alt

উপ-সম্পাদকীয়

ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল প্রকাশ মাধ্যম

মোস্তাফা জব্বার

: সোমবার, ২৩ মে ২০২২

চার

ঐতিহ্যগত প্রোগ্রামিং এবং মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং :

১৯৬৪ সাল থেকেই বাংলাদেশে কম্পিউটারের কাজ করতে শুধু গণনার কাজ বা ব্যবসায়ী কাজকর্মের কথা ভাবা হয়েছে। এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে। ফলে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কম্পিউটার দিয়ে ভালো কিছু করা মানেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখা বোঝায়। তারা কম্পিউটার প্রোগ্রামার হতে চায়। এমনকি কম্পিউটার দিয়ে যে ডিটিপির কাজ করা যায়, এটি যে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাল্টিমিডিয়া টুল সেটিও তেমনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সফটওয়্যার বলতেও কেবলমাত্র বাণিজ্যিক সফটওয়্যারকে বুঝি। কিন্তু শিক্ষা বা বিনোদনের জগতে মাল্টিমিডিয়া নির্ভর সফটওয়্যারের সংখ্যা যে প্রচলিত সফটওয়্যারের চেয়ে বহুগুণ বেশি, সেটি আমরা মানতে চাইনা। এর ফলে আমাদের কম্পিউটার শিক্ষার ব্যাপারটি বিভ্রান্তিতে থেকে গেছে। পেশা হিসেবে মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং কতোটা গুরুত্বপূর্ণ বা গ্রহণযোগ্য এই বিষয়েও আলোকপাত করা যেতে পারে। এমনকি যারা কম্পিউটারে মাল্টিমিডিয়া শিখতে চান তারাও ভাবেন, গ্রাফিক্স, ভিডিও, অডিও শেখাটাই সুন্দর। কিন্তু মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং করায় যে অনন্য সৌন্দর্য্য এবং অত্যন্ত উঁচুমানের সৃজনশীলতা রয়েছে, সেটি আমরা এখনো মাল্টিমিডিয়া শিক্ষার্থীদেরকেও বোঝাতে পারিনি। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলতে আমরা কি বুঝি এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এবং মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং এ দুটির সঙ্গে সম্পর্ক কি বা এই দুটি আলাদা কিছু কিনা সেই সম্পর্কেও আমাদের যথাযথ ধারণা থাকা উচিত। এই দুয়ের সম্পর্ক কি তাও বোঝা দরকার।

বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ নেই বলে আমাদের একটি কথা শুরুতেই বলে রাখা ভালো যে, আমাদেরকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলতে কম্পিউটারের সকল ধরনের প্রোগ্রামিংকেই বুঝতে হবে। শুধু কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে প্রোগ্রামিং করাটাকেই আজকের দিনে প্রোগ্রামিং বলা যাবেনা। আরও অনেক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মতোই মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং হচ্ছে এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং।

আমাদের দেশের কম্পিউটার প্রযুক্তি ও তার বিদ্যমান অবস্থা নিয়ে আমরা এর আগে আলোচনা করেছি। আমরা এটিও অত্যন্ত পরিষ্কার করে বলেছি যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলতে আমরা সচরাচর যা বুঝি তার সঙ্গে প্রকৃত অবস্থার কিছু ফারাক আছে। আমাদের দেশে প্রধানত কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলতে এখনো কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ বিষয়ক প্রোগ্রামিংকেই বোঝায়। আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা যে, কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং করার জন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুছে (যেমন সি++, ভিজুয়াল বেসিক ইত্যাদি) ছাড়াও অনেক এপ্লিকেশনের সঙ্গেই এমনসব টুলস জড়িত রয়েছে যা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রোগ্রামিং করা যায়। ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং যারা করেন তাদের জানা আছে ফক্সপ্রো যেমন এপ্লিকেশন তেমনি প্রোগ্রামিং টুলসও।

একইভাবে অনেক অথরিং টুলস (যেমন অথরওয়ার, এপল মিডিয়া টুল কিট), ইন্টারনেট ডেভলপমেন্ট টুলস (যেমন পেজ মিল, ফ্রন্টপেজ, ড্রিম উইভার), সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট টুলস (যেমন মাইক্রোসফট এসডিকে, মেকিন্টোশ প্রোগ্রামারস ওয়ার্কশপ), গেমস ডেভলপমেন্ট টুলস (এপল স্প্রাইট ডেভলপমেন্ট টুলস), মাল্টিমিডিয়া ডেভলপমেন্ট টুলস (যেমন ডিরেক্টর, হাইপার স্টুডিও, হাইপার কার্ড, সুপার কার্ড, অথরওয়ার. ফ্লাশ) ইত্যাদি রয়েছে। ইদানিং অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং- এর যে ধারণাটি সম্প্রসারিত হচ্ছে তাতে (যেমন ভিজুয়াল বেসিক, সি শার্প) সনাতনী ধারণার ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যাপারটি পেছনে যেতে চলেছে।

