alt

জাতীয়

পদ্মা সেতু : আলো জ্বলবে জুনের প্রথম সপ্তাহে

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ : মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২

পদ্মা সেতুতে আলো জ্বলবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। এরপর আগামী ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরো সেতুর পিচ ঢালাইয়ের (কার্পেটিং) কাজ সোমবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শর্তাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ ও নদী শাসনের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে প্রকল্প সূত্র জানায়।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ২৫ জুন সেতুর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় সেতু কাজের গতি আরও বেড়ে যাবে। যেসব কাজ বাকি আছে তা উদ্বোধনের আগের শেষ হয়ে যাবে। তবে নদী শাসনের কিছু কাজ বাকি থাকতে পারে। উদ্বোধনের পরেও কিছুদিন দিন শাসনের চলবে। এখনো সবাই সেতুর উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। সেতু উদ্বোধনের জন্য ১৮টি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে নদীশাসন ছাড়া প্রকল্পের সব কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। গত মাস পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ ও নদী শাসনের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। আগামী ২৫ জুনের আগে উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করা হবে।’ সেতু উদ্বোধনের জন্য এখন পর্যন্ত ১৮টি উপকমিটি গঠনর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘পদ্মা সেতু’ হবে সেতুর নাম

সেতুর নাম পদ্মা নদীর নামেই হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার (২৪ মে) গণভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু, সেটা কবে উদ্বোধন হবে জানার আগ্রহ সবার মধ্যে। সেই সুসংবাদ আপনাদের দিচ্ছি। ২৫ জুন শনিবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী, দেশরতœ শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করবেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আরেকটি বিষয়, আমরা দুটো সামারি নিয়ে এসেছিলাম, একটি সামারি উদ্বোধন, তিনি তারিখ দিয়ে সই করেছেন ২৫ জুন। আরেকটি সামারি, সেটাতে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু পদ্মা নদীর নামেই হবে। এটা আমি অন্য কারো নামে দেব না। বঙ্গবন্ধু পরিবারের কারো নামেও হবে না।’

সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, যারা বেশি বিরুদ্ধে বলছে, তাদের আগে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

এর আগে দক্ষিণ জনপদের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের এই সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ করার দাবি রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। নানা অঙ্গন থেকে তাতে সমর্থনও এসেছে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাতে সায় দেননি।

সেতুতে বসানো হয়েছে ৪১৫টি সড়ক বাতি

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুতে মোট ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্ট (সড়ক বাতি) বসানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল সেতুতে ৩২৮টি, জাজিরা প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৪৬টি, মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টে ৪১টি ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছে। গত বছর ২৫ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে প্রথম ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। গত ১৮ এপ্রিল এসব ল্যাম্পপোস্ট ও এর মধ্যে বাতি লাগানোর কাজ শেষ হয়। আগামী ২০ জুনের মধ্যে সেতুতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। সেতুর সড়ক বাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া জন্য গত ১৫ মে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

মূল সেতুতে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ৩০ মের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে। তবে তা সম্ভব না হলে জুনের প্রথম সপ্তাহের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে জমা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘সেতুর বাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার পলীবিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমার টার্গেট করেছি ৩১ মের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। তা যদি সম্ভব্য না হয় তাহলে জুনের প্রথম সপ্তাহে সড়কবাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।’

সেতু উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি

২৫ জুন সেতু উদ্বোধনের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সেতু বিভাগ। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ করার জন্য ১৮টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে মাওয়ায় সুধী সমাবেশ ও জাজিরা জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার গণভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু ‘উদ্বোধন উপলক্ষে সাজসজ্জা করা হবে। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে একটি সুধী সমাবেশ, আর জাজিরা প্রান্তে জনসভা হবে।’

বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যারা বেশি বিরুদ্ধে বলেছেন তাদের আগে দেব আমন্ত্রণ।’

