alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

পিকে হালদার : যেভাবে তার উত্থান

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শনিবার, ১৪ মে ২০২২

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্ম প্রশান্ত কুমার হালদারের। যাকে সবাই পিকে হালদার হিসেবেই চিনে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে পিকে হালদার আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। পিকের সিন্ডিকেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রভাবশালীরা সম্পৃক্ত ছিল। এসব সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় পিকে হালদার ১০ বছরে ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া করে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্সিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ’র) প্রতিবেদনেও পিকের আর্থিক কেলেঙ্কারির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

দুদকের একজন কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, পিকের উত্থান আলাদিনের চেরাগের মতো। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে সহস্র কোটি টাকার মতো অবৈধ সম্পদ গড়েছেন পিকে হালদার। চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল পিকের। ওইসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হতো পিকের ইশারায়। নিজের আত্মীয়-স্বজনদেরও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে বসিয়েছিলেন। এসব কান্ড ঘটতে নারীদেরও ব্যবহার করেছেন পিকে হালদার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর এসকে সুর, নির্বাহী পরিচালক শাহে আলম, সাবেক সিনিয়র সচিবসহ একাধিক পদস্ত কর্মকর্তাকে কাজে লাগিয়ে পিকে হালদার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজত্ব চালিয়েছিলেন।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল, পিঅ্যান্ডএল অ্যাগ্রো, পিঅ্যান্ডএল ভেঞ্চার, পিঅ্যান্ডএল বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, হাল ইন্টারন্যাশনাল, হাল ট্রাভেল, হাল ট্রিপ, হাল ক্যাপিটাল, হাল টেকনোলজি, আনন কেমিক্যাল, নর্দান জুট, সুখাদা লিমিটেড, রেপটাইল ফার্মসহ নামে বেনামে প্রতিষ্ঠান খুলে ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়েছেন পিকে হালদার। যে ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ লুট করেছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের কোন পদে না থাকলেও এমনকি শেয়ার না থাকলেও সব প্রতিষ্ঠান পিকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে পিকে হালদারকে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিকিউরিটি এক্সচেইঞ্জ কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা লুট করে, প্রায় একই মালিকানাধীন আরও প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ নেই বললেও চলে। ফলে ঋণ পরিশোধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। পিকে হালদার একাই ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছেন বিষয়টি তা নয়, পিকে হালদার বিদেশে পাচার করেছেন প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। তিনি সিংগাপুর, ভারতে ও কানাডায় টাকা পাচার করেছেন। কানাডার টরেন্টোতে মার্কেট কিনেছেন, বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন। তাহলে বাকি প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা গেল কোথায়। এসব টাকা দেশে পিকের সহযোগীদের কাছেই রয়েছে।

