alt

উপ-সম্পাদকীয়

মানবিক শিল্পবিপ্লব

মোস্তাফা জব্বার

: সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

প্রযুক্তি এবং শিল্প বিপ্লব নিয়ে এখন একটি নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেটি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে। কেউ কেউ বলছেন এই প্রযুক্তি মানবসভ্যতাকেই ধ্বংস করে দেবে। আবার কেউ কেউ প্রযুক্তি ঠেকানোর অজুহাত বলে এসব কথাকে বর্ণনা করছেন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপদ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মতপ্রকাশ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষতিকর হতে পারে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। এসব আলোচনার কেন্দ্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এখন বিশ্বের মানুষের মুখে মুখে। বাংলাদেশেও এটি বহুল আলোচিত বিষয়। যিনি এর তাত্ত্বিক গুরু তার নাম ক্লাউস সোয়াব। সোয়াব হচ্ছেন ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রধান এবং এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শব্দটা প্রথম উচ্চারিত হয় ২০১১ সালে হ্যানোভারে। সেখান থেকে জার্মান সরকার মোটামুটিভাবে একটু গুরুত্ব দেয় এবং ক্লাউস সোয়াব ২০১৬ সালে যে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের কনফারেন্স হয় তাতে এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এজেন্ডাটি প্রকাশ করেন ক্লাউস সোয়াব।

জার্মানরা যখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে তাদের তত্ত্ব উপস্থাপন করা শুরু করে তখনই জাপান চিন্তা করতে থাকে যে মানব সভ্যতা চতুর্থ নয় পঞ্চম যুগে পৌঁছাচ্ছে।

আমি নিজে অবশ্য কখনও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে গুরুত্ব দেইনা, আমি পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের কথা বলি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যান্ত্রিকতার আগ্রাসন থেকে সরে এসে, মানুষ এবং যন্ত্রের সহাবস্থান তৈরি করার উদ্দেশ্যেই পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম পঞ্চম শিল্প বিপ্লবকে মানবিক বলছে। পঞ্চম শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তি দিয়ে মানুষকে স্থলাভিষিক্ত না করে মানুষের জন্যে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৮ সালে বার্সিলোনায় জার্মান মন্ত্রী বলছিল- দেখ আমরা পৃথিবীতে এক অসাধারণ ভালো সময়ে আসছি। আমি বললাম কি রকম ভালো সময়। দেখ পৃথিবীতে ১২ বিলিয়ন ড্রাইভার লাগে। এখন যে টেকনোলজি আবিষ্কার করছি তাতে আমি ড্রাইভার লেস গাড়ি দিয়ে চলব। সুতরাং এই যে টেকনোলজির কথা বলা হচ্ছে এই টেকনোলজিকে বলা হচ্ছে উন্নত বিশ্বে বা পশ্চিমা বিশ্বে তাদের মানুষের অভাব পূরণ করার জন্য। আমি একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই মানুষের রিপ্লেসমেন্ট যন্ত্র দিয়ে কোনোকালে হয়নি, হতেও পারবে না।

এটি উপলব্ধি করার প্রেক্ষিতে জাপান কিন্তু প্রথম থেকেই ভিন্ন সুরে কথা বলছে। তারাই বলছে এই যান্ত্রিক সভ্যতার দিকে মানবজাতি এগোতে পারে না। সেই কারণে তারা বলেছে সোসাইটি ৫.০ গড়ে তুলব। সোসাইটি ৫.০ এর মধ্যে দুটো খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়েছে। তারা বলছে প্রযুক্তি আসবে কিন্তু সেটি হবে মানবিক। এখন কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়া ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনের পর ফিফথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনের কথা বলছে। কারণ ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন যান্ত্রিক এবং ফিফথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনকে বলছে মানবিক। এই মানবিক সভ্যতা যতক্ষণ গড়ে না ওঠবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু তাদের পক্ষে কোনোভাবেই এই মানব সভ্যতাকে সামনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। ফলে আলটিমেটলি আমি যো বুঝতেছি ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন এলো এবং গেল এবং তার জায়গাটা পঞ্চম শিল্প বিপ্লব এসে পূরণ করতে শুরু করল।