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, দুই প্রান্তে দুটি অনুষ্ঠান হবে ধরে নিয়ে সেতু বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে ১৮টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দাওয়াত দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটি দাওয়াত কার্ডের নকশা ও সজ্জার কাজ শুরু করে দিয়েছে। মনোরম ভেন্যু, সাজসজ্জা, আসন ব্যবস্থাপনা ও অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য রয়েছে কমিটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনী থাকবে। অতিথিদের দেয়া হবে উপহার-স্যুভেনির। এর জন্যও কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিথিদের মাওয়া ও জাজিরা-দুই পাড়েই আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে। আর এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া করোনাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য দুই পাড়েই একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতিক ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা উপস্থিত থাকবেন। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আগে থেকেই এই প্রকল্প দেশে-বিদেশে আলোচিত। এজন্য অনুষ্ঠান যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত থেকে সেতু উদ্বোধন করে গাড়িতে চড়ে সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যাবেন। সেখানে আরেক দফা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। পরে জনসভা ভাষণ দিবেন। এর মধ্যে সেতু বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের জন্য ম্যুরাল ও ফলক নির্মাণের কাজ চলছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে ৪০ ফুট উচ্চতার দুটি ম্যুরাল নির্মিত হচ্ছে। দুটি ম্যুরালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি থাকবে। এর পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে উদ্বোধনী ফলক।

উদ্বোধনের দিন থেকে চালু সেতুর টোল

মঙ্গলবার পদ্মা সেতু টোর নির্ধারণ করে এক প্রজ্ঞাপনে জারি করেছে সেতু বিভাগ। যা সেতু চালু হওয়ার দিন থেকে কার্যকর করা হবে। এতে সেতুতে মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা, কার ও জিপের জন্য ৭৫০ টাকা, পিকআপে ১২০০ টাকা; মাইক্রোবাসের জন্য ১৩০০ টাকা; ছোট বাসের (৩১ সিটের কম) জন্য ১৪০০ টাকা; মাঝারি বাসের (৩২ সিটের বেশি) জন্য ২০০০ টাকা; বড় বাসের (৩ এক্সেল) ২৪০০ টাকা, ছোট ট্রাকের (৫ টন পর্যন্ত) জন্য ১৬০০ টাকা; মাঝারি ট্রাকের (৫-৮ টন পর্যন্ত) ২১০০ টাকা; মাঝারি ট্রাক (৮-১১ টন পর্যন্ত) ২৮০০ টাকা; ট্রাকের জন্য (৩ এক্সেল) ৫৫০০ টাকা; ট্রেইলারের জন্য (৪ এক্সেল) ৬০০০ টাকা। ট্রেইলার ৪ এক্সেলের ঊর্ধ্বে ৬০০০ হাজারের প্রতি এক্সেলে ১৫০০ টাকা যোগ করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর টোল আদায়কারী ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগ করেছে সেতু বিভাগ। এ কাজ পেয়েছে কোরিয়া এক্সপ্রেস করপোরেশন (কেইসি) ও চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। এর মধ্যে এমবিইসি বর্তমানে মূল সেতুর নির্মাণকাজ এবং কেইসি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই দুটি প্রতিষ্ঠান টোল আদায়, সেতু ও সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালু এবং সেতু ও নদীশাসনের কাজ রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এজন্য ৫ বছরে তাদের দিতে হবে ৬৯৩ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘সেতু উদ্বোধনের আগেই যানবাহন চলাচলের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। যা মঙ্গলবার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। যেদিন থেকে সেতু চালু হবে সেদিন থেকেই এই টোল কার্যকর করা হবে।’

ছবি

বর্ণিল উৎসবে খুলল সম্ভাবনার দক্ষিণ দুয়ার

দক্ষিণাঞ্চলবাসীর ফেরিঘাটে জীবনের অর্ধেক সময় নষ্টের অবসান হলো

ছবি

আঞ্চলিক যোগাযোগের কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে বাংলাদেশ

বাঙালিদের ‘অপমানের প্রতিশোধ’ পদ্মা সেতু : ওবায়দুল কাদের

প্রমাণ হলো বাংলাদেশও পারে : শেখ হাসিনা

টোলের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর নির্মাণ খরচ উঠাতে ৩০ বছর পর্যন্ত লাগতে পারে

ছবি

বন্যায় দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮২

ছবি

পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলবে রোববার থেকে

ছবি

করোনা: একদিনে ৩ জনের মৃত্যু, শনাক্ত কমে ১২৮০

ছবি

আসেন দেখে যান, পদ্মা সেতু হয়েছে কিনা: খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রী

ছবি

৫ মিনিটে পদ্মা পার!

