসপোর্টের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয় ৫,৭৫০ টাকা এবং জরুরী হলে ৮,০৫০ টাকা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, একটি পাসপোর্টের জন্য একজন গ্রাহককে সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার একটি সাধারন ই-পাসপোর্টে ঘুষসহ তাকে দিতে হবে ৭ থেকে ৮ হাজার, জরুরী হলে দিতে হবে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার একটি সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার ও জরুরী হলে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা। তাদের দুর্নীতির কৌশলের কারণে পাসপোর্টের আবেদনকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সপ্তাহে ঘুরে মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। জরুরি পাসপোর্ট পেতেও অপেক্ষা করতে হয় কয়েক সপ্তাহ।

পাসপোর্টের জন্য যারা সরাসরি আবেদন জমা দেন সেগুলোকে পাসপোর্ট অফিসে বলা হয় পাবলিক ফাইল। আর যারা কারও মাধ্যমে আবেদন জমা দেন সেগুলোকে বলা হয় চ্যানেলের ফাইল। সরাসরি জমাদানকারীদের আবেদনপত্র নিয়ে চক্রগুলো অবাধে নগদ বাণিজ্য করছে।

জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত পাসপোর্ট আবেদনকারীরা পাসপোর্ট করতে এসে পড়ে যান গোলক ধাঁধার মধ্যে। অফিসের বাইরে ওঁৎপেতে থাকা প্রতারক ও দালাল চক্রের খপ্পর এড়াতে অফিসের যে কারও কাছে পাসপোর্ট করার তথ্য জানতে গেলে সেও পরামর্শ দেয় নির্ধারিত ‘চ্যানেল ফি’ দিয়ে পাসপোর্ট করার। চ্যানেল ফি ছাড়া গ্রাহক নিজ উদ্যোগে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়ার চেষ্টা করলে তার আবেদনে নানাবিধ সমস্যা আর ভুল দেখিয়ে দিনের পরদিন ফেরত দেয়া হয়।

তবে নির্ধারিত চ্যানেলের টাকাসহ আবেদনপত্র জমাদিলে তা সঙ্গে সঙ্গে জমা নিয়ে আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি করে দেয়া হয় মুহূর্তে। এভাবেই প্রত্যেক গ্রাহককে ভোগান্তি এড়াতে নির্ধারিত ব্যাংক ফি বাদে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করতে হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে পাসপোর্ট করতে আসা শত শত সাধারণ মানুষ আবেদনপত্র নিয়ে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বিভিন্ন ওযুহাতে অধিকাংশ আবেদনপত্র ফেরত দেয়া হয়। আর এ কাজটি করে পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, রবিউল ইসলাম, মোক্তারসহ কয়েকজন কর্মচারী।

মহাদেবপুর সদর এলাকা থেকে থ্রিস্টার ডায়াগনস্টিকের মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওমরা হজের জন্য পাসপোর্ট করতে এসেছেন। কিন্তু তার কাছেও দালালরা ঘুষ দাবি করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসন এসব কিছুই দেখছে না। সংশ্লিষ্ট উর্ধতন প্রশাসনকে মাসিক মাসহারা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে অবৈধ আয় যেন ওপেন সিক্রেট। মান্দা উপজেলার আলম বলেন, আমার কাগজপত্রে দালালদের সাঙ্কেতিক চিহ্ন না থাকায় আমাকে কয়েকবার ঘুরিয়েছে। ঘুষ নেয়ার জন্য পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারীরা এভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে টাল-বাহানা করে।

এ ব্যাপারে নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক শওকত কামালের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে এসব অভিযোগ অস্বিকার করেন। অভিযোগের তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি কল কেটে দেন।

ছবি

ডিমের পিকআপে ডাকাতি, যেভাবে গ্রেপ্তার ৬ ডাকাত

লালমনিরহাটে আ.লীগ নেতার ছেলের নেতৃত্বে ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলা

ছবি

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

ছবি

জন্মদিন পালনের কথা বলে এনে নারী চিকিৎসককে খুন : র‍্যাব

ছবি

হোটেল থেকে নারী চিকিৎসকের লাশ উদ্ধার: ছেলেবন্ধু গ্রেপ্তার

ছবি

ডেল্টা লাইফের গুরুত্বপূর্ণ নথির ফটোকপি গাড়িযোগে পাচারের চেষ্টা

ছবি

জঙ্গি নেতা রাজীব গান্ধীর সহযোগী আফজাল গ্রেপ্তার

ছবি

ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এর সাবেক এমডি রাশেদুলের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা

ছবি

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে যুগ্ম সচিবের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি

‘জজ মিয়ার’ জন্য ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে নোটিশ

কর ফাঁকি : মদিনার ৪ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় কামরাঙ্গীরচরে গ্রেপ্তার চারজন রিমান্ডে

