alt

জাতীয়

বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

ঢাকার ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩

জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কো) বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশা পেইন্টিং’।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর আন্তঃসরকারি কমিটির ১৮তম অধিবেশনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এতে ‘রিকশা ও রিকশা পেইন্টিং’ বা রিকশাচিত্র বৈশ্বিক ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়।

পঞ্চম বিমূর্ত ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর ‘ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় স্থান পেয়েছে ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’। এর আগে বাংলাদেশের বাউল গান (২০০৮), জামদানি বুনন শিল্প (২০১৩), মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬) এবং শীতল পাটি বুনন শিল্প (২০১৭) ইউনেস্কোর বিমূর্ত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানার কাসান শহরে গত সোমবার (৪ ডিসেম্বর) ইউনেসকোর আন্তঃসরকারি কমিটির ওই অধিবেশন শুরু হয়। বুধবার প্রায় তিন ঘণ্টার অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমূর্ত ঐতিহ্য উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর উপস্থাপন করা হয় নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই অধিবেশনে প্রতিনিধিত্ব করেন প্যারিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মুহম্মদ তালহা ও দূতাবাসের প্রথম সচিব ওয়ালিদ বিন কাশেম। অধিবেশনটি সরাসরি ইউনেস্কোর ফেইসবুক পেইজে সম্প্রচার করা হয়। এ অধিবেশন শেষ হবে আগামী শনিবার।

বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় গতকালের অধিবেশন শুরু হয়। এতে বাংলাদেশের রিকশা ও রিকশা শিল্প নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। তাতে ঢাকা শহরের এই বাহনটিতে থাকে নানা রঙের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। তিন চাকার এ বাহন শহরের মানুষের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে রিকশা।

পাশাপাশি বলা হয়, রিকশাচিত্র শুধু একটি শিল্প নয়; এটি মানুষে সমকালীন জীবনের গল্প বলার চলমান ক্যানভাস। রিকশাচিত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে শুরু করে নানা বিষয়ের মধ্যে চলচ্চিত্রের অভিনেতাদের মুখচ্ছবিও উঠে আসে।

রিকশা ও রিকশা পেইন্টিং ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে বুধবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এর ফলে গত আট দশক ধরে চলমান রিকশা চিত্রকর্ম একটি বৈশ্বিক ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করল।’

ইউনেস্কো বলেছে, রিকশা যেহেতু ধীরগতির বাহন, সেহেতু এর সাজসজ্জা আর অলঙ্করণ সহজেই চলতি পথের যাত্রীদের নজরে আসে। এভাবে রিকশা পরিণত হয়েছে এক চলমান প্রদর্শনীতে। চিত্রিত এই রিকশা যেন ঢাকার নগর জীবনেরই প্রতীক। প্রদর্শনী, উৎসব, এমনকি চলচ্চিত্রেও স্থান করে নিয়েছে এই শিল্পধারা।

রিকশা আর রিকশাচিত্রকে এখন বিবেচনা করা হয় এ শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ এবং আরবান ফোক আর্টের একটি ধারা হিসেবে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ ও সচিব খলিল আহমদ এ অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এ স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টায় অগ্রণী ভূমিকা রাখায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর ও প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

‘বিমূর্ত ঐতিহ্যের সুরক্ষা’ স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া ইউনেস্কোর এ অধিবেশনে রিকশা ছাড়াও এবার স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতের গরবা, মধ্যপ্রাচ্যের হারিসসহ সাতটি ঐতিহ্য এবং কিউবা, মেক্সিকোর বলেরোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু বিমূর্ত ঐতিহ্য।

গত ছয় বছর ধরে রিকশা ও রিকশাচিত্রকর্মের নিবন্ধন ও স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলমান ছিল। তবে ২০২২ সালে আবার নথি জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ফ্রান্সের প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নথি নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়।