ছবি

‘সর্বনাশা পদ্মা নদী’ গানে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ

ছবি

আজ কারও বিরুদ্ধে আমার অভিযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

সেতু নিয়ে পানি অনেক ঘোলা করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

প্রধানমন্ত্রী মাকে নিয়ে সেলফি তুললেন পুতুল

ছবি

সেতুতে নামলেন প্রধানমন্ত্রী, দেখলেন ৩১ বিমানের ফ্লাইং ডিসপ্লে

ছবি

স্বপ্নের সেতুর দুয়ার খুললো বর্ণিল উৎসবে

ছবি

জাজিরা প্রান্তের ফলক উন্মোচন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

পরিবার ও তিন কর্মকর্তার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সহমর্মিতা

ছবি

চট্টগ্রামে পদ্মা সেতুর রেপ্লিকা, নগরজুড়ে আয়োজন

ছবি

এক নজরে পদ্মা সেতু

ছবি

বাংলাদেশের বিশাল অর্জন পদ্মা সেতু : বিশ্ব ব্যাংক

ছবি

টোল দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

পদ্মা সেতুর স্মারক ডাক টিকিট ও নোট উদ্বোধন

ছবি

প্রতীক্ষার প্রহর শেষ হলো, উদ্বোধন হলো পদ্মা সেতু

ছবি

পদ্মা সেতু সারা বিশ্বে সম্ভাবনা-গর্বের : তাজুল ইসলাম

ছবি

পদ্মাসেতু আমাদের মর্যাদার প্রতীক : প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

শেখ হাসিনা প্রমাণ করেছেন আমরা বীরের জাতি: কাদের

পদ্মা সেতু এলাকায় মানুষের ঢল

ছবি

‘পদ্মা সেতু নির্মাণে যুগ যুগ বেঁচে থাকবেন শেখ হাসিনা’

ছবি

বিএনপি পদ্মা সেতুর বিরোধিতার কথা স্বীকার করে নিয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

ছবি

স্বপ্নের পদ্মাসেতু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে।

ছবি

পদ্মা সেতু শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতৃত্বের সাক্ষ্য: ভারত

ছবি

পদ্মা সেতু উদ্বোধন : স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত জনসভাস্থল

ছবি

স্বপ্ন, সংকল্প, আত্মবিশ্বাস : সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

tab

জাতীয়

পদ্মা সেতু : আলো জ্বলবে জুনের প্রথম সপ্তাহে

ইবরাহীম মাহমুদ আকাশ

মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২

পদ্মা সেতুতে আলো জ্বলবে জুনের প্রথম সপ্তাহে। এরপর আগামী ২৫ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরো সেতুর পিচ ঢালাইয়ের (কার্পেটিং) কাজ সোমবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত সেতুর সার্বিক অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শর্তাংশ। এর মধ্যে মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ ও নদী শাসনের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে প্রকল্প সূত্র জানায়।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ২৫ জুন সেতুর উদ্বোধনের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় সেতু কাজের গতি আরও বেড়ে যাবে। যেসব কাজ বাকি আছে তা উদ্বোধনের আগের শেষ হয়ে যাবে। তবে নদী শাসনের কিছু কাজ বাকি থাকতে পারে। উদ্বোধনের পরেও কিছুদিন দিন শাসনের চলবে। এখনো সবাই সেতুর উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। সেতু উদ্বোধনের জন্য ১৮টি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে পদ্মাসেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘পদ্মা সেতুতে নদীশাসন ছাড়া প্রকল্পের সব কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। গত মাস পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ। মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ৯৮ শতাংশ ও নদী শাসনের ৯২ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া সংযোগ সড়কসহ অন্যান্য কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে। আগামী ২৫ জুনের আগে উদ্বোধনের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করা হবে।’ সেতু উদ্বোধনের জন্য এখন পর্যন্ত ১৮টি উপকমিটি গঠনর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

