alt

বিনোদন

শতবর্ষ আগের কলকাতার নির্বাক চলচ্চিত্র ‘বেহুলা’ উদ্ধার ফ্রান্সে, ৫ ডিসেম্বর প্রদর্শনী মুম্বাইয়ে

দীপক মুখার্জী, কলকাতা : সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

https://sangbad.net.bd/images/2022/November/28Nov22/news/1.jpg

শতবর্ষ আগের কলকাতায় অনেক গুলো নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল, যার বেশির ভাগই বর্তমানে অদৃশ্য হয়ে গেছে বা তার অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এই রকম একশ বছরেরও বেশী পুরানো (১৯২১ সালে তৈরী) ভারতের কলকাতায় প্রথম অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান অভিনেত্রী পেশেন্স কুপার অভিনীত ‘বেহুলা’ সিনেমার সন্ধান মিলেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ল্যাবে। ভারত প্যারিসের সংগ্রহশালা থেকে পুনরুদ্ধার করেছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটি মূল উপাদান সহ উদ্ধার করা হয়েছে।

"এটি একটি অলৌকিক আবিষ্কার। আমাদের নির্বাক চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে খুব কমই টিকে থাকার বিষয়টি এটিকে ঐতিহাসিক করে তুলেছে," বলেছেন পরিচালক এবং ফিল্ম সংরক্ষণবিদ শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গারপুর, যার ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এই পুনরুদ্ধারের কাজকে সহজতর করবে।

https://sangbad.net.bd/images/2022/November/28Nov22/news/3.jpg

আগামী ৪ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে ভারতের সপ্তম ফিল্ম প্রিজারভেশন কর্মশালা। এটি চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কলকাতায় তৈরি শতবর্ষের পুরোনো সংগৃহীত ৫ রিলের সেই নির্বাক বেহুলা ছবিটি ফিল্ম প্রিজারভেশন রেস্টোরেশন ওয়ার্কশপের অংশ হিসেবে ৫ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ের রিগ্যাল প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে।

২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর আয়োজিত হয় ফিল্ম প্রিজারভেশন অ্যান্ড রেস্টোরেশন ওয়ার্কশপ। করোনার কারণে গত তিন বছর এই ওয়ার্কশপ হতে পারেনি ভারতে। এবার আবার শুরু হচ্ছে ৪ ডিসেম্বর থেকে। এর আগে পুণে, চেন্নাই, কলকাতা এবং হায়দরাবাদে এই ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার হচ্ছে মুম্বাইতে।

প্রাচীন চলচ্চিত্র বেহুলা একসময় ফ্রান্সে চলে যায়। তারপর একদিন হারিয়েও যায়। খোঁজও মিলছিল না একসময়। অবশেষে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা খোঁজ পান বেহুলার। এর আগে ফ্রান্সে গিয়ে বেহুলার ঠাঁই হয় সেখানকার একটি নামী সংগ্রহশালায়।

মুম্বাইয়ের ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রধান এবং প্রখ্যাত ফিল্ম সংরক্ষণবিদ শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গারপুর সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা পেসেন্স কুপারের সেই নির্বাক ছবি বেহুলাকে এবার হাজির করছি সুদূর ফ্রান্সের সংগ্রহশালা থেকে মুম্বাইয়ের প্রেক্ষাগৃহে।’

সেদিনের কলকাতার নামী থিয়েটার সংস্থা ম্যাডান থিয়েটার্স নির্মাণ করেছিল বেহুলা। আর এই ছবির তৎকালীন অভিনেত্রী ছিলেন অ্যাংলো–ইন্ডিয়ান নায়িকা পেসেন্স কুপার। তিনিই বেহুলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বেহুলা চলচ্চিত্র জামশেদজি ফ্রামজি মদন প্রযোজনা করেছিলেন। তিনি ভারতের প্রথম চলচ্চিত্র ম্যাগনেটদের একজন, যার নামে কলকাতার একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

https://sangbad.net.bd/images/2022/November/28Nov22/news/2.jpg

বেহুলার শুটিং হয়েছিল কলকাতায়। পরিচালক ছিলেন ক্যামিলে লে গ্রাঁ। ‘বেহুলা’ সিনেমা কলকাতার বাসিন্দা অ্যাংলো–ইন্ডিয়ান অভিনেত্রী পেসেন্স কুপারের অবশ্য প্রথম নির্বাক ছবি ছিল না। পেসেন্স কুপারের প্রথম সিনামা ছিল ‘নল–দময়ন্তী’। সেই ছবি নির্মিত হয়েছিল ১৯২০ সালে। আর বেহুলা হয়েছিল ১৯২১ সালে।

