alt

জাতীয়

আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : রোববার, ২৬ মে ২০২৪

তখনও আঘাত হানেনি ঘূর্ণিঝড় রিমাল। তার আগেই জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকা-সংবাদ

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের অগ্রভাগ দেশের উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে। এটি সম্পূর্ণ উপকূল অতিক্রম করে রাত তিনটা-চারটার দিকে। রোববার (২৬ মে) রাত ৯টায় এতথ্য সংবাদকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

তিনি বলেন, ‘মোংলা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। তবে, এর ডায়ামিটার অনেক বড় হওয়ার কারণে সিস্টেমটি সম্পূর্ণরূপে উপকূল অতিক্রম করতে ৫-৭ ঘণ্টা সময় লাগবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল পশ্চিমবঙ্গের খেপুপাড়া এর মাঝে মোংলা, এইদিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে উত্তর দিকে অগ্রসর হবে। এর ওপরে আছে- মেহেরপুর যশোর কুষ্টিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ। স্থল নিম্ন চাপের বিষয়ে পরে বলবো আমরা।’

‘১০ নম্বর সতর্কতা সংকেতের পাশাপাশি বাতাসের গতিবেগ ৯০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত,’ ঘূর্ণিঝড় রিমালের এলাকায় বাতাসের বেগ থাকার কথা জানান তিনি।

বিকেলে আবহাওয়াবিদ মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমাল এখন পর্যন্ত সরাসরি উত্তর দিকে এগোচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০-১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। কোথাও কোথাও তা ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।’

কলাপাড়ায় জলোচ্ছ্বাসে ডুবে একজন নিহত
জেলার কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের পানির ঝুঁকি থেকে বোন ও ফুফুকে বাঁচাতে গিয়ে মো. শরীফ (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

রোববার দুপুরে ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীফের ফুফু মাতোয়ারা বেগম কাউয়ার চর এলাকায় বসবাস করেন। ওই বাড়িতে তার বোনও ছিলেন। দুপুর ২টার দিকে অনন্তপাড়া থেকে শরীফ তার বড় ভাই ও ফুফাকে নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে যান। মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

বাগেরহাটের মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়। রোববার থেকেই দমকা বাতাসসহ থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে পুরো সুন্দরবন।

রোববার মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বিকেলে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে সাড়ে চার ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। রাতে পানির চাপ আরও বাড়বে।’

‘প্রজননকেন্দ্রের বণ্যপ্রাণীর ক্ষয়-ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।’

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতি এড়াতে পুরো সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে থাকা বনরক্ষীদের এরই মধ্যে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।

তীব্র জলোচ্ছ্বাসের পানিতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের ১০০ বস্তা সরকারি চাল পানিতে ডুবে ‘নষ্ট হয়েছে’। খাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, গোডাউনে ইউনিয়নের ৫১৯ জন মৎস্যজীবীদের জন্য বরাদ্দের ১৩৮৪ বস্তা চাল ছিল। হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে এ ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে বাকি চাল গোডাউন থেকে সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি মসজিদে রাখা হয়েছে।

পাথরঘাটায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ‘আতঙ্কিত’ মানুষ
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল, ধমকা হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে পাথরঘাটা উপজেলার বিষখালী ও বলেশ্বর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে ততই আকাশ ঘন অন্ধকার ও দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইছে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খান জানান, উপজেলাবাসীকে রক্ষার্থে ১৫৬টি আশ্রয়ণকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলার চরলাঠিমারা গ্রামের মো. জাকির, পদ্মা গ্রামের আবু ছালে ও তাফালবাড়িয়া গ্রামের আলিহোসেনসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন তাদের ঘরবাড়ি বেড়িবাঁধের নিকটবর্তী হওয়ায় সকালের জোয়ারেই তাদের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে।

