alt

জাতীয়

১৫ আগস্ট : ঘাতকদের রক্তের হোলিখেলা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক : সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল এদেশেরই একদল কুলাঙ্গার সেনা সদস্য। যার হাত ধরে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ, স্বাধীনদের সেই নেতাকেই জীবন দিতে হয়েছিল সপরিবারে। ইতিহাসে এর চেয়ে জঘন্য হত্যাকান্ড আর কোথাও ঘটেনি।

ঘাতকরা সেদিন সেই ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা করার পর বঙ্গবন্ধু বাড়ির সিড়িতে দাড়িয়ে ঘাতকদের উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন করেছিলেন, তোরা কি চাস? কিন্তু তার সে কথা শেষ করতে পারেননি। এক কুলাঙ্গার সেনা সদস্য অস্ত্র তাক করে গুলী ছুড়ে জবাব দেয় জাতির পিতার প্রশ্নের। সেই বুলেট কেড়ে নেয় জাতির পিতার জীবন।

শুধু বঙ্গবন্ধুই নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্য সেই হতাযজ্ঞে বঙ্গবন্ধু পরিবারের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা নারীও সেদিন রেহাই পায়নি।

পচাত্তুরের সেই হত্যাযঞ্জের অনেক আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল থাতকরা। দিন যাচ্ছে আর ঘাতকদের সেই হত্যা পরিকল্পনার কথা বেরিয়ে আসছে। কিন্তু কেউ জানতে পারেনি সেই প্রস্তুতি-পরিকল্পনার কথা। ১৪ অগাস্ট সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর টু-ফিল্ড রেজিমেন্টের যানবাহনগুলো সচল হয়ে ওঠে। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দক্ষিণের একটি ইউনিট থেকে ১০৫ মিলিমিটার কামানগুলোকে ভারী ট্রাক দিয়ে টেনে কুর্মিটোলায় নির্মাণাধীন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় নিয়মিত নৈশ প্রশিক্ষণের জন্য। রাত ১০টার দিকে সেনানিবাসের উত্তর প্রান্ত থেকে বেঙ্গল ল্যান্সারের টি-৫৪ ট্যাংকগুলো ইউনিট থেকে বেরিয়ে পড়ে। এয়ারপোর্টে ১৮টি কামান ও ২৮টি ট্যাংক একত্রিত হয়।

১৫ আগস্ট শুরুর আধাঘন্টা আগে, ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেজর শরিফুল হক ডালিম, মেজর নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা, মেজর শাহরিয়ার রশিদ, মেজর আজিজ পাশা, মেজর রাশেদ চৌধুরী প্রমুখ নতুন এয়ারপোর্টে গিয়ে হাজির হয়। ১৫ অগাস্ট প্রথম প্রহরে মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান অফিসারদের নির্দেশ দেন, বিমানবন্দরের কাছে হেড কোয়ার্টারে স্কোয়াড্রন অফিসে মিলিত হতে হবে। সে-ই সে হত্যাযঞ্জের দায়িত্বে নিয়েছিল। এই ঘাতক তখন অফিসারদের অপারেশনের পরিকল্পনা জানান। প্রধান টার্গেট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি।

সেনা সদস্যরা পরিকল্পনা করে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোড, সোবাহানবাগ মসজিদ এবং ৩২ নম্বর ব্রিজে রোড ব্লক করে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা করবে। বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ধানমণ্ডিতে শেখ ফজলুল হক মণি এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসাতেও আক্রমণের সিদ্ধান্ত হয়। ডালিমকে বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণের সময় উপস্থিত থাকতে বলেন মেজর ফারুক। কিন্তু ‘পূর্ব সম্পর্কের অজুহাতে’ ডালিম বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণে না গিয়ে সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণের দায়িত্ব নেন। শেখ মণির বাসায় আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয় রিসালদার মোসলেমউদ্দিন খানকে। তার সঙ্গে দেওয়া হয় দুই প্লাটুন সৈন্য।

২৮টি ট্যাংক নিয়ে শেরে বাংলা নগরে রক্ষীবাহিনীকে প্রতিহত করার দায়িত্ব নেন মেজর ফারুক নিজে। সেসব ট্যাংকে গোলা না থাকলেও মেশিনগানে প্রচুর গুলি ছিল। মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণের জন্য ১২টি ট্রাকে সাড়ে তিনশ সাধারণ সৈনিককে তৈরি করা হয়।

