alt

জাতীয়

টিকা : দ্বিতীয় ডোজের ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে?

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১
image

টিকা সংকটের কারণে যারা করোনার প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে দ্বিতীয় ডোজের জন্য দেশে টিকার ঘাটতি আছে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ ডোজ।

কিন্তু বিভিন্ন কারণে টিকা নষ্ট হতে পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাই কতজনের দ্বিতীয় ডোজের ঘাটতি হবে সেই হিসাব এখন চূড়ান্ত নয়।

চলমান কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য চীনের সিনোফার্ম ও রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভি টিকা আমদানির তোড়জোড় চলছে। আগামীকাল চীন থেকে পাঁচ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা আসবে বলে চীনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন। যারা প্রথম ডোজে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন তাদের কী চীনের সিনোফার্মের টিকা দেয়া যাবে? এ প্রশ্নের কোন সুনির্দিষ্ট উত্তর মিলছে না। যদিও বেশ কয়েকটি দেশে টিকার মিশ্রণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

যুক্তরাজ্যে কম-কোভ নামে এ ধরনেরই একটি গবেষণা চলছে। যেখানে পঞ্চাশোর্ধ যারা প্রথম ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা ফাইজারের টিকা নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজে মডার্না বা নোভাভ্যাক্সের টিকা দেয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ৮০০ জনের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। তবে জুন-জুলাইয়ের আগে এর প্রাথমিক কোন ফলাফল পাওয়া যাবে না বলেই সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সুতরাং নির্ভরযোগ্য কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়া এই মিশ্র টিকার ব্যাবহার করা এখন সম্ভব নয়।

তবে একটি সুখবর পাওয়া যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটির কাছে ৬ কোটি ডোজেরও অধিক অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা আছে যা তারা অন্য দেশে রপ্তানি করতে চায়। জরুরি ভিত্তিতে সেখান থেকেই ৪০ লাখ ডোজ টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও এক থেকে দুই কোটি ডোজ ভ্যাকসিন চাইব।’

তবে এই টিকা পাওয়া যাবে কিনা আর পাওয়া গেলেও কবে, সে বিষয়ে এখনও কোন খবর মিলেনি।

তাহলে উপায় কী? দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ তিন থেকে চার মাস পরও নেয়া যাবে। তবে সরকারকে অবশ্যই অতিদ্রুত টিকা সংগ্রহ করতে হবে।

করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ সংবাদকে বলেন, ‘করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রথম ডোজ দেয়ার তিন থেকে চার মাস পরও দেয়া যায়। এখন যদি দ্বিতীয় ডোজ পেতে দেরি হয় তবে আমার মতে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সরকার যেভাবে চেষ্টা করছে তাতে এ সময়ে দ্বিতীয় ডোজের প্রয়োজনীয় টিকা দেশে এসে যাবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সালও বলছেন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে তার মতে টিকাদান শুরু করার ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল আর দ্বিতীয় ডোজ ১২ সপ্তাহ পর দেয়া উচিত ছিল।

‘মাত্র একটি উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের জন্য চুক্তি করাও সঠিক ছিল না। একাধিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করা উচিত ছিল। তবে যদি ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ না করত তবে হয়তো পরিস্থিতি এ পর্যায়ে যেত না,’ বলেন ডা. জামিল ফয়সাল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমদ বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে একটি উপায় আছে, তা হলো দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার সময় প্রথম ডোজের ৮ সপ্তাহ পর না করে ১২ সপ্তাহ করা যেতে পারে। এতে কোন অসুবিধা নেই। অন্যদিকে একমাস সময় পেলে দ্বিতীয় ডোজের সব টিকা সংগ্রহ করা হয়ে যাবে বলে মনে হয়।’