চট্টগ্রামে সাগর উত্তাল, প্লাবিত, বেড়িবাঁধসংলগ্ন লোকালয় প্লাবিত

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দরে ‘অ্যালার্ট-থ্রি’ অর্থাৎ বিপৎসংকেত জারি করা হয়েছে। বন্দরের জেটিতে অবস্থানরত সব জাহাজকে গভীর সাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি থেকে ১৬টি জাহাজ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বহির্নোঙর থেকে ৪৯টি জাহাজকে গভীর সমুদ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। জেটি থেকে সর্বশেষ কনটেইনার পরিবহন চলছিল, সেটাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া, কনটেইনারসহ পণ্য ওঠানামা ও খালাসসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা
রিমালের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোববার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এতথ্য জানান। রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড় রিমাল নিয়ে দেয়া ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেখানে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে নতুন করে ৯ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে হবে। মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ওই কর্মকর্তা জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকাজুড়ে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চলে যেতে মাইকিং করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও সি পি পি টিম সদস্যরা।

রোববার উপজেলার ছনুয়া, শেখেরখীল, গণ্ডামারা, বাহারচড়া, খানখানাবাদ, প্রেমাশিয়াসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওইসব এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে।

সি পি পির বাহারচড়া টিম লিডার মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া অফিস যখন ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জানিয়েছে তখন থেকেই আমরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করে যাচ্ছি। এখনো মাইকিং করা হচ্ছে।

উপকূলের বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রোধে মাইকিং

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পিবিএসগুলোর (সমিতি) জেনারেল ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় প্রস্তুত বিদ্যুৎ সমিতিগুলো। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলের বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মানুষের জীবন রক্ষায় উপকূলের বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঝোড়ো বাতাসে গাছ পড়ে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য এরই মধ্যে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে অনেক এলাকায় লাইন চালু করার পর তা ‘বার বার’ বন্ধ হয়ে যায়।

আক্রান্ত জেলাগুলোর বিদ্যুৎকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঝড় চলে যাওয়ার পর দ্রুত যাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায়, সে লক্ষ্যে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তুত আছে।

বাগেরহাটের পিবিএস-এর জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত রায় জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সবাইকে স্ট্যান্ডবাই থাকতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী সমিতির জেনারেল ম্যানেজার তুষারকান্তি ম-ল জানান, ঝড়ের জন্য যা যা প্রয়োজন, সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনবল ও মালামাল সব ঠিক করা হয়েছে। ঠিকাদারদেরও স্ট্যান্ডবাই থাকতে বলা হয়েছে।

সাতক্ষীরা পিবিএস-এর জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমান জানান, ইতিমধ্যে তিন ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে-ঝড় আসার আগে, ঝড়ের সময় এবং ঝড় পরবর্তী সময়ে করণীয়। ঝড় আসার আগে আমরা মোবাইলে চার্জ দিয়ে রাখতে বলি সবাইকে, মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ করে রাখা হয়, যারা স্ট্যান্ডবাই থাকবেন, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে ঝড়ের সময় যাতে কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট না হয়, সেজন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমরা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাখছি। যাতে করে তাদের এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপরে গাছ পড়লে, তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ভোলার চরফ্যাসনে জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রবিবার (২৬ মে) দুপুরে এ উপজেলায় জোয়ারের পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত চার ফুট বেড়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ঝোড়ো বাতাসে চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ২৫ মে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত চরফ্যাসনে বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ রয়েছে।

উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরপাতিলা এলাকার বাসিন্দা নোমান বলেন, ‘আমাদের এখানে বেড়িবাঁধের অবস্থা একেবারে নাজুক। ঘুর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ তলিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। তাই আমরা আতঙ্কে রয়েছি।’

চরফ্যাসন পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিএম মোঃ মিজানুর রহমান জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে জেলার অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে চরফ্যাসনেও ঝড়ের গতি বেশি। বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ছে। এসব কারণে পল্লীবিদ্যুৎতের আওতাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাতাসের গতি কমে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে।

ছবি

নেতাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন শেখ হাসিনা

ছবি

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা

ছবি

বঙ্গভবনে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন রাষ্ট্রপতি

ছবি

ঈদুল আজহার ত্যাগের চেতনায় দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

