গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ নিবৃত্ত করতে তৎপর পুলিশ -সংবাদ
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার(১৬-০৭-২০২৫) গোপালগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা, হামলা, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার থেকেই এনসিপির কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চলছিল এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছিল। বুধবার সকালে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কের উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে সহিংসতার সূচনা হয়। পরে কংশুর এলাকায় ইউএনওর গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
বেলা পৌনে ২টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশে ২০০-৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। ওই সময় মঞ্চের পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা আদালত চত্বরে আশ্রয় নেন এবং এনসিপির নেতাকর্মীরাও দ্রুত সরে যান। হামলাকারীরা মঞ্চ ভাঙচুর করে, চেয়ার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।
হামলার পর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা সরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পৌর পার্কে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর সমাবেশ আবার শুরু হয়।
গোপালগঞ্জের পদযাত্রা ও সমাবেশে ‘মুজিববাদীরা’ বাধা দিয়েছে, তার জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের পর গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
এ সময় তিনি বলেন, “‘মুজিববাদীরা’ আজকে বাধা দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা বলেছিলাম, বাধা দিলে বাধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে এবং সেই লড়াইয়ে আমরা জিতেছিলাম। আজকে আমাদের বাধা দেয়া হয়েছে। অচিরেই আমরা এর জবাব দেব ইনশাআল্লাহ।” নাহিদ বলেন,
“যারা গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। এই গোপালগঞ্জ যেন আর ‘মুজিববাদী’দের কেন্দ্র হয়ে উঠতে না পারে। যদি পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, নিজেদের জেলার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব, বাংলাদেশকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের নিতে হবে। যেমন আমরা গণঅভ্যুত্থানে নিয়েছিলাম।”
তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই, গোপালগঞ্জ নামের কারণে ভবিষ্যতের চাকরি ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো স্থানে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। কিন্তু গোপালগঞ্জে সন্ত্রাসীদের আস্তানা হতে আমরা দেব না।’
“মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে ‘মুজিববাদীরা’, গোপালগঞ্জকেও কলুষিত করেছে। সেই গোপালগঞ্জকে আমরা উদ্ধার করব এবং সমুন্নত করব। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেক সম্পদ আওয়ামী দখল করেছে। তাদের সঙ্গে বেইনসাফ করেছে। আমরা নতুন বাংলাদেশে সব ধর্মের অধিকার রক্ষা করব।”
এনসিপি নেতা বলেন, “আজকে ‘মুজিববাদীরা’ বাধা দিয়েছে, তাদের জবাব দেয়া হবে। আমরা ঘোষণা দিলে সারা বাংলাদেশ এই গোপালগঞ্জে এসে জড়ো হবে। কিন্তু আমরা সময় দিয়ে যাচ্ছি। আজকে যে হামলা হলো, কোন সাহসে বাধা দেয়া হয়েছে, কোন সাহসে ‘মুজিববাদীরা’ গোপালগঞ্জে এখনও আশ্রিত হয়ে আছে, কারা আশ্রয় দিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি এর সামধান না হয় তাহলে আমরা আবারও আসব গোপালগঞ্জে। আমরা নিজ হাতে দায়িত্ব নিয়ে গোপালগঞ্জকে ‘মুজিবাদী’দের হাত থেকে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ।
“‘মুজিববাদী’দের কবর রচনা করে, বাহাত্তরের সংবিধানের কবর রচনা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব এটা আমাদের আপনাদের কাছে ওয়াদা।”
বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা রওনা হলে লঞ্চঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এ সময় চারদিক থেকে নেতাকর্মীদের ঘিরে ফেলে একদল লাঠিসোঁটাধারী ব্যক্তি। পুলিশের গাড়িও আটকে দেয়া হয়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এনসিপির নেতাকর্মীরা গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং আশ্রয় নেন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। এ সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিকেল চারটার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলার খবরও পাওয়া যায়।
বিকেলে অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, “এনসিপির নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জ এসপি অফিসে আটকা ছিলেন। পরে সোয়া ৫টার দিকে ‘ক্লিয়ার’ হলে তারা চলে যান।”
