alt

উপ-সম্পাদকীয়

যদি শুধু বিনোদন সংস্কৃতি হয় তাহলে বাকি সব কী?

রহমান মৃধা

: সোমবার, ০৬ মে ২০২৪

জাতীয় সংগীত পরিবেশন, প্রদীপ প্রজ্বালন এবং বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় উৎসবের। ‘দূর করো ভয়, মনে শক্তি রেখে নিজেকে করো জয়’Ñ আমাদের সমাজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, বই কুইজসহ নানা বিষয়ে প্রতিযোগিতা হয় পরে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উৎসব।

সমাজে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিকচর্চার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলা হয়। এটাও বলা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যে কোনো সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তারা তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন, তাদের প্রতিভা এবং সৃজনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রচার করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।

সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য একটি সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এসব আমাদের পরিচয়, আচরণ এবং আনুগত্যের অনুভূতি গঠন করে এবং সহানুভূতিশীল, গুণমান, খাঁটি ও টেকসই জীবনযাপনের সুযোগ প্রদান করে।

অনেকে বলে যেমন এখন পড়ার সংস্কৃতি হারিয়ে গেছে। টিভির চাকচিক্যের সংস্কৃতি আর স্মার্টফোনের ব্যবহার, ফেসবুকে মাদকতা এখন আমাদের তরুণ সমাজকে গ্রাস করেছে। ভাবনার বদলে, প্রশ্ন করার বদলে তরুণরা এখন অনুকরণে আকৃষ্ট হচ্ছে। এ সুযোগে গণমুখী রাজনীতির অভাবটিও পূরণ করছে উগ্রবাদী রাজনীতি। এ অবস্থায় সমাজ ও রাষ্ট্রে অনৈতিক উপার্জনের বিরুদ্ধে নৈতিকতা চর্চা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করতে হবে। শুধু অস্ত্র দিয়ে উগ্রবাদী তৎপরতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মানবিকতা তৈরির মাধ্যমেই উগ্রবাদী তৎপরতাকে মোকাবিলা করতে হবে। উগ্রবাদিতা প্রথম আসে মন থেকে, কাজেই মনকে প্রথম পরিশুদ্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিবেশ থেকে আসে এই চিন্তা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা হবে তখন চারিদিকের পরিবেশও ভালো হবে ইত্যাদি।

কারো ধারণা আমাদের পুরো দেশটাই হলো গ্রামীণ সংস্কৃতির দেশ। এদেশ লোক সাহিত্যের দেশ, এখানে রয়েছে ভাটিয়ালির ভাটির ¯্রােতের গান, শাশ্বত বাংলার ফসল তোলার গান, নানা রকম লোকজ উৎসব। নগরজীবনেও আমাদের সুস্থ সংস্কৃতির বাস্তব প্রতিভাস একেবারে অনুপস্থিত নয়। কাজের তাগিদে বাংলাদেশের পল্লীর সাধারণ অনেক মানুষই শহরের গ-িবদ্ধ জীবনে বাস করতে বাধ্য। মুচি, মেথর, ডোম, কুলিকামিন, শ্রমিক, মজুর, রিকশাওয়ালা, অশিক্ষিত অমার্জিত দোকানদার, হকার ইত্যাদি শ্রেণীর লোক কিন্তু গ্রামের আবেষ্টনী থেকে বিচ্যুত হলেও তাদের মন-মেজাজে চিন্তা-চেতনায় গ্রামীণ প্রতিবেশের ওপর নির্ভরশীল। তাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য অনুযায়ী তারা নগর জীবনের পাশাপাশি গ্রামীণ সাংস্কৃতিক জীবনের বিবিধ ভাব প্রদর্শন করতে সর্বদাই উন্মুখ। এদিক থেকে গ্রাম-বাংলার আবহমান সাংস্কৃতিক জীবনের নানা প্রতিচ্ছবির আনাগোনা আধুনিকতম শহুরে জীবনেও অনেকখানি উপস্থিত বলে প্রতীয়মান হয়।

কারো মতে একটি দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো সে দেশের আগামী প্রজন্ম। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক মূলধারায় আনা প্রয়োজন। যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

নিয়মিতভাবে বাঙালি জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক চর্চা থাকতে হবে। একজন সংস্কৃতিবান মানুষ কখনো জঙ্গি তৎপরতা কিংবা মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসী কাজে অংশ নিতে পারে না। বরং সে সমাজের আলোকিত মানুষ হিসেবে এগিয়ে আসে সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য। একটা জাতির মানবিক গঠনের পেছনে তাই আবহমান সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। এ অস্থির সময়ে আমাদের আগামী প্রজন্মকে তাই সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করতে হবে। তাদের গড়ে তুলতে হবে আলোকিত মানুষ হিসেবে।