১৯৩০ এর দশকের শেষভাগে ঢাকার সূত্রাপুর ও ওয়ারী এলাকায় বাহন হিসেবে রিকশার ব্যবহার শুরু হয়। তখন মানুষে টানা রিকশার যুগ ছিল। ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে সাইকেল রিকশা জনপ্রিয় হতে থাকে। তখন থেকে রিকশা পেইন্টিংও শুরু হয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পীদের দিয়ে তা শুরু হয়নি।

হাতে আঁকা এই শিল্পকর্মের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল তিন চাকার এই বাহনকে নানা রঙে সাজিয়ে যাত্রীদের কাছে আকর্ষণীয় করা। রিকশার গায়ে বেশি আঁকা হতো চলচ্চিত্র ও এর নায়ক নায়িকাদের ছবি। এছাড়া ফুল, পশু-পাখি, মুক্তিযুদ্ধ, কাল্পনিক নগর, আরব্য রজনীর গল্পের নকশাও রিকশার শোভা বাড়িয়েছে।

১৯৮৮ সালে লন্ডনে মিউজিয়াম অব ম্যানকাইন্ডে ঢাকার রিকশা পেইন্টিং নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী হয়। এর শিরোনাম ছিল ‘ট্রাফিক আর্ট : রিকশা পেইন্টিং ফ্রম বাংলাদেশ’। পরবর্তীতে জাপানের ফুকুয়োকা এশিয়ান আর্ট মিউজিয়ামেও বাংলাদেশের রিকশা পেইন্টিং নিয়ে প্রদর্শনী হয়েছে।

১৯৯৯ সালে ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে প্রায় ছয়শ’ রিকশা ও বেবিট্যাক্সি পেইন্টারের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী হয়। তবে ডিজিটাইল সাইন ও করপোরেট বিজ্ঞাপনের যুগে রিকশাচিত্র শিল্পীদের কাজ কমে গেছে। যদিও চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পীদের অনেকেই রিকশাচিত্রকে অন্য ক্যানভাসে তুলে এনে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

ছবি

ছেলে না মেয়ে? জম্মের আগে প্রকাশ করা যাবে না লিঙ্গ পরিচয়

ছবি

নারী উদ্যোক্তা তৈরি ও জলবায়ু জন্য বিশ্ব ব্যাংকের কাছে বিশেষ তহবিল চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

চিকিৎসাব্যবস্থায় দুর্নীতির কারণে আস্থা হারাচ্ছে মানুষ: হানিফ

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল এসেছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

সংরক্ষিত আসনে ৫০ সদস্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

ছবি

শিল্পনগরীতে ১,৩০৪ শিল্প প্লট খালি: শিল্পমন্ত্রী

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর ‘কড়া নির্দেশ’ জিরো টলারেন্স দেখাতে বলেছেন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি

ভুয়া খবর বন্ধে ‘আরও আইন’ আসছে: সংসদে আইনমন্ত্রী

ছবি

জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে উন্নয়ন কাজের ব্যবস্থাটা আমরা নিয়েছিলাম: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

চাহিদার বিপরীতে গ্যাসের ঘাটতি প্রায় ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট: প্রতিমন্ত্রী

ছবি

পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন

ছবি

পিলখানার চূড়ান্ত বিচার দ্রুত শেষ হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

পিলখানার দুঃসহ স্মৃতির ১৫ বছর

ছবি

পবিত্র শবে বরাত আজ

ছবি

বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে ইশতেহার অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

স্বাধীন বিচার বিভাগ ও শক্তিশালী সংসদ দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি

‘বঙ্গবন্ধু অ্যাপ’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে সরকার: রিজভী

ছবি

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটি ৬ ভাষায়

ছবি

ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছে সরকার

ছবি

বাংলাদেশে আসছেন বিশ্বব্যাংকের এমডি

ছবি

এবার ৪০০ পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন

ছবি

টাঙ্গাইল শাড়ি আমাদের : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ছবি

প্রশ্নফাঁস হয়নি, প্রতারক চক্র গুজব ছড়াচ্ছে : ঢাবি উপাচার্য

ছবি

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক লাইট সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

