alt

জাতীয়

ব্যতিক্রমী এক নক্ষত্র, উজ্জ্বল ও স্বতন্ত্র

মফিদুল হক

: শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আহমদুল কবিরের জন্মশতবর্ষে মনে পড়ে তার দীর্ঘ জীবন পরিক্রমণ, যৌবনের শুরু থেকে উদার অসাম্প্রদায়িক আধুনিক ভাবনায় তিনি যে আলোড়িত হয়েছিলেন, জীবনভর সেই পরিচ্ছন্ন ও প্রগতিবাদী চেতনা তিনি বহন করেছেন এবং সমাজবিকাশে তার মতো করে অবদান রচনা করেছেন। আমরা তাকে দেখেছি ষাটের দশকের মধ্যভাগ থেকে, যখন পাকিস্তানি তমসা ভেদ করে বাঙালির জাতীয় মুক্তি আকাক্সক্ষা নানাভাবে পল্লবিত হচ্ছিল। তিনি ‘সংবাদ’-এর হাল ধরা নাবিক, সচেতন কাণ্ডারির মতোই হিন্দু না ওরা মুসলিম, সেই প্রশ্নের পরোয়া না করে মায়ের সন্তানদের রক্ষায় অকুতোভয় ও দৃঢ়চেতা। ১৯৬৪ সালে কাশ্মিরে হযরতবাল মসজিদে রক্ষিত নবীজীর কেশ হারিয়ে যাওয়া নিয়ে পাক-ভারতজুড়ে যে দাঙ্গার সূত্রপাত, সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের রুখে দাঁড়ানোতে সংবাদ এবং তার ও সংবাদকর্মী শহিদুল্লাহ কায়সার, জহুর হোসেন চৌধুরীসহ সবার যে ভূমিকা সেটা জানতে বুঝতে পারলে আজও আমরা প্রেরণা খুঁজে পেতে পারি। আহমদুল কবির স্বল্পবাক মানুষ, পরিশীলিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী, বসনে-বচনে-আচারে আভিজাত্যের ছোঁয়া, অথচ মননে চৈতন্যে তিনি বামপন্থায় সমর্পিত। আমরা তখন ছাত্র আন্দোলনে শরিক, আমাদের কাছে তিনি দূরের মানুষ হয়তো, কিন্তু সমীহ ও সম্ভ্রম আদায় করে নেন অনায়াসে। অগ্রজ মতিউর রহমান, আবুল হাসনাতের সঙ্গে আড্ডায় আলাপে তার প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসে। দীর্ঘদেহী সুপুরুষ, মাথার ঝাকড়া চুল একপাশে হেলানো, পোশাকে পরিপাটি, কথনে রুচিবান, সবকিছু তাকে নায়কোচিত করে তুলেছিল। সেই সময় ঢাকায় আয়োজিত বুলগেরীয় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত এক ছবির কথা মনে পড়ে, নায়িকা কাজ করছে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে, পূর্বতন প্রেমিক নায়কের সঙ্গে সেখানে তার আকস্মিক দেখা, তার চেহারার সঙ্গে আমরা খুঁজে পাই আহমেদুল কবীরের মিল। আরও অভিভূত হই যখন দেখি কৃষক আন্দোলনের প্রতি এই মানুষটির দরদ ও পৃষ্ঠপোষকতা।

তারপর তো বিপুল মূল্যের বিনিময়ে দেশ অর্জন করে স্বাধীনতা, অনেক আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে অব্যক্ত বেদনা, শহিদুল্লাহ কায়সারের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড তাকে কতখানি ব্যথিত করেছিল তা আমাদের জানা হয় না, তবে সংবাদের দায়িত্ব তিনি আরও নিবিড়ভাবে গ্রহণ করেন। বাণিজ্যিকভাবে হয়তো সফল নয় পত্রিকা, তবে সংবাদপত্রের সামাজিক-ঐতিহাসিক দায়মোচনে সংবাদ বহন করে চলে অপার সম্পদবান এক ধারা, যার উৎস বাঙালি জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনসমূহ, যেখান থেকে উঠে এসেছেন আহমেদুল কবীর।

আহমদুল কবির নিজের কথা বিশেষ লেখেননি, অন্যদের লেখায় বিচ্ছুরণের মতো কিছু তথ্য মেলে, তাতে কলকাতার যৌবনের আহমেদুল কবীরকে কিছুটা চেনা যায়। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, নাজমুদ্দিন হাশেম প্রমুখ, জহুর হোসেন চৌধুরী কিংবা শহিদুল্লাহ কায়সার তো সেই সময়ে কলকাতাবাসী, আরও আছেন কেউ কেউ, শেখ মুজিবুর রহমানও তখন মহানগরীতে রাজনীতিতে দীক্ষা নিচ্ছেন। অন্যদিকে সমাজ ভাগ হয়ে যাচ্ছে হিন্দুত্ব ও মুসলমানিত্বে। সেই সময় অন্তরে প্রজ্ঞা ও অঙ্গীকার নিয়ে তার ও সহযাত্রীদের যে অভিযাত্রা, সেটাই সম্ভব করেছে বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং তৎপরবর্তী লড়াই ও বিকাশ। অনেকের অবদানে ভাস্বর যে জাতীয় মুক্তির স্পৃহা ও সংগ্রাম, আহমেদুল কবীর বাংলার চিদাকাশের সেই তারকামণ্ডলীর অন্যতম ও ব্যতিক্রমী এক নক্ষত্র, উজ্জ্বল ও স্বতন্ত্র। জন্মশতবর্ষে তাকে জানাই ইতিহাসের ও বঙ্গীয় সমাজের স্বীকৃতি ও অভিবাদন, জাতির যা-কিছু সুকৃতি ও সঞ্চয়, সেখানে জমা রয়েছে তার অবদান।

