alt

জাতীয়

রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর : ‘আমার স্বপ্নও ভেঙে গেছে’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক ও প্রতিনিধি, সাভার (ঢাকা) : বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

রানা প্লাজায় নিহতের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা স্বজনের-সংবাদ

‘কে করবে সোহেল রানার বিচার? আমি কি ছেলে হত্যার বিচার পামু না? আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন রানা প্লাজা ধসের ছেলে হারানো মা সাফিয়া বেওয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ মা সাফিয়া বলেন, এই রানা প্লাজার তিন তলায় কাম করতো আমরা মাইজ্জা ছেলে’। আর কথা বলতে পারেন না। ফুঁপিয়ে ফঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।

কিছু সময় নিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, মেজ ছেলে লাল মিয়াকে হারিয়েছেন রানা প্লাজা ধসে। লাল মিয়া কাজ করতেন ভবনটির তৃতীয় তলায়। ১১ বছরেও ছেলে হারানোর শোক যেন কিছুতেই কাটাতে পারছেন না। বলেন, ‘বিচার হইলেও একটু শান্তি পাইতাম।’

মোছা. ইয়ানূর, কাজ করতেন রানা প্লাজায়। আহত ইয়ানূর সংবাদকে বলেন, ওইদিনের ঘটনায় বেঁচে গেলেও জীবন আজ তার দূর্বিষহ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, রানা প্লাজার ধসের ১১ বছর হয়ে গেছে। রানা প্লাজা ধসের সঙ্গেই আমার স্বপ্নও ভেঙে পড়েছে। এখন কোথাও কাজ করতে পারি না। কেউ চাকরি দেয় না। এক বেলা খাবার থাকে তো আরেক বেলা থাকে না’।

‘আমাদের এই পঙ্গু জীবনে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য সরকার অমাদের দিকে সুনজর দেবে এমন আশা করি’।

একইভাবে রানা প্লাজায় নিহত আঁখি আক্তারের মা নাসিমা বেগম সংবাদকে বলেন, রানা প্লাজায় ধসে আমার মেয়ে মারা গেছে। অনেকেই মারা গেছে। পঙ্গু হয়েছে রানা প্লাজা ধসের কারণে। ১১ বছরেও কোনো বিচার হয় নাই, তারা বিশেষ কোনো সুবিধা পান নাই এমন নানা অভিযোগ এনে বলেন, ‘রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই।

দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ এক ট্রাজেডি ছিল সাভারের রানা প্লাজা ধস। যেই ঘটনায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নাড়া দিয়েছিল বিশ্বকেও। রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর ছিল বুধবার (২৪ এপ্রিল)। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা নামের ১০ তলা ভবন ধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন। আহত হন ২ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। এই ১১ বছরেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকদের কষ্ট দিন দিন ভারি থেকে ভারি হচ্ছে।

রানা প্লাজা ধসের পর থেকে প্রতি বছর নিহতদের স্মরণে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে জড়ো হন নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবারও জড়ো হয়েছিলেন তারা। দোষীদের শাস্তি ও যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ সাত দফা দাবি তোলেন তারা। রানা প্লাজার সামনে অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা।

শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এম এ আউয়াল বলেন, ‘ঢাকা জজ কোর্টের মামলায় ৫৯৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রতিবন্ধকতা নিরসন করার জন্য শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেও মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব’। আদালতের সদিচ্ছা থাকলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে। শ্রম আদালতে চলমান ১১টি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি।

ব্যারিস্টার অনীক আর হক জানান, ‘হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন ৪টি রিট মামলা রয়েছে, যার কোনোটিরই শুনানি গত বছরের আগে শুরু হয়নি। তিনি আরও জানান, রিটগুলো শুনানির জন্য উচ্চ আদালতের নজরে নেয়া হবে। এ বছর নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে’।

বিমল সমাদ্দার পিপি জেলা ও দায়রা জজ, রানা প্লাজা ধ্বসে করা বিভিন্ন মামলা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ফৌজদারি মামলাসমূহের ৫৯৪ জন সাক্ষী, যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করছেন। তাদেরকে আদালতে হাজির করাটা অনেক বড় প্রতিবন্ধকতা। তাদের আদালতে যাতায়াতের ভাতা সরবরাহ করা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ব্যবস্থা করা কষ্টসাধ্য। তিনি সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য শ্রমিক নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ব্লাস্ট পরিচালক (আইন) মো. বরকত আলী বলেন, ২০১৩ সালের ঘটনাটি হত্যকা- না দুর্ঘটনা, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও ঘটনা পর্যবেক্ষণে একে হত্যাকা- বললে ভুল বলা হয় না। আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব এবং প্রয়োজনীয় আইন না থাকার কারণে এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই হয়ে আসছে। ১১ বছর পরও নিহত শ্রমিকের পরিবার এবং আহত শ্রমিক এখনও আইনানুগ ক্ষতিপূরণ পায়নি। এক্ষেত্রে তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং ন্যয়বিচার পাওয়ার লক্ষে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের দায়িত্বসমূহ নিয়ে সবার সচেতন এবং সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ছবি

নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার দাবি সমর্থন করি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

বিচারপতিদের অপসারণ, ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ শুনানি ১১ জুলাই

ছবি

গভীর সাগরে যেতে মানা, জেলেদের উপকূলে ফেরার নির্দেশ

নদী রক্ষা এবং সুষম পানি নিশ্চিত করার জন্য আঞ্চলিক পদক্ষেপ প্রয়োজন : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

চট্টগ্রাম-মায়ানমার নিয়ে খ্রিস্টান রাষ্ট্র বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

ঈদ যাত্রা নিরাপদ করতে ১১ দিন বন্ধ থাকবে বাল্কহেড

ছবি

এমপি আনারের হত্যাকারীদের প্রায় চিহ্নিত করে ফেলেছি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

নৌপথে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

মরদেহ উদ্ধার হয়নি, তবে হত্যার প্রমাণ পেয়েছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

ছবি

কলকাতায় ‘খুন’ ঝিনাইদহের নিখোঁজ এমপি

ছবি

প্রধানমন্ত্রীর প্যারিস সফরে, এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি: ফরাসি দূতের

উপজেলা নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটের হার ৩৮ শতাংশ

ছবি

দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে ‘ইউসেফ বাংলাদেশ’ কাজ করে যাচ্ছে : স্পিকার

ছবি

ব্যক্তিগত দায়ে সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের নিষেধাজ্ঞা : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

এমপি আনোয়ারুল আজিমের লাশ পাওয়া গেছে কিনা জানায়নি কলকাতা পুলিশ

মামলার জট কমাতে কাজ হচ্ছে : প্রধান বিচারপতি

ছবি

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে বাড়তি চার্জ : সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ

ছবি

পশ্চিমবঙ্গের যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুলকে হত্যা করা হয়েছে, সেখানে লাশ পাওয়া যায়নি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করবে এমপির মেয়ে: ডিবিপ্রধান

ছবি

বাবার হত্যার বিচার চাই: ডরিন

ছবি

এমপি আনোয়ারুল আজীমের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

ছবি

বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ

ছবি

আরও ১ হজযাত্রীর মৃত্যু, সৌদি গেলেন ৩৪৭৪১ জন

ছবি

এমপি আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ কলকাতায় উদ্ধার

ছবি

যে অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে তা সঠিক নয় : সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে নির্মূল কমিটি কোনও প্রকার আপোস করবে না : শহীদজায়া শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী

ছবি

কোরবানির ঈদ পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে না : বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি

সাবেক সেনাপ্রধানের নিষেধাজ্ঞা আগেই জানিয়েছিলো যুক্তরাষ্ট্র : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

আজিজ আহমেদের ওপর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে আমার কোনো মন্তব্য নেই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

আজিজ আহমেদের নিষেধাজ্ঞা আরেকটা বিভ্রান্ত করা : মির্জা ফখরুল

ছবি

আগামী বছর থেকে বঙ্গবন্ধু শান্তি পুরস্কার

ছবি

ভারত থেকে ট্রেনের কোচ আনছে রেলওয়ে, ব্যয় ১৩০০ কোটি টাকা

ছবি

ঢাকায় এসেছেন অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

গাজীপুরে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে শিক্ষককে ৩ দিনের জেল

ছবি

কিশোর গ্যাং নিয়ে প্রধান বিচারপতির উদ্বেগ

ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞায় সাবেক সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ

tab

জাতীয়

রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর : ‘আমার স্বপ্নও ভেঙে গেছে’

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক ও প্রতিনিধি, সাভার (ঢাকা)

রানা প্লাজায় নিহতের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা স্বজনের-সংবাদ

বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪

‘কে করবে সোহেল রানার বিচার? আমি কি ছেলে হত্যার বিচার পামু না? আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই’ বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন রানা প্লাজা ধসের ছেলে হারানো মা সাফিয়া বেওয়া। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বৃদ্ধ মা সাফিয়া বলেন, এই রানা প্লাজার তিন তলায় কাম করতো আমরা মাইজ্জা ছেলে’। আর কথা বলতে পারেন না। ফুঁপিয়ে ফঁপিয়ে কাঁদতে থাকেন।

কিছু সময় নিয়ে নিজেকে সামলে নিয়ে তিনি বলেন, মেজ ছেলে লাল মিয়াকে হারিয়েছেন রানা প্লাজা ধসে। লাল মিয়া কাজ করতেন ভবনটির তৃতীয় তলায়। ১১ বছরেও ছেলে হারানোর শোক যেন কিছুতেই কাটাতে পারছেন না। বলেন, ‘বিচার হইলেও একটু শান্তি পাইতাম।’

