ছবি: প্রনব রায়
নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীদের দুই দিনব্যাপী মহাষ্টমী স্নানোৎসব। ব্রহ্মপূত্র নদে স্নানের মাধ্যমে পাপ মোচনের আশায় ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও ভুটানসহ দেশের স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা এসেছেন স্নানোৎসবে। তিথি অনুযায়ী শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২ টা ৮ মিনিট থেকে শুরু হয়ে অষ্টমী তিথির লগ্ন ও পূণ্য স্নান শেষ হবে শনিবার রাত ১২ টা ৫১ মিনিটে। স্নানোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
ব্রহ্মপুত্র নদের লাঙ্গলবন্দ এলাকার বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, স্নানের লগ্ন শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষসহ পুণ্যার্থীরা ডাব, দুর্বা, বেলপাতা, ফুল ও ফলমূলসহ পূজার বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে পুণ্যস্নানে নামছেন। এসময় প্রতি ঘাটে বসে থাকা পুরোহিতদের কাছে ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’- এই মন্ত্র উচ্চারণ করে পাপ মোচনের আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করছেন পূণ্যার্থীরা। স্নান করতে আসা পূণ্যার্থী স্মৃতি, সুরেশ, দিলীপ, মনা বাবু, কাকলী, কাজলী, মায়া রানী, অঞ্জনা, গীতা রানীসহ অনেকে জানান, ত্রেতা যুগে বিষ্ণুর অবতার পরশুরাম মুনি তার পিতার আদেশ পালনে হাতে থাকা কুঠার দিয়ে মাকে হত্যা করলে তার হাতে আটকে যায় কুঠারটি। পরবর্তিতে ভগবান শিবের তপস্যা করে হাতে লেগে থাকা কুঠার নিয়ে কৈলাস থেকে উৎপত্তি হওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ধরে তীর্থ যাত্রা করে লাঙ্গলবন্দ আসেন। এখানে বিশ্রাম নেয়ার এক পর্যায় কুঠারটি হাত থেকে মুক্ত হয়। পরে এখানেই ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করেন তিনি। সেই থেকে এই স্নানের নাম হয় পুণ্যস্নান। তারই ধারাবাহিকতায় পাপ মোচনের লক্ষ্য নিয়ে লাঙ্গলবন্দে পূণ্যস্নানে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। লাঙ্গলবন্দ মহাষ্টমী স্নান উদযাপন কমিটির সদস্য সুরেষ কুমার সাহা জানান, স্নান ঘাটগুলো পুণ্যার্থীদের জন্য সংস্কার করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের স্নান ঘাট গুলোর মধ্যে রয়েছে, ললিত সাধুর ঘাট, গৌর বিষ্ণুপ্রিয়া স্নানঘাট, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি স্নানঘাট, অন্নপূর্ণা স্নানঘাট, লাঙ্গলবন্দ রাজঘাট, মাকরী সাধুর শান্তি আশ্রম স্নানঘাট, গান্ধী ঘাট বা মহাশ্মশান স্নানঘাট, বরদেশ্বরী কালী ও শিব মন্দির স্নানঘাট, জয়কালী মন্দির স্নানঘাট, রক্ষা কালীমন্দির স্নানঘাট, পাষান কালীমন্দির স্নানঘাট, স্বামী দ্বিগিজয় ব্রক্ষচারী আশ্রম প্রেমতলা, শ্রী রামপুর জগদ্বন্ধু স্নান ঘাট (ব্রক্ষা মন্দির), দক্ষিণেশ্বরী কালী মন্দির স্নানঘাট,পরেশ মাহাত্মা আশ্রম স্নানঘাট, সাব্দী রক্ষা কালীমন্দির স্নানঘাট, সাব্দী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম স্নান ঘাট, পঞ্চপান্ডব স্নানঘাট (কালীগঞ্জ ঘাট) ও শ্রী প্রভুপাদ স্নানঘাট।
বিশুদ্ধ খাবারের জল সরবরাহের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক নলকূপ। কাপড় পরিবর্তন কক্ষ করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক। ১৬০টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করেছে জেলা প্রশাসন। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও অস্থায়ী হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও দর্শনার্থীদের সেবা নিশ্চিতে বেসরকারিভাবে শতাধিক সেবাক্যাম্প ও হাজারের উপরে স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থকে ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্নান উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা পোশাকেও তৎপর রয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সকল কিছু মনিটরিং করা হচ্ছে।
ছবি: প্রনব রায়
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে সেনা বাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রায় দেড় হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং আনসার সদস্য। পুরো এলাকাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বসানো হয়েছে মনিটরিং সেল। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত করতে মহাসড়ক ও সড়কে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে স্নানোৎসব পরিদর্শনে আসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী৷ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ স্থানীয় প্রশানসিক কর্মকর্তাদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কয়েকটি ঘাট পরিদর্শন করেন এবং পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন৷
স্নানোৎসবকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশের মতো এতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর কোথাও নেই।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সব সময় আছে। এখানে যত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে, তা আর কোথাও নেই। এখানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্ট্রান সবাই এক সঙ্গে আছে এবং এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মত এতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর কোথাও নেই।”
দেশের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা বিঘ্নিত করতে ‘উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ বিরুদ্ধে দেশীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান জাহাঙ্গীর৷
শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫
ছবি: প্রনব রায়
