alt

জাতীয়

ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে তোলা -সংবাদ

ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্ত শেষ করে আবারও রাজধানীমুখী হয়েছে গ্রামে ছুটি কাটাতে যাওয়া মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো আনন্দের সময় যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেছে এখন জীবন ও জীবিকার তাগিদে আবার ফেরা রাজধানীর কর্মব্যস্ত রুটিনে।

শুক্রবার ভোরে সদরঘাটে দেখা গেছে লঞ্চঘাটে উপচে পড়া ভিড়। প্রতিটি লঞ্চে ছিল যাত্রীদের গাদাগাদি ভ্রমণ। একই চিত্র রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকাতেও। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক কিংবা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে রাজধানীতে ঢুকছে দূরপাল্লার গাড়িগুলো। এসব গাড়ি যাত্রী নামাচ্ছে সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, ডেমরা, জুরাইন, শনিরআখড়া, দোলাইপাড়সহ বিভিন্ন স্টপেজে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ রাজধানীতে ফিরছেন। শরিফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানান, ‘গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে পরিবার নিয়ে ঈদ করেছি। আমি একটি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। আজ শনিবার অফিস খুলছে, তাই ফিরলাম। আসতে সমস্যা হয়নি, তবে সিএনজি অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে।’

এবার ঈদে মানুষ তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। সময়মতো বাস-লঞ্চ পাওয়ায় অনাকাক্সিক্ষত ভোগান্তি কম হয়েছে। একদিকে যেমন অনেকে ঢাকায় ফিরছেন, তেমনি ঈদের লম্বা ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখনও নগর ছেড়ে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছেন। ফলে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে এখনও ঢাকার বাইরে যাওয়ার যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ছে।

পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটি শেষ না হওয়ায় ফিরতি যাত্রীর চাপ কম। তবে আজ শনিবার চাপ বাড়তে পারে। শুক্রবার এমন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে। রাজধানীতে ফেরায় চাপ কম থাকায় কোথাও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না বলেছে যাত্রীরা। ফলে ভোগান্তিহীন ফিরতি যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে রাজধানী গাবতলী ঘুরে দেখা গেছে, ছুটি চলাকালীন বিগত দিনগুলোর তুলনায় সড়কে বেড়েছে যান চলাচল। বেড়েছে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও। কিছুক্ষণ পর পর রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে আসছে ফিরতি ঈদযাত্রার দূরপাল্লার পরিবহন। তবে ফিরতি এ যাত্রায় দূরপাল্লার পরিবহনে চোখে পড়ার মতো যাত্রীর চাপ দেখা যায়নি।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ শেষ করে নাটোর থেকে রাজধানীতে ফিরেছেন অন্তু মাহবুব। তিনি বলেন, শনিবার থেকে অফিস শুরু হবে। তাই ফিরে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সড়কে কোথাও যানজট বা কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। বাড়িতে গিয়েই ফিরতি টিকেট কেটে রেখেছিলাম তাই আসার সময় টিকেট পাওয়ারও কোনো সমস্যা হয়নি। সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রায় টিকেট পেতে কোনো ভোগান্তি ছিল না।

দিনাজপুর থেকে পরিবার নিয়ে রাজধানীতে ফিরলেন জুবায়ের হোসেন। তিনি জানান, শনিবার ছুটি শেষ হবে আমার। রোববার থেকে অফিস শুরু। যেহেতু পরিবার নিয়ে ফিরতে হলো তাই ফিরে এলাম যাতে এক দিন অন্তত বিশ্রাম নিয়ে অফিস শুরু করতে পারি। তিনি বলেন, রাস্তার কোথাও তেমন কোনো ঝামেলা হয়নি। ঠিকঠাকভাবেই ফিরে আসতে পেরেছি। গাড়িতেও বিগত বছরগুলোর মতো অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ছিল না।

ফরিদপুর থেকে ঢাকায় ফিরলেন সৌরভ। তিনি বলেন, রাস্তায় কোথাও কোন ভোগান্তি ছিল না। কোন সমস্যা ছাড়াই ঢাকায় ফিরে আসতে পেরেছি। তিনি বলেন, আগে যাতায়াতের সময় ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। তবে বিগত বছরগুলোতে টিকেট পেতে যে ভোগান্তি হতো এবার সেই ভোগান্তি নেই।