২০ বছরে হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

ছবি

খালেদা জিয়া কৃষকের ভাগ্য নিয়েও ছিনিমিনি খেলেছিল

ছবি

ঈদ নিরাপত্তায় যেসব পরামর্শ দিলো পুলিশ

ছবি

সাভার-আশুলিয়া সড়কে কমেছে যানবাহনের চাপ

ছবি

আজ পবিত্র হজ

ছবি

চোরাইপথে আসা চিনি ছিনতাইচেষ্টায় ‘ছাত্রলীগের’ ৫ জন আটক

রঞ্জন সেনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ ২ বছর বাড়ানো হলো

ছবি

মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে চীনকে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বাংলাদেশ

ছবি

ওয়াশিংটন অ্যাকর্ডের সিগনেটরি স্বীকৃতি পেলো আইইবি

ছবি

এ বছরের পর আর টিকিট কালোবাজারি থাকবে না: র‌্যাব

ছবি

সৌদিতে আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

ওমানের ভিসা নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ

ছবি

মাসুমা খান মজলিস ইন্তেকাল করেছেন

মজলিসের স্ত্রী মাসুমা খান মজলিস আজ সকালে ইন্তেকাল করে

ছবি

আরও ৭০ উপজেলা ‘ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত’

ছবি

১৫২ কোটি টাকার সুদ মওকুফ করায় সাবেক ভ্যাট কমিশনারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছবি

এয়ার অ্যারাবিয়ার ফ্লাইট ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করে ঢাকায় ফিরল

ছবি

কক্সবাজারকে গৃহহীন ও ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ কিনবে সরকার

ছবি

প্রতিরক্ষা খাতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায় ইইউ : রাষ্ট্রদূত

ছবি

ভূমিহীন-গৃহহীনমুক্ত হলো আরও ৭০ উপজেলা

ছবি

এমপি আজিম চোরাচালানে যুক্ত ছিল, কখনোই বলিনি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি তৈরি করে দেব : প্রধানমন্ত্রী

ছবি

নতুন সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান

ছবি

আজিজ আহমেদের স্বজনদের পাসপোর্ট অনুসন্ধানে দুদকের চিঠি, ইসির তদন্ত কমিটি গঠন

ছবি

স্কাইডাইভে আশিক চৌধুরীর বিশ্বরেকর্ড উদযাপন করল স্পন্সর ইউসিবি

দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ছবি

জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন- সিলেটে আইজিপি

ছবি

শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আগামী কাল

ছবি

পাকিস্তানে হামলায় সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেনসহ ৭ সৈন্য নিহত

ছবি

চেনা দুর্যোগগুলো অচেনা হয়ে উঠছে : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ডিজি

tab

জাতীয়

আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

তখনও আঘাত হানেনি ঘূর্ণিঝড় রিমাল। তার আগেই জলোচ্ছাসে প্লাবিত হয়েছে উপকূলের বিভিন্ন এলাকা-সংবাদ

রোববার, ২৬ মে ২০২৪

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের অগ্রভাগ দেশের উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করেছে। এটি সম্পূর্ণ উপকূল অতিক্রম করে রাত তিনটা-চারটার দিকে। রোববার (২৬ মে) রাত ৯টায় এতথ্য সংবাদকে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক।

তিনি বলেন, ‘মোংলা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করেছে। তবে, এর ডায়ামিটার অনেক বড় হওয়ার কারণে সিস্টেমটি সম্পূর্ণরূপে উপকূল অতিক্রম করতে ৫-৭ ঘণ্টা সময় লাগবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমাল পশ্চিমবঙ্গের খেপুপাড়া এর মাঝে মোংলা, এইদিক দিয়ে উপকূল অতিক্রম করে উত্তর দিকে অগ্রসর হবে। এর ওপরে আছে- মেহেরপুর যশোর কুষ্টিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ। স্থল নিম্ন চাপের বিষয়ে পরে বলবো আমরা।’

‘১০ নম্বর সতর্কতা সংকেতের পাশাপাশি বাতাসের গতিবেগ ৯০ থেকে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত,’ ঘূর্ণিঝড় রিমালের এলাকায় বাতাসের বেগ থাকার কথা জানান তিনি।