কে এই পিকে হালদার

পিকে হালদারের জন্ম পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান গ্রামে। তার বাবা প্রয়াত প্রণনেন্দু হালদার পেশায় ছিলেন কৃষক আর মা লীলাবতী হালদার ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পিকে হালদার ও প্রিতিশ কুমার হালদার দুই ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে দুই ভাই ব্যবসায় প্রশাসনের আইবিএ থেকে এমবিএ করেন। পাশাপাশি চার্টার্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) সম্পন্ন করেন পিকে হালদার। ২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসিতে উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন পিকে হালদার। ১০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়েই ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে যান। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, পিকে হালদারের নামে ব্যাংক এশিয়া, এনআরবি গ্লোবাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ কয়েকটি ব্যাংকের হিসাবে বিভিন্ন সময়ে জমা হয় ২৪০ কোটি টাকা। হাল ট্রাভেল (হাল ট্রিপ) এজেন্সির চেয়ারম্যান পিকে হালদার নিজে। বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা হাল ট্রিপের হিসাবে জমা হয় ৪০৭ কোটি টাকা। ফার্স্ট কমিউনিকেশনের পরিচালকও তিনি। এর ব্যাংক হিসাবে জমা হয় ৮২৩ কোটি টাকা। সুখাদা লিমিটেডে পিকে হালদারের শেয়ার ৯০ শতাংশ ও মা লীলাবতী হালদারের ৫ শতাংশ। এ হিসাবে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা জমা হয়। লীলাবতী হালদারের ৩টি ব্যাংক হিসাবে জমা হয় ১৬০ কোটি টাকা। রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে নেয়া ৩ গ্রাহকের ঋণের ৬৩ কোট টাকাও লীলাবতী হালদারের হিসাবে জমা হয়। ওই সময়ে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি ছিলেন পিকে হালদার। ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারের ব্যাংক হিসাবে ৫০ লাখ টাকা জমা থাকলেও তার নামে রয়েছে হাল টেকনোলজি, হাল ট্রিপ টেকনোলজি, পিঅ্যান্ডএল হোল্ডিং, মাইক্রো টেকনোলজিস, নর্দান জুটসহ আরও নানা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ৫০০ কোটি টাকার বেশি জমা হয়, ঋণও রয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার ধানমন্ডি শাখায় পিকে হালদারের দুটি হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ২৪৪ কোটি টাকা জমা হয়। এই হিসাব থেকে রিলায়েন্স ব্রোকারেজে যায় ২০৫ কোটি টাকা, লীলাবতী হালদারের হিসাবে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পিঅ্যান্ডএল অ্যাগ্রোতে ১১ কোটি টাকা, আনন কেমিক্যালে ৩ কোটি ও এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টে যায় ৪০ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে পিপলস লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় আনান কেমিক্যাল। এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ও রিলায়েন্স ব্রোাকারেজের মাধ্যমে এই শেয়ার কেনা হয়।

লীলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ১৬০ কোটি টাকা জমা হয়। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে তার হিসাবটি ২০১৩ সালের ৭ মার্চ খুলে ওই বছরের ২৬ আগস্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। এই ৫ মাসে ওই হিসাবে ১৯ কোটি টাকা জমা করে ইমেক্সকো, বর্ণা ও ওরিয়াল নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। আরেকটি হিসাবে জমা করে ৯ কোটি টাকা, যা ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ৩ প্রতিষ্ঠানই রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ৬৩ কোটি টাকা ঋণ পায়। ওই সময়ে পিকে হালদার ছিলেন রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি। পুরানা পল্টনের ইস্টার্ন ট্রেড সেন্টারের ১০ তলায় এ ৩ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়।

হাল ট্রাভেল সার্ভিস মূলত ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠান, যা হাল ট্রিপ নামে পরিচিত। এর চেয়ারম্যান পিকে হালদার ও এমডি তাজবীর হাসান। পিকে হালদারের শেয়ারই ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময় জমা হয় ৪০৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে হাল ট্রাভেলের মালিকানায় যুক্ত হন পিকে হালদার। প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকার টিকেট বিক্রি হয়।

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল যেভাবে

মূলত শেয়ারবাজার থেকে শেয়ার কিনে চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন পিকে হালদার। এভাবে নিয়ন্ত্রণ নেয়া চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পিপলস লিজিং ও বিএফআইসির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একধরনের সহায়তা ছিল। এই দুই প্রতিষ্ঠানের আগের পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য আইন ভেঙে নামে-বেনামে ঋণ নেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই সুযোগে এসব কোম্পানির শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়ন্ত্রণ নেন পিকে হালদার।

যেমন বিআইএফসির নিয়ন্ত্রণ সুকুজা ভেঞ্চার ও কাঞ্চি ভেঞ্চার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের একই দিনে এ দুটি প্রতিষ্ঠান কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। সুকুজা ভেঞ্চারের শেয়ার সুখাদা লিমিটেড ও সুকুমার মৃধার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধার হাতে। এর মধ্যে অনিন্দিতা মৃধার শেয়ারই ৯০ শতাংশ। আর সুখাদা লিমিটেডের মনোনীত পরিচালক ব্যাংক এশিয়ার সাবেক এমডি ইরফানউদ্দিন আহমেদ। ইরফানউদ্দিন আহমেদ কিছুদিনের জন্য বিআইএফসির চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন। আর কাঞ্চি ভেঞ্চারের ৯৫ শতাংশ শেয়ার হাল ইন্টারন্যাশনালের হাতে, যার প্রতিনিধিও ইরফানউদ্দিন আহমেদ। পিকে হালদার সুকুমার মৃধার মেয়েকে কোম্পানির পরিচালক বানিয়েছেন।

