সাধারণত এক খিলি পানের দাম যেখানে ১০ টাকা, সেখানে যদি তার জন্য ১৫৭৫ টাকা হাঁকা হয়, তাহলে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এটাই সত্যি। রাজশাহীর ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ এলাকার পর্যটনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ঈদ মেলায় ‘সিদ্দিক ভাইয়ের নাটোরের বনলতা পান’ স্টোরে এই দামেই বিক্রি হচ্ছে এক খিলি ‘নবাব পান’।
বিক্রেতা সিদ্দিক কবিরাজ বলেন, এক সময় নবাবরা এই পান খেতেন, তাই এর নাম ‘নবাব পান’। কস্তরী, কালিজিরা ও কাঁচা সুপারি দিয়ে এই পান তৈরি হয়। পানটি খেতে হয় ভরা পেটে।
৫৭ বছর বয়সী সিদ্দিক কবিরাজ ৩৩ বছর ধরে পানের ব্যবসা করছেন। এখন পর্যন্ত ৩০টি ঈদ মেলায় পান বিক্রি করেছেন লাইসেন্সধারী এই পান বিক্রেতা। এই সময়ে ৪৪টি ‘নবাব পান’ বিক্রি হয়েছে তার।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এই ঈদ মেলায় বাঘা দরগা শরিফের গেটের সামনে বসানো হয়েছে সিদ্দিক কবিরাজের পানের দোকানটি। ৭৩৩ পদের দেশি-বিদেশি জর্দা ও মসলার সমারোহ রয়েছে এই দোকানে। জর্দা-মসলার ৪ ভাগের তিন ভাগই বিদেশি, এক ভাগ দেশি।
‘নবাব পান’ ছাড়াও সিদ্দিকের পানের তালিকায় রয়েছে- জমিদার পান, নাটোরের বনলতা পান, আয়ুর্বেদিক পান, বিয়াই-বিয়াইন পান, শ্যালিকা-দুলাভাই পান, হাসি-খুশি পান, নতুন বাবুর হাতের পান,
ভালোবাসার পান, বন্ধু-বান্ধুবীর পান, জনতার পান।
সঙ্গে সাধারণ খয়ের-জর্দা দিয়ে বানানো পানও পাওয়া যায়, সর্বনিম্ন ১০ টাকা মূল্যে।
অনেক সময় এক খিলি পান খাওয়ার জন্য অনেককেই দু-এক ঘণ্টা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
নাটোরের লালপুর উপজেলার জয়রামপুর-বেড়িলাবাড়ি গ্রামের মৃত গরিবউল্লার ছেলে সিদ্দিক কবিরাজ। তিনি জানান, অভাব-অনটন ও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা তাকে বাধ্য করেছে পান বিক্রিতে নামতে।
বড় ব্যবসা করতে মোটা অংকের পুঁজি প্রয়োজন ছিল, তাই ১৯৮৭ সালে স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন খিলি পান বিক্রি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে পানের দোকানদারি করে এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তিনি। এই মেলায় ৬ দিনে প্রায় লক্ষাধিক টাকার খিলি পান বিক্রি করেছেন বলে জানালেন তিনি।
নবাব পানের পাশাপাশি ‘ভালবাসার পান’ বিক্রি করছেন ৩৩৫ টাকা মূল্যে। এ পর্যন্ত ‘ভালবাসার পান’ বিক্রি হয়েছে ৩ খিলি।
সিদ্দিক কবিরাজ জানান, তিনি লাইসেন্সধারী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পানের ব্যবসায়ী। তার দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা আছে : ‘আপন জনের জন্য নিয়ে যাবেন, ভালো লাগলে দাম দিবেন, না লাগলে দিবেন না।’
সিদ্দিক কবিরাজ আরও জানান, এই মাসে প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার পান বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে তিনি এই মেলায় ৬ দিনে প্রায় লক্ষাধিক টাকার খিলি পান বিক্রি করেছেন। বিভিন্ন পণ্যের দামসহ যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। পান বিক্রি করেই তিনি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছেন। মেয়েকে অনার্স-মাস্টার্স পাস করার পর বিয়ে দিয়েছেন, এবং ছেলে স্থানীয় স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে, জানান সিদ্দিক।
নিজে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। তাই, টাকার অভাবে যাতে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়, সে ব্যাপারে সবসময়ই সচেতন ছিলেন সিদ্দিক কবিরাজ। মেয়ের মতো ছেলেকেও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার স্বপ্ন তার।