ভোর সোয়া ৫টার দিকে মেজর ডালিম ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও শেখ মণির বাসায় আক্রমণ হয়। শেখ মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ঘাতকরা। প্রাণে বেঁচে যান শেখ মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস। ডালিমের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বেবী, ১২ বছরের ছেলে আরিফ, চার বছরের নাতি বাবু (আবুল হাসনাত আবদুল্লার ছেলে), ভাতিজা শহীদ সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে আবদুল নইম খান রিন্টু (আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর খালাতো ভাই), তিন অতিথি এবং চারজন গৃহকর্মীকে।

বঙ্গবন্ধু তার বাড়িতে হামলার আগেই তার আত্মীয় আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে যান।উপর থেকেই বঙ্গবন্ধু নিচতলায় তার ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মহিতুল ইসলামকে টেলিফোন করে বলেন, সেরনিয়াবাতের বাসায় দুষ্কৃতকারীরা আক্রমণ করেছে, পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করতে হবে। মহিতুল পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে কোনো সাড়া না পেয়ে গণভবন এক্সচেঞ্জে ফোন করতে চেষ্টা করেন।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ির রক্ষীরা বিউগল বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুরু করার সময়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির দিকে দক্ষিণ দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ শুরু হয়। ঘাতকদের আক্রমনের একটু পরে বঙ্গবন্ধু বারান্দায় বেরিয়ে আসেন। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথায় গৃহকর্মী রমা নিচে নেমে মূল ফটকের বাইরে গিয়ে দেখেন, সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য গুলি করতে করতে বাড়ির দিকে এগোচ্ছে।

হামলাকারীদের ছোড়া একঝাঁক গুলি জানালার কাচ ভেঙে অফিসের দেয়ালে লাগে। কাচের এক টুকরোয় মহিতুলের ডান হাতের কনুই জখম হয়। ওই জানালা দিয়ে গুলি আসতেই থাকে। বঙ্গবন্ধু টেবিলের পাশে শুয়ে পড়েন এবং মহিতুলের হাত ধরে কাছে টেনে শুইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর গুলি থেমে গেলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়িয়ে নিচতলার বারান্দায় বের হয়ে পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বলেন, “এত গুলি হচ্ছে, তোমরা কী করছ? এ কথা বলে বঙ্গবন্ধু দোতলায় চলে যান।

এ সময় মেজর নূর, মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) এবং ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা সৈন্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢোকে। গেটের ভেতর ঢুকেই তারা ‘হ্যান্ডস আপ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। কোনো কথা না বলেই শেখ কামালের পায়ে গুলি করেন বজলুল হুদা। নিজেকে বাঁচাতে লাফ দিয়ে ঘরের মধ্যে গিয়ে পড়েন শেখ কামাল। মহিতুলকে বলতে থাকেন, “আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। আপনি ওদেরকে বলেন। এরপর বজলুল হুদা হাতের অস্ত্র দিয়ে শেখ কামালের ওপর ব্রাশফায়ার করেন। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান শেখ কামাল।

এসময় বঙ্গবন্ধু দোতলায় তার ঘরের দরজা বন্ধ করে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ফোনে তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিলউদ্দিনকে পান। বঙ্গবন্ধু তাকে বলেন, জামিল, তুমি তাড়াতাড়ি আসো। আর্মির লোকরা আমার বাসা অ্যাটাক করেছে। সফিউল্লাহকে ফোর্স পাঠাতে বল।

সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহকে ফোন করে বঙ্গবন্ধু বলেন, সফিউল্লাহ তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে, কামালকে (শেখ কামাল) বোধ হয় মেরে ফেলেছে। তুমি জলদি ফোর্স পাঠাও। জবাবে সফিউল্লাহ বলেন, আই অ্যাম ডুয়িং সামথিং। ক্যান ইউ গেট আউট অফ দ্য হাউজ?