পিপলস লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল আনন কেমিক্যাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের। আনন কেমিক্যালের ৯৪ শতাংশ শেয়ার পিকের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারে হাতে ও ৫ শতাংশ শেয়ার তার খালাতো ভাই অভিজিৎ অধিকারীর হাতে। এফএএস ফাইন্যান্সের নিয়ন্ত্রণ পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল ও রেপটাইল ফার্মের হাতে। আবার রেপটাইলস ফার্মের মালিকানায় আছে পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল, কেএইচবি সিকিউরিটিজের এমডি রাজীব সোম ও তার স্ত্রী শিমু রায়। এর ফলে ময়মনসিংহের কুমির চাষ প্রকল্পটি বনে গেছে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। মালিক মূলত পিকে হালদারই।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হাল ইন্টারন্যাশনাল, বিআর ইন্টারন্যাশনাল, নেচার এন্টারপ্রাাইজ, নিউ টেক এন্টার প্রাইজের হাতে। এসব প্রতিষ্ঠান ২০১৫ সালে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। হাল ইন্টারন্যাশনালের ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক পিকে হালদার নিজে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং একসময় ভালো চলছিল। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরই প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে পড়ে। প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের নামে বের করে নেয়া হয় ২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। এর সব ক’টির সুবিধাভোগীও পিকে হালদার বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, পিকে হালদার নামে-বেনামে যে সম্পদ করেছেন, তা আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। ওই সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ৯৩৩ কোটি টাকার কম হবে না।

প্রশান্ত কুমার হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্স উক্ত প্রতিষ্ঠানের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয় স্বজনকে দিয়ে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেন্ডেন্ট পরিচালক বানান এবং একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাৎ করেন। পিপলস লিজিং এ আমানতকারীদের ৩০০০ কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন এবং উক্ত কোম্পানিকে পথে বসিয়েছেন। ফাস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি. থেকে উজ্জ্বল কুমার নন্দী, সিদ্দিক ও জাহাঙ্গীরসহ পিকে সিন্ডিকেট লুট করেছেন প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা। ২০১০ সালে প্রশান্ত কুমার হালদার যখন রিলায়েন্স ফাইন্যান্সয়ের এমডি ছিলেন, তখন রাশেদুল হক রিলায়েন্স ফাইনেন্স এর ডিএমডি ছিলেন। প্রশান্ত কুমার হালদার যখন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন, রাশেদুল হক তখন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি হিসেবে ২০১৫ সালে যোগদান করেন। এমডি রাশেদুজ্জামানকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানের নামে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

গোপনে গোসলের ভিডিও ধারণ, হুমিক দিয়ে ধর্ষণ, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা আবদুল হাই গ্রেপ্তার

ছবি

ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্রকৌশলীর মৃত্যু ঘটনায় ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি

জঙ্গি নেতা আব্দুল হাই: জিজ্ঞাসাবাদে প্রশিক্ষণসহ বোমা হামলার নানা তথ্য স্বীকার করেছে