‘পদ্মা সেতু’ হবে সেতুর নাম

সেতুর নাম পদ্মা নদীর নামেই হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। মঙ্গলবার (২৪ মে) গণভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘বহু প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতু, সেটা কবে উদ্বোধন হবে জানার আগ্রহ সবার মধ্যে। সেই সুসংবাদ আপনাদের দিচ্ছি। ২৫ জুন শনিবার সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু কন্যা, প্রধানমন্ত্রী, দেশরতœ শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করবেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আরেকটি বিষয়, আমরা দুটো সামারি নিয়ে এসেছিলাম, একটি সামারি উদ্বোধন, তিনি তারিখ দিয়ে সই করেছেন ২৫ জুন। আরেকটি সামারি, সেটাতে তিনি স্বাক্ষর করেননি। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন, ‘পদ্মা সেতু পদ্মা নদীর নামেই হবে। এটা আমি অন্য কারো নামে দেব না। বঙ্গবন্ধু পরিবারের কারো নামেও হবে না।’

সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে প্রশ্ন করলে মন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে, যারা বেশি বিরুদ্ধে বলছে, তাদের আগে আমন্ত্রণ জানানো হবে।’

এর আগে দক্ষিণ জনপদের সঙ্গে রাজধানীর সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের এই সেতুর নাম ‘শেখ হাসিনা সেতু’ করার দাবি রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। নানা অঙ্গন থেকে তাতে সমর্থনও এসেছে। তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তাতে সায় দেননি।

সেতুতে বসানো হয়েছে ৪১৫টি সড়ক বাতি

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতুতে মোট ৪১৫টি ল্যাম্পপোস্ট (সড়ক বাতি) বসানো হয়েছে। এর মধ্যে মূল সেতুতে ৩২৮টি, জাজিরা প্রান্তের উড়ালপথ (ভায়াডাক্ট) ৪৬টি, মাওয়া প্রান্তের ভায়াডাক্টে ৪১টি ল্যাম্পপোস্ট বসানো হয়েছে। গত বছর ২৫ নভেম্বর মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে প্রথম ল্যাম্পপোস্ট বসানোর কাজ শুরু হয়েছিল। গত ১৮ এপ্রিল এসব ল্যাম্পপোস্ট ও এর মধ্যে বাতি লাগানোর কাজ শেষ হয়। আগামী ২০ জুনের মধ্যে সেতুতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। সেতুর সড়ক বাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া জন্য গত ১৫ মে মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুর পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিকে চিঠি দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

মূল সেতুতে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ ৩০ মের মধ্যে সরবরাহ করতে হবে। তবে তা সম্ভব না হলে জুনের প্রথম সপ্তাহের বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। এজন্য প্রয়োজনীয় অর্থও পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে জমা দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম সংবাদকে বলেন, ‘সেতুর বাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার পলীবিদ্যুৎ বিভাগে চিঠি দেয়া হয়েছে। আমার টার্গেট করেছি ৩১ মের মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে। তা যদি সম্ভব্য না হয় তাহলে জুনের প্রথম সপ্তাহে সড়কবাতিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হবে।’

সেতু উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি

২৫ জুন সেতু উদ্বোধনের সার্বিক প্রস্তুতি নিচ্ছে সেতু বিভাগ। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জাঁকজমকপূর্ণ করার জন্য ১৮টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে মাওয়ায় সুধী সমাবেশ ও জাজিরা জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার গণভবনের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘পদ্মা সেতু ‘উদ্বোধন উপলক্ষে সাজসজ্জা করা হবে। এছাড়া মাওয়া প্রান্তে একটি সুধী সমাবেশ, আর জাজিরা প্রান্তে জনসভা হবে।’

বিএনপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, ‘সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। যারা বেশি বিরুদ্ধে বলেছেন তাদের আগে দেব আমন্ত্রণ।’