নারায়ণগঞ্জের লাঙ্গলবন্দে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বী পূণ্যার্থীদের দুই দিনব্যাপী মহাষ্টমী স্নানোৎসব। ব্রহ্মপূত্র নদে স্নানের মাধ্যমে পাপ মোচনের আশায় ভারত, নেপাল, শ্রীলংকা ও ভুটানসহ দেশের স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা এসেছেন স্নানোৎসবে। তিথি অনুযায়ী শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২ টা ৮ মিনিট থেকে শুরু হয়ে অষ্টমী তিথির লগ্ন ও পূণ্য স্নান শেষ হবে শনিবার রাত ১২ টা ৫১ মিনিটে। স্নানোৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পাদন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
ব্রহ্মপুত্র নদের লাঙ্গলবন্দ এলাকার বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, স্নানের লগ্ন শুরু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষসহ পুণ্যার্থীরা ডাব, দুর্বা, বেলপাতা, ফুল ও ফলমূলসহ পূজার বিভিন্ন সামগ্রী নিয়ে পুণ্যস্নানে নামছেন। এসময় প্রতি ঘাটে বসে থাকা পুরোহিতদের কাছে ‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’- এই মন্ত্র উচ্চারণ করে পাপ মোচনের আশায় ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করছেন পূণ্যার্থীরা। স্নান করতে আসা পূণ্যার্থী স্মৃতি, সুরেশ, দিলীপ, মনা বাবু, কাকলী, কাজলী, মায়া রানী, অঞ্জনা, গীতা রানীসহ অনেকে জানান, ত্রেতা যুগে বিষ্ণুর অবতার পরশুরাম মুনি তার পিতার আদেশ পালনে হাতে থাকা কুঠার দিয়ে মাকে হত্যা করলে তার হাতে আটকে যায় কুঠারটি। পরবর্তিতে ভগবান শিবের তপস্যা করে হাতে লেগে থাকা কুঠার নিয়ে কৈলাস থেকে উৎপত্তি হওয়া ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ধরে তীর্থ যাত্রা করে লাঙ্গলবন্দ আসেন। এখানে বিশ্রাম নেয়ার এক পর্যায় কুঠারটি হাত থেকে মুক্ত হয়। পরে এখানেই ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করেন তিনি। সেই থেকে এই স্নানের নাম হয় পুণ্যস্নান। তারই ধারাবাহিকতায় পাপ মোচনের লক্ষ্য নিয়ে লাঙ্গলবন্দে পূণ্যস্নানে আসেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। লাঙ্গলবন্দ মহাষ্টমী স্নান উদযাপন কমিটির সদস্য সুরেষ কুমার সাহা জানান, স্নান ঘাটগুলো পুণ্যার্থীদের জন্য সংস্কার করা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের স্নান ঘাট গুলোর মধ্যে রয়েছে, ললিত সাধুর ঘাট, গৌর বিষ্ণুপ্রিয়া স্নানঘাট, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি স্নানঘাট, অন্নপূর্ণা স্নানঘাট, লাঙ্গলবন্দ রাজঘাট, মাকরী সাধুর শান্তি আশ্রম স্নানঘাট, গান্ধী ঘাট বা মহাশ্মশান স্নানঘাট, বরদেশ্বরী কালী ও শিব মন্দির স্নানঘাট, জয়কালী মন্দির স্নানঘাট, রক্ষা কালীমন্দির স্নানঘাট, পাষান কালীমন্দির স্নানঘাট, স্বামী দ্বিগিজয় ব্রক্ষচারী আশ্রম প্রেমতলা, শ্রী রামপুর জগদ্বন্ধু স্নান ঘাট (ব্রক্ষা মন্দির), দক্ষিণেশ্বরী কালী মন্দির স্নানঘাট,পরেশ মাহাত্মা আশ্রম স্নানঘাট, সাব্দী রক্ষা কালীমন্দির স্নানঘাট, সাব্দী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম স্নান ঘাট, পঞ্চপান্ডব স্নানঘাট (কালীগঞ্জ ঘাট) ও শ্রী প্রভুপাদ স্নানঘাট।
বিশুদ্ধ খাবারের জল সরবরাহের জন্য রয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক নলকূপ। কাপড় পরিবর্তন কক্ষ করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক। ১৬০টি অস্থায়ী টয়লেট নির্মাণ করেছে জেলা প্রশাসন। চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস, মেডিকেল টিম ও অস্থায়ী হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও দর্শনার্থীদের সেবা নিশ্চিতে বেসরকারিভাবে শতাধিক সেবাক্যাম্প ও হাজারের উপরে স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থকে ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
বন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, স্নান উৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা পোশাকেও তৎপর রয়েছে। কন্ট্রোল রুম থেকে সকল কিছু মনিটরিং করা হচ্ছে।
ছবি: প্রনব রায়
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার জানান, স্নান উৎসবকে কেন্দ্র করে সেনা বাহিনী, পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রায় দেড় হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও রয়েছে হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ এবং আনসার সদস্য। পুরো এলাকাজুড়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরা। রয়েছে ওয়াচ টাওয়ার। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বসানো হয়েছে মনিটরিং সেল। পুণ্যার্থীদের যাতায়াত করতে মহাসড়ক ও সড়কে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে স্নানোৎসব পরিদর্শনে আসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী৷ জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলা পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদারসহ স্থানীয় প্রশানসিক কর্মকর্তাদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কয়েকটি ঘাট পরিদর্শন করেন এবং পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন৷
স্নানোৎসবকে ঘিরে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশের মতো এতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর কোথাও নেই।
তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সব সময় আছে। এখানে যত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আছে, তা আর কোথাও নেই। এখানে হিন্দু-মুসলমান-বৌদ্ধ-খ্রিষ্ট্রান সবাই এক সঙ্গে আছে এবং এক সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মত এতো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আর কোথাও নেই।”
দেশের নিরাপত্তা-ব্যবস্থা বিঘ্নিত করতে ‘উদ্দেশ্যমূলক মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ বিরুদ্ধে দেশীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান জাহাঙ্গীর৷