নোয়াখালীতে ধর্ষণ মামলার বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

ছবি

রমনা বটমূলসহ ২ মামলার ফাঁসির আসামি হুজির সাবেক আমির গ্রেপ্তার

ছবি

সোনালী ব্যাংকের সাবেক এমডিসহ ৯ জনের কারাদণ্ড

ছবি

দুদকের মামলায় সিনহার বিরুদ্ধে প্রতিবেদন পেছাল

ছবি

মিটফোর্ডে নকল ওষুধ মজুদ ও বিক্রি, ভান্ডারি মার্কেটের নাজিমুল গ্রেফতার

ছবি

হাতিরঝিলে বাণিজ্যিক স্থাপনা-ওয়াটার ট্যাক্সি নয়: হাইকোর্ট

ছবি

সম্রাটের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

ছবি

আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলেন সম্রাট

ছবি

কুমিল্লার নাশকতার মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন

ছবি

খালাস চেয়ে হাজী সেলিমের আপিল, জামিন আবেদন

১২ কাউন্সিলর প্রার্থীর বিরুদ্ধে হত্যাসহ ১১৭ মামলা

ছবি

ই-কমার্স কেলেঙ্কারি: জড়িতদের খুঁজে বের করার নির্দেশ

ছবি

মাস্ক কেনায় কেলেংকারি: ডেল্টার সাবেক প্রশাসক কারাগারে

ছবি

পি কে হালদারকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা চলছে: আইজিপি

ছবি

নর্থ সাউথের ৪ ট্রাস্টিকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

ছবি

আত্মসমর্পণের পর কারাগারে প্রদীপের স্ত্রী চুমকি

সখীপুরে অর্থ আত্মসাৎ মামলায় অধ্যক্ষ কারাগারে

ঘুমন্ত অবস্থায় পিটিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা

খুলনায় ২ জঙ্গির ২০ বছর কারাদন্ড

নোয়াখালীতে ব্যাংক কর্মকর্তার ৩০ বছরের কারাদণ্ড

চৌমুহনীতে ব্যবসায়ী হত্যাঃ ৩ কিশোরের স্বীকারোক্তি, লাশ দাফন

ছবি

জামিন নয়, নর্থ সাউথের ৪ ট্রাস্টিকে পুলিশে দিলো হাইকোর্ট

ইয়াবা নিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা

বরিশালে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় গ্রেপ্তার তিন

ছবি

শরীয়তপুরে একসাথে ৪টি বাড়ীতে দুর্বিত্তদের আগুন, বৃদ্ধা নিহত

ছবি

হাজি সেলিমের আত্মসমর্পণ, যেতে হল কারাগারে

ছবি

বদির আবেদন খারিজ, এক বছরের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ

ছবি

জেএমবির দুই সদস্যের ২০ বছর কারাদণ্ড

থানায় অভিযোগ করায় জেল থেকে বেরিয়ে তরুণকে খুন

ছবি

হাজী সেলিম আজ আদালতে আত্মসমপর্ণ করবেন

ছবি

টেন্ডার ছিনতাইয়ের অভিযোগ ঠিকাদারদের

ছবি

পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরাতে দুদককে সহযোগিতার প্রস্তাব এফবিআইয়ের

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

পিকে হালদার : যেভাবে তার উত্থান

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

শনিবার, ১৪ মে ২০২২

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় নিম্ন মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারে জন্ম প্রশান্ত কুমার হালদারের। যাকে সবাই পিকে হালদার হিসেবেই চিনে। আর্থিক প্রতিষ্ঠান এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক এবং রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে পিকে হালদার আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। পিকের সিন্ডিকেটে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন ব্যাংকের প্রভাবশালীরা সম্পৃক্ত ছিল। এসব সিন্ডিকেটের সহযোগিতায় পিকে হালদার ১০ বছরে ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে দেউলিয়া করে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্সিয়াল ইন্টিলিজেন্ট ইউনিট (বিএফআইইউ’র) প্রতিবেদনেও পিকের আর্থিক কেলেঙ্কারির বিস্তারিত তথ্য উঠে এসেছে।

