alt

জাতীয়

‘আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়’

ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট : মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান

আওয়ামী লীগ ‘ভোট চুরির’ সঙ্গে জড়িত নয় উল্লেখ করে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘নমিনেশন বাণিজ্যের’ কারণে বিএনপি জিততে না পেরে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপিয়েছে।

আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোটেই এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়। আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন? জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়।’

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তিনি ভাষণ শুরু করেন। প্রায় ৫৩ মিনিটের বক্তব্যে বিগত জাতীয় নির্বাচন, রাজনীতি ও বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জিতবে কীভাবে? এক সিটে যদি তিনজন করে নমিনেশন দেয়, ফখরুল একজনকে নমিনেশন দেয়, রিজভী আরেকজনকে দেয় আর লন্ডনে থেকে তারেক দেয় আরেকজনকে। যে যত টাকা পায় সে ততটা নমিনেশন দেয়। সেখানে হলো টাকার খেলা। তারপর নির্বাচন থেকে শেষে সরে দাঁড়িয়ে বলে আমাদের নির্বাচন ইলেকশন করতে দিল না।’

বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের উদাহরণ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি নেতা অন্তত দুইজন আমার কাছে এসে নালিশ করে গেছে। সিলেটে এনাম চৌধুরী এসে সোজা বললেন, দেখো আমার কাছে টাকা চেয়েছে তারেক জিয়া। আমি দিতে পারি নাই। তাই আমার নমিনেশন বাতিল করে যার কাছ থেকে টাকা পেয়েছে তাকে দিয়েছে।’

‘মোর্শেদ খান, তিনি নিজে এসে বলেছেন। তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছে। সেজন্য সে বলেছে, আমি টাকা দিতে পারবো না। ব্যাস তার নমিনেশন ক্যানসেল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হলো তাদের দু’হাজার আঠারোর নির্বাচন। এটা আমাদের দেশের যারা ইন্টেলেকচ্যুয়াল, অনেকে বোধ হয় ভুলেই গেছেন, এই কথাগুলো লিখতে। যে ওইভাবে নির্বাচন করে নির্বাচন জেতা যায় না। এটা হলো বাস্তবতা। সকালে একজনের নাম যায়, দুপুরে আরেকটা, বিকেলে আরেকটা নাম যায়। এইভাবে হলো তাদের ইলেকশন।’

বিএনপি গঠনের ইতিহাস তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তাদের জন্মই হয়নি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে। জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে। ক্যান্টনমেন্টে বসে গোয়েন্দাদের সহায়তায় এই দলের গঠন।’

জিয়াউর রহমানের আমলে নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোট চুরি, ভোট কারচুপি, এই কালচার কে নিয়ে এসেছে? এটা তো জিয়াউর রহমান শুরু করেছে। হ্যাঁ-না ভোট। না-এর বাক্স পাওয়াই যায়নি, খালি হ্যাঁ-এর বাক্স। এই তাদের ইলেকশনের চেহারা।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আর খালেদা জিয়া কী করেছিল? ১৯৯১ সালে জামাতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করল। যখন ১৯৯৬ সালে ইলেকশন, সেই ইলেকশনে জনগণের ভোট চুরি করল।’

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার পদত্যাগের বাধ্য হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা বিএনপির মনে রাখা দরকার যে জনগণের ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না। জনগণ জানে কীভাবে সেই সরকার উৎখাত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। যতবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোট নিয়েই সরকারে এসেছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটিবারই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে ২০০১ সালে ৫ বছর সম্পন্ন হওয়ার পর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

আর কোনদিন বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে কি না সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে। সেজন্যই আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা দিয়ে এসেছিল।’

দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার দন্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক জ্ঞানী-গুণী দেখি বিএনপির সঙ্গে হাত মেলায়, অনেক তত্ত্ব কথা শোনায়, গণতন্ত্রের সবক দেয়, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়। আমার সেই... আমাদের ওই যে বুদ্ধিজীবী... এরা বুদ্ধিজীবী নিজেদের অনেকে বলে, আমি বলি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী। তারা আসলে বুদ্ধিজীবী না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, এই সমস্ত দুর্বৃত্তায়ন যারা করেছে, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়ার এই প্রচেষ্টা কেন? আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী?’