বিকেলে আবহাওয়াবিদ মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমাল এখন পর্যন্ত সরাসরি উত্তর দিকে এগোচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়টির গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০-১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত। কোথাও কোথাও তা ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।’

কলাপাড়ায় জলোচ্ছ্বাসে ডুবে একজন নিহত
জেলার কলাপাড়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসের পানির ঝুঁকি থেকে বোন ও ফুফুকে বাঁচাতে গিয়ে মো. শরীফ (২৭) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন।

রোববার দুপুরে ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শরীফ অনন্তপাড়া এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শরীফের ফুফু মাতোয়ারা বেগম কাউয়ার চর এলাকায় বসবাস করেন। ওই বাড়িতে তার বোনও ছিলেন। দুপুর ২টার দিকে অনন্তপাড়া থেকে শরীফ তার বড় ভাই ও ফুফাকে নিয়ে তাদের উদ্ধার করতে যান। মোংলা সমুদ্রবন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

বাগেরহাটের মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবন উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করা হয়। রোববার থেকেই দমকা বাতাসসহ থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়। ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে পুরো সুন্দরবন।

রোববার মোংলা আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজননকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাওলাদার আজাদ কবির বিকেলে বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে সাড়ে চার ফুট পানি বেড়ে সুন্দরবন তলিয়ে গেছে। রাতে পানির চাপ আরও বাড়বে।’

‘প্রজননকেন্দ্রের বণ্যপ্রাণীর ক্ষয়-ক্ষতির কোনো আশঙ্কা নেই।’

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ নূরুল করিম জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে সম্ভাব্য ক্ষয়-ক্ষতি এড়াতে পুরো সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। বন বিভাগের ঝুঁকিপূর্ণ ক্যাম্পগুলোতে থাকা বনরক্ষীদের এরই মধ্যে নিরাপদে সরিয়ে আনা হয়েছে।

তীব্র জলোচ্ছ্বাসের পানিতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ইউনিয়ন পরিষদের ১০০ বস্তা সরকারি চাল পানিতে ডুবে ‘নষ্ট হয়েছে’। খাউলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার সাইদুর রহমান জানান, গোডাউনে ইউনিয়নের ৫১৯ জন মৎস্যজীবীদের জন্য বরাদ্দের ১৩৮৪ বস্তা চাল ছিল। হঠাৎ করে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে এ ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে বাকি চাল গোডাউন থেকে সরিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ ও একটি মসজিদে রাখা হয়েছে।

পাথরঘাটায় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত ‘আতঙ্কিত’ মানুষ
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সাগর উত্তাল, ধমকা হাওয়া ও বৃষ্টির কারণে পাথরঘাটা উপজেলার বিষখালী ও বলেশ্বর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে ততই আকাশ ঘন অন্ধকার ও দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইছে। পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রোকনুজ্জামান খান জানান, উপজেলাবাসীকে রক্ষার্থে ১৫৬টি আশ্রয়ণকেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পাথরঘাটা উপজেলার চরলাঠিমারা গ্রামের মো. জাকির, পদ্মা গ্রামের আবু ছালে ও তাফালবাড়িয়া গ্রামের আলিহোসেনসহ একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন তাদের ঘরবাড়ি বেড়িবাঁধের নিকটবর্তী হওয়ায় সকালের জোয়ারেই তাদের ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে।

চট্টগ্রামে সাগর উত্তাল, প্লাবিত, বেড়িবাঁধসংলগ্ন লোকালয় প্লাবিত

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দরে ‘অ্যালার্ট-থ্রি’ অর্থাৎ বিপৎসংকেত জারি করা হয়েছে। বন্দরের জেটিতে অবস্থানরত সব জাহাজকে গভীর সাগরে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতের আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দরের জেটি থেকে ১৬টি জাহাজ সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বহির্নোঙর থেকে ৪৯টি জাহাজকে গভীর সমুদ্রে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। জেটি থেকে সর্বশেষ কনটেইনার পরিবহন চলছিল, সেটাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এর ফলে চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ আসা-যাওয়া, কনটেইনারসহ পণ্য ওঠানামা ও খালাসসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর বন্ধ ঘোষণা
রিমালের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রোববার দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের এতথ্য জানান। রোববার সকালে ঘূর্ণিঝড় রিমাল নিয়ে দেয়া ১০ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সেখানে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে নতুন করে ৯ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে হবে। মহাবিপৎসংকেত দেখাতে বলার পর বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ওই কর্মকর্তা জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে, তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকাজুড়ে বসবাসরত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চলে যেতে মাইকিং করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসন ও সি পি পি টিম সদস্যরা।