কেবল রোবট ব্যবহার করলে আমার যে জনসংখ্যা আছে আমার যে মানব সম্পদ আছে এই মানব সম্পদকে কি করব এটা আমি খুঁজে বের করতে পারব না। বরং আমি রোবট ব্যবহারকারী হব আমার যেখানে দরকার সেখানে? অন্যদিকে আমি রোবট বানিয়ে ওদেরকে সাপ্লাই করব। আমাদের এখানে রোবট দরকার আছে। তবে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়। আমার স্পষ্ট মনে আছে এটুআই এর একটা প্রজেক্টে বিচারক ছিলাম আমি। সেখানে বগুড়ার ক্লাস সেভেনে পড়া একটা ছেলেকে পাই। ওর নাম আজমাইন আকমল। এই ছেলেটা আমাকে একটা প্রকল্প দেখাল- সে নিজে একটা রোবট বানিয়েছে। আমি দেখে বললাম যে বাবা তোমার এই রোবট কি কাজ করবে। ঐ সময়কালে খিলগাঁওতে একটা বাচ্চা একটা পাইপের ভিতরে পড়ে গিয়েছিল। ওটার ভিতর মানুষ ঢুকতে পারে না বলে বাচ্চাাঁ ওই পাইপের ভিতরে মারা গেল। ও বলল আমার রোবট দরকার বাচ্চাাঁকে উদ্ধার করতে। সে পাইপের ভেতর ঢুকবে ও বাচ্চাকে উদ্ধার করবে।

প্র্যাকটিক্যালি এটিই হচ্ছে মানবিক চিন্তা। আমার সেইখানে রোবট দরকার যেখানে আমার মানুষ কাজ করতে পারবে না। রোবট মানুষকে সহায়তা করবে। মানুষের যে জায়গাতে যতটুকু সহায়তা করা দরকার ততটুতু সহায়তাই যেন সে করতে পারে। অতএব সেই দিক থেকে আমি মনে করি আমাদের ফোর্থ বা ফিফথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন নিয়ে যখন কথা বলব তখন আমাদেরকে এটাও বলতে হবে যে হ্যাঁ যন্ত্র আমার দরকার। কিন্তু একে মানবিক যন্ত্র হিসেবে আমাদের গড়ে তুলতে হবে।

সম্প্রতি (১৫ জুন ২০২৩) সুইজারল্যান্ডে জেনেভায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত‘ নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটি ইন স্মার্ট বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, মানবিক শিল্পবিপ্লবের কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের (ফোর আইআর) প্রযুক্তিগুলো যেন মানবতাকে আঘাত বা ক্ষত্নু করে এমন কাজে নিয়োজিত না করা করা হয়।’ চতুর্থ শিল্পবিপ্লব যাতে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি না করে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে চাই ফোর আইআর আমাদের সমাজের মধ্যে আরও বিভাজন তৈরি করবে না। এই উদ্দেশ্যে আমাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। তরুণদেও ফোর আইআর ও ভবিষ্যৎ কাজের জন্য তৈরি করতে শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি। আমাদের ছেলেমেয়েরা ফোর আইআরকে শুধু অনুসরণ করবে না, বরং এর নেতৃত্ব দেবে বলেও তিনি আত্মবিশ্বাসী বলে জানান। বাংলাদেশ অবশ্যই ডব্লিউইএফের সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি স্বাধীন ফোর আইআর কেন্দ্রকে স্বাগত জানাবে।

ইলন মাস্ক, টেসলার সিইও টুইট করে এটি স্বীকার করেছেন যে, তার কোম্পানিতে ‘অতিরিক্ত অটোমেশন’ একটি ভুল ধারণা ছিল, ‘মানুষকে কম মূল্য দেয়া হয়। তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে রোবটগুলি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নির্ভুলতার সঙ্গে কাজে করে। কিন্তু, তারা মানুষের মত নমনীয় এবং যোগ্যতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা করতে অক্ষম। একটি যন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি এবং শারীরিক ভাষার সূক্ষ্মতা বুঝতে পারে না। কিন্তু যখন রোবট মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে, তখন তারা অমূল্য সহযোগিতা প্রদান করে এবং আমাদের কাজকে আরও ভালো করে তোলে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যান্ত্রিকতার আগ্রাসন থেকে সরে এসে, মানুষ এবং যন্ত্রের সহাবস্থান তৈরি করার উদ্দেশ্যেই পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের কথা ভাবা হচ্ছে

পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান পার্থক্যই থাকবে নীতিগত পার্থক্য। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যেখানে প্রযুক্তির একচেটিয়া ব্যবহারে আগ্রহী, পঞ্চম শিল্প বিপ্লব তখন প্রযুক্তি এবং মানুষকে পাশাপাশি রেখে উন্নত পৃথিবীর কথা ভাবছে। পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের উদ্দেশ্যই হবে মানুষকে প্রযুক্তির জন্যে তৈরি না করে, প্রযুক্তিকে মানুষের জন্যে তৈরি করা।

এআইয়ের প্রভাব সম্পর্কে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের মধ্যে সম্প্রতি একটি জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। এআইয়ের প্রভাব সম্পর্কে তাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। জরিপে যে ১১৯ জন সিইও অংশগ্রহণ করেন তাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ সিইও বলছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআই মানবসভ্যতা ধ্বংশ করে দিতে পারে। ৮ শতাংশ বলছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে তা ঘটতে পারে। তবে ৫৮ শতাংশ সিইও বলছেন, এটা কখনই হবে না এবং তারা এ বিষয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নয়। (সিএনএন) এআই-এর গডফাদারদেও মধ্যে একজন অধ্যাপক ইয়ান লিকুন। লিকুন বর্তমানে মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন।

তিনি মনে করেন, এআই প্রযুক্তি পুরো বিশ্বের ওপর আধিপত্য করবে না, মানুষকে পুরোপুরি চাকরিচ্যুত করবেনা। তবে কাজের ধরণে পরিবর্তন আনবে। তিনি আরো বলেন, মানুষের তুলনায় কম্পিউটার অদূর ভবিষ্যতে আরো অনেক মেধাবী হয়ে উঠবে। যদি মনে করেন এই প্রযুক্তি নিরাপদ নয় তাহলে তা নির্মাণ বন্ধ করে দিতে হবে।

এআই প্রযুক্তি নিয়ে যুগান্তকারী কাজের জন্য ২০১৮ সালে জিওফ্রে হিনটন এবং ইয়োশুয়া বেঙ্গেওর সঙ্গে যোথভাবে টিউরিং এওয়ার্ড জিতে নেন। এ তিনজনকে তখন থেকেই ‘গডফাদারস অব এআই’ বলা হয়। এআই গড ফাদার হিসেবে পরিচিত অন্য দুজন মনে করেন এআই মানব সমাজের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু লিকুক এটি মনে করেন না। এআইয়ের প্রভাব সম্পর্কে সিইওদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও স্বয়ং ওপেনএআই অর্থ্যাৎ চ্যাট জিপিটির প্রতিষ্ঠাতারাই বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্রার লাগাম টানা উচিত। এমনকি সম্প্রতি এআই খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব এ আই মানবসভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে এমন সতর্কতামূলক বিবৃতি জারি করেছেন। এ বিবৃতিতে সই করেছেন ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান, এআইয়ের গডফাদার হিসেবে খ্যাত জেফরি হিনটন এবং গুগল ও মাইক্রোসফটের মত প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধানরা। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা যে ধ্বংসের হুমকিতে আছে তার এখনই নিরসন হওয়া উচিত। পারমানবিক যুদ্ধ ও মহামারীর মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে এতেও জোর দেয়া উচিত। জেফরি হিনটন ইতিমধ্যে তার কাজের জন্য অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন। এআই আরো উন্নত হলে বিপদের আশঙ্কা করছেন তিনি। সেই অনুতাপ থেকে ৭৫ বছরের হিনটন গুগল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন। জরিপে অংশ নেয়া সিইওরা মনে করেন, এআই মানুষের জগতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে- এ বিষয়ে সবাই কমবেশি একমত। স্বাস্থ্যসেবা, পেশাদার/আইটি সেবা ও মিডিয়া/ডিজিটাল- এই তিন খাতে এআই বেশি প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন। বাংলাদেশকেও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ভাবতে হবে।

