alt

প্রযুক্তি

সিসিএ ফাউন্ডেশনের গবেষণা: নতুন ধারার অপরাধ এটিএম হ্যাকিং

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শনিবার, ১৯ জুন ২০২১
image

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, দেশে সুস্থ সাইবার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীজনসহ সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শুক্রবার (১৮ জুন) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ ফাউন্ডেশন) ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রবণতা-২০২১’ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে সিসিএ ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সংগঠনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর যুব কর্মসূচি প্রধান মুনির হাসান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন খন্দকার ফারজানা রহমান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ, কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী আনিছ, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হক অনু ও শিশুদের সাইবার সুরক্ষা বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা প্রটেক্ট আস কিডসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শারমিন নাহার লিনা। গবেষণা প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন সিসিএ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ সেলের আহ্বায়ক এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার মনিরা নাজমী জাহান।

প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯-২০২০ সালে দেশে সাইবার অপরাধের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সামাজিক মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন একাউন্ট হ্যাকিং বা তথ্য চুরি। গবেষণায় এটিএম কার্ড হ্যাকিংয়ের মতো একটি নতুন অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ফলে অনলাইনে কেনাকাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের তুলনায় অধিক মাত্রায় মানুষ অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। গতবারের প্রতিবেদনের চেয়ে এবার এ ধরনের অপরাধের মাত্রা বেড়ে হয়েছে ১১.০৮ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৭.৪৪ শতাংশ।

সিসিএ ফাউন্ডেশনের নিয়মিত জরিপভিত্তিক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয় মোট ১১টি ট্যাবে। সেখানে সামগ্রিক ফলাফলে দেখা গেছে দেশে চার ধরনের অপরাধের মাত্রা কমেছে। অন্যদিকে ছয় ধরনের অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। তবে সাইবার অপরাধে আক্রান্ত হওয়ার পরেও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই ভুক্তভোগীদের অভিযোগের হার হতাশাজনক। অপরাধের বিশ্লেষণে বলা হয়, দেশে ‘সাইবার সচেতনতা’ বাড়ানোর পাশাপাশি ‘সাইবার লিটারেসি’ও বাড়াতে হবে।

গবেষণায় সাইবার অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথম স্থানে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন একাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনা, যার হার ২৮.৩১ শতাংশ। যেখানে ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে এই হার ছিল ১৫.৩৫ শতাংশ, যা এবারের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম ছিল। যদিও ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনা ছিল ২২.৩৩ শতাংশ, কিন্তু এবার এই সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ১৬.৩১ শতাংশে। অপরাধের ধরনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার। তবে এই অপরাধের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। গতবারের গবেষণায় যেখানে এই অভিযোগ ছিল ২২.৩৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ১৬.৩১ শতাংশ। কিন্তু যৌন হয়রানিমূলক একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি/ভিডিও (পর্ণোগ্রাফি) ব্যবহার করে হয়রানির মাত্রা বেড়েছে। অপরাধের মাত্রাটি আগের ৬.০৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার হয়েছে ৭.৬৯ শতাংশ। তবে কমেছে ফটোশপে ভুক্তোভোগীর ছবি বিকৃতি করে হয়রানির ঘটনা। এই অপরাধের হার গতবারের চেয়ে এবার অর্ধেকের নিচে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫.৮৫ শতাংশে। এদিকে অপরাধের মাত্রায় অনলাইনে মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দেয়ার ঘটনা এবার তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। তবে এই অপরাধের মাত্রা গতবারের প্রতিবেদনের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ১৪.১৬ শতাংশে, যা গতবার ছিল ১৭.৬৭ শতাংশ।