ছবি

এবার ৪০০ পুলিশ সদস্য পাচ্ছেন

ছবি

টাঙ্গাইল শাড়ি আমাদের : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ছবি

প্রশ্নফাঁস হয়নি, প্রতারক চক্র গুজব ছড়াচ্ছে : ঢাবি উপাচার্য

ছবি

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ট্রাফিক লাইট সচলের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

মাটি ও মানুষের সঙ্গে সংযোগ আছে, দেশে এমন রাজনৈতিক দলের অভাব : শেখ হাসিনা

ছবি

মজুতকারীদের গণধোলাই দেওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

রাজধানীতে কিশোর গ্যাংয়ের ৩৮ সদস্য গ্রেফতার

ছবি

লিবিয়া থেকে ফিরলেন আরও ১৪৪ বাংলাদেশি

ছবি

জার্মানি সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন শুরু

ছবি

নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আসছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া দেয়া যাবে না

দ্রব্যমূলের উর্ধ্বগতি অনেকেই কষ্টে দিন কাটছে বলে অভিযোগ

ছবি

সেনাবাহিনীর ভেটেরিনারি কোরের বাৎসরিক অধিনায়ক সম্মেলন ঃ প্রথম কোর পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠিত

ছবি

চেম্বার-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া যাবে না: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ছবি

দেশে ৪০ শতাংশ শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে

ছবি

বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে ‘সামুদ্রিক সম্পদ’ আহরণ করুন: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

পাসপোর্ট সূচকে এক ধাপ পেছাল বাংলাদেশ

ছবি

প্রধানমন্ত্রীকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

ছবি

ঋণ পরিশোধের চাপ তো কিছুটা আছে, তবে আমরা কি মরে গেছি : অর্থমন্ত্রী

ছবি

২১ বছর সমুদ্রসীমার অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলেনি: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

মর্মাহত স্বাস্থ্যমন্ত্রী, জে এস ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাৎক্ষণিক বন্ধের নির্দেশ

ছবি

বিদেশি ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা থাকলেও মাতৃভাষা শিক্ষার মাধ্যম হওয়া উচিত: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

কারসাজি বন্ধে চালের বস্তায় ৬ টি তথ্য লেখা বাধ্যতামূলক করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়

ছবি

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষায় রূপান্তরিত করাই লক্ষ্য: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

‘অনুমোদন’ ছাড়াই অ্যানেস্থেসিয়া, জেএস ডায়াগনস্টিক সিলগালা

ছবি

এবার সুন্নতে খৎনা করাতে গিয়ে আইডিয়াল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

ছবি

উচ্চ আদালতে বেড়েছে বাংলা ভাষার ব্যবহার, রায় ও শুনানি হচ্ছে বাংলায়

ছবি

মার্চে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে: প্রতিমন্ত্রী

ছবি

একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি স্পিকারের শ্রদ্ধা

ছবি

জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ১১ বিচারক বদলি

ছবি

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে ভিড়

ছবি

একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

ছবি

শিশু আয়ানের মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে হাইকোর্টের ‘অসন্তুষ্ট, তদন্তে নতুন কমিটি

