alt

উপ-সম্পাদকীয়

লোকসভা নির্বাচন : কী হচ্ছে, কী হবে

গৌতম রায়

: রোববার, ১৯ মে ২০২৪
image

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোটের চিত্র

ভারতের চলতি লোকসভা নির্বাচনের (২০২৪) চারটি পর্ব ইতোমধ্যেই অতিক্রান্ত। তাই এখন সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন আলাপচারিতায় খুব বেশি রকমের চর্চা করছে ফলাফল ঘিরে। সম্ভাবনা কে নিয়ে। জাতীয় স্তরে কি ফল ঘটতে পারে? কে সরকার করতে পারে? আদৌ বিজেপি ৪০০ আসন সংখ্যা অতিক্রম করা তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কিনাÑ এই আলোচনা যেমন উঠে আসছে, তেমনি একটা বড় অংশের মানুষ ইতোমধ্যেই চর্চা শুরু করে দিয়েছেন যে, ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর যে ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, অর্থাৎ; প্রথম দফার ইউপিএ সরকার গঠিত হওয়ার সময় কালের পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন; তেমন পরিস্থিতির কি উদ্ভব হবে?

আবার একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের ফলাফল কি দাঁড়াবে, গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি যে আসন সংখ্যা পেয়েছিল সেটা ধরে রাখতে পারবে নাকি? একটা বড় ধরনের চমক দেবে বাম কংগ্রেস জোটÑ এসব প্রশ্নে এখন শহুরে অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে গ-গ্রামের চায়ের দোকান মুখরিত জাতীয় স্তরে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই সম্ভাবনার সম্পর্কে আলোচনায় ঢুকতে গেলে যে কথাটা প্রথমেই আমাদের বলতে হয়, তা হলো; নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে বা শুরু হওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত শাসক বিজেপির মুখ থেকে যে ‘এবার ৪০০ আসন পার’Ñ এই শিবাকীর্তন শোনা গিয়েছিল তা এখন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

ভোট প্রক্রিয়া যত এগিয়েছে ততই বিজেপির পালের হাওয়া একেবারে শূন্য হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি যেমন বিজেপি বুঝতে পারছে, তাদের মস্তিষ্ক, আরএসএস ও বুঝতে পারছে। ঠিক তেমনি অতি সাধারণ মানুষ, শহর মফস্বল গাঁয়ে গঞ্জে থাকা মানুষ বুঝতে পারছে। বিজেপি যেমন এখন আর ৪০০ পাওয়া তো দূরের কথা, ভোট প্রচারে রাজনৈতিক একটা শব্দ ও তাদের প্রচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনছে না, কেবলমাত্র মন্দির-মসজিদ, কেবলমাত্র হিন্দু-মুসলমান, কেবলমাত্র জাতপাত, কে কি খাবেন, কে কি পরবেনÑ এইসব অরাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক, বিভাজনমূলক বিষয়গুলোকেই রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে তুলে ধরার এক জঘন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। ঠিক তেমনই ইলেকটোরাল বন্ডের টাকায় পুষ্ট মিডিয়া হাউসগুলোও এখন আর সেভাবে ধর্মান্ধ সম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির হয়ে ওকালতি করছে না।

সব থেকে বড় কথা অর্থনীতির ফাটকা কারবার যারা করে তারা হাওয়া বুঝতে পারে। শেয়ারবাজার যারা নিয়ন্ত্রণ করে, সেই সব এলাকাগুলোর দিকে যদি আমরা চোখ দিলেই সেই হাওয়ামালুম হবে। দেখতে পাওয়া যাবে, সেখান থেকে যে অর্থনৈতিক আভাস উঠে আসতে শুরু করেছে, তা ভয়ঙ্কর। শেয়ারবাজারের যা গতি, তাতে পরিষ্কার হচ্ছে, ভারতে শাসক বদল, এখন কেবল সময়ের অপক্ষা।

এটা ক্রমশ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে উঠতে শুরু করেছে যে, বিজেপির পক্ষে একক গরিষ্ঠতা নিয়ে আর তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে আসা সম্ভব পর হবে না। হয় তারা তাদের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় ভোটে জিতে জনগণের রায়ে সরকার গঠন করার পরিবর্তে, ভোটের পরে, চাঁদির জোরে সরকার গঠনের যে প্রক্রিয়া এতকাল চালিয়ে এসেছে, ঠিক সেই ভাবে গরিষ্ঠতা লাভ করবে।