মন্ত্রী বলেন, এখনো অভিভাকদের এক শতাংশও ডিজিটাল ডিভাইসের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে না। আমরা যতবেশি ডিজিটাল হবো ততো বেশি ডিজিটাল অপরাধ বাড়বে। তাই সবাইকে এখনই এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। মোস্তাফা জব্বার বলেন, গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয়ভাবে পুলিশের সক্ষমতা বেড়েছে। তাদের দক্ষতা বাড়লেও এই অপরাধের বিস্তার এখন গ্রামে পৌঁছে গেছে। তাই প্রতিটি থানায় অপরাধ অপরাধ শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্যানেল আলোচনায় আলোচকরা বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে মানুষ পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়। পুলিশের কাছে গিয়েও ভুক্তভোগীরা কেন প্রতিকার পাচ্ছে না বা সন্তুষ্ট নয় তার কারণগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। সরকারের দিক থেকে প্রতিরোধ বা দমনমূলক প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে এসে সাইবার সচেতনতামূলক মডেল তৈরি করা দরকার। তাহলে সচেতনতা বাড়বে এবং অপরাধ প্রবণতা কমবে।

গবেষণায় সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাইবার স্কোয়াড গঠন, ই-কমার্স নীতিমালা ও রাজনৈতিক জনশক্তিকে সচেতনতামূলক কাজে নিয়োজিত করাসহ নয় দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

লকডাউনে জরুরি সেবার আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি খাত

ছবি

ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরি করবে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ

ছবি

আইসিটি বিভাগের ২০২১-২২ অর্থ বছরের এডিপি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

ছবি

ডিজিটাল বাংলাদেশ পুরস্কার ২০২১ এর মনোনয়ন আহ্বান

ছবি

৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ৭ম বাংলাদেশ জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব

ছবি

ডিজিটালাইজ হতে যাচ্ছে দেশের ৭৩টি গণ গ্রন্থাগার

ছবি

ডককিউর হেলথ টেক লিমিটেড এবং গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে সবার অন্তর্ভুুক্তিতে ভূমিকা রাখবে ডিজিটাল অর্থনীতি

ছবি

কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অবলম্বনে রচিত ডিজিটাল বইয়ের উদ্বোধন করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

ছবি

শেষ হল বাংলাদেশ ক্লাইমেট সায়েন্স অলিম্পিয়াড-২০২১ এর ক্যাম্প

ছবি

নাসা স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জ ২০২১ এর রেজিস্ট্রেশন শুরু

ছবি

হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন

ছবি

জয়ের নেতৃত্বের অপেক্ষায় আগামীর বাংলাদেশ: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী

ছবি

এখন ফেসবুকে জানা যাবে বাংলাদেশে কোথায় টিকাকেন্দ্র

ছবি

শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল দক্ষতা বিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করবে ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ ও মোনাশ কলেজ অস্ট্রেলিয়া

ছবি

টেক স্টার্টআপ: বাংলাদেশ-ভারত ওয়েবিনার সিরিজ শুরু

ছবি

বাংলাদেশের আইসিটি খাতে ভারতের সহযোগিতা আরো প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

ছবি

এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে দারিদ্র্য দূরীকরণে প্রান্তিক পর্যায়ে ডিজিটাল কানেক্টিভিটি বাড়ানোর আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

ফেইসবুকের বিকল্প হিসেবে আসছে ‘যোগাযোগ’

ছবি

বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি মূল্যায়নে প্রথম পুরস্কার গ্রহণ করল আইসিটি বিভাগ

ছবি

মালয়েশিয়াতে প্রবাসী নারীদের নিয়ে ফ্রিল্যান্সিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ছবি

২ হাজারের বেশি হাসপাতালকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনা হবে: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক

ছবি

শুরু হলো ৪র্থ বাংলাদেশ রোবট অলিম্পিয়াড ২০২১ এর একটিভেশন

ছবি

হুয়াওয়ের সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২০ প্রকাশ

ছবি

শুরু হয়েছে অনলাইন শিশু-কিশোর বিজ্ঞান কংগ্রেস ২০২১-এর রেজিষ্ট্রেশন

ছবি

নারী উদ্যেক্তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা উন্নয়ন ও ডিজিটালাইজেশনে সহায়তা দেবে লেনোভো

