alt

জাতীয়

ইসি গঠন আইন, এক বৈঠকেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত

ফয়েজ আহমেদ তুষার : সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

ইসি গঠনে প্রস্তাবিত আইনে দুটি পরিবর্তনের সুপারিশ করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে কমিটি।

রোববার এ সংক্রান্ত (প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২) বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

কমিটির সুপারিশে প্রতিবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা এবং অযোগ্যাতার শর্তে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৈঠকের বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকারের সঙ্গে সোমবার রাতে কথা হয় সংবাদের।

প্রথম দিনের বৈঠকেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। আমরা যোগ্যতা ও অযোগত্যার জায়গায় কিছু পরিবর্তন এনেছি।’

বৈঠকে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা কিছু সংযোজন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা গ্রহণ করা হয়নি। গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘এমন তথ্য সঠিক নয়। তিনি (রুমিন) আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ আমরা তার বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শুনেছি। তিনি লিখিত আকারে কোন সংযোজন প্রস্তাব দেননি। রাজনৈতিক নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তিনি (রুমিন) বলেছেন, এই আইন ক্ষমতাসীনদের পক্ষে যাচ্ছে। কোন দফায় কি সংযোজন, বিয়োজন করা উচিত, সুনির্দিষ্ট এমন কোন প্রস্তাব তিনি দেননি।’

যে দুটি পরিবর্তনের সুপারিশ

সংসদে উত্থাপিত বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত ৫(গ) ধারায় বলা আছে, সিইসি ও কমিশনার হতে গেলে কোন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই ধারায় সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদের পাশাপাশি ‘স্বায়ত্তশাসিত ও অন্য পেশা’ যুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

এর ফলে সুনির্দিষ্ট কিছু পেশজীবীর বাইরেও অনেকেরই কমিশনার হওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান শহীদুজ্জামান সরকার।

আর অযোগ্যতার ক্ষেত্রে ৬(ঘ) ধারায় বলা আছে, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হলে সিইসি ও কমিশনার হওয়া যাবে না। এখানে ‘দুই বছর’ শব্দ দুটি উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, নৈতিকস্খলন ফৌজদারি অপরাধে ‘যে কোন মেয়াদের’ সাজা হলেই সিইসি বা কমিশনার হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিলে আগের সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশনকে ‘বৈধতা’ দেয়া হচ্ছে বলে আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদের প্রশ্নের জবাবে নওগাঁ থেকে চতুর্থ মেয়াদে সংসদে আসা আইন প্রণেতা এবং পেশায় আইনজীবী শহীদুজ্জামান বলেন, ‘ইনডেমনিটি বলছে অনেকে। ইনডেমনিটি নয়। আগের দুটো কমিশনের কার্যক্রমকে হেফাজত দেয়ার বিষয় এখানে আসেনি। কোন দায়মুক্তি নয়। সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতি ঐকমত্যের ভিত্তিতে করেছিলেন। বিলের ৯ দফায় শুধু সার্চ কমিটির বৈধতা দেয়া হয়েছে। আর আইনটা কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে। সার্চ কমিটির আইন নয়।’

আগামী বুধবার সংসদের মুলতবি বৈঠক শুরুর দিন প্রতিবেদনটি সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমকে রুমিন ফারহানা বলেন, আইনটির খসড়া নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কোন আলাপ-আলোচনা করা হয়নি, এ বিষয়টি তিনি বৈঠকে উল্লেখ করেছিলেন। ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনের জন্য যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন, তার সঙ্গে এই খসড়ার কোন পার্থক্য নেই। যে কারণে অনেকে এটাকে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আইন বলছেন, এমন তথ্যও তিনি বৈঠকে উপস্থাপন করেছেন।