ছবি

হাছান মাহমুদের সঙ্গে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাক্ষাত

ছবি

তিউনিসিয়া উপকূলে নৌ-দুর্ঘটনায় ৮ বাংলাদেশীর প্রাণহানি ও ২৭ জীবিত উদ্ধার

ছবি

১৫ ঘন্টা অস্ত্রপচারে আলাদা হলো শিশু নূহা ও নাভা

tab

জাতীয়

ব্যতিক্রমী এক নক্ষত্র, উজ্জ্বল ও স্বতন্ত্র

মফিদুল হক

শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

আহমদুল কবিরের জন্মশতবর্ষে মনে পড়ে তার দীর্ঘ জীবন পরিক্রমণ, যৌবনের শুরু থেকে উদার অসাম্প্রদায়িক আধুনিক ভাবনায় তিনি যে আলোড়িত হয়েছিলেন, জীবনভর সেই পরিচ্ছন্ন ও প্রগতিবাদী চেতনা তিনি বহন করেছেন এবং সমাজবিকাশে তার মতো করে অবদান রচনা করেছেন। আমরা তাকে দেখেছি ষাটের দশকের মধ্যভাগ থেকে, যখন পাকিস্তানি তমসা ভেদ করে বাঙালির জাতীয় মুক্তি আকাক্সক্ষা নানাভাবে পল্লবিত হচ্ছিল। তিনি ‘সংবাদ’-এর হাল ধরা নাবিক, সচেতন কাণ্ডারির মতোই হিন্দু না ওরা মুসলিম, সেই প্রশ্নের পরোয়া না করে মায়ের সন্তানদের রক্ষায় অকুতোভয় ও দৃঢ়চেতা। ১৯৬৪ সালে কাশ্মিরে হযরতবাল মসজিদে রক্ষিত নবীজীর কেশ হারিয়ে যাওয়া নিয়ে পাক-ভারতজুড়ে যে দাঙ্গার সূত্রপাত, সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের রুখে দাঁড়ানোতে সংবাদ এবং তার ও সংবাদকর্মী শহিদুল্লাহ কায়সার, জহুর হোসেন চৌধুরীসহ সবার যে ভূমিকা সেটা জানতে বুঝতে পারলে আজও আমরা প্রেরণা খুঁজে পেতে পারি। আহমদুল কবির স্বল্পবাক মানুষ, পরিশীলিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী, বসনে-বচনে-আচারে আভিজাত্যের ছোঁয়া, অথচ মননে চৈতন্যে তিনি বামপন্থায় সমর্পিত। আমরা তখন ছাত্র আন্দোলনে শরিক, আমাদের কাছে তিনি দূরের মানুষ হয়তো, কিন্তু সমীহ ও সম্ভ্রম আদায় করে নেন অনায়াসে। অগ্রজ মতিউর রহমান, আবুল হাসনাতের সঙ্গে আড্ডায় আলাপে তার প্রসঙ্গ বারবার উঠে আসে। দীর্ঘদেহী সুপুরুষ, মাথার ঝাকড়া চুল একপাশে হেলানো, পোশাকে পরিপাটি, কথনে রুচিবান, সবকিছু তাকে নায়কোচিত করে তুলেছিল। সেই সময় ঢাকায় আয়োজিত বুলগেরীয় চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত এক ছবির কথা মনে পড়ে, নায়িকা কাজ করছে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকাজে, পূর্বতন প্রেমিক নায়কের সঙ্গে সেখানে তার আকস্মিক দেখা, তার চেহারার সঙ্গে আমরা খুঁজে পাই আহমেদুল কবীরের মিল। আরও অভিভূত হই যখন দেখি কৃষক আন্দোলনের প্রতি এই মানুষটির দরদ ও পৃষ্ঠপোষকতা।

তারপর তো বিপুল মূল্যের বিনিময়ে দেশ অর্জন করে স্বাধীনতা, অনেক আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকে অব্যক্ত বেদনা, শহিদুল্লাহ কায়সারের নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড তাকে কতখানি ব্যথিত করেছিল তা আমাদের জানা হয় না, তবে সংবাদের দায়িত্ব তিনি আরও নিবিড়ভাবে গ্রহণ করেন। বাণিজ্যিকভাবে হয়তো সফল নয় পত্রিকা, তবে সংবাদপত্রের সামাজিক-ঐতিহাসিক দায়মোচনে সংবাদ বহন করে চলে অপার সম্পদবান এক ধারা, যার উৎস বাঙালি জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনসমূহ, যেখান থেকে উঠে এসেছেন আহমেদুল কবীর।

আহমদুল কবির নিজের কথা বিশেষ লেখেননি, অন্যদের লেখায় বিচ্ছুরণের মতো কিছু তথ্য মেলে, তাতে কলকাতার যৌবনের আহমেদুল কবীরকে কিছুটা চেনা যায়। তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের মধ্যে ছিলেন সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, নাজমুদ্দিন হাশেম প্রমুখ, জহুর হোসেন চৌধুরী কিংবা শহিদুল্লাহ কায়সার তো সেই সময়ে কলকাতাবাসী, আরও আছেন কেউ কেউ, শেখ মুজিবুর রহমানও তখন মহানগরীতে রাজনীতিতে দীক্ষা নিচ্ছেন। অন্যদিকে সমাজ ভাগ হয়ে যাচ্ছে হিন্দুত্ব ও মুসলমানিত্বে। সেই সময় অন্তরে প্রজ্ঞা ও অঙ্গীকার নিয়ে তার ও সহযাত্রীদের যে অভিযাত্রা, সেটাই সম্ভব করেছে বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং তৎপরবর্তী লড়াই ও বিকাশ। অনেকের অবদানে ভাস্বর যে জাতীয় মুক্তির স্পৃহা ও সংগ্রাম, আহমেদুল কবীর বাংলার চিদাকাশের সেই তারকামণ্ডলীর অন্যতম ও ব্যতিক্রমী এক নক্ষত্র, উজ্জ্বল ও স্বতন্ত্র। জন্মশতবর্ষে তাকে জানাই ইতিহাসের ও বঙ্গীয় সমাজের স্বীকৃতি ও অভিবাদন, জাতির যা-কিছু সুকৃতি ও সঞ্চয়, সেখানে জমা রয়েছে তার অবদান।

back to top