ছবি

ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং পরিবেশ সুরক্ষায় অবদান রাখায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলো রবি

ছবি

আইসিটি বিভাগের বিগত অর্থবছরের এডিপি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত: অগ্রগতি ৮৮ শতাংশ

ছবি

দারাজের নতুন চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার এ.এইচ.এম. হাসিনুল কুদ্দুস (রুশো)

ছবি

বাংলাদেশের সিটি ইউনিভার্সিটি ও চীনের উহান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির মধ্যে চুক্তি

ছবি

বাংলাদেশের সিটি ইউনিভার্সিটি ও চীনের উহান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি ইউনিভার্সিটির মধ্যে চুক্তি

ছবি

মোবাইল ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস ২০২১ এ হুয়াওয়ের পাঁচটি অ্যাওয়ার্ড অর্জন

ছবি

বিভিন্ন দেশের মধ্যে ডিজিটাল কোভিড ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালুর জন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি পলকের আহ্বান

ছবি

বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে সক্ষম আইসিটি

ছবি

বঙ্গবন্ধুর জীবনী তুলে ধরার জন্য ডিজিটাল মিডিয়া সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম: আইসিটি প্রতিমন্ত্রী

ছবি

শুরু হচ্ছে ৬ দিনের বিআইটিএম এডমিশন সামিট জুলাই ২০২১

tab

প্রযুক্তি

সিসিএ ফাউন্ডেশনের গবেষণা: নতুন ধারার অপরাধ এটিএম হ্যাকিং

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট
image

শনিবার, ১৯ জুন ২০২১

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, দেশে সুস্থ সাইবার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়। এর জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীজনসহ সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানের প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়গুলো নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। শুক্রবার (১৮ জুন) স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের (সিসিএ ফাউন্ডেশন) ৬ষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘বাংলাদেশে সাইবার অপরাধ প্রবণতা-২০২১’ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের ওয়েবিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে অভিভাবক ও শিক্ষকদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে সিসিএ ফাউন্ডেশনের মতো সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

সংগঠনের সভাপতি কাজী মুস্তাফিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক ছিলেন দৈনিক প্রথম আলোর যুব কর্মসূচি প্রধান মুনির হাসান, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারপারসন খন্দকার ফারজানা রহমান, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফরেনসিক) মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ, কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী আনিছ, বাংলাদেশ ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামের মহাসচিব মোহাম্মদ আব্দুল হক অনু ও শিশুদের সাইবার সুরক্ষা বিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা প্রটেক্ট আস কিডসের বাংলাদেশ প্রতিনিধি শারমিন নাহার লিনা। গবেষণা প্রতিবেদনের বিস্তারিত তুলে ধরেন সিসিএ ফাউন্ডেশনের রিসার্চ সেলের আহ্বায়ক এবং ইস্ট ওয়েস্ট বিশ^বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সিনিয়র লেকচারার মনিরা নাজমী জাহান।

প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ২০১৯-২০২০ সালে দেশে সাইবার অপরাধের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে সামাজিক মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন একাউন্ট হ্যাকিং বা তথ্য চুরি। গবেষণায় এটিএম কার্ড হ্যাকিংয়ের মতো একটি নতুন অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ফলে অনলাইনে কেনাকাটা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগের তুলনায় অধিক মাত্রায় মানুষ অনলাইনে পণ্য কিনতে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন। গতবারের প্রতিবেদনের চেয়ে এবার এ ধরনের অপরাধের মাত্রা বেড়ে হয়েছে ১১.০৮ শতাংশ, যা গতবার ছিল ৭.৪৪ শতাংশ।