[লেখক : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং বিজয় ডিজিটাল শিক্ষা সফটওয়্যারের উদ্ভাবক]

যোগাযোগ অধ্যয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ

এমপি আনারকে নিয়ে যত আইনি জটিলতা

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আইনের শাসন

দূর হোক মনের পশুত্ব

মনের পশুত্বের প্রতীকী ত্যাগের আরেক নাম কোরবানি

ঈদে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস

এমআইটি : প্রযুক্তির সৃষ্টি রহস্যের খোঁজ

কবিগুরুর বাণী ‘প্রমাণিত মিথ্যা’

কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধ হবে কিভাবে

কানিহাটি সিরিজ এবং পঞ্চব্রীহি নিয়ে আরও কিছু কথা

কলকাতায় হিজাব বিতর্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক

হাতের শক্তি ও মহিমা

বাজেট বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ

ছবি

কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে

সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটেরাদের বিচার কি হবে

বাজেট ভাবনায় শঙ্কিত যারা

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও বৈষম্যে

জ্ঞানই শক্তি

পরিবেশ নিয়ে কিছু কথা

অগ্নিমূল্যের বাজার : সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে কি?

বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নৈরাজ্য

যৌতুক মামলার অপব্যবহার

শহীদের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক ছয় দফা

রসে ভরা বাংলাদেশ

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই

দুর্নীতির উৎসমুখ

কানিহাটি সিরিজের বোরো ধান নিয়ে কিছু কথা

নজিরবিহীন বেনজীর

টেকসই উন্নয়ন করতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য রেখে আহমদ

কী বার্তা দিল ভারতের সংসদ নির্বাচন

গরমে প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা

ক্লাইমেট জাস্টিস ফর বাংলাদেশ : শুধু ঋণ বা অনুদান নয়, প্রয়োজন ক্ষতিপূরণ

এখন ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ কী

দুর্নীতি নিয়ে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া দরকার

গোল্ডেন রাইস কেন বারবার থমকে দাঁড়ায়

tab

উপ-সম্পাদকীয়

মানবিক শিল্পবিপ্লব

মোস্তাফা জব্বার

সোমবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

প্রযুক্তি এবং শিল্প বিপ্লব নিয়ে এখন একটি নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেটি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ নিয়ে। কেউ কেউ বলছেন এই প্রযুক্তি মানবসভ্যতাকেই ধ্বংস করে দেবে। আবার কেউ কেউ প্রযুক্তি ঠেকানোর অজুহাত বলে এসব কথাকে বর্ণনা করছেন। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিপদ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মতপ্রকাশ করেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষতিকর হতে পারে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে। এসব আলোচনার কেন্দ্রে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এখন বিশ্বের মানুষের মুখে মুখে। বাংলাদেশেও এটি বহুল আলোচিত বিষয়। যিনি এর তাত্ত্বিক গুরু তার নাম ক্লাউস সোয়াব। সোয়াব হচ্ছেন ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রধান এবং এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লব শব্দটা প্রথম উচ্চারিত হয় ২০১১ সালে হ্যানোভারে। সেখান থেকে জার্মান সরকার মোটামুটিভাবে একটু গুরুত্ব দেয় এবং ক্লাউস সোয়াব ২০১৬ সালে যে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের কনফারেন্স হয় তাতে এই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এজেন্ডাটি প্রকাশ করেন ক্লাউস সোয়াব।

জার্মানরা যখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে তাদের তত্ত্ব উপস্থাপন করা শুরু করে তখনই জাপান চিন্তা করতে থাকে যে মানব সভ্যতা চতুর্থ নয় পঞ্চম যুগে পৌঁছাচ্ছে।