বেহুলার নায়িকা অ্যাংলো–ইন্ডিয়ান পেসেন্স কুপার ১৯০৫ সালে কলকাতার ইহুদি-ইরাকি সম্পর্কযুক্ত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বোনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন কুপার (ধৈর্য, ভায়োলেট এবং পার্ল)। তিনি মঞ্চ নৃত্যশিল্পী হিসাবে শুরু করেছিলেন কাজ।

কুপার ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত ৪০ টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করা প্রথম অভিনেত্রী। ‘পাটনি প্রতাপ’ (১৯২৩) সিনামায় তিনি দুই বোনের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এবং ‘কাশ্মীরি সুন্দরী’ (১৯২৪) যেখানে তিনি মা ও মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

সেই সময় কুপারস পাকিস্তান প্রদেশের একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী মির্জা আহমেদ ইস্পাহানিকে বিয়ে করেন এবং ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় পাকিস্তানে চলে যান। তবে এই বিয়ে বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। পরে তিনি নির্বাক চলচ্চিত্র অভিনেতা গুল হামিদ খানকে বিয়ে করেন।

https://sangbad.net.bd/images/2022/November/28Nov22/news/4.jpg

পেশেন্স কুপারের স্টাইলি এবং পোশাক ছিল আধুনিক। কুপার সেই প্রজন্মের ‘আধুনিক মেয়েদের’ অন্তর্ভূক্ত ছিলেন যাদের ইউরোপীয় শিক্ষা এবং ফ্যাকাশে বর্ণ তাদের প্রারম্ভিক ভারতীয় সিনেমার কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।

রুবি মেয়ার্স (ওরফে সুলোচনা) এর মতো তিনি ‘আধুনিক’ অভিনেত্রীদের প্রজন্মের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন, যাদের ইউরোপীয় চেহারা এবং শিক্ষা তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনেছিল। বাহ্যিক অবস্থানগুলি সেই প্রেক্ষাপটের প্রতিধ্বনি করে যেখানে ফিল্মটি শ্যুট করা হয়েছিল, হাওয়ায় অ্যানিমেটেড কার্ডবোর্ড সেটগুলি এবং পথচারীদের অমনি উপস্থিতি গল্পের লাইনে তাদের পথ খুঁজে বের করে।

‘বেহুলা’ কুপারের একমাত্র চলচ্চিত্র যা বেঁচে আছে। চলচ্চিত্রবিদ ডুঙ্গারপুর বলছিলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে ভারতের প্রথম সুপারস্টার হওয়া সত্ত্বেও, এখন খুব কম লোকই তাকে মনে রেখেছে।’

‘বেহুলা’, পেশেন্স কুপার অভিনীত ১৯২১ সালের পুনরুদ্ধার করা নির্বাক চলচ্চিত্র। উনবিংশ দশকের গোড়ার দিকে বিশ্বের বৃহত্তম চলচ্চিত্র সরঞ্জাম এবং প্রযোজনা সংস্থা প্যাথে ফ্রেসের ক্যামেরা অপারেটর ক্যামিল লেগ্রান্ড এর পরিচালক। ভারতে, সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন প্রযোজক জামশেদজি ফ্রামজি মদন। ১৯২১ সালে, লেগ্রান্ড এবং মদন বাংলা লোককাহিনী ‘মনসা মঙ্গল’ থেকে অভিযোজিত ‘বেহুলা’ সহ কমপক্ষে পাঁচটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন।

পরবতীর্তে লেগ্রান্ড ছবিটির নেগেটিভ ফ্রান্সে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যেখানে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অলৌকিকভাবে বেহুলা বন্দি হয়ে ছিল। প্যারিসের ফাউন্ডেশন জেরোম সেডক্স-পাথে নামে একটি সংস্থা যারা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং প্রচারের জন্য কাজ করে, তারাই বেহুলা পুনরুদ্ধার করেছে।

ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অফ ইন্ডিয়ার (এনএফএআই) প্রাক্তন পরিচালক প্রকাশ মগদুম কুপারকে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেছেন৷ ‘তিনি পার্সি থিয়েটারের পটভূমি থেকে এসেছেন। বেহুলাতে তার একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তার স্টাইলিং ছিল তখনকার আধুনিক।’

‘বেহুলা’ মদন থিয়েটারের তৃতীয় চলচ্চিত্র যেটি এখন টিকে আছে। অন্যগুলি হল রুস্তমজি ধোতিওয়ালার বাংলা নির্বাক ছবি ‘বিশ্বমঙ্গল’ ( ১৯১৯) এবং জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরব বাংলা ক্লাসিক ‘মাধবী কঙ্কন’ (১৯৩০)।

বেহুলার মূল সঙ্গীত করেছিলেন কীভান চেমিরানি (পার্কশন, ভারতীয় সান্টুর, ড্রাম, উর্দু, পারস্য জার্ব), বেঞ্জামিন মুসে (পিয়ানো), সিলভাইন বারু (বানসুরি বাঁশি, আর্মেনিয়া দুদুক), মিশেল গুয়ে (সিথারা, তানপুরা) দ্বারা পরিবেশিত এবং রেকর্ড করা হয়েছে।

পুরানো শতাধিক বছরে আগের সেই বেহুলা যে ভাবেই হোক একসময় ফ্রান্সে চলে যায়। তারপর একদিন হারিয়েও যায়। খোঁজও মিলছিল না একসময়। অবশেষে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা খোঁজ পান বেহুলার। এর আগে ফ্রান্সে গিয়ে বেহুলার ঠাঁই হয় সেখানকার একটি নামী সংগ্রহশালায়।

নির্বাক ‘বেহুলা’ সিনেমা মনসা মঙ্গলের একটি বাঙালী কিংবদন্তি থেকে গৃহীত।

ছবি

নতুন নতুন রেকর্ড, ‘পাঠান’ চার দিনে চার বছর ভুলিয়ে দিয়েছে শাহরুখের

ছবি

ঢাকাইয়া নাটকে জুটিবদ্ধ হলেন আদর ও বর্ষা

ছবি

এস, আই, সোহেল নির্মাণ করলেন ‘ব্লাড কানেকশন’

ছবি

ইকবাল খন্দকারের উপস্থাপনায় ‘বই বাতায়ন’

ছবি

হালুম, টুকটুকি, ইকরি ও শিকুর নতুন বন্ধু জুলিয়া

ছবি

‘বিস্ময় বালিকা’ নাটকে জুটি হলেন সজল ও অলঙ্কার

ছবি

মাতৃভাষা দিবস’র গানে রাজীব-নিশীতা

ছবি

অপ্রতিরোধ্য ‘পাঠান’, ছাড়ালো ৫৫০ কোটি

ছবি

অভিনয়েও প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন শিক্ষক বসন্ত কুমার বিশ্বাস

ছবি

প্লে-ব্যাকে প্রথম প্রমি, ব্যস্ত স্টেজ শোতও

ছবি

২০২১ এর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে নোনাজলের কাব্য ও লাল মোরগের ঝুঁটির জয়জয়কার

ছবি

বাংলাদেশকে আর বিব্রতকর অবস্থায় না ফেলি : ফারুকী

ছবি

মন্নতের বাইরে ভিড়, দর্শকের উদ্দেশে শাহরুখের উড়ো চুমু

ছবি

যেখানে সবার শীর্ষে অলকা ইয়াগনিক

ছবি

এস, আই, সোহেল নির্মাণ করলেন ‘ব্লাড কানেকশন’

ছবি

নতুন ধারাবাহিকে সাড়া পাচ্ছেন মাহা

ছবি

অস্কারে রাইজবোরার মনোনয়ন পুনঃপর্যালোচনায়

ছবি

পরীক্ষণ হলে আজ বহু বচনের ‘অনিকেত সন্ধ্যা’