এসময় বঙ্গবন্ধুর বাড়ির গেইটের সামনে মহিতুল, নুরুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যসহ অন্য সদস্যদের সারি বেঁধে দাঁড় করানো হয়। ঘাতকদের একজন পুলিশের বিশেষ শাখার এক সদস্যকে গুলি করলে তিনি পড়ে যান। এরপর ঘাতকরা গুলি করতে করতে ওপরে চলে যায়। তারা শেখ জামালের ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেওয়া গৃহকর্মী আব্দুলকে গুলি করে।

এ সময় বঙ্গবন্ধুর ঘরে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ছিলেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী পারভীন জামাল রোজী। গোলাগুলি থামলে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসতেই ঘাতকরা তাকে ঘিরে ধরে। মেজর মহিউদ্দিন সৈন্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে নিচে নিয়ে যেতে থাকে। ঘাতকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে? বঙ্গবন্ধু আরো বলেন, তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি, কী করবি- বেয়াদবি করছিস কেন?

বজলুল হুদা ও নূর এ সময় নিচতলা ও দোতলায় সিঁড়ির মাঝামাঝিতে অবস্থান নেয় । বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে আসার সময় নূর কিছু একটা বললে মহিউদ্দিন সরে দাঁড়ান। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা ও নূর তাদের স্টেনগান দিয়ে গুলি করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ সময় ওই ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেন ফজিলাতুন নেছা মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ নাসের ও রমা। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নিচে নেমে এসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

এর পরপরই মেজর আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন তাদের সৈন্যদলসহ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢোকে। তারা বঙ্গবন্ধুর ঘরের দরজায় গুলি করেন। ফজিলাতুন নেছা মুজিব তখন দরজা খুলে দেন এবং ঘরের মধ্যে যারা আছেন, তাদের হত্যা না করার অনুরোধ করেন। ঘাতকরা সবাইকে নিচে নিয়ে আসতে থাকে।সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী। চিৎকার করে বলেন, আমি যাব না, আমাকে এখানেই মেরে ফেল।

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নিচে নামতে অস্বীকৃতি জানালে ঘাতকরা শেখ রাসেল, শেখ নাসের ও রমাকে নিচে নিয়ে যায়। আর ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে তার ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর ঘরে আগে থেকেই ছিলেন শেখ জামাল, সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ সবাইকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন।

শেখ নাসের, শেখ রাসেল আর রমাকে এরপর নিচে নিয়ে লাইনে দাঁড় করানো হয়। ১১ বছরের শেখ রাসেল লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথমে রমাকে এবং পরে মহিতুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে বলে, ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো? মহিতুল জবাব দেন, না ভাইয়া, তোমাকে মারবে না। এ সময় শেখ রাসেল তার মায়ের কাছে যেতে চাইলে আজিজ পাশা তাকে জোর করে মহিতুলের কাছ থেকে নিয়ে দোতলায় নিয়ে যেতে বলেন। এক হাবিলদার শেখ রাসেলকে দোতলায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। রাসেলের চোখ বেরিয়ে যায়। মাথার পেছনের অংশ থেঁতলে যায়। দেহটি পড়ে থাকে সুলতানা কামালের পাশে।

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সেদিন তার দুই মেয়ে ছিলেন না। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা স্বামীর সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন। ছোট বোন শেখ রেহানাকেও নিয়ে গিয়েছিলেন তারা।

হত্যাযঞ্জের পরদিন সেনাবাহিনীর ঢাকার স্টেশন কমান্ডার আব্দুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর লাশ ছাড়া ১৫ আগস্টে নিহতদের সবার লাশ দাফন করেন। আব্দুল হামিদ ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে কফিনে নিহতদের লাশ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শেখ মণি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের সদস্যদের লাশ সংগ্রহ করে বনানী গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন। ১৬ অগাস্ট সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় টুঙ্গীপাড়ায়। সেখানে তাকে দাফন করা হয় তার বাবার কবরের পাশে।

ছবি

বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দিন: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

করোনা: একদিনে ২ জনের মৃত্যু, নতুন রোগী ৫৭২

ছবি

সরকারি চাকরিতে বাড়ল আবেদন ফি

ছবি

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেবে মলদোভা

ছবি

অ্যাফিডেভিট ছাড়াই সংশোধন করা যাবে পাসপোর্ট

ছবি

ওয়াশিংটন ডিসি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে আমরা প্রত্যাখ্যান করি : রাষ্ট্রদূত জিমিং

ছবি

৪ অক্টোবর থেকে টিকার প্রথম ডোজ বন্ধ

ছবি

আজ বিশ্ব নদী দিবস

ছবি

যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞার পাল্টাপাল্টি বন্ধের আহ্বান

