alt

উপ-সম্পাদকীয়

ভাষা আন্দোলন ও বাঙালির নবজাগরণ

শেখর ভট্টাচার্য

: বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
image

ভাষা আন্দোলন বাংলার জনগণের মধ্যে নতুন জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটায়

পাকিস্তানের জন্মের মাস সাতেক পরে, স্বাধীন দেশটিকে গলাটিপে আতুড় ঘরে হত্যা করতে উদ্যত হন পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ভারত গঠিত হলেও শুধু ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের আদর্শগত কোনো যোগসূত্র ছিল না বললেই চলে। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে অর্থাৎ পাকিস্তানের স্বাধীনতার সপ্তম মাসে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন তার জীবনের শেষবারের মতো পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন- তিনি হয়তো ভাবেননি যে সেখানে তার উচ্চারিত কিছু কথা এক সময় তারই প্রতিষ্ঠিত নতুন দেশটির ভাঙন ডেকে আনতে ভূমিকা রাখবে। জিন্নাহ তখন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি এবং মুসলিম লীগের সভাপতি। নয় দিনের পূর্ববঙ্গ সফরে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েকটি সভায় বক্তৃতা দেন। ঢাকায় প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে; যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

এ সভায় তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দু- অন্য কোন ভাষা নয়। ইংরেজিতে দেয়া সেই বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করেই আপনাদের বলছি যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু এবং অন্য কোন ভাষা নয়। কেউ যদি আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তাহলে সে আসলে পাকিস্তানের শত্রু।’ শেষ বাক্যটিতে মনোনিবেশ করুন, অর্থাৎ পাকিস্তান জন্মের সাত মাসের মাথায় দেশটির জাতির পিতা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি নাগরিকদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করলেন। তিনি দূরে সরিয়ে দিলেন যারা আন্তরিকভাবে পাকিস্তান আন্দোলন করে দেশটির স্বাধীনতা লাভে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।

কয়েকদিন পর জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রদের সামনে আরও একটি ভাষণ দিলেন। সেখানেও একই কথা বললেন তিনি। বললেন- পাকিস্তানের প্রদেশগুলো নিজেদের সরকারি কাজে যে কোন ভাষা ব্যবহার করতে পারে- তবে রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে একটিই এবং তা হবে উর্দু।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতিগত কোনো সাদৃশ্য ছিল না বললেই চলে। ভাষাগত বিরোধের পর পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে আর কখনও একাত্মতা অনুভব করতে সক্ষম হয়নি খুব স্বাভাবিক কারণে। ভাষা, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাসসহ সব ক্ষেত্রে বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও কেবল ধর্মের ভিত্তিতে এক হাজার মাইলের ব্যবধানে অবস্থিত পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের গাঁটছড়া বেঁধে এ অসম রাষ্ট্রটি গড়ে তোলা হয়। রাষ্ট্রের কর্ণধাররা প্রথমেই শোষণ ও বৈষম্যেকে স্থায়ী রূপ দিতে বাঙালির মাতৃভাষার অধিকার হরণ করতে উদ্যত হয়; অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬০ শতাংশ বাংলা, ২৮.০৪ শতাংশ পাঞ্জাবি, ৫.৮ শতাংশ সিন্ধি, ৭.১ শতাংশ পশতু, ৭.২ শতাংশ উর্দু এবং বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক। এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষীর দিক থেকে তৃতীয় স্থানে।

অন্যদিকে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যা ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এখানে ৯৮ শতাংশ বাংলা এবং মাত্র ১.১ শতাংশ ছিল উর্দুভাষী। অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়; কিন্তু সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতি মাতৃভাষার ওপর এ আঘাতের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রকে ঘিরে বাঙালির যতো স্বপ্ন ছিলো সে স্বপ্ন যে অলীক, অবাস্তব এবং অপ্রাসঙ্গিক ছিল মাতৃভাষার ওপর আক্রমণ তা প্রমাণ করে দেয়। তবে লড়াকু বাঙালি স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় ভেঙ্গে না পড়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে নতুন পথের সন্ধানে নিজেদের নিয়োজিত করে ফেলে, যা ছিল ইউরোপে সৃষ্ট নজাগরণের মতো।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাঙালিকে তাদের সংস্কৃতির শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার ক্রমাগত চেষ্টা চলতে থাকে। ভাষা আন্দোলন বাংলার জনগণের মধ্যে নতুন জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হয়। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল, তা পরবর্তী আন্দোলনগুলোর জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে।