ছবি

সালমান শাহ এর লিপে গান আরো জনপ্রিয় করেছিলো হাসান চৌধুরী কে

ছবি

ঋতুপর্ণা-নিরব ভিডিওবার্তায় শোনালেন ‘স্পর্শ’র গল্প

ছবি

হিরো আলমঃ দুই দলের মনোনয়ন চেয়ে পাননি তাই স্বতন্ত্র প্রার্থী

ছবি

প্রত্যাবর্তন নয়, বরং সামনে এগিয়ে চলা: শাহরুখ

ছবি

বিমানবন্দরে আরবাজকে জড়িয়ে ধরলেন মালাইকা

ছবি

দেশে ‘পাঠান’ মুক্তি নিয়ে কথা বললেন ওবায়দুল কাদের

ছবি

প্রধান চরিত্রেও সাফল্য পাচ্ছেন মৌ

ছবি

প্রকাশিত হল মিঠুর ‘তোর আগুনে’ ভিডিওগান

ছবি

যাত্রাপালা ‘মাইকেল মধুসূদন’ মঞ্চায়নের ৫০ বছর

ছবি

ভালোবাসা দিবসে কেয়া-জামশেদের ‘কথা দিলাম’

ছবি

আরণ্যকের উৎসবে অংশ নিতে দেশে আসলেন তমালিকা

ছবি

নিপুণ চান লাভের ১০ শতাংশ, জায়েদ চান বলিউডে তার ছবির মুক্তি

ছবি

পদ্মশ্রী পুরস্কার পেলেন রাভিনা ট্যান্ডন

ছবি

ভারতের আরআরআরে সিনেমায় কেন মজল পশ্চিমারা?

ছবি

যোদ্ধা হয়ে আসছেন সাবিলা নূর

ছবি

দুই বোনের গল্পে ফারিণ

ছবি

পুরস্কারপ্রাপ্ত সিনেমা ‘সাঁতাও’ তিন হলে পেলো

ছবি

ওয়েব ফিল্মে জুটি হলেন আদর-স্পর্শিয়া

tab

বিনোদন

শতবর্ষ আগের কলকাতার নির্বাক চলচ্চিত্র ‘বেহুলা’ উদ্ধার ফ্রান্সে, ৫ ডিসেম্বর প্রদর্শনী মুম্বাইয়ে

দীপক মুখার্জী, কলকাতা

সোমবার, ২৮ নভেম্বর ২০২২

https://sangbad.net.bd/images/2022/November/28Nov22/news/1.jpg

শতবর্ষ আগের কলকাতায় অনেক গুলো নির্বাক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছিল, যার বেশির ভাগই বর্তমানে অদৃশ্য হয়ে গেছে বা তার অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। এই রকম একশ বছরেরও বেশী পুরানো (১৯২১ সালে তৈরী) ভারতের কলকাতায় প্রথম অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান অভিনেত্রী পেশেন্স কুপার অভিনীত ‘বেহুলা’ সিনেমার সন্ধান মিলেছে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ল্যাবে। ভারত প্যারিসের সংগ্রহশালা থেকে পুনরুদ্ধার করেছে সিনেমাটি। চলচ্চিত্রটি মূল উপাদান সহ উদ্ধার করা হয়েছে।

"এটি একটি অলৌকিক আবিষ্কার। আমাদের নির্বাক চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে খুব কমই টিকে থাকার বিষয়টি এটিকে ঐতিহাসিক করে তুলেছে," বলেছেন পরিচালক এবং ফিল্ম সংরক্ষণবিদ শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গারপুর, যার ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশন এই পুনরুদ্ধারের কাজকে সহজতর করবে।

https://sangbad.net.bd/images/2022/November/28Nov22/news/3.jpg

আগামী ৪ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে ভারতের সপ্তম ফিল্ম প্রিজারভেশন কর্মশালা। এটি চলবে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। কলকাতায় তৈরি শতবর্ষের পুরোনো সংগৃহীত ৫ রিলের সেই নির্বাক বেহুলা ছবিটি ফিল্ম প্রিজারভেশন রেস্টোরেশন ওয়ার্কশপের অংশ হিসেবে ৫ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ের রিগ্যাল প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হবে।

২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর আয়োজিত হয় ফিল্ম প্রিজারভেশন অ্যান্ড রেস্টোরেশন ওয়ার্কশপ। করোনার কারণে গত তিন বছর এই ওয়ার্কশপ হতে পারেনি ভারতে। এবার আবার শুরু হচ্ছে ৪ ডিসেম্বর থেকে। এর আগে পুণে, চেন্নাই, কলকাতা এবং হায়দরাবাদে এই ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবার হচ্ছে মুম্বাইতে।