শ্যামলী পরিবহনের চালকের সহকারী মো. আবির আহমেদ বলেন, যাত্রী আছে তবে খুব বেশি তা-না। টুকটাক যাত্রী আছে। আশাক রা যায় শনিবার যাত্রীর চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, বাসে মোটামুটি সব সিটেই যাত্রী ছিল। কিন্তু আগে যেমন যাত্রীর চাপে একাধিক গাড়ি ছেড়ে এসেছে এবার তেমনটা নেই। আবার গাড়িতেও অতিরিক্ত যাত্রী নেই।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঢাকা আসা দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাত্রাবাড়ী হয়ে সায়েদাবাদে এসে যাত্রী নামাচ্ছে। সব গাড়িতে আসা যাত্রীদের সাইনবোর্ড, মেডিকেল, রায়েরবাগ, শনিরআখড়া কাজলা, ডেমরা, কোনাপাড়া, জুরাইন, দোলাইপাড়সহ আশপাশের বিভিন্ন স্টপেজে নেমে যাচ্ছেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সপরিবারে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে বাস থেকে নেমেছেন শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে সপরিবারে ঈদ করতে গিয়েছিলাম। আমি একটি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কাজ করি। শনিবার থেকে আমার অফিস খুলছে। তাই চলে আসতে হলো। তিনি বলেন, ‘আসতে তেমন সমস্যা হয়নি। আমার বাসা খিলগাঁওয়ে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে।

এদিকে যারা ঢাকায় ঈদ করেছেন, তারা পরিবার ও সন্তানের সঙ্গে ছুটি উপভোগ করছেন নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, হাতিরঝিল, রবীন্দ্র সরোবরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই জমছে ভিড়। অন্যদিকে, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র কিংবা গ্রামীণ প্রকৃতির টানে পর্যটন এলাকাগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। ঈদের উৎসবের আমেজ এখনও পুরোপুরি কাটেনি, তবে জীবিকার তাগিদে রাজধানীজুড়ে শুরু হয়ে গেছে নতুন কর্মব্যস্ততা।

ছবি

ঈদের ছুটিতে দেশের পর্যটনকেন্দ্রগুলো পর্যটকে মুখর

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার কথা বললেন ইউনূস

বাংলাদেশের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে ভারত সমর্থন করে না: মোদি

লবণপানিতে পিচ্ছিল হয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা

চার বিভাগীয় শহরে হবে ‘স্বাধীনতা কনসার্ট’: সালাহউদ্দিন টুকু

দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘একসঙ্গে কাজ করতে’ বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ

মুসল্লিদের বাধায় নাটক মঞ্চায়ন বাতিলের খবর ‘বিভ্রান্তিকর’, বলছে পুলিশ

ছবি

‘শর্ত ভঙ্গের’ অভিযোগে যাত্রাপালা বন্ধ জয়পুরহাটে

ছবি

দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধান উপদেষ্টা

মানিকগঞ্জে রাস্তার পাশে পড়ে ছিল কার্টনে মোড়ানো অজ্ঞাত নারীর লাশ

যশোরে পাওনা টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বে যুবককে এসিড নিক্ষেপ, বন্ধু গ্রেপ্তার

এক খিলি পান ১৫৭৫ টাকা!

তীব্র তাপপ্রবাহের আশঙ্কা, বাড়তে পারে কালবৈশাখীর সংখ্যা

ট্রাম্পের শুল্কারোপ নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার নেতৃত্বে জরুরি বৈঠক কাল

এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে ‘প্রত্যাবাসনের যোগ্য’ বলছে মায়ানমার

ছবি

ব্যাংককে ইউনূস-মোদি বৈঠক

ভেলপুরি খেয়ে অসুস্থ দুই শতাধিক, বিক্রেতা আটক

নারী সংবাদকর্মীকে শ্লীলতাহানি ও হেনস্তা, প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার তিন

কর্ণফুলী নদীর উপর রেলসহ সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ শুরু মে মাসে

ছবি

ধলেশ্বরীতে উচ্চৈঃশব্দে গান বাজিয়ে অস্ত্রের মহড়া, কিশোর গ্যাংয়ের ১৬ সদস্য আটক

রোববার থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা, কমতে পারে তাপপ্রবাহ

ছবি

লোহাগাড়ায় ১০ জনের লাশ হস্তান্তর, যশোরে একই পরিবারের ৩ জন নিহত

ছবি

ঢাকা এখনও ফাঁকা, পথে নেই বিড়ম্বনা

ছবি

খোলপেটুয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে সাতক্ষীরায় ১০ গ্রাম প্লাবিত, ১৫ হাজার মানুষের ঈদ মাটি