সুস্থ সংস্কৃতি জাতির রুচি তৈরি করে। সবচেয়ে সুন্দর কাজ, নিজের কাজটুকু দায়িত্বের সঙ্গে করা। আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সে অভ্যাসই করতে হবে সবাইকে।

এতক্ষণে যা বর্ণনায় ফুটে উঠেছে তার সবকিছুই কিন্তু বিশেষ অভিজ্ঞতা, অনুষ্ঠান, অতিরিক্ত উত্তেজনা, এগুলোকে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মনে করা হয় আমাদের সমাজে। দুর্নীতি, চুরি, নারী নির্যাতন এগুলোকে খারাপ কাজের মধ্যে ফেলা হয়। আবার রমজানের একমাস রোজা রাখার পর ঈদ উদযাপন করাকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বলা হয়।

দেশ যখন পরাধীন ছিল তখন কী অবস্থা ছিল বাঙালি জাতির?

ভারতবর্ষে মোগল সম্রাজ্যের সময় ছিল জাতির মধ্যে নবাবি ভাব। ব্রিটিশ শাসনে জাতির মধ্যে ঢোকে স্যুট-কোটের বাহার। ভারত এবং হিন্দু প্রভাবে জাতির মধ্যে আসে কিছুটা সাংস্কৃতিক মনোভাব। এখন মিডলইস্টে বহু লোকের বসবাস বিধায় বর্তমান চলছে ধর্মীয় প্রভাব। এগুলোও একধরনের সংস্কৃতি।

প্রাথমিক গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে, সংস্কৃতি বলতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবাই কাজকর্মেরই বোঝায়, ব্যাখ্যা এবং বুঝার সুবিধার্থে বলা যেতে পারে মানবদেহ নির্মিত মূল্য, রীতির ও ঐতিহ্যের এক ব্যাপ্তি। এ দৃষ্টিভঙ্গিতে, অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান অস্তিত্ব এবং জীবনের শর্তগুলো পরিসংখ্যানে বিবেচিত সংস্কৃতির অংশ।

সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমাদের সমাজে। এটি আমাদের পরিচয়ের মৌলিক অংশ। সংস্কৃতি আসলে সবকিছুই, যা আমরা দেখি, শুনি, স্পর্শ করি, চেষ্টা করি বা স্মরণ করি। সংস্কৃতি সর্বত্র, সংগীত থেকে দৃশ্য বিশ্ব পর্যন্ত। এমন একটি ব্যাপক সাংস্কৃতিক ধারণা সব প্রকার দক্ষতা, ঐতিহ্য এবং মানব সমাজগত নির্মাণের ওপর ভিত্তি করে। সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ভাষা, ক্ষমতা পরিচালনা, আজীবনিকতা, শিল্প, খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ধর্ম এবং অন্যান্য বিশ্বাস সিস্টেমগুলোও অন্তর্ভুক্ত। তারপরও আমরা আমাদের সমাজে শুধু নাচ, গানবাজনা, কবিতাপাঠ, থিয়েটার, সিনেমা এসবকেই সংস্কৃতি বলি।... এর কারণও বেশ পরিষ্কার। কারণ এসবের মধ্য দিয়ে আমাদের কর্মের ফলাফলের প্রতিচ্ছবি দেখতে পারি, যা সীমিত সময়ের জন্য হলেও বিনোদন বা বিরহ প্রদান করে থাকে।

আবার এমনও হতে পারে কৃষ্টি বা কালচার যা আজীবন বারবার করতে করতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং এর কোনো শেষ নেই, পৃথিবী যতদিন থাকবে কৃষ্টিও সামনের দিকে গুড টু বেটার হতে থাকবে। ওভার অল এবং ব্রডার পার্সপেক্টিভে কালচার বলতে সব কিছুকেই বোঝানো হয় তবে বিনোদন বা সীমিত সময়ে কৃষ্টির রিপিটেশন সাহিত্যিক চর্চার মধ্যে যখন প্রকাশিত হয় তখন তাকে বিশ্ব সমাজে সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যদিও এ ব্যাপারে তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ আছে বলে আমার নজরে পড়েনি এখনো। তবে যদি থেকে থাকে তাহলে বিষয়টি সর্বজনীন স্বীকৃত হবে বলে আমি মনে করি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের মত দেশে যেখানে ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে সঙ্গীত ও অন্যান্য সংস্কৃতিকে সাধারণ ‘নর্ম’ বলে সমর্থন করা হয় না। তাই এগুলোই সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়, বাকি সব কিছুকে ধর্মীয় এবং দৈনন্দিন কাজের মাঝে ফেলা হয়েছে; যা জাতির মনমানসিকতার দুর্বলতা আমার মতে।

এত কিছুর পরেও আমার ভাবনায় থেকে গেল সব কিছু কালচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন সংস্কৃতিকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে গোটা বিশ্বে?