অনেক ক্ষেত্রেই স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং ম্যাক্রো দিয়েও প্রোগ্রামিংয়ের অনেক কাজ করা যাচ্ছে। এক্সেলের ম্যাক্রো এবং প্রোগ্রামিং, হাইপার কার্ডের স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ হাইপার টক, ডিরেক্টরের স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ লিঙ্গোসহ এমন অসংখ্য স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা ম্যাক্রোর খবর আমরা জানি যা দিয়ে এমনকি এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম তৈরি করা যেতো।

ফলে আমরা যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের কথা বলি তা কেবল ল্যাঙ্গুয়েজের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়।

এটিও অত্যন্ত ভালোভাবে বোঝা দরকার যে, পেশা হিসেবে আমরা যদি কম্পিউটার প্রোগ্রামারের কথা বলি তবে যিনি সি++ জানেন তাকে যেমন বোঝাবো তেমনি যিনি ডিরেক্টরের লিঙ্গো বা ফ্লাশের অ্যাকশন স্ক্রিপ্ট জানেন তাকেও বোঝাবে।

একসময়ে যেহেতু কম্পিউটার চালাতেই প্রোগ্রামিং- ল্যাঙ্গুয়েজ জানার দরকার হতো সেহেতু তখন হয়তো প্রোগ্রামার বলতে কেবল ল্যাঙ্গুয়েজ জানা লোককে বোঝাতো। এখন সেদিনটি নেই বিধায় আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিবিদদেরকে প্রোগ্রামিং ও প্রোগ্রামারের সংজ্ঞা পাল্টাতে হবে।

আরো স্পষ্ট করে আমাদের বোঝা দরকার যে, কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ভাষাসমূহ প্রজন্ম পরিবর্তন করছে। একসময়ে বাইনারী সংকেত দিয়ে কম্পিউটারকে মানুষ তার নির্দেশ প্রদান করতো। সেই সময়ে প্রোগ্রামিং মানে ছিলো বাইনারি সংকেত জানা। কিন্তু ক্রমান্বয়ে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। কম্পিউটার ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে এবং কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ভাষাও বদল হয়েছে। এখন কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং করার প্রবণতাটি হলো ভিজুয়াল বা গ্রাফিক্যাল।

একটি দৃষ্টান্ত দিলে সেটি হয়তো আরো পরিষ্কার হবে। একসময়ে একটি কম্পিউটারে বৃত্ত তৈরি করার জন্য হয়তো ১০০ লাইন কোড লিখতে হয়েছে কিন্তু এখন সেই একই কাজ করার জন্য কেবলমাত্র একটি মাউস ক্লিকই যথেষ্ট।

একইভাবে একসময়ে কম্পিউটারে ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং করার সময় একটি ফাইলের সঙ্গে আরেকটি ফাইলকে সম্পর্কযুক্ত করতে প্রচুর কোড লিখতে হতো। কিন্তু এখন মাউসের টান দিয়েই এক বা একাধিক ফাইলকে সম্পর্কযুক্ত করা যায়। যারা ভিজুয়াল বেসিক বা এই প্রজন্মের অন্য কোন ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে সফটওয়্যার তৈরি করেন, তারা জানেন যে, বিষয়টা দিনে দিনে কতো সহজ হয়ে উঠেছে। তেমনিভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্ষেত্রের প্রোগ্রামিংও অনেকটা পথ পার হয়েছে।

এখানে মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামার হিসেবে আমরা যাদের চিহ্নিত করতে চাই তাও বলা দরকার। বস্তুত পক্ষে যিনি টেক্সট, গ্রাফিক্স, অডিও, ভিডিও, এনিমেশন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেন তিনিই মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টস ডেভলপার। এই কাজটি করার জন্য এডোবি ফটোশপ থেকে থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স বা মায়া পর্যন্ত অনেক সফটওয়্যার পাওয়া যায়। বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যারও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষিত বিবেচনা করে আমরা তাদেরকেই মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামার (অথবা অথর) বলবো যারা এসব মিডিয়া ব্যবহার করে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ এ্যাপ্লিকেশন তৈরী করবেন। বস্তুত কনটেন্টস ডেভলপ করা ও ইন্টারএ্যাকটিভিটি যোগ করার মাঝে একটি বিশাল পার্থক্য রয়েছে। প্রিমিয়ার বা ফটোশপ এমন সফটওয়্যার যা দিয়ে একটি চমৎকার কনটেন্টস তৈরি করা যায়। কিন্তু আমরা মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার তৈরির প্রোগ্রাম বলবো এ্যাকশন স্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল ৫ বা জাভাকে যার সাহায্যে প্রিমিয়ার বা ফটোশপে তৈরি করা মিডিয়াগুলোকে মিলিয়ে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা যায়।