এ আশীর্বাদের কারণেই বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক উপাদান স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়ে যায়। ভাষার অধিকার আন্দোলনে ছাত্র, যুব সমাজ প্রাণের টানে রাজপথে নেমে আসে। ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এর প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তারা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়। এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম বাংলা করার ব্যাপারে চাপ দিতে থাকে। ক্রমে ভাষার প্রশ্ন রাজনৈতিক দাবিতে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নূরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে তমদ্দুন মজলিস রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। পরবর্তীকালে এ উদ্দেশ্যে আরো কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্হিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম। শুরু হয়ে যায় একের পর এক আন্দোলন কর্মসূচি। নবগঠিত পরিষদ ১১ মার্চ হরতাল আহ্বান করে। হরতাল চলাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুবসহ অনেকে গ্রেফতার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৩-১৫ মার্চ ঢাকার সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়। ছাত্রসমাজের প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মেকী আদর্শ, অদ্ভুত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শুধুমাত্র ধর্মের বাতাবরন দিয়ে যে রক্ষা করা যাবেনা একথাটি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা তখনও বুঝে উঠে পারেননি। জাতি সৃষ্টির একটি মাত্র উপাদান হলো ধর্ম। সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য সহ অন্যান্য বিষয় যে কত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টিকে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা পাকিস্তানি কাঠামোতে মানুষের অন্তরে যে পৌছানো যাবেনা, তা ঔপনিবেশ সৃষ্টির নেশায় বিস্মৃত হয়েছিলেন পাকিস্তানি শাসকেরা। ভাষার প্রশ্নে ছাত্র সমাজের তুমুল আন্দোলন এবং তমদ্দুন মজলিসের চেতনা বিকাশের ভূমিকা সমগ্র পূর্ববঙ্গে এক অসাধারণ গণজাগরণ তৈরি করতে সমর্থ হয়।

তমদ্দুন মজলিস এই সময় ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছিল। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরে অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন, দৈনিক ইত্তেহাদের সম্পাদক আবুল মনসুর আহমদ, আর তমদ্দুন মজলিস প্রধান অধ্যাপক আবুল কাসেমের নিবন্ধ ছিল।

আবুল মনসুর আহমদ লিখেছিলেন- ‘উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করিলে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজ রাতারাতি ‘অশিক্ষিত’ ও সরকারি চাকরির ‘অযোগ্য’ বনিয়া যাইবেন।’ ভাষার প্রশ্নটি যে পাকিস্তানের এক অংশের ওপর আরেক অংশের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িতÑ এই বোধ তখন সবার মধ্যে জন্মাতে শুরু করেছে এ কথাটি বলেছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

ওই পুস্তিকায় একটি চমকপ্রদ কথা লিখেছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। তিনি লিখেছিলেনÑ ‘...যদি গায়ের জোরে উর্দুকে বাঙালি হিন্দু-মুসলামের ওপর রাষ্ট্রভাষা রূপে চালাবার চেষ্টা হয়, তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ ধূমায়িত অসন্তোষ বেশিদিন চাপা থাকতে পারে না। শীঘ্রই তাহলে পূর্ব-পশ্চিমের সম্বন্ধের অবসান হবার আশঙ্কা আছে।’

অর্থাৎ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করলে পাকিস্তানের বাঙালিদের ক্ষোভ যে এক সময় জাতীয়তাবাদী চিন্তায় রূপ নেবে এবং তা যে পাকিস্তানের বিভক্তি ডেকে আনতে পারে কাজী মোতাহের হোসেন তখনই অনুভব করতে পেরেছিলেন।

