alt

অপরাধ ও দুর্নীতি

৭ বছর পর জানা গেল মেয়ের খুনি বাবা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : রোববার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩

নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পারুল আক্তার। তাঁর বাবা সেই বিয়ে মেনে নেননি। ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন পারুল ও তাঁর স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। দুজন যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তাঁদের সংসার খুব ভালোভাবে চলত না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। বিয়ের তিন বছর পর ঝগড়া করে স্ত্রীকে বাসায় রেখে বেরিয়ে যান নাছির। পারুল তাঁর বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা বলেন।

মেয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ বাবা মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলেন। বাবার কথায় স্বামীর সংসার ছেড়ে গ্রামে চলে যান পারুল। এবার ক্ষুব্ধ বাবা নিজের ও পরিবারের অসম্মান করায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পারুলের বাবা আ. কুদ্দুস খাঁ মেয়েকে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে জয়পুরহাটে নিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুদ্দুসের সঙ্গে তাঁর বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলও যান।

সেখানে যাওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের অন্ধকারে পারুলকে তাঁর বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন।

২০ জানুয়ারি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার এমন লোমহর্ষক, বর্বরোচিত বিবরণ তুলে ধরেন আ. কুদ্দুছ খাঁ। তিনি এখন কারাগারে। তাঁর দেওয়া জবানবন্দি আজ রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলন হয় ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পারুল সব ভাইবোনের মধ্যে মেধাবী ছিলেন। স্কুলে তাঁর রোল নম্বর ছিল ২। দেখতেও ছিলেন সুন্দরী। বাবা কুদ্দুসের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করবেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পালিয়ে বিয়ে করায় বাবা ক্ষুব্ধ হন।

বনজ মজুমদার বলেন, তখন থেকেই কুদ্দুসের পরিকল্পনা ছিল মেয়ে তাঁকে যে অসম্মান করেছে, তাতে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মেয়ের বিয়ের তিন বছর পর সেই সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁর বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েকে হত্যা করেন। কুদ্দুসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোকাদ্দেছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মেয়েকে হত্যার পর কুদ্দুসের মধ্যে আরেকটা বিষয় কাজ করছিল যে তাঁর মেয়ের এই পরিণতির জন্য নাছির দায়ী। তাঁকেও শাস্তি দিতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা–পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। মেয়ের বাবাও বারবার নারাজি দেন।

পিবিআই জানায়, পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করলেও সর্বশেষ তিনি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত আবার পিবিআইকে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে ২০১২ সালে মেয়ের বাবার করা সাধারণ ডায়রিতে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।

পিবিআই জানায়, মেয়েকে হত্যার পর নাছিরকে শাস্তি দিতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি মামলা চালিয়েছেন। এর জন্য তিনি নিজের জমিও বিক্রি করেছেন।

হরিণাকুন্ডুতে হত্যা মামলায় দুই জনকে ফাঁসির আদেশ

ছবি

ঝিনাইদহে কৃষক হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

নোয়াখালির এক প্রবাসী দম্পতিকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলি করে হত্যা

ছবি

ইভ্যালির রাসেল-শামীমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

ছবি

সিরাজগঞ্জে ‘অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের’ পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় ড. ইউনূসের জামিন

ছবি

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় জামিন চাইলেন ড. ইউনূস

ছবি

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

ছবি

মোবাইল ফোন সেটের আইএমইআই পাল্টানোর ‘কারিগর’ সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার গ্রেফতার

ছবি

বান্দরবানে পলিথিনে করে ভেজাল মদ বিক্রি, গ্রেফতার ২

ছবি

ভিকারুননিসা স্কুলের সেই শিক্ষকের ল্যাপটপে মিলেছে সংবেদনশীল অডিও ভিডিও

ছবি

জয়পুরহাটে কৃষক নুরুল হক হত্যা মামলায় ৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি

বরখাস্ত ডিআইজি মিজানের ১৪ বছরের কারাদণ্ড বহাল

ছবি

ভিকারুননিসার শিক্ষক মুরাদের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ছবি

যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুস নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, গাজীপুরে ভূমি কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার

টাকা ছাড়া কাজ করেন না ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, ঘুষ গ্রহণের ভিডিও ভাইরাল

ছবি

তিনদিন আগে অপহরণ, ঢাবির হলে রেখে নির্যাতন, ছাত্রলীগ কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৪

ছবি

নাটোরে অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে এক যুবককে ৬০ বছরের কারাদণ্ড

শরণখোলায় ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ধর্ষনের অভিযোগ

ছবি

রাজধানীতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলায় ২ আসামী গ্রেপ্তার

ছবি

রাতে সড়কে ওঁৎ পেতে থাকে তারা, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে করতো ছিনতাই

ছবি

সেনজেন ভিসায় লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা, বিমান কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৫

ছবি

যাবজ্জীবন সাজায় দণ্ডিত জি কে শামীমের জামিন বহাল

ছবি

পরীমনির মাদক মামলা চলবে

ছবি

চার বিমানযাত্রীর কাছে মিলল ২ কেজি সোনার বার ও পাউডার

ছবি

শিশু আয়ানের মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদনে হাইকোর্টের ‘অসন্তুষ্ট, পুন:তদন্তে নতুন কমিটি

ছবি

মোবাইল চুরির পর চোর হয়ে যেতেন প্রবাসী বন্ধু

ছবি

কিশোর গ্যাং-মাদকের বিরুদ্ধে‘অলআউট অ্যাকশনে’ যাবো ঃ র‌্যাব ডিজি

ছবি

আবারো পেছালো ৩৫ বছর আগের সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলার রায়