মোছা. ইয়ানূর, কাজ করতেন রানা প্লাজায়। আহত ইয়ানূর সংবাদকে বলেন, ওইদিনের ঘটনায় বেঁচে গেলেও জীবন আজ তার দূর্বিষহ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, রানা প্লাজার ধসের ১১ বছর হয়ে গেছে। রানা প্লাজা ধসের সঙ্গেই আমার স্বপ্নও ভেঙে পড়েছে। এখন কোথাও কাজ করতে পারি না। কেউ চাকরি দেয় না। এক বেলা খাবার থাকে তো আরেক বেলা থাকে না’।

‘আমাদের এই পঙ্গু জীবনে একটু ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য সরকার অমাদের দিকে সুনজর দেবে এমন আশা করি’।

একইভাবে রানা প্লাজায় নিহত আঁখি আক্তারের মা নাসিমা বেগম সংবাদকে বলেন, রানা প্লাজায় ধসে আমার মেয়ে মারা গেছে। অনেকেই মারা গেছে। পঙ্গু হয়েছে রানা প্লাজা ধসের কারণে। ১১ বছরেও কোনো বিচার হয় নাই, তারা বিশেষ কোনো সুবিধা পান নাই এমন নানা অভিযোগ এনে বলেন, ‘রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাসহ দোষীদের শাস্তির দাবি জানাই।

দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ এক ট্রাজেডি ছিল সাভারের রানা প্লাজা ধস। যেই ঘটনায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে নাড়া দিয়েছিল বিশ্বকেও। রানা প্লাজা ধসের ১১ বছর ছিল বুধবার (২৪ এপ্রিল)। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা নামের ১০ তলা ভবন ধসে নিহত হন ১ হাজার ১৩৬ জন। আহত হন ২ হাজারেরও বেশি শ্রমিক। এই ১১ বছরেও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া ও যথাযথ ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় নিহত শ্রমিকদের স্বজন ও আহত শ্রমিকদের কষ্ট দিন দিন ভারি থেকে ভারি হচ্ছে।

রানা প্লাজা ধসের পর থেকে প্রতি বছর নিহতদের স্মরণে ধসে পড়া রানা প্লাজার সামনে জড়ো হন নিহত শ্রমিকদের স্বজন, আহত শ্রমিক, শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বুধবারও জড়ো হয়েছিলেন তারা। দোষীদের শাস্তি ও যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ সাত দফা দাবি তোলেন তারা। রানা প্লাজার সামনে অস্থায়ী বেদীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারা।

শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড এন্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এম এ আউয়াল বলেন, ‘ঢাকা জজ কোর্টের মামলায় ৫৯৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের প্রতিবন্ধকতা নিরসন করার জন্য শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ করেও মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব’। আদালতের সদিচ্ছা থাকলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করা যাবে। শ্রম আদালতে চলমান ১১টি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে আশ্বস্ত করেন তিনি।

ব্যারিস্টার অনীক আর হক জানান, ‘হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন ৪টি রিট মামলা রয়েছে, যার কোনোটিরই শুনানি গত বছরের আগে শুরু হয়নি। তিনি আরও জানান, রিটগুলো শুনানির জন্য উচ্চ আদালতের নজরে নেয়া হবে। এ বছর নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে’।

বিমল সমাদ্দার পিপি জেলা ও দায়রা জজ, রানা প্লাজা ধ্বসে করা বিভিন্ন মামলা নিয়ে কাজ করছেন। তিনি বলেন, ফৌজদারি মামলাসমূহের ৫৯৪ জন সাক্ষী, যারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করছেন। তাদেরকে আদালতে হাজির করাটা অনেক বড় প্রতিবন্ধকতা। তাদের আদালতে যাতায়াতের ভাতা সরবরাহ করা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ব্যবস্থা করা কষ্টসাধ্য। তিনি সাক্ষীদের আদালতে উপস্থিতি নিশ্চিতের জন্য শ্রমিক নেতাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

ব্লাস্ট পরিচালক (আইন) মো. বরকত আলী বলেন, ২০১৩ সালের ঘটনাটি হত্যকা- না দুর্ঘটনা, তা নিয়ে অনেকের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলেও ঘটনা পর্যবেক্ষণে একে হত্যাকা- বললে ভুল বলা হয় না। আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব এবং প্রয়োজনীয় আইন না থাকার কারণে এই ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়তই হয়ে আসছে। ১১ বছর পরও নিহত শ্রমিকের পরিবার এবং আহত শ্রমিক এখনও আইনানুগ ক্ষতিপূরণ পায়নি। এক্ষেত্রে তাদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত এবং ন্যয়বিচার পাওয়ার লক্ষে সংশ্লিষ্ট অংশীজনের দায়িত্বসমূহ নিয়ে সবার সচেতন এবং সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

back to top