এ প্রশ্নের জবাব শুনুন ‘নতুন করে পুরোনো ঘটনা’।

আমাদেরকে ছোটবেলায় শিক্ষা দেয়া হতো যেমন কৃষি শিক্ষা, অঙ্কন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি, এখন কী চলছে ধারণা নেই তবে এটা বলতে পারি যে এসবে এ প্রজন্মের বেশি দৃষ্টি নেই, অঙ্কন এর বদলে এখন নতুন প্রজন্ম গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখছে, প্রোগ্রামিং শিখছে। আগে গণিত অলিম্পিয়াড হতো, এখনও হয়, তবে এর সাথে নতুন এসেছে প্রোগ্রামিংয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা যেসব মূলত বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণিতভিত্তিক।

অতীতে ভাটিয়ালি গান, দেশীয় গান এসব শুনত তরুণ তরুণী, শিশু-কিশোরসহ সবাই, এখন এসব শুধু ধরে আছে তারাই যারা এসব করে অর্থ উপার্জনে জড়িত; কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে মূলত এসব বিলুপ্তপ্রায় কারণ সবাই শুনে এখন হিন্দি গান, ভারতীয় বাংলা বা ইংলিশ ইত্যাদি। ইংলিশ র‌্যাপ গানের অনুসারে কিশোররা নিয়ে আসছে বাংলায় র‌্যাপ। যদিও তারা অন্য কিছু অনুসরণ করছে তবুও এটাই কিন্তু এক ধরনের সংস্কৃতি, যতই বিদঘুটে সেটা শোনাক না কেন। চারুকলা আর্ট ইন্সটিটিউটও টিকে আছে মূলত সুবিধাভোগী কিছু মানুষের প্রচেষ্টায়। অধিকাংশ মানুষ এসব ঘৃণা করে এই কারণে নয় যে তারা মৌলবাদী বা উগ্রবাদী, এর কারণ হচ্ছে যেসব আর্ট তারা করে, যেসব মেসেজ তারা দিতে চায় সেসবের থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অনেক ভালো আর্ট করতে পারে বর্তমানে বা ভালো মেসেজ প্রস্তুত করতে পারে। এসবও এখন বিলুপ্তির পথে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এতই গুরুত্বপূর্ণ এখন অথচ আমাদের সেটারই কোনো চর্চা নেই।

আগেই বলেছি, সংস্কৃতি সবকিছুই যা আমরা করি। যেমন আমাদের ফেসবুকে একটা সংস্কৃতি বা অভ্যাস আছে, কোনো কিছু বা কারো কোনো লেখা বা মেসেজ না পড়ে, গভীরতা না বুঝেই কমেন্ট করা। তারপর দেশের মানুষের একটা কালচার আছে যে বড় পদে যারা আছে তারা যাই বলুক, ‘তারা যেহেতু বলেছেন তাহলে ঠিকই বলেছেন!’ এমন কালচার মেনে নেয়া, তারা যদিও বা অনেক ক্ষেত্রে কিছু না জেনেই অনেক কিছু বলে বসেন। এসব কালচার তবে ইনভেসিভ কালচার না। কারণ বাইরের দেশে এসব শুধু আবর্জনা। তাই বাইরের দেশের কালচার এসে আমাদের দেশের কালচারকে সহজেই প্রতিস্থাপন করছে এ কারণেই। দুঃখের বিষয় এটা যে আমাদের দেশের মানুষ মানিয়ে নিচ্ছে এসব কালচারে অথচ একটারও শিকড় কিন্তু আমাদের দেশের না। এসব অন্য দেশ থেকে আসছে এবং ডমিনেট করছে এজন্যে এসব কালচারকে বলতে চাই ‘ইনভেসিভ কালচার’।