এখন প্রতিদিন যে হারে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হচ্ছে সেই হিসাবে এ মাসেই মজুদ শেষ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইতোমধ্যে টিকা সংকটের কারণে গত ২৬ এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ দেয়া স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে নতুন করে করোনার টিকার কোন চালান না আসায় নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ পর্যন্ত ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৯ জন মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এ পর্যন্ত এক কোটি তিন লাখ ডোজ টিকা এসেছে দেশে। গত নভেম্বরের চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশকে ছয় ধাপে তিন কোটি ডোজ টিকা দেয়ার কথা ছিল ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের। দুই ধাপে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে সেরাম থেকে। এরপর থেকে আর কোন চালানই পাঠায়নি তারা। এর বাইরে ভারত সরকার ৩৩ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে।

গত রোববার পর্যন্ত টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৬ জন। আর টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় মিলে টিকা দেয়া হয়েছে ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৪৮ ডোজ। বিতরণ করা টিকা বাদ দিলে হাতে মজুদ আছে মাত্র ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯১৪ ডোজ। ঘাটতি টিকার পরিমাণ ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ ডোজ।

ডা. সহিদুল্লাহ বলেন, ‘এখন আমাদের বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের ওপর আরও জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও টিকা সংগ্রহ করা যাবে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে আর ভারত থেকেও।

ছবি

গুলশানে অল কমিউনিটি ক্লাবে ভাঙচুরের অভিযোগ পরীমনির বিরুদ্ধে

ছবি

ট্রান্সফরমার আতঙ্কে জুরাইন এলাকাবাসী

ছবি

চীনের সিনোফার্মের টিকা: কারা পাবেন তার তালিকা বললেন মন্ত্রী

ছবি

‘ত্রাণ চাই না বাঁধ চাই’, গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে সংসদে

ছবি

দেশে করোনায় মৃত্যু-শনাক্ত আরও ঊর্ধ্বমুখী

ছবি

চলমান বিধি-নিষেধ আরও এক মাস বাড়লো

ছবি

দাম প্রকাশ করায় চীন থেকে টিকা পেতে দেরী হচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি

‘রিসোর্ট কিংবা বার হোক, আইন ভঙ্গ হলেই ব্যবস্থা’

ছবি

সুন্দরবনের আয়তন বাড়ছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘের জরুরি পদক্ষেপ চায় বাংলাদেশ

ছবি

সীমান্ত জেলা থেকে আম কিনে লক্ষ্মীপুরে সংক্রমণ ধরা পড়ল ব্যবসায়ীর

ছবি

রাজধানীর আশপাশে, বিভিন্ন জেলায় বাড়ছে সংক্রমণ

ছবি

জনসনের টিকার অনুমোদন দিল বাংলাদেশ

ছবি

দেশে করোনায় আরও ৫০ জনের মৃত্যু,শনাক্ত ৩৩১৯

ছবি

হজ ও ওমরা নিয়ে অনিয়ম করলে বিচারের বিধান রেখে বিল পাস

ছবি

‘গার্ড অব অনার’ নারী থাকা নিয়ে আপত্তির বিষয়ে সংসদে ক্ষোভ

ছবি

আজ বর্ষার প্রথম দিন

ছবি

ঢাকায় দুই সিটিতে বসবে ২৪টি পশুর হাট

ছবি

ফাইজার ও সিনোফার্মের টিকা দেয়া আগামী সপ্তাহ থেকে শুরু :স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

ছবি

দিনাজপুর-চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদায় আজ থেকে কঠোর লকডাউন

ছবি

ফরিদপুরে একদিনে শনাক্ত বেড়েছে ৩০০ শতাংশ

ছবি

বোট ক্লাব থেকে নাসির উদ্দিনসহ ৩ জনকে বহিষ্কার

ছবি

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ নারী বিদ্বেষী ও সংবিধানবিরোধী: নির্মূল কমিটি

ছবি

টিকা ক্রয়ের পাশপাশি দেশে উৎপাদন ও উদ্ভাবনের পরামর্শ ফারুক খানের

ছবি

সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠন: আইনে শহীদুজ্জামান-বিদ্যুতে ওয়াসিকা সভাপতি