আমি নিজে অবশ্য কখনও চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে গুরুত্ব দেইনা, আমি পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের কথা বলি। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যান্ত্রিকতার আগ্রাসন থেকে সরে এসে, মানুষ এবং যন্ত্রের সহাবস্থান তৈরি করার উদ্দেশ্যেই পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের কথা ভাবা হচ্ছে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম পঞ্চম শিল্প বিপ্লবকে মানবিক বলছে। পঞ্চম শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তি দিয়ে মানুষকে স্থলাভিষিক্ত না করে মানুষের জন্যে প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০১৮ সালে বার্সিলোনায় জার্মান মন্ত্রী বলছিল- দেখ আমরা পৃথিবীতে এক অসাধারণ ভালো সময়ে আসছি। আমি বললাম কি রকম ভালো সময়। দেখ পৃথিবীতে ১২ বিলিয়ন ড্রাইভার লাগে। এখন যে টেকনোলজি আবিষ্কার করছি তাতে আমি ড্রাইভার লেস গাড়ি দিয়ে চলব। সুতরাং এই যে টেকনোলজির কথা বলা হচ্ছে এই টেকনোলজিকে বলা হচ্ছে উন্নত বিশ্বে বা পশ্চিমা বিশ্বে তাদের মানুষের অভাব পূরণ করার জন্য। আমি একটি কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই মানুষের রিপ্লেসমেন্ট যন্ত্র দিয়ে কোনোকালে হয়নি, হতেও পারবে না।

এটি উপলব্ধি করার প্রেক্ষিতে জাপান কিন্তু প্রথম থেকেই ভিন্ন সুরে কথা বলছে। তারাই বলছে এই যান্ত্রিক সভ্যতার দিকে মানবজাতি এগোতে পারে না। সেই কারণে তারা বলেছে সোসাইটি ৫.০ গড়ে তুলব। সোসাইটি ৫.০ এর মধ্যে দুটো খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়েছে। তারা বলছে প্রযুক্তি আসবে কিন্তু সেটি হবে মানবিক। এখন কিন্তু পশ্চিমা দুনিয়া ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনের পর ফিফথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনের কথা বলছে। কারণ ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন যান্ত্রিক এবং ফিফথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশনকে বলছে মানবিক। এই মানবিক সভ্যতা যতক্ষণ গড়ে না ওঠবে ততক্ষণ পর্যন্ত কিন্তু তাদের পক্ষে কোনোভাবেই এই মানব সভ্যতাকে সামনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না। ফলে আলটিমেটলি আমি যো বুঝতেছি ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন এলো এবং গেল এবং তার জায়গাটা পঞ্চম শিল্প বিপ্লব এসে পূরণ করতে শুরু করল।

কেবল রোবট ব্যবহার করলে আমার যে জনসংখ্যা আছে আমার যে মানব সম্পদ আছে এই মানব সম্পদকে কি করব এটা আমি খুঁজে বের করতে পারব না। বরং আমি রোবট ব্যবহারকারী হব আমার যেখানে দরকার সেখানে? অন্যদিকে আমি রোবট বানিয়ে ওদেরকে সাপ্লাই করব। আমাদের এখানে রোবট দরকার আছে। তবে মানুষের বিকল্প হিসেবে নয়। আমার স্পষ্ট মনে আছে এটুআই এর একটা প্রজেক্টে বিচারক ছিলাম আমি। সেখানে বগুড়ার ক্লাস সেভেনে পড়া একটা ছেলেকে পাই। ওর নাম আজমাইন আকমল। এই ছেলেটা আমাকে একটা প্রকল্প দেখাল- সে নিজে একটা রোবট বানিয়েছে। আমি দেখে বললাম যে বাবা তোমার এই রোবট কি কাজ করবে। ঐ সময়কালে খিলগাঁওতে একটা বাচ্চা একটা পাইপের ভিতরে পড়ে গিয়েছিল। ওটার ভিতর মানুষ ঢুকতে পারে না বলে বাচ্চাাঁ ওই পাইপের ভিতরে মারা গেল। ও বলল আমার রোবট দরকার বাচ্চাাঁকে উদ্ধার করতে। সে পাইপের ভেতর ঢুকবে ও বাচ্চাকে উদ্ধার করবে।