ছবি

করোনা: ৪ জনের মৃত্যু, দুই মাসে সর্বোচ্চ

ছবি

দুর্গাপূজা এবার ৩২ হাজারেরও বেশি মণ্ডপে

ছবি

জাপানে শিক্ষা সফরে যাচ্ছেন ওয়াসার এমডি

ছবি

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ রাতে, সংবর্ধনা শনিবার

ছবি

রোহিঙ্গাদের জন্য ১৭০ মিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি

জাতিসংঘে কী বলবেন প্রধানমন্ত্রী, ধারণা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

করোনা: শনাক্তের হার ছাড়াল ১৫ শতাংশ

ছবি

বাংলাদেশ-কম্বোডিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আশা

ছবি

‘কৃত্রিম সংকট, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি’ : ৪৫ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা

ঋতুপর্ণা-রুপনার সাফল্যে এলাকাবাসী পাচ্ছে সড়ক আর সেতু

ছবি

বদলে যাচ্ছে বিজয়ী নারীদের জীবন চিত্র

সাফজয়ী নারী ফুটবলারদের জন্য আর্থিক পুরস্কার ও বাড়িঘর দেয়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ প্রস্তাব

ছবি

অপসংস্কৃতির সবকিছু বর্জন করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

ছবি

এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স প্রতিরোধের ওপর গুরুত্বারোপ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

নতুন আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, র‌্যাব ডিজি খুরশীদ

ছবি

করোনা: শনাক্ত বেড়ে ৬৭৮, ঢাকায় ৫২৬

ছবি

ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা

ছবি

ডিম আমদানি হবে না : কৃষিমন্ত্রী

ছবি

অক্টোবরে অবসরে যাচ্ছেন আইজিপি বেনজীর

ছবি

গ্যাসের চাপ কম : সিলিন্ডার ভরছে না সিএনজি চালকদের ক্ষোভ

ছবি

আজ বিশ্ব ব্যক্তিগত গাড়িমুক্ত দিবস

ছবি

বাইডেনের অভ্যর্থনায় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ

ছবি

করোনা : সরকারি চাকরিতে ৩৯ মাস ছাড়

ছবি

জাতিসংঘে পদ্মা সেতুর আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

ছবি

ফিরলো সোনার মেয়েরা, জনস্রোতে বরণ

tab

জাতীয়

১৫ আগস্ট : ঘাতকদের রক্তের হোলিখেলা

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক

সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছিল এদেশেরই একদল কুলাঙ্গার সেনা সদস্য। যার হাত ধরে স্বাধীন হয়েছিল বাংলাদেশ, স্বাধীনদের সেই নেতাকেই জীবন দিতে হয়েছিল সপরিবারে। ইতিহাসে এর চেয়ে জঘন্য হত্যাকান্ড আর কোথাও ঘটেনি।

ঘাতকরা সেদিন সেই ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে হামলা করার পর বঙ্গবন্ধু বাড়ির সিড়িতে দাড়িয়ে ঘাতকদের উদ্দেশ্যে এ প্রশ্ন করেছিলেন, তোরা কি চাস? কিন্তু তার সে কথা শেষ করতে পারেননি। এক কুলাঙ্গার সেনা সদস্য অস্ত্র তাক করে গুলী ছুড়ে জবাব দেয় জাতির পিতার প্রশ্নের। সেই বুলেট কেড়ে নেয় জাতির পিতার জীবন।

শুধু বঙ্গবন্ধুই নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসে জঘন্য সেই হতাযজ্ঞে বঙ্গবন্ধু পরিবারের শিশু থেকে শুরু করে অন্তঃসত্ত্বা নারীও সেদিন রেহাই পায়নি।

পচাত্তুরের সেই হত্যাযঞ্জের অনেক আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিল থাতকরা। দিন যাচ্ছে আর ঘাতকদের সেই হত্যা পরিকল্পনার কথা বেরিয়ে আসছে। কিন্তু কেউ জানতে পারেনি সেই প্রস্তুতি-পরিকল্পনার কথা। ১৪ অগাস্ট সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সেনাবাহিনীর টু-ফিল্ড রেজিমেন্টের যানবাহনগুলো সচল হয়ে ওঠে। ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দক্ষিণের একটি ইউনিট থেকে ১০৫ মিলিমিটার কামানগুলোকে ভারী ট্রাক দিয়ে টেনে কুর্মিটোলায় নির্মাণাধীন বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় নিয়মিত নৈশ প্রশিক্ষণের জন্য। রাত ১০টার দিকে সেনানিবাসের উত্তর প্রান্ত থেকে বেঙ্গল ল্যান্সারের টি-৫৪ ট্যাংকগুলো ইউনিট থেকে বেরিয়ে পড়ে। এয়ারপোর্টে ১৮টি কামান ও ২৮টি ট্যাংক একত্রিত হয়।