প্রাচীন চলচ্চিত্র বেহুলা একসময় ফ্রান্সে চলে যায়। তারপর একদিন হারিয়েও যায়। খোঁজও মিলছিল না একসময়। অবশেষে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা খোঁজ পান বেহুলার। এর আগে ফ্রান্সে গিয়ে বেহুলার ঠাঁই হয় সেখানকার একটি নামী সংগ্রহশালায়।

মুম্বাইয়ের ফিল্ম হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের প্রধান এবং প্রখ্যাত ফিল্ম সংরক্ষণবিদ শিবেন্দ্র সিং দুঙ্গারপুর সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, ‘আমরা পেসেন্স কুপারের সেই নির্বাক ছবি বেহুলাকে এবার হাজির করছি সুদূর ফ্রান্সের সংগ্রহশালা থেকে মুম্বাইয়ের প্রেক্ষাগৃহে।’

সেদিনের কলকাতার নামী থিয়েটার সংস্থা ম্যাডান থিয়েটার্স নির্মাণ করেছিল বেহুলা। আর এই ছবির তৎকালীন অভিনেত্রী ছিলেন অ্যাংলো–ইন্ডিয়ান নায়িকা পেসেন্স কুপার। তিনিই বেহুলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বেহুলা চলচ্চিত্র জামশেদজি ফ্রামজি মদন প্রযোজনা করেছিলেন। তিনি ভারতের প্রথম চলচ্চিত্র ম্যাগনেটদের একজন, যার নামে কলকাতার একটি রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

https://sangbad.net.bd/images/2022/November/28Nov22/news/2.jpg

বেহুলার শুটিং হয়েছিল কলকাতায়। পরিচালক ছিলেন ক্যামিলে লে গ্রাঁ। ‘বেহুলা’ সিনেমা কলকাতার বাসিন্দা অ্যাংলো–ইন্ডিয়ান অভিনেত্রী পেসেন্স কুপারের অবশ্য প্রথম নির্বাক ছবি ছিল না। পেসেন্স কুপারের প্রথম সিনামা ছিল ‘নল–দময়ন্তী’। সেই ছবি নির্মিত হয়েছিল ১৯২০ সালে। আর বেহুলা হয়েছিল ১৯২১ সালে।

বেহুলার নায়িকা অ্যাংলো–ইন্ডিয়ান পেসেন্স কুপার ১৯০৫ সালে কলকাতার ইহুদি-ইরাকি সম্পর্কযুক্ত একটি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বোনদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিচিত ছিলেন কুপার (ধৈর্য, ভায়োলেট এবং পার্ল)। তিনি মঞ্চ নৃত্যশিল্পী হিসাবে শুরু করেছিলেন কাজ।

কুপার ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত ৪০ টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন এবং ভারতীয় চলচ্চিত্রে দ্বৈত চরিত্রে অভিনয় করা প্রথম অভিনেত্রী। ‘পাটনি প্রতাপ’ (১৯২৩) সিনামায় তিনি দুই বোনের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এবং ‘কাশ্মীরি সুন্দরী’ (১৯২৪) যেখানে তিনি মা ও মেয়ের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

সেই সময় কুপারস পাকিস্তান প্রদেশের একজন সুপরিচিত ব্যবসায়ী মির্জা আহমেদ ইস্পাহানিকে বিয়ে করেন এবং ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময় পাকিস্তানে চলে যান। তবে এই বিয়ে বেশীদিন স্থায়ী হয়নি। পরে তিনি নির্বাক চলচ্চিত্র অভিনেতা গুল হামিদ খানকে বিয়ে করেন।

https://sangbad.net.bd/images/2022/November/28Nov22/news/4.jpg

পেশেন্স কুপারের স্টাইলি এবং পোশাক ছিল আধুনিক। কুপার সেই প্রজন্মের ‘আধুনিক মেয়েদের’ অন্তর্ভূক্ত ছিলেন যাদের ইউরোপীয় শিক্ষা এবং ফ্যাকাশে বর্ণ তাদের প্রারম্ভিক ভারতীয় সিনেমার কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছিল।