এ সময় তিনি আরও জানান, একজনের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে তবে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আখতার হোসেন ও আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ নেতারা সেনা সদস্যদের সহায়তায় সাঁজোয়া যানে উঠে এসপি কার্যালয় ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, এনসিপির সমাবেশ শেষে রওনা হয়ে মাত্র ২শ’ মিটার দূরে লঞ্চঘাট এলাকায় একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে নেতাকর্মীদের ঘিরে হামলা চালান। তারা চারদিক থেকে এনসিপির নেতাকর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এনসিপির নেতাকর্মীরা গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এনসিপির নেতারা আশ্রয় নেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলির শব্দে গোটা গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। হাতবোমা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের বিকট শব্দ আর ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার মধ্যে আতঙ্কে শহরের অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে পড়ে। চলতে থাকে যৌথ বাহিনীর অ্যাকশন। এক পর্যায়ে যৌথ বাহিনী পিছু হটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশস্থলের চেয়ারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম রাস্তায় এনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলে প্রচুর গোলাগুলি হয়েছে। সমাবেশ এলাকাসহ শহরের মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেয়া হয়। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করেন। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের পিছু হটানোর চেষ্টা করে। শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
হামলার ঘটনার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের (এনসিপি) বলা হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তারা সমাবেশস্থলে এসে দেখেন পরিস্থিতি ঠিক নেই।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থানের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, ‘এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হয়ে পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। পরে জানতে পেরেছেন এটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়।’
হামলা ও সহিংসতার পর গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জেলায় ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রন্টি পোদ্দার।
১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করেছে দলটি। বুধবার দলের ভেরিফায়েড ফেইসবুকে এই কর্মসূচিকে ‘১৬ জুলাই: মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।
গোপালগঞ্জে সংঘর্ষ নিবৃত্ত করতে তৎপর পুলিশ -সংবাদ
বুধবার, ১৬ জুলাই ২০২৫
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঘোষিত ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার(১৬-০৭-২০২৫) গোপালগঞ্জে আয়োজিত সমাবেশ ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা, হামলা, সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলাজুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
গতকাল মঙ্গলবার থেকেই এনসিপির কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা চলছিল এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছিল। বুধবার সকালে গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক সড়কের উলপুর এলাকায় পুলিশের একটি গাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের মধ্য দিয়ে সহিংসতার সূচনা হয়। পরে কংশুর এলাকায় ইউএনওর গাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে।
বেলা পৌনে ২টার দিকে গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে এনসিপির সমাবেশে ২০০-৩০০ লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। ওই সময় মঞ্চের পাশে থাকা পুলিশ সদস্যরা আদালত চত্বরে আশ্রয় নেন এবং এনসিপির নেতাকর্মীরাও দ্রুত সরে যান। হামলাকারীরা মঞ্চ ভাঙচুর করে, চেয়ার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে।
হামলার পর পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা সরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর বেলা ২টা ৫ মিনিটে পৌর পার্কে পৌঁছান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর সমাবেশ আবার শুরু হয়।
গোপালগঞ্জের পদযাত্রা ও সমাবেশে ‘মুজিববাদীরা’ বাধা দিয়েছে, তার জবাব দেয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের পর গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্ক এলাকায় সমাবেশ মঞ্চে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
এ সময় তিনি বলেন, “‘মুজিববাদীরা’ আজকে বাধা দিয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা বলেছিলাম, বাধা দিলে বাধবে লড়াই, সেই লড়াইয়ে জিততে হবে এবং সেই লড়াইয়ে আমরা জিতেছিলাম। আজকে আমাদের বাধা দেয়া হয়েছে। অচিরেই আমরা এর জবাব দেব ইনশাআল্লাহ।” নাহিদ বলেন,
“যারা গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে, নতুন বাংলাদেশের পক্ষে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। এই গোপালগঞ্জ যেন আর ‘মুজিববাদী’দের কেন্দ্র হয়ে উঠতে না পারে। যদি পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, নিজেদের জেলার মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব, বাংলাদেশকে রক্ষার দায়িত্ব আমাদের নিজেদের নিতে হবে। যেমন আমরা গণঅভ্যুত্থানে নিয়েছিলাম।”
তিনি বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত করতে চাই, গোপালগঞ্জ নামের কারণে ভবিষ্যতের চাকরি ক্ষেত্রে বা অন্য কোনো স্থানে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। কিন্তু গোপালগঞ্জে সন্ত্রাসীদের আস্তানা হতে আমরা দেব না।’
“মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে ‘মুজিববাদীরা’, গোপালগঞ্জকেও কলুষিত করেছে। সেই গোপালগঞ্জকে আমরা উদ্ধার করব এবং সমুন্নত করব। এখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেক সম্পদ আওয়ামী দখল করেছে। তাদের সঙ্গে বেইনসাফ করেছে। আমরা নতুন বাংলাদেশে সব ধর্মের অধিকার রক্ষা করব।”