তার প্রস্তাব ছিল- সার্চ কমিটি কাদের নাম প্রস্তাব করল, সেটা প্রকাশ করতে হবে, তার ওপর আলোচনা হবে, তারা আসলেই যোগ্য কি-না। যেহেতু এ বিষয়ে আইনে কিছু বলা হয়নি। তিনি এসব সংযোজন করতে বলেছিলেন। আইনের ৯ ধারায় ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আইনের বেসিক কনসেপ্টের পরিপন্থী। রেস্ট্রোসপেকটিভ ইফেক্ট দেয়া আইনের চোখে কখনো ভালো হিসেবে দেখা হয় না। এটা পরিবর্তন করতে হবে।’ তবে তার এসব প্রস্তাব আমলে নেয়া হয়নি।

শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে সোমবারের বৈঠকে কমিটির সদস্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, শামসুল হক, আবদুল মজিদ খান, শামিম হায়দার পাটোয়ারী, গ্লোরিয়া ঝরনা সরকার, রুমিন ফারহানা ও সেলিম আলতাফ অংশ নেন। অধিবেশনের ভেতরে-বাইরে রাজনীতিক এবং অংশীজনদের আপত্তির মুখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইনের খসড়া রোববার জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সে সময় অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

বিলটি সম্পর্কে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব পেশায় আইনজীবী এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু সংবাদকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে চিফ এক্সিকিউটিভের (প্রধানমন্ত্রীর) কর্তৃত্ব থেকেই যায়। যা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের অন্তরায়।’

জাতীয় পার্টি সংসদে এ সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাব দেবে বলে জানান তিনি। ‘আইনটি অসম্পূর্ণ’ এমন মন্তব্য করে সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব আনা হবে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

ছবি

মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা

ছবি

১৬৫ যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়ল মৈত্রী এক্সপ্রেস

ছবি

ক্ষমতাসীন দল চায় তারা যা বলবে পুলিশ তাই করবে : সাবেক আইজিপি

ছবি

বিশ্ববিদ্যালয়ে সময়োপযোগী কারিকুলাম প্রণয়নের নির্দেশ রাষ্ট্রপতির

ছবি

দায়িত্বে চাপ ছিল, বিদেশে চাকরির প্রলোভনও ছিল: দাবি মসিউরের

ছবি

করোনা: শনাক্ত ২৮ রোগী, ২০ জনই ঢাকার

ছবি

ক্ষমতাসীনরা চায় তারা যা বলবে পুলিশ তাই করবে: সাবেক আইজিপি

ছবি

বর্ষার আগে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে

ছবি

রাজধানীকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

মানুষ চাইলে তিন বেলা মাংস খেতে পারে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

ছবি

স্ত্রীর পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত গাফ্‌ফার চৌধুরী

ছবি

অবৈধ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক রোববারের মধ্যে বন্ধ না হলে ব্যবস্থা

ছবি

কর্মমুখী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে

ছবি

লাল সবুজের পতাকায় আবৃত গাফফার চৌধুরীর কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা

ছবি

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত গাফ্‌ফার চৌধুরী

ছবি

বাংলাদেশ-ভারত জেসিসি পিছিয়েছে

ছবি

বাংলাদেশি দুই শান্তিরক্ষী পেলেন দ্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক

ছবি

ঢাকায় পৌঁছেছে আবদুল গাফফার চৌধুরীর মরদেহ

ছবি

হজের নিবন্ধন শেষ হচ্ছে আজ, খোলা থাকবে ব্যাংক

ছবি

আজ দুপুরে শহীদ মিনারে গাফফার চৌধুরীকে শেষ শ্রদ্ধা

আউয়াল কমিশনের প্রথম নির্বাচন : মাঠ পর্যায়ে যাচ্ছেন কমিশনাররা

ছবি

পদ্মা সেতু চালু হলেও বন্ধ হবে না ফেরি সার্ভিস

ছবি

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে এশীয় নেতাদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী

ছবি

গাফ্‌ফার চৌধুরীর মরদেহ আসছে শনিবার, দুপুরে রাখা হবে শহীদ মিনারে

ছবি

করোনা: টানা ৪ দিন মৃত্যু নেই, শনাক্ত ২৩

ছবি

৪৪তম বিসিএস প্রিলি: আসনপ্রতি লড়ছেন ২০৫ জন

ছবি

ভারত-বাংলাদেশের নতুন দরজা ‘স্বাধীনতা সড়ক’ শীঘ্রই খোলছে

সারাদেশে ৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা চলছে

ছবি

নতুন দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান ইসির

ছবি

করোনা: শনাক্ত ২৮ রোগীর ১৭ জন ঢাকার

শিক্ষাক্ষেত্রে লক্ষ্য অর্জনে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি : শিক্ষামন্ত্রী

ছবি

‘টাকা পাচারকারীরা সাধারণ ক্ষমার আওতায় আসছে’

ছবি

হজের খরচ বাড়লো আরও ৫৯ হাজার টাকা

ছবি

৭২ ঘণ্টার মধ্যে অনিবন্ধিত ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধের নির্দেশ

ছবি

‘বাংলাদেশের সভাপতিত্বে ‘সিভিএফ’ ন্যায্য কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়’

ছবি

বাংলাদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিতে আগ্রহী সার্বিয়া

tab

জাতীয়

ইসি গঠন আইন, এক বৈঠকেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত

ফয়েজ আহমেদ তুষার

সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২

ইসি গঠনে প্রস্তাবিত আইনে দুটি পরিবর্তনের সুপারিশ করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সোমবার (২৪ জানুয়ারি) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে কমিটি।

রোববার এ সংক্রান্ত (প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২) বিলটি জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর তা পরীক্ষা করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

কমিটির সুপারিশে প্রতিবেদনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এবং নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা এবং অযোগ্যাতার শর্তে দুটি পরিবর্তন আনা হয়েছে। বৈঠকের বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকারের সঙ্গে সোমবার রাতে কথা হয় সংবাদের।

প্রথম দিনের বৈঠকেই প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে প্রতিবেদন চূড়ান্ত করেছে। আমরা যোগ্যতা ও অযোগত্যার জায়গায় কিছু পরিবর্তন এনেছি।’

বৈঠকে বিএনপির সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা কিছু সংযোজন প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা গ্রহণ করা হয়নি। গণমাধ্যমে এমন খবর এসেছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘এমন তথ্য সঠিক নয়। তিনি (রুমিন) আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। দীর্ঘক্ষণ আমরা তার বক্তব্য ধৈর্য সহকারে শুনেছি। তিনি লিখিত আকারে কোন সংযোজন প্রস্তাব দেননি। রাজনৈতিক নানা বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি। তিনি (রুমিন) বলেছেন, এই আইন ক্ষমতাসীনদের পক্ষে যাচ্ছে। কোন দফায় কি সংযোজন, বিয়োজন করা উচিত, সুনির্দিষ্ট এমন কোন প্রস্তাব তিনি দেননি।’

যে দুটি পরিবর্তনের সুপারিশ

সংসদে উত্থাপিত বিলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কমিশনারদের যোগ্যতা সংক্রান্ত ৫(গ) ধারায় বলা আছে, সিইসি ও কমিশনার হতে গেলে কোন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদে তার অন্যূন ২০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই ধারায় সরকারি, বিচার বিভাগীয়, আধা সরকারি বা বেসরকারি পদের পাশাপাশি ‘স্বায়ত্তশাসিত ও অন্য পেশা’ যুক্ত করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

এর ফলে সুনির্দিষ্ট কিছু পেশজীবীর বাইরেও অনেকেরই কমিশনার হওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান শহীদুজ্জামান সরকার।