বর্তমানে কালচার সেসবই যেসব মূলত সেলিব্রিটিরা করে থাকে। তাদের কাছে থেকেই এসব ‘ইনভেসিভ কালচার’ ছড়ায়। মানুষ এসবই অনুসরণ করে এবং সেটাই কালচার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়; কিন্তু সব কালচার আবার সবখানে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, যেমন বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকাকে অনুসরণ করে, কিন্তু আমেরিকায় বন্দুকের যে কালচার আছে সেটা কিন্তু চাইলেও অনুসরণ করতে পারে না কারণ আর্থিক অভাব। তবে অর্থ থাকলে একজন বাংলাদেশিও ইলন মাস্কের টেসলার সাইবার ট্রাক কিনে বন্দুক নিয়ে গুলি করে দেখতো যে বুলেটপ্রুফ কিনা। এটা একান্তই আমেরিকান কালচার তবে ইনভেসিভ না।

শেষে এটাই বলতে চাই প্রকৃতপক্ষে কালচার সেসবই যেসব একটা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জনগণ চর্চা করে থাকে, কারণ দেশের সাথে তারাও বেড়ে উঠতে থাকে এবং তারা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে চায় অন্য দেশের জনগণ বা অন্য জাতির কাছে। যেমন আমেরিকানরা উন্নত এবং সর্বদা উন্নয়নশীল ফলে তারা নতুন কিছু চর্চা করছে সর্বদাই এবং আমরা তাদের অতীতের কালচার বর্তমানে নতুন করে নিজেদের মধ্যে ধারণ করছি। এতে আমাদের নিজেদের জাতীয়তা থাকছে না। তবে এর মানে এই নয় যে আমেরিকান কালচার অনুসরণ করা খারাপ বা অন্য কিছু, এর মানে হচ্ছে আমরা নিজেরা প্রকৃতপক্ষে সৃজনশীল কিছুই করছি না যেটা অন্য জাতির কাছে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করবে।

আমেরিকান কালচার ইনভেসিভ হলেও সেসব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো যেমন বিজ্ঞান চর্চা, প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ইত্যাদি। তারা এসব সবাই পর্যায়ে চর্চা করে, এসবই তাদের কালচার; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পরগাছাও ইনভেসিভ হয়। যেমন আমাদের দেশীয় কিছু সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক যারা ইলন মাস্কের মতো ক্ষমতাবান, বিভিন্ন পদে বসে ছিল, আছেন এবং এরাই সবকিছুকে করায়ত্ত করে ধরে ছিল ও এখনো আছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তির যেমন একটি এলিট গ্রুপ আছে সাহিত্যেরও একটি এলিট গ্রুপ আছে তারা মূলত যে কাজগুলোর ওপর বেস্ট প্র্যাকটিস করেছেন সেগুলোকেই এ যাবত সংস্কৃতি হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছে। যার ফলে গোটা বিশ্বে সংস্কৃতি নিজেই কালচারে রূপ নিয়েছে। এত যুগ ধরে এভাবেই চলছে, যদিও এর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না, কেউ প্রতিবাদও করছে না, এটাই আমাকে অবাক করছে! তারপরও বলতে চাই- তোরা যে যা বলিস ভাই আমি আমার নিজের কালচার ধরে রাখতে চাই।

[লেখক : সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন]

গাছে গাছে সবুজ হোক দেশ

কত বিষে আমাদের বসবাস

ছবি

তিস্তার দুই নয়নে দুই অশ্রুধারা

বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ান

আদিবাসীরা বৈষম্যের শিকার

ছবি

নারীর অগ্রযাত্রা

ছবি

সিলেট-সুনামগঞ্জের ‘জলাবদ্ধ বন্যার’ দায় কার?

ছবি

বুড়িতিস্তা রিজার্ভার খনন : কৃষক কি উপকৃত হবে?

সেন্টমার্টিন দ্বীপ নিয়ে কী হচ্ছে?

উচ্ছেদকৃত দলিতদের পুনর্বাসন করুন

রম্যগদ্য : অভিযোগ ‘অভিযোগ’ নয়

কেন হেরে গেলেন সেলিম

নীরবে-নিভৃতে কাজ করা এক কৃষিবিজ্ঞানীর কথা

অর্থনীতি কী অবস্থায় আছে?

কোরবানির চামড়ার হকদার

যোগাযোগ অধ্যয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ

এমপি আনারকে নিয়ে যত আইনি জটিলতা

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আইনের শাসন

দূর হোক মনের পশুত্ব

মনের পশুত্বের প্রতীকী ত্যাগের আরেক নাম কোরবানি

ঈদে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস

এমআইটি : প্রযুক্তির সৃষ্টি রহস্যের খোঁজ

কবিগুরুর বাণী ‘প্রমাণিত মিথ্যা’

কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধ হবে কিভাবে

কানিহাটি সিরিজ এবং পঞ্চব্রীহি নিয়ে আরও কিছু কথা

কলকাতায় হিজাব বিতর্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক

হাতের শক্তি ও মহিমা

বাজেট বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ

ছবি

কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে

সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটেরাদের বিচার কি হবে

বাজেট ভাবনায় শঙ্কিত যারা

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও বৈষম্যে

জ্ঞানই শক্তি

পরিবেশ নিয়ে কিছু কথা

অগ্নিমূল্যের বাজার : সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে কি?

tab

উপ-সম্পাদকীয়

যদি শুধু বিনোদন সংস্কৃতি হয় তাহলে বাকি সব কী?