ইন্টারঅ্যাকটিভিটি সম্পর্কেও একটি কথা বলা ভালো। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে একটি স্টাইল প্রয়োগ করলে যদি অক্ষরগুলো সুন্দর করে স্ক্রল বা ফ্লাস করে বা যদি ভিডিও ফাইলে একটি এফেক্ট যোগ করা হয় কিংবা অ্যানিমেশন করলে যদি কিছু একটা লাফ দেয় তাকে প্রকৃত ইন্টারঅ্যাকটিভ বলা ঠিক হবেনা। অফিসের পাওয়ার পযেন্টে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ব্যবহার করা যায়-কিন্তু সেই অর্থে একে ইন্টারএ্যাকটিভ করা যায়না। বরং অ্যাকশন স্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল৫ বা জাভার মতো শক্তিশালী প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার দিয়ে যখন ব্যবহারকারীর সঙ্গে কম্পিউটারের মিথস্ক্রিয়াকে সুগ্রথিত করা হবে, তাকেই আমরা ইন্টারঅ্যাকটিভিটি বলবো।

সাধারণভাবে মাল্টিমিডিয়া বলতে হযতো ফিল্ম বা ভিডিওকে বোঝানো যায়, তবে ডিজিটাল যুগের মাল্টিমিডিয়া মানে হচ্ছে ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া

আমি মনে করি, আগামী দিনে কম্পিউটারের ট্রাডিশনাল সফটওয়্যার লেখার লোকজনের চেয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামারের চাহিদা এবং সংখ্যা কোনটাই কম হবেনা। আমরা আপাতত মনে করছি সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো শুধু সি#, ওরাকল, স্যাপ ইত্যাদি জানা লোকদের চাকুরী দেবে। এটি পুরোপুরি ঠিক নয়। নিসন্দেহে এ ধরনের লোকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একটি বিষয় এখন সকলকেই বুঝতে হবে যে, বিজনেস সফটওয়্যার ও সার্ভিসেস এর পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া ককনটেন্টস ডেভলপ করা ও প্রোগ্রামিং করতে পারা লোকের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে।

আমরা এরই মাঝে বিভিন্ন সময়ে মাল্টিমিডিয়া কি, তার বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োগ ও প্রসার নিয়ে আলোচনা করেছি। এর পাশাপাশি এটি খুবই জরুরি যে মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার তৈরি করার কৌশলটি কি হতে পারে। আমরা সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।

মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার তৈরির কৌশলাদি:

দশ বছর আগে মাল্টিমিডিয়া সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলতেন, Multimedia incorporates several media types- text, graphics, audio, animation, video- in a single computer document, sound and/ or motion are integral to a true multimedia project. ( Suzanne Stefanac and Liza Weiman, Mac World April 1990)

বহু বছর আগে সুসানরা যে প্রস্তাবনার কথা বলেছেন তার সঙ্গে এখনি দ্বিমত করার সময় হয়নি। সেই সময়ে কম্পিউটার যে গ্রাফিক্স, অডিও, ভিডিও, এনিমেশন নিয়ে কাজ করতে পারতো সেটিইতো বিশাল ব্যাপার ছিলো। তবে একথা মানতে হবে যে, এই দশকে মাল্টিমিডিয়ার রূপটি ব্যাপকভাবে বদলেছে। এখন কম্পিউটার শুধু এসব মিডিয়াকে ধারণ করেনা, এর ইন্টারঅ্যাকটিভ রূপ একটি নতুন বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে। এখন আমরা ৯০ সালের মাল্টিমিডিয়াকে কেবল তার নিজস্ব গণ্ডির মাঝে দেখবোনা। আমরা এখন দেখছি মাল্টিমিডিয়া এসে জগতের তাবত জিনিসকে দখল করছে।

সাধারণভাবে মাল্টিমিডিয়া বলতে আমি কিন্তু শত বছরেরও বেশি সময়কে গণ্য করি। থমাস আলভা এডিসন মনো সাউন্ড ধারণ ও বাজিয়ে দেবার যে যন্ত্র দিয়ে মানুষের সামনে এক নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা করেন, তার পরপরই যখন চলচ্চিত্র আসে এবং বিগত শতকের গোড়ার দিকেই এডিশনের শব্দ এবং লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের চলচ্চিত্র যখন সমন্বিত হয় তখন থেকেই কি মাল্টিমিডিয়ার জন্ম হয়। আমরা কি Text, Graphics এবং Sound এর সমন্বয়কেই মাল্টিমিডিয়া বলতে পারিনা?