ভাষা আন্দোলনের আলোচনা সাধারণত আমরা ধারা-বর্ণনার মতো উপস্থাপন করতে স্বচ্ছন্দবোধ করি। ধারা-বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ তবে ধারা-বর্ণনা থেকে অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান করে নিয়ে আসা কষ্টসাধ্য। ভাষা ও সংস্কৃতি মানুষের সঙ্গে মানুষের যে বন্ধন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় ভৌগোলিক সহাবস্থান তা কোনভাবেই করতে সমর্থ হয় না। মাতৃভূমি এবং মাতৃভাষাকে বাঙালি মাকে ভালোবাসার মতো স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গণ্য করে। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে সাতচল্লিশ পূর্ববর্তী সময়ে তাই কখনো বাঙালি মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলনে লিপ্ত হয়নি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর যখন মাতৃভাষার স্বাভাবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যত্র চলে, সে ষড়যন্ত্র বাঙালি মানসে এক নবজাগরণ বা রেনেসাঁর তৈরি করতে সমর্থ হয়।

সাতচল্লিশ পূর্ববর্তী সময়ে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক উপাদান যুক্ত হয়নি কখনো। বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতি চেতনা সব সময়ই দৃঢ় ছিল, এর সঙ্গে যখন রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের চেতনার সংমিশ্রণ ঘটলো তখন ভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলন তীব্র রূপ পেল। নিবেদিত আন্দোলনের সুতীব্র জোয়ারের তোড়ে সমস্ত বাধা উড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলো। বায়ান্নের আন্দোলনের প্রভাব ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ’৭০-এর নির্বাচন এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাযুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভূমিকা পালন করে। মানুষের সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রভাব যে কত তীক্ষè, সুদৃঢ় হতে পারে তা শুধুমাত্র দেশপ্রেমকে হাতিয়ার করে আধুনিক অস্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন হলো পৃথিবীর অন্যতম বড় উদাহরণ।

[লেখক : প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন গবেষক]

ছবি

ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় নাম

বৈসাবি : ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব

‘ইন্ডিয়া আউট’ ক্যাম্পেইন

উদার-উদ্দাম বৈশাখ চাই

ঈদ নিয়ে আসুক শান্তি ও সমৃদ্ধি, বিস্তৃত হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ

প্রসঙ্গ: বিদেশি ঋণ

ছাত্ররাজনীতি কি খারাপ?

জাকাত : বিশ্বের প্রথম সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা

বাংলাদেশ স্কাউটস দিবস : শুরুর কথা

ছবি

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত

প্রবাসীর ঈদ-ভাবনা

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস

ধানের ফলন বাড়াতে ক্লাইমেট স্মার্ট গুটি ইউরিয়া প্রযুক্তি

কমিশন কিংবা ভিজিটে জমি রেজিস্ট্রির আইনি বিধান ও প্রাসঙ্গিকতা

ছবি

ঈদের অর্থনীতি

পশ্চিমবঙ্গে ভোটের রাজনীতিতে ‘পোস্ট পার্টিশন সিনড্রম’

শিক্ষকের বঞ্চনা, শিক্ষকের বেদনা

নিরাপদ সড়ক কেন চাই

রম্যগদ্য : ‘প্রহরীর সাতশ কোটি টাকা...’

ছবি

অবন্তিকাদের আত্মহনন

শিক্ষাবিষয়ক ভাবনা

অপ্রয়োজনে সিজারিয়ান নয়

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে

আত্মহত্যা রোধে নৈতিক শিক্ষা

আউশ ধান : পরিবেশ ও কৃষকবান্ধব ফসল

ছবি

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আতুড়ঘর

চেক ডিজঅনার মামলার অধিক্ষেত্র ও প্রাসঙ্গিকতা

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও বাংলাদেশের কৃষি

ছবি

‘হৃৎ কলমের’ পাখি এবং আমাদের জেগে ওঠা

ছবি

ভূগর্ভস্থ পানি সুরক্ষায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ

প্রসঙ্গ : নিত্যপণ্যের দাম

ছবি

টঙ্ক আন্দোলনের কুমুদিনী হাজং

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে চাই বিকেন্দ্রীকরণ

দূষণমুক্ত পানির বিকল্প নাই

রম্যগদ্য : ‘দুনিয়ার বাঙালি এক হও”

tab

উপ-সম্পাদকীয়

ভাষা আন্দোলন ও বাঙালির নবজাগরণ

শেখর ভট্টাচার্য

image

ভাষা আন্দোলন বাংলার জনগণের মধ্যে নতুন জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটায়

বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাকিস্তানের জন্মের মাস সাতেক পরে, স্বাধীন দেশটিকে গলাটিপে আতুড় ঘরে হত্যা করতে উদ্যত হন পাকিস্তানের জাতির পিতা মোহম্মদ আলী জিন্নাহ। ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশে পাকিস্তান ও ভারত নামে দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের উদ্ভব হয়। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে পাকিস্তান এবং হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে ভারত গঠিত হলেও শুধু ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের আদর্শগত কোনো যোগসূত্র ছিল না বললেই চলে। ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে অর্থাৎ পাকিস্তানের স্বাধীনতার সপ্তম মাসে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ যখন তার জীবনের শেষবারের মতো পূর্ববঙ্গে এসেছিলেন- তিনি হয়তো ভাবেননি যে সেখানে তার উচ্চারিত কিছু কথা এক সময় তারই প্রতিষ্ঠিত নতুন দেশটির ভাঙন ডেকে আনতে ভূমিকা রাখবে। জিন্নাহ তখন পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি এবং মুসলিম লীগের সভাপতি। নয় দিনের পূর্ববঙ্গ সফরে তিনি ঢাকা ও চট্টগ্রামে কয়েকটি সভায় বক্তৃতা দেন। ঢাকায় প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ, ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে; যা এখন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।

এ সভায় তিনি স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে উর্দু- অন্য কোন ভাষা নয়। ইংরেজিতে দেয়া সেই বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করেই আপনাদের বলছি যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু এবং অন্য কোন ভাষা নয়। কেউ যদি আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে তাহলে সে আসলে পাকিস্তানের শত্রু।’ শেষ বাক্যটিতে মনোনিবেশ করুন, অর্থাৎ পাকিস্তান জন্মের সাত মাসের মাথায় দেশটির জাতির পিতা সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি নাগরিকদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করলেন। তিনি দূরে সরিয়ে দিলেন যারা আন্তরিকভাবে পাকিস্তান আন্দোলন করে দেশটির স্বাধীনতা লাভে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল।

কয়েকদিন পর জিন্নাহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্রদের সামনে আরও একটি ভাষণ দিলেন। সেখানেও একই কথা বললেন তিনি। বললেন- পাকিস্তানের প্রদেশগুলো নিজেদের সরকারি কাজে যে কোন ভাষা ব্যবহার করতে পারে- তবে রাষ্ট্রীয় ভাষা হবে একটিই এবং তা হবে উর্দু।

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতিগত কোনো সাদৃশ্য ছিল না বললেই চলে। ভাষাগত বিরোধের পর পূর্ব বাংলার জনগণ পাকিস্তানের মৌলিক আদর্শের সঙ্গে আর কখনও একাত্মতা অনুভব করতে সক্ষম হয়নি খুব স্বাভাবিক কারণে। ভাষা, নৃতত্ত্ব, ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ভৌগোলিক পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাসসহ সব ক্ষেত্রে বিস্তর ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও কেবল ধর্মের ভিত্তিতে এক হাজার মাইলের ব্যবধানে অবস্থিত পশ্চিম পাকিস্তানের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানের গাঁটছড়া বেঁধে এ অসম রাষ্ট্রটি গড়ে তোলা হয়। রাষ্ট্রের কর্ণধাররা প্রথমেই শোষণ ও বৈষম্যেকে স্থায়ী রূপ দিতে বাঙালির মাতৃভাষার অধিকার হরণ করতে উদ্যত হয়; অথচ ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় পাকিস্তানের ভাষাগত জনসংখ্যার একটি পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায় যে, মোট জনসংখ্যার ৫৪.৬০ শতাংশ বাংলা, ২৮.০৪ শতাংশ পাঞ্জাবি, ৫.৮ শতাংশ সিন্ধি, ৭.১ শতাংশ পশতু, ৭.২ শতাংশ উর্দু এবং বাকি অন্যান্য ভাষাভাষী নাগরিক। এর থেকে দেখা যায় উর্দু ছিল পাকিস্তানি ভাষাভাষীর দিক থেকে তৃতীয় স্থানে।