রহমান মৃধা

সোমবার, ০৬ মে ২০২৪

জাতীয় সংগীত পরিবেশন, প্রদীপ প্রজ্বালন এবং বেলুন ওড়ানোর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয় উৎসবের। ‘দূর করো ভয়, মনে শক্তি রেখে নিজেকে করো জয়’Ñ আমাদের সমাজে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য, চিত্রাঙ্কন, বই কুইজসহ নানা বিষয়ে প্রতিযোগিতা হয় পরে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা উৎসব।

সমাজে লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিকচর্চার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলা হয়। এটাও বলা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান যে কোনো সমাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তারা তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন, তাদের প্রতিভা এবং সৃজনশীলতা প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রচার করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।

সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য একটি সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ এসব আমাদের পরিচয়, আচরণ এবং আনুগত্যের অনুভূতি গঠন করে এবং সহানুভূতিশীল, গুণমান, খাঁটি ও টেকসই জীবনযাপনের সুযোগ প্রদান করে।

অনেকে বলে যেমন এখন পড়ার সংস্কৃতি হারিয়ে গেছে। টিভির চাকচিক্যের সংস্কৃতি আর স্মার্টফোনের ব্যবহার, ফেসবুকে মাদকতা এখন আমাদের তরুণ সমাজকে গ্রাস করেছে। ভাবনার বদলে, প্রশ্ন করার বদলে তরুণরা এখন অনুকরণে আকৃষ্ট হচ্ছে। এ সুযোগে গণমুখী রাজনীতির অভাবটিও পূরণ করছে উগ্রবাদী রাজনীতি। এ অবস্থায় সমাজ ও রাষ্ট্রে অনৈতিক উপার্জনের বিরুদ্ধে নৈতিকতা চর্চা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাংস্কৃতিক চর্চা জোরদার করতে হবে। শুধু অস্ত্র দিয়ে উগ্রবাদী তৎপরতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। মানবিকতা তৈরির মাধ্যমেই উগ্রবাদী তৎপরতাকে মোকাবিলা করতে হবে। উগ্রবাদিতা প্রথম আসে মন থেকে, কাজেই মনকে প্রথম পরিশুদ্ধ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরিবেশ থেকে আসে এই চিন্তা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যখন সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা হবে তখন চারিদিকের পরিবেশও ভালো হবে ইত্যাদি।

কারো ধারণা আমাদের পুরো দেশটাই হলো গ্রামীণ সংস্কৃতির দেশ। এদেশ লোক সাহিত্যের দেশ, এখানে রয়েছে ভাটিয়ালির ভাটির ¯্রােতের গান, শাশ্বত বাংলার ফসল তোলার গান, নানা রকম লোকজ উৎসব। নগরজীবনেও আমাদের সুস্থ সংস্কৃতির বাস্তব প্রতিভাস একেবারে অনুপস্থিত নয়। কাজের তাগিদে বাংলাদেশের পল্লীর সাধারণ অনেক মানুষই শহরের গ-িবদ্ধ জীবনে বাস করতে বাধ্য। মুচি, মেথর, ডোম, কুলিকামিন, শ্রমিক, মজুর, রিকশাওয়ালা, অশিক্ষিত অমার্জিত দোকানদার, হকার ইত্যাদি শ্রেণীর লোক কিন্তু গ্রামের আবেষ্টনী থেকে বিচ্যুত হলেও তাদের মন-মেজাজে চিন্তা-চেতনায় গ্রামীণ প্রতিবেশের ওপর নির্ভরশীল। তাদের পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য অনুযায়ী তারা নগর জীবনের পাশাপাশি গ্রামীণ সাংস্কৃতিক জীবনের বিবিধ ভাব প্রদর্শন করতে সর্বদাই উন্মুখ। এদিক থেকে গ্রাম-বাংলার আবহমান সাংস্কৃতিক জীবনের নানা প্রতিচ্ছবির আনাগোনা আধুনিকতম শহুরে জীবনেও অনেকখানি উপস্থিত বলে প্রতীয়মান হয়।