দুদকের একজন কর্মকর্তা সংবাদকে জানান, পিকের উত্থান আলাদিনের চেরাগের মতো। ২০০৯ সাল থেকে শুরু করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে সহস্র কোটি টাকার মতো অবৈধ সম্পদ গড়েছেন পিকে হালদার। চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল পিকের। ওইসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) পরিচালনা বোর্ড গঠন করা হতো পিকের ইশারায়। নিজের আত্মীয়-স্বজনদেরও ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে বসিয়েছিলেন। এসব কান্ড ঘটতে নারীদেরও ব্যবহার করেছেন পিকে হালদার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গর্ভনর এসকে সুর, নির্বাহী পরিচালক শাহে আলম, সাবেক সিনিয়র সচিবসহ একাধিক পদস্ত কর্মকর্তাকে কাজে লাগিয়ে পিকে হালদার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজত্ব চালিয়েছিলেন।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল, পিঅ্যান্ডএল অ্যাগ্রো, পিঅ্যান্ডএল ভেঞ্চার, পিঅ্যান্ডএল বিজনেস এন্টারপ্রাইজ, হাল ইন্টারন্যাশনাল, হাল ট্রাভেল, হাল ট্রিপ, হাল ক্যাপিটাল, হাল টেকনোলজি, আনন কেমিক্যাল, নর্দান জুট, সুখাদা লিমিটেড, রেপটাইল ফার্মসহ নামে বেনামে প্রতিষ্ঠান খুলে ৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ঋণ নিয়েছেন পিকে হালদার। যে ৪ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অর্থ লুট করেছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের কোন পদে না থাকলেও এমনকি শেয়ার না থাকলেও সব প্রতিষ্ঠান পিকের নিয়ন্ত্রণে ছিল। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে পিকে হালদারকে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সিকিউরিটি এক্সচেইঞ্জ কমিশনের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং থেকে যেসব প্রতিষ্ঠানের নামে প্রায় ২৫০০ কোটি টাকা লুট করে, প্রায় একই মালিকানাধীন আরও প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠান এফএএস ফাইন্যান্স, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স এবং পিপলস লিজিং থেকে একই কায়দায় আরও প্রায় ৭৫০০ কোটি টাকা ঋণের নামে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। এফএএস ফাইন্যান্স থেকে প্রায় ২২০০ কোটি টাকা, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ২৫০০ কোটি টাকা, পিপলস লিজিং থেকে প্রায় ৩০০০ কোটি টাকা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও পাচার করা হয়েছে। এসব ঋণের বিপরীতে মর্টগেজ নেই বললেও চলে। ফলে ঋণ পরিশোধ হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। পিকে হালদার একাই ১০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছেন বিষয়টি তা নয়, পিকে হালদার বিদেশে পাচার করেছেন প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। তিনি সিংগাপুর, ভারতে ও কানাডায় টাকা পাচার করেছেন। কানাডার টরেন্টোতে মার্কেট কিনেছেন, বিলাসবহুল বাড়ি কিনেছেন। তাহলে বাকি প্রায় সাড়ে নয় হাজার কোটি টাকা গেল কোথায়। এসব টাকা দেশে পিকের সহযোগীদের কাছেই রয়েছে।

কে এই পিকে হালদার

পিকে হালদারের জন্ম পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার দিঘিরজান গ্রামে। তার বাবা প্রয়াত প্রণনেন্দু হালদার পেশায় ছিলেন কৃষক আর মা লীলাবতী হালদার ছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। পিকে হালদার ও প্রিতিশ কুমার হালদার দুই ভাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে দুই ভাই ব্যবসায় প্রশাসনের আইবিএ থেকে এমবিএ করেন। পাশাপাশি চার্টার্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিস্ট (সিএফএ) সম্পন্ন করেন পিকে হালদার। ২০০৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইআইডিএফসিতে উপব্যবস্থাপনা (ডিএমডি) পরিচালক ছিলেন পিকে হালদার। ১০ বছরের ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা নিয়েই ২০০৯ সালে তিনি রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি হয়ে যান। এরপর ২০১৫ সালের জুলাইয়ে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের এমডি পদে যোগ দেন।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, পিকে হালদারের নামে ব্যাংক এশিয়া, এনআরবি গ্লোবাল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ কয়েকটি ব্যাংকের হিসাবে বিভিন্ন সময়ে জমা হয় ২৪০ কোটি টাকা। হাল ট্রাভেল (হাল ট্রিপ) এজেন্সির চেয়ারম্যান পিকে হালদার নিজে। বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা হাল ট্রিপের হিসাবে জমা হয় ৪০৭ কোটি টাকা। ফার্স্ট কমিউনিকেশনের পরিচালকও তিনি। এর ব্যাংক হিসাবে জমা হয় ৮২৩ কোটি টাকা। সুখাদা লিমিটেডে পিকে হালদারের শেয়ার ৯০ শতাংশ ও মা লীলাবতী হালদারের ৫ শতাংশ। এ হিসাবে ২০ কোটি ৪১ লাখ টাকা জমা হয়। লীলাবতী হালদারের ৩টি ব্যাংক হিসাবে জমা হয় ১৬০ কোটি টাকা। রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে নেয়া ৩ গ্রাহকের ঋণের ৬৩ কোট টাকাও লীলাবতী হালদারের হিসাবে জমা হয়। ওই সময়ে রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি ছিলেন পিকে হালদার। ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারের ব্যাংক হিসাবে ৫০ লাখ টাকা জমা থাকলেও তার নামে রয়েছে হাল টেকনোলজি, হাল ট্রিপ টেকনোলজি, পিঅ্যান্ডএল হোল্ডিং, মাইক্রো টেকনোলজিস, নর্দান জুটসহ আরও নানা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের হিসাবে ৫০০ কোটি টাকার বেশি জমা হয়, ঋণও রয়েছে। ব্যাংক এশিয়ার ধানমন্ডি শাখায় পিকে হালদারের দুটি হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ২৪৪ কোটি টাকা জমা হয়। এই হিসাব থেকে রিলায়েন্স ব্রোকারেজে যায় ২০৫ কোটি টাকা, লীলাবতী হালদারের হিসাবে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, পিঅ্যান্ডএল অ্যাগ্রোতে ১১ কোটি টাকা, আনন কেমিক্যালে ৩ কোটি ও এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টে যায় ৪০ লাখ টাকা। ২০১৫ সালে পিপলস লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেয় আনান কেমিক্যাল। এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ও রিলায়েন্স ব্রোাকারেজের মাধ্যমে এই শেয়ার কেনা হয়।