অন্যদিকে তদানীন্তন পূর্ববঙ্গের জনসংখ্যা ৪.৪০ কোটির মধ্যে ৪.১৩ কোটি ছিল বাংলা ভাষাভাষী। এখানে ৯৮ শতাংশ বাংলা এবং মাত্র ১.১ শতাংশ ছিল উর্দুভাষী। অথচ বাংলা ভাষাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বেশ কিছু পরিকল্পনা নেয়; কিন্তু সংগ্রামের ঐতিহ্যে লালিত বাঙালি জাতি মাতৃভাষার ওপর এ আঘাতের বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রকে ঘিরে বাঙালির যতো স্বপ্ন ছিলো সে স্বপ্ন যে অলীক, অবাস্তব এবং অপ্রাসঙ্গিক ছিল মাতৃভাষার ওপর আক্রমণ তা প্রমাণ করে দেয়। তবে লড়াকু বাঙালি স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনায় ভেঙ্গে না পড়ে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে নতুন পথের সন্ধানে নিজেদের নিয়োজিত করে ফেলে, যা ছিল ইউরোপে সৃষ্ট নজাগরণের মতো।

পাকিস্তান সৃষ্টির পর বাঙালিকে তাদের সংস্কৃতির শেকড় থেকে বিচ্ছিন্ন করার ক্রমাগত চেষ্টা চলতে থাকে। ভাষা আন্দোলন বাংলার জনগণের মধ্যে নতুন জাতীয় চেতনার উন্মেষ ঘটায় এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট হয়। ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি যে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সূত্রপাত করেছিল, তা পরবর্তী আন্দোলনগুলোর জন্য আশীর্বাদ বয়ে আনে।

এ আশীর্বাদের কারণেই বাঙালির ভাষা, সংস্কৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক উপাদান স্বতঃস্ফূর্তভাবে যুক্ত হয়ে যায়। ভাষার অধিকার আন্দোলনে ছাত্র, যুব সমাজ প্রাণের টানে রাজপথে নেমে আসে। ১৯৪৭ সালের ৫ ডিসেম্বর করাচিতে অনুষ্ঠিত শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকেই পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এর প্রতিবাদে ফেটে পড়ে। তারা পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায়। এছাড়াও পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম বাংলা করার ব্যাপারে চাপ দিতে থাকে। ক্রমে ভাষার প্রশ্ন রাজনৈতিক দাবিতে পরিণত হয়। ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে নূরুল হক ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক করে তমদ্দুন মজলিস রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। পরবর্তীকালে এ উদ্দেশ্যে আরো কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়। ১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ছাত্রসমাজ দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীদের উপস্হিতিতে দ্বিতীয়বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে। এ পরিষদের আহ্বায়ক মনোনীত হন শামসুল আলম। শুরু হয়ে যায় একের পর এক আন্দোলন কর্মসূচি। নবগঠিত পরিষদ ১১ মার্চ হরতাল আহ্বান করে। হরতাল চলাকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুবসহ অনেকে গ্রেফতার হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে ১৩-১৫ মার্চ ঢাকার সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয়। ছাত্রসমাজের প্রতিবাদের মুখে ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুসহ অন্যান্য নেতাদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মেকী আদর্শ, অদ্ভুত রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে শুধুমাত্র ধর্মের বাতাবরন দিয়ে যে রক্ষা করা যাবেনা একথাটি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা তখনও বুঝে উঠে পারেননি। জাতি সৃষ্টির একটি মাত্র উপাদান হলো ধর্ম। সংস্কৃতি, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য সহ অন্যান্য বিষয় যে কত গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়টিকে উড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনা পাকিস্তানি কাঠামোতে মানুষের অন্তরে যে পৌছানো যাবেনা, তা ঔপনিবেশ সৃষ্টির নেশায় বিস্মৃত হয়েছিলেন পাকিস্তানি শাসকেরা। ভাষার প্রশ্নে ছাত্র সমাজের তুমুল আন্দোলন এবং তমদ্দুন মজলিসের চেতনা বিকাশের ভূমিকা সমগ্র পূর্ববঙ্গে এক অসাধারণ গণজাগরণ তৈরি করতে সমর্থ হয়।

তমদ্দুন মজলিস এই সময় ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু’ নামে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছিল। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরে অধ্যাপক ড. কাজী মোতাহার হোসেন, দৈনিক ইত্তেহাদের সম্পাদক আবুল মনসুর আহমদ, আর তমদ্দুন মজলিস প্রধান অধ্যাপক আবুল কাসেমের নিবন্ধ ছিল।