প্র্যাকটিক্যালি এটিই হচ্ছে মানবিক চিন্তা। আমার সেইখানে রোবট দরকার যেখানে আমার মানুষ কাজ করতে পারবে না। রোবট মানুষকে সহায়তা করবে। মানুষের যে জায়গাতে যতটুকু সহায়তা করা দরকার ততটুতু সহায়তাই যেন সে করতে পারে। অতএব সেই দিক থেকে আমি মনে করি আমাদের ফোর্থ বা ফিফথ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভ্যুলেশন নিয়ে যখন কথা বলব তখন আমাদেরকে এটাও বলতে হবে যে হ্যাঁ যন্ত্র আমার দরকার। কিন্তু একে মানবিক যন্ত্র হিসেবে আমাদের গড়ে তুলতে হবে।

সম্প্রতি (১৫ জুন ২০২৩) সুইজারল্যান্ডে জেনেভায় ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) আয়োজিত‘ নিউ ইকোনমি অ্যান্ড সোসাইটি ইন স্মার্ট বাংলাদেশ’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন, মানবিক শিল্পবিপ্লবের কথা। তিনি বলেন, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের (ফোর আইআর) প্রযুক্তিগুলো যেন মানবতাকে আঘাত বা ক্ষত্নু করে এমন কাজে নিয়োজিত না করা করা হয়।’ চতুর্থ শিল্পবিপ্লব যাতে সমাজে বিভাজন সৃষ্টি না করে সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, আমরা নিশ্চিত করতে চাই ফোর আইআর আমাদের সমাজের মধ্যে আরও বিভাজন তৈরি করবে না। এই উদ্দেশ্যে আমাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। তরুণদেও ফোর আইআর ও ভবিষ্যৎ কাজের জন্য তৈরি করতে শুরু করেছেন বলেও জানান তিনি। আমাদের ছেলেমেয়েরা ফোর আইআরকে শুধু অনুসরণ করবে না, বরং এর নেতৃত্ব দেবে বলেও তিনি আত্মবিশ্বাসী বলে জানান। বাংলাদেশ অবশ্যই ডব্লিউইএফের সঙ্গে অংশীদারিত্বে একটি স্বাধীন ফোর আইআর কেন্দ্রকে স্বাগত জানাবে।

ইলন মাস্ক, টেসলার সিইও টুইট করে এটি স্বীকার করেছেন যে, তার কোম্পানিতে ‘অতিরিক্ত অটোমেশন’ একটি ভুল ধারণা ছিল, ‘মানুষকে কম মূল্য দেয়া হয়। তবে এতে কোন সন্দেহ নেই যে রোবটগুলি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং নির্ভুলতার সঙ্গে কাজে করে। কিন্তু, তারা মানুষের মত নমনীয় এবং যোগ্যতা এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা করতে অক্ষম। একটি যন্ত্র ভাষা, সংস্কৃতি এবং শারীরিক ভাষার সূক্ষ্মতা বুঝতে পারে না। কিন্তু যখন রোবট মানুষের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করে, তখন তারা অমূল্য সহযোগিতা প্রদান করে এবং আমাদের কাজকে আরও ভালো করে তোলে।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যান্ত্রিকতার আগ্রাসন থেকে সরে এসে, মানুষ এবং যন্ত্রের সহাবস্থান তৈরি করার উদ্দেশ্যেই পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের কথা ভাবা হচ্ছে

পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রধান পার্থক্যই থাকবে নীতিগত পার্থক্য। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব যেখানে প্রযুক্তির একচেটিয়া ব্যবহারে আগ্রহী, পঞ্চম শিল্প বিপ্লব তখন প্রযুক্তি এবং মানুষকে পাশাপাশি রেখে উন্নত পৃথিবীর কথা ভাবছে। পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের উদ্দেশ্যই হবে মানুষকে প্রযুক্তির জন্যে তৈরি না করে, প্রযুক্তিকে মানুষের জন্যে তৈরি করা।