লীলাবতী হালদারের ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময়ে ১৬০ কোটি টাকা জমা হয়। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে তার হিসাবটি ২০১৩ সালের ৭ মার্চ খুলে ওই বছরের ২৬ আগস্ট বন্ধ করে দেয়া হয়। এই ৫ মাসে ওই হিসাবে ১৯ কোটি টাকা জমা করে ইমেক্সকো, বর্ণা ও ওরিয়াল নামের তিনটি প্রতিষ্ঠান। আরেকটি হিসাবে জমা করে ৯ কোটি টাকা, যা ৩০ দিনের মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়। এ ৩ প্রতিষ্ঠানই রিলায়েন্স ফাইন্যান্স থেকে ৬৩ কোটি টাকা ঋণ পায়। ওই সময়ে পিকে হালদার ছিলেন রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি। পুরানা পল্টনের ইস্টার্ন ট্রেড সেন্টারের ১০ তলায় এ ৩ প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়।

হাল ট্রাভেল সার্ভিস মূলত ট্রাভেল এজেন্সি প্রতিষ্ঠান, যা হাল ট্রিপ নামে পরিচিত। এর চেয়ারম্যান পিকে হালদার ও এমডি তাজবীর হাসান। পিকে হালদারের শেয়ারই ৯০ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির কয়েকটি ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন সময় জমা হয় ৪০৭ কোটি টাকা। ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে হাল ট্রাভেলের মালিকানায় যুক্ত হন পিকে হালদার। প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকার টিকেট বিক্রি হয়।

চার আর্থিক প্রতিষ্ঠান দখল যেভাবে

মূলত শেয়ারবাজার থেকে শেয়ার কিনে চারটি প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন পিকে হালদার। এভাবে নিয়ন্ত্রণ নেয়া চারটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পিপলস লিজিং ও বিএফআইসির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের একধরনের সহায়তা ছিল। এই দুই প্রতিষ্ঠানের আগের পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য আইন ভেঙে নামে-বেনামে ঋণ নেয়ায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আর এই সুযোগে এসব কোম্পানির শেয়ার কিনে প্রতিষ্ঠান দুটির নিয়ন্ত্রণ নেন পিকে হালদার।

