alt

জাতীয়

হাসিনা-মোদি ভার্চুয়াল বৈঠক

পারস্পরিক নির্ভরতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক : বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ-ভারত ‘অকৃত্রিম বন্ধু’। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও দৃঢ় করার এবং পারস্পরিক নির্ভরতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারা বলেন, এই সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশই নিজ নিজ অর্থনীতিকে সংহত, বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। দুই দেশেই প্রতিবেশী নীতির ক্ষেত্রে এক নম্বর স্তম্ভ। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে এই আহ্বান জানান।

দ্বিপক্ষীয় ভার্চুয়াল এই সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নয়াদিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বৈঠকে অংশ নেন। সম্মেলনের মাধ্যমে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতায় সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ এবং ভারত। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা সম্পর্কিত এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে এসব চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে স্ব স্ব বিভাগের প্রধান কর্মকর্তাগণ এবং ভারতের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী চুক্তিগুলোতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সিইও ফোরাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হাইড্রোকার্বন বিষয়ে সহযোগিতা, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতা, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল জাদুঘর ও ভারতের জাতীয় জাদুঘরের মধ্যে সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও বরিশালের স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সামিটে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত থেকে পশ্চিমঙ্গের হলদিবাড়ি পর্যন্ত রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করা হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্ত এবং ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশনে’র উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইদেশের অর্থনীতিকে আরও সংহত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশ বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশ বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐকমত্যের সুযোগ নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আরও সংহত করে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতাকে আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৪৯ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উৎযাপন করছি। মাত্র কয়েক মাস আগে, আপনাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী আমরা উদযাপন শেষ করেছি। বাংলাদেশে আমরা বাপুজির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাক টিকিট অবমুক্ত করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদযাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এ সময় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার এবং জনগণের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে নিজের জন্য সম্মানের বিষয় বলে অভিহিত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমি আমার শুভেচ্ছা জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বছর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন আমার জন্য একটি সম্মানের বিষয়। বাংলাদেশের বিজয় দিবসের একদিন পরে এই বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের জন্য গর্বের যে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় আমি আপনার সঙ্গে একসঙ্গে উদযাপন করছি।

দুই দেশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি জাতীয় ওয়ার মেমোরিয়াল পরিদর্শন করি এবং একটি বিজয় মশাল প্রজ্বলন করি। এই মশাল সারা ভারতে ঘোরানো হবে এবং ভারতীয় শহীদদের গ্রামে নেয়া হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতে একাধিক কর্মসূচি পালিত হবে। বঙ্গবন্ধুর বার্তা চিরজীবী। এটি আমার জন্য সম্মানের যে আমি আপনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ওপর ডাক টিকিট অবমুক্ত এবং বাপু-বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল এক্সিবিশন উদ্বোধন করছি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মানুষ আনন্দ, মুক্তি এবং উদযাপনের চেতনায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিনটিকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জন্য একটি বিশেষ দিন। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অধীনে তখনও আমার মা, ছোট বোন রেহানা, রাসেল এবং ছোট্ট ৪ মাসের শিশুপুত্র জয়সহ আমরা বন্দী ছিলাম। ভারতের কর্নেল অশোক তারা (তৎকালীন মেজর) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বন্দীদশা থেকে আমাদের মুক্ত করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্ত হলেও আমরা মুক্ত হয়েছিলাম ১৭ ডিসেম্বর। আজকেই সেই দিনটি।’

বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী নীতির প্রথম পিলার উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী ও দৃঢ় করার বিষয়টি আমার ক্ষমতা গ্রহণের প্রথমদিন থেকে অগ্রাধিকার। চলমান এই বছরটি মহামারীর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, তবে এরমধ্যেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভালো সহযোগিতা ছিল এবং ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আছে। সার্ক কাঠামোতে দুই দেশ কাজ করছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমাদের অংশীদারিত্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্থল সীমান্ত বাণিজ্যে সমস্যা কমাতে পেরেছি, কানেকটিভিটি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন নতুন জিনিস যোগ হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে আমরা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দেই। বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং তারা নিজ দেশ ভারতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারীকে ভারত গ্রহণ করে। প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এই বিষয়ে অনুঘটক। একটি বড় উদাহরণ হলো চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র স্মরণে আমরা বিশ্বব্যাপী বাছাই করা কিছু শহরে আগামী বছরজুড়ে যৌথ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২১ সালের ২৬-এ মার্চ ঢাকায় আপনার উপস্থিতি আমাদের যৌথ উদযাপনের গৌরবময় স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখবে।

চলতি বছরের মার্চে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। তবে করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে মূল আয়োজন বাতিল হওয়ায় তার আর আসা হয়নি। আগামী বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সংকটের এই সময়ে স্বাস্থ্য, কোভিড-১৯, টিকার মতো বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্ব মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন এবং মানবজাতি কীভাবে এই অজানা শত্রুর মোকাবিলা করে তার পরীক্ষার মুখোমুখি। সম্ভবত কোভিড-১৯ মহামারীর সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। এ বছরের গোড়ার দিকে ঢাকায় আপনাকে স্বাগত জানানোর ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছে। তবুও, আমাদের গত শীর্ষ সম্মেলনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ক্রান্তিকালীন সময়ে উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে- তা প্রশংসাযোগ্য।

ভারতকে বাংলাদেশের ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ আখ্যায়িত করে ২০১৯ সালের অক্টোবরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করে তার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এ বছর মহামারীর মধ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বছর জুড়ে রেলরুট দিয়ে বাণিজ্য, উচ্চ-পর্যায়ের পরিদর্শন ও সভা, সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতীয় পণ্যসামগ্রীর প্রথম পরীক্ষামূলক চালান প্রেরণ এবং অবশ্যই, কোভিড-১৯ বিষয়ে সহযোগিতার ন্যায় বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি।

বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ও জনবহুল অঞ্চলে ভারত সরকার যেভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করেছে, সেজন্য নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রশংসা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজগুলি ছাড়াও, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর উদ্যোগে প্রবর্তিত অর্থনৈতিক প্যাকেজগুলো প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার গৃহীত নীতিমালার মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও আমরা এই মহামারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব উপশম করতে ১৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। মার্চের গোড়ার দিকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পরে আমরা আড়াই কোটির বেশি মানুষকে সহায়তা প্রদানের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারিত করেছি। মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে ব্যাপক বিঘœ ঘটা এবং ভোক্তাদের চাহিদা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

ছবি

১৮ দিন পর করোনায় মৃত্যুশূন্য দেশ

ছবি

মুরাদ বিদেশ যাবেন কি না জানা নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

রোকেয়া পদক পেলেন পাঁচ নারী

ছবি

দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কটের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি

নারীরা সহযোদ্ধা-সহযোগী, বিশ্বাস রাখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

ছবি

সেরামের ২৫ লাখ টিকা এল ঢাকায়

ছবি

অনেক বড় উদারতা দেখিয়েছি, আর কত: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

ডেঙ্গু: একদিনে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৬০ জন

ছবি

আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে মাফ করে দেবেন, প্রধানমন্ত্রীকে মুরাদ

ছবি

করোনা: আরও ৬ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৭৭

ছবি

মুরাদের ১৭ ভিডিও সরিয়েছে ফেসবুক-গুগল

ছবি

স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লায়

অনন্য দুঃসাহসী কিশোর বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ আবু বকর বীর বিক্রম

‘যদি ভুল করে’ থাকেন তবে ‘ক্ষমা’ চান মুরাদ

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ইস্যুগুলো কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে

ছবি

৭ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০ প্রকল্প অনুমোদন একনেকে

ছবি

দল থেকে বহিষ্কার হবেন কিনা মুরাদ, যা বললেন হানিফ

ছবি

৫০ বছরে ডিসেম্বরে এমন বৃষ্টি আর হয়নি ঢাকায়

ছবি

দুই দিনের সফরে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রসচিব

ছবি

প্রতিমন্ত্রী মুরাদকে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

ক্যানবেরায় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস উদযাপন

ছবি

তথ্য প্রতিমন্ত্রীর অপসারণ দাবি ৪০ নারী অধিকারকর্মীর

ছবি

বাংলাদেশ-ভারতের অংশীদারত্ব চুক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়

ছবি

ডেঙ্গু: একদিনে হাসপাতালে ভর্তি আরও ৫৬ জন

ছবি

করোনা: মৃত্যু কমলেও শনাক্ত বেড়ে ২৭৭

ছবি

তিন জেলার টেলিফোন নম্বর পরিবর্তন হচ্ছে

ছবি

গণতন্ত্র মুক্তি দিবস আজ

ছবি

১৮ দেশে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী দিবস পালিত হবে

ছবি

সারাদিনই ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ঝরতে পারে

ছবি

অস্ত্র প্রতিযোগিতার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়তে সম্পদ ব্যবহার করুন

ছবি

স্বাধীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভারত ও ভুটান

ছবি

সর্বজনীন শান্তির জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে কর্মযজ্ঞে নামার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন আজিয়াটা গ্রুপের সিইও

ছবি

‘ওমিক্রন’ দরজায় কড়া নাড়ছে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ছবি

ডেঙ্গু: ২৪ ঘন্টায় নতুন আক্রান্ত আরও ৬৮

ছবি

করোনা: বেড়েছে শনাক্ত, মৃত্যু আরও ৬

tab

জাতীয়

হাসিনা-মোদি ভার্চুয়াল বৈঠক

পারস্পরিক নির্ভরতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়

সংবাদ অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২০

বাংলাদেশ-ভারত ‘অকৃত্রিম বন্ধু’। দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও দৃঢ় করার এবং পারস্পরিক নির্ভরতায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তারা বলেন, এই সম্পর্কের মাধ্যমে দুই দেশই নিজ নিজ অর্থনীতিকে সংহত, বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। দুই দেশেই প্রতিবেশী নীতির ক্ষেত্রে এক নম্বর স্তম্ভ। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। ১৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে এই আহ্বান জানান।

দ্বিপক্ষীয় ভার্চুয়াল এই সম্মেলনে ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নয়াদিল্লি থেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ বৈঠকে অংশ নেন। সম্মেলনের মাধ্যমে বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতায় সাতটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ এবং ভারত। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৃহস্পতিবার সকালে দ্বিপক্ষীয় সহায়তা সম্পর্কিত এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠকের আগে দুই দেশের মধ্যে এসব চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশের পক্ষে স্ব স্ব বিভাগের প্রধান কর্মকর্তাগণ এবং ভারতের পক্ষে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী চুক্তিগুলোতে স্বাক্ষর করেন। দুই দেশের মধ্যে যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সিইও ফোরাম, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সহযোগিতা, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হাইড্রোকার্বন বিষয়ে সহযোগিতা, পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হাতি সংরক্ষণ বিষয়ে সহযোগিতা, বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল জাদুঘর ও ভারতের জাতীয় জাদুঘরের মধ্যে সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সঙ্গে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট ও বরিশালের স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট সংক্রান্ত সহযোগিতা চুক্তি। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল সামিটে ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যাওয়া নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত থেকে পশ্চিমঙ্গের হলদিবাড়ি পর্যন্ত রেল যোগাযোগের উদ্বোধন করা হয়। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্মারক ডাক টিকিট অবমুক্ত এবং ‘বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল এক্সিবিশনে’র উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুইদেশের অর্থনীতিকে আরও সংহত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, প্রাপ্ত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশ বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, উভয় দেশ বিদ্যমান সহযোগিতামূলক ঐকমত্যের সুযোগ নিয়ে আমাদের অর্থনীতিকে আরও সংহত করে বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক ভ্যালু-চেইন আরও সমৃদ্ধ করতে পারে। বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতাকে আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দিই।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত অতিক্রম করছে। একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে বাংলাদেশ ৪৯ বছর পূর্তি উদযাপন করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এবং ভারত কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠারও ৫০তম বছরে পা রেখেছে। আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উৎযাপন করছি। মাত্র কয়েক মাস আগে, আপনাদের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সার্ধশততম জন্মবার্ষিকী আমরা উদযাপন শেষ করেছি। বাংলাদেশে আমরা বাপুজির প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন হিসেবে একটি বিশেষ ডাক টিকিট অবমুক্ত করেছি। আমরা বঙ্গবন্ধুর সম্মানে ভারতের ডাক বিভাগের একটি স্ট্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানগুলো যৌথভাবে উদযাপনের জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে একত্রিত হওয়ায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। এ সময় একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ভারত সরকার এবং জনগণের সহযোগিতার কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে নিজের জন্য সম্মানের বিষয় বলে অভিহিত করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘মুজিববর্ষ উপলক্ষে আমি আমার শুভেচ্ছা জানাই।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী বছর বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে তাকে ধন্যবাদ দিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আপনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন আমার জন্য একটি সম্মানের বিষয়। বাংলাদেশের বিজয় দিবসের একদিন পরে এই বৈঠক খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের জন্য গর্বের যে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয় আমি আপনার সঙ্গে একসঙ্গে উদযাপন করছি।