সিসিএ ফাউন্ডেশনের নিয়মিত জরিপভিত্তিক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয় মোট ১১টি ট্যাবে। সেখানে সামগ্রিক ফলাফলে দেখা গেছে দেশে চার ধরনের অপরাধের মাত্রা কমেছে। অন্যদিকে ছয় ধরনের অপরাধের মাত্রা বেড়েছে। তবে সাইবার অপরাধে আক্রান্ত হওয়ার পরেও আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর কাছে এই ভুক্তভোগীদের অভিযোগের হার হতাশাজনক। অপরাধের বিশ্লেষণে বলা হয়, দেশে ‘সাইবার সচেতনতা’ বাড়ানোর পাশাপাশি ‘সাইবার লিটারেসি’ও বাড়াতে হবে।

গবেষণায় সাইবার অপরাধের তুলনামূলক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রথম স্থানে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অন্যান্য অনলাইন একাউন্ট হ্যাকিংয়ের ঘটনা, যার হার ২৮.৩১ শতাংশ। যেখানে ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে এই হার ছিল ১৫.৩৫ শতাংশ, যা এবারের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কম ছিল। যদিও ২০১৯ সালের প্রতিবেদনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের ঘটনা ছিল ২২.৩৩ শতাংশ, কিন্তু এবার এই সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়ায় ১৬.৩১ শতাংশে। অপরাধের ধরনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে অপপ্রচার। তবে এই অপরাধের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। গতবারের গবেষণায় যেখানে এই অভিযোগ ছিল ২২.৩৩ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ১৬.৩১ শতাংশ। কিন্তু যৌন হয়রানিমূলক একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি/ভিডিও (পর্ণোগ্রাফি) ব্যবহার করে হয়রানির মাত্রা বেড়েছে। অপরাধের মাত্রাটি আগের ৬.০৫ শতাংশ থেকে বেড়ে এবার হয়েছে ৭.৬৯ শতাংশ। তবে কমেছে ফটোশপে ভুক্তোভোগীর ছবি বিকৃতি করে হয়রানির ঘটনা। এই অপরাধের হার গতবারের চেয়ে এবার অর্ধেকের নিচে নেমে দাঁড়িয়েছে ৫.৮৫ শতাংশে। এদিকে অপরাধের মাত্রায় অনলাইনে মেসেজ পাঠিয়ে হুমকি দেয়ার ঘটনা এবার তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে। তবে এই অপরাধের মাত্রা গতবারের প্রতিবেদনের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ১৪.১৬ শতাংশে, যা গতবার ছিল ১৭.৬৭ শতাংশ।

মন্ত্রী বলেন, এখনো অভিভাকদের এক শতাংশও ডিজিটাল ডিভাইসের প্যারেন্টাল কন্ট্রোল ব্যবহার করে না। আমরা যতবেশি ডিজিটাল হবো ততো বেশি ডিজিটাল অপরাধ বাড়বে। তাই সবাইকে এখনই এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে। মোস্তাফা জব্বার বলেন, গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয়ভাবে পুলিশের সক্ষমতা বেড়েছে। তাদের দক্ষতা বাড়লেও এই অপরাধের বিস্তার এখন গ্রামে পৌঁছে গেছে। তাই প্রতিটি থানায় অপরাধ অপরাধ শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহারও বাড়াতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্যানেল আলোচনায় আলোচকরা বলেন, সাইবার অপরাধের শিকার হয়ে মানুষ পুলিশের কাছে যেতে ভয় পায়। পুলিশের কাছে গিয়েও ভুক্তভোগীরা কেন প্রতিকার পাচ্ছে না বা সন্তুষ্ট নয় তার কারণগুলো খতিয়ে দেখতে হবে। সরকারের দিক থেকে প্রতিরোধ বা দমনমূলক প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে এসে সাইবার সচেতনতামূলক মডেল তৈরি করা দরকার। তাহলে সচেতনতা বাড়বে এবং অপরাধ প্রবণতা কমবে।

গবেষণায় সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সাইবার স্কোয়াড গঠন, ই-কমার্স নীতিমালা ও রাজনৈতিক জনশক্তিকে সচেতনতামূলক কাজে নিয়োজিত করাসহ নয় দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

back to top