নতুবা যে এনডিএ নামক নীতিবিহীন-সুবিধাবাদী জোট রয়েছে, যে জোটকে সামনে রেখে তারা নয়ের দশকে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে যেভাবে ক্ষমতায় এসেছিল, ঠিক সেভাবেই একাধিক আঞ্চলিক দলগুলোকে তাদের নানা ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারিকে সামনে রেখে, ভয় দেখিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। সেভাবেই সেইসব দলগুলোকে আবার এনডিএতে সামিল করে অতীতের মতো ওই জোট সরকার পরিচালনা করবেÑ এগুলোই এখন আলোচ্য।

দিল্লি থেকে কে সরকার তৈরি করবেÑ এই প্রশ্নের থেকেও পশ্চিমবঙ্গের সব স্তরের মানুষের কাছে এটাই এখন বিশেষ রকমের আলোচ্য বিষয় যে, এই রাজ্যে দুই শাসক দলÑ কেন্দ্র এবং রাজ্যের, তারা তাদের ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে? নাকি তাদের আসনের ওপর একটা বড় রকমের ভাগ বসাতে চলেছে বাম কংগ্রেস জোট?

সাধারণভাবে বিগত পাঁচ বছর ধরে প্রায় সমস্ত ধরনের প্রচার মাধ্যম বাম-কংগ্রেস জোট সম্পর্কে অত্যন্ত নেতিবাচক, অবজ্ঞা সূচক প্রচার চালিয়ে এসেছে। সংসদীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে বামপন্থীদের ভোটে জিততে না পারাকে নানাভাবে ব্যঙ্গ করেছে। সেই ব্যঙ্গের এমন একটা সামাজিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল, যাতে একটা বড় অংশের মানুষ, যারা প্রত্যক্ষভাবে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বা বামপন্থীদের নানা সামাজিক কর্মকা-কে সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাননি, তারা মনে করতে শুরু করেছিলেন যে, রাজনৈতিকভাবে বামপন্থীরা এমন একটা অবস্থানে পৌঁছে গেছে যে, ভোট রাজনীতিতে তাদের রেজারেকশন আর কখনো ঘটবে না।

কিন্তু বামপন্থী রাজনীতির মধ্যে মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বদানের পর থেকে বাম রাজনীতিতে বাহিরঙ্গে নয়, অন্তরঙ্গে যে হিমালয় সদৃশ্য ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে, সে সম্পর্কে গদি মিডিয়া প্রায় নিশ্চুপ অবস্থা পালন করে চলেছে। ফলে চলতি নির্বাচনের সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সংশয়, জিজ্ঞাসা বামপন্থীদের ঘিরে এবং কংগ্রেসকে ঘিরে শুরু হয়েছিল।

আরএসএসের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি যে গোটা ভারতজুড়ে ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’ এই সেøাগানটিকে সাম্প্রতিককালে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে, এটি কিন্তু তাদের সাম্প্রতিক কোনো কর্মসূচি নয়। এটি তাদের দীর্ঘদিনের অনুশীলিত একটা কর্ম পদ্ধতি। এই কর্মপদ্ধতির প্রয়োগ ঘটাতে তারা বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকমের কৌশল অবলম্বন করেছে।

বাংলার বুকে ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’ এবং ‘বাম মুক্ত বাংলা’ এই কৌশলকে ফলপ্রসূ করার তাগিদে একটা সময় প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যে নানা ধরনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু করিয়েছে। তার জেরে কংগ্রেসের মধ্যে ভাঙন ঘটিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে নতুন আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সৃষ্টি করিয়েছে। এই সদ্য তৈরি হওয়া আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেস নয়ের দশকের শেষ দিকে লোকসভা নির্বাচনের একদম প্রাক মুহূর্তে যাতে নির্বাচনী প্রতীক অতি দ্রুত পায়, সেই কারণে ঐতিহাসিক বাবড়ি মসজিদ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ পর্যন্ত করেছিলেন।

আদবানির সেই সুপারিশ থেকেই আমরা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি যে, আরএসএস-বিজেপির জঠরে, প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার আঁতুড় ঘরে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম। কেবল জন্মই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের লালন-পালন, বিকাশÑ সবই ঘটেছে হিন্দু সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী শক্তির ক্রোড়ে।