ছবি

৩৫ বছর আগে খুন হওয়া সগিরা মোর্শেদের মামলার রায় আবার পেছাল

ছবি

দরবেশ বাবা পরিচয়দানকারি নতুন প্রতারক চক্রের সন্ধান ১৯ সদস্য গ্রেফতার,স্বীকারোক্তি : একজন নারী ডাক্তার থেকে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই চক্র

মাদ্রাসার শিক্ষকদের এমপিওভূক্তির আশ্বাস দিয়ে ৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার দুই বাটপারের স্বীকারোক্তি

ছবি

ফরিদপুরে অস্ত্র মামলায় রুবেল ও তার সহযোগীর কারাদণ্ড

ছবি

চার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ, শিক্ষকের মৃত্যুদণ্ড

ছবি

চালক-হেলপারের সহায়তায় বাসে ছিনতাই করে ‘বমি পার্টি’র সদস্যরা

ছবি

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ফজলুল করিম হত্যায় বিচার কার্যক্রম শুরু

tab

অপরাধ ও দুর্নীতি

৭ বছর পর জানা গেল মেয়ের খুনি বাবা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

রোববার, ২২ জানুয়ারী ২০২৩

নিজের পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করেছিলেন টাঙ্গাইলের কালিহাতীর পারুল আক্তার। তাঁর বাবা সেই বিয়ে মেনে নেননি। ঢাকা জেলার আশুলিয়া এলাকায় এসে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন পারুল ও তাঁর স্বামী নাছির উদ্দিন ওরফে বাবু। দুজন যা বেতন পেতেন, তা দিয়ে তাঁদের সংসার খুব ভালোভাবে চলত না। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই ঝগড়া হতো। বিয়ের তিন বছর পর ঝগড়া করে স্ত্রীকে বাসায় রেখে বেরিয়ে যান নাছির। পারুল তাঁর বাবাকে ফোন করে পারিবারিক অশান্তির কথা বলেন।

মেয়ের প্রতি ক্ষুব্ধ বাবা মেয়েকে বাড়ি ফিরতে বলেন। বাবার কথায় স্বামীর সংসার ছেড়ে গ্রামে চলে যান পারুল। এবার ক্ষুব্ধ বাবা নিজের ও পরিবারের অসম্মান করায় মেয়েকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পারুলের বাবা আ. কুদ্দুস খাঁ মেয়েকে ভালো ছেলের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে টাঙ্গাইল থেকে জয়পুরহাটে নিয়ে যান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কুদ্দুসের সঙ্গে তাঁর বন্ধু মোকাদ্দেছ ওরফে মোকা মণ্ডলও যান।

সেখানে যাওয়ার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি এলাকায় একটি নদীর পাশে নির্জন জায়গায় রাতের অন্ধকারে পারুলকে তাঁর বাবা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন। পরে মোকাদ্দেছের সহযোগিতায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেন।

২০ জানুয়ারি আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মেয়ে হত্যার এমন লোমহর্ষক, বর্বরোচিত বিবরণ তুলে ধরেন আ. কুদ্দুছ খাঁ। তিনি এখন কারাগারে। তাঁর দেওয়া জবানবন্দি আজ রোববার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। এ সংবাদ সম্মেলন হয় ধানমন্ডিতে পিবিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে।

পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পারুল সব ভাইবোনের মধ্যে মেধাবী ছিলেন। স্কুলে তাঁর রোল নম্বর ছিল ২। দেখতেও ছিলেন সুন্দরী। বাবা কুদ্দুসের স্বপ্ন ছিল মেয়েকে শিক্ষিত করবেন। কিন্তু নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় পালিয়ে বিয়ে করায় বাবা ক্ষুব্ধ হন।

বনজ মজুমদার বলেন, তখন থেকেই কুদ্দুসের পরিকল্পনা ছিল মেয়ে তাঁকে যে অসম্মান করেছে, তাতে তার বেঁচে থাকার অধিকার নেই। মেয়ের বিয়ের তিন বছর পর সেই সুযোগ পেয়ে তিনি তাঁর বন্ধুর সহযোগিতায় মেয়েকে হত্যা করেন। কুদ্দুসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোকাদ্দেছকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, মেয়েকে হত্যার পর কুদ্দুসের মধ্যে আরেকটা বিষয় কাজ করছিল যে তাঁর মেয়ের এই পরিণতির জন্য নাছির দায়ী। তাঁকেও শাস্তি দিতে হবে। তাই মেয়ের জামাইকে ফাঁসাতে একের পর এক মামলা করেছেন তিনি। রহস্য উদ্ঘাটন করতে না পারায় থানা–পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই পুলিশ প্রতিবেদন দেন। মেয়ের বাবাও বারবার নারাজি দেন।

পিবিআই জানায়, পারুলের বাবা শুরুতে অপহরণ ও গুমের মামলা করলেও সর্বশেষ তিনি আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার তদন্ত আবার পিবিআইকে দেওয়া হয়। তদন্তে নেমে ২০১২ সালে মেয়ের বাবার করা সাধারণ ডায়রিতে দেওয়া একটি ফোন নম্বরের সূত্র ধরে এ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়।

পিবিআই জানায়, মেয়েকে হত্যার পর নাছিরকে শাস্তি দিতে দীর্ঘ সাত বছর ধরে তিনি মামলা চালিয়েছেন। এর জন্য তিনি নিজের জমিও বিক্রি করেছেন।

back to top