কিন্তু এর সঙ্গে কম্পিউটারের সম্পর্ক হলো কবে থেকে?

১৯৮৪ সালের ২০ জানুয়ারী জন্ম নেয়া মেকিন্টোশ কম্পিউটারে ‘Hello I am Macintosh’ শব্দের সূচনা কি কম্পিউটারে মাল্টিমিডিয়ার সূচনা করেছে? ১০ ইঞ্চি পর্দার সেই সাদাকালো কম্পিউটারটি কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ও শব্দ যোগ করে বটে, তবে তাতে রং দিতে পারেনি। ১৯৮৭ সালে মেকিন্টোস- ২ ই হলো প্রথম কম্পিউটার, যাতে রঙিন মাল্টিমিডিয়ার জগৎ শুরু হয়। সিডি- রমই কি বস্তুত বিশ্বজুড়ে মাল্টিমিডিয়ার বৃহত্তম প্রচারক? ওয়েবপেজই কি চূড়ান্তভাবে মাল্টিমিডিয়ার একুশ শতাব্দীর রূপায়নের সূচনা? এমন অসংখ্য প্রশ্ন মাল্টিমিডিয়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।

কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়ার সম্পর্ক নির্ণয় করতে গিয়ে সুসান বলেন, What distinguishes Multimedia from Film or Video is interactivity. আমি সুসানের মতোই মনে করি যে সাধারণভাবে মাল্টিমিডিয়া বলতে হযতো ফিল্ম বা ভিডিওকে বোঝানো যায়, তবে ডিজিটাল যুগের মাল্টিমিডিয়া মানে হচ্ছে ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া। আমি মনে করি ঈরহবসধ (Film বলা ঠিক নয়) বা Video অবশ্যই তিনটি মৌলিক মিডিয়াকে ধারণ করে। তবে সুসান বলতে পারেন, What distinguishes Digital Multimedia from Cinema & Video is Interactivity. একথাটি এজন্যে বলা যে আকস্মিকভাবে মাল্টিমিডিয়া ১৯৮৪ সালে জন্ম নেয়নি। মানুষ অনেক দিন থেকেই মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করছে। কিন্তু মিথস্ক্রিয়া বা ইন্টারঅ্যাকটিভিটি ডিজিটাল যন্ত্র ছাড়া সম্ভব নয় বলেই এটি সনাতনী ধারার মাল্টিমিডিয়ায় ছিল না।

[লেখক: ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী]

মাদকাসক্তি ও বাংলাদেশ পরিস্থিতি

ছবি

‘ভয় নেই, আমি এসে গেছি’

পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক দূষণে আরএসএসের ভূমিকা

একতা, ন্যায় ও শক্তির প্রেরণা

ছবি

পদ্মা সেতু : স্বপ্ন এখন বাস্তব

পদ্মা সেতু : বাঙালির আত্মবিশ্বাস ও গৌরবের প্রতীক

মাঙ্কিপক্স ও প্রাসঙ্গিক ভাবনা

ছবি

রোহিঙ্গাদের বাড়ি ফেরার আকুতি

চেরাপুঞ্জির বৃষ্টি

কুসিক নির্বাচনে ইসি কি পাস করেছে

বিএম কনটেইনার ডিপোর অগ্নিকান্ড : আইনি শূন্যতা ও আইনের শাসন

পাহাড়-টিলা ধস সামাল দিতে আমরা কি প্রস্তুত

ছবি

জয় হোক মানবতার

বন্যা : দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ

পার্বত্যাঞ্চল ও সমতলের ভূমি ব্যবস্থাপনা

বাংলাদেশের এনজিও ব্যবস্থাপনার মূল সমস্যা কী

ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল প্রকাশ মাধ্যম মোস্তাফা জব্বার

বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে

ছবি

শরণার্থীদের নিরাপত্তার অধিকার

পদ্মা সেতু : বিএনপির দায় ও সরকারের দায়িত্ব

প্রস্তাবিত বাজেট ব্যাংক খাতে কী প্রভাব রাখবে

ছবি

পদ্মা সেতু : দেশের ‘আইকনিক স্থাপনা’

ডিজিটাল কারেন্সির ব্যবহার ও সম্ভাবনা

নবীকে নিয়ে বিজেপি নেতার কটূক্তি

অগ্নিকান্ডে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি ও করণীয়

ছিন্নমূল মানুষ ও বাংলার কথা

খুনিদের বাঁচাতে আইন হয় কিন্তু আইনজীবীদের সুরক্ষায় আইন নেই

বিশ্ব খরা ও মরুকরণ প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি

দায়িত্ব থেকে সরে গেলেই সুশীল হয়ে যান

ছবি

চলমান পাঠদান পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা কতটা সন্তুষ্ট