এই গোটা প্রক্রিয়াটিকেই চলতি লোকসভা নির্বাচনে খানিকটা ভাসুর ভাদ্র বউয়ের মতো, বিজেপি আর তৃণমূলের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভেতর দিয়ে উঠে আসছে। নাগরিকত্ব আইন ঘিরে বিজেপির যে বিভাজনমূলক আচরণ এবং অবস্থান, তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানের কখনো কোনো ফারাক ছিল না। কিন্তু ভোট রাজনীতির স্বার্থে মমতা একটা ফারাকের অভিনয় করে চলতেন।

চলতি লোকসভা নির্বাচন পর্ব যতই এগোতে শুরু করেছে, জাতীয় স্তরে বিজেপির একক গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার রাস্তাটা ততই বন্ধ হতে শুরু করেছে। ফলে বিজেপি যেভাবে বিভাজনের রাজনীতিকে একটা চরম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে, সেই চেষ্টাকে পশ্চিমবঙ্গে সফল করার জন্য মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদা জল খেয়ে নেমে পড়েছেন।

বিশ্বের কোথাও কোন দেশে, ভারতের সিএএ আইনের আদলে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব হয় কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ভারতে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বের পথে হাঁটছে বিজেপি। আর সেই ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বকে এখন প্রকাশ্যে সমর্থন করছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে শুধু মুসলমানকে বাদ দিয়ে অন্য সমস্ত ধর্মের মানুষকে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলছেন, তা শুধু চরম বিভাজনমূলকই নয়, ভারতের সাংবিধানিক পরিকাঠামো অনুযায়ী তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক, বেআইনি। ভারতে কখনো কোনো একটি বিশেষ ধর্মের মানুষকে তার ধর্ম বিশ্বাসের দরুণ নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যায় না। কোনো একটি বিশেষ ধর্মের মানুষকে তার ধর্ম বিশ্বাসকে শুধু ভিত্তি করে নাগরিকত্ব প্রদান করা যায় না।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ক্ষেত্রে সব থেকে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এই যে আরএসএস বিজেপির তৈরি করে দেয়া চিত্রনাট্য অনুযায়ী বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নিজেকে মুসলমানপ্রেমী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো; হিন্দু ভোট বিজেপির দিকে যাতে একটা বড় অংশে চলে যায়। আর মমতার বিজেপির তৈরি করে দেয়া এই চিত্রনাট্য অনুযায়ী অভিনয়ের জেরে সাধারণ গরিব, প্রথাগত শিক্ষার বিশেষ সুযোগ না পাওয়া মুসলমান সমাজের একটা বড় অংশ, মমতা, তাদের ভোটের স্বার্থে প্রতারিত করছেÑ এটা বুঝে উঠতে পারেননি।

ফলে আজ যখন কেবলমাত্র মুসলমানদের বাদ দিয়ে ভারতের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বিজেপি মেলে ধরছে, আর সেই সিএএ আইনকে প্রকাশ্যে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন করছে, তখন সাধারণ মুসলমান সমাজের ভেতরে এক ভয়াবহ হতাশা, আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুসলমান সমাজের উন্নতির নাম করে, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে মমতা মুসলমানদের বঞ্চিত করে রেখেছিলেন কেবলমাত্র ধর্মের একটা বিকৃত ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে। ইসলাম যে আধুনিকতা মানব সমাজের মধ্যে নিয়ে এসেছে এই ভাবধারাকে প্রচারের উদ্দেশ্যে, প্রসারের জন্য মমতা তার গোটা রাজনৈতিক জীবনে এতটুকুনিও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তুচ্ছ আচারের মরুবালু রাশি ভেতরে মুসলমান সমাজ যাতে বিচারের স্রোতঃপথকে গ্রাস করিয়ে দিতে বাধ্য হয়, আরএসএসের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী সেই কাজটাই মমতা করে গেছেন।

তাই আজ যখন কেবলমাত্র মুসলমান সমাজকে বাদ দিয়ে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বের কথা বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে মমতা বলছেন, তখনই বুঝতে পারা যাচ্ছে, চলতি লোকসভা নির্বাচনের গতিপ্রকৃতিতে বাংলার মুসলমান সমাজ এখন বুঝে নিতে শুরু করেছেন। কে তাদের সত্যিকারের বন্ধু, আর কে-ই বা বন্ধুত্বের ছল করে তাদের বুকে ছুরি বসাতে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বাংলার মুসলমান সমাজ সেটা বুঝে নিয়েছে।