দেশের সব ব্যাংকেই টাকা আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংকগুলোতে ‘টাকা না থাকার গুজব’ ছড়িয়ে একটি শ্রেণী মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। সেই গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথা স্পষ্ট জানাতে চাই, আমি গতকালকে (৫ ডিসেম্বর) রাতে আমাদের যেমন এসডিজি এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে... সেই মিটিং করেছি। এরপরে আমি আবার অর্থ সচিব এবং আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আজকে (৬ ডিসেম্বর) সকালে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। আল্লাহর রহমতে আমাদের কোন সমস্যা নাই। প্রতি ব্যাংকেই টাকা আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। কী? ব্যাংকে টাকা নেই। টাকা নেই বলে অনেকে টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি আগেও বক্তৃতায় বলেছি, এখনও বলি যে এদের কি চোরের সঙ্গে কোন সখ্যতা আছে কি না যে ব্যাংকের থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখে চোরের পোয়াবারো। চোর চুরি করে খেতে পারবে, সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছে নাকি কেউ কেউ, আমি জানি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমি বলব, গুজবে কেউ কান দেবেন না। গুজবে কান দেবেন না। এটাই আমার সবার কাছে একটা অনুরোধ যে যারা এইসব মিথ্যা কথা বলে মানুষকে তারা ভাওতাবাজি দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায়, এটা একটা শ্রেণী আছে। তারা এটা করবেই আমি জানি। আর মিথ্যা কথায় তারা পারদর্শী।’

‘আওয়ামী লীগের ডিজিটাল বাংলাদেশকে’ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হচ্ছে মন্তব্য করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘স্যোশাল মিডিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ভরে গেছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তার উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।’

জবাব হিসেবে কমেন্ট বক্সে বিএনপি-জামায়াতের অপকর্ম তুলে ধরলেই তারা (গুজবকারী) অপপ্রচার বন্ধ করে দেবে দাবি করে শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থেকে কী করেছে... তাদের অগ্নিসন্ত্রাস, তাদের খুন, তারা কাকে কাকে মেরেছে, কী করেছে, কই কই তাদের চুরি, ভোট চুরি, ডাকাতি এগুলো তুলে ধরলেই তো যথেষ্ট। কাজেই আমার মনে হয় ছাত্রলীগ এই কাজটা করতে পারবে।’

বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। আর ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য উত্তোলন করেন দলীয় পতাকা। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি পায়রা অবমুক্ত করে ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই সারাদেশ থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হন। তারা বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দেন। রং-বেরঙের টি-শার্ট পরে অনেকে সম্মেলনে যোগ দেন।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ সামনের দিকে এগোয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ পেছনে যায়। বলা হয় না, ভূতের পা পেছন দিকে। ওরা মনে হয় ভূত হয়ে ক্ষমতায় আসে। আমরা সেখান থেকে দেশকে আবার ঘুরে দাঁড় করিয়েছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘খালেদা জিয়া হুমকি দিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে ছাত্রদলই যথেষ্ট। তারা ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। আর আমি বই, খাতা, কলম তুলে দিয়েছিলাম।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৭৬। যেকোন সময় আমি অক্কা পেতে পারি। কিন্তু আমাদের বাকি প্রজন্মকে কাজ করতে হবে।’ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের পড়ালেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া শিখে এ দেশের উপযুক্ত নাগরিক হতে হবে, যেন বাংলাদেশের এই উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকে। যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেউ যেন মুছে ফেলতে না পারে। বাংলাদেশের ক্ষমতায় যেন আর কখনো বিএনপি-জামায়াত আসতে না পারে, সেজন্য জনমত গড়ে তুলতে হবে।’