১৫ আগস্ট শুরুর আধাঘন্টা আগে, ১৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে মেজর শরিফুল হক ডালিম, মেজর নূর চৌধুরী, ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা, মেজর শাহরিয়ার রশিদ, মেজর আজিজ পাশা, মেজর রাশেদ চৌধুরী প্রমুখ নতুন এয়ারপোর্টে গিয়ে হাজির হয়। ১৫ অগাস্ট প্রথম প্রহরে মেজর সৈয়দ ফারুক রহমান অফিসারদের নির্দেশ দেন, বিমানবন্দরের কাছে হেড কোয়ার্টারে স্কোয়াড্রন অফিসে মিলিত হতে হবে। সে-ই সে হত্যাযঞ্জের দায়িত্বে নিয়েছিল। এই ঘাতক তখন অফিসারদের অপারেশনের পরিকল্পনা জানান। প্রধান টার্গেট ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি।

সেনা সদস্যরা পরিকল্পনা করে ধানমণ্ডি ২৭ নম্বর রোড, সোবাহানবাগ মসজিদ এবং ৩২ নম্বর ব্রিজে রোড ব্লক করে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে হামলা করবে। বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে ধানমণ্ডিতে শেখ ফজলুল হক মণি এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের বাসাতেও আক্রমণের সিদ্ধান্ত হয়। ডালিমকে বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণের সময় উপস্থিত থাকতে বলেন মেজর ফারুক। কিন্তু ‘পূর্ব সম্পর্কের অজুহাতে’ ডালিম বঙ্গবন্ধুর বাসায় আক্রমণে না গিয়ে সেরনিয়াবাতের বাসায় আক্রমণের দায়িত্ব নেন। শেখ মণির বাসায় আক্রমণের দায়িত্ব দেওয়া হয় রিসালদার মোসলেমউদ্দিন খানকে। তার সঙ্গে দেওয়া হয় দুই প্লাটুন সৈন্য।

২৮টি ট্যাংক নিয়ে শেরে বাংলা নগরে রক্ষীবাহিনীকে প্রতিহত করার দায়িত্ব নেন মেজর ফারুক নিজে। সেসব ট্যাংকে গোলা না থাকলেও মেশিনগানে প্রচুর গুলি ছিল। মেজর এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি আক্রমণের জন্য ১২টি ট্রাকে সাড়ে তিনশ সাধারণ সৈনিককে তৈরি করা হয়।

ভোর সোয়া ৫টার দিকে মেজর ডালিম ও রিসালদার মোসলেমউদ্দিনের নেতৃত্বে আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও শেখ মণির বাসায় আক্রমণ হয়। শেখ মণি ও তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যা করে ঘাতকরা। প্রাণে বেঁচে যান শেখ মণির ছেলে শেখ ফজলে শামস পরশ ও শেখ ফজলে নূর তাপস। ডালিমের নেতৃত্বে হত্যা করা হয় আবদুর রব সেরনিয়াবাত, তার ১৪ বছর বয়সী মেয়ে বেবী, ১২ বছরের ছেলে আরিফ, চার বছরের নাতি বাবু (আবুল হাসনাত আবদুল্লার ছেলে), ভাতিজা শহীদ সেরনিয়াবাত, ভাগ্নে আবদুল নইম খান রিন্টু (আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুর খালাতো ভাই), তিন অতিথি এবং চারজন গৃহকর্মীকে।

বঙ্গবন্ধু তার বাড়িতে হামলার আগেই তার আত্মীয় আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে যান।উপর থেকেই বঙ্গবন্ধু নিচতলায় তার ব্যক্তিগত সহকারী এ এফ এম মহিতুল ইসলামকে টেলিফোন করে বলেন, সেরনিয়াবাতের বাসায় দুষ্কৃতকারীরা আক্রমণ করেছে, পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করতে হবে। মহিতুল পুলিশ কন্ট্রোল রুমে ফোন করে কোনো সাড়া না পেয়ে গণভবন এক্সচেঞ্জে ফোন করতে চেষ্টা করেন।