ছবি

দেশে ৩৬ দিন পর করোনায় সর্বাধিক মৃত্যু, শনাক্ত ৩ হাজার ছাড়ালো

ছবি

এবার ঢাকা মেডিক্যালে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত

ছবি

১৯ জুন থেকে দেওয়া হবে ফাইজার-সিনোফার্মের টিকা: স্বাস্থ্য অধিদফতর

ছবি

রোগীদের হয়রানি রোধে ঢাকা মেডিকেলে ৫ বিশেষ ব্যবস্থা

ছবি

ঈদুল আজহায় বৈধ বা অবৈধ কোন গরু ভারত থেকে আনা যাবে না

ছবি

৩ দিন গ্যাস সংকটে থাকবে রাজধানীসহ পুরো দেশ

ছবি

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ‘গার্ড অব অনারে’ নারী কর্মকর্তায় আপত্তি সংসদীয় কমিটির

ছবি

চীনের উপহারের আরও ৬ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন ঢাকায়

ছবি

দেশে করোনায় ৪৭ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ২৪৩৬

ছবি

লিবিয়ায় ভূমধ্যসাগর থেকে ১৬৪ বাংলাদেশিকে উদ্ধার

ছবি

‌এসএসসি, এইচএসসি পরীক্ষা না হলে বিকল্প চিন্তা : শিক্ষামন্ত্রী

tab

জাতীয়

টিকা : দ্বিতীয় ডোজের ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে?

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
image

মঙ্গলবার, ১১ মে ২০২১

টিকা সংকটের কারণে যারা করোনার প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের সবাইকে দ্বিতীয় ডোজ দেয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে দ্বিতীয় ডোজের জন্য দেশে টিকার ঘাটতি আছে ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ ডোজ।

কিন্তু বিভিন্ন কারণে টিকা নষ্ট হতে পারে এবং সেটাই স্বাভাবিক বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাই কতজনের দ্বিতীয় ডোজের ঘাটতি হবে সেই হিসাব এখন চূড়ান্ত নয়।

চলমান কোভিড-১৯ টিকাদান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য চীনের সিনোফার্ম ও রাশিয়ার স্পুৎনিক-ভি টিকা আমদানির তোড়জোড় চলছে। আগামীকাল চীন থেকে পাঁচ লাখ ডোজ সিনোফার্মের টিকা আসবে বলে চীনের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন। যারা প্রথম ডোজে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা নিয়েছেন তাদের কী চীনের সিনোফার্মের টিকা দেয়া যাবে? এ প্রশ্নের কোন সুনির্দিষ্ট উত্তর মিলছে না। যদিও বেশ কয়েকটি দেশে টিকার মিশ্রণ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

যুক্তরাজ্যে কম-কোভ নামে এ ধরনেরই একটি গবেষণা চলছে। যেখানে পঞ্চাশোর্ধ যারা প্রথম ডোজে অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা ফাইজারের টিকা নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজে মডার্না বা নোভাভ্যাক্সের টিকা দেয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে ৮০০ জনের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। তবে জুন-জুলাইয়ের আগে এর প্রাথমিক কোন ফলাফল পাওয়া যাবে না বলেই সংশ্লিষ্টদের উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

সুতরাং নির্ভরযোগ্য কোন বৈজ্ঞানিক গবেষণা ছাড়া এই মিশ্র টিকার ব্যাবহার করা এখন সম্ভব নয়।

তবে একটি সুখবর পাওয়া যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটির কাছে ৬ কোটি ডোজেরও অধিক অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনা টিকা আছে যা তারা অন্য দেশে রপ্তানি করতে চায়। জরুরি ভিত্তিতে সেখান থেকেই ৪০ লাখ ডোজ টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বৃহস্পতিবার নিজ কার্যালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আরও এক থেকে দুই কোটি ডোজ ভ্যাকসিন চাইব।’