দুই দেশের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোদি বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) বিজয় দিবস উপলক্ষে আমি জাতীয় ওয়ার মেমোরিয়াল পরিদর্শন করি এবং একটি বিজয় মশাল প্রজ্বলন করি। এই মশাল সারা ভারতে ঘোরানো হবে এবং ভারতীয় শহীদদের গ্রামে নেয়া হবে। বিজয় দিবস উপলক্ষে ভারতে একাধিক কর্মসূচি পালিত হবে। বঙ্গবন্ধুর বার্তা চিরজীবী। এটি আমার জন্য সম্মানের যে আমি আপনার সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ওপর ডাক টিকিট অবমুক্ত এবং বাপু-বঙ্গবন্ধু ডিজিটাল এক্সিবিশন উদ্বোধন করছি।’

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডিসেম্বরে বাংলাদেশের মানুষ আনন্দ, মুক্তি এবং উদযাপনের চেতনায় উদ্বেলিত হয়ে ওঠে। এই মাহেন্দ্রক্ষণে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ এবং ২ লাখ নির্যাতিত মা-বোনকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী এ সময় ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর দিনটিকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আজকের দিনটি আমার জন্য একটি বিশেষ দিন। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অধীনে তখনও আমার মা, ছোট বোন রেহানা, রাসেল এবং ছোট্ট ৪ মাসের শিশুপুত্র জয়সহ আমরা বন্দী ছিলাম। ভারতের কর্নেল অশোক তারা (তৎকালীন মেজর) পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বন্দীদশা থেকে আমাদের মুক্ত করেন। ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ মুক্ত হলেও আমরা মুক্ত হয়েছিলাম ১৭ ডিসেম্বর। আজকেই সেই দিনটি।’