করোনা মহামারী ও বন্যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন কিছু করার আগে ছাত্রলীগকে পাশে রাখতেন। তাদের জানাতেন। আজকেও ছাত্রলীগ একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের খারাপ অবস্থার কথা তুলে ধরে ভাষণে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেলসহ সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট ও বিসিএল কমিউনিটি অ্যাপের উদ্বোধন করেন।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দুই বছর পরপর ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয় না। সংগঠনটির সর্বশেষ ২৯তম সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের মে মাসে। ওই বছরের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রাব্বানী দায়িত্ব পান। তারা পদ হারালে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সভাপতি পদে আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক পদে লেখক ভট্টাচার্য আসেন। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তাদের ‘ভারমুক্ত’ করা হয়।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, এবার ৩০তম সম্মেলন সামনে রেখে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২৫৪ জন। তাদের মধ্যে ৯৬ জন সভাপতি ও ১৫৮ জন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সম্মেলনের পর ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষে জানান, আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের আগেই ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেবেন শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন এখানেই শেষ। দ্বিতীয় অধিবেশন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা নাম প্রস্তাব করবেন। প্রস্তাবিত সেই তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সেই তালিকা থেকেই নতুন কমিটি চূড়ান্ত করবেন সংগঠনের অভিভাবক শেখ হাসিনা।

ছবি

আবার বাড়লো বিদ্যুতের দাম

শিশু হাসপাতালের বনভোজন, ওষুধ কোম্পানির কাছে চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি

দেশে অবৈধ ইটভাটা ৪ হাজার ৬৩৩: সংসদে পরিবেশ মন্ত্রী

ছবি

দুর্নীতি কমাতে রাজনৈতিক অঙ্গনে দরকার বৈপ্লবিক পরিবর্তন : টিআইবি

ছবি

সেব্রিনা ফ্লোরাসহ স্বাস্থ্যের চার পরিচালক বদলি

ছবি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী আসিফ ‘আত্মগোপনে’ আছেন ধারণা ইসির

ছবি

বায়ুদূষণ রোধে কাল থেকে বিশেষ অভিযান

ছবি

দেশে কোভিডে আরও ১৩ জন আক্রান্ত

ছবি

দেশ দলমত নির্বিশেষে সবার জন্যই কাজ করেছি : প্রধানমন্ত্রী

ছবি

তাপমাত্রা বাড়তে পারে, সাগরে নিম্নচাপ

ছবি

দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম

ছবি

১৯১ নিউজ পোর্টালের ডোমেইন বাতিলে চিঠি দেয়া হয়েছে : তথ্যমন্ত্রী

ছবি

অমর একুশের বইমেলা কাল শুরু

ছবি

পাঠ্যপুস্তকে ভুলত্রুটি শনাক্তে কমিটি গঠন

ছবি

হঠাৎ বেড়ে গেছে এলপি গ্যাসের দাম বিপাকে ভোক্তারা

ছবি

দেশবিরোধী ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা: ১৯১টি নিউজ পোর্টাল বন্ধের নির্দেশ

ছবি

বুধবার শুরু হচ্ছে একুশে বইমেলা, চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

ছবি

সাগরে লঘুচাপ, আরও ঘণীভূত হওয়ার শঙ্কা

ছবি

এই ফেব্রুয়ারিতে ঢাকায় দূতাবাস খুলছে আর্জেন্টিনা

ছবি

জমজমের পানি বিক্রি বন্ধ, কেনা-বেচার যৌক্তিকতা জানাবে ইসলামিক ফাউন্ডেশন

ছবি

গত ২৪ ঘন্টায় ১১ জন করোনায় আক্রান্ত

ছবি

গণতন্ত্রর ধারাবাহিক না থাকলে দেশ উন্নয়ন হতো না: প্রধানমন্ত্রী

ছবি

২৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আর্জেন্টিনা দূতাবাস চালু হচ্ছে

ছবি

আজ ১১ প্রকল্প উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

দূষিত শহরের তালিকায় টানা ১০ দিন শীর্ষে ঢাকা

সরকারের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সংসদে বিল পাস

ছবি

বিজিবির নতুন মহাপরিচালক নাজমুল হাসান

ছবি

দেশে করোনা পজেটিভ ১৬জন, সবাই ঢাকার

ছবি

দেশের রাজনীতি নিয়ে অন্যদের বাড়াবাড়ি করার সুযোগ নেই:পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি

খেজুরের রস: নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ৮ জনের মধ্যে ৫ মৃত্যু, অসতর্কতাকে দায়ী করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি

প্রবাসী ইমরানের মামলা খারিজ, দুই শিশু থাকবে জাপানি মায়ের কাছে

ছবি

রাজশাহীতে ২৬ প্রকল্প উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

জনসভায় যোগ দিয়ে বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি

উন্নয়নকাজ হলে বায়ুদূষণ হবেই : পরিবেশমন্ত্রী

ছবি

সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রধানমন্ত্রী

ছবি

সারদায় প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

tab

জাতীয়

‘আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেয়’

ছাত্রলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

সংবাদ অনলাইন রিপোর্ট

প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান

মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২২

আওয়ামী লীগ ‘ভোট চুরির’ সঙ্গে জড়িত নয় উল্লেখ করে দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘নমিনেশন বাণিজ্যের’ কারণে বিএনপি জিততে না পেরে আওয়ামী লীগের ওপর দায় চাপিয়েছে।

আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোটেই এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হয়। আমরা ভোট চুরি করতে যাব কেন? জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের ভোট দেয়।’

মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তিনি ভাষণ শুরু করেন। প্রায় ৫৩ মিনিটের বক্তব্যে বিগত জাতীয় নির্বাচন, রাজনীতি ও বর্তমান সরকারের নানা উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবির কারণ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি জিতবে কীভাবে? এক সিটে যদি তিনজন করে নমিনেশন দেয়, ফখরুল একজনকে নমিনেশন দেয়, রিজভী আরেকজনকে দেয় আর লন্ডনে থেকে তারেক দেয় আরেকজনকে। যে যত টাকা পায় সে ততটা নমিনেশন দেয়। সেখানে হলো টাকার খেলা। তারপর নির্বাচন থেকে শেষে সরে দাঁড়িয়ে বলে আমাদের নির্বাচন ইলেকশন করতে দিল না।’

বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যের উদাহরণ তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘বিএনপি নেতা অন্তত দুইজন আমার কাছে এসে নালিশ করে গেছে। সিলেটে এনাম চৌধুরী এসে সোজা বললেন, দেখো আমার কাছে টাকা চেয়েছে তারেক জিয়া। আমি দিতে পারি নাই। তাই আমার নমিনেশন বাতিল করে যার কাছ থেকে টাকা পেয়েছে তাকে দিয়েছে।’

‘মোর্শেদ খান, তিনি নিজে এসে বলেছেন। তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চেয়েছে। সেজন্য সে বলেছে, আমি টাকা দিতে পারবো না। ব্যাস তার নমিনেশন ক্যানসেল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হলো তাদের দু’হাজার আঠারোর নির্বাচন। এটা আমাদের দেশের যারা ইন্টেলেকচ্যুয়াল, অনেকে বোধ হয় ভুলেই গেছেন, এই কথাগুলো লিখতে। যে ওইভাবে নির্বাচন করে নির্বাচন জেতা যায় না। এটা হলো বাস্তবতা। সকালে একজনের নাম যায়, দুপুরে আরেকটা, বিকেলে আরেকটা নাম যায়। এইভাবে হলো তাদের ইলেকশন।’

বিএনপি গঠনের ইতিহাস তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তাদের জন্মই হয়নি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে। জন্ম হয়েছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী জিয়াউর রহমানের পকেট থেকে। ক্যান্টনমেন্টে বসে গোয়েন্দাদের সহায়তায় এই দলের গঠন।’

জিয়াউর রহমানের আমলে নির্বাচনের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ভোট চুরি, ভোট কারচুপি, এই কালচার কে নিয়ে এসেছে? এটা তো জিয়াউর রহমান শুরু করেছে। হ্যাঁ-না ভোট। না-এর বাক্স পাওয়াই যায়নি, খালি হ্যাঁ-এর বাক্স। এই তাদের ইলেকশনের চেহারা।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আর খালেদা জিয়া কী করেছিল? ১৯৯১ সালে জামাতের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করল। যখন ১৯৯৬ সালে ইলেকশন, সেই ইলেকশনে জনগণের ভোট চুরি করল।’