ছবি

নারায়ণগঞ্জে মানব পাচার আইনে চারজনের যাবজ্জীবন

ছবি

বাংলাদেশের দুই বোনকে ভারতের যৌনপল্লীতে বিক্রি

ছবি

রোহিঙ্গা শিবিরে দুই রোহিঙ্গা নেতাকে হত্যা

প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি : নড়াইলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা গ্রেফতার

বগুড়ায় ছুরিকাঘাতে স্কুল ছাত্র হত্যা

২৬ মামলার আসামি স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা গ্রেফতার

তিন দিন আগে বাস ডাকাতির পরিকল্পনা করে মূলহোতা ডাকাত রতন

সখীপুরে জমি বিরোধে ভাতিজাদের হাতে চাচা খুন

ছবি

নওগাঁয় সরকারী সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানায় খাজনা-খারিজের অভিযোগ

ছবি

দলবদ্ধ ধর্ষণ ছাড়াও একাধিক নারীর শ্লীলতাহানি করে ডাকাত দল

ছবি

সিন্ডিকেটের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার, স্বীকারোক্তি

বগুড়ায় অবৈধ মজুদ রাখা ১২ হাজার বস্তা সার ও ২টিট্রাক আটক

ছবি

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

ছবি

খালাসের পরও কনডেম সেলে ৭ বছর : বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ

বগুড়ায় চাঁদাবাজীর অভিযোগ সোর্সসহ পুলিশ সদস্য ঘেরাও, পুলিশের এস আই ক্লোজড

বখাটের উৎপাতে ছাত্রীর মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ, ব‍্যবস্থা নেয়নি ইউএনও

ছবি

আদালত ঘুরে এলাকায় আজিজুল, ফুলের মালা দিয়ে বরণ

ছাত্রদল,স্বেচ্ছাসেবকদলের ৫ নেতা গাঁজা ও ইয়াবা সহ গ্রেফতার।

রূপগঞ্জে বিএনপি নেতার কার্যালয়ে ‘জয়বাংলা শ্লোগান দিয়ে’ হামলা

ছবি

এসএসএফের নামে প্রতিষ্ঠান খুলে কোটি টাকার প্রতারণা : গ্রেফতার ৬

ছবি

অস্ত্র মামলায় নূর হোসেনের যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী চলন্ত বাসে ডাকাতি-সংঘবদ্ধ ধর্ষণ

‘মোল্লা শামিমকে পেলেই তদন্ত ক্লোজ করবে পুলিশ’

ছবি

এমপি জাফর পত্নী শাহেদার অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে দুদক

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসে মাসে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য

প্রতিনিধি, নওগাঁ

বৃহস্পতিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২২

নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে কোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে অফিসে কর্মরত কর্মচারী-আনসার সদস্যসহ বড় কর্তার প্রতি মাসে অবৈধ আয় প্রায় কোটি টাকা। ফলে আপাদমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্র্ট অফিসে প্রতিদিন গড়ে এক শত আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে বেশিরভাগ আবেদন জমা হয় ‘ঘুস চ্যানেলে’। আবেদনপ্রতি ন্যূনতম ঘুস নেয়া হয় ৩ হাজার টাকা। এ হিসাবে দৈনিক ঘুসের পরিমাণ দাঁড়ায় নিদেনপক্ষে ৩ লাখ টাকা। মাসে আসে ৯০ লাখ বা প্রায় ১ কোটি টাকা।

এসব ঘুষ লেনদেনের বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ রয়েছে এই প্রতিবেদকের হাতে। এসব ফুটেজে দেখা যায়, গত ৪ জানুয়ারি মান্দা উপজেলা থেকে আসা এক ব্যক্তির কাছে ১ হাজার ৪শ’ টাকা ঘুষ নিয়েছেন নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসের আনসার সদস্য ওমর ফারুখ। ৬ জানুয়ারি আরেক আনসার সদস্য মিন্টু এক ব্যক্তির ৫ বছর মেয়াদী দুটি পাসপোর্ট করে দেয়ার বিনিময়ে পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ দাবি করেন ১৫ হাজার টাকা। ঠিক এভাবেই প্রতিনিয়তই ঘুষ বাণিজ্য চলছে নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসে। তবে আনসারদের দাবি এসব টাকার ভাগ দিতে হয় ওপর মহলে।

এ অফিসের বাহিরের চিত্র আরও ভয়াবহ। আশপাশের কিছু অনলাইন ব্যবসায়ী ও ব্যক্তি বসে থাকে ফাঁদ পেতে। অসহায় মানুষদের পকেট কাটেন ইচ্ছেমতো।

পাসপোর্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত জানুয়ারি ‘২০২১ থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২১’ পর্যন্ত সময়ে এই এক বছরে জেলার ১৬ হাজার ৬শ ৩০টি মানুষ তাদের পাসপোর্ট সম্পাদন করেছেন। এসব পাসপোর্টের সবগুলোই ছিল ই-পাসপোর্ট। এরমধ্যে গত সেপ্টেম্বর মাসে ২২১৬টি, অক্টোবরে ২২৮৪টি, নভেম্বরে ২২৩০টি এবং ডিসেম্বর মাসের ৩০ তারিখ পর্যন্ত ৩৩৩২টি পাসপোর্ট সম্পাদন করা হয়েছে।

