alt

জাতীয়

ব্যাংককে ইউনূস-মোদি বৈঠক

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে ঢাকা

সংবাদ ডেস্ক : শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

শুক্রবার ব্যাংককের সাংবিলা হোটেলে আলোচিত বৈঠকে মোদি ও ইউনূস

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার দুপুরে দুই প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে বহুল আলোচিত এই বৈঠক হয়। ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেস সচিব জানান, আধা ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়।

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারপ্রধানের মধ্যে বৈঠকটি ‘অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

ড. ইউনূস দায়িত্ব নেয়ার পর দুই দফা মোদির সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তা হয়ে ওঠেনি। ফলে বিমসটেকের সম্মেলনে তাদের বৈঠক হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই তিনি ভারতে চলে যান। সে ঘটনার তিন দিন পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তখন থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অস্বস্তি চলে আসছে, যার বড় কারণ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ভারতে উপস্থিতি।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো দমন-পীড়নকে ‘গণহত্যা’ বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুবনালে শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ

নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। হত্যা, গুমসহ তিন মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠালেও দিল্লি তার উত্তর দেয়নি। এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি সশরীরে বাংলাদেশে থাকুক বা না থাকুক। ভারতে থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে।

এরপর এই প্রথম দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচিত হলো। এর আগে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে ইউনূসের বৈঠকের কথা উঠেছিল। কিন্তু শেষমেশ তা আর হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের নৈশভোজে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা কুশলাদি বিনিময় করেন। নৈশভোজে উভয় নেতাকে বেশ কিছু সময় ধরে কথা বলতে দেখা যায়।

ড. ইউনূসের দায়িত্ব নেয়ার পর এর আগেও দুই দফা মোদির সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাদের বৈঠক আর ওঠেনি। ফলে বিমসটেকের সম্মেলনে তাদের বৈঠক হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।

ব্যাংককে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে বৈঠকটি ‘অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

বিক্রম মিশ্রির ব্রিফিং

ব্যাংককে ইউনূস-মোদি বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিক্রম মিশ্রি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বৈঠকে আমাদের (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারত সবসময় সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেছেন যে ভারত দুই দেশের জনগণকেন্দ্রীক সম্পর্ক চায় এবং বিশ্বাস করে যে পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে দুই দেশের জনগণ।’

বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটির সরকারপ্রধানকে অনুরোধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কলুষিত করতে পারে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।’

তিনি জানান, ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সময় মোদি হিন্দুসহ বাংলাদেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়টি উত্থাপন করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কের আকাক্সক্ষার কথা জানান।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রগতিশীল, শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রফেসর ইউনূসকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরির আকাক্সক্ষার কথা জানান। এছাড়া (দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে) এমন কথাবার্তা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।’

তাদের দুজনের মধ্যে সীমান্ত নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেছেন, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় সীমান্তে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো জরুরি (প্রধানমন্ত্রী মোদি)। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিয়ে ভারতের চিন্তার বিষয়টি জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে হওয়া (কথিত) নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের অনুরোধ জানান।’

ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারপ্রধানের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে বিক্রম মিশ্রি স্বীকার করেন যে, এ ইস্যুতে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে, তবে কী কথা হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছে। তবে হাসিনার প্রত্যর্পণের ব্যাপারে এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি বলা তার জন্য ঠিক হবে না।

ছবি

ঈদের ছুটিতে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো পর্যটকে মুখর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা বললেন ইউনূস

বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভারত সমর্থন করে না: মোদি

লবণপানিতে পিচ্ছিল হয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা

চার বিভাগীয় শহরে হবে ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’: সালাহউদ্দিন টুকু

দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘একসঙ্গে কাজ করতে’ বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের খবর ‘বিভ্রান্তিকর’, বলছে পুলিশ

ছবি

‘শর্ত ভঙ্গের’ অভিযোগে যাত্রাপালা বন্ধ জয়পুরহাটে

ছবি

দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা

ছবি

ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ

মানিকগঞ্জে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল কার্টনে মোড়ানো অজ্ঞাত নারীর লাশ

যশোরে পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে এসিড নিক্ষেপ, বন্ধু গ্রেপ্তার

এক খিলি পান ১৫৭৫ টাকা!

তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, বাড়তে পারে কালবৈশাখীর সংখ্যা

ট্রাম্পের শুল্কারোপ নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে জরুরি বৈঠক কাল

এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ‘প্রত্যাবাসনের যোগ্য’ বলছে মায়ানমার

ভেলপুরি খেয়ে অসুস্থ দুই শতাধিক, বিক্রেতা আটক

নারী সংবাদকর্মীকে শ্লীলতাহানি ও হেনস্তা, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার তিন

কর্ণফুলী নদীর উপর রেলসহ সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ শুরু মে মাসে

ছবি

ধলেশ্বরীতে উচ্চৈঃশব্দে গান বাজিয়ে অস্ত্রের মহড়া, কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ সদস্য আটক

রোববার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপপ্রবাহ

ছবি

লোহাগাড়ায় ১০ জনের লাশ হস্তান্তর, যশোরে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

ছবি

ঢাকা এখনও ফাঁকা, পথে নেই বিড়ম্বনা

ছবি

খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতক্ষীরায় ১০ গ্রাম প্লাবিত, ১৫ হাজার মানুষের ঈদ মাটি

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ‘কথা বলতে প্রস্তুত’ টিউলিপের আইনজীবীরা

মিরপুরে ‘৭ তলা থেকে ফেলে’ যুবককে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