এনসিপি নেতা বলেন, “আজকে ‘মুজিববাদীরা’ বাধা দিয়েছে, তাদের জবাব দেয়া হবে। আমরা ঘোষণা দিলে সারা বাংলাদেশ এই গোপালগঞ্জে এসে জড়ো হবে। কিন্তু আমরা সময় দিয়ে যাচ্ছি। আজকে যে হামলা হলো, কোন সাহসে বাধা দেয়া হয়েছে, কোন সাহসে ‘মুজিববাদীরা’ গোপালগঞ্জে এখনও আশ্রিত হয়ে আছে, কারা আশ্রয় দিয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে যদি এর সামধান না হয় তাহলে আমরা আবারও আসব গোপালগঞ্জে। আমরা নিজ হাতে দায়িত্ব নিয়ে গোপালগঞ্জকে ‘মুজিবাদী’দের হাত থেকে মুক্ত করব ইনশাআল্লাহ।
“‘মুজিববাদী’দের কবর রচনা করে, বাহাত্তরের সংবিধানের কবর রচনা করে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলব এটা আমাদের আপনাদের কাছে ওয়াদা।”
বিকেল পৌনে ৩টার দিকে সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীরা রওনা হলে লঞ্চঘাট এলাকায় গোপালগঞ্জ সরকারি কলেজের সামনে ফের তাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এ সময় চারদিক থেকে নেতাকর্মীদের ঘিরে ফেলে একদল লাঠিসোঁটাধারী ব্যক্তি। পুলিশের গাড়িও আটকে দেয়া হয়।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এনসিপির নেতাকর্মীরা গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং আশ্রয় নেন জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। এ সময় শহরের বিভিন্ন এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। বিকেল চারটার দিকে গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে হামলার খবরও পাওয়া যায়।
বিকেলে অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম জানান, “এনসিপির নেতাকর্মীরা গোপালগঞ্জ এসপি অফিসে আটকা ছিলেন। পরে সোয়া ৫টার দিকে ‘ক্লিয়ার’ হলে তারা চলে যান।”
এ সময় তিনি আরও জানান, একজনের মৃত্যুর খবর বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে তবে সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
একাধিক ভিডিওতে দেখা যায়, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, আখতার হোসেন ও আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ নেতারা সেনা সদস্যদের সহায়তায় সাঁজোয়া যানে উঠে এসপি কার্যালয় ত্যাগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, এনসিপির সমাবেশ শেষে রওনা হয়ে মাত্র ২শ’ মিটার দূরে লঞ্চঘাট এলাকায় একদল লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে নেতাকর্মীদের ঘিরে হামলা চালান। তারা চারদিক থেকে এনসিপির নেতাকর্মী ও পুলিশের গাড়ি আটকে দেয়। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সাউন্ড গ্রেনেড ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এনসিপির নেতাকর্মীরা গাড়ি ঘুরিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এনসিপির নেতারা আশ্রয় নেন পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে। দফায় দফায় হামলা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও গুলির শব্দে গোটা গোপালগঞ্জ শহর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। হাতবোমা, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের বিকট শব্দ আর ধাওয়া পাল্টাধাওয়ার মধ্যে আতঙ্কে শহরের অধিকাংশ এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। মানুষের চলাচলও সীমিত হয়ে পড়ে। চলতে থাকে যৌথ বাহিনীর অ্যাকশন। এক পর্যায়ে যৌথ বাহিনী পিছু হটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশস্থলের চেয়ারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম রাস্তায় এনে পুড়িয়ে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলে প্রচুর গোলাগুলি হয়েছে। সমাবেশ এলাকাসহ শহরের মূল সড়কের বিভিন্ন স্থানে আগুন দেয়া হয়। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়। তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট নিক্ষেপ করেন। পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে তাদের পিছু হটানোর চেষ্টা করে। শহরে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
হামলার ঘটনার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন। এ সময় পুলিশ-সেনাবাহিনী নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। তাদের (এনসিপি) বলা হয়েছিল, সবকিছু ঠিক আছে। কিন্তু তারা সমাবেশস্থলে এসে দেখেন পরিস্থিতি ঠিক নেই।
পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে অবস্থানের বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আলাউদ্দিন মোহাম্মদ বলেন, ‘এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকার হয়ে পাশের একটি ভবনে আশ্রয় নিয়েছেন। পরে জানতে পেরেছেন এটি জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়।’
হামলা ও সহিংসতার পর গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান জেলায় ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রন্টি পোদ্দার।
১ জুলাই থেকে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করছে এনসিপি। এর মধ্যে দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় এই কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ গোপালগঞ্জে পদযাত্রা করেছে দলটি। বুধবার দলের ভেরিফায়েড ফেইসবুকে এই কর্মসূচিকে ‘১৬ জুলাই: মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়।