কারো মতে একটি দেশের অন্যতম চালিকাশক্তি হলো সে দেশের আগামী প্রজন্ম। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের দেশের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ সাংস্কৃতিক মূলধারায় আনা প্রয়োজন। যেমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা- ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

নিয়মিতভাবে বাঙালি জাতিসত্তার সাংস্কৃতিক চর্চা থাকতে হবে। একজন সংস্কৃতিবান মানুষ কখনো জঙ্গি তৎপরতা কিংবা মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসী কাজে অংশ নিতে পারে না। বরং সে সমাজের আলোকিত মানুষ হিসেবে এগিয়ে আসে সমাজের সাধারণ মানুষের জন্য। একটা জাতির মানবিক গঠনের পেছনে তাই আবহমান সংস্কৃতির গুরুত্ব অপরিসীম। এ অস্থির সময়ে আমাদের আগামী প্রজন্মকে তাই সুস্থ সাংস্কৃতিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অনুপ্রাণিত করতে হবে। তাদের গড়ে তুলতে হবে আলোকিত মানুষ হিসেবে।

সুস্থ সংস্কৃতি জাতির রুচি তৈরি করে। সবচেয়ে সুন্দর কাজ, নিজের কাজটুকু দায়িত্বের সঙ্গে করা। আলোকিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সে অভ্যাসই করতে হবে সবাইকে।

এতক্ষণে যা বর্ণনায় ফুটে উঠেছে তার সবকিছুই কিন্তু বিশেষ অভিজ্ঞতা, অনুষ্ঠান, অতিরিক্ত উত্তেজনা, এগুলোকে সংস্কৃতির অংশ হিসেবে মনে করা হয় আমাদের সমাজে। দুর্নীতি, চুরি, নারী নির্যাতন এগুলোকে খারাপ কাজের মধ্যে ফেলা হয়। আবার রমজানের একমাস রোজা রাখার পর ঈদ উদযাপন করাকে ধর্মীয় অনুষ্ঠান বলা হয়।

দেশ যখন পরাধীন ছিল তখন কী অবস্থা ছিল বাঙালি জাতির?

ভারতবর্ষে মোগল সম্রাজ্যের সময় ছিল জাতির মধ্যে নবাবি ভাব। ব্রিটিশ শাসনে জাতির মধ্যে ঢোকে স্যুট-কোটের বাহার। ভারত এবং হিন্দু প্রভাবে জাতির মধ্যে আসে কিছুটা সাংস্কৃতিক মনোভাব। এখন মিডলইস্টে বহু লোকের বসবাস বিধায় বর্তমান চলছে ধর্মীয় প্রভাব। এগুলোও একধরনের সংস্কৃতি।

প্রাথমিক গবেষণার পরিপ্রেক্ষিতে, সংস্কৃতি বলতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবাই কাজকর্মেরই বোঝায়, ব্যাখ্যা এবং বুঝার সুবিধার্থে বলা যেতে পারে মানবদেহ নির্মিত মূল্য, রীতির ও ঐতিহ্যের এক ব্যাপ্তি। এ দৃষ্টিভঙ্গিতে, অভিজ্ঞতা, বিদ্যমান অস্তিত্ব এবং জীবনের শর্তগুলো পরিসংখ্যানে বিবেচিত সংস্কৃতির অংশ।

সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আমাদের সমাজে। এটি আমাদের পরিচয়ের মৌলিক অংশ। সংস্কৃতি আসলে সবকিছুই, যা আমরা দেখি, শুনি, স্পর্শ করি, চেষ্টা করি বা স্মরণ করি। সংস্কৃতি সর্বত্র, সংগীত থেকে দৃশ্য বিশ্ব পর্যন্ত। এমন একটি ব্যাপক সাংস্কৃতিক ধারণা সব প্রকার দক্ষতা, ঐতিহ্য এবং মানব সমাজগত নির্মাণের ওপর ভিত্তি করে। সংস্কৃতির অংশ হিসেবে ভাষা, ক্ষমতা পরিচালনা, আজীবনিকতা, শিল্প, খেলাধুলা অন্তর্ভুক্ত। এর মধ্যে ধর্ম এবং অন্যান্য বিশ্বাস সিস্টেমগুলোও অন্তর্ভুক্ত। তারপরও আমরা আমাদের সমাজে শুধু নাচ, গানবাজনা, কবিতাপাঠ, থিয়েটার, সিনেমা এসবকেই সংস্কৃতি বলি।... এর কারণও বেশ পরিষ্কার। কারণ এসবের মধ্য দিয়ে আমাদের কর্মের ফলাফলের প্রতিচ্ছবি দেখতে পারি, যা সীমিত সময়ের জন্য হলেও বিনোদন বা বিরহ প্রদান করে থাকে।