ছবি

ব্যাংককে ইউনূস-মোদি বৈঠক শুক্রবার

বিদ্যুৎ-জ্বালানি : রমজান পার, এপ্রিল এখন বড় চ্যালেঞ্জ

আলোচনায় শুল্ক জটিলতার সমাধান হবে, ‘আশাবাদী’ প্রধান উপদেষ্টা

সর্বনাশের শঙ্কা অনেকের, কেউ কেউ দেখছে পৌষ

ছবি

ট্রাম্পের নতুন ‘শুল্কযুদ্ধ’, বাংলাদেশে কী প্রভাব

ছবি

ইউনূস-মোদি বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পনের বিষয় আলোচনা

ছবি

ব্যাংককে বৈঠক করলেন ইউনূস- মোদি

ছবি

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : প্রধান উপদেষ্টা

ছবি

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস

ছবি

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ইস্যুতে সমাধানের আশাবাদ প্রধান উপদেষ্টার

tab

জাতীয়

ব্যাংককে ইউনূস-মোদি বৈঠক

শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে ঢাকা

সংবাদ ডেস্ক

শুক্রবার ব্যাংককের সাংবিলা হোটেলে আলোচিত বৈঠকে মোদি ও ইউনূস

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার দুপুরে দুই প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে বহুল আলোচিত এই বৈঠক হয়। ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রেস সচিব জানান, আধা ঘণ্টার বেশি সময় চলা এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণসহ বিভিন্ন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় তুলে ধরা হয়।

শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারপ্রধানের মধ্যে বৈঠকটি ‘অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।’

ড. ইউনূস দায়িত্ব নেয়ার পর দুই দফা মোদির সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তা হয়ে ওঠেনি। ফলে বিমসটেকের সম্মেলনে তাদের বৈঠক হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিনই তিনি ভারতে চলে যান। সে ঘটনার তিন দিন পর সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নেয় মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তখন থেকেই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অস্বস্তি চলে আসছে, যার বড় কারণ ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার ভারতে উপস্থিতি।

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের চালানো দমন-পীড়নকে ‘গণহত্যা’ বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুবনালে শেখ হাসিনাসহ তার সহযোগীদের বিচারের উদ্যোগ

নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। হত্যা, গুমসহ তিন মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে সরকার ভারতকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠালেও দিল্লি তার উত্তর দেয়নি। এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস জোর দিয়ে বলেছেন, শেখ হাসিনাকে অবশ্যই বিচারের মুখোমুখি হতে হবে, তা তিনি সশরীরে বাংলাদেশে থাকুক বা না থাকুক। ভারতে থাকলেও তার অনুপস্থিতিতে বিচার চলবে।

এরপর এই প্রথম দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে শেখ হাসিনাকে বিচারের জন্য বাংলাদেশের কাছে প্রত্যর্পণের বিষয়টি আলোচিত হলো। এর আগে সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে ইউনূসের বৈঠকের কথা উঠেছিল। কিন্তু শেষমেশ তা আর হয়নি।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের নৈশভোজে দুই নেতার সাক্ষাৎ হয় এবং তারা কুশলাদি বিনিময় করেন। নৈশভোজে উভয় নেতাকে বেশ কিছু সময় ধরে কথা বলতে দেখা যায়।

ড. ইউনূসের দায়িত্ব নেয়ার পর এর আগেও দুই দফা মোদির সঙ্গে দেখা হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাদের বৈঠক আর ওঠেনি। ফলে বিমসটেকের সম্মেলনে তাদের বৈঠক হবে কিনা, তা নিয়ে আলোচনা চলছিল।

ব্যাংককে বৈঠকের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানান, দুই সরকারপ্রধানের মধ্যে বৈঠকটি ‘অত্যন্ত গঠনমূলক ও ফলপ্রসূ’ হয়েছে। পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ এবং ভারতে বসে তিনি উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন, এসব বিষয় বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সীমান্তে হত্যা, তিস্তা নদীর পানি বণ্টনসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।’

বিক্রম মিশ্রির ব্রিফিং

ব্যাংককে ইউনূস-মোদি বৈঠকের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিক্রম মিশ্রি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বৈঠকে আমাদের (ভারতের) প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারত সবসময় সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেছেন যে ভারত দুই দেশের জনগণকেন্দ্রীক সম্পর্ক চায় এবং বিশ্বাস করে যে পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে দুই দেশের জনগণ।’

বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটির সরকারপ্রধানকে অনুরোধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কলুষিত করতে পারে এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।’

তিনি জানান, ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই সময় মোদি হিন্দুসহ বাংলাদেশি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিষয়টি উত্থাপন করেন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্কের আকাক্সক্ষার কথা জানান।

বিক্রম মিশ্রি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদি অন্তর্ভুক্তিমূলক, প্রগতিশীল, শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রফেসর ইউনূসকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ইতিবাচক ও গঠনমূলক সম্পর্ক তৈরির আকাক্সক্ষার কথা জানান। এছাড়া (দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে) এমন কথাবার্তা এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।’

তাদের দুজনের মধ্যে সীমান্ত নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেছেন, ‘সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় সীমান্তে আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো জরুরি (প্রধানমন্ত্রী মোদি)। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদি বাংলাদেশি হিন্দু ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিয়ে ভারতের চিন্তার বিষয়টি জানান এবং তাদের বিরুদ্ধে হওয়া (কথিত) নির্যাতনের ঘটনা তদন্তের অনুরোধ জানান।’

ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারপ্রধানের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে বিক্রম মিশ্রি স্বীকার করেন যে, এ ইস্যুতে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে, তবে কী কথা হয়েছে সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

মিশ্রি বলেন, বাংলাদেশ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক পত্র দিয়েছে। তবে হাসিনার প্রত্যর্পণের ব্যাপারে এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি বলা তার জন্য ঠিক হবে না।

back to top