[লেখক : ভারতীয় ইতিহাসবিদ]

দূর হোক মনের পশুত্ব

মনের পশুত্বের প্রতীকী ত্যাগের আরেক নাম কোরবানি

ঈদে সুস্থ খাদ্যাভ্যাস

এমআইটি : প্রযুক্তির সৃষ্টি রহস্যের খোঁজ

কবিগুরুর বাণী ‘প্রমাণিত মিথ্যা’

কিশোর গ্যাং কালচার বন্ধ হবে কিভাবে

কানিহাটি সিরিজ এবং পঞ্চব্রীহি নিয়ে আরও কিছু কথা

কলকাতায় হিজাব বিতর্ক

বাংলাদেশ ব্যাংকে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ে বিতর্ক

হাতের শক্তি ও মহিমা

বাজেট বাস্তবায়নই আসল চ্যালেঞ্জ

ছবি

কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে

সংখ্যালঘুদের সম্পদ লুটেরাদের বিচার কি হবে

বাজেট ভাবনায় শঙ্কিত যারা

মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও বৈষম্যে

জ্ঞানই শক্তি

পরিবেশ নিয়ে কিছু কথা

অগ্নিমূল্যের বাজার : সাধারণ মানুষের স্বস্তি মিলবে কি?

বেসরকারি স্কুল-কলেজ পরিচালনা পর্ষদের নৈরাজ্য

যৌতুক মামলার অপব্যবহার

শহীদের রক্তে লেখা ঐতিহাসিক ছয় দফা

রসে ভরা বাংলাদেশ

সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই

দুর্নীতির উৎসমুখ

কানিহাটি সিরিজের বোরো ধান নিয়ে কিছু কথা

নজিরবিহীন বেনজীর

টেকসই উন্নয়ন করতে হবে প্রকৃতির সঙ্গে সখ্য রেখে আহমদ

কী বার্তা দিল ভারতের সংসদ নির্বাচন

গরমে প্রয়োজন স্বাস্থ্য সচেতনতা

ক্লাইমেট জাস্টিস ফর বাংলাদেশ : শুধু ঋণ বা অনুদান নয়, প্রয়োজন ক্ষতিপূরণ

এখন ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ কী

দুর্নীতি নিয়ে মানুষের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া দরকার

গোল্ডেন রাইস কেন বারবার থমকে দাঁড়ায়

প্রাকৃতিক রসগোল্লা

বেড়েই চলেছে জীবনযাত্রার ব্যয়

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস

tab

উপ-সম্পাদকীয়

লোকসভা নির্বাচন : কী হচ্ছে, কী হবে

গৌতম রায়

image

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে ভোটের চিত্র

রোববার, ১৯ মে ২০২৪

ভারতের চলতি লোকসভা নির্বাচনের (২০২৪) চারটি পর্ব ইতোমধ্যেই অতিক্রান্ত। তাই এখন সাধারণ মানুষ তাদের দৈনন্দিন আলাপচারিতায় খুব বেশি রকমের চর্চা করছে ফলাফল ঘিরে। সম্ভাবনা কে নিয়ে। জাতীয় স্তরে কি ফল ঘটতে পারে? কে সরকার করতে পারে? আদৌ বিজেপি ৪০০ আসন সংখ্যা অতিক্রম করা তো দূরের কথা, প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে কিনাÑ এই আলোচনা যেমন উঠে আসছে, তেমনি একটা বড় অংশের মানুষ ইতোমধ্যেই চর্চা শুরু করে দিয়েছেন যে, ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর যে ধরনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, অর্থাৎ; প্রথম দফার ইউপিএ সরকার গঠিত হওয়ার সময় কালের পরিস্থিতি, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন; তেমন পরিস্থিতির কি উদ্ভব হবে?