মাটি ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ আছে, দেশে এমন রাজনৈতিক দলের অভাব : শেখ হাসিনা

ছবি

মজুতকারীদের গণধোলাই দেওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৮ সদস্য গ্রেফতার

ছবি

লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৪৪ বাংলাদেশি

ছবি

জার্মানি সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুরু

ছবি

নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া দেয়া যাবে না

দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি অনেকেই কষ্টে দিন কাটছে বলে অভিযোগ

ছবি

সেনাবাহিনীর ভেটেরিনারি কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন ঃ প্রথম কোর পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

ছবি

চেম্বার-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া যাবে না: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ছবি

দেশে ৪০ শতাংশ শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে

tab

জাতীয়

বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য

ঢাকার ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’ ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেল

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

বুধবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩

জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থার (ইউনেস্কো) বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ঢাকা শহরের ‘রিকশা ও রিকশা পেইন্টিং’।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) ইউনেস্কোর বিমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যর আন্তঃসরকারি কমিটির ১৮তম অধিবেশনে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এতে ‘রিকশা ও রিকশা পেইন্টিং’ বা রিকশাচিত্র বৈশ্বিক ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়।

পঞ্চম বিমূর্ত ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর ‘ইনটেনজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় স্থান পেয়েছে ‘রিকশা ও রিকশাচিত্র’। এর আগে বাংলাদেশের বাউল গান (২০০৮), জামদানি বুনন শিল্প (২০১৩), মঙ্গল শোভাযাত্রা (২০১৬) এবং শীতল পাটি বুনন শিল্প (২০১৭) ইউনেস্কোর বিমূর্ত ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

আফ্রিকার দেশ বতসোয়ানার কাসান শহরে গত সোমবার (৪ ডিসেম্বর) ইউনেসকোর আন্তঃসরকারি কমিটির ওই অধিবেশন শুরু হয়। বুধবার প্রায় তিন ঘণ্টার অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিমূর্ত ঐতিহ্য উপস্থাপন করা হয়। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের পর উপস্থাপন করা হয় নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ওই অধিবেশনে প্রতিনিধিত্ব করেন প্যারিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত খন্দকার মুহম্মদ তালহা ও দূতাবাসের প্রথম সচিব ওয়ালিদ বিন কাশেম। অধিবেশনটি সরাসরি ইউনেস্কোর ফেইসবুক পেইজে সম্প্রচার করা হয়। এ অধিবেশন শেষ হবে আগামী শনিবার।

বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় গতকালের অধিবেশন শুরু হয়। এতে বাংলাদেশের রিকশা ও রিকশা শিল্প নিয়ে তথ্যচিত্র উপস্থাপন করা হয়। তাতে ঢাকা শহরের এই বাহনটিতে থাকে নানা রঙের বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। তিন চাকার এ বাহন শহরের মানুষের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে রিকশা।

পাশাপাশি বলা হয়, রিকশাচিত্র শুধু একটি শিল্প নয়; এটি মানুষে সমকালীন জীবনের গল্প বলার চলমান ক্যানভাস। রিকশাচিত্রের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে শুরু করে নানা বিষয়ের মধ্যে চলচ্চিত্রের অভিনেতাদের মুখচ্ছবিও উঠে আসে।

রিকশা ও রিকশা পেইন্টিং ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়ে বুধবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘এর ফলে গত আট দশক ধরে চলমান রিকশা চিত্রকর্ম একটি বৈশ্বিক ঐতিহ্য হিসেবে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করল।’

ইউনেস্কো বলেছে, রিকশা যেহেতু ধীরগতির বাহন, সেহেতু এর সাজসজ্জা আর অলঙ্করণ সহজেই চলতি পথের যাত্রীদের নজরে আসে। এভাবে রিকশা পরিণত হয়েছে এক চলমান প্রদর্শনীতে। চিত্রিত এই রিকশা যেন ঢাকার নগর জীবনেরই প্রতীক। প্রদর্শনী, উৎসব, এমনকি চলচ্চিত্রেও স্থান করে নিয়েছে এই শিল্পধারা।