রুবি মেয়ার্স (ওরফে সুলোচনা) এর মতো তিনি ‘আধুনিক’ অভিনেত্রীদের প্রজন্মের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন, যাদের ইউরোপীয় চেহারা এবং শিক্ষা তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তা এনেছিল। বাহ্যিক অবস্থানগুলি সেই প্রেক্ষাপটের প্রতিধ্বনি করে যেখানে ফিল্মটি শ্যুট করা হয়েছিল, হাওয়ায় অ্যানিমেটেড কার্ডবোর্ড সেটগুলি এবং পথচারীদের অমনি উপস্থিতি গল্পের লাইনে তাদের পথ খুঁজে বের করে।

‘বেহুলা’ কুপারের একমাত্র চলচ্চিত্র যা বেঁচে আছে। চলচ্চিত্রবিদ ডুঙ্গারপুর বলছিলেন, ‘এটা দুঃখজনক যে ভারতের প্রথম সুপারস্টার হওয়া সত্ত্বেও, এখন খুব কম লোকই তাকে মনে রেখেছে।’

‘বেহুলা’, পেশেন্স কুপার অভিনীত ১৯২১ সালের পুনরুদ্ধার করা নির্বাক চলচ্চিত্র। উনবিংশ দশকের গোড়ার দিকে বিশ্বের বৃহত্তম চলচ্চিত্র সরঞ্জাম এবং প্রযোজনা সংস্থা প্যাথে ফ্রেসের ক্যামেরা অপারেটর ক্যামিল লেগ্রান্ড এর পরিচালক। ভারতে, সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন প্রযোজক জামশেদজি ফ্রামজি মদন। ১৯২১ সালে, লেগ্রান্ড এবং মদন বাংলা লোককাহিনী ‘মনসা মঙ্গল’ থেকে অভিযোজিত ‘বেহুলা’ সহ কমপক্ষে পাঁচটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন।

পরবতীর্তে লেগ্রান্ড ছবিটির নেগেটিভ ফ্রান্সে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন যেখানে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অলৌকিকভাবে বেহুলা বন্দি হয়ে ছিল। প্যারিসের ফাউন্ডেশন জেরোম সেডক্স-পাথে নামে একটি সংস্থা যারা ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পুনরুদ্ধার এবং প্রচারের জন্য কাজ করে, তারাই বেহুলা পুনরুদ্ধার করেছে।

ন্যাশনাল ফিল্ম আর্কাইভ অফ ইন্ডিয়ার (এনএফএআই) প্রাক্তন পরিচালক প্রকাশ মগদুম কুপারকে ‘চমৎকার’ বলে বর্ণনা করেছেন৷ ‘তিনি পার্সি থিয়েটারের পটভূমি থেকে এসেছেন। বেহুলাতে তার একটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। তার স্টাইলিং ছিল তখনকার আধুনিক।’

‘বেহুলা’ মদন থিয়েটারের তৃতীয় চলচ্চিত্র যেটি এখন টিকে আছে। অন্যগুলি হল রুস্তমজি ধোতিওয়ালার বাংলা নির্বাক ছবি ‘বিশ্বমঙ্গল’ ( ১৯১৯) এবং জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীরব বাংলা ক্লাসিক ‘মাধবী কঙ্কন’ (১৯৩০)।

বেহুলার মূল সঙ্গীত করেছিলেন কীভান চেমিরানি (পার্কশন, ভারতীয় সান্টুর, ড্রাম, উর্দু, পারস্য জার্ব), বেঞ্জামিন মুসে (পিয়ানো), সিলভাইন বারু (বানসুরি বাঁশি, আর্মেনিয়া দুদুক), মিশেল গুয়ে (সিথারা, তানপুরা) দ্বারা পরিবেশিত এবং রেকর্ড করা হয়েছে।

পুরানো শতাধিক বছরে আগের সেই বেহুলা যে ভাবেই হোক একসময় ফ্রান্সে চলে যায়। তারপর একদিন হারিয়েও যায়। খোঁজও মিলছিল না একসময়। অবশেষে ভারতীয় চলচ্চিত্র নির্মাতারা খোঁজ পান বেহুলার। এর আগে ফ্রান্সে গিয়ে বেহুলার ঠাঁই হয় সেখানকার একটি নামী সংগ্রহশালায়।

নির্বাক ‘বেহুলা’ সিনেমা মনসা মঙ্গলের একটি বাঙালী কিংবদন্তি থেকে গৃহীত।

back to top