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ‘কথা বলতে প্রস্তুত’ টিউলিপের আইনজীবীরা

মিরপুরে ‘৭ তলা থেকে ফেলে’ যুবককে হত্যা, গ্রেপ্তার ১

ছবি

ব্যাংককে ইউনূস-মোদি বৈঠক শুক্রবার

বিদ্যুৎ-জ্বালানি : রমজান পার, এপ্রিল এখন বড় চ্যালেঞ্জ

আলোচনায় শুল্ক জটিলতার সমাধান হবে, ‘আশাবাদী’ প্রধান উপদেষ্টা

সর্বনাশের শঙ্কা অনেকের, কেউ কেউ দেখছে পৌষ

ছবি

ট্রাম্পের নতুন ‘শুল্কযুদ্ধ’, বাংলাদেশে কী প্রভাব

ছবি

ইউনূস-মোদি বৈঠকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পনের বিষয় আলোচনা

ছবি

ব্যাংককে বৈঠক করলেন ইউনূস- মোদি

ছবি

যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার : প্রধান উপদেষ্টা

ছবি

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন অধ্যাপক ইউনূস

ছবি

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক ইস্যুতে সমাধানের আশাবাদ প্রধান উপদেষ্টার

tab

জাতীয়

ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে মানুষ

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

ঈদ শেষে রাজধানীতে ফিরছেন মানুষ। সদরঘাট টার্মিনাল থেকে তোলা -সংবাদ

শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫

ঈদুল ফিতরের আনন্দঘন মুহূর্ত শেষ করে আবারও রাজধানীমুখী হয়েছে গ্রামে ছুটি কাটাতে যাওয়া মানুষ। প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো আনন্দের সময় যেন চোখের পলকে শেষ হয়ে গেছে এখন জীবন ও জীবিকার তাগিদে আবার ফেরা রাজধানীর কর্মব্যস্ত রুটিনে।

শুক্রবার ভোরে সদরঘাটে দেখা গেছে লঞ্চঘাটে উপচে পড়া ভিড়। প্রতিটি লঞ্চে ছিল যাত্রীদের গাদাগাদি ভ্রমণ। একই চিত্র রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ যাত্রাবাড়ী ও সায়েদাবাদ এলাকাতেও। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক কিংবা ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে রাজধানীতে ঢুকছে দূরপাল্লার গাড়িগুলো। এসব গাড়ি যাত্রী নামাচ্ছে সাইনবোর্ড, রায়েরবাগ, ডেমরা, জুরাইন, শনিরআখড়া, দোলাইপাড়সহ বিভিন্ন স্টপেজে।

যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ নানা পেশার মানুষ রাজধানীতে ফিরছেন। শরিফুল ইসলাম নামে এক যাত্রী জানান, ‘গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে পরিবার নিয়ে ঈদ করেছি। আমি একটি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। আজ শনিবার অফিস খুলছে, তাই ফিরলাম। আসতে সমস্যা হয়নি, তবে সিএনজি অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে।’

এবার ঈদে মানুষ তুলনামূলক স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন অনেকে। সময়মতো বাস-লঞ্চ পাওয়ায় অনাকাক্সিক্ষত ভোগান্তি কম হয়েছে। একদিকে যেমন অনেকে ঢাকায় ফিরছেন, তেমনি ঈদের লম্বা ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অনেকেই এখনও নগর ছেড়ে ভ্রমণে বেরিয়ে পড়েছেন। ফলে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী থেকে এখনও ঢাকার বাইরে যাওয়ার যাত্রীদের ভিড় চোখে পড়ছে।

পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ছুটি শেষ না হওয়ায় ফিরতি যাত্রীর চাপ কম। তবে আজ শনিবার চাপ বাড়তে পারে। শুক্রবার এমন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে। রাজধানীতে ফেরায় চাপ কম থাকায় কোথাও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে না বলেছে যাত্রীরা। ফলে ভোগান্তিহীন ফিরতি যাত্রায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন যাত্রীরা।

সরেজমিনে রাজধানী গাবতলী ঘুরে দেখা গেছে, ছুটি চলাকালীন বিগত দিনগুলোর তুলনায় সড়কে বেড়েছে যান চলাচল। বেড়েছে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও। কিছুক্ষণ পর পর রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে আসছে ফিরতি ঈদযাত্রার দূরপাল্লার পরিবহন। তবে ফিরতি এ যাত্রায় দূরপাল্লার পরিবহনে চোখে পড়ার মতো যাত্রীর চাপ দেখা যায়নি।

পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ শেষ করে নাটোর থেকে রাজধানীতে ফিরেছেন অন্তু মাহবুব। তিনি বলেন, শনিবার থেকে অফিস শুরু হবে। তাই ফিরে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সড়কে কোথাও যানজট বা কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি। বাড়িতে গিয়েই ফিরতি টিকেট কেটে রেখেছিলাম তাই আসার সময় টিকেট পাওয়ারও কোনো সমস্যা হয়নি। সব মিলিয়ে এবারের ঈদযাত্রায় টিকেট পেতে কোনো ভোগান্তি ছিল না।

দিনাজপুর থেকে পরিবার নিয়ে রাজধানীতে ফিরলেন জুবায়ের হোসেন। তিনি জানান, শনিবার ছুটি শেষ হবে আমার। রোববার থেকে অফিস শুরু। যেহেতু পরিবার নিয়ে ফিরতে হলো তাই ফিরে এলাম যাতে এক দিন অন্তত বিশ্রাম নিয়ে অফিস শুরু করতে পারি। তিনি বলেন, রাস্তার কোথাও তেমন কোনো ঝামেলা হয়নি। ঠিকঠাকভাবেই ফিরে আসতে পেরেছি। গাড়িতেও বিগত বছরগুলোর মতো অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ছিল না।

ফরিদপুর থেকে ঢাকায় ফিরলেন সৌরভ। তিনি বলেন, রাস্তায় কোথাও কোন ভোগান্তি ছিল না। কোন সমস্যা ছাড়াই ঢাকায় ফিরে আসতে পেরেছি। তিনি বলেন, আগে যাতায়াতের সময় ফেরিঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হতো। তবে বিগত বছরগুলোতে টিকেট পেতে যে ভোগান্তি হতো এবার সেই ভোগান্তি নেই।

শ্যামলী পরিবহনের চালকের সহকারী মো. আবির আহমেদ বলেন, যাত্রী আছে তবে খুব বেশি তা-না। টুকটাক যাত্রী আছে। আশাক রা যায় শনিবার যাত্রীর চাপ বাড়বে। তিনি বলেন, বাসে মোটামুটি সব সিটেই যাত্রী ছিল। কিন্তু আগে যেমন যাত্রীর চাপে একাধিক গাড়ি ছেড়ে এসেছে এবার তেমনটা নেই। আবার গাড়িতেও অতিরিক্ত যাত্রী নেই।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ঢাকা আসা দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাত্রাবাড়ী হয়ে সায়েদাবাদে এসে যাত্রী নামাচ্ছে। সব গাড়িতে আসা যাত্রীদের সাইনবোর্ড, মেডিকেল, রায়েরবাগ, শনিরআখড়া কাজলা, ডেমরা, কোনাপাড়া, জুরাইন, দোলাইপাড়সহ আশপাশের বিভিন্ন স্টপেজে নেমে যাচ্ছেন। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সপরিবারে সায়েদাবাদ জনপথ মোড়ে বাস থেকে নেমেছেন শরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রামে বাবা-মায়ের সঙ্গে সপরিবারে ঈদ করতে গিয়েছিলাম। আমি একটি ভোগ্যপণ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের বিপণন বিভাগে কাজ করি। শনিবার থেকে আমার অফিস খুলছে। তাই চলে আসতে হলো। তিনি বলেন, ‘আসতে তেমন সমস্যা হয়নি। আমার বাসা খিলগাঁওয়ে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা অতিরিক্ত ভাড়া চাচ্ছে।

এদিকে যারা ঢাকায় ঈদ করেছেন, তারা পরিবার ও সন্তানের সঙ্গে ছুটি উপভোগ করছেন নগরীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে। চিড়িয়াখানা, শিশুপার্ক, হাতিরঝিল, রবীন্দ্র সরোবরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিনই জমছে ভিড়। অন্যদিকে, পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র কিংবা গ্রামীণ প্রকৃতির টানে পর্যটন এলাকাগুলোতেও ভিড় জমাচ্ছেন ভ্রমণপিপাসুরা। ঈদের উৎসবের আমেজ এখনও পুরোপুরি কাটেনি, তবে জীবিকার তাগিদে রাজধানীজুড়ে শুরু হয়ে গেছে নতুন কর্মব্যস্ততা।

back to top