আর অযোগ্যতার ক্ষেত্রে ৬(ঘ) ধারায় বলা আছে, নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত হলে সিইসি ও কমিশনার হওয়া যাবে না। এখানে ‘দুই বছর’ শব্দ দুটি উঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, নৈতিকস্খলন ফৌজদারি অপরাধে ‘যে কোন মেয়াদের’ সাজা হলেই সিইসি বা কমিশনার হওয়ার ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিলে আগের সার্চ কমিটি ও নির্বাচন কমিশনকে ‘বৈধতা’ দেয়া হচ্ছে বলে আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদের প্রশ্নের জবাবে নওগাঁ থেকে চতুর্থ মেয়াদে সংসদে আসা আইন প্রণেতা এবং পেশায় আইনজীবী শহীদুজ্জামান বলেন, ‘ইনডেমনিটি বলছে অনেকে। ইনডেমনিটি নয়। আগের দুটো কমিশনের কার্যক্রমকে হেফাজত দেয়ার বিষয় এখানে আসেনি। কোন দায়মুক্তি নয়। সার্চ কমিটি রাষ্ট্রপতি ঐকমত্যের ভিত্তিতে করেছিলেন। বিলের ৯ দফায় শুধু সার্চ কমিটির বৈধতা দেয়া হয়েছে। আর আইনটা কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে। সার্চ কমিটির আইন নয়।’

আগামী বুধবার সংসদের মুলতবি বৈঠক শুরুর দিন প্রতিবেদনটি সংসদে উপস্থাপন করা হতে পারে বলে জানান কমিটির সভাপতি।

সংসদীয় কমিটির বৈঠকের বিষয়ে গণমাধ্যমকে রুমিন ফারহানা বলেন, আইনটির খসড়া নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে কোন আলাপ-আলোচনা করা হয়নি, এ বিষয়টি তিনি বৈঠকে উল্লেখ করেছিলেন। ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠনের জন্য যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিলেন, তার সঙ্গে এই খসড়ার কোন পার্থক্য নেই। যে কারণে অনেকে এটাকে অনুসন্ধান কমিটি গঠনের আইন বলছেন, এমন তথ্যও তিনি বৈঠকে উপস্থাপন করেছেন।

তার প্রস্তাব ছিল- সার্চ কমিটি কাদের নাম প্রস্তাব করল, সেটা প্রকাশ করতে হবে, তার ওপর আলোচনা হবে, তারা আসলেই যোগ্য কি-না। যেহেতু এ বিষয়ে আইনে কিছু বলা হয়নি। তিনি এসব সংযোজন করতে বলেছিলেন। আইনের ৯ ধারায় ইনডেমনিটি দেয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ‘এটা আইনের বেসিক কনসেপ্টের পরিপন্থী। রেস্ট্রোসপেকটিভ ইফেক্ট দেয়া আইনের চোখে কখনো ভালো হিসেবে দেখা হয় না। এটা পরিবর্তন করতে হবে।’ তবে তার এসব প্রস্তাব আমলে নেয়া হয়নি।

শহীদুজ্জামান সরকারের সভাপতিত্বে সোমবারের বৈঠকে কমিটির সদস্য আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, মোস্তাফিজুর রহমান, শামসুল হক, আবদুল মজিদ খান, শামিম হায়দার পাটোয়ারী, গ্লোরিয়া ঝরনা সরকার, রুমিন ফারহানা ও সেলিম আলতাফ অংশ নেন। অধিবেশনের ভেতরে-বাইরে রাজনীতিক এবং অংশীজনদের আপত্তির মুখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনে আইনের খসড়া রোববার জাতীয় সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সে সময় অধিবেশনে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

বিলটি সম্পর্কে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জাতীয় পার্টির মহাসচিব পেশায় আইনজীবী এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু সংবাদকে বলেন, ‘প্রস্তাবিত আইনে চিফ এক্সিকিউটিভের (প্রধানমন্ত্রীর) কর্তৃত্ব থেকেই যায়। যা একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের অন্তরায়।’

জাতীয় পার্টি সংসদে এ সংক্রান্ত সংশোধনী প্রস্তাব দেবে বলে জানান তিনি। ‘আইনটি অসম্পূর্ণ’ এমন মন্তব্য করে সংসদে সংশোধনী প্রস্তাব আনা হবে বলে জানিয়েছেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

back to top