বঙ্গবন্ধুর বাড়ির রক্ষীরা বিউগল বাজিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন শুরু করার সময়, ভোর সাড়ে ৫টার দিকে বাড়ির দিকে দক্ষিণ দিক থেকে সরাসরি আক্রমণ শুরু হয়। ঘাতকদের আক্রমনের একটু পরে বঙ্গবন্ধু বারান্দায় বেরিয়ে আসেন। বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের কথায় গৃহকর্মী রমা নিচে নেমে মূল ফটকের বাইরে গিয়ে দেখেন, সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য গুলি করতে করতে বাড়ির দিকে এগোচ্ছে।

হামলাকারীদের ছোড়া একঝাঁক গুলি জানালার কাচ ভেঙে অফিসের দেয়ালে লাগে। কাচের এক টুকরোয় মহিতুলের ডান হাতের কনুই জখম হয়। ওই জানালা দিয়ে গুলি আসতেই থাকে। বঙ্গবন্ধু টেবিলের পাশে শুয়ে পড়েন এবং মহিতুলের হাত ধরে কাছে টেনে শুইয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর গুলি থেমে গেলে বঙ্গবন্ধু উঠে দাঁড়িয়ে নিচতলার বারান্দায় বের হয়ে পাহারায় থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের বলেন, “এত গুলি হচ্ছে, তোমরা কী করছ? এ কথা বলে বঙ্গবন্ধু দোতলায় চলে যান।

এ সময় মেজর নূর, মহিউদ্দিন আহমেদ (ল্যান্সার) এবং ক্যাপ্টেন বজলুল হুদা সৈন্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢোকে। গেটের ভেতর ঢুকেই তারা ‘হ্যান্ডস আপ’ বলে চিৎকার করতে থাকে। কোনো কথা না বলেই শেখ কামালের পায়ে গুলি করেন বজলুল হুদা। নিজেকে বাঁচাতে লাফ দিয়ে ঘরের মধ্যে গিয়ে পড়েন শেখ কামাল। মহিতুলকে বলতে থাকেন, “আমি শেখ মুজিবের ছেলে শেখ কামাল। আপনি ওদেরকে বলেন। এরপর বজলুল হুদা হাতের অস্ত্র দিয়ে শেখ কামালের ওপর ব্রাশফায়ার করেন। সঙ্গে সঙ্গে মারা যান শেখ কামাল।

এসময় বঙ্গবন্ধু দোতলায় তার ঘরের দরজা বন্ধ করে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে থাকেন। এক পর্যায়ে ফোনে তার সামরিক সচিব কর্নেল জামিলউদ্দিনকে পান। বঙ্গবন্ধু তাকে বলেন, জামিল, তুমি তাড়াতাড়ি আসো। আর্মির লোকরা আমার বাসা অ্যাটাক করেছে। সফিউল্লাহকে ফোর্স পাঠাতে বল।

সেনাপ্রধান জেনারেল সফিউল্লাহকে ফোন করে বঙ্গবন্ধু বলেন, সফিউল্লাহ তোমার ফোর্স আমার বাড়ি অ্যাটাক করেছে, কামালকে (শেখ কামাল) বোধ হয় মেরে ফেলেছে। তুমি জলদি ফোর্স পাঠাও। জবাবে সফিউল্লাহ বলেন, আই অ্যাম ডুয়িং সামথিং। ক্যান ইউ গেট আউট অফ দ্য হাউজ?

এসময় বঙ্গবন্ধুর বাড়ির গেইটের সামনে মহিতুল, নুরুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্যসহ অন্য সদস্যদের সারি বেঁধে দাঁড় করানো হয়। ঘাতকদের একজন পুলিশের বিশেষ শাখার এক সদস্যকে গুলি করলে তিনি পড়ে যান। এরপর ঘাতকরা গুলি করতে করতে ওপরে চলে যায়। তারা শেখ জামালের ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেওয়া গৃহকর্মী আব্দুলকে গুলি করে।

এ সময় বঙ্গবন্ধুর ঘরে বঙ্গবন্ধু ছাড়াও ছিলেন ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী পারভীন জামাল রোজী। গোলাগুলি থামলে বঙ্গবন্ধু দরজা খুলে বারান্দায় বেরিয়ে আসতেই ঘাতকরা তাকে ঘিরে ধরে। মেজর মহিউদ্দিন সৈন্যদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে নিচে নিয়ে যেতে থাকে। ঘাতকদের উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু বলেন, তোরা কী চাস? কোথায় নিয়ে যাবি আমাকে? বঙ্গবন্ধু আরো বলেন, তোরা আমাকে কোথায় নিয়ে যাবি, কী করবি- বেয়াদবি করছিস কেন?