পাসপোর্ট অফিসে আসা প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ ৪৮ পাতা বিশিষ্ট ৫ থেকে ১০ বছর মেয়াদী ই-পাসপোর্ট করে থাকেন। ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার একটি সাধারণ ই-পাসপোর্টে সরকারি ফি বাবদ ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয় ৪,০২৫ টাকা, জরুরি হলে ৬,৩২৫ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার একটি সাধারন ই-পাসপোর্টের জন্য ব্যাংকে টাকা জমা দিতে হয় ৫,৭৫০ টাকা এবং জরুরী হলে ৮,০৫০ টাকা।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, একটি পাসপোর্টের জন্য একজন গ্রাহককে সরকার নির্ধারিত ফি ছাড়াও দিতে হচ্ছে অতিরিক্ত ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। ৫ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার একটি সাধারন ই-পাসপোর্টে ঘুষসহ তাকে দিতে হবে ৭ থেকে ৮ হাজার, জরুরী হলে দিতে হবে ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদী ৪৮ পাতার একটি সাধারণ ই-পাসপোর্টের জন্য সাড়ে ৮ থেকে ৯ হাজার ও জরুরী হলে ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা। তাদের দুর্নীতির কৌশলের কারণে পাসপোর্টের আবেদনকারীদের ভোগান্তির শেষ নেই। সপ্তাহে ঘুরে মাসের পর মাস পেরিয়ে গেলেও পাসপোর্ট পাওয়া যায় না। জরুরি পাসপোর্ট পেতেও অপেক্ষা করতে হয় কয়েক সপ্তাহ।

পাসপোর্টের জন্য যারা সরাসরি আবেদন জমা দেন সেগুলোকে পাসপোর্ট অফিসে বলা হয় পাবলিক ফাইল। আর যারা কারও মাধ্যমে আবেদন জমা দেন সেগুলোকে বলা হয় চ্যানেলের ফাইল। সরাসরি জমাদানকারীদের আবেদনপত্র নিয়ে চক্রগুলো অবাধে নগদ বাণিজ্য করছে।

জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে প্রতিদিন শত শত পাসপোর্ট আবেদনকারীরা পাসপোর্ট করতে এসে পড়ে যান গোলক ধাঁধার মধ্যে। অফিসের বাইরে ওঁৎপেতে থাকা প্রতারক ও দালাল চক্রের খপ্পর এড়াতে অফিসের যে কারও কাছে পাসপোর্ট করার তথ্য জানতে গেলে সেও পরামর্শ দেয় নির্ধারিত ‘চ্যানেল ফি’ দিয়ে পাসপোর্ট করার। চ্যানেল ফি ছাড়া গ্রাহক নিজ উদ্যোগে লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদনপত্র জমা দেয়ার চেষ্টা করলে তার আবেদনে নানাবিধ সমস্যা আর ভুল দেখিয়ে দিনের পরদিন ফেরত দেয়া হয়।

তবে নির্ধারিত চ্যানেলের টাকাসহ আবেদনপত্র জমাদিলে তা সঙ্গে সঙ্গে জমা নিয়ে আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি করে দেয়া হয় মুহূর্তে। এভাবেই প্রত্যেক গ্রাহককে ভোগান্তি এড়াতে নির্ধারিত ব্যাংক ফি বাদে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা দিয়ে পাসপোর্ট করতে হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, দূর-দূরান্ত থেকে পাসপোর্ট করতে আসা শত শত সাধারণ মানুষ আবেদনপত্র নিয়ে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর বিভিন্ন ওযুহাতে অধিকাংশ আবেদনপত্র ফেরত দেয়া হয়। আর এ কাজটি করে পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, রবিউল ইসলাম, মোক্তারসহ কয়েকজন কর্মচারী।

মহাদেবপুর সদর এলাকা থেকে থ্রিস্টার ডায়াগনস্টিকের মালিক সাজ্জাদ হোসেন ওমরা হজের জন্য পাসপোর্ট করতে এসেছেন। কিন্তু তার কাছেও দালালরা ঘুষ দাবি করায় তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসন এসব কিছুই দেখছে না। সংশ্লিষ্ট উর্ধতন প্রশাসনকে মাসিক মাসহারা দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলে অবৈধ আয় যেন ওপেন সিক্রেট। মান্দা উপজেলার আলম বলেন, আমার কাগজপত্রে দালালদের সাঙ্কেতিক চিহ্ন না থাকায় আমাকে কয়েকবার ঘুরিয়েছে। ঘুষ নেয়ার জন্য পাসপোর্ট অফিসের কর্মচারীরা এভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে টাল-বাহানা করে।

এ ব্যাপারে নওগাঁ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক শওকত কামালের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে এসব অভিযোগ অস্বিকার করেন। অভিযোগের তথ্য প্রমাণ উপস্থাপনের চেষ্টা করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি কল কেটে দেন।

back to top