তবে এই টিকা পাওয়া যাবে কিনা আর পাওয়া গেলেও কবে, সে বিষয়ে এখনও কোন খবর মিলেনি।

তাহলে উপায় কী? দেশের জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অ্যাস্ট্রাজেনেকার দ্বিতীয় ডোজ তিন থেকে চার মাস পরও নেয়া যাবে। তবে সরকারকে অবশ্যই অতিদ্রুত টিকা সংগ্রহ করতে হবে।

করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সভাপতি প্রফেসর ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লাহ সংবাদকে বলেন, ‘করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রথম ডোজ দেয়ার তিন থেকে চার মাস পরও দেয়া যায়। এখন যদি দ্বিতীয় ডোজ পেতে দেরি হয় তবে আমার মতে আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। সরকার যেভাবে চেষ্টা করছে তাতে এ সময়ে দ্বিতীয় ডোজের প্রয়োজনীয় টিকা দেশে এসে যাবে।’

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সালও বলছেন আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তবে তার মতে টিকাদান শুরু করার ক্ষেত্রে পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল আর দ্বিতীয় ডোজ ১২ সপ্তাহ পর দেয়া উচিত ছিল।

‘মাত্র একটি উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের জন্য চুক্তি করাও সঠিক ছিল না। একাধিক উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের চেষ্টা করা উচিত ছিল। তবে যদি ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ না করত তবে হয়তো পরিস্থিতি এ পর্যায়ে যেত না,’ বলেন ডা. জামিল ফয়সাল।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজির আহমদ বলেন, ‘এক্ষেত্রে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে একটি উপায় আছে, তা হলো দ্বিতীয় ডোজ দেয়ার সময় প্রথম ডোজের ৮ সপ্তাহ পর না করে ১২ সপ্তাহ করা যেতে পারে। এতে কোন অসুবিধা নেই। অন্যদিকে একমাস সময় পেলে দ্বিতীয় ডোজের সব টিকা সংগ্রহ করা হয়ে যাবে বলে মনে হয়।’

এখন প্রতিদিন যে হারে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেয়া হচ্ছে সেই হিসাবে এ মাসেই মজুদ শেষ হয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

ইতোমধ্যে টিকা সংকটের কারণে গত ২৬ এপ্রিল থেকে প্রথম ডোজ দেয়া স্থগিত করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে নতুন করে করোনার টিকার কোন চালান না আসায় নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ পর্যন্ত ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৯ জন মানুষ টিকার জন্য নিবন্ধন করেছেন। এ পর্যন্ত এক কোটি তিন লাখ ডোজ টিকা এসেছে দেশে। গত নভেম্বরের চুক্তি অনুসারে, বাংলাদেশকে ছয় ধাপে তিন কোটি ডোজ টিকা দেয়ার কথা ছিল ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের। দুই ধাপে জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৭০ লাখ ডোজ টিকা পাওয়া গেছে সেরাম থেকে। এরপর থেকে আর কোন চালানই পাঠায়নি তারা। এর বাইরে ভারত সরকার ৩৩ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে পাঠিয়েছে।

গত রোববার পর্যন্ত টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৩৪ লাখ ৯৬ হাজার ১৮৬ জন। আর টিকার প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯০০ জন। প্রথম ও দ্বিতীয় মিলে টিকা দেয়া হয়েছে ৯৩ লাখ ১৬ হাজার ৪৮ ডোজ। বিতরণ করা টিকা বাদ দিলে হাতে মজুদ আছে মাত্র ৮ লাখ ৮৩ হাজার ৯১৪ ডোজ। ঘাটতি টিকার পরিমাণ ১৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০০ ডোজ।

ডা. সহিদুল্লাহ বলেন, ‘এখন আমাদের বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহের ওপর আরও জোর দিতে হবে। এক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকেও টিকা সংগ্রহ করা যাবে। ইতোমধ্যে এ নিয়ে কথাবার্তা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে। শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্র থেকে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে আর ভারত থেকেও।

back to top