ছবি

ই-কমার্স খাত উপেক্ষিতই রয়ে গেল

শিক্ষকের সঙ্গে অভিভাবকও নতুন প্রক্রিয়ার অংশীদার

তোমার কথাই ঠিক

আদালত প্রাঙ্গণ টাউট-দালালমুক্ত হোক

বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

কমন-সেন্সের বাইরে...

tab

উপ-সম্পাদকীয়

ডিজিটাল যুগের ডিজিটাল প্রকাশ মাধ্যম

মোস্তাফা জব্বার

সোমবার, ২৩ মে ২০২২

চার

ঐতিহ্যগত প্রোগ্রামিং এবং মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং :

১৯৬৪ সাল থেকেই বাংলাদেশে কম্পিউটারের কাজ করতে শুধু গণনার কাজ বা ব্যবসায়ী কাজকর্মের কথা ভাবা হয়েছে। এসব কাজের জন্য প্রয়োজনীয় পেশাকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং হিসেবেও গণ্য করা হয়েছে। ফলে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা কম্পিউটার দিয়ে ভালো কিছু করা মানেই কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখা বোঝায়। তারা কম্পিউটার প্রোগ্রামার হতে চায়। এমনকি কম্পিউটার দিয়ে যে ডিটিপির কাজ করা যায়, এটি যে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাল্টিমিডিয়া টুল সেটিও তেমনভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা সফটওয়্যার বলতেও কেবলমাত্র বাণিজ্যিক সফটওয়্যারকে বুঝি। কিন্তু শিক্ষা বা বিনোদনের জগতে মাল্টিমিডিয়া নির্ভর সফটওয়্যারের সংখ্যা যে প্রচলিত সফটওয়্যারের চেয়ে বহুগুণ বেশি, সেটি আমরা মানতে চাইনা। এর ফলে আমাদের কম্পিউটার শিক্ষার ব্যাপারটি বিভ্রান্তিতে থেকে গেছে। পেশা হিসেবে মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং কতোটা গুরুত্বপূর্ণ বা গ্রহণযোগ্য এই বিষয়েও আলোকপাত করা যেতে পারে। এমনকি যারা কম্পিউটারে মাল্টিমিডিয়া শিখতে চান তারাও ভাবেন, গ্রাফিক্স, ভিডিও, অডিও শেখাটাই সুন্দর। কিন্তু মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং করায় যে অনন্য সৌন্দর্য্য এবং অত্যন্ত উঁচুমানের সৃজনশীলতা রয়েছে, সেটি আমরা এখনো মাল্টিমিডিয়া শিক্ষার্থীদেরকেও বোঝাতে পারিনি। কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলতে আমরা কি বুঝি এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং এবং মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং এ দুটির সঙ্গে সম্পর্ক কি বা এই দুটি আলাদা কিছু কিনা সেই সম্পর্কেও আমাদের যথাযথ ধারণা থাকা উচিত। এই দুয়ের সম্পর্ক কি তাও বোঝা দরকার।

বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ নেই বলে আমাদের একটি কথা শুরুতেই বলে রাখা ভালো যে, আমাদেরকে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলতে কম্পিউটারের সকল ধরনের প্রোগ্রামিংকেই বুঝতে হবে। শুধু কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে প্রোগ্রামিং করাটাকেই আজকের দিনে প্রোগ্রামিং বলা যাবেনা। আরও অনেক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের মতোই মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামিং হচ্ছে এক ধরনের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং।

আমাদের দেশের কম্পিউটার প্রযুক্তি ও তার বিদ্যমান অবস্থা নিয়ে আমরা এর আগে আলোচনা করেছি। আমরা এটিও অত্যন্ত পরিষ্কার করে বলেছি যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলতে আমরা সচরাচর যা বুঝি তার সঙ্গে প্রকৃত অবস্থার কিছু ফারাক আছে। আমাদের দেশে প্রধানত কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বলতে এখনো কম্পিউটার ল্যাঙ্গুয়েজ বিষয়ক প্রোগ্রামিংকেই বোঝায়। আমরা অনেকেই হয়তো জানিনা যে, কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং করার জন্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুছে (যেমন সি++, ভিজুয়াল বেসিক ইত্যাদি) ছাড়াও অনেক এপ্লিকেশনের সঙ্গেই এমনসব টুলস জড়িত রয়েছে যা দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে প্রোগ্রামিং করা যায়। ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং যারা করেন তাদের জানা আছে ফক্সপ্রো যেমন এপ্লিকেশন তেমনি প্রোগ্রামিং টুলসও।