১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের পর খালেদা জিয়ার পদত্যাগের বাধ্য হওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এটা বিএনপির মনে রাখা দরকার যে জনগণের ভোট চুরি করলে জনগণ ছেড়ে দেয় না। জনগণ জানে কীভাবে সেই সরকার উৎখাত করতে হবে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সব সময় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ভোটের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। যতবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের ভোট নিয়েই সরকারে এসেছে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটিবারই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে সরকারে এসে ২০০১ সালে ৫ বছর সম্পন্ন হওয়ার পর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে।

আর কোনদিন বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে কি না সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, জনগণের শক্তিতে বিশ্বাস করে। সেজন্যই আওয়ামী লীগ শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা দিয়ে এসেছিল।’

দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়ার দন্ডের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অনেক জ্ঞানী-গুণী দেখি বিএনপির সঙ্গে হাত মেলায়, অনেক তত্ত্ব কথা শোনায়, গণতন্ত্রের সবক দেয়, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে চায়। আমার সেই... আমাদের ওই যে বুদ্ধিজীবী... এরা বুদ্ধিজীবী নিজেদের অনেকে বলে, আমি বলি বুদ্ধিপ্রতিবন্ধীজীবী। তারা আসলে বুদ্ধিজীবী না।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে যে, এই সমস্ত দুর্বৃত্তায়ন যারা করেছে, তাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে জনগণের অধিকার কেড়ে নেয়ার এই প্রচেষ্টা কেন? আওয়ামী লীগের অপরাধটা কী?’

দেশের সব ব্যাংকেই টাকা আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ব্যাংকগুলোতে ‘টাকা না থাকার গুজব’ ছড়িয়ে একটি শ্রেণী মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। সেই গুজবে কান না দিতে দেশবাসীর প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একটা কথা স্পষ্ট জানাতে চাই, আমি গতকালকে (৫ ডিসেম্বর) রাতে আমাদের যেমন এসডিজি এবং উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে... সেই মিটিং করেছি। এরপরে আমি আবার অর্থ সচিব এবং আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। আজকে (৬ ডিসেম্বর) সকালে আমি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। আল্লাহর রহমতে আমাদের কোন সমস্যা নাই। প্রতি ব্যাংকেই টাকা আছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কিছু গুজব ছড়াচ্ছে। কী? ব্যাংকে টাকা নেই। টাকা নেই বলে অনেকে টাকা তুলে ঘরে নিয়ে যাচ্ছে। আমি আগেও বক্তৃতায় বলেছি, এখনও বলি যে এদের কি চোরের সঙ্গে কোন সখ্যতা আছে কি না যে ব্যাংকের থেকে টাকা নিয়ে ঘরে রাখে চোরের পোয়াবারো। চোর চুরি করে খেতে পারবে, সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছে নাকি কেউ কেউ, আমি জানি না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কাজেই আমি বলব, গুজবে কেউ কান দেবেন না। গুজবে কান দেবেন না। এটাই আমার সবার কাছে একটা অনুরোধ যে যারা এইসব মিথ্যা কথা বলে মানুষকে তারা ভাওতাবাজি দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায়, এটা একটা শ্রেণী আছে। তারা এটা করবেই আমি জানি। আর মিথ্যা কথায় তারা পারদর্শী।’

‘আওয়ামী লীগের ডিজিটাল বাংলাদেশকে’ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করা হচ্ছে মন্তব্য করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এ ব্যাপারে বিশেষ নজর দেয়ার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘স্যোশাল মিডিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে ভরে গেছে। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের তার উপযুক্ত জবাব দিতে হবে।’