বাংলাদেশ ভারতের প্রতিবেশী নীতির প্রথম পিলার উল্লেখ করে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী ও দৃঢ় করার বিষয়টি আমার ক্ষমতা গ্রহণের প্রথমদিন থেকে অগ্রাধিকার। চলমান এই বছরটি মহামারীর জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং, তবে এরমধ্যেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভালো সহযোগিতা ছিল এবং ভ্যাকসিনের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা আছে। সার্ক কাঠামোতে দুই দেশ কাজ করছে। অন্যান্য ক্ষেত্রেও আমাদের অংশীদারিত্ব এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা স্থল সীমান্ত বাণিজ্যে সমস্যা কমাতে পেরেছি, কানেকটিভিটি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নতুন নতুন জিনিস যোগ হয়েছে। এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে আমরা সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের অর্থনীতির ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক নির্ভরতা আমরা আনন্দের সঙ্গে স্বীকৃতি দেই। বেশ কিছু সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের উৎপাদন ও সেবা খাতে নিযুক্ত রয়েছেন এবং তারা নিজ দেশ ভারতে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক পর্যটক এবং চিকিৎসা সেবা গ্রহণকারীকে ভারত গ্রহণ করে। প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে প্রচলিত যোগাযোগ ব্যবস্থাকে এই বিষয়ে অনুঘটক। একটি বড় উদাহরণ হলো চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের অবিচ্ছেদ্য যোগসূত্র স্মরণে আমরা বিশ্বব্যাপী বাছাই করা কিছু শহরে আগামী বছরজুড়ে যৌথ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ২০২১ সালের ২৬-এ মার্চ ঢাকায় আপনার উপস্থিতি আমাদের যৌথ উদযাপনের গৌরবময় স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখবে।

চলতি বছরের মার্চে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে। তবে করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে মূল আয়োজন বাতিল হওয়ায় তার আর আসা হয়নি। আগামী বছর ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণের জন্যও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এ বছর নানা চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সংকটের এই সময়ে স্বাস্থ্য, কোভিড-১৯, টিকার মতো বিষয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে বিশ্ব মহাবিপর্যয়ের সম্মুখীন এবং মানবজাতি কীভাবে এই অজানা শত্রুর মোকাবিলা করে তার পরীক্ষার মুখোমুখি। সম্ভবত কোভিড-১৯ মহামারীর সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ হলো মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা। এ বছরের গোড়ার দিকে ঢাকায় আপনাকে স্বাগত জানানোর ইচ্ছা অপূর্ণ থেকে গেছে। তবুও, আমাদের গত শীর্ষ সম্মেলনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ক্রান্তিকালীন সময়ে উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেভাবে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা এগিয়ে নিয়েছে- তা প্রশংসাযোগ্য।

ভারতকে বাংলাদেশের ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ আখ্যায়িত করে ২০১৯ সালের অক্টোবরে দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের কথা স্মরণ করে তার আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এ বছর মহামারীর মধ্যেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ বছর জুড়ে রেলরুট দিয়ে বাণিজ্য, উচ্চ-পর্যায়ের পরিদর্শন ও সভা, সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, কলকাতা থেকে উত্তর-পূর্ব ভারতে ভারতীয় পণ্যসামগ্রীর প্রথম পরীক্ষামূলক চালান প্রেরণ এবং অবশ্যই, কোভিড-১৯ বিষয়ে সহযোগিতার ন্যায় বিভিন্ন উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছি।

বিশ্বের অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত ও জনবহুল অঞ্চলে ভারত সরকার যেভাবে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করেছে, সেজন্য নরেন্দ্র মোদির সরকারের প্রশংসা করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, “আপনার স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজগুলি ছাড়াও, ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর উদ্যোগে প্রবর্তিত অর্থনৈতিক প্যাকেজগুলো প্রশংসনীয়। আমরা বিশ্বাস করি, আপনার গৃহীত নীতিমালার মাধ্যমে ভারত বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশেও আমরা এই মহামারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব উপশম করতে ১৪ দশমিক ১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি। মার্চের গোড়ার দিকে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণের পরে আমরা আড়াই কোটির বেশি মানুষকে সহায়তা প্রদানের জন্য সামাজিক সুরক্ষার আওতা সম্প্রসারিত করেছি। মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলা করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, ফলে আন্তর্জাতিক সরবরাহ চেইনে ব্যাপক বিঘœ ঘটা এবং ভোক্তাদের চাহিদা হ্রাস পাওয়া সত্ত্বেও আমাদের অর্থনীতি ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে।’

back to top