আবার একটা বড় অংশের মানুষের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি লোকসভা কেন্দ্রের ফলাফল কি দাঁড়াবে, গত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস বা বিজেপি যে আসন সংখ্যা পেয়েছিল সেটা ধরে রাখতে পারবে নাকি? একটা বড় ধরনের চমক দেবে বাম কংগ্রেস জোটÑ এসব প্রশ্নে এখন শহুরে অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে গ-গ্রামের চায়ের দোকান মুখরিত জাতীয় স্তরে কী ঘটতে যাচ্ছে, এই সম্ভাবনার সম্পর্কে আলোচনায় ঢুকতে গেলে যে কথাটা প্রথমেই আমাদের বলতে হয়, তা হলো; নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে বা শুরু হওয়ার মুহূর্ত পর্যন্ত শাসক বিজেপির মুখ থেকে যে ‘এবার ৪০০ আসন পার’Ñ এই শিবাকীর্তন শোনা গিয়েছিল তা এখন হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

ভোট প্রক্রিয়া যত এগিয়েছে ততই বিজেপির পালের হাওয়া একেবারে শূন্য হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতি যেমন বিজেপি বুঝতে পারছে, তাদের মস্তিষ্ক, আরএসএস ও বুঝতে পারছে। ঠিক তেমনি অতি সাধারণ মানুষ, শহর মফস্বল গাঁয়ে গঞ্জে থাকা মানুষ বুঝতে পারছে। বিজেপি যেমন এখন আর ৪০০ পাওয়া তো দূরের কথা, ভোট প্রচারে রাজনৈতিক একটা শব্দ ও তাদের প্রচার প্রক্রিয়ার মধ্যে আনছে না, কেবলমাত্র মন্দির-মসজিদ, কেবলমাত্র হিন্দু-মুসলমান, কেবলমাত্র জাতপাত, কে কি খাবেন, কে কি পরবেনÑ এইসব অরাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক, বিভাজনমূলক বিষয়গুলোকেই রাজনৈতিক বিষয় হিসেবে তুলে ধরার এক জঘন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। ঠিক তেমনই ইলেকটোরাল বন্ডের টাকায় পুষ্ট মিডিয়া হাউসগুলোও এখন আর সেভাবে ধর্মান্ধ সম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির হয়ে ওকালতি করছে না।

সব থেকে বড় কথা অর্থনীতির ফাটকা কারবার যারা করে তারা হাওয়া বুঝতে পারে। শেয়ারবাজার যারা নিয়ন্ত্রণ করে, সেই সব এলাকাগুলোর দিকে যদি আমরা চোখ দিলেই সেই হাওয়ামালুম হবে। দেখতে পাওয়া যাবে, সেখান থেকে যে অর্থনৈতিক আভাস উঠে আসতে শুরু করেছে, তা ভয়ঙ্কর। শেয়ারবাজারের যা গতি, তাতে পরিষ্কার হচ্ছে, ভারতে শাসক বদল, এখন কেবল সময়ের অপক্ষা।

এটা ক্রমশ দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে উঠতে শুরু করেছে যে, বিজেপির পক্ষে একক গরিষ্ঠতা নিয়ে আর তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে আসা সম্ভব পর হবে না। হয় তারা তাদের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিমায় ভোটে জিতে জনগণের রায়ে সরকার গঠন করার পরিবর্তে, ভোটের পরে, চাঁদির জোরে সরকার গঠনের যে প্রক্রিয়া এতকাল চালিয়ে এসেছে, ঠিক সেই ভাবে গরিষ্ঠতা লাভ করবে।

নতুবা যে এনডিএ নামক নীতিবিহীন-সুবিধাবাদী জোট রয়েছে, যে জোটকে সামনে রেখে তারা নয়ের দশকে অটলবিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে যেভাবে ক্ষমতায় এসেছিল, ঠিক সেভাবেই একাধিক আঞ্চলিক দলগুলোকে তাদের নানা ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারিকে সামনে রেখে, ভয় দেখিয়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। সেভাবেই সেইসব দলগুলোকে আবার এনডিএতে সামিল করে অতীতের মতো ওই জোট সরকার পরিচালনা করবেÑ এগুলোই এখন আলোচ্য।

দিল্লি থেকে কে সরকার তৈরি করবেÑ এই প্রশ্নের থেকেও পশ্চিমবঙ্গের সব স্তরের মানুষের কাছে এটাই এখন বিশেষ রকমের আলোচ্য বিষয় যে, এই রাজ্যে দুই শাসক দলÑ কেন্দ্র এবং রাজ্যের, তারা তাদের ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে? নাকি তাদের আসনের ওপর একটা বড় রকমের ভাগ বসাতে চলেছে বাম কংগ্রেস জোট?