আবার এমনও হতে পারে কৃষ্টি বা কালচার যা আজীবন বারবার করতে করতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত এবং এর কোনো শেষ নেই, পৃথিবী যতদিন থাকবে কৃষ্টিও সামনের দিকে গুড টু বেটার হতে থাকবে। ওভার অল এবং ব্রডার পার্সপেক্টিভে কালচার বলতে সব কিছুকেই বোঝানো হয় তবে বিনোদন বা সীমিত সময়ে কৃষ্টির রিপিটেশন সাহিত্যিক চর্চার মধ্যে যখন প্রকাশিত হয় তখন তাকে বিশ্ব সমাজে সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে যদিও এ ব্যাপারে তেমন কোনো বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ আছে বলে আমার নজরে পড়েনি এখনো। তবে যদি থেকে থাকে তাহলে বিষয়টি সর্বজনীন স্বীকৃত হবে বলে আমি মনে করি।

অন্যদিকে বাংলাদেশের মত দেশে যেখানে ধর্মকে প্রাধান্য দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে সঙ্গীত ও অন্যান্য সংস্কৃতিকে সাধারণ ‘নর্ম’ বলে সমর্থন করা হয় না। তাই এগুলোই সংস্কৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়, বাকি সব কিছুকে ধর্মীয় এবং দৈনন্দিন কাজের মাঝে ফেলা হয়েছে; যা জাতির মনমানসিকতার দুর্বলতা আমার মতে।

এত কিছুর পরেও আমার ভাবনায় থেকে গেল সব কিছু কালচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন সংস্কৃতিকে আলাদা করে দেখা হচ্ছে গোটা বিশ্বে?

এ প্রশ্নের জবাব শুনুন ‘নতুন করে পুরোনো ঘটনা’।

আমাদেরকে ছোটবেলায় শিক্ষা দেয়া হতো যেমন কৃষি শিক্ষা, অঙ্কন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি, এখন কী চলছে ধারণা নেই তবে এটা বলতে পারি যে এসবে এ প্রজন্মের বেশি দৃষ্টি নেই, অঙ্কন এর বদলে এখন নতুন প্রজন্ম গ্রাফিক্স ডিজাইন শিখছে, প্রোগ্রামিং শিখছে। আগে গণিত অলিম্পিয়াড হতো, এখনও হয়, তবে এর সাথে নতুন এসেছে প্রোগ্রামিংয়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা যেসব মূলত বিভিন্ন ক্ষেত্রে গণিতভিত্তিক।

অতীতে ভাটিয়ালি গান, দেশীয় গান এসব শুনত তরুণ তরুণী, শিশু-কিশোরসহ সবাই, এখন এসব শুধু ধরে আছে তারাই যারা এসব করে অর্থ উপার্জনে জড়িত; কিন্তু প্রযুক্তির কল্যাণে মূলত এসব বিলুপ্তপ্রায় কারণ সবাই শুনে এখন হিন্দি গান, ভারতীয় বাংলা বা ইংলিশ ইত্যাদি। ইংলিশ র‌্যাপ গানের অনুসারে কিশোররা নিয়ে আসছে বাংলায় র‌্যাপ। যদিও তারা অন্য কিছু অনুসরণ করছে তবুও এটাই কিন্তু এক ধরনের সংস্কৃতি, যতই বিদঘুটে সেটা শোনাক না কেন। চারুকলা আর্ট ইন্সটিটিউটও টিকে আছে মূলত সুবিধাভোগী কিছু মানুষের প্রচেষ্টায়। অধিকাংশ মানুষ এসব ঘৃণা করে এই কারণে নয় যে তারা মৌলবাদী বা উগ্রবাদী, এর কারণ হচ্ছে যেসব আর্ট তারা করে, যেসব মেসেজ তারা দিতে চায় সেসবের থেকে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অনেক ভালো আর্ট করতে পারে বর্তমানে বা ভালো মেসেজ প্রস্তুত করতে পারে। এসবও এখন বিলুপ্তির পথে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এতই গুরুত্বপূর্ণ এখন অথচ আমাদের সেটারই কোনো চর্চা নেই।