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, দুই প্রান্তে দুটি অনুষ্ঠান হবে ধরে নিয়ে সেতু বিভাগের কর্মকর্তাদের নিয়ে ১৮টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে দাওয়াত দেয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত কমিটি দাওয়াত কার্ডের নকশা ও সজ্জার কাজ শুরু করে দিয়েছে। মনোরম ভেন্যু, সাজসজ্জা, আসন ব্যবস্থাপনা ও অতিথিদের অভ্যর্থনার জন্য রয়েছে কমিটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিডিও প্রদর্শনী থাকবে। অতিথিদের দেয়া হবে উপহার-স্যুভেনির। এর জন্যও কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিথিদের মাওয়া ও জাজিরা-দুই পাড়েই আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে। আর এই কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া করোনাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য দুই পাড়েই একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য, বিশিষ্ট রাজনীতিক ছাড়াও বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকেরা উপস্থিত থাকবেন। পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আগে থেকেই এই প্রকল্প দেশে-বিদেশে আলোচিত। এজন্য অনুষ্ঠান যতটা সম্ভব আকর্ষণীয় করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্ত থেকে সেতু উদ্বোধন করে গাড়িতে চড়ে সেতু পার হয়ে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে যাবেন। সেখানে আরেক দফা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। পরে জনসভা ভাষণ দিবেন। এর মধ্যে সেতু বিভাগের কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের জন্য ম্যুরাল ও ফলক নির্মাণের কাজ চলছে। মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে ৪০ ফুট উচ্চতার দুটি ম্যুরাল নির্মিত হচ্ছে। দুটি ম্যুরালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি থাকবে। এর পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে উদ্বোধনী ফলক।

উদ্বোধনের দিন থেকে চালু সেতুর টোল

মঙ্গলবার পদ্মা সেতু টোর নির্ধারণ করে এক প্রজ্ঞাপনে জারি করেছে সেতু বিভাগ। যা সেতু চালু হওয়ার দিন থেকে কার্যকর করা হবে। এতে সেতুতে মোটরসাইকেলের জন্য ১০০ টাকা, কার ও জিপের জন্য ৭৫০ টাকা, পিকআপে ১২০০ টাকা; মাইক্রোবাসের জন্য ১৩০০ টাকা; ছোট বাসের (৩১ সিটের কম) জন্য ১৪০০ টাকা; মাঝারি বাসের (৩২ সিটের বেশি) জন্য ২০০০ টাকা; বড় বাসের (৩ এক্সেল) ২৪০০ টাকা, ছোট ট্রাকের (৫ টন পর্যন্ত) জন্য ১৬০০ টাকা; মাঝারি ট্রাকের (৫-৮ টন পর্যন্ত) ২১০০ টাকা; মাঝারি ট্রাক (৮-১১ টন পর্যন্ত) ২৮০০ টাকা; ট্রাকের জন্য (৩ এক্সেল) ৫৫০০ টাকা; ট্রেইলারের জন্য (৪ এক্সেল) ৬০০০ টাকা। ট্রেইলার ৪ এক্সেলের ঊর্ধ্বে ৬০০০ হাজারের প্রতি এক্সেলে ১৫০০ টাকা যোগ করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর টোল আদায়কারী ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণে ঠিকাদার নিয়োগ করেছে সেতু বিভাগ। এ কাজ পেয়েছে কোরিয়া এক্সপ্রেস করপোরেশন (কেইসি) ও চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি)। এর মধ্যে এমবিইসি বর্তমানে মূল সেতুর নির্মাণকাজ এবং কেইসি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই দুটি প্রতিষ্ঠান টোল আদায়, সেতু ও সেতুর দুই প্রান্তে যানবাহন চলাচল ব্যবস্থাপনায় আধুনিক পদ্ধতি চালু এবং সেতু ও নদীশাসনের কাজ রক্ষণাবেক্ষণ করবে। এজন্য ৫ বছরে তাদের দিতে হবে ৬৯৩ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন সংবাদকে বলেন, ‘সেতু উদ্বোধনের আগেই যানবাহন চলাচলের জন্য টোলের হার নির্ধারণ করা হয়েছে। যা মঙ্গলবার গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। যেদিন থেকে সেতু চালু হবে সেদিন থেকেই এই টোল কার্যকর করা হবে।’

back to top