বজলুল হুদা ও নূর এ সময় নিচতলা ও দোতলায় সিঁড়ির মাঝামাঝিতে অবস্থান নেয় । বঙ্গবন্ধুকে নিচে নিয়ে আসার সময় নূর কিছু একটা বললে মহিউদ্দিন সরে দাঁড়ান। সঙ্গে সঙ্গে বজলুল হুদা ও নূর তাদের স্টেনগান দিয়ে গুলি করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ সময় ওই ঘরের বাথরুমে আশ্রয় নেন ফজিলাতুন নেছা মুজিব, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, শেখ নাসের ও রমা। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে নিচে নেমে এসে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

এর পরপরই মেজর আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন তাদের সৈন্যদলসহ বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে ঢোকে। তারা বঙ্গবন্ধুর ঘরের দরজায় গুলি করেন। ফজিলাতুন নেছা মুজিব তখন দরজা খুলে দেন এবং ঘরের মধ্যে যারা আছেন, তাদের হত্যা না করার অনুরোধ করেন। ঘাতকরা সবাইকে নিচে নিয়ে আসতে থাকে।সিঁড়িতে বঙ্গবন্ধুর লাশ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার স্ত্রী। চিৎকার করে বলেন, আমি যাব না, আমাকে এখানেই মেরে ফেল।

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব নিচে নামতে অস্বীকৃতি জানালে ঘাতকরা শেখ রাসেল, শেখ নাসের ও রমাকে নিচে নিয়ে যায়। আর ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে তার ঘরে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। বঙ্গবন্ধুর ঘরে আগে থেকেই ছিলেন শেখ জামাল, সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল। ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ সবাইকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে আজিজ পাশা ও রিসালদার মোসলেউদ্দিন।

শেখ নাসের, শেখ রাসেল আর রমাকে এরপর নিচে নিয়ে লাইনে দাঁড় করানো হয়। ১১ বছরের শেখ রাসেল লাইনে দাঁড়িয়ে প্রথমে রমাকে এবং পরে মহিতুল ইসলামকে জড়িয়ে ধরে বলে, ভাইয়া, আমাকে মারবে না তো? মহিতুল জবাব দেন, না ভাইয়া, তোমাকে মারবে না। এ সময় শেখ রাসেল তার মায়ের কাছে যেতে চাইলে আজিজ পাশা তাকে জোর করে মহিতুলের কাছ থেকে নিয়ে দোতলায় নিয়ে যেতে বলেন। এক হাবিলদার শেখ রাসেলকে দোতলায় নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে। রাসেলের চোখ বেরিয়ে যায়। মাথার পেছনের অংশ থেঁতলে যায়। দেহটি পড়ে থাকে সুলতানা কামালের পাশে।

বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে সেদিন তার দুই মেয়ে ছিলেন না। বড় মেয়ে শেখ হাসিনা স্বামীর সঙ্গে জার্মানিতে ছিলেন। ছোট বোন শেখ রেহানাকেও নিয়ে গিয়েছিলেন তারা।

হত্যাযঞ্জের পরদিন সেনাবাহিনীর ঢাকার স্টেশন কমান্ডার আব্দুল হামিদ বঙ্গবন্ধুর লাশ ছাড়া ১৫ আগস্টে নিহতদের সবার লাশ দাফন করেন। আব্দুল হামিদ ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবন থেকে কফিনে নিহতদের লাশ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে শেখ মণি ও আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের সদস্যদের লাশ সংগ্রহ করে বনানী গোরস্থানে দাফনের ব্যবস্থা করেন। ১৬ অগাস্ট সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে বঙ্গবন্ধুর লাশ নিয়ে যাওয়া হয় টুঙ্গীপাড়ায়। সেখানে তাকে দাফন করা হয় তার বাবার কবরের পাশে।

back to top