আগেই বলেছি, সংস্কৃতি সবকিছুই যা আমরা করি। যেমন আমাদের ফেসবুকে একটা সংস্কৃতি বা অভ্যাস আছে, কোনো কিছু বা কারো কোনো লেখা বা মেসেজ না পড়ে, গভীরতা না বুঝেই কমেন্ট করা। তারপর দেশের মানুষের একটা কালচার আছে যে বড় পদে যারা আছে তারা যাই বলুক, ‘তারা যেহেতু বলেছেন তাহলে ঠিকই বলেছেন!’ এমন কালচার মেনে নেয়া, তারা যদিও বা অনেক ক্ষেত্রে কিছু না জেনেই অনেক কিছু বলে বসেন। এসব কালচার তবে ইনভেসিভ কালচার না। কারণ বাইরের দেশে এসব শুধু আবর্জনা। তাই বাইরের দেশের কালচার এসে আমাদের দেশের কালচারকে সহজেই প্রতিস্থাপন করছে এ কারণেই। দুঃখের বিষয় এটা যে আমাদের দেশের মানুষ মানিয়ে নিচ্ছে এসব কালচারে অথচ একটারও শিকড় কিন্তু আমাদের দেশের না। এসব অন্য দেশ থেকে আসছে এবং ডমিনেট করছে এজন্যে এসব কালচারকে বলতে চাই ‘ইনভেসিভ কালচার’।

বর্তমানে কালচার সেসবই যেসব মূলত সেলিব্রিটিরা করে থাকে। তাদের কাছে থেকেই এসব ‘ইনভেসিভ কালচার’ ছড়ায়। মানুষ এসবই অনুসরণ করে এবং সেটাই কালচার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়; কিন্তু সব কালচার আবার সবখানে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, যেমন বাংলাদেশ অনেক ক্ষেত্রে আমেরিকাকে অনুসরণ করে, কিন্তু আমেরিকায় বন্দুকের যে কালচার আছে সেটা কিন্তু চাইলেও অনুসরণ করতে পারে না কারণ আর্থিক অভাব। তবে অর্থ থাকলে একজন বাংলাদেশিও ইলন মাস্কের টেসলার সাইবার ট্রাক কিনে বন্দুক নিয়ে গুলি করে দেখতো যে বুলেটপ্রুফ কিনা। এটা একান্তই আমেরিকান কালচার তবে ইনভেসিভ না।

শেষে এটাই বলতে চাই প্রকৃতপক্ষে কালচার সেসবই যেসব একটা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জনগণ চর্চা করে থাকে, কারণ দেশের সাথে তারাও বেড়ে উঠতে থাকে এবং তারা তাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে চায় অন্য দেশের জনগণ বা অন্য জাতির কাছে। যেমন আমেরিকানরা উন্নত এবং সর্বদা উন্নয়নশীল ফলে তারা নতুন কিছু চর্চা করছে সর্বদাই এবং আমরা তাদের অতীতের কালচার বর্তমানে নতুন করে নিজেদের মধ্যে ধারণ করছি। এতে আমাদের নিজেদের জাতীয়তা থাকছে না। তবে এর মানে এই নয় যে আমেরিকান কালচার অনুসরণ করা খারাপ বা অন্য কিছু, এর মানে হচ্ছে আমরা নিজেরা প্রকৃতপক্ষে সৃজনশীল কিছুই করছি না যেটা অন্য জাতির কাছে আমাদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করবে।

আমেরিকান কালচার ইনভেসিভ হলেও সেসব অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভালো যেমন বিজ্ঞান চর্চা, প্রযুক্তির শ্রেষ্ঠত্ব ইত্যাদি। তারা এসব সবাই পর্যায়ে চর্চা করে, এসবই তাদের কালচার; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে পরগাছাও ইনভেসিভ হয়। যেমন আমাদের দেশীয় কিছু সাহিত্যিক বা সাংস্কৃতিক যারা ইলন মাস্কের মতো ক্ষমতাবান, বিভিন্ন পদে বসে ছিল, আছেন এবং এরাই সবকিছুকে করায়ত্ত করে ধরে ছিল ও এখনো আছে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তির যেমন একটি এলিট গ্রুপ আছে সাহিত্যেরও একটি এলিট গ্রুপ আছে তারা মূলত যে কাজগুলোর ওপর বেস্ট প্র্যাকটিস করেছেন সেগুলোকেই এ যাবত সংস্কৃতি হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছে। যার ফলে গোটা বিশ্বে সংস্কৃতি নিজেই কালচারে রূপ নিয়েছে। এত যুগ ধরে এভাবেই চলছে, যদিও এর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না, কেউ প্রতিবাদও করছে না, এটাই আমাকে অবাক করছে! তারপরও বলতে চাই- তোরা যে যা বলিস ভাই আমি আমার নিজের কালচার ধরে রাখতে চাই।

[লেখক : সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন]

back to top