রোববার উপজেলার ছনুয়া, শেখেরখীল, গণ্ডামারা, বাহারচড়া, খানখানাবাদ, প্রেমাশিয়াসহ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে ওইসব এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে।

সি পি পির বাহারচড়া টিম লিডার মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, আবহাওয়া অফিস যখন ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত জানিয়েছে তখন থেকেই আমরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করে যাচ্ছি। এখনো মাইকিং করা হচ্ছে।

উপকূলের বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট রোধে মাইকিং

বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পিবিএসগুলোর (সমিতি) জেনারেল ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় প্রস্তুত বিদ্যুৎ সমিতিগুলো। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলের বহু এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। মানুষের জীবন রক্ষায় উপকূলের বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঝোড়ো বাতাসে গাছ পড়ে দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য এরই মধ্যে অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রোববার বিকেলে অনেক এলাকায় লাইন চালু করার পর তা ‘বার বার’ বন্ধ হয়ে যায়।

আক্রান্ত জেলাগুলোর বিদ্যুৎকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঝড় চলে যাওয়ার পর দ্রুত যাতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা যায়, সে লক্ষ্যে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রস্তুত আছে।

বাগেরহাটের পিবিএস-এর জেনারেল ম্যানেজার সুশান্ত রায় জানান, ঘূর্ণিঝড় রিমাল মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে। সবাইকে স্ট্যান্ডবাই থাকতে বলা হয়েছে।

পটুয়াখালী সমিতির জেনারেল ম্যানেজার তুষারকান্তি ম-ল জানান, ঝড়ের জন্য যা যা প্রয়োজন, সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জনবল ও মালামাল সব ঠিক করা হয়েছে। ঠিকাদারদেরও স্ট্যান্ডবাই থাকতে বলা হয়েছে।

সাতক্ষীরা পিবিএস-এর জেনারেল ম্যানেজার জিয়াউর রহমান জানান, ইতিমধ্যে তিন ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে-ঝড় আসার আগে, ঝড়ের সময় এবং ঝড় পরবর্তী সময়ে করণীয়। ঝড় আসার আগে আমরা মোবাইলে চার্জ দিয়ে রাখতে বলি সবাইকে, মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় মালামাল সংগ্রহ করে রাখা হয়, যারা স্ট্যান্ডবাই থাকবেন, তাদের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

এদিকে ঝড়ের সময় যাতে কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট না হয়, সেজন্য মাইকিং করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমরা চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে রাখছি। যাতে করে তাদের এলাকায় বিদ্যুতের তারের ওপরে গাছ পড়লে, তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা যায়।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ভোলার চরফ্যাসনে জোয়ারের পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রবিবার (২৬ মে) দুপুরে এ উপজেলায় জোয়ারের পানি স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত চার ফুট বেড়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট ঝোড়ো বাতাসে চরফ্যাসন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ভেঙে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ২৫ মে শনিবার সন্ধ্যা থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত চরফ্যাসনে বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ রয়েছে।

উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ চরপাতিলা এলাকার বাসিন্দা নোমান বলেন, ‘আমাদের এখানে বেড়িবাঁধের অবস্থা একেবারে নাজুক। ঘুর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে বেড়িবাঁধ তলিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। তাই আমরা আতঙ্কে রয়েছি।’

চরফ্যাসন পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের ডিজিএম মোঃ মিজানুর রহমান জানান, শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে জেলার অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে চরফ্যাসনেও ঝড়ের গতি বেশি। বিভিন্ন জায়গায় গাছ পড়ছে। এসব কারণে পল্লীবিদ্যুৎতের আওতাধীন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বাতাসের গতি কমে গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হবে।

back to top