শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা -পিআইডি
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব।’
শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের জনগণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে প্রতিটি সাধারণ মানুষ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।’
তিনি বলেন, সাধারণ জনগণ একটি নৃশংস স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষ, যাদের বেশির ভাগই তরুণ এবং ১১৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
কারণ হতে পারে রোহিঙ্গা সংকট
বিমসটেকের জন্য ৪ প্রস্তাব
সবার কল্যাণে কাজ
করার আহ্বান
থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়গুলোই আমাদের পরিকল্পিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য।’
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে রোহিঙ্গা সংকট
সম্মেলনে বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের যদি মীমাংসা না হয়, তাহলে সমগ্র অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে মায়ানমারের আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে রাখাইন রাজ্যে আসন্ন দুর্ভিক্ষের বিষয়ে ইউএনডিপির সতর্কবার্তার মধ্যে, রাখাইন থেকে আরও বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করার জন্য জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে রাখাইনে একটি মানবিক চ্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব; বিশেষ করে রাখাইনের বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে সমাধানের জন্য বিমসটেক সংলাপ চালাতে পারে।
বিমসটেকের জন্য ৪ প্রস্তাব
বিমসটেক সম্মেলনে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) জন্য চারটি প্রস্তাব রেখেছেন। যুব সমাজের শক্তিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশি তরুণরা সামনে থেকে এতটা ইচ্ছা এবং কর্মপ্রচেষ্টা দেখাচ্ছে; এমনকি শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী কিছু ধারণা সংস্কার করার জন্যও প্রস্তাব করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস কৃষিকাজ, শিক্ষা,
স্বাস্থ্য বিশেষ করে এই অঞ্চলের বিশাল ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এ-সম্পর্কিত ‘ফোর আইআর’কে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন।
সরকারপ্রধান বিমসটেক দেশগুলোকে জ্ঞানের ক্ষেত্রে জোরালো পদক্ষেপ নিতে সম্পদ তৈরি, উদ্ভাবন এবং তা উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।
সবার কল্যাণে কাজ
করার আহ্বান
সম্মেলনে বক্তৃতায় বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোকে পারস্পরিক স্বার্থ ও সবার কল্যাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাবাদের স্বপ্ন লালন করে আসছে। আমরা এমন একটি অঞ্চলের স্বপ্ন দেখি, যেখানে সব দেশ ও জনগোষ্ঠী ন্যায্যতা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ ও যৌথ কল্যাণের ভিত্তিতে সম্পৃক্ত হতে পারে।’
তিনি বলেন, বিমসটেক অঞ্চল বিশ্ব জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের আবাসস্থল, যেখানে বহু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনা হিসেবে রূপান্তর করা গেলে সব দেশের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে আমাদের জনসংখ্যাকে একটি ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বিবেচনা করে। অথচ আমাদের জনগণের মধ্যে সম্ভাবনার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।’
ইউনূস বলেন, বিমসটেক সচিবালয় যেহেতু বাংলাদেশে, এই সংস্থার ‘বিশাল সম্ভাবনাকে অর্থবহ উপায়ে কাজে লাগাতে’ বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। বিমসটেক অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং জ্বালানি দক্ষতা ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে আমাদের জনগণের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।’ ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত ‘বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন চুক্তি’ জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সূচনা পর্ব হতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বিমসটেক অঙ্গীকার অনুযায়ী কানেক্টিভিটি বাড়াতে, পারস্পরিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত যাতায়াত সহজ করাকে বিমসটেক অঞ্চলের বাসিন্দাদের ‘কল্যাণের মূল চাবিকাঠি’ হিসেবে বর্ণনা করেন ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে এ অঞ্চলের আন্তঃবাণিজ্য মাত্র ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন খাতের নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৪ সালে স্বাক্ষরিত ‘বিমসটেক এফটিএ চুক্তি’ বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কানেক্টিভিটি বাড়াতে অবদান রাখবে।
থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মোদিকে ছবি উপহার ইউনূসের
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এক দশক আগের স্মৃতিময় এক ছবি তাকে উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ২০১৫ সালের ওই আলোকচিত্র মোদিকে উপহার দেন ইউনূস।
২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে ১০২তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসকে স্বর্ণপদক পরিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ছবিই দশ বছর পর মোদিকে উপহার দিলেন বাংলাদেশের আজকের সরকারপ্রধান ইউনূস।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
এছাড়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
এর আগে থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ভারাওয়াত সিল্পা-আর্চা এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই শুক্রবার অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
শুক্রবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টা -পিআইডি
শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫
প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা তার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের জনগণকে আশ্বস্ত করেছি যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন হলে আমাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব অনুযায়ী আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন করব।’
শুক্রবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর আঞ্চলিক সহযোগিতা জোটের (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে দেয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের জনগণ একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, ন্যায়সঙ্গত ও স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল যেখানে প্রতিটি সাধারণ মানুষ তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারে।’