জবাব হিসেবে কমেন্ট বক্সে বিএনপি-জামায়াতের অপকর্ম তুলে ধরলেই তারা (গুজবকারী) অপপ্রচার বন্ধ করে দেবে দাবি করে শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থেকে কী করেছে... তাদের অগ্নিসন্ত্রাস, তাদের খুন, তারা কাকে কাকে মেরেছে, কী করেছে, কই কই তাদের চুরি, ভোট চুরি, ডাকাতি এগুলো তুলে ধরলেই তো যথেষ্ট। কাজেই আমার মনে হয় ছাত্রলীগ এই কাজটা করতে পারবে।’

বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলনস্থলে উপস্থিত হন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। আর ছাত্রলীগ সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য উত্তোলন করেন দলীয় পতাকা। পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি পায়রা অবমুক্ত করে ৩০তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সম্মেলন উপলক্ষে সকাল থেকেই সারাদেশ থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হন। তারা বিভিন্ন নেতার নামে স্লোগান দেন। রং-বেরঙের টি-শার্ট পরে অনেকে সম্মেলনে যোগ দেন।

বিএনপির সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ সামনের দিকে এগোয়। আর বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশ পেছনে যায়। বলা হয় না, ভূতের পা পেছন দিকে। ওরা মনে হয় ভূত হয়ে ক্ষমতায় আসে। আমরা সেখান থেকে দেশকে আবার ঘুরে দাঁড় করিয়েছি।’

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘খালেদা জিয়া হুমকি দিয়েছিলেন, আওয়ামী লীগকে শিক্ষা দিতে ছাত্রদলই যথেষ্ট। তারা ছাত্রদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। আর আমি বই, খাতা, কলম তুলে দিয়েছিলাম।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার বয়স এখন ৭৬। যেকোন সময় আমি অক্কা পেতে পারি। কিন্তু আমাদের বাকি প্রজন্মকে কাজ করতে হবে।’ সংগঠনটির নেতাকর্মীদের পড়ালেখার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘লেখাপড়া শিখে এ দেশের উপযুক্ত নাগরিক হতে হবে, যেন বাংলাদেশের এই উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকে। যাতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কেউ যেন মুছে ফেলতে না পারে। বাংলাদেশের ক্ষমতায় যেন আর কখনো বিএনপি-জামায়াত আসতে না পারে, সেজন্য জনমত গড়ে তুলতে হবে।’

করোনা মহামারী ও বন্যায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কোন কিছু করার আগে ছাত্রলীগকে পাশে রাখতেন। তাদের জানাতেন। আজকেও ছাত্রলীগ একইভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশের খারাপ অবস্থার কথা তুলে ধরে ভাষণে বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেলসহ সবকিছু ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি অনুষ্ঠানে ছাত্রলীগের ওয়েবসাইট ও বিসিএল কমিউনিটি অ্যাপের উদ্বোধন করেন।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, দুই বছর পরপর ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয় না। সংগঠনটির সর্বশেষ ২৯তম সম্মেলন হয়েছিল ২০১৮ সালের মে মাসে। ওই বছরের জুলাইয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি পদে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক পদে গোলাম রাব্বানী দায়িত্ব পান। তারা পদ হারালে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে সভাপতি পদে আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক পদে লেখক ভট্টাচার্য আসেন। ২০২০ সালের ৪ জানুয়ারি তাদের ‘ভারমুক্ত’ করা হয়।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, এবার ৩০তম সম্মেলন সামনে রেখে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই পদ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ২৫৪ জন। তাদের মধ্যে ৯৬ জন সভাপতি ও ১৫৮ জন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) সম্মেলনের পর ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করার কথা থাকলেও তা হয়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শেষে জানান, আগামী ২৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলের আগেই ছাত্রলীগের নতুন কমিটি অনুমোদন দেবেন শেখ হাসিনা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন এখানেই শেষ। দ্বিতীয় অধিবেশন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাত্রলীগের পদপ্রত্যাশীরা নাম প্রস্তাব করবেন। প্রস্তাবিত সেই তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে। সেই তালিকা থেকেই নতুন কমিটি চূড়ান্ত করবেন সংগঠনের অভিভাবক শেখ হাসিনা।

back to top