রিকশা আর রিকশাচিত্রকে এখন বিবেচনা করা হয় এ শহরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ এবং আরবান ফোক আর্টের একটি ধারা হিসেবে।

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ ও সচিব খলিল আহমদ এ অর্জনকে বাংলাদেশের জন্য বিরল সম্মান হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এ স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টায় অগ্রণী ভূমিকা রাখায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর ও প্যারিসে বাংলাদেশ দূতাবাসকেও অভিনন্দন জানিয়েছেন।

‘বিমূর্ত ঐতিহ্যের সুরক্ষা’ স্লোগান নিয়ে শুরু হওয়া ইউনেস্কোর এ অধিবেশনে রিকশা ছাড়াও এবার স্বীকৃতি পেয়েছে ভারতের গরবা, মধ্যপ্রাচ্যের হারিসসহ সাতটি ঐতিহ্য এবং কিউবা, মেক্সিকোর বলেরোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বেশ কিছু বিমূর্ত ঐতিহ্য।

গত ছয় বছর ধরে রিকশা ও রিকশাচিত্রকর্মের নিবন্ধন ও স্বীকৃতির প্রক্রিয়া চলমান ছিল। তবে ২০২২ সালে আবার নথি জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া হলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং ফ্রান্সের প্যারিসের বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় সম্পূর্ণ নথি নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়।

১৯৩০ এর দশকের শেষভাগে ঢাকার সূত্রাপুর ও ওয়ারী এলাকায় বাহন হিসেবে রিকশার ব্যবহার শুরু হয়। তখন মানুষে টানা রিকশার যুগ ছিল। ১৯৪৭ এর দেশভাগের পর ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে সাইকেল রিকশা জনপ্রিয় হতে থাকে। তখন থেকে রিকশা পেইন্টিংও শুরু হয়। তবে প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পীদের দিয়ে তা শুরু হয়নি।

হাতে আঁকা এই শিল্পকর্মের প্রথম উদ্দেশ্য ছিল তিন চাকার এই বাহনকে নানা রঙে সাজিয়ে যাত্রীদের কাছে আকর্ষণীয় করা। রিকশার গায়ে বেশি আঁকা হতো চলচ্চিত্র ও এর নায়ক নায়িকাদের ছবি। এছাড়া ফুল, পশু-পাখি, মুক্তিযুদ্ধ, কাল্পনিক নগর, আরব্য রজনীর গল্পের নকশাও রিকশার শোভা বাড়িয়েছে।

১৯৮৮ সালে লন্ডনে মিউজিয়াম অব ম্যানকাইন্ডে ঢাকার রিকশা পেইন্টিং নিয়ে বিশেষ প্রদর্শনী হয়। এর শিরোনাম ছিল ‘ট্রাফিক আর্ট : রিকশা পেইন্টিং ফ্রম বাংলাদেশ’। পরবর্তীতে জাপানের ফুকুয়োকা এশিয়ান আর্ট মিউজিয়ামেও বাংলাদেশের রিকশা পেইন্টিং নিয়ে প্রদর্শনী হয়েছে।

১৯৯৯ সালে ঢাকার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে প্রায় ছয়শ’ রিকশা ও বেবিট্যাক্সি পেইন্টারের শিল্পকর্ম নিয়ে প্রদর্শনী হয়। তবে ডিজিটাইল সাইন ও করপোরেট বিজ্ঞাপনের যুগে রিকশাচিত্র শিল্পীদের কাজ কমে গেছে। যদিও চারুকলার প্রাতিষ্ঠানিক শিল্পীদের অনেকেই রিকশাচিত্রকে অন্য ক্যানভাসে তুলে এনে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

back to top