যেমন বিআইএফসির নিয়ন্ত্রণ সুকুজা ভেঞ্চার ও কাঞ্চি ভেঞ্চার নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের হাতে। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরের একই দিনে এ দুটি প্রতিষ্ঠান কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। সুকুজা ভেঞ্চারের শেয়ার সুখাদা লিমিটেড ও সুকুমার মৃধার মেয়ে অনিন্দিতা মৃধার হাতে। এর মধ্যে অনিন্দিতা মৃধার শেয়ারই ৯০ শতাংশ। আর সুখাদা লিমিটেডের মনোনীত পরিচালক ব্যাংক এশিয়ার সাবেক এমডি ইরফানউদ্দিন আহমেদ। ইরফানউদ্দিন আহমেদ কিছুদিনের জন্য বিআইএফসির চেয়ারম্যানও হয়েছিলেন। আর কাঞ্চি ভেঞ্চারের ৯৫ শতাংশ শেয়ার হাল ইন্টারন্যাশনালের হাতে, যার প্রতিনিধিও ইরফানউদ্দিন আহমেদ। পিকে হালদার সুকুমার মৃধার মেয়েকে কোম্পানির পরিচালক বানিয়েছেন।

পিপলস লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল আনন কেমিক্যাল নামের একটি প্রতিষ্ঠানের। আনন কেমিক্যালের ৯৪ শতাংশ শেয়ার পিকের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারে হাতে ও ৫ শতাংশ শেয়ার তার খালাতো ভাই অভিজিৎ অধিকারীর হাতে। এফএএস ফাইন্যান্সের নিয়ন্ত্রণ পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল ও রেপটাইল ফার্মের হাতে। আবার রেপটাইলস ফার্মের মালিকানায় আছে পিঅ্যান্ডএল ইন্টারন্যাশনাল, কেএইচবি সিকিউরিটিজের এমডি রাজীব সোম ও তার স্ত্রী শিমু রায়। এর ফলে ময়মনসিংহের কুমির চাষ প্রকল্পটি বনে গেছে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। মালিক মূলত পিকে হালদারই।

ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ হাল ইন্টারন্যাশনাল, বিআর ইন্টারন্যাশনাল, নেচার এন্টারপ্রাাইজ, নিউ টেক এন্টার প্রাইজের হাতে। এসব প্রতিষ্ঠান ২০১৫ সালে কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। হাল ইন্টারন্যাশনালের ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিক পিকে হালদার নিজে। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং একসময় ভালো চলছিল। ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পরই প্রতিষ্ঠানটি ভেঙে পড়ে। প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের নামে বের করে নেয়া হয় ২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। এর সব ক’টির সুবিধাভোগীও পিকে হালদার বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

দুদকের উপপরিচালক মো. সালাহউদ্দিন বলেন, পিকে হালদার নামে-বেনামে যে সম্পদ করেছেন, তা আদালতে দেয়া অভিযোগপত্রে তুলে ধরা হয়েছে। ওই সম্পদের বর্তমান বাজারমূল্য ৯৩৩ কোটি টাকার কম হবে না।

প্রশান্ত কুমার হালদার রিলায়েন্স ফাইন্যান্স উক্ত প্রতিষ্ঠানের এমডি থাকা অবস্থায় তার আত্মীয় স্বজনকে দিয়ে আরও বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির ইনডিপেন্ডেন্ট পরিচালক বানান এবং একক কর্তৃত্বে অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে পিপলস লিজিংসহ বেশ কয়েকটি লিজিং কোম্পানির টাকা বিভিন্ন কৌশলে বের করে আত্মসাৎ করেন। পিপলস লিজিং এ আমানতকারীদের ৩০০০ কোটি টাকা বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাৎ করেন এবং উক্ত কোম্পানিকে পথে বসিয়েছেন। ফাস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি. থেকে উজ্জ্বল কুমার নন্দী, সিদ্দিক ও জাহাঙ্গীরসহ পিকে সিন্ডিকেট লুট করেছেন প্রায় ১৩০০ কোটি টাকা। ২০১০ সালে প্রশান্ত কুমার হালদার যখন রিলায়েন্স ফাইন্যান্সয়ের এমডি ছিলেন, তখন রাশেদুল হক রিলায়েন্স ফাইনেন্স এর ডিএমডি ছিলেন। প্রশান্ত কুমার হালদার যখন এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন, রাশেদুল হক তখন ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের এমডি হিসেবে ২০১৫ সালে যোগদান করেন। এমডি রাশেদুজ্জামানকে কাজে লাগিয়ে প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানের নামে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন।

back to top