সাধারণভাবে বিগত পাঁচ বছর ধরে প্রায় সমস্ত ধরনের প্রচার মাধ্যম বাম-কংগ্রেস জোট সম্পর্কে অত্যন্ত নেতিবাচক, অবজ্ঞা সূচক প্রচার চালিয়ে এসেছে। সংসদীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে বামপন্থীদের ভোটে জিততে না পারাকে নানাভাবে ব্যঙ্গ করেছে। সেই ব্যঙ্গের এমন একটা সামাজিক প্রভাব পড়তে শুরু করেছিল, যাতে একটা বড় অংশের মানুষ, যারা প্রত্যক্ষভাবে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বা বামপন্থীদের নানা সামাজিক কর্মকা-কে সরাসরি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাননি, তারা মনে করতে শুরু করেছিলেন যে, রাজনৈতিকভাবে বামপন্থীরা এমন একটা অবস্থানে পৌঁছে গেছে যে, ভোট রাজনীতিতে তাদের রেজারেকশন আর কখনো ঘটবে না।

কিন্তু বামপন্থী রাজনীতির মধ্যে মহম্মদ সেলিমের নেতৃত্বদানের পর থেকে বাম রাজনীতিতে বাহিরঙ্গে নয়, অন্তরঙ্গে যে হিমালয় সদৃশ্য ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটতে শুরু করেছে, সে সম্পর্কে গদি মিডিয়া প্রায় নিশ্চুপ অবস্থা পালন করে চলেছে। ফলে চলতি নির্বাচনের সমস্ত প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেও সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সংশয়, জিজ্ঞাসা বামপন্থীদের ঘিরে এবং কংগ্রেসকে ঘিরে শুরু হয়েছিল।

আরএসএসের রাজনৈতিক সংগঠন বিজেপি যে গোটা ভারতজুড়ে ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’ এই সেøাগানটিকে সাম্প্রতিককালে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে, এটি কিন্তু তাদের সাম্প্রতিক কোনো কর্মসূচি নয়। এটি তাদের দীর্ঘদিনের অনুশীলিত একটা কর্ম পদ্ধতি। এই কর্মপদ্ধতির প্রয়োগ ঘটাতে তারা বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকমের কৌশল অবলম্বন করেছে।

বাংলার বুকে ‘কংগ্রেস মুক্ত ভারত’ এবং ‘বাম মুক্ত বাংলা’ এই কৌশলকে ফলপ্রসূ করার তাগিদে একটা সময় প্রদেশ কংগ্রেসের মধ্যে নানা ধরনের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু করিয়েছে। তার জেরে কংগ্রেসের মধ্যে ভাঙন ঘটিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়ে নতুন আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সৃষ্টি করিয়েছে। এই সদ্য তৈরি হওয়া আঞ্চলিক দল তৃণমূল কংগ্রেস নয়ের দশকের শেষ দিকে লোকসভা নির্বাচনের একদম প্রাক মুহূর্তে যাতে নির্বাচনী প্রতীক অতি দ্রুত পায়, সেই কারণে ঐতিহাসিক বাবড়ি মসজিদ ধ্বংসের অন্যতম প্রধান ষড়যন্ত্রী লালকৃষ্ণ আদবানি লিখিতভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে সুপারিশ পর্যন্ত করেছিলেন।

আদবানির সেই সুপারিশ থেকেই আমরা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি যে, আরএসএস-বিজেপির জঠরে, প্রতিযোগিতামূলক সাম্প্রদায়িকতার আঁতুড় ঘরে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম। কেবল জন্মই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের লালন-পালন, বিকাশÑ সবই ঘটেছে হিন্দু সাম্প্রদায়িক-মৌলবাদী শক্তির ক্রোড়ে।

এই গোটা প্রক্রিয়াটিকেই চলতি লোকসভা নির্বাচনে খানিকটা ভাসুর ভাদ্র বউয়ের মতো, বিজেপি আর তৃণমূলের পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভেতর দিয়ে উঠে আসছে। নাগরিকত্ব আইন ঘিরে বিজেপির যে বিভাজনমূলক আচরণ এবং অবস্থান, তার সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানের কখনো কোনো ফারাক ছিল না। কিন্তু ভোট রাজনীতির স্বার্থে মমতা একটা ফারাকের অভিনয় করে চলতেন।