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
সাধারণত এক খিলি পানের দাম যেখানে ১০ টাকা, সেখানে যদি তার জন্য ১৫৭৫ টাকা হাঁকা হয়, তাহলে অবাক হওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু এটাই সত্যি। রাজশাহীর ঐতিহাসিক বাঘা মসজিদ এলাকার পর্যটনকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ঈদ মেলায় ‘সিদ্দিক ভাইয়ের নাটোরের বনলতা পান’ স্টোরে এই দামেই বিক্রি হচ্ছে এক খিলি ‘নবাব পান’।
বিক্রেতা সিদ্দিক কবিরাজ বলেন, এক সময় নবাবরা এই পান খেতেন, তাই এর নাম ‘নবাব পান’। কস্তরী, কালিজিরা ও কাঁচা সুপারি দিয়ে এই পান তৈরি হয়। পানটি খেতে হয় ভরা পেটে।
৫৭ বছর বয়সী সিদ্দিক কবিরাজ ৩৩ বছর ধরে পানের ব্যবসা করছেন। এখন পর্যন্ত ৩০টি ঈদ মেলায় পান বিক্রি করেছেন লাইসেন্সধারী এই পান বিক্রেতা। এই সময়ে ৪৪টি ‘নবাব পান’ বিক্রি হয়েছে তার।
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী এই ঈদ মেলায় বাঘা দরগা শরিফের গেটের সামনে বসানো হয়েছে সিদ্দিক কবিরাজের পানের দোকানটি। ৭৩৩ পদের দেশি-বিদেশি জর্দা ও মসলার সমারোহ রয়েছে এই দোকানে। জর্দা-মসলার ৪ ভাগের তিন ভাগই বিদেশি, এক ভাগ দেশি।
‘নবাব পান’ ছাড়াও সিদ্দিকের পানের তালিকায় রয়েছে- জমিদার পান, নাটোরের বনলতা পান, আয়ুর্বেদিক পান, বিয়াই-বিয়াইন পান, শ্যালিকা-দুলাভাই পান, হাসি-খুশি পান, নতুন বাবুর হাতের পান,
ভালোবাসার পান, বন্ধু-বান্ধুবীর পান, জনতার পান।
সঙ্গে সাধারণ খয়ের-জর্দা দিয়ে বানানো পানও পাওয়া যায়, সর্বনিম্ন ১০ টাকা মূল্যে।
অনেক সময় এক খিলি পান খাওয়ার জন্য অনেককেই দু-এক ঘণ্টা সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়।
নাটোরের লালপুর উপজেলার জয়রামপুর-বেড়িলাবাড়ি গ্রামের মৃত গরিবউল্লার ছেলে সিদ্দিক কবিরাজ। তিনি জানান, অভাব-অনটন ও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা তাকে বাধ্য করেছে পান বিক্রিতে নামতে।
বড় ব্যবসা করতে মোটা অংকের পুঁজি প্রয়োজন ছিল, তাই ১৯৮৭ সালে স্বল্প পুঁজি নিয়ে শুরু করেন খিলি পান বিক্রি। তিন দশকের বেশি সময় ধরে পানের দোকানদারি করে এখন স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তিনি। এই মেলায় ৬ দিনে প্রায় লক্ষাধিক টাকার খিলি পান বিক্রি করেছেন বলে জানালেন তিনি।
নবাব পানের পাশাপাশি ‘ভালবাসার পান’ বিক্রি করছেন ৩৩৫ টাকা মূল্যে। এ পর্যন্ত ‘ভালবাসার পান’ বিক্রি হয়েছে ৩ খিলি।
সিদ্দিক কবিরাজ জানান, তিনি লাইসেন্সধারী ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পানের ব্যবসায়ী। তার দোকানের সাইনবোর্ডে লেখা আছে : ‘আপন জনের জন্য নিয়ে যাবেন, ভালো লাগলে দাম দিবেন, না লাগলে দিবেন না।’
সিদ্দিক কবিরাজ আরও জানান, এই মাসে প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার টাকার পান বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে তিনি এই মেলায় ৬ দিনে প্রায় লক্ষাধিক টাকার খিলি পান বিক্রি করেছেন। বিভিন্ন পণ্যের দামসহ যাবতীয় খরচ বাদ দিয়ে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় হয়। পান বিক্রি করেই তিনি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছেন। মেয়েকে অনার্স-মাস্টার্স পাস করার পর বিয়ে দিয়েছেন, এবং ছেলে স্থানীয় স্কুল থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষা দেবে, জানান সিদ্দিক।
নিজে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। তাই, টাকার অভাবে যাতে ছেলে-মেয়েদের পড়াশোনা বন্ধ না হয়ে যায়, সে ব্যাপারে সবসময়ই সচেতন ছিলেন সিদ্দিক কবিরাজ। মেয়ের মতো ছেলেকেও উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার স্বপ্ন তার।