একইভাবে অনেক অথরিং টুলস (যেমন অথরওয়ার, এপল মিডিয়া টুল কিট), ইন্টারনেট ডেভলপমেন্ট টুলস (যেমন পেজ মিল, ফ্রন্টপেজ, ড্রিম উইভার), সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট টুলস (যেমন মাইক্রোসফট এসডিকে, মেকিন্টোশ প্রোগ্রামারস ওয়ার্কশপ), গেমস ডেভলপমেন্ট টুলস (এপল স্প্রাইট ডেভলপমেন্ট টুলস), মাল্টিমিডিয়া ডেভলপমেন্ট টুলস (যেমন ডিরেক্টর, হাইপার স্টুডিও, হাইপার কার্ড, সুপার কার্ড, অথরওয়ার. ফ্লাশ) ইত্যাদি রয়েছে। ইদানিং অবজেক্ট অরিয়েন্টেড প্রোগ্রামিং- এর যে ধারণাটি সম্প্রসারিত হচ্ছে তাতে (যেমন ভিজুয়াল বেসিক, সি শার্প) সনাতনী ধারণার ল্যাঙ্গুয়েজের ব্যাপারটি পেছনে যেতে চলেছে।

অনেক ক্ষেত্রেই স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ এবং ম্যাক্রো দিয়েও প্রোগ্রামিংয়ের অনেক কাজ করা যাচ্ছে। এক্সেলের ম্যাক্রো এবং প্রোগ্রামিং, হাইপার কার্ডের স্ক্রিপ্টিং ল্যাংগুয়েজ হাইপার টক, ডিরেক্টরের স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ লিঙ্গোসহ এমন অসংখ্য স্ক্রিপ্টিং ল্যাঙ্গুয়েজ বা ম্যাক্রোর খবর আমরা জানি যা দিয়ে এমনকি এপ্লিকেশন প্রোগ্রাম তৈরি করা যেতো।

ফলে আমরা যে কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের কথা বলি তা কেবল ল্যাঙ্গুয়েজের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়।

এটিও অত্যন্ত ভালোভাবে বোঝা দরকার যে, পেশা হিসেবে আমরা যদি কম্পিউটার প্রোগ্রামারের কথা বলি তবে যিনি সি++ জানেন তাকে যেমন বোঝাবো তেমনি যিনি ডিরেক্টরের লিঙ্গো বা ফ্লাশের অ্যাকশন স্ক্রিপ্ট জানেন তাকেও বোঝাবে।

একসময়ে যেহেতু কম্পিউটার চালাতেই প্রোগ্রামিং- ল্যাঙ্গুয়েজ জানার দরকার হতো সেহেতু তখন হয়তো প্রোগ্রামার বলতে কেবল ল্যাঙ্গুয়েজ জানা লোককে বোঝাতো। এখন সেদিনটি নেই বিধায় আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিবিদদেরকে প্রোগ্রামিং ও প্রোগ্রামারের সংজ্ঞা পাল্টাতে হবে।

আরো স্পষ্ট করে আমাদের বোঝা দরকার যে, কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ভাষাসমূহ প্রজন্ম পরিবর্তন করছে। একসময়ে বাইনারী সংকেত দিয়ে কম্পিউটারকে মানুষ তার নির্দেশ প্রদান করতো। সেই সময়ে প্রোগ্রামিং মানে ছিলো বাইনারি সংকেত জানা। কিন্তু ক্রমান্বয়ে সেই অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। কম্পিউটার ক্রমশ শক্তিশালী হয়েছে এবং কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং ভাষাও বদল হয়েছে। এখন কম্পিউটারের প্রোগ্রামিং করার প্রবণতাটি হলো ভিজুয়াল বা গ্রাফিক্যাল।

একটি দৃষ্টান্ত দিলে সেটি হয়তো আরো পরিষ্কার হবে। একসময়ে একটি কম্পিউটারে বৃত্ত তৈরি করার জন্য হয়তো ১০০ লাইন কোড লিখতে হয়েছে কিন্তু এখন সেই একই কাজ করার জন্য কেবলমাত্র একটি মাউস ক্লিকই যথেষ্ট।

একইভাবে একসময়ে কম্পিউটারে ডাটাবেজ প্রোগ্রামিং করার সময় একটি ফাইলের সঙ্গে আরেকটি ফাইলকে সম্পর্কযুক্ত করতে প্রচুর কোড লিখতে হতো। কিন্তু এখন মাউসের টান দিয়েই এক বা একাধিক ফাইলকে সম্পর্কযুক্ত করা যায়। যারা ভিজুয়াল বেসিক বা এই প্রজন্মের অন্য কোন ল্যাঙ্গুয়েজ দিয়ে সফটওয়্যার তৈরি করেন, তারা জানেন যে, বিষয়টা দিনে দিনে কতো সহজ হয়ে উঠেছে। তেমনিভাবে মাল্টিমিডিয়া ক্ষেত্রের প্রোগ্রামিংও অনেকটা পথ পার হয়েছে।