চলতি লোকসভা নির্বাচন পর্ব যতই এগোতে শুরু করেছে, জাতীয় স্তরে বিজেপির একক গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে আসার রাস্তাটা ততই বন্ধ হতে শুরু করেছে। ফলে বিজেপি যেভাবে বিভাজনের রাজনীতিকে একটা চরম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছে, সেই চেষ্টাকে পশ্চিমবঙ্গে সফল করার জন্য মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আদা জল খেয়ে নেমে পড়েছেন।

বিশ্বের কোথাও কোন দেশে, ভারতের সিএএ আইনের আদলে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্ব হয় কিনা, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। ভারতে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বের পথে হাঁটছে বিজেপি। আর সেই ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বকে এখন প্রকাশ্যে সমর্থন করছে তৃণমূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যেভাবে পশ্চিমবঙ্গে শুধু মুসলমানকে বাদ দিয়ে অন্য সমস্ত ধর্মের মানুষকে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলছেন, তা শুধু চরম বিভাজনমূলকই নয়, ভারতের সাংবিধানিক পরিকাঠামো অনুযায়ী তা সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক, বেআইনি। ভারতে কখনো কোনো একটি বিশেষ ধর্মের মানুষকে তার ধর্ম বিশ্বাসের দরুণ নাগরিকত্ব থেকে বঞ্চিত করা যায় না। কোনো একটি বিশেষ ধর্মের মানুষকে তার ধর্ম বিশ্বাসকে শুধু ভিত্তি করে নাগরিকত্ব প্রদান করা যায় না।

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির ক্ষেত্রে সব থেকে দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, এই যে আরএসএস বিজেপির তৈরি করে দেয়া চিত্রনাট্য অনুযায়ী বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে নিজেকে মুসলমানপ্রেমী হিসেবে তুলে ধরেছেন, যার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো; হিন্দু ভোট বিজেপির দিকে যাতে একটা বড় অংশে চলে যায়। আর মমতার বিজেপির তৈরি করে দেয়া এই চিত্রনাট্য অনুযায়ী অভিনয়ের জেরে সাধারণ গরিব, প্রথাগত শিক্ষার বিশেষ সুযোগ না পাওয়া মুসলমান সমাজের একটা বড় অংশ, মমতা, তাদের ভোটের স্বার্থে প্রতারিত করছেÑ এটা বুঝে উঠতে পারেননি।

ফলে আজ যখন কেবলমাত্র মুসলমানদের বাদ দিয়ে ভারতের নাগরিকত্ব প্রদানের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে বিজেপি মেলে ধরছে, আর সেই সিএএ আইনকে প্রকাশ্যে মমতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমর্থন করছে, তখন সাধারণ মুসলমান সমাজের ভেতরে এক ভয়াবহ হতাশা, আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মুসলমান সমাজের উন্নতির নাম করে, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে মমতা মুসলমানদের বঞ্চিত করে রেখেছিলেন কেবলমাত্র ধর্মের একটা বিকৃত ব্যাখ্যার মধ্য দিয়ে। ইসলাম যে আধুনিকতা মানব সমাজের মধ্যে নিয়ে এসেছে এই ভাবধারাকে প্রচারের উদ্দেশ্যে, প্রসারের জন্য মমতা তার গোটা রাজনৈতিক জীবনে এতটুকুনিও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। তুচ্ছ আচারের মরুবালু রাশি ভেতরে মুসলমান সমাজ যাতে বিচারের স্রোতঃপথকে গ্রাস করিয়ে দিতে বাধ্য হয়, আরএসএসের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী সেই কাজটাই মমতা করে গেছেন।

তাই আজ যখন কেবলমাত্র মুসলমান সমাজকে বাদ দিয়ে ধর্মভিত্তিক নাগরিকত্বের কথা বিজেপির সুরে সুর মিলিয়ে মমতা বলছেন, তখনই বুঝতে পারা যাচ্ছে, চলতি লোকসভা নির্বাচনের গতিপ্রকৃতিতে বাংলার মুসলমান সমাজ এখন বুঝে নিতে শুরু করেছেন। কে তাদের সত্যিকারের বন্ধু, আর কে-ই বা বন্ধুত্বের ছল করে তাদের বুকে ছুরি বসাতে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বাংলার মুসলমান সমাজ সেটা বুঝে নিয়েছে।

[লেখক : ভারতীয় ইতিহাসবিদ]

back to top