এআইয়ের প্রভাব সম্পর্কে শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের মধ্যে সম্প্রতি একটি জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। এআইয়ের প্রভাব সম্পর্কে তাদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। জরিপে যে ১১৯ জন সিইও অংশগ্রহণ করেন তাদের মধ্যে ৩৪ শতাংশ সিইও বলছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এআই মানবসভ্যতা ধ্বংশ করে দিতে পারে। ৮ শতাংশ বলছেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে তা ঘটতে পারে। তবে ৫৮ শতাংশ সিইও বলছেন, এটা কখনই হবে না এবং তারা এ বিষয়ে মোটেও উদ্বিগ্ন নয়। (সিএনএন) এআই-এর গডফাদারদেও মধ্যে একজন অধ্যাপক ইয়ান লিকুন। লিকুন বর্তমানে মেটার প্রধান এআই বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছেন।

তিনি মনে করেন, এআই প্রযুক্তি পুরো বিশ্বের ওপর আধিপত্য করবে না, মানুষকে পুরোপুরি চাকরিচ্যুত করবেনা। তবে কাজের ধরণে পরিবর্তন আনবে। তিনি আরো বলেন, মানুষের তুলনায় কম্পিউটার অদূর ভবিষ্যতে আরো অনেক মেধাবী হয়ে উঠবে। যদি মনে করেন এই প্রযুক্তি নিরাপদ নয় তাহলে তা নির্মাণ বন্ধ করে দিতে হবে।

এআই প্রযুক্তি নিয়ে যুগান্তকারী কাজের জন্য ২০১৮ সালে জিওফ্রে হিনটন এবং ইয়োশুয়া বেঙ্গেওর সঙ্গে যোথভাবে টিউরিং এওয়ার্ড জিতে নেন। এ তিনজনকে তখন থেকেই ‘গডফাদারস অব এআই’ বলা হয়। এআই গড ফাদার হিসেবে পরিচিত অন্য দুজন মনে করেন এআই মানব সমাজের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু লিকুক এটি মনে করেন না। এআইয়ের প্রভাব সম্পর্কে সিইওদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও স্বয়ং ওপেনএআই অর্থ্যাৎ চ্যাট জিপিটির প্রতিষ্ঠাতারাই বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমাত্রার লাগাম টানা উচিত। এমনকি সম্প্রতি এআই খাতের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্ব এ আই মানবসভ্যতাকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে এমন সতর্কতামূলক বিবৃতি জারি করেছেন। এ বিবৃতিতে সই করেছেন ওপেনএআইয়ের সিইও স্যাম অল্টম্যান, এআইয়ের গডফাদার হিসেবে খ্যাত জেফরি হিনটন এবং গুগল ও মাইক্রোসফটের মত প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধানরা। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, এআইয়ের কারণে মানবসভ্যতা যে ধ্বংসের হুমকিতে আছে তার এখনই নিরসন হওয়া উচিত। পারমানবিক যুদ্ধ ও মহামারীর মতো বিষয়গুলোর সঙ্গে এতেও জোর দেয়া উচিত। জেফরি হিনটন ইতিমধ্যে তার কাজের জন্য অনুতপ্ত বলে জানিয়েছেন। এআই আরো উন্নত হলে বিপদের আশঙ্কা করছেন তিনি। সেই অনুতাপ থেকে ৭৫ বছরের হিনটন গুগল থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘোষণা দেন। জরিপে অংশ নেয়া সিইওরা মনে করেন, এআই মানুষের জগতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে- এ বিষয়ে সবাই কমবেশি একমত। স্বাস্থ্যসেবা, পেশাদার/আইটি সেবা ও মিডিয়া/ডিজিটাল- এই তিন খাতে এআই বেশি প্রভাব ফেলবে বলে তারা মনে করেন। বাংলাদেশকেও বিষয়টি নিয়ে দ্রুত ভাবতে হবে।

[লেখক : ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, দেশের প্রথম ডিজিটাল নিউজ সার্ভিস আবাস-এর চেয়ারম্যান, বিজয় কিবোর্ড ও সফটওয়্যার এবং বিজয় ডিজিটাল শিক্ষা সফটওয়্যারের উদ্ভাবক]

back to top