তিনি বলেন, সাধারণ জনগণ একটি নৃশংস স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। কিন্তু স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে প্রায় ২ হাজার নিরীহ মানুষ, যাদের বেশির ভাগই তরুণ এবং ১১৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
কারণ হতে পারে রোহিঙ্গা সংকট
বিমসটেকের জন্য ৪ প্রস্তাব
সবার কল্যাণে কাজ
করার আহ্বান
থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমরা সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই বিষয়গুলোই আমাদের পরিকল্পিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য।’
আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার কারণ হতে পারে রোহিঙ্গা সংকট
সম্মেলনে বক্তৃতায় রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটের যদি মীমাংসা না হয়, তাহলে সমগ্র অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে।
মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে স্থায়ী প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরিতে মায়ানমারের আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘রাখাইন রাজ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে রাখাইন রাজ্যে আসন্ন দুর্ভিক্ষের বিষয়ে ইউএনডিপির সতর্কবার্তার মধ্যে, রাখাইন থেকে আরও বাস্তুচ্যুতি বন্ধ করার জন্য জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে রাখাইনে একটি মানবিক চ্যানেল স্থাপন করা যেতে পারে।’
তিনি বলেন, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব; বিশেষ করে রাখাইনের বিরোধপূর্ণ পক্ষগুলোর মধ্যে সমাধানের জন্য বিমসটেক সংলাপ চালাতে পারে।
বিমসটেকের জন্য ৪ প্রস্তাব
বিমসটেক সম্মেলনে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশনের (বিমসটেক) জন্য চারটি প্রস্তাব রেখেছেন। যুব সমাজের শক্তিকে কাজে লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেছেন, বাংলাদেশি তরুণরা সামনে থেকে এতটা ইচ্ছা এবং কর্মপ্রচেষ্টা দেখাচ্ছে; এমনকি শাসনব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী কিছু ধারণা সংস্কার করার জন্যও প্রস্তাব করেছে।
অধ্যাপক ইউনূস কৃষিকাজ, শিক্ষা,
স্বাস্থ্য বিশেষ করে এই অঞ্চলের বিশাল ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং এ-সম্পর্কিত ‘ফোর আইআর’কে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন।
সরকারপ্রধান বিমসটেক দেশগুলোকে জ্ঞানের ক্ষেত্রে জোরালো পদক্ষেপ নিতে সম্পদ তৈরি, উদ্ভাবন এবং তা উন্মুক্ত করার সুপারিশ করেছেন।
সবার কল্যাণে কাজ
করার আহ্বান
সম্মেলনে বক্তৃতায় বিমসটেকের সদস্য দেশগুলোকে পারস্পরিক স্বার্থ ও সবার কল্যাণে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত আঞ্চলিকতাবাদের স্বপ্ন লালন করে আসছে। আমরা এমন একটি অঞ্চলের স্বপ্ন দেখি, যেখানে সব দেশ ও জনগোষ্ঠী ন্যায্যতা, পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক স্বার্থ ও যৌথ কল্যাণের ভিত্তিতে সম্পৃক্ত হতে পারে।’
তিনি বলেন, বিমসটেক অঞ্চল বিশ্ব জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশের আবাসস্থল, যেখানে বহু চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। এই চ্যালেঞ্জগুলোকে সম্ভাবনা হিসেবে রূপান্তর করা গেলে সব দেশের জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অনেকে আমাদের জনসংখ্যাকে একটি ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে বিবেচনা করে। অথচ আমাদের জনগণের মধ্যে সম্ভাবনার অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে।’
ইউনূস বলেন, বিমসটেক সচিবালয় যেহেতু বাংলাদেশে, এই সংস্থার ‘বিশাল সম্ভাবনাকে অর্থবহ উপায়ে কাজে লাগাতে’ বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। বিমসটেক অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘আমাদের যৌথভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং জ্বালানি দক্ষতা ব্যবহারে এগিয়ে আসতে হবে, যাতে আমাদের জনগণের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায়।’ ২০১৮ সালে স্বাক্ষরিত ‘বিমসটেক গ্রিড ইন্টারকানেকশন চুক্তি’ জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সূচনা পর্ব হতে পারে বলেও মত প্রকাশ করেন ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বিমসটেক অঙ্গীকার অনুযায়ী কানেক্টিভিটি বাড়াতে, পারস্পরিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রসারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের প্রসার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত যাতায়াত সহজ করাকে বিমসটেক অঞ্চলের বাসিন্দাদের ‘কল্যাণের মূল চাবিকাঠি’ হিসেবে বর্ণনা করেন ইউনূস।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমানে এ অঞ্চলের আন্তঃবাণিজ্য মাত্র ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন খাতের নেতৃত্বদানকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৪ সালে স্বাক্ষরিত ‘বিমসটেক এফটিএ চুক্তি’ বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে আহ্বান জানিয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কানেক্টিভিটি বাড়াতে অবদান রাখবে।
থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠক
এদিকে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস শুক্রবার বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে থাই বিশিষ্টজনদের সঙ্গে প্রাতঃরাশ বৈঠক করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মোদিকে ছবি উপহার ইউনূসের
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রথম বৈঠকে এক দশক আগের স্মৃতিময় এক ছবি তাকে উপহার দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
শুক্রবার দুপুরে ব্যাংককের সাংরিলা হোটেলে ষষ্ঠ বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই প্রতিবেশী দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে ২০১৫ সালের ওই আলোকচিত্র মোদিকে উপহার দেন ইউনূস।
২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি মুম্বাইয়ে ১০২তম ভারতীয় বিজ্ঞান কংগ্রেসে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইউনূসকে স্বর্ণপদক পরিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই ছবিই দশ বছর পর মোদিকে উপহার দিলেন বাংলাদেশের আজকের সরকারপ্রধান ইউনূস।
ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক
বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
এছাড়া থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গেও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন।
এর আগে থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ভারাওয়াত সিল্পা-আর্চা এবং প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই শুক্রবার অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।