আবুল মনসুর আহমদ লিখেছিলেন- ‘উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করিলে পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষিত সমাজ রাতারাতি ‘অশিক্ষিত’ ও সরকারি চাকরির ‘অযোগ্য’ বনিয়া যাইবেন।’ ভাষার প্রশ্নটি যে পাকিস্তানের এক অংশের ওপর আরেক অংশের প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ আধিপত্য বিস্তারের সঙ্গে জড়িতÑ এই বোধ তখন সবার মধ্যে জন্মাতে শুরু করেছে এ কথাটি বলেছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।

ওই পুস্তিকায় একটি চমকপ্রদ কথা লিখেছিলেন কাজী মোতাহার হোসেন। তিনি লিখেছিলেনÑ ‘...যদি গায়ের জোরে উর্দুকে বাঙালি হিন্দু-মুসলামের ওপর রাষ্ট্রভাষা রূপে চালাবার চেষ্টা হয়, তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ ধূমায়িত অসন্তোষ বেশিদিন চাপা থাকতে পারে না। শীঘ্রই তাহলে পূর্ব-পশ্চিমের সম্বন্ধের অবসান হবার আশঙ্কা আছে।’

অর্থাৎ উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করলে পাকিস্তানের বাঙালিদের ক্ষোভ যে এক সময় জাতীয়তাবাদী চিন্তায় রূপ নেবে এবং তা যে পাকিস্তানের বিভক্তি ডেকে আনতে পারে কাজী মোতাহের হোসেন তখনই অনুভব করতে পেরেছিলেন।

ভাষা আন্দোলনের আলোচনা সাধারণত আমরা ধারা-বর্ণনার মতো উপস্থাপন করতে স্বচ্ছন্দবোধ করি। ধারা-বর্ণনা গুরুত্বপূর্ণ তবে ধারা-বর্ণনা থেকে অন্তর্নিহিত কারণ অনুসন্ধান করে নিয়ে আসা কষ্টসাধ্য। ভাষা ও সংস্কৃতি মানুষের সঙ্গে মানুষের যে বন্ধন সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় ভৌগোলিক সহাবস্থান তা কোনভাবেই করতে সমর্থ হয় না। মাতৃভূমি এবং মাতৃভাষাকে বাঙালি মাকে ভালোবাসার মতো স্বতঃস্ফূর্ত, স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে গণ্য করে। মধ্যযুগ থেকে শুরু করে সাতচল্লিশ পূর্ববর্তী সময়ে তাই কখনো বাঙালি মাতৃভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলনে লিপ্ত হয়নি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর যখন মাতৃভাষার স্বাভাবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ষড়যত্র চলে, সে ষড়যন্ত্র বাঙালি মানসে এক নবজাগরণ বা রেনেসাঁর তৈরি করতে সমর্থ হয়।

সাতচল্লিশ পূর্ববর্তী সময়ে বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে রাজনৈতিক উপাদান যুক্ত হয়নি কখনো। বাঙালির ভাষা ও সংস্কৃতি চেতনা সব সময়ই দৃঢ় ছিল, এর সঙ্গে যখন রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের চেতনার সংমিশ্রণ ঘটলো তখন ভাষার অধিকার আদায়ের আন্দোলন তীব্র রূপ পেল। নিবেদিত আন্দোলনের সুতীব্র জোয়ারের তোড়ে সমস্ত বাধা উড়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলো। বায়ান্নের আন্দোলনের প্রভাব ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান ’৭০-এর নির্বাচন এবং ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাযুদ্ধে তাৎপর্যপূর্ণভাবে ভূমিকা পালন করে। মানুষের সাংস্কৃতিক জাগরণের প্রভাব যে কত তীক্ষè, সুদৃঢ় হতে পারে তা শুধুমাত্র দেশপ্রেমকে হাতিয়ার করে আধুনিক অস্ত্রের সামনে দাঁড়িয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জন হলো পৃথিবীর অন্যতম বড় উদাহরণ।

[লেখক : প্রাবন্ধিক ও উন্নয়ন গবেষক]

back to top