এখানে মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামার হিসেবে আমরা যাদের চিহ্নিত করতে চাই তাও বলা দরকার। বস্তুত পক্ষে যিনি টেক্সট, গ্রাফিক্স, অডিও, ভিডিও, এনিমেশন ইত্যাদি নিয়ে কাজ করেন তিনিই মাল্টিমিডিয়া কনটেন্টস ডেভলপার। এই কাজটি করার জন্য এডোবি ফটোশপ থেকে থ্রিডি স্টুডিও ম্যাক্স বা মায়া পর্যন্ত অনেক সফটওয়্যার পাওয়া যায়। বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন সফটওয়্যারও ব্যবহৃত হয়। কিন্তু বর্তমানের প্রেক্ষিত বিবেচনা করে আমরা তাদেরকেই মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামার (অথবা অথর) বলবো যারা এসব মিডিয়া ব্যবহার করে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ এ্যাপ্লিকেশন তৈরী করবেন। বস্তুত কনটেন্টস ডেভলপ করা ও ইন্টারএ্যাকটিভিটি যোগ করার মাঝে একটি বিশাল পার্থক্য রয়েছে। প্রিমিয়ার বা ফটোশপ এমন সফটওয়্যার যা দিয়ে একটি চমৎকার কনটেন্টস তৈরি করা যায়। কিন্তু আমরা মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার তৈরির প্রোগ্রাম বলবো এ্যাকশন স্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল ৫ বা জাভাকে যার সাহায্যে প্রিমিয়ার বা ফটোশপে তৈরি করা মিডিয়াগুলোকে মিলিয়ে একটি ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করা যায়।

ইন্টারঅ্যাকটিভিটি সম্পর্কেও একটি কথা বলা ভালো। মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে একটি স্টাইল প্রয়োগ করলে যদি অক্ষরগুলো সুন্দর করে স্ক্রল বা ফ্লাস করে বা যদি ভিডিও ফাইলে একটি এফেক্ট যোগ করা হয় কিংবা অ্যানিমেশন করলে যদি কিছু একটা লাফ দেয় তাকে প্রকৃত ইন্টারঅ্যাকটিভ বলা ঠিক হবেনা। অফিসের পাওয়ার পযেন্টে মাল্টিমিডিয়া কনটেন্ট ব্যবহার করা যায়-কিন্তু সেই অর্থে একে ইন্টারএ্যাকটিভ করা যায়না। বরং অ্যাকশন স্ক্রিপ্ট, এইচটিএমএল৫ বা জাভার মতো শক্তিশালী প্রোগ্রামিং সফটওয়্যার দিয়ে যখন ব্যবহারকারীর সঙ্গে কম্পিউটারের মিথস্ক্রিয়াকে সুগ্রথিত করা হবে, তাকেই আমরা ইন্টারঅ্যাকটিভিটি বলবো।

সাধারণভাবে মাল্টিমিডিয়া বলতে হযতো ফিল্ম বা ভিডিওকে বোঝানো যায়, তবে ডিজিটাল যুগের মাল্টিমিডিয়া মানে হচ্ছে ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া

আমি মনে করি, আগামী দিনে কম্পিউটারের ট্রাডিশনাল সফটওয়্যার লেখার লোকজনের চেয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রোগ্রামারের চাহিদা এবং সংখ্যা কোনটাই কম হবেনা। আমরা আপাতত মনে করছি সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো শুধু সি#, ওরাকল, স্যাপ ইত্যাদি জানা লোকদের চাকুরী দেবে। এটি পুরোপুরি ঠিক নয়। নিসন্দেহে এ ধরনের লোকের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। একটি বিষয় এখন সকলকেই বুঝতে হবে যে, বিজনেস সফটওয়্যার ও সার্ভিসেস এর পাশাপাশি মাল্টিমিডিয়া ককনটেন্টস ডেভলপ করা ও প্রোগ্রামিং করতে পারা লোকের চাহিদা ব্যাপকভাবে বাড়ছে।

আমরা এরই মাঝে বিভিন্ন সময়ে মাল্টিমিডিয়া কি, তার বৈশিষ্ট্য এবং প্রয়োগ ও প্রসার নিয়ে আলোচনা করেছি। এর পাশাপাশি এটি খুবই জরুরি যে মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার তৈরি করার কৌশলটি কি হতে পারে। আমরা সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি।

মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার তৈরির কৌশলাদি:

দশ বছর আগে মাল্টিমিডিয়া সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা বলতেন, Multimedia incorporates several media types- text, graphics, audio, animation, video- in a single computer document, sound and/ or motion are integral to a true multimedia project. ( Suzanne Stefanac and Liza Weiman, Mac World April 1990)

বহু বছর আগে সুসানরা যে প্রস্তাবনার কথা বলেছেন তার সঙ্গে এখনি দ্বিমত করার সময় হয়নি। সেই সময়ে কম্পিউটার যে গ্রাফিক্স, অডিও, ভিডিও, এনিমেশন নিয়ে কাজ করতে পারতো সেটিইতো বিশাল ব্যাপার ছিলো। তবে একথা মানতে হবে যে, এই দশকে মাল্টিমিডিয়ার রূপটি ব্যাপকভাবে বদলেছে। এখন কম্পিউটার শুধু এসব মিডিয়াকে ধারণ করেনা, এর ইন্টারঅ্যাকটিভ রূপ একটি নতুন বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে। এখন আমরা ৯০ সালের মাল্টিমিডিয়াকে কেবল তার নিজস্ব গণ্ডির মাঝে দেখবোনা। আমরা এখন দেখছি মাল্টিমিডিয়া এসে জগতের তাবত জিনিসকে দখল করছে।

সাধারণভাবে মাল্টিমিডিয়া বলতে আমি কিন্তু শত বছরেরও বেশি সময়কে গণ্য করি। থমাস আলভা এডিসন মনো সাউন্ড ধারণ ও বাজিয়ে দেবার যে যন্ত্র দিয়ে মানুষের সামনে এক নতুন অভিজ্ঞতার সূচনা করেন, তার পরপরই যখন চলচ্চিত্র আসে এবং বিগত শতকের গোড়ার দিকেই এডিশনের শব্দ এবং লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়ের চলচ্চিত্র যখন সমন্বিত হয় তখন থেকেই কি মাল্টিমিডিয়ার জন্ম হয়। আমরা কি Text, Graphics এবং Sound এর সমন্বয়কেই মাল্টিমিডিয়া বলতে পারিনা?

কিন্তু এর সঙ্গে কম্পিউটারের সম্পর্ক হলো কবে থেকে?

১৯৮৪ সালের ২০ জানুয়ারী জন্ম নেয়া মেকিন্টোশ কম্পিউটারে ‘Hello I am Macintosh’ শব্দের সূচনা কি কম্পিউটারে মাল্টিমিডিয়ার সূচনা করেছে? ১০ ইঞ্চি পর্দার সেই সাদাকালো কম্পিউটারটি কম্পিউটারে গ্রাফিক্স ও শব্দ যোগ করে বটে, তবে তাতে রং দিতে পারেনি। ১৯৮৭ সালে মেকিন্টোস- ২ ই হলো প্রথম কম্পিউটার, যাতে রঙিন মাল্টিমিডিয়ার জগৎ শুরু হয়। সিডি- রমই কি বস্তুত বিশ্বজুড়ে মাল্টিমিডিয়ার বৃহত্তম প্রচারক? ওয়েবপেজই কি চূড়ান্তভাবে মাল্টিমিডিয়ার একুশ শতাব্দীর রূপায়নের সূচনা? এমন অসংখ্য প্রশ্ন মাল্টিমিডিয়াকে ঘিরে গড়ে উঠেছে।

কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়ার সম্পর্ক নির্ণয় করতে গিয়ে সুসান বলেন, What distinguishes Multimedia from Film or Video is interactivity. আমি সুসানের মতোই মনে করি যে সাধারণভাবে মাল্টিমিডিয়া বলতে হযতো ফিল্ম বা ভিডিওকে বোঝানো যায়, তবে ডিজিটাল যুগের মাল্টিমিডিয়া মানে হচ্ছে ইন্টারঅ্যাকটিভ মাল্টিমিডিয়া। আমি মনে করি ঈরহবসধ (Film বলা ঠিক নয়) বা Video অবশ্যই তিনটি মৌলিক মিডিয়াকে ধারণ করে। তবে সুসান বলতে পারেন, What distinguishes Digital Multimedia from Cinema & Video is Interactivity. একথাটি এজন্যে বলা যে আকস্মিকভাবে মাল্টিমিডিয়া ১৯৮৪ সালে জন্ম নেয়নি। মানুষ অনেক দিন থেকেই মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করছে। কিন্তু মিথস্ক্রিয়া বা ইন্টারঅ্যাকটিভিটি ডিজিটাল যন্ত্র ছাড়া সম্ভব নয় বলেই এটি সনাতনী ধারার মাল্টিমিডিয়